নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

রাজীব নুর

আমি একজন ভাল মানুষ বলেই নিজেকে দাবী করি। কারো দ্বিমত থাকলে সেটা তার সমস্যা।

রাজীব নুর › বিস্তারিত পোস্টঃ

ঝাঝা

২৩ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:০৬



বর্তমানে জনসংখ্যার বিচারে 'বিহার' ভারতের তৃতীয় বৃহত্তম রাজ্য।
বিহারের রাজধানী পাটনা। বিহার মূলত দরিদ্র অঞ্চল বলা যেতে পারে। এখানে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় আছে। অনেক পুরাতন বিশ্ববিদ্যালয়। নালন্দা ছিলো মূলত একটি গ্রামের নাম। নালন্দা শব্দের অর্থ 'দানে অকৃপণ'। নালন্দায় আমার লেখাপড়া করার শখ ছিলো। হয়নি। এক জীবনে অপূর্নতার শেষ নেই! পুরো বিহার জুড়ে কমপক্ষে ১৫ লাখ বাঙ্গালী থাকে। যাইহোক, বিহারে একটা অঞ্চলের নাম 'ঝাঝা'। পুরো অঞ্চল জুড়ে পাহাড় আর পাহাড়। জঙ্গলও আছে। ঝাঝা'তে একটা রেলস্টেশন আছে। পাহাড়ের আঁকাবাঁকা রাস্তা দিয়ে ট্রেন চলাচল করে। বড়ই সৌন্দর্য।

দেশভাগের সময় অনেক মুসলিম বাঙ্গালী-
বিহার থেকে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান চলে আসে। ৭১ স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়- এসব বিহারীরা পাকিস্তানকে সাপোর্ট করেছিলো। এরা আজও পাকিস্তান পাকিস্তান করে। খুজলে তাদের ঘরে জিন্নার ছবিও পাওয়া যাবে। এখন বাংলাদেশে এসব আটকে পরা বিহারীরা মানবেতর জীবনযাপন করছে। এসব বিহারীদের চেয়ে রোহিঙ্গারা অনেক ভালো আছে। যাইহোক, আমার সমস্যা হলো বিহারের 'ঝাঝা' অঞ্চলটা নিয়ে। এই অঞ্চলে আমি কোনোদিন যাইনি। অথচ আমার মনে হচ্ছে- ঝাঝা'তে আমি গিয়েছি। অনেকদিন থেকেছি। খুবই পরিচিত মনে হচ্ছে। সবচেয়ে বড় কথা একধরনের টান অনুভব করছি। যে এলাকায় জীবনে যাইনি, সে জায়গার জন্য টান অনুভব কেন করিব!

বাংলাদেশের মেহেরপুর অঞ্চলে একটা গ্রামের নাম- ঝাঁঝা।
একদম ভারতের সীমান্তের কাছে গ্রামটি। ঝাঁঝা'তে একটা বিজিবি'র ক্যাম্প আছে। তারা চোরাচালান ঠেকাতে চেষ্টা করেন। মেহেরপুরের এই ঝাঁঝা গ্রামেও আমি কোনোদিন যাইনি। সীমান্ত এলাকায় যেতে আমার ভয় করে। মনে হয় গুলি খেয়ে মরবো। সীমান্ত এলাকায় আলোচনা করে মিটমাট করা দরকার। আমাদের গরু তোমাদের এলাকায় যাবে, ঘাস খাবে। সন্ধ্যায় ফিরে আসবে নিরাপদে। কৃষক চাষ করবে ভয়হীণ ভাবে। হ্যা যারা গোপনে এপারের জিনিস ওপাড়ে নেয়, সেটা অবশ্যই অন্যায়। এই কাজ তো আর কৃষকরা করে না। সীমান্তের সমস্যা গুলো সমাধান করা প্রয়োজন। ৫২ সালের আগে সীমান্তে কোনো সমস্যা হতো না। পাসপোর্ট ভিসাও লাগতো না।

দেশভাগ হয়েই সমস্ত বাঙ্গালীদের কপাল পুড়েছে।
দুই কোটি মানুষের জীবন লন্ডভন্ড হয়ে যায়। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় লাখ লাখ মানুষ মারা গেছে। ঘরবাড়ি ছাড়া হয় দেড় কটি মানুষ। ধর্ষনের স্বীকার হয় এক লাখ নারী। দেশভাগের কারনেই- ইতিহাস, রাজনীতি, গৌরবময় ঐতিহ্য সব তছনছ হয়ে যায়। দেশভাগ নিয়ে নানাজনের নানা রকমের মত ও ব্যাখ্যা আছে। বাংলাদেশের কবিতায়-গল্পে-গানে দেশভাগের তেমন ছাপ নেই। তবে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের পূর্ব পশ্চিম উপন্যাসে দেশভাগের মহাকাব্যিক বিবরণ রয়েছে। ইতিহাসের এক অনিবার্য পরিণতি হিসেবে দেশভাগ হয়েছে। অনেক রক্তপাত, খুনোখুনি, অবিশ্বাস, একে অপরের প্রতি দোষারোপের মধ্য দিয়ে দুই বাংলা বিভক্ত হয়েছে।

মন্তব্য ১৩ টি রেটিং +৫/-০

মন্তব্য (১৩) মন্তব্য লিখুন

১| ২৩ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:২৭

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: ইতিহাসের এক অনিবার্য পরিণতি হিসেবে দেশভাগ হয়েছে।
.........................................................................................
আমরা মানুষরা এসব অনাসৃষ্টি করছি, আমাদের স্বার্থর জন্য
কিন্ত প্রকৃতি তা ভাগ করেছে ?
প্রকৃতি যখন ক্ষিপ্ত হয় তখন মহাদেশ গুলো ভাগ করে দেয় বা ডুবায়ে দেয়
ইতিহাস তাই বলে ।

২৩ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৬

রাজীব নুর বলেছেন: প্রকৃতি একদিন ক্ষিপ্ত হয়ে পুরো বিশ্ব ধ্বংস করে দিবে। সেটাকেই মুসলমানেরা কিয়ামত বলছে।

২| ২৩ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:০৭

কলিমুদ্দি দফাদার বলেছেন:
উড়িষ্যা-বিহারের "বাইজিদের" অনেক নাম-ডাক ছিলো। বাংলার নবাব- জমিদারেরা আমোদ-ফুর্তির জন্যে মোটা টাকায় উড়িষ্যা-বিহারের বাইজি ভাড়া করে নিয়ে আসতো।

বিহারি লিঠি-চোখা আমার খুব প্রিয় খাবার....

২৩ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৭

রাজীব নুর বলেছেন: বাইজি এখনও আছে।
ধনীদের বাইজি ছাড়া চলেই না।

লিঠি চোখা কি আলু দিয়ে তৈরি হয়?

৩| ২৩ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৯

হুমায়রা হারুন বলেছেন: না যেয়ে থাকলেও past life memory থেকে হয়তোবা এই টান অনুভব করছেন।

২৩ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৯

রাজীব নুর বলেছেন: আসলে মনে হয়, আগের জন্মে আমি কিছুদিন বিহার ছিলাম।
এখন এই জন্মে এসে কিছুটা আবছা আবছা মনে পড়ছে।

৪| ২৩ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৫:০৩

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আগুন পাখি উপন্যাস দেশ ভাগ নিয়ে লেখা হয়েছিলো। হাসান আজিজুল হকের ।

২৩ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৪

রাজীব নুর বলেছেন: হ্যা হ্যা ''আগুন পাখি''।
চমৎকার উপন্যাস। পড়েছি।

৫| ২৩ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৪৫

সাইফুলসাইফসাই বলেছেন: খন্ড খন্ড স্বাধীনতা, স্বাধীন হলেই পরাধীনতা

৬| ২৪ শে জুলাই, ২০২৬ ভোর ৪:২১

মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন: রাষ্ট্রপতি মহোদয়ের সবচেয়ে বড় সাফল্য তিনি সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা ধরে রাখার চেষ্টা করেছেন এবং কোন অনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করে নিন। তিনি ইচ্ছা করলে চলে যেতে পারে এটা কোন ব্যাপার না।
কারণ তাকে যারা নির্বাচিত করেছিল তারা যেহেতু নাই সুতরাং উনার থাকার কোন দরকার আছে বলে মনে হয় না।

এই রাষ্ট্রপতি থাকলে যত মিথ্যা মামলা আছে সব মামলার রায় হয়তো একসময় তিনি বাতিল করে দিবেন।

ক্ষমতাসীন দল সেই ঝুঁকি নিতে চাইছে না ।
তাই রাষ্ট্রপতিকে সময় থাকতে বিদায় করে দিচ্ছে।

এটাই বাস্তবতা। তাকে সরিয়ে দেওয়ার মূলত এটাই প্রধান কারণ।

বেগম জোবায়দা রহমান রাষ্ট্রপতি পদের জন্য এই মুহূর্তে সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি।
তাকে রাষ্ট্রপতি করা হলে বিএনপি জিতবে।

৭| ২৪ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:২৯

মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ বলেছেন:


এই সিনেমায় গানটা শোনার পর আমার মনে হয়েছে, একবার তো বিহার যেতেই হয়। এতো করে যখন বলছে! শিখদের সর্বশেষ গুরু (১০ম), গুরু গোবিন্দ কিন্তু বিহারী ছিলেন। জন্ম পাটনায়। Guru Nanak Dev Ji's Teachings - Harinder Singh On History Of Sikhs & Meaning Of Ik Onkar

দেশ ভাগের সময় সাম্প্রদায়িক সহিংসতা থেকে বাচতে এদেশে শূন্য হাতে আসলেও ওদের অবস্থা সে সময়,আমার ধারনা, বর্তমানের রোহিঙ্গাদের মতো খারাপ ছিলো না। ভারী কল কারখানায় কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকায় এরা দ্রুত পাটের কারখানা, কর্নফুলি পেপার মিল, সৈয়দপুরের রেল কারখানার মতো জায়গায় জায়গা করে নেয়। আর উর্দূভাষী হওয়ায় কল কারখানার পাঞ্জাবী মালিকদের সাথে এদের ভালো সখ্যতা গড়ে ওঠে। কিন্তু ৭১ এ এদেশের ভুমিপুত্র বাঙ্গালীদের সাথে ওরা করলো গাদ্দারী।এই যেমন ফিলিস্তিনীরা ইহুদীদের জায়গা দিয়ে যে অবস্হার শিকার, অনেকটা সেরকম।

এ পর্যন্ত ভারতে যতো সন্ত্রাসী আক্রমন হয়েছে, বড় বা ছোট, তার কোনটাই বাংলাদেশ থেকে হয়নি। হয়েছে পাকিস্তান থেকে, পাকিস্তানীদের সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতায়। সুতরাং নিরস্ত্র বাংলাদেশী চোরাচালানীদের ওপর গুলি বর্ষন করে এরকম একটা ধারনা দেয়ার কোন দরকার নেই যে ভারত বাংলাদেশ সীমান্তে ব্যাপক সন্ত্রাসী কার্যক্রম চলছে। এছাড়াও উর্দিধারী এবং অস্ত্রধারী বাহিনীর কোন সদস্য নিরস্ত্র মানুষকে গুলি করে হত্যা করলে এটাই প্রতিষ্ঠিত হয় যে বাহিনীটা অপেশাদার। এরকম অপেশাদার বাহিনী যুদ্ধে নামলে যুদ্ধাপরাধ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। বাংলাদেশ ভারত সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যদের পেশাদার নাকি অপেশাদার হিসেবে দেখতে চান তা সম্পূর্ন ভারতের কেন্দ্রী সরকারের নীতির ব্যাপার। সীমান্তে চোরাচালান হয় কিন্তু মালামাল দিয়েও আসে বাংলাদেশী আবার নিয়েও আসে বাংলাদেশী। এখানে মৌলিক পরিবর্তন আসা জরুরী। বাংলাদেশের চোরাচালানীরা ভারতে যেতে পারবে না। এটা আমাদের তরফ থেকেই সক্রিয় উদ্যোগ নিয়ে প্রতিহত করতে হবে।

পূর্ব বঙ্গের মানুষদের কপালটাই মন্দ। মুসলিম সংখ্যা গরিষ্ঠরা মনে করেছিলো ভাগ হয়ে পাকিস্তান হয়ে গেলে, ব্রিটিশ ভারতে তারা যে হিন্দুদের থেকে শিক্ষা, বানিজ্য আর চাকরি ক্ষেত্রে পিছিয়ে ছিলো তা পূরন হয়ে যাবে। তারা বিশ্বাস করেছিলো ধর্মের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা পাকিস্তানে অবাঙ্গালীদের সাথে মিলেমিশে থাকবে। তবে সেই মুসলিম ভাতৃত্ববোধের আবেগ অল্প দিনেই কর্পূরের মতো উবে গিয়েছিলো। ধর্মকেন্দ্রিক রাজনীতিতে যে ধর্মীয় আদর্শের ছিটেফোটা নেই, তা বাঙ্গালী ৫২ তেই উপলব্ধি করতে পেরেছিলো। হিন্দুরাও ৪৭, ৬৫, ৭১ এ উপূর্যূপুরী ধাক্কা খেলো। ওপারে গিয়ে ওদের জীবন বাচলো ঠিকই, কিন্তু ওই জীবনটাকি আর বাংলাদেশে থাকা জীবনের মতো হলো?

৮| ২৪ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:৩২

মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ বলেছেন: Khakee: The Bihar Chapter

৯| ২৪ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৩৯

অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য বলেছেন: ঘুরে এসে একটা ছবি ব্লগ দেন আমরা দেখি।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.