| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
রাজীব নুর
আমি একজন ভাল মানুষ বলেই নিজেকে দাবী করি। কারো দ্বিমত থাকলে সেটা তার সমস্যা।
''অজ্ঞতা থেকে ভীতি তৈরি হয়,
ভীতি ঘৃণার সৃষ্টি করে আর ঘৃণা থেকে আসে হিংস্রতা। এটাই নিয়ম।''
– ইবনে রুশদ
ইবনে রুশদ হলেন একজন মুসলিম লেখক।
তিনি আরবী ভাষায় লিখতেন। তার বেশি কিছু লেখা ল্যাটিন ও হিব্রু ভাষায় অনুবাদ করা হয়েছে। অনেক বিষয়ে তিনি জ্ঞানী ছিলেন। যেমনঃ আইন, অংক, জোর্তি, চিকিৎসা, পর্দাথ বিজ্ঞান এবং মনোবিজ্ঞান। ত্রিকোণমিতি এবং সংগীতেও তার বিশেষ জ্ঞান ছিলো। কোরআন, হাদিসের বাইরে গিয়ে তিনি বই পড়ে নিজেকে যোগ্য ও দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলেছেন। কেউ সমস্যা পড়লেই তার কাছে যেতেন। তিনি সহজ যুক্তি দিয়ে ব্যাখ্যা করে মানুষকে বুঝিয়ে দিতেন। ধারনা করা হয়- তার লেখা বইয়ের সংখ্যা একশ'র বেশি। তার জন্ম আমাদের নবীজির মৃত্যুর প্রায় পাঁচ- ছয় শ' বছর পরে। অর্থ্যাত ১১২৬ সালে। ইবনে রুশদ স্পেনের কর্ডোবায় জন্মগ্রহণ করেন। আবু আল ওয়ালিদ মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ ইবনে রুশদ তার পুরো নাম। মুসলিমদের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ দার্শনিক এবং পণ্ডিত। এই দার্শনিক আজীবন মানুষের সেবা করেছেন। সত্যের সন্ধান করেছেন।
ইবন রুশদ এরিস্টটল সম্পর্কে জানতেন।
এরিস্টটলকে নিয়ে গবেষনা করেছেন। এরিস্টটলের অনেক লেখার ব্যাখ্যা তিনি দিয়েছেন। ইবনে রুশদ নারী স্বাধীনতায় বিশ্বাসী ছিলেন। তিনি সব সময় বলতেন, নারী কেন শুধু ঘরে বন্ধী থাকিবে? তারা ঘর থেকে বের হবে। কাজ করবে। তবেই না বিশ্ব এগিয়ে যাবে। তিনি বিশ্বাস করতেন, নারী ও পুরুষ সকল ক্ষেত্রেই সমান যোগ্য এবং সুযোগ পেলে নারীরাও সমাজ, রাষ্ট্র ও জ্ঞানবিজ্ঞানে সমান অবদান রাখতে সক্ষম। ইবনে রুশদ কুরআন মেনেই তার দর্শন রচনা করেছেন। তিনি কোনো ধর্মীয় ঝামেলায় যাননি। তিনি মনে করতেন, কুরআন বুঝতে হলে দর্শনের প্রয়োজন আছে। অথচ কতিপয় ধার্মিক এই মহান জ্ঞানীকে শেষ বয়সে নির্বাসনে পাঠায়। তারপর তার সমস্ত কিতাব পুড়িয়ে ফেলা হয়। ইবনে রুশদ তার সময়ে খুবই জনপ্রিয় ছিলেন। ইতালিয়ান কবি দান্তের বিখ্যাত বই 'ডিভাইন কমেডি'তে ইবনে রুশদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। ইবনে রুশদ বুঝতে পেরেছিলেন, ধর্মের সাথে ক্যাচাল করে টিকে থাকা যায় না।
ইবনে রুশদ এর শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ 'ডিসিসিভ ট্রিটিজ'।
বইটিতে তিনি উল্লেখ করেছেন, ''দার্শনিক আর আইনজীবীরা একই পন্থা অবলম্বন করে। আধ্যাত্মিক দর্শন মূলত ধর্ম থেকেই আসে। ধর্মগ্রন্থই মানুষকে চিন্তা করতে বলে এবং সে চিন্তার সীমাও ঠিক করে দেয়। দর্শন আর ধর্ম কখনোই সাংঘর্ষিক নয়''। চল্লিশ বছর বয়সে ইবনে রুশের নাম ছড়িয়ে পড়ে। ইবনে রুশদ এমন একজন চিন্তাবিদ ছিলেন যিনি ধর্মকে যুক্তির দাঁড়িপাল্লায় রেখে আধুনিক বিশ্বের জ্ঞানের দুয়ার খুলে দিয়েছিলেন। তাঁর কারণেই মধ্যযুগে হারিয়ে যাওয়া গ্রিক দর্শন পুনরায় জীবিত হয়েছিল। ইবনে রুশদ জ্ঞানী লোক ছিলেন। এজন্য ধর্মকে হেয় না করে, তিনি তার লক্ষ্যে এগিয়ে গেছেন। ধার্মিকদের ক্ষেপিয়ে তুললে তিনি তার লক্ষ্যে পৌছাতে পারতেন না। আধুনিক যুগে তার জন্ম হলে তিনি আরো ভালো করতে পারতেন।
ইবনে রুশদ এর মৃত্যু হয় ৭২ বছর বয়সে।
তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন যে, মুসলিম সমাজ নারীদের ভূমিকাকে সীমিত করে দিয়েছে; তিনি বলেন, এই সীমাবদ্ধতা রাষ্ট্রের কল্যাণের জন্য ক্ষতিকর। ইবিনে রুশদ সঙ্গীত ও ত্রিকোণমিতি সম্পর্কে ভালো জ্ঞান রাখতেন। তিনি বিখ্যাত হয়ে আছেন প্লেটো এরিস্টটল সহ গ্রীক সাহিত্যের উপর গবেষনা করে। অথচ তৎকালীন গ্রীক সাহিত্য ছিল সমাকমিতায় ভরপুর। প্লেটোর সাহিত্যে নানাভাবে সমকামিতাকে উপস্থিত হয়েছে। রুশদ এরিস্টটলকে অবহেলা করেননি। বুঝতে পেরেছিলেন তাকে বাদ দিয়ে রাষ্ট্রচিন্তা করা বোকামি। ইবিনে রুশদকে আমি পছন্দ করি, কারণ তিনি নারী স্বাধীনতায় বিশ্বাসী ছিলেন। ইসলাম ধর্মের নিয়ম মেনে নিয়ে, নারীদের দাবিয়ে রাখতে তিনি চাননি। ধর্ম নারীদের কোনঠাসা করে রেখেছে। এটা ইবনে রুশদের মোটেও পছন্দ ছিলো না।
২|
১৮ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১:০২
আবু সিদ বলেছেন: বেশ লিখেছেন রাজীব। আরও কিছু তথ্য যোগ করে আরেকটু বর্ণনা/ব্যাখ্যা করলে আরও ভালো হবে।
৩|
১৮ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১:০৬
কাঁউটাল বলেছেন: ইবনে রুশদ ঐ জামানার "জাফরিক বাল"। এনি ওয়ে, প্লেটোর রচনায় এলজিবিটি ছিল - এইটা একটা ভাল ক্লু। ইবলাছ শয়তানের ফুটপ্রিন্ট হইল এলজিবিটি। এইটা নিয়ে আরও রিসার্চ করতে হবে।
৪|
১৮ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:০৩
আলামিন১০৪ বলেছেন: ইসলাম কি নারীকে ঘরে আবদ্ধ করে রাখে? এটা যারা বলে তারা ইসলাম বিদ্বেষী, আপনি কি তাই?
খাওলা’র নাম শুনেছেন?
৫|
১৮ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:৪১
আলামিন১০৪ বলেছেন: সৈয়দ কুতুব বলেছেন.
.।এই প্রবণতা ধর্মের আগে থেকেই আছে।
ধর্ম যে আগে ছিল না, প্রমাণ দিন
বুঝা গেল আপনি ভেড়ার ছাল গাছে জড়িয়ে শেয়াল....মোনাফেকরা কাফিরদের চেয়ে অনিষ্টকর
৬|
১৮ ই এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:১৫
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আলামিন১০৪ আপনি বলেছেন : ধর্ম যে আগে ছিল না, প্রমাণ দিন । বুঝা গেল আপনি ভেড়ার ছাল গাছে জড়িয়ে শেয়াল....মোনাফেকরা কাফিরদের চেয়ে অনিষ্টকর ।
يَسْأَلُونَكَ عَنِ الْخَمْرِ وَالْمَيْسِرِ ۖ قُلْ فِيهِمَا إِثْمٌ كَبِيرٌ وَمَنَافِعُ لِلنَّاسِ وَإِثْمُهُمَا أَكْبَرُ مِن نَّفْعِهِمَا - সূরা আল-বাকারা ২:২১৯ । তারা তোমাকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বলো , এ দুটোতে বড় পাপ আছে এবং মানুষের জন্য কিছু উপকারও আছে; কিন্তু এদের পাপ উপকারের চেয়ে বড়।
আয়াতের ভাষাটাই প্রমাণ করে যে তৎকালীন সমাজে আলোচনা চলছিল : মদ কি ভালো না খারাপ? এটা কি উপকারী না ক্ষতিকর? কোরআন সেই বিদ্যমান সামাজিক প্রশ্নের জবাব দিয়েছে, একদম শূন্য থেকে বিষয়টা তোলেনি। কোরআন মানুষের বাস্তব জীবন ও চিন্তার সাথে কানেক্টেড, বিচ্ছিন্ন কোনো আসমানি লিস্ট নয়। মদ (খামর) আরব সমাজে শুধু পানীয় ছিল না , এটা ছিল অর্থনীতির অংশ। আঙুর চাষ, মদ বিক্রি, মদের আসর এগুলো দিয়ে অনেকের রুজি চলত। কবিতায় মদের প্রশংসা হতো। অতিথিকে মদ দেওয়া আতিথেয়তার অংশ ছিল। জুয়া (মায়সির) দিয়ে মাঝে মাঝে গরিবদের মাংস খাওয়ানো হতো ; উট জুয়ায় জিতলে মাংস বিতরণ হতো। এটাকে উদারতা মনে করা হতো। সমাজে দুটো দল ছিল ; একদল বলছিল এগুলো ক্ষতিকর, মানুষ সর্বস্ব হারাচ্ছে, মাতাল হয়ে অপরাধ হচ্ছে। আরেকদল বলছিল এতে সামাজিক উপকার আছে , এবং সব সমাজেই এরকম আলোচনাই স্বাভাবিক। কোরআন নিজেই বলছে মানুষের কাছে বিবেক-বুদ্ধি আছে। বারবার বলছে "তোমরা কি চিন্তা করো না ?"
ধর্ম এসেছে সেই চিন্তাকে একটা চূড়ান্ত মানদণ্ড দিতে। সমাজের বিতর্কটা আগে থেকই ছিল ; কোরআন এসে সেই বিতর্কের রায় দিয়েছে। এটাই আসলে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি । মানুষ বোকা ছিল না, চিন্তা করত, কিন্তু একা পুরো সত্যে পৌঁছাতে পারত না।
আপনি শিশুকাল থেকে কোরআন পড়তে পারার অসাধারন প্রতিভা পেয়েছেন তবে বেশিরভাগ মানব শিশু এরকম প্রতিভাধর নয়।
৭|
১৮ ই এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৪:০২
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
ইবনে রুশদ এরিস্টটল-এর দর্শনের ওপর অসংখ্য ব্যাখ্যা (commentary) লিখেছেন।তিনি এরিস্টটলের রচনা
গুলোকে সহজভাবে ব্যাখ্যা করেন ।এর মাধ্যমে ইসলামী জগৎ ও ইউরোপে গ্রিক দর্শনের পুনর্জাগরণ ঘটে ।তাঁর
বিখ্যাত গ্রন্থ ফাসল আল-মাকাল-এ তিনি বলেন ইসলাম ও দর্শন পরস্পরের বিরোধী নয় । সত্য একটিই, এবং
ধর্ম ও যুক্তি উভয়ই সেই সত্যের দিকে নিয়ে যায়। তিনি যুক্তির মাধ্যমে কোরআনের গভীর অর্থ বোঝার পক্ষে ছিলেন।
প্রখ্যাত আলেম ইমাম আল-গাজালী তাঁর গ্রন্থ তাহাফুত আল-ফালাসিফা এ দার্শনিকদের সমালোচনা করেন।
এর জবাবে ইবনে রুশদ লেখেন তাহাফুত আত-তাহাফুত, এখানে তিনি যুক্তি দিয়ে দার্শনিক চিন্তার পক্ষে
শক্ত অবস্থান তুলে ধরেন।
তিনি মালিকি মাজহাবের একজন বিশিষ্ট ফকিহ ছিলেন। তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ বিদায়াতুল মুজতাহিদ এতে তিনি বিভিন্ন
মাজহাবের মতামত তুলনা করে যুক্তিসঙ্গত বিশ্লেষণ দেন, যা আজও ফিকহ শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ।
ইবনে রুশদ চিকিৎসাশাস্ত্রেও দক্ষ ছিলেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ আল-কুল্লিয়াত ফি আত-তিব্ব ,এতে মানবদেহ, রোগ ও চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে সামগ্রিক আলোচনা রয়েছে।
ইবনে রুশদের চিন্তাধারা ইউরোপে Averroism নামে পরিচিত হয়। এর মাধ্যমে ইউরোপে রেনেসাঁর বৌদ্ধিক ভিত্তি
তৈরি হয়।ইবনে রুশদের সবচেয়ে বড় অবদান হলো যুক্তি ও ওহির ( মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করে দর্শন ও ধর্মকে
একসাথে ব্যাখ্যা করা সহ ইসলামী ও পাশ্চাত্য উভয় জ্ঞানের জগতে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব সৃষ্টি করেন ।
©somewhere in net ltd.
১|
১৮ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৩
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: ইবনে রুশদ বলেছেন : দার্শনিক আর আইনজীবীরা একই পথ অবলম্বন করে। আধ্যাত্মিক দর্শন মূলত ধর্ম থেকেই আসে। ধর্মগ্রন্থই মানুষকে চিন্তা করতে বলে এবং সে চিন্তার সীমাও ঠিক করে দয়। দর্শন আর ধর্ম কখনোই সাংঘর্ষিক নয়।
গ্রিক দার্শনিকরা ধর্মের বাইরে গিয়ে প্রকৃতির ব্যাখ্যা খুঁজেছেন । মানুষ আগুন, বন্যা, মৃত্যু নিয়ে ধর্মের আগে থেকেই কৌতূহলী ছিল। মানুষ স্বাভাবিকভাবেই জিজ্ঞেস করে এটা কেন হলো ? এর কারণ কী?" এই প্রবণতা ধর্মের আগে থেকেই আছে। শিশুরা ধর্ম শেখার আগেই কেন কেন করে যা বিবর্তনের ফলাফল । গবেষনায় দেখা গিয়েছে , মানুষের মস্তিষ্ক naturally agent detection করে। অর্থাৎ যেকোনো ঘটনার পেছনে একটা কেউ আছে ধরে নেওয়ার প্রবণতা। এই প্রবণতা থেকেই ধর্মের জন্ম ; প্রকৃতির ঘটনাগুলোকে কোনো সত্তার কাজ হিসেবে ব্যাখ্যা করা। ইয়াহুদি-নাসারা ইবনে রুশদ কে এভেরোস নামে চিনে ।