| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
শ্রাবণধারা
" আমাদের মতো প্রতিভাহীন লোক ঘরে বসিয়া নানারূপ কল্পনা করে, অবশেষে কার্যক্ষেত্রে নামিয়া ঘাড়ে লাঙল বহিয়া পশ্চাৎ হইতে ল্যাজমলা খাইয়া নতশিরে সহিষ্ণুভাবে প্রাত্যহিক মাটি-ভাঙার কাজ করিয়া সন্ধ্যাবেলায় এক-পেট জাবনা খাইতে পাইলেই সন্তুষ্ট থাকে......."

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, এখনই কওমী মাদ্রাসাগুলো বন্ধ করে দিন। এর জন্য যদি আকাশ ভেঙে পড়ে, তাহলে ভেঙে পড়ুক। এর কারণে যদি দেশে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়, তবে তা-ই হোক। এখনই উপযুক্ত সময় ধর্মীয় শিক্ষার নাম করে গজিয়ে ওঠা এইসব বীভৎস, বিকৃত মূর্খ তৈরির সূতিকাগারগুলো বন্ধ করার।
নেত্রকোনার মহিলা মাদ্রাসায় ধর্ষণের শিকার ১২ বছরের এই ছোট্ট অসহায় মেয়েটিকে দেখলে আপনার অন্তরাত্মা কি কেঁপে ওঠে না, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী?
শিশু ধর্ষণ করে এসে ফেসবুকে ধর্ষকের আত্মপক্ষ সমর্থন ও হুমকি-ধমকি দেখে আমাদের যে চিৎকার করে কাদতে ইচ্ছা করে - বিবমিষা ও বিলাপের সেই অনুভূতি প্রকাশের ভাষা আমাদের নেই। যে নারী চিকিৎসক এই মেয়েটিকে চিকিৎসা দিয়েছেন, এখন তিনিও ধর্ষণ ও হত্যার হুমকি মাথায় নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। ভেবে দেখুন, ইসলামি শিক্ষার নামে কী ভয়ঙ্কর ফ্রাঙ্কেনস্টাইন-সদৃশ দানব তৈরি করেছি আমরা।
আপনার সন্তান জাইমার দিকে তাকিয়ে ভাবুন, কী হৃদয় বিদারক ঘটনা এটা! প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কি আপনার ইচ্ছা হয় না, আমাদের দেশের সব নারীশিশুই যেন জাইমার মতো আত্মমর্যাদা ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে বেড়ে ওঠে? আপনার কি মনে হয় না, এই নিয়াণ্ডারথাল প্রজাতির শিম্পাঞ্জিগুলোর থাবায় আক্রান্ত হওয়ার চেয়ে, ধর্ষিত হওয়ার চেয়ে, খুন হয়ে রক্তে ভেসে যাওয়ার চেয়ে, আমাদের শিশুদের আরেকটু বেশি কিছু পাওয়ার ছিল?
কিছুমাত্র ইতিহাস, সামাজিক প্রেক্ষাপট ও পূর্বাপর সম্বন্ধ না বুঝে, কতগুলো দোয়া-দরুদ মুখস্থ করা কওমী মাদ্রাসার এই মূর্খদের "আলেম সমাজ" নাম দেওয়া হয়েছে। গণ্ডমূর্খের চেয়েও মূর্খ একপাল বনমানুষের নাম "আলেম" বা জ্ঞানী, এর চেয়ে বড় পরিহাস আর কি আছে?
ধর্মীয় শিক্ষার নামে এই মাদ্রাসাগুলোতে অল্প বয়সে শেখানো হয়, আইন বলে আমরা যেগুলো মানি, সেগুলোকে মানুষের তৈরি ভুয়া আইন, আল্লাহর আইনই আসল আইন। শিশুদের স্বাভাবিক কৌতূহল থেকে যে সৃষ্টিশীলতা ও সহানুভূতি নিয়ে দেশের নাগরিক হয়ে ওঠার কথা, সেগুলো শৈশবেই ধ্বংস করে দেওয়া হয়। তাহলে বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে এই বনমানুষগুলোর কাছে কি আশা করার আছে?
সামাজিক শৃঙ্খলায় এই যে বিকৃত বিশ্বাসের প্রভাব, সেটা তো সমাজের অন্যদের মধ্যেও পড়বে। একদল বনমানুষ যখন বিশ্বাস করে মানুষের তৈরি আইন ভুয়া, তখন সমাজের অন্য পেশাজীবী, উদাহরণ হিসেবে ধরা যাক, কিছু পুলিশ সদস্যের মধ্যেও বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। তাদের কেউ কেউ ভাবতে পারে, আরে, তাই তো, আমি পুলিশ হয়ে মানুষের তৈরি আইন রক্ষার কাজ করছি, যেখানে আল্লাহর আইন আসল।
আমাদের দেশের তরুণ সমাজকে বিশ্বায়নের যুগে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে যে দক্ষতা অর্জন করতে হবে, পাশাপাশি বৈশ্বিক পরিবেশে সম্পূর্ণ ভিন্ন ধর্ম, সংস্কৃতি ও বিশ্বাসের মানুষের সাথে কাজ করতে হবে - এই আলেমরা কি সেই দক্ষতা অর্জনের উপযুক্ত?
কতিপয় দুর্বৃত্ত, ২০১৩ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ও গণজাগরণ মঞ্চের বিপক্ষে লেলিয়ে দিতে কওমী মাদ্রাসাকে রাজনৈতিক অস্ত্রে পরিণত করে। কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধী, যারা মুক্তিযুদ্ধকালীন হত্যা, লুণ্ঠন ও ধর্ষণের মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন, তাদের রক্ষার জন্য একজন পত্রিকার সম্পাদক ও শঠ বুদ্ধিজীবী মিলে মিথ্যা প্রপাগান্ডা তৈরি করে কওমীদের মাঠে নামালেন। হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার ভয় দেখিয়ে, রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে বহু সংখ্যক শিশু-কিশোরদের পুলিশ ও র্যাবের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে তাদের হত্যার মুখে ঠেলে দিলেন।
কওমী মাদ্রাসা যে অর্থনীতির কাঠামোয় চলে, সেটা একটা চুরি-ডাকাতি-ঘুস ও দুর্নীতি নির্ভর আর্থিক মডেল হিসেবে দাঁড়িয়ে গেছে। কওমী মাদ্রাসা যে দান-খয়রাতের অর্থে পরিচালিত হয়, সেটা মূলত দেশের দুর্নীতিবাজ, ঘুষখোর এবং চোর-ডাকাতদের দানের টাকা। এটি একটা ইকোসিস্টেম। যেখানে একদিকে দুর্নীতিবাজ দান-খয়রাতের মাধ্যমে পরকালীন মুক্তি ও বেহেস্তে যাবার পথ তৈরি করে, অন্যদিকে দানের ওপর নির্ভর করে কওমীরা কোনো ধরনের কর্মসংস্থান বা অর্থনীতিতে অবদান ছাড়াই আরাম-আয়েসে জীবন যাপন করে।
দিনমজুর, রিকশাচালক বা গার্মেন্টস কর্মীর তুলনায় কওমী হুজুর হওয়া অনেক সহজ ও সুবিধাজনক। এ কারণে দরিদ্র ও খেটে খাওয়া মানুষের কাছে তাদের সন্তানদের হুজুর হওয়া স্বপ্নের মতো বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাধারন শিক্ষা খরচ বেশি হওয়ায়, মাদ্রাসা শিক্ষা ছাড়া তাদের আর উপায় থাকে না। এটাই তাদের সাধ্যের মধ্যে কেননা এখনে শিক্ষা খরচ নেই; আবার বিনামূল্যে খাবার ও আবাসনও জোটে।
কওমী থেকে বের হওয়া ছাত্ররা কতগুলো আরবী বাক্য মুখস্থ করে বের হয় বলে, তাদের জন্য সাধারন চাকরিতে ঢোকার সুযোগ থাকে না। তখন তাদের কাজ হয় আরেকটি মাদ্রাসা খুলে বসা অথবা ওয়াজ মাহফিল করা। মানুষের তৈরি আইন যে ভুয়া এই তত্ত্ব প্রচার করা।
বাংলাদেশের প্রায় সব রাজনৈতিক দল এদের ব্যবহার করেছে। কখনো ভোটের সমীকরণে, কখনো ধর্মানুভূতি রক্ষার অজুহাতে ইসলামপন্থী বয়ানকে রাজনৈতিক পুঁজি হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। আপনাদের রাজনৈতিক দল ২০১৩ সালে এদের রাজনৈতিক অস্ত্রে পরিণত করার সঙ্গে যুক্ত কলাকুশলীদের সমর্থন করে যে বড় ভুল করেছিল, এখন সেই ভুল সংশোধন করার খুব বড় একটা সুযোগ আপনার সামনে এসেছে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।
০৮ ই মে, ২০২৬ রাত ১২:১৪
শ্রাবণধারা বলেছেন: ও তাই না কি? এত জ্ঞানের কথা তো জানা ছিল না, জোনাব! ![]()
আমার আরেকটা ছোট দাবি আছে। সেটা পশ্চিমা দেশের রাষ্ট্র প্রধানদের কাছে। সেটা হলো, পশ্চিমা দেশে বসবাসকারী কওমী ভক্ত ইসলামিস্ট জঙ্গিগুলোকে যেন তাদের দেশে চিড়িয়াখানায় শিম্পাঞ্জির সাথে পুরে রাখা হয়!
২|
০৭ ই মে, ২০২৬ রাত ১১:৪০
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: কঠিন একটা বিষয় নিয়ে লিখেছেন । ইহার প্রতিকার হওয়া দরকার। ছেলে মেয়ে কেউ এদের কাছে নিরাপদ নয় ।
০৮ ই মে, ২০২৬ রাত ১২:১৯
শ্রাবণধারা বলেছেন: ফেসবুকে এই খবরগুলো আর জঙ্গিগুলার আস্ফালন দেখে দেখে মাথাটাই হ্যাং হয়ে গেছিল। এই জঙ্গিগুলাকে দমন না করা গেলে, এরাই রাজনীতির মাঠ নিয়ন্ত্রন করবে।
৩|
০৭ ই মে, ২০২৬ রাত ১১:৫৯
আহা রুবন বলেছেন: যথার্থ বলেছেন। আমার মাথায় ঢোকে না মাদ্রাসায় এমন কী পড়ানো হয় যে শিক্ষির্থীদের পরিবার, সমাজ ছেড়ে হোস্টেলে থাকতে হবে! মাদ্রাসা বন্ধ করতে না পারলেও আবাসিক ব্যবস্থা বন্ধ করে দেয়া উচিত।
০৮ ই মে, ২০২৬ রাত ১২:৩১
শ্রাবণধারা বলেছেন: এটা একটা খুব ভালো পয়েন্ট আহা রুবন। আবাসিক ব্যবস্থা অবশ্যই বন্ধ করে দেয়া উচিত।
হুজুররা চোরদের কাছে দানের টাকা নিলে নিক, কিন্তু আমাদের শিশুরা যাতে এদের হাত থেকে রক্ষা পায়।
৪|
০৮ ই মে, ২০২৬ রাত ১২:৪৮
কিরকুট বলেছেন: আমি এর পক্ষে না। কওমি ছাগল গুলা ভালো জোকার, এরা এন্টারটেইনে উস্তাদ। কিভাবে অতি দ্রুত পাজামার ফিতা খুলে তা আবার লাগানো যায় এর আবিষ্কারক এরাই। এর পর একজনা বয়স্ক মহিলা কে কওমী জননী ডেকে তার ব্রা পেন্টি নিয়া গন্ধ শোকার মতো জঘন্যতম কাজ এরাই করেছে। তো এদের চিরিয়াখানার সামনের খাচায় রাখা জরুরী। সময় মতো কলা দেবেন, এরা কলা খেয়ে চ্যাগায় যাবে।
©somewhere in net ltd.
১|
০৭ ই মে, ২০২৬ রাত ১০:৪৫
মোঃ খালিদ সাইফুল্লাহ্ বলেছেন: যৌন নির্যাতনের মতো অপরাধ ব্যক্তি বিশেষের নৈতিক অবক্ষয়, যা কোনো ধর্ম বা বর্ণের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত নয়। গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনে উঠে আসা কিছু দিক নিচে তুলে ধরা হলো:অভিযোগের ব্যাপকতা: বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসা) পুরুষ শিক্ষকদের দ্বারা ছাত্রীদের যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার ঘটনা নিয়মিতভাবে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। সাম্প্রতিক ঘটনা: সাম্প্রতিক সময়ে নেত্রকোণার একটি মাদ্রাসার শিক্ষকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ যেমন পাওয়া গেছে, তেমনি গত বছর গাজীপুরে এক হিন্দু যুবকের বিরুদ্ধে মাদ্রাসা ছাত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছিল