নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

রাজীব নুর

আমি একজন ভাল মানুষ বলেই নিজেকে দাবী করি। কারো দ্বিমত থাকলে সেটা তার সমস্যা।

রাজীব নুর › বিস্তারিত পোস্টঃ

আজকের ডায়েরী- ১৭৯

২৬ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:৪৬



আজকাল আমি লোকাল বাসে ওঠা ছেড়ে দিয়েছি।
কারণ আছে, মেট্রোরেল। শান্তির আরেক নাম- মেট্রোরেল। তারেক রহমান সাহেব অনেকদিন পর দেশে ফিরেছেন, খুবই ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। উনি বলেছেন, মনোরেল করবেন। খরচ কম হবে। ঢাকা বাসীর উপকার হবে। আমি জানি মনোরেল বিদ্যুৎ দিয়ে চলবে। পৃথিবীর অনেক দেশেই মনোরেল চলছে। চীন, জাপান, সিঙ্গাপুর, মালোশিয়া ইত্যাদি দেশে। আমাদের দেশেও মনোরেল হবে। বড় আনন্দের বিষয়। আল্লাহ যেন ততদিন আমাকে বাঁচিয়ে রাখেন। যাইহোক, মেট্রোরেল জীবনকে সহজ করে দিয়েছে। আশা করি মনোরেল জীবনকে আরো সহজ করে দিবে। এইভাবেই একটু একটু করে আমাদের দেশ এগিয়ে যাবে।

দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজন শিক্ষা।
জাতি যদি সঠিক শিক্ষা না পায় তাহলে রসিকে সাপ মনে করিবে। একটা বাচ্চা খেলতে গিয়ে পড়ে গেছে, মনে করবে- বাচ্চাকে দুষ্ট জ্বীনে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছে। মেয়ে নিয়ে বাইকে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, সমান, সোজা রাস্তা অথচ বাইক নিয়ে কাঁত হয়ে পড়ে যাবেন। এবং বলবেন, জ্বীনে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছে। মূর্খ লোকেরা নিজেদের ভুল গুলোকে সংশোধন না করে বলে, জ্বীনে আমাকে দিয়ে মন্দ কাজ করিয়ে নিয়েছে। অথচ জ্বীন বেচারার কোনো দোষ নেই। দোষ মানুষের। বাঙালি এমনতেই দোষ, অন্যায়, ছলচাতুরি করে, অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে দিতে ওস্তাদ। সেখানে উছিলা পেয়েছে জ্বীন। নিরীহ জ্বীন। বিজ্ঞান জ্বীনের ধারধারে না। বিজ্ঞান ফু দিয়ে জ্বীনকে উড়িয়ে দিয়েছে। আমাকে একজন বলেছিলেন, মানুষের মনে অনেক কুপ্রবৃত্তি আছে। সেই কুপ্রবৃত্তি থেকেই অদৃশ্য জ্বীনের সৃষ্টি।

সেদিন সকালে মতিঝিল থেকে মেট্রো করে মিরপুর যাবো।
মেট্রোতে উঠতে গিয়ে দেখি কার্ড আনতে ভুলে গেছি। এখন লাইনে দাঁড়িয়ে কার্ড নিতে হবে। লম্বা লাইন অনেক সময় লাগবে। আমি বাসে উঠে পড়লাম। বাস চলছে। লোকাল বাস গুলো যে ভাবে চলে, সেভাবেই চলছে। যেখানে-সেখানে থামছে। যাত্রীরা পাঁচ টাকার জন্য জঘন্য ঝগড়া করছে। সিট গুলো ছোট আরাম করে বসা যায় না। যাইহোক, হঠাত আমার চোখে পড়লো বাসের জানালায় একটা বিজ্ঞাপন। সেখানে লেখা- জ্বীনের মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান করা হয়। সমস্যা গুলো কি কি? স্বামী স্ত্রীর অমিল, জমিজমা নিয়ে সমস্যা, বাচ্চা না হওয়া, বিয়ে হচ্ছে না, বাচ্চা বিছানায় পিসাব করে, জ্বীনে ধরা রোগী ইত্যাদি। এই মহান সাধক, কবিরাজ, তান্ত্রিক এর ঠিকানা গাবতলী বাস স্ট্যান্ড। সাথে একটা মোবাইল নম্বর দেওয়া।

আমার হাতে অনেক সময় আছে-
যাবো আমি মিরপুর, বাস মাত্র শাহবাগ এসেছে। আমি সেই মহান সাধক, তান্ত্রিক এবং কবিরাজকে ফোন দিলাম। বললাম, আপনাদের অফিসের ঠিকানা দেন। সাধক বললেন, আপনার সমস্যা আগে বলুন। আমি বললাম, আমার জমি আমার চাচা নিয়ে গেছে। সেই জমি আপনি উদ্ধার করে দেন। এজন্য আপনার অফিসের ঠিকানা দেন। অফিসে এসে চা খেতে খেতে কথা বলি। সাধক বললেন, ৫০১ টাকা হাদিয়া দেন বিকাশ করে। আমি বললাম, আপনি তো লিখেছেন, আগে কাজ পরে টাকা। আচ্ছা, আপনি তো জ্বীনের মাধ্যমে কাজ করেন? আপনার জ্বীন খায় কি? জ্বীন থাকে কোথায়? আচ্ছা, আপনার জ্বীন কি পায়খানা করে? জ্বীন যে আপনার এত এত কাজ করে দেয়, সমস্যার সমাধান করে দেয়, এজন্য জ্বীন কি কোনো হাদিয়া নেয়?

এক অবসর প্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তার সাথে আমার পরিচয় আছে।
ভদ্রলোক ১৬ বছর আগে অবসরে গেছেন। এখন সে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন এবং কোরআন পড়েন। এটাই তার কাজ। আমার সাথে তার বেশ খাতির। উনি আমাকে বলেছেন, চাকরী জীবনে এক খারাপ জ্বীন তার উপর ভরে করেছিলো। এবং তারপর সে ঘুষ খেয়েছেন। অথচ উনি ঘুষ খেতে চান নাই। জ্বীণ তাকে দিয়ে ঘুষ খাইয়েছে। ঘুষ খেয়ে উনি নামাজ শেষ করে প্রার্থনায় কান্নাকাটি করে আল্লাহর কাছে খুব করে ক্ষমা চেয়ে নিয়েছেন। হে আল্লাহপাক আমি ঘুষ খেয়েছি। নিজের ইচ্ছায় খাই নাই। জ্বীন আমাকে দিয়ে ঘুষ খাইয়েছে। আমাকে ক্ষমা করে দেন। উনি যতবার ঘুষ খেয়েছেন, এভাবে কান্নাকাটি করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে নিয়েছেন। উনার কাছ থেকে আমি শিখেছি, অন্যায় কাজ করে জ্বীনের উপর দোষ চাপিয়ে দিবো। এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে নিবো।

জ্বীনের খপ্পরে আমি বেশ কয়েকবার পড়েছি।
চাঁদগাজী শুনলে হয়তো আমায় ধমক দেবেন। কিন্তু আমি বলব। জ্বীন আমাকে দিয়ে কি কি খারাপ কাজ করিয়েছে। জ্বীন আমাকে দিয়ে প্রথম মন্দ কাজ করায় যখন আমার বয়স ৭ বছর। আব্বার সাথে গ্রামে গিয়েছি। ডিসেম্বর মাস। খুব শীত। পদ্মা নদীর পাড়ের শীত। গ্রামের ছেলেমেয়েরা বললো, আয় এক মজার খেলা খেলি। অই দেখ নৌকা। নৌকা বোঝাই পাট। সকালে বিক্রির জন্য নিয়ে যাবে। এই পাট গুলোতে আগুন লাগিয়ে দে। আমি বললাম, এটা মন্দ কাজ। আমি পারিব না। গ্রামের ছেলে গুলো হাসলো। বললো, শহরের ছেলে ভয় পেয়েছে। আমার খুব রাগ হলো- আমি নৌকা বোঝাই পাটে আগুন লাগিয়ে দিলাম। শীত ছিলো। পাটের ভিতরে দুই জন লোক ঘুমাচ্ছিলো। তাদের গায়ে আগুন লেগে গেছে। তারা বাঁচার জন্য শীতের মধ্যে পানিতে লাভ দিলো। পরের দিন আমাদের গ্রামের হুজুর বলল- রাজীবের কোনো দোষ নাই। দুষ্ট জ্বীন রাজীবকে দিয়ে এই কাজ করিয়েছে।

মন্তব্য ৮ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (৮) মন্তব্য লিখুন

১| ২৬ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১০:৪২

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: মানে আগডুম-বাগডুম সাজিয়ে লিখেই যাচছেন ; এবার থামুন

২৭ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:৩০

রাজীব নুর বলেছেন: ওকে।

২| ২৬ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:৫৭

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: বিজ্ঞান ফু দিয়ে জ্বীনকে উড়িয়ে দিয়েছে।
.............................................................................
মনোরেলের মাঝে যদি জ্বীন বসে থাকে ???
আমাকে একজন দেখালো , এই যে জ্বীনদের মসজিদ (সৌদি আরবে )
আমি ভয়ে মসজিদের কাছে যেতে পারি নাই ।

২৭ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:৫০

রাজীব নুর বলেছেন: হা হা হা

৩| ২৭ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:৫৩

কলিমুদ্দি দফাদার বলেছেন:

পরের দিন আমাদের গ্রামের হুজুর বলল- রাজীবের কোনো দোষ নাই। দুষ্ট জ্বীন রাজীবকে দিয়ে এই কাজ করিয়েছে।
গ্রাম-গঞ্জের মহাজন-মাতাব্বরদের ইতর, বদমাইশ, আধা-পাগল পোলাপানের অপকর্ম টাকার মাধ্যমে জ্বীন-ভুতের গাল গল্প দিয়ে আড়াল করে দিতে। তবে আপনার জ্বিনের কাহিনীটা মনে হয় সত্যি.....

২৭ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:০৩

রাজীব নুর বলেছেন: চাঁদগাজী যেন কি বলেন, থাই বস্তি----
যাইহোক, জ্বীন মূলত মানুষের মাঝে সমস্যা তৈরি করছে।

৪| ২৮ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:০৩

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



াআমি এই পোস্টে থাকা জ্বীন কাহিনী নিয়ে কিছু বলবনা ।ন তবে মেট্রো রেল আর মনোরেল নিয়ে একটু
তুলনামুলক আলোচনা করে যাব ।
ঢাকার প্রেক্ষাপটে মনোরেল ও মেট্রোরেল তুলনা করলে বিষয়টি আসলে কোনটা সস্তা নয়, বরং কোনটা টেকসই
ও কার্যকর সেটাই মূল প্রশ্ন। ঢাকা বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ শহর, যেখানে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ মানুষ চলাচল
করে। এই বিশাল যাত্রীচাপ সামাল দিতে হলে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন গণপরিবহন ছাড়া বিকল্প নেই।

মনোরেল সাধারণত মাঝারি বা কম যাত্রীচাপের শহরের জন্য উপযোগী। এটি প্রতি ঘণ্টায় সীমিত সংখ্যক
(৮-১০ হাজার) যাত্রী বহন করতে পারে। ঢাকার মতো শহরে পিক আওয়ারেই এই সক্ষমতা পূর্ণ হয়ে যাবে, ফলে
কয়েক বছরের মধ্যেই এটি অকার্যকর হয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকবে। অর্থাৎ শুরুতে সস্তা মনে হলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি
সমস্যার স্থায়ী সমাধান নয়।

অন্যদিকে মেট্রোরেল অনেক বেশি যাত্রী বহনে সক্ষম। বড় শহরের জন্য বিশ্বজুড়ে পরীক্ষিত ও নির্ভরযোগ্য এই
ব্যবস্থা একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষ পরিবহন করতে পারে। ঢাকার বর্তমান চাপ তো বটেই, ভবিষ্যতে জনসংখ্যা
ও যাত্রীচাপ বাড়লেও মেট্রোরেল তা সামাল দেওয়ার সক্ষমতা রাখে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার সক্ষমতা ( প্রতি ঘ্টায় ৩০-৪০ হাজার)। ঢাকার সমস্যা
এক লাইনে সীমাবদ্ধ নয় উত্তর–দক্ষিণ, পূর্ব–পশ্চিমসহ পুরো শহরজুড়ে সংযোগ দরকার। মেট্রোরেলকে সহজেই
মাল্টি-লাইন নেটওয়ার্কে রূপ দেওয়া যায়, ভবিষ্যতে সম্প্রসারণও তুলনামূলক সহজ। মনোরেলের ক্ষেত্রে এই
সুযোগ সীমিত।

ব্যয়ের দিক থেকে মনোরেল নিঃসন্দেহে কম খরচের, কিন্তু ঢাকার মতো শহরে কম ক্ষমতার ব্যবস্থা করলে কয়েক
বছর পর আবার নতুন প্রকল্প নিতে হবে। তখন মোট ব্যয় আরও বেড়ে যাবে। সে হিসেবে শুরুতে বেশি খরচ
হলেও মেট্রোরেল দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিকভাবে বেশি লাভজনক।

'সব মিলিয়ে বলা যায় মনোরেল ঢাকার জন্য সর্বোচ্চ হলে একটি আংশিক বা স্বল্পমেয়াদি সমাধান হতে পারত।
কিন্তু একটি ঘনবসতিপূর্ণ মহানগরের প্রধান গণপরিবহন হিসেবে মেট্রোরেলই বাস্তবসম্মত, টেকসই ও
ভবিষ্যতমুখী সিদ্ধান্ত।

আমার সাম্প্রতিক পোস্টে আপনার একটি মন্তব্যের জবাব লেখা আছে । দয়া করে দেখে আসতে পারেন ।

৫| ২৯ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৭:০০

মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন:

আমি জ্বিনের খামার দিব।
আপনি কি ম্যানেজারের পদে কাজ করবেন?

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.