নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সালাউদ্দিন রাব্বী

রাবব১৯৭১

সালাউদ্দিন রাব্বী

রাবব১৯৭১ › বিস্তারিত পোস্টঃ

শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনীকে এতো ভয় কেন?

৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৫:১৪

শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনীকে এতো ভয় কেন?
--------------------------------------------------------------------
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বিক্রিকে কেন্দ্র করে ইউপিএলের বাংলাবাজার বিক্রয়কেন্দ্রে তালা, কর্মীদের আটকে রাখার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও প্রতিবাদ
একটি বইকে কি সত্যিই এত ভয় পাওয়া যায়?
২৮ সেপ্টেম্বর বাংলাবাজারে দ্য ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের (ইউপিএল) বিক্রয়কেন্দ্রে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বিক্রিকে কেন্দ্র করে যে ঘটনা ঘটেছে, তা শুধু একটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের ওপর চাপ সৃষ্টির ঘটনা নয় এটি বাংলাদেশের মুক্তচিন্তা, ইতিহাসচর্চা এবং বই পড়ার স্বাধীনতার জন্যও একটি গভীর উদ্বেগের বার্তা। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে, বইটি বিক্রির অভিযোগে বিক্রয়কেন্দ্রে তালা দেওয়া হয় এবং দুই কর্মীকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে পুলিশের মধ্যস্থতায় তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয় এবং বইটি আর বিক্রি না করার শর্তের কথাও উঠে এসেছে।
প্রশ্ন হচ্ছে ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ পড়া ও বিক্রি করাও অপরাধ হয়ে গেল?
এটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নিজের লেখা আত্মজীবনী। বইটিতে তাঁর শৈশব, পারিবারিক জীবন, কারাজীবন, রাজনৈতিক সংগ্রাম, ভাষা আন্দোলন, তৎকালীন পূর্ব বাংলার রাজনীতি এবং পাকিস্তানি শাসনের বৈষম্য ও রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার বিবরণ রয়েছে। ইউপিএল বইটির প্রকাশক; এর বাংলা সংস্করণের একাধিক সংস্করণও প্রকাশিত হয়েছে।
বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবন নিয়ে কারও ভিন্ন মত থাকতে পারে। তাঁর রাজনৈতিক দর্শন নিয়ে কেউ সমর্থন করতে পারেন, কেউ সমালোচনা করতে পারেন। সেটিই গণতান্ত্রিক সমাজের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য। কিন্তু একটি বইয়ের অস্তিত্বকে ভয় দেখিয়ে, বিক্রয়কেন্দ্রে তালা দিয়ে কিংবা বই বিক্রির কারণে কর্মীদের ধরে নিয়ে গিয়ে ইতিহাসকে থামানো যায় না।
বইয়ের সঙ্গে রাজনৈতিক মতের বিরোধ থাকতে পারে কিন্তু তার উত্তর বই পোড়ানো, বই বিক্রি বন্ধ করা কিংবা প্রকাশকের কর্মীদের হয়রানি নয়। উত্তর হতে পারে আরেকটি বই, আরেকটি গবেষণা, আরেকটি যুক্তি, আরেকটি ইতিহাসের পাঠ।
আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ কেবল একটি রাজনৈতিক দলের প্রচারপুস্তক হিসেবে দেখার মতো বই নয়। এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক দলিল।যেখানে একজন প্রধান রাজনৈতিক নেতার নিজের ভাষায় তাঁর সময়, সমাজ, পরিবার, কারাজীবন ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কথা উঠে এসেছে। বইটির ইংরেজি অনুবাদসহ বিভিন্ন সংস্করণ বাংলাদেশ ও দেশের বাইরেও প্রকাশিত হয়েছে।
তাহলে প্রশ্ন থেকেই যায়।
একটি বইকে এত ভয় কেন?
বঙ্গবন্ধুর লেখা কয়েকশ পৃষ্ঠার একটি বই যদি কারও রাজনৈতিক অবস্থানকে এতটাই অস্বস্তিতে ফেলে যে সেটি বিক্রি বন্ধ করতে হয়, তাহলে সেই ভয় বইটির প্রতি নয় সম্ভবত বইয়ের ভেতরের ইতিহাস, স্মৃতি ও প্রশ্নের প্রতি।
ইতিহাসকে তালা দিয়ে বন্ধ করা যায় না।
বইয়ের দোকানে তালা দেওয়া যায়, কিন্তু মানুষের মনের দরজায় তালা দেওয়া যায় না।
একটি বইয়ের বিক্রি বন্ধ করা যায়, কিন্তু সেই বই নিয়ে মানুষের কৌতূহল বন্ধ করা যায় না।
একজন লেখকের কণ্ঠ স্তব্ধ করার চেষ্টা করা যায়, কিন্তু তাঁর লেখা থেকে জন্ম নেওয়া প্রশ্নগুলোকে সহজে মুছে ফেলা যায় না।
আজ বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবেশে মতপ্রকাশ, বই প্রকাশ এবং ইতিহাসচর্চা নিয়ে যে কোনো ধরনের চাপ বা ভয়ভীতি গণতান্ত্রিক সমাজের জন্য উদ্বেগের বিষয়। বিশেষ করে আইনগতভাবে কোনো বই নিষিদ্ধ কি নাসে টি নির্ধারণের দায়িত্ব কোনো দল, গোষ্ঠী বা জনতার নয়; রাষ্ট্রের আইন ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়।
তাই আমরা পরিষ্কারভাবে বলতে চাই।
বইয়ের বিরুদ্ধে বই দিয়ে জবাব দিন।
ইতিহাসের বিরুদ্ধে যুক্তি দিয়ে কথা বলুন।
রাজনৈতিক মতের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বক্তব্য দিন।
কিন্তু বই বিক্রির অপরাধে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের হয়রানি, বিক্রয়কেন্দ্রে তালা কিংবা জনতার হাতে আইন তুলে নেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা মানে শুধু তাঁর ছবি, নাম কিংবা স্লোগান ব্যবহার করা নয়; তাঁর লেখা পড়া, তাঁর সময়কে জানা এবং বাংলাদেশের ইতিহাসকে গভীরভাবে বোঝার চেষ্টাও সেই শ্রদ্ধার অংশ।
‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ একটি বই।
কিন্তু সেই বইয়ের পাতায় আছে একটি সময়ের স্মৃতি।
আছে একটি জাতির রাজনৈতিক সংগ্রামের দলিল।
আছে একজন মানুষের নিজের জীবনের কথা।
বইয়ের পাতা বন্ধ করে ইতিহাসকে বন্ধ করা যায় না।
বরং আজকের ঘটনার পর আরও বেশি করে প্রশ্ন উঠবে।
“একটি বইকে এত ভয় কেন?”
বঙ্গবন্ধুর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা রেখে, ইতিহাস ও বই পড়ার স্বাধীনতার পক্ষে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট।
বই নিষিদ্ধের রাজনীতি নয়, বই পড়ার বাংলাদেশ চাই।
ভয় নয়, যুক্তির বাংলাদেশ চাই।
হয়রানি নয়, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা চাই।
ইতিহাস মুছে ফেলা নয় ইতিহাস জানার অধিকার চাই।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা।
জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু।

মন্তব্য ১২ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (১২) মন্তব্য লিখুন

১| ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৭:০৫

কামাল১৮ বলেছেন: শেখ মুজিব নামটাকেই এরা ভয় পায়।

২| ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৭:২৯

শূন্য সারমর্ম বলেছেন:


শেখ মুজিব ফিরবে?

৩| ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৭:৩৯

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: একটি বইকে কি সত্যিই এত ভয় পাওয়া যায়?
.........................................................................
হ্যাঁ যায়, যাহাদের মনে অণ্যায়, অত্যারের পাপ লেগে আছে
তার ঘুমের মধ্যও চিৎকার দিতে পারে বইটির কথা মনে হলে ।
এদের আত্নায় শয়তান বাসা বেঁধে আছে ।

৪| ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

কিরকুট বলেছেন: আরে ধুর এইটা ভয় না। এইটা আতংক। শেখ মুজিব জামাত শিবির ও তাদের ল্যাঞ্জাদের জন্য মুর্তিমান আতংক। জয় বাংলা। এইযে জয় বাংলা বললাম এটাও তাদের আতংক, তারা ভাবে এই বুঝি মুক্তিযোদ্ধারা ফিরে এসে তাদের প্রস্থদেশে ডান্ডা ভড়ে দিলো।

৫| ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:৫৬

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আপনি এই বই হাজার খানেক কপি অর্ডার দিয়ে আমেরিকায় বাঙালি কমিউনিটির মাঝে বিতরণ করেন । আওয়ামী চোর ডাকাতদের উচিত এই বই সবার ঘরে ঘরে রাখা । যারা জেলে আছেন তাদের ও এই বই পড়া উচিত । তা না হলে এই বই বিক্রির সম্ভাবনা এখন খুবই কম । বিসিএস যারা দিতো তাদের ব্যতীত এই বইয়ের পাঠক হাতে গোনা ছিলো। যারা এই বই নিয়ে তুলকালাম করেছে এরা হলো গুপ্ত । এদের কাজের সুবিধাভোগী অন্যরা । এটাই বাংলাদেশের রাজনীতি ।

৬| ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭

রাজীব নুর বলেছেন: সূর্যকে দাবিয়ে রাখা যায় না।

৭| ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:২৫

এস.এম. আজাদ রহমান বলেছেন: কোনো বই যখন মানুষের বিবেকের চেয়েও শক্তিশালী মাধ্যম হয়ে ওঠে, তখন বিবেকহীনদের ভয় পাওয়ার কারণ থাকেই বৈকি। কারণ, একটি বই প্রশ্ন জাগায়, ইতিহাসকে সামনে আনে এবং এমন সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করায়- যা চাপা দিয়ে রাখা সহজ নয়।

তাছাড়া এদেশে আজও এমন কিছু পাকিস্তানপন্থী ও মুক্তিযুদ্ধবিরোধী চিন্তার মানুষ আছেন, যাঁরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক আদর্শ ও ঐতিহাসিক ভূমিকার বিরোধিতা করে আসছেন। তাঁদের কাছে একটি বই শুধু বই নয়- একটি সত্য দলিল, একটি প্রমান, একটি সত্যি ইতিহাস, একটি প্রশ্ন, একটি দলিল, একটি আয়না।

আর আয়নাকে ভয় পায় তারাই, যারা নিজেদের মুখোমুখি দাঁড়াতে চায় না। ওরা কাপুরুষ সত্যের মুখোমুখি দাড়াতে ভয় পায়

কেউ পড়তে চাইলে নীচের লিংক ক্লিক করে পড়তে পারেন: অসমাপ্ত আত্মজীবনী

৮| ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৬

মাথা পাগলা বলেছেন: এখন থেকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক কোনো বই ঘরে থাকলে কি কোনো সমস্যা হবে? না মানে নতুন কোন আইন বানানো হয়েছে কি?

দেশে লাদেনসহ বহু টেরোরিস্টের বই কিন্তু দেদারসে ছাপিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে।

৯| ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:২৭

রাজীব নুর বলেছেন: পোষ্টে আবার এলাম। কে কি মন্তব্য করেছেন, সেটা জানতে।

১০| ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:৩২

নতুন বলেছেন: বঙ্গবন্ধুর আদর্শ যদি আমলীগের নেতারার মাইনা চলতো তবে দূনিতি, সন্ত্রাস করতো না।

এই বই আগে আমলীগের নেতা কর্মীদের পড়া উচিত।

১১| ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০২

মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ বলেছেন: জামায়াতি গাদ্দার যারা,

ব্রিটিশ শাসকদের পক্ষ নিয়ে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনকারীদের সাথে গাদ্দারী করেছিলো,

পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করে পাকিস্তান আন্দোলনকারীদের সাথে গাদ্দারী করেছিলো,

যারা ৭১ এ বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে গাদ্দারী করেছিলো এবং,

সর্বশেষ ২৪ এ ফ্যাসিবাদ বিরোধীদের (যারা সরল বিশ্বাসে বাঙ্গালী পাকিস্তানি তথা লাল বদরদের সঙ্গ দিয়েছিলো) সাথে গাদ্দারী করেছিলো…..

এই সকল গাদ্দারীরদের গাদ্দারীর ইতিহাস ছাড়া বলার মতো এমন কিছুই নেই, যা নিয়ে তারা গর্ব করতে পারে।

তাই গায়ের জোরে বঙ্গবন্ধুর ইতিহাস সহ ৭১ সম্পর্কিত যাবতীয় ইতিহাস মুছে দিতে চায়।

১২| ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১২

মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ বলেছেন:
সৈয়দ কুতুবঃ আওয়ামী চোর ডাকাতদের উচিত এই বই সবার ঘরে ঘরে রাখা ।

যাক, আওয়ামী চোর ডাকাতদের বাদ দিয়ে আপনারা বেছে নিলেন বাঙ্গালী পাকিস্তানি তথা লাল বদর (popularly knows as..) চোর ডাকাতদের।

ওরা তো গোটা বাংলাদেশটাই ডাকাতি করে নিলো। তুলে দিলো ওদের পরীক্ষিত বন্ধুর (সাদা শকুনের মতানুসারে..) হাতে (সেই দুষ্টুরাষ্ট্র যারা ৭১ এর ৯ মাস দুষ্টুমি করেছে, ৭ম নৌবহর পাঠিয়েছে, এমনকি ১৫ ই আগষ্ট ৭৫ এ তো মহা দুষ্টুমি করে ফেললো এ দেশের বাঙ্গালী পাকিস্তানিদের কাজে লাগিয়ে)।

এখন দেশ চলে দূতাবাসের মাধ্যমে। ওদের দেয়া ফরমায়েশ অনুসারে বোয়িং কিনতে হয়.....

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.