নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

রাজীব নুর

আমি একজন ভাল মানুষ বলেই নিজেকে দাবী করি। কারো দ্বিমত থাকলে সেটা তার সমস্যা।

রাজীব নুর › বিস্তারিত পোস্টঃ

আজকের ডায়েরী- ১৮৪

০৬ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:৫০



আমার বাম চোখ কিছুটা ফুলে গেছে।
অতি সামান্য ব্যথাও আছে। দুই দিন পার হয়ে গেলো কিন্তু ফোলা কমলো না। তৃতীয় দিন ডাক্তারের কাছে গেলুম। সাধারনত আমি ডাক্তারের কাছে যাই না। কিন্তু চোখের ব্যাপার! আমার দাদা একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখলেন, তিনি কিছু দেখতে পারছেন না। তখন দাদার বয়স ৩৫ বছর। অনেক ডাক্তার দেখানো হলো। কাজ হলো না। বাকি জীবন দাদা অন্ধ হয়ে রইলেন। অন্ধ হয়েও দাপটের সাথে ও বিলাসিতা করে জীবন পার করে দিলেন। মৃত্যুর সময় দাদার বয়স হয়েছিলো। ৮২ বছর। অন্ধ মানুষ দেখলেই দাদার কথা মনে পড়ে। আমার চাচা খুব কৃপণ। অথচ রাস্তায় অন্ধ ভিক্ষুক দেখলেই, দৌড়ে গিয়ে ভিক্ষা দিয়ে আসেন। চাচাকে বললাম, আপনি ভিক্ষা দিচ্ছেন! চাচা বললেন, অন্ধ মানুষ দেখলেই বাবা'র কথা মনে পড়ে যায়!

যাইহোক, ভোরবেলা ডাক্তারের কাছে গেলাম।
রমজান মাস তাই হয়তো খুব একটা ভিড় নেই। চোখ নানান ভাবে পরীক্ষা করা ভলো। আমি বারবার বলছি, সমস্যা আপাতত চোখের পাতায়। দেখুন, বেশ ফুলে গেছে। ডাক্তার আমার কথা শুনেন না। বরং বিরক্ত হয়। নতুন করে আবার চশমা দিলেন। অথচ আমার চশমা আছে। চোখের ফোলা ভাব কমার জন্য ড্রপ দিলেন, মলম দিলেন, এন্টিবায়োটিক দিলেন। এবং বললেন, প্রতিদিন ৫/৬ বার সেক দিতে। সেক দেওয়াটা খুবই গুরুত্বপূর্ন। যাইহোক, ওষুধ খেলাম, ড্রপ দিলাম, সেক দিলাম। চোখের অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। ফোলা কমতে শুরু করেছে। নতুন চশমা বানাতে দিয়েছি। কিন্তু আগের দুটা চশমা কি করিব?

এ বছর অনেক দাওয়াত পাচ্ছি।
ইফতারি ছাড়াও সেহেরির দাওয়াত পাচ্ছি। সেহেরি করতে যাবে পুরান ঢাকায়। গেলাম। ভয়াবহ ভিড়! আমি অবাক! এত ভিড়! বসার জায়গা তো দূরের কথা, দাড়ানোর জায়গা পর্যন্ত নেই। যেন ঢাকা শহরের সব মানুষ পুরান ঢাকায় ইফতারি করতে চলে এসেছে। এরপর সেহেরি করতে গেলাম মাওয়া। আগে মাওয়া যাওয়া হতো না সেহেরি করতে। কিন্তু ইদানিং মাওয়া সেহেরি করতে না গেলে যেন মান থাকে না। মাওয়া গিয়ে অবাক! মারাত্মক ভিড়। এত লোক সেহেরি করতে মাওয়া কেন যাচ্ছে! চাঁদা তুলে সেহেরি করতে মাওয়া যাওয়া হচ্ছে না। একজন পুরো খরচ দিয়ে দিচ্ছেন। কারণ, সেহেরি বা ইফতার খাওয়ালে অনেক সওয়াব। মুসলমানদের সওয়াবের অনেক লোভ। অথচ লোভ মানুষকে ধ্বংস করে।

রমজান মাস সংযমের মাস।
কাউকেই দেখছি না সংযম করতে। ঘরে বাইরে সবাই বিলাসিতা করছে! সেহেরি নিয়ে বিলাসিতা, ইফতার নিয়ে বিলাসিতা। আপনি যদি মনে করেন সন্ধ্যায় পরিবার নিয়ে কোনো রেস্টুরেন্টে ইফতার করবেন, তাহলে ভুল করবেন। রেস্টুরেন্টে একটা সিটও খালি পাবেন না। এমনকি আপনি যদি আত্মীয় স্বজন এবং বন্ধু বান্ধব নিয়ে ইফতার পার্টি করতে চান, কোনো রেস্টুরেন্ট খালি পাবেন না। সব বুকিং হয়ে গেছে। রমজান মাস আসলে ভন্ডামির মাস। প্রতারনার মাস। ঠকানোর মাস। উৎসবের মাস। ইনকাম করার মাস। খাওয়ার মাস। খরচের মাস। পার্টি করার মাস। বিলাসিতা করার মাস। নো সংযম। কোনো শালাকে দেখি না সংযম করতে।

আমি ঠিক করেছি, এ বছর আর কোনো ইফতার বা সেহেরি পার্টিতে যাবো না।
এত এত খাবারের অপচয়, আমার ভালো লাগে না। পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস এবং খাবার অপচয় আমি সহ্য করতে পারি না। প্রতিদিন লোকজন এক রকম খাবার খায় কি করে! পিয়াজু, আলুর চপ, বেগুনি, ছোলা, ঘুমনি। জিলাপি, দইবড়া, হালিম। পেয়ারা, আপেল, আনারস। আর যারা ব্যুফে ইফতারি করে তারা অনেক রকম আইটেম দিয়ে ইফতারি করে। ছোট ভাইয়ের ছেলের জন্মদিন। গেলাম ব্যুফে। ১০০ আইটেমের খাবার। ভাত থেকে শুরু করে ভাজি ভর্তা সব আছে। কি দারুন অপচয়। একদিকে খাবারের জন্য হাহাকার করছে মানুষ। অন্যদিকে খাবারের কি দারুন অপচয়! ইসলামের পথে কেউ নেই!

মন্তব্য ৫ টি রেটিং +৩/-০

মন্তব্য (৫) মন্তব্য লিখুন

১| ০৭ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:০৮

সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:



আমি আজা মাদের ইউনিভার্সিটির এলামনাই এসোসিয়েশনের ইফতার পার্টিতে গিয়েছিলাম। প্রায় ৭০-৮০জন হবে। ওরা ৫৫০ টাকার প্লেটারের জন্যে ৭০০ করে নিলো।

হঠাৎ জানতে পারলাম, যে, সাউন্ড সিস্টেমের সাথে দুইজন মানুষ এসেছিলো। জানতে পারলাম, তাদের জন্যে কোন ব্যাবস্থা নেই। দরিদ্র দুইজন মানুষ, দেখেই বুঝা যায়!

আমি ঐ শুকনো মানুষ দুজনের ইফাতারের টাকা দিবো বলতেই আয়োজকরা তাদের ইফতারের ব্যাবস্থা করলেন। না দিলে হয়তো ঐ লোক দুটোকে উপোস থাকতে হতো।

২| ০৭ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:০৯

সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:




আমি আজ আমাদের ইউনিভার্সিটির এলামনাই এসোসিয়েশনের ইফতার পার্টিতে গিয়েছিলাম। প্রায় ৭০-৮০জন হবে। ওরা ৫৫০ টাকার প্লেটারের জন্যে ৭০০ করে নিলো।

হঠাৎ জানতে পারলাম, যে, সাউন্ড সিস্টেমের সাথে দুইজন মানুষ এসেছিলো। জানতে পারলাম, তাদের জন্যে কোন ব্যাবস্থা নেই। দরিদ্র দুইজন মানুষ, দেখেই বুঝা যায়!

আমি ঐ শুকনো মানুষ দুজনের ইফতারের টাকা দিবো বলতেই আয়োজকরা তাদের ইফতারের ব্যাবস্থা করলেন। না দিলে হয়তো ঐ লোক দুটোকে উপোস থাকতে হতো।

৩| ০৭ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:৪৮

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: গেট ওয়েল সুন ।

৪| ০৭ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ১১:০৩

হুমায়রা হারুন বলেছেন: দেশের এই অবস্থা?

৫| ০৮ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:২৯

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:




ইফতারির বিষয়টা গতানুগতিক, পোস্টে থাকা এ বিষয়ে তেমন কিছু বলার নেই । এখন আপনার চোখ ফোলার
কথায় আমার মনে পরে যাওয়া অর্ধ শতাব্দি আগের কিছু স্মৃতি কথা শেয়ার করে নিই ।

রাতে পরিস্কার একটি বড় থালার উপরে শামুক বসিয়ে দিলে তার উপর দিয়ে শামুক হেটে গেলে সেখানে যে
টল টলে কিছু পানি জমে তা কারো ছোখ ফুলে গেলে বা খচ খচ করলে তার চোখে সেই সামুকের চলার ফলে
সৃস্ট পানি দিয়ে ধুয়ে দিলে চোখের ফোলা ভাব বা ব্যথা কমে যায় । এই টুটকা পদ্ধতিটি আমাদেরকে শিখিয়ে
ছিলেন আমাদের এলাকাল খুব প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাসকারী এক ৯০ বছর বয়সি অশিক্ষিত বৃদ্ধলোক । আমরা
দেশে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে দেশের ইনটেরিয়রে দুর্গম জায়গায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাত থেকে
নিরাপদ থাকার জন্য কয়েক মাস বসবাসের সময় সেখানে কোন ডাক্তার না থাকায় চোখের এমন অসুখের সময়
সেই বৃদ্ধের দেয়া ব্যবস্থা পত্রে শামুকের পানি ব্যবহার করে বেশ সুফল পেতাম । তখন কেন কী কারনে এর সুফল
পেতাম তা জানতে বা বুঝতে পারিনি কিংবা প্রশ্ন করে জেনে নেয়ার মত বয়সো তখন ছিলনা ।
এখন আপনার চোখ ফোলা রোগের কথা হতে ঐ কাহিনী মনে পড়ে গেল ।

ভাবছিলাম এই প্রেসক্রপশানটা আপনাকে দেই । তবে ব্লগের মত একটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি
শেয়ার করার পুর্বে ভাবলাম বিষয়টি নিয়ে ডাক্তারের একটি পরামর্শ নিলে কেমন হয় । তাই হাতের কাছে থাকা
আমার মেয়ে ডাক্তার ( সে অবশ্য কিডনী রোগ বিশেযজ্ঞ) এর কাছ হতে একটু প্রাথমিক ধারনা নিয়ে নিই ।
তার কাছে ঘটনাটি তুলে ধরে তার কাছে জানতে চাইলাম ছোটকালে বুঝি নাই, সাথে উপায়ো ছিলনা বলে সেই
মত চোখের চিকিতসা নিয়েছি কোন প্রশ্ন না করেই, তবে এখন জানতে চাই কেন শামুকের চলার পথের পানি
দিয়ে চোখ ফুলা রোগের নিরাময় হতো।

সে আমার কথা শুনে বেশ লম্বা সময় চিন্তা করে বই এর তাক হতে একটি বায়ো কেমিস্ট্রি বই তুলে নিয়ে
পাতার পর পাতা উল্টিয়ে তাতে কিচুক্ষন মগ্ন থেকে যে বয়ান আমাকে দিল তার খানিকটা তুলে দিলাম নীচে ।

সে বলল অভিজ্ঞতাটি গ্রামীণ লোকজ চিকিৎসা বা ethnomedicine-এর একটি আকর্ষণীয় উদাহরণ। অতীতে
ডাক্তার বা ওষুধ না থাকলে মানুষ প্রকৃতি থেকে পাওয়া উপাদান দিয়েই নানা উপশমের উপায় বের করত।
শামুকের চলার পথে যে টলটলে তরল দেখা যায়, সেটি আসলে পানি নয় সেটি শামুকের নিঃসৃত মিউকাস বা
লালার মতো আঠালো পদার্থ। এটির কিছু বৈজ্ঞানিক বৈশিষ্ট্য আছে, যার কারণে হয়তো সাময়িক উপকার
পাওয়া যেত।

সে বলল শামুক চলার সময় যে তরল ছাড়ে, তাতে সাধারণত থাকে গ্লাইকোপ্রোটিন ও মিউকোপলিস্যাকারাইড,
অল্পমাত্রায় হায়ালুরোনিক অ্যাসিড,কিছু অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল পেপটাইড আর খনিজ লবণ ও পানি। এই উপাদান
গুলো ত্বককে আর্দ্র রাখা, ক্ষত সেরে উঠতে সাহায্য করা এবং কিছু জীবাণুর বৃদ্ধি কমানোর ক্ষমতা রাখে।
এ কারণেই আজকাল কসমেটিক শিল্পে snail mucin দিয়ে ত্বকের ক্রিমও তৈরি হয়।

কেন চোখের ফোলা বা জ্বালায় কিছুটা উপকার হতে পারে সে বিষয়ে বলল কিছু সম্ভাব্য কারণ ব্যাখ্যা করা যায়:-
প্রথমত শীতল ও আর্দ্র প্রভাব, চোখে কোনো পরিষ্কার ঠান্ডা তরল লাগলে অনেক সময় ফোলা বা জ্বালায়
সাময়িক আরাম পাওয়া যায়। শামুকের মিউকাসে পানি ও আর্দ্র উপাদান থাকায় এমন প্রভাব হতে পারে।

দ্বিতীয়ত এতে কিছু সামান্য জীবাণুনাশক বৈশিষ্ট্য আছে । কিছু গবেষণায় দেখা গেছে শামুকের নিঃসরণে অল্পমাত্রায় অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান থাকে। যদি চোখের সমস্যাটি হালকা সংক্রমণজনিত হয়ে থাকে, তাহলে সামান্য
উপকার হতে পারে।

মিউকাসের কিছু লুব্রিকেটিং প্রভাবো আছে । মিউকাস আঠালো ও পিচ্ছিল হওয়ায় এটি চোখের পৃষ্ঠে সাময়িক
এক ধরনের সুরক্ষামূলক স্তর তৈরি করতে পারে, যা খচখচ বা শুষ্কতার অনুভূতি কিছুটা কমাতে পারে।
তবে এ বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতার কথা সে বলেছে । বলেছে আজকের চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে
শামুকের মিউকাস সরাসরি চোখে দেওয়া নিরাপদ পদ্ধতি নয়। কারণ এতে মাটি বা জীবাণু থাকতে পারে
শামুকের শরীরে পরজীবী বা ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে, চোখ অত্যন্ত সংবেদনশীল অঙ্গ, তাই আধুনিক
চিকিৎসায় চোখের সংক্রমণ বা ফোলার ক্ষেত্রে পরিষ্কার স্যালাইন, আইড্রপ বা ডাক্তারের পরামর্শই নিরাপদ।

সে বলেছে তবে আমার স্মৃতির ঘটনাটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি দেখায় যে গ্রামীণ সমাজে দীর্ঘ অভিজ্ঞতার মাধ্যমে
কিছু উপশমের পদ্ধতি তৈরি হয়েছিল। অনেক আধুনিক ওষুধের ধারণাও আসলে এমন লোকজ জ্ঞান থেকেই
এসেছে। তবে শামুকের চলার পথে যে তরল থাকে তা আসলে মিউকাস, যাতে আর্দ্রতা, মিউকোপ্রোটিন ও কিছু অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল উপাদান থাকতে পারে । আর এসব কারণে চোখের জ্বালা বা ফোলায় সাময়িক আরাম
পাওয়া সম্ভব হয়েছিল। তবে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এটি নিরাপদ চিকিৎসা পদ্ধতি নয়।

যাহোক আধুনিক চিকিতসায় আপনার চোখের নিরাময় হয়েছে শুনে আস্বত্ব হলাম । বাকি দুটি চশমা
যেন তেন ভাবে ছুরে ফেলে না দিয়ে মেডিক্যাল ইকুইপমেন্ট যারা রিসাইকেল করে তাদের কাছে
জমা দিয়ে দেয়ায় ভাল ।

সুভেচ্ছা রইল

শুভেচ্ছা রইল ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.