| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
রাজীব নুর
আমি একজন ভাল মানুষ বলেই নিজেকে দাবী করি। কারো দ্বিমত থাকলে সেটা তার সমস্যা।
সিরাজ ভাই বললেন, টেংরা মাছের ডিম আপনার কাছে কেমন লাগে?
আমি বললাম, ভালোই লাগে। শুধু রুই মাছের ডিম আমার ভালো লাগে না। সিরাজ ভাই বললেন, রুই মাছের ডিম সঠিক নিয়মে রান্না করতে পারলে অতি উত্তম খানা। আহা! সিরাজ সাহেবকে একেক দিন একেকটা বিষয় পায়। আজ পেয়েছে মাছের ডিম। রুই মাছের ডিম কিভাবে রান্না করতে হয় সেটা বলি। আমি বললাম, ভাই আজ আমার বিশেষ তাড়া আছে। সিরাজ ভাই বললেন, শোনো শিং মাছের ডিম কি তোমার পছন্দ? আমি বললাম, না আমার দেশি পাবদা মাছের ডিম পছন্দ। সিরাজ ভাই বললেন, তোমার হাতে সময় আছে? তাহলে চলো মাওয়া যাই। সেখানে দেশি পাবদা পাওয়া যেতে পারে। পেট ভরতি থাকবে ডিম। আহ! আমার সাথে গাড়ি আছে, যেতে এক ঘন্টা সময় লাগবে। আমি বললাম, না যাবো না। সিরাজ ভাই বললেন, এখন তো বাজারে ইলিশ মাছের ডিম আলাদা কিনতে পাওয়া যায়। বেহেশতে কি ইলিশ মাছের ডিম পাওয়া যাবে? আমি বললাম, অবশ্যই পাওয়া যাবে।
সিরাজ ভাই আমার বাবার বয়সী।
কিন্তু উনি আমার সাথে বন্ধুর মতো চলতে চান। সেদিন ভিড়ের মধ্যে মহাখালি দেখা। উনি যে সিগারেট খান, সেটা নাকি মহাখালি ছাড়া অন্য কোথাও পাওয়া যায় না। তার বাসা বনানী। বনানী থেকে প্রতিদিন সন্ধ্যার পর মহাখালি আসেন শুধু মাত্র এক প্যাকেট সিগারেট কিনতে। উনার একটা মেরুন রঙের গাড়ি আছে। সিরাজ ভাইয়ের হাতে অনেক সময়। উনি আগে পাট মন্ত্রনালয়ের সচিব ছিলেন। অবসরে গেছেন অনেক বছর হয়ে গেছে। উনি এক প্যাকেট সিগারেট কিনলেন। ব্যস্ত রাস্তা। ব্যস্ত ফুটপাত। ভিড়ের মধ্যে উনি আমার হাত শক্ত করে ধরে রেখেছেন, যেন আমি না চলে যেতে পারি। উনি একটা সিগারেট ধরালেন। আমাকে একটা দিলেন। আমি হাসি মুখে ফিরিয়ে দিলাম। বাপের বয়সী একটা মানুষের সামনে সিগারেট খাবো, এত বড় বেয়াদব আমি না। আমি শুধু মনে মনে ভাবি- সিরাজ ভাই চাকরি জীবনে সৎ ছিলেন কিনা! উনি যে রকম জীবনযাপন করেন- তাতে বুঝা যায় উনি বিরাট ধনী মানুষ।
সিরাজ ভাইয়ের বয়স ৬৫ তো হবেই।
কোনো অসুখ বিসুখ নেই। ডায়বেটিস নেই। চোখে সমস্যা নেই। কোনো চিন্তা ভাবনা নেই। তবু সে মাসে দুবার ডায়বেটিস টেস্ট করাবেন এবং প্রতিদিন প্রেসার মাপবেন। নিয়মিত ডাক্তারের কাছে যান। গাড়ি নিয়ে একেকদিন একেক রেস্টুরেন্টে যাবেন। পছন্দের খাবার গুলোর অর্ডার দিবেন। বেঁচে যাওয়া খাবার ড্রাইভারকে দিয়ে দিবেন। উনি সরকারের উচ্চপদে ত্রিশ বছরের বেশি সময় ধরে কাজ করেছেন। উনি ক্লাবে যান না। মদ খান না। মন্দ লোকদের সাথে মিশেন না। উনার দুই ছেলে। দুজন'ই বিয়ে করেছে। দুজনেরই ছেলেমেয়ে আছে। ঢাকা শহরটা খুব ছোট। ঘুরে ফিরে সিরাজ ভাইয়ের সাথেই আমার বারবার দেখা হয়। এখন রাস্তায় আমি মেরুন রঙের কোনো গাড়ি দেখলেই পালিয়ে যেতে চেষ্টা করি। লোকটা রাজনীতি সম্পর্কে অনেক জানেন। সবাইকে চিনেন। তার কাছে তথ্যের অভাব নেই। অথচ সাধারন মানুষের মতো তার চলাফেরা।
আমার এক বন্ধু মিজান নাম।
রায়েন্দা বাড়ি। ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করে। পোষ্টিং হচ্ছে গোপালগঞ্জ। ঢাকা তার স্ত্রী ও ছেলে থাকে। ছেলে ক্লাশ ফোরে পড়ে। মিজান সারাদিন ডিউটি করে গোপালগঞ্জ থেকে রাতে ঢাকা ফিরছিলো। মিজানের নিজের বাইক। সে বাইক ভালো চালায়। রাত ১১ টায় ভাটিয়াপাড়া এক রেস্টুরেন্টে রাতের খাবার খেয়ে বাইক চালিয়ে ঢাকা ফিরছিলো। শুক্রবার সে সারাদিন তার পরিবারের সাথে থাকিবে। একটা ছোট ব্রীজ পার হওয়ার সময় মিজান বাইক একসিডেন্ট করে। সে ব্রীজ থেকে ছিটকে পড়ে যায় খালে। খালে গলা সমান পানি। গ্রাম দেশে রাত ১২ টা মানে অনেক রাত। মিজানের পা ভেঙ্গে গেছে। মাথায় বেশ ভালো চোট পেয়েছে। মিজান চিৎকার করে সাহায্য চাইছে। কিন্তু তার গলার আওয়াজ বেসি দূর পৌছায় না। সে নিজে খাল থেকে উঠে আসবে, সে উপায় নেই। তার পা ভেঙ্গে থেতলে গেছে। ভাঙ্গা পা নিয়ে মিজান সারারাত খালে থাকলো।
পরের দিন এলাকাবাসী মিজানকে দেখতে পায়।
মিজান তখন প্রায় অচেতন। তাকে ফরিদপুর নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে ঢাকা আসে। এখন সে পঙ্গু হাসপাতালে ভরতি। আমি খবর পেয়ে মিজানকে দেখতে গেলাম। মিজানের করুন অবস্থা। পা-টা সম্ভবত কেটে ফেলে দিতে হবে। মিজানের চিকিৎসার জন্য অনেক টাকা লাগবে। অলরেডি দুই লাখ টাকা খরচ হয়ে গেছে। মিজানের অফিস থেকে কোনো টাকা দিবে না। কারণ মিজান অফিসকে না জানিয়ে কেন ঢাকা আসিবে? এখন দায়ভার অফিস নেবে না। অফিস বড়জোর প্রভিডেন্ট ফান্ড আর গ্র্যাচুইটি থেকে সামান্য কিছু দিতে রাজী আছে। পরিশ্রমী ছেলে মিজান। একটা দূর্ঘটনায় পুরো পরিবার ভেঙ্গে গেছে। উন্নত চিকিৎসা পেলে মিজানের পা-টা বেঁচে যাবে। নইলে সরকারি হাসপাতালের ডাক্তারেরা পা কেটে ফেলবে। হা- পা ছাড়া বেঁচে থাকাও কষ্টের।
সেদিন উত্তরা মাসকট প্লাজার সামনে সিরাজ ভাইয়ের সাথে দেখা।
উনি বললেন, আজ তার সাথে রাত ৯ টা পর্যন্ত থাকতে হবে। আমি বললাম, আমি থাকিতে পারিব না। আমার বন্ধু হাসপাতালে ভরতি তাকে দেখতে যেতে হবে। সিরাজ সাহেব বললেন, আমিও যাবো তোমার সাথে। নিয়ে গেলাম সিরাজ সাহেবকে। মিজানকে দেখে উনার ভীষন মন খারাপ হলো। উনি মিজানের অফিসের সিইও'কে ফোন দিলেন। কি কথা হলো আমি জানি না। এখন মিজানের অফিস মিজানের চিকিৎসার সমস্ত খরচ দিবে। এমনকি প্রয়োজনে বিদেশও চিকিৎসা করাবে। সাবেক সচিবের পাওয়ার দেখে আমি মুগ্ধ! সিরাজ ভাইকে ধন্যবাদ জানালাম। উনি বললেন, মিজানের অফিস না মানলে আমি সরাসরি রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রীকে ফোন দিতাম। আমি জানি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে উনার নিয়মিত যোগাযোগ আছে।
২|
১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:১৮
হুমায়রা হারুন বলেছেন: oh my God!
কিসের যেন এক বিজ্ঞাপনের কথা মনে পড়ে যাচ্ছে।
৩|
১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৬
এস.এম. আজাদ রহমান বলেছেন: পড়ে ভাল লাগলো প্রিয় রাজীব ভাই।
৪|
১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:১৬
নাহল তরকারি বলেছেন: লেখাটি পড়ে সত্যিই মনটা ভার হয়ে গেল। মিজানের মতো একজন পরিশ্রমী মানুষ, যে সারাদিন পরিবারের জন্য পরিশ্রম করে রাতে নিজের সন্তানের কাছে ফিরছিল, একটি দুর্ঘটনা তার পুরো জীবনটাকেই যেন থামিয়ে দিল। সবচেয়ে কষ্টের বিষয়—সারারাত খালের পানিতে পড়ে সাহায্যের জন্য চিৎকার করেও কেউ তাকে শুনতে পেল না। ভাবতেই বুকটা কেঁপে ওঠে।
©somewhere in net ltd.
১|
১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৩
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: বেহেশতে কি ইলিশ মাছের ডিম পাওয়া যাবে? আমি বললাম, অবশ্যই পাওয়া যাবে।
..................................................................
এবারের নির্বাচনের সময় কি বেহেশতের টিকেট কিনে
ফেলেছেন ?
আপনি তো আবার পরী ভালবাসেন ।