| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
শ্রাবণধারা
" আমাদের মতো প্রতিভাহীন লোক ঘরে বসিয়া নানারূপ কল্পনা করে, অবশেষে কার্যক্ষেত্রে নামিয়া ঘাড়ে লাঙল বহিয়া পশ্চাৎ হইতে ল্যাজমলা খাইয়া নতশিরে সহিষ্ণুভাবে প্রাত্যহিক মাটি-ভাঙার কাজ করিয়া সন্ধ্যাবেলায় এক-পেট জাবনা খাইতে পাইলেই সন্তুষ্ট থাকে......."
ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক থেকে শিক্ষক লায়েকা বশীর ও সায়েম মহসীনকে মবের চাপে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। অপরাধ ইসলামবিদ্বেষ ও আওয়ামী লীগের দোসর - এই অজুহাত। যে শিক্ষিকাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, তিনি সামাজিক ইতিহাস পড়াতেন, যেখানে বিভিন্ন ধর্মের উদ্ভব ও বিকাশ নিয়ে আলোচনা হয়। ভয় থেকেই যে মানুষ অতিপ্রাকৃত শক্তিতে বিশ্বাস করতে শুরু করে, এই ধরনের বিষয় ক্লাসে পড়ানোই তার কাল হয়েছে।
ভাগ্যিস বার্ট্রান্ড রাসেল এই সময়ের বাংলাদেশে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়ে জন্মাননি। তিনি লিখেছিলেন: "ধর্মের ভিত্তি ভয়। অজানার ভয়, পরাজয়ের ভয়, মৃত্যুর ভয়। ভয় থেকে নিষ্ঠুরতা জন্মে। তাই নিষ্ঠুরতা আর ধর্ম পাশাপাশি চলে।" নিষ্ঠুরতা কাকে বলে, বাংলার মবেরা সুযোগ পেলে তাকে হাড়ে হাড়ে বুঝিয়ে দিতেন।
রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন: "গাছে গাছে ঘর্ষণে আগুন জ্বলে। জ্বলে বলেই জ্বলে, এই জেনে চুপ করে থাকলে মানুষের বুদ্ধিকে দোষ দেওয়া যেত না। কিন্তু, মানুষ ছেলেমানুষের মতো বারবার জিজ্ঞাসা করতে লাগল, ঘর্ষণে আগুন জ্বলে কেন। বুদ্ধির বেগার খাটুনি শুরু হল। খুব সম্ভব গোড়ায় ছেলেমানুষের মতোই জবাব দিয়েছিল। হয়তো বলেছিল, গাছের মধ্যে একটা রাগী ভূত অদৃশ্যভাবে বাস করে, মার খেলে সে রেগে আগুন হয়ে ওঠে। এইরকম সব উত্তরে মানুষের পুরাণ বোঝাই-করা। যাদের শিশুবুদ্ধি কিছুতেই বাড়তে চায় না তারা এইরকম উত্তরকে আঁকড়ে ধরে থাকে। কিন্তু, অল্পে-সন্তুষ্ট মূঢ়তার মাঝখানেও মানুষের প্রশ্ন বাধা ঠেলে ঠেলে চলে। কাজেই উনুন ধরাবার জন্যে আগুন জ্বালতে মানুষকে যত চেষ্টা করতে হয়েছে তার চেয়ে সে কম চেষ্টা করে নি 'আগুন জ্বলে কেন’ তার অনাবশ্যক উত্তর বের করতে।”
আমাদের দেশে একদল মানুষ আছে, যারা কখনো শিশুবুদ্ধি থেকে বের হবে না বলে ঠিক করেছে। যে জ্ঞান পুরাণের সঙ্গে মেলে না, সেটা ভুল এই তাদের ভাষ্য। কিন্তু আবার হাড়ি চালানোর জন্য, চুলা ধরাবার জন্য যে আগুন, সেইটুকু প্রয়োজনীয় বিদ্যার জন্য তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যেতে চায়।
এখন সিদ্ধান্ত নিতে হবে, আমরা কি ধর্ম, সমাজ, রাষ্ট্র, অর্থনীতির প্রশ্নগুলো নিয়ে পরিনত মানুষের মত চিন্তা করবো, নাকি শিশুবুদ্ধিতে আটকে থেকে পুরাণের মধ্য থেকেই এইসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজবো?
২০ শে জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:৪৫
শ্রাবণধারা বলেছেন: হ্যাঁ, পোস্টে যে লোকের ছবি দিয়েছি তিনিও "মুর্খ হাউয়ামি ছাগল" বলে মনে হয়! ![]()
২|
২০ শে জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:৪৯
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: অজানার ভয়, পরাজয়ের ভয়, মৃত্যুর ভয়। ভয় থেকে নিষ্ঠুরতা জন্মে।
.....................................................................................................
নিজের মাঝে সৎ চিন্তা ও ঈমানদারী না থাকলে
খাঁটি বান্দা হওয়া যায়না ।
আর যে এ সবকে জয় করেছে তার নিকট এসব বাহুল্য মাত্র ।
সুতরাং দেশ বাঁচাতে হলে আগে জনগনকে খাঁটি বান্দা হতে হবে
তাহলে এইসব আলগা ভূত পালায়ে যাবে ।
২০ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:৪০
শ্রাবণধারা বলেছেন: ধন্যবাদ। তবে আমার পোস্টের বিষয় আসলে আমাদের সেকুলার শিক্ষা এবং ধর্মীয়বিশ্বাসগুলো নিয়ে।
খাঁটি বান্দা কি ভাবে হওয়া যায়, এ বিষয়ে অন্যেরা ভালো বলতে পারবেন।
৩|
২০ শে জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
ধর্ম নাজিল হয়েছিল গুহায়
তার পর ধর্মের কাজ হলো
সরল পথে চালিয়ে আবার
গুহাতেই(কবরে)ফিরাবার ।
যে হারে ধর্মের হয়েছির সম্প্রসারণ
তার থেকে দ্রুত গতিতে হচ্ছে ধর্মহীন
এখন বিশ্বের প্রায় অর্ধেক মানুষ ধর্মহীন
চীনে তো প্রায় ৯০% মানুষই ধর্মহীন।
আর যেখানে ধর্ম আছে সেখানেও
ধর্ম বিশ্বাসীগন নানা মতে বিভক্ত।
জীবন ধারণের সব উপাদান আধুনিক
শুধু ধর্মীয় জিবনাচার হল পৌরানিক।
যাহোক জন্মিলে মরতে হবে
চীর জীবন বাচার নাই উপায়
তাইতো নতুন কিংবা পুরান
যেকোনটি ধরে পরকালে বাঁচন।
শুভেচ্ছা রইল
শুভেচ্ছা রইল
২০ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:৫০
শ্রাবণধারা বলেছেন: ধন্যবাদ ডঃ এম এ আলী ভাই। আপনার কবিতাটি খুব সুন্দর হয়েছে।
পরকালে কীভাবে বাঁচা যায়, এটা আমাদের দেশের মানুষের ভাবনার জগতে একেবারে বাস্তব একটি সমস্যা। এটিকে অস্বীকার করার উপায় নেই।
ধর্মের বিকাশ কীভাবে হলো বা আগুন জ্বলে কেন - এই ধরনের অস্বস্তিকর প্রশ্ন তৈরি হওয়ার কারণেই ধর্ম নাজিলের গুহা থেকে কবরের গুহায় সহজে যাওয়াটা বোধহয় আমাদের জন্য কঠিন হয়ে গেছে।
৪|
২০ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২১
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: ওসমান গণি হাদিকে নিয়ে লেখা ছবিতে হা হা দেয়ায় মেইল টিচার কে হাওয়ামী দোসর বানিয়ে দেয়া হয়েছে । ওসমান হাদি নিজেই ইউনিভারসিটির টিচার ছিলো । সে Bangladesh and Global Studies পড়াতো । আমার মনে হয় না শুধু এই কারণে কাউকে হাওয়ামী লীগ বলতো । কারো সাথে কারো মত না মিলতেই পারে।
২০ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:৫৩
শ্রাবণধারা বলেছেন: ধন্যবাদ সৈয়দ কুতুব। আপনার চারন সাংবাদিকতার এই তথ্যগুলো খুব মূল্যবান এটা আগেও বলেছি।
এখন যে কাউকে আওয়ামী দোসর বানিয়ে মব ধোলাই দেওয়াটা সহজ হয়ে গেছে।
৫|
২০ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৭
কলিমুদ্দি দফাদার বলেছেন:
ইলন মাস্ক একটি পডকাষ্টে শুনলাম দরিদ্র দেশগুলোতে বেশি জনসংখ্যা কারন- ধর্মের প্রভাব বেশি, শিক্ষার হার কম ফলাফল জনসংখ্যা আধিক্য। দুইজন শিক্ষকের চাকুরিচ্যুত করা বিষয়টি যদি ও রাজনৈতিক কিন্তু আপনি আরো গভীরে গেলে, দেশের কর্মহীন অশিক্ষিত শ্রেনীর বৃহত্তর একটি অংশের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ ও সমাজে ধর্মের উপস্থিতির এই সমস্যাগুলো সৃষ্টি করেছে।
২১ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:০৪
শ্রাবণধারা বলেছেন: হ্যাঁ, চাকুরিচ্যুত করার বিষয়টি রাজনৈতিক বটে, কিন্তু আমাদের দেশে মবতন্ত্র মোটামুটি প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে। পাকিস্তানের দিকে তাকালে আপনি বুঝবেন, এর পরের পর্ব জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস।
আপনার ভারতীয় রাজনীতি বিষয়ে পর্যবেক্ষণগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ।আমি আমেরিকার রাজনীতি এবং তার বাংলাদেশের ওপর কী প্রভাব পড়ে, এটা নিয়ে লেখার চেষ্টা করি। অনেকটা সেই লাইনে আপনার কাছে ভারতীয় রাজনীতি এবং তার বাংলাদেশের ওপর প্রভাব নিয়ে লেখার অনুরোধ করছি। একটা নয়, একাধিক লেখা ।
আর "ধুরন্ধর" সিনেমাটা দেখেছেন নাকি?
৬|
২০ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:৪০
জ্যাক স্মিথ বলেছেন: বার্ট্রান্ড রাসেল বলেছেন- "ধর্মের ভিত্তি ভয়। অজানার ভয়, পরাজয়ের ভয়, মৃত্যুর ভয়। ভয় থেকে নিষ্ঠুরতা জন্মে। তাই নিষ্ঠুরতা আর ধর্ম পাশাপাশি চলে।"
কলিমুদ্দি দফাদার বলেছেন- ইলন মাস্ক একটি পডকাষ্টে শুনলাম দরিদ্র দেশগুলোতে বেশি জনসংখ্যা কারন- ধর্মের প্রভাব বেশি, শিক্ষার হার কম ফলাফল জনসংখ্যা আধিক্য। দুইজন শিক্ষকের চাকুরিচ্যুত করা বিষয়টি যদি ও রাজনৈতিক কিন্তু আপনি আরো গভীরে গেলে, দেশের কর্মহীন অশিক্ষিত শ্রেনীর বৃহত্তর একটি অংশের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ ও সমাজে ধর্মের উপস্থিতির এই সমস্যাগুলো সৃষ্টি করেছে।
২১ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:০৬
শ্রাবণধারা বলেছেন: ধন্যবাদ জ্যাক স্মিথ। আপনার নিজের কথা এ প্রসংগে কী সেটা বললে আরো খুশি হতাম।
একটু বিরতি দিয়ে ব্লগে এলেন দেখলাম। ঘনঘনই আসুন না।
৭|
২০ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:১২
রূপক বিধৌত সাধু বলেছেন: গত ১০-১৫ বছরের শিক্ষাঙ্গনে ধর্মান্ধতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। ১২-১৩ বছরের ছেলেমেয়েরা পর্যন্ত শিক্ষকদের ধর্মীয় জ্ঞান দেয়। বিজ্ঞান বর্ণনা করতে হয় ধর্মের আলোকে। ভিন্ন কিছু বললে খারাপি আছে। এখন তো আরও খারাপ অবস্থা। যারা গর্তে ছিল তারা এখন রাজা বনে গেছে। প্রগতিশীল শিক্ষকদের শিক্ষকতা বাদ দিয়ে অন্য পেশায় চলে যাওয়াই নিরাপদ।
২১ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:১০
শ্রাবণধারা বলেছেন: আপনি খুব বাস্তব একটি বিষয় তুলে এনেছেন। এজন্য অনেক ধন্যবাদ।
আমি ঠিক আপনার মতোই এই কথা ভেবেছি। দেশে থাকতে কিছুদিন একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কমার্সের একটি বিষয় পড়িয়েছি। এই খবরটি দেখে মনে হলো, দর্শন বা সমাজবিদ্যা পড়ালে আমার কপালেও চাকরিচ্যুতির ঘটনা ঘটত।
৮|
২১ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:৩৫
কলিমুদ্দি দফাদার বলেছেন:
আর "ধুরন্ধর" সিনেমাটা দেখেছেন নাকি? হ্যাঁ। ছবির হাইপ দেখে রিলিজের কিছুদিন পড়েই দেখেছি। ছবি যদি ও অতিরঞ্জিত করে উপস্থাপনা করা হয় তবে আর মাধবন করা চরিত্র ভারতীয় সিকিউরিটি এডভাইজর "অজিত দোভালের" কেন্দ্র করে কিছু সত্যি ঘটনা উপর তৈরী করা। অজিত দোভালের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে ভারতের মনিপুরি সহিংসতা এবং স্বাধীনতা আন্দোলন, সিকিম দখল সহ পাকিস্তান পরমাণু সংবাদ সংগ্রহ যে বুদ্ধিমত্তার সমাধান করেছেন, আপনি তার ফ্যান না হয়ে থাকতে পারবেন না।
বাংলাদেশ, পাকিস্তান থেকে ভারত যোজন যোজন এগিয়ে আছে তাদের এই প্রশাসনিক দক্ষতা, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত কিছু প্রতিষ্ঠান, ইনস্টিটিউট এবং আইসিএস নিয়োগ যেখানে এমন হাজারো অজিত দোভাল তৈরি হয়। এজন্য দেখবেন গুজরাটের মুসলিম পরিবারের কর্নেল পদমর্যাদার সোফিয়া কুরাইশী "পেহেলগাম" উত্তেজনার সময় ভারতীয় সেনাবাহিনীর মুখপাত্র হয়ে মিডিয়াতে এসেছেন।
আপনি শুনেছেন কিনা জানি না, ৫ই আগষ্ট হাসিনাকে গণভবন ছেড়ে তাৎক্ষণিকভাবে ভারত আসতে অনুরোধ করা হয় ভারত থেকে টেলিফোন করে। আর না হয় ৩০ মিনিটের মধ্যে গণভবনে ঠুকে তাকে হত্যা করা হতে পারে!!! এই কলটি ও অজিত দোভালের করা বলে ধারনা করা হয়। বাংলাদেশ রন্ধ্রে রন্ধ্রে, আমলা-মিডিয়া, রাজনীতিতে ভারতের এমন ই সেটাপ। এজন্য আমি সবসময় বলি বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান, অর্থনীতি, অভ্যন্তরীন রাজনৈতিক পরিবেশ কখনো কট্টর ভারত বিরোধিতা সক্ষম না। এতে দেশের ভিতরে বিশৃংখলা বাড়বে আমরা আরো পিছিয়ে পড়বো।
©somewhere in net ltd.
১|
২০ শে জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:৪৩
কাঁউটাল বলেছেন: দুইটা মুর্খ হাউয়ামি ছাগলের সংখ্যা কমছে।