| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
রাজীব নুর
আমি একজন ভাল মানুষ বলেই নিজেকে দাবী করি। কারো দ্বিমত থাকলে সেটা তার সমস্যা।

নবীজির মৃত্যুর ৫শ' বছর পর-
আরবের অবস্থা কেমন ছিলো? তখনও কি দাসদাসী বেচাকেনা হতো? তখন কি পরিমান মানুষ হজ্ব করতেন? বইপত্র থেকে জানা যায়- ১১শ বা ১২শ শতাব্দীর দিকে ইসলামী স্বর্ণযুগ চলছে। স্বর্নযুগ আসলে এখন। মানুষ যা ইচ্ছা তা-ই করতে পারছে! সবার হাতে হাতে মোবাইল। মোবাইল আর ইন্টারনেট থাকা মানে পুরো বিশ্ব'ই হাতে! বরং নবীদের আমলটা ছিলো কষ্টের। সামান্য জ্বর হলে মনে করতো জ্বীনে আছর করেছে। মাথায় উকুন হলে মনে করা হতো- এটা শয়তানের কাজ। আমার যদি ১২শ' শতাব্দীতে আরবে জন্ম হতো, আমি কি করতাম? খালি পায়ে মরুভূমিতে গরম বালিতে হাঁটাহাঁটি করতাম? বেদুইনদের সাথে নাচ-গানা করতাম? মোবাইল নেই, ইণ্টারনেট নেই, টিভি নেই, নাটক- সিনেমা নেই! শপিংমল নেই। হাসপাতাল নেই। এক্স-রে মেশিন নেই। বিদ্যুৎ নেই। ইলিশ মাছ নেই। ভাগ্যিস সে যুগে আমার জন্ম হয়নি। অবশ্য জন্ম না হওয়ার কারণে অনেক কিছু মিসও করেছি।
লোকটার ভালো নাম- সৈয়দ মুহাম্মদ শাহ হোসাইন।
ভক্তরা 'লাল শাহবাজ কালান্দার' নামে ডাকতেন। কারণ তিনি সব সময় লাল জামা পড়তেন। ধারনা করা হয়- এই 'লাল শাহবাজ কালান্দার' দার্শনিকের জন্ম আফগানিস্তনে ১১৫০ সালে। তার পূর্বপুরুষরা বাস করতো বাগদাদে। আমাদের বাউল সাধক লালনের সাথে লাল শাহবাজ কালান্দারের মিল আছে। এরা জাত-পাত মানতেন না। লাল শাহবাজ কালান্দার সব সময় চাইতেন- হিন্দু ও মুসলিম মিলেমিশে থাকুক। কাইজ্জা না করুক। মিল মহব্বতের সাথে থাকলে আত্মা শান্তি পায়। লাল শাহবাজ ছিলেন শান্তি প্রিয় মানুষ। সব সময় হাসি খুশি থাকতেন। মানুষকে বলতেন, ধর্ম নিয়ে ক্যাচাল করো না। মানুষ তাকে ভালোবাসতো। তিনি বিয়ে করেননি। প্রেম ভালোবাসাও করেননি। কোনো যুদ্ধ করেননি। অন্যের সম্পদ নিজের করে নেয়নি। ধর্মের বুলি আওড়াননি। তার নামের মানে হচ্ছে- 'কালান্দার' হলো ভবঘুরে বা সংসারবিরাগী। বিখ্যাত কাওয়ালি গান ''দামাদাম মাস্ত কালান্দার'' তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে গাওয়া হয়। আমাদের দেশে গানটি গেয়েছেন রুনা লায়না। দারুন গান। এই গান হিন্দু মুসলিম দুই ধর্মের লোকদের জন্য।
'দমাদম মাস্ত কালান্দার' একটি আধ্যাত্মিকতা গান।
এটা পাঞ্জাবী ভাষায় একটি বুনিয়াদি গান। এর রচয়িতার নাম জানা নাই। গানটি সুফি ভাবধারার গভীর সৌন্দর্যকে তুলে ধরেছে। আজও সুফি সাধক এবং দরবেশ 'লাল শাহবাজ কালান্দার' এর দরগাহ জমে ওঠে আধ্যাতিক সাধনায়। তার দরগাহে বেশ কয়েকবার বোমা হামলাও হয়েছে। লাল শাহবাজ কালান্দার ঘুরে বেড়াতে পছন্দ করতেন। ইরান, ইরাক, মক্কা-মদীনা ঘুরেছেন। ধারনা করা হয় তিনি এশিয়াতেও এসেছিলেন। হজ্ব করেছেন। নানান দেশ বিদেশ ঘুরে তিনি পাকিস্তানের সিন্ধ প্রদেশের 'সেহওয়ান' শহরে স্থায়ী ভাবে থেকে যান। সেহওয়ান শহরের লোকজন তাকে ভালোবেসে নাম দেন- 'লাল শাহবাজ কালান্দার'। লাল শাহবাজ কালান্দারকে নিয়ে মজার মজার এবং অবিশ্বাস্য অনেক কাহিনী প্রচলিত আছে। একটা কাহিনী বলি- বোদলা নামে তার এক শিষ্য ছিলো। সেই শিষ্যকে গলা টিপে হত্যা করেন তৎকালীন এক রাজা। বোদলার বুকে মাথা রেখে তার স্ত্রী কান্না করছে। তখন লাল শাহবাজ কালান্দার এসে বলেন, বোদলা তুই মরিস নাই। উঠ। অলৌকিক ভাবে মৃত বোদলা উঠে আসে। এক বাচ্চা দশ বছর বয়স, তবু বিছানায় রোজ রাতে মুতে দেয়। 'লাল শাহবাজ কালান্দার' বাচ্চার মাথায় ফু দেন। এরপর এই বাচ্চা আর বিছানায় মুতে নাই।
লাল শাহবাজ কালান্দার প্রায় একশ' বছর বেঁচে ছিলেন।
তার ইন্তেকালের পর ভক্ত ও অনুসারীরা তাঁকে সেহওয়ান শহরেই দাফন করেন। তার দরগায় আজও ভক্তরা এসে শ্রদ্ধা জানায়। ফুল ও চাদর দেন এবং কবর জিয়ারত করেন। সারাদিন গোলাপ জল আর আগরবাতি ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন থাকে দরগাহ।। প্রতি বছর শাবান মাসের ১৮ তারিখ দরগায় ওরশ পালন করা হয়। ওরশে এক লাখ মানুষের আগমন ঘটে। একবার ২০১৭ সালে ওরশ চলাকালীন বোমা হামলা হয়। ৮৮ মানুষ নিহত হয়। ২৫০ জন মানুষ আহত হয়। ধারনা করা হয়- লাল শাহবাজ কালান্দারের এক ভক্ত ইউসুফ তার সম্মানে- ''দামা দম মাস্ত কালান্দার'' গানটি লিখেন। অনেকে দাবী করেন গানটি লিখেছেন- ইরানের কবি, গায়ক ও সুফি সাধক আমির খসরু। আমির খসরু নিজামুদ্দিন আউলিয়ার ঘনিষ্ঠ শিষ্য ছিলেন। যাইহোক, লাল শাহবাজের তরিকা হলো- পার্থিব ভোগবিলাস ও সামাজিক প্রথা বর্জন করে সম্পূর্ণভাবে আল্লাহর ধ্যানে মগ্ন থাকা। গানটির একটি লাইন এরকমঃ ''সিন্ধরি দা, সেহওয়ান দা, সাখি শাহবাজ কালান্দার''। অর্থ্যাত সিন্ধু অঞ্চলের, সেহওয়ানের (পাকিস্তানের একটি শহর), হে দয়ালু শাহবাজ কালান্দার।
দামাদাম মাস্ত কালান্দার গানটি, ইচ্ছে হলে শুনে দেখতে পারেন।
১৫ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:০৫
রাজীব নুর বলেছেন: পীর, সূফী, আউলিয়া বা সাধক সবার একটাই মূল উদ্দ্যেশ, আল্লাহর নৈকট্য লাভ। আল্লাহর নৈকট্য অএতে গিয়ে কেউ নাচ গান করে, কেউ জিকির করে, কেউ ধ্যান করে।
২|
১৪ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১০:২৩
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: তিনিও কি সুফি ছিলেন ?
১৫ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:০৮
রাজীব নুর বলেছেন: পীর, সূফী, আউলিয়া বা সাধক কিছুই ছিলেন না।
তবে খাটি মানুষ ছিলেন।
৩|
১৫ ই এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৫:৪৩
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: পীর, সূফী, আউলিয়া বা সাধক এদের মধ্যে
কে খাাঁটি ,কে জটাধারী ফেক বুঝা দায় !
....................................................................
সে কারনে , ইসলামের মূল কোরআন ও হাদীসের
বাহিরে যাওয়া ঠিক নয় ।
আর গান বাজনার ক্ষেত্রে যা আনন্দ দেয় কিন্ত
অন্যর ক্ষতি করেনা বা জীবন ,জীবিকার জন্য সমাজে বিরক্তি সৃষ্টি করেনা
তা গ্রহন করা যায় ।
......................................................................................................
'দমাদম মাস্ত কালান্দার' এটি একটি চটুল গান, পাকিস্তানিরা পসন্দ করে,
আপনি কি তাদের সদস্য হতে চান ???
৪|
১৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:২৪
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
বেশ তথ্য সমৃদ্ধ লেখা ।
লাল শাহবাজ কালান্দার একজন সুফি দার্শনিক-কবি ছিলেন। তিনি সোহরাওয়ার্দীয়া তরিকার অনুসারী ছিলেন।
সোহরাওয়ার্দীয়া হল সুফি আবুল নাজিব সোহরাওয়ার্দী কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত সুফি তরিকা। এটি সুন্নি ইসলামের অন্তর্গত
এবং এতে শাফি মাজহাব মানা হয়। এই তরিকা নিজের সিলসিলা জুনাইদ আল বাগদাদী ও আল-গাজ্জালির
মাধ্যমে আলি ইবনে আবি তালিবের সাথে সম্পর্কিত করে বলে জানা যায় উইকিপিডিয়া সুত্রে ।
©somewhere in net ltd.
১|
১৪ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৯:২২
সালমান মাহফুজ বলেছেন: নতুন কিছু জানলাম । ইসলাম মানবতার ধর্ম হয়ে উঠেছে মূলত সুফি সাধকদের মাধ্যমে । অথচ আজ তারাই সবচেয়ে নিগৃহিত ।