| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
রাজীব নুর
আমি একজন ভাল মানুষ বলেই নিজেকে দাবী করি। কারো দ্বিমত থাকলে সেটা তার সমস্যা।
আপনারা কেমন আছেন?
আমি কেমন আছি, বুঝতে পারছি না। মনে হচ্ছে কোনো অলৌকিক কিছু যেন জেনে ফেলেছি। না জানলেই বুঝি ভালো হতো। দুনিয়াতে যে যত কম জানে, সে তত ভালো থাকে। যে বেশি জানে তার জ্বালা বেশি। এজন্য আমি কিছু জানতে চাই না। আমি শুধু জানি আমার ঘর সংসার আছে। সংসারে মাসে অনেক টাকা খরচ আছে। কন্যা আছে, কন্যাকে আদর ভালোবাসা দিয়ে বড় করতে হবে। সারাদিন ব্যস্ত থাকি। দেশের অবস্থা জানি না। জানতে চাই না। পত্রিকা পড়ি না। টিভিতে নিউজও দেখি না। তারপরও অনেক কথা কানে আসে। দেশে নাকি তেল নাই। সারারাত পাম্পে লম্বা লাইন থাকে। তারপরও অনেকে তেল পায় না। আবার কেউ কেউ ঘুষ দিয়ে ৫ লিটারের জায়গায় ১০ লিটার নিচ্ছে। সবজির দাম বেড়ে গেছে। যে কোনো সবজি ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি। তেল না থাকার কারণে অনেকে গাড়ি বের করতে পারছে না। এতে উপকার হয়েছে- রাস্তায় জ্যাম কমেছে। এদিকে অনেক এলাকায় গ্যাস নেই। অনেক এলাকায় পানি নেই। অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ নেই। লোকজন ফুঁসছে। আজ একজন তো বলেই ফেললো, তারেক জিয়া করে কি? কৃষক কার্ড নিয়ে ব্যস্ত?
আমি শুধু চুপ করে মানুষের কথা শুনি।
পত্রিকা অফিসে কাজ করতে গিয়ে শিখেছিলাম, নিজে চুপ থেকে মানুষকে দিয়ে বলাতে হবে। সাধারণ মানুষের কথা গুলোই আসল কথা। মানুষ সুযোগ পেলেই কথা বলে। মানুষ শোনার চেয়ে বলতে বেশি ভালোবাসে। আর বেশি বলতে গিয়েই মানুষ ভুলভাল বলে ফেলে। আমি মানুষকে বলার সুযোগ দেই। মাঝে মাঝে একটু উসকে দেই, মাঝে মাঝে রাগিয়ে দেই। তখন মানুষ তার পেটের কথা, মনের কথা, গোপন কথা- সব উগড়ে ফেলে! মসজিদের ইমাম সাহেব পর্যন্ত বেশি বলতে গিয়ে ভুলভাল বলে ফেলেন। এজন্য জ্ঞানীগুনীরা বলেছেন, কম কথা কও। নইলে কপালে দুঃখ আছে। আমি চুপচাপ থাকা মানুষ। সব সময় শান্ত থাকি। চারপাশ দেখি, শুনি। কিন্তু আমি চুপ করে থাকি। এটাই ভালো। আমার নানা ওমর আলী। তিনি চুপ করে থাকতেন। সারাদিন ভাবতেন। তার একমাত্র সঙ্গী ছিলো রেডিও। সারাদিন রেডি কানের কাছে ধরে থাকতেন। আর আবহানী-মোহামেডানের ফুটবল খেলা হলে মাঠে গিয়ে দেখতেন। খেলা তিনি মিস করতেন না। আমার নানী আবার খুব কথা বলতেন। আমার মা-ও কথা বলতে ভালোবাসে।
মিরপুর মেট্রোরেলের ২৩৮ নম্বর পিলার।
সাধারনত আমাদের দেশের লোকজন মেট্রোরেলের পিলার গুলোর নিচে প্রস্বাব করে। ভরদুপুর বেলা। রাস্তায় জ্যাম। কত লোক যাচ্ছে, আসছে। কোনো মাথা ব্যথা নেই। মুতে ধরেছে। মুতে দিয়েছে। কোনো লজ্জা শরম নাই। আমি আজ পর্যন্ত রাস্তায় জলবিয়োগ করতে পারলাম না। যাইহোক, ২৩৮ নম্বর পিলার। পিলারের কাছে ছালা দিয়ে ছোট এক ঘর বানানো হয়েছে। এই ঘরে প্রবেশ করতে হলে হামাগুড়ি দিয়ে প্রবেশ করতে হবে। এই ঘরে যখন-তখন কতিপয় কিশোর কিশোরী নেশা করে। জুতার আঠা দিয়ে নেশা। ঘরের পর্দা বাতাসে নড়াচড়া করে। তখন পর্দার ফাঁক দিয়ে দেখা যায়। অল্প বয়সী ছেলে মেয়ে গুলো নেশা করছে। চারটা ছেলে, একটা মেয়ে। ছালা দিয়ে ঘেরা ঘরের ফাঁকফোঁকর দিয়ে ধোয়া বের হয়। অর্থ্যাত গাঁজা। গাঁজা খাওয়ার কোনো সময়, অসময় নেই। এদিকে শুনেছি সরকার মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে। সরকার সব সময় ভুলভাল কাজ করে। যারা মাদক খায়, এদের গ্রেফতার করে। কিন্তু যারা মাদক বিক্রি করে এদের গ্রেফতার করতে পারে না। যাইহোক, সৌদিতে পিলারের নিচে কেউ প্রস্বাব করে না। বরং বসে বিশ্রাম করে। কি সুন্দর করে সাজানো। ফুলটুল আছে। যারা বিশ্রাম নেবে তাদের জন্য আছে ফ্রি পানির বোতল।
পদ্মা নদীতে জেলেরা মাছ ধরতে গিয়ে বিশাল এক কাতলা মাছ ধরে ফেলে।
কাতলা মাছের ওজন ত্রিশ কেজি। ৩০ কেজি ওজনের কাতলা মাছটি নিলামে বিক্রি করা হয়েছে ৬৮ হাজার ৫শ' টাকা। চান্দু মোল্লা নামে এক ব্যবসায়ী মাছটি কিনে নেয়। কেজি হিসেবে ২২৫০ টাকা হয়। কাতলা মাছ কেন ২২৫০ টাকা কেজিতে কিনতে হবে? কি এমন মাছ এটা। হিসেবে রুই মাছের চেয়ে কম স্বাদ কারলা মাছের। কাতলা হলো মাথা মোটা মাছ। যাইহোক, চান্দু মিয়া এই মাছ আবার ঢাকায় এক আমেরিকান প্রবাসীর কাছে বিক্রি করে দেয়। যাইহোক, কাতলা মাছের কথা বলতে গিয়ুএ মনে পড়লো, অনেকদিন কাজলি মাছ খাই না। কাজলি মাছ খাই না তা প্রায় দশ বছরের বেশি হবে। অথচ বাজারে প্রতি সপ্তাহে যাই। কিন্তু কাজলি মাছ চোখে পড়ে না। সেদিন একজন বললেন, কাজলি মাছ উনি কিনেছে। ১২শ' টাকা কেজি। কাজলি অনেকে বেগুন দিয়ে খেতে পছন্দ করে। কেউ কাচা আম দিয়ে খেতে পছন্দ করে। কেউ পছন্দ করে পাতলা ঝোল করে রান্না। মা রান্না করতো কাজলি মাছ। আলু বেগুন কিছুই দিতো না। ঝোল ঝোলও করতো না। খেতে দারুন লাগতো।
২|
২০ শে এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩০
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: জীবনমুখী লেখা ।
৩|
২০ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৯:৫১
মাহদী হাসান শিহাব বলেছেন: চমৎকার অনুভূতি
©somewhere in net ltd.
১|
২০ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৩
হুমায়রা হারুন বলেছেন: মায়ের হাতের রান্না সব সময় দারুণ।