| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
রাজীব নুর
আমি একজন ভাল মানুষ বলেই নিজেকে দাবী করি। কারো দ্বিমত থাকলে সেটা তার সমস্যা।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়।
১৯৪৩ সালে জাপান ভারতে আচমকা বেশ কিছু বোমা হামলা করে। সম্ভবত হিটলারকে খুশি করতেই জাপান এই কাজ করে। একের পর এক বোমা ফেলে মাদ্রাজে (বতর্মান চেন্নাই)। ইংরেজরা ক্ষমতায় তবু বোমা হামলা করা হলো। এই বোমা হামলায় তেমন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। মাত্র দুজন প্রান হারায়। বেশির ভাগ বোমা পড়েছিলো সমুদ্রে। পাচ লাখ মানুষ শহর ছেড়ে চলে যায়। ইংরেজদের অত্যাচার এবং বোমার ভয়ে এক জেলে তার নৌকা নিয়ে সমুদ্রে নেমে পড়ে। তার সঙ্গী হয় আরো কয়েকজন। এদের মধ্যে কয়েকজন মুসলমান। টানা ২৪ ঘন্টা নৌকা চলে। নৌকায় নেই কোনো খাবার। নেই পানি। মাঝ সমুদ্রে নৌকা যায় ফুটো হয়ে। এদিকে আকাশ থেকে বোমা পড়েছে। তখন মাঝি বলে এই নৌকা আট জন মানুষের ভার বহন করতে পারে। অথচ নৌকায় দশ জন। যে কোনো দুইজন নৌকা থেকে নেমে যাও। মাঝ সমুদ্রে নেমে যাওয়া মানে নিশ্চিত মৃত্যু। কেউ মরতে চায় না। এই সত্য ঘটনা নিয়ে একটা সিনেমাও হয়। হিন্দু এবং মুসলিমরা যদি মিলেমিশে থাকতো- বিশ্বে সর্বদা শান্তি বিরাজ করতো।
শশীভূষনের জন্ম ভারতের আসাম রাজ্যে।
সেই সময় আসামে অনেক চা বাগান ছিল। চা বাগান গুলোতে তার অনেক স্মৃতি জড়িত। চা বাগানের পাশ দিয়ে সবসময় হাতী চলাচল করত। কতদিন সে নিজে একাই হাতীর পিঠে চড়েছেন। দেশভাগের কারনে বাঙ্গালিদের কপাল পুড়লো। দেশ বিভাগের পর লাখ লাখ উদ্বাস্তু মানুষ যখন দেশ ছাড়ছিল, তখন হেলিকপ্টার থেকে দেখে জিন্নাহ কপাল চাপড়ে বলেছিলেন, এ আমি কী করিলাম! লাখ লাখ উদ্বাস্তু দেখে কলকাতার মানুষ দিশেহারা। উদ্বাস্তুরা প্রতিটা রেলস্টেশন দখল করে নিয়েছে। শহরের খালি জায়গা দখল করে ফেলেছে। তারা শহরের পরিবেশ নষ্ট করে দিচ্ছে। সরকার তাদের আন্দামান পাঠিয়ে দিতে চায়। কিন্তু তারা কলকাতা ছেড়ে যেতে চায় না। ফলাফল পুলিশের সাথে মারামারি। গ্রেফতার। কলকাতা ধনী শহর নয়। এত উদ্বাস্তু'র থাকার জায়গা এবং খাওয়ার ব্যবস্থা তারা করতে পারবে না। উদ্বাস্তুদের মধ্য যারা শিক্ষিত এবং ধনী তারা বাড়ি ভাড়া করে আছে। তারা চাকরিও পেয়েছে। দেশভাগের ফলে কারো কপাল পুড়েছে, কেউ আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হয়েছে।
আসাম বাংলাদেশের একেবারেই সীমান্তঘেঁষা এলাকা।
আসামের বেশীর ভাগ মানুষ'ই হিন্দু ধর্মের। হিন্দু মুসলিম একসাথে মিলেমিশে থাকতে পারে না। আসামের বাঙালি বিদ্বেষী রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে ১৯৬০ সালে। ভারতের স্বাধীনতা লাভের পর আসাম রাজ্যের অর্থনৈতিক সমস্যা প্রকট হতে শুরু করেছিল। পূর্ববাংলাকে দুর্বল অংশে পরিণত করার সুদূরপ্রসারী চক্রান্ত দেশভাগে সম্পন্ন করেছিল অবাঙালি পাকিস্তানিরা। দেশ ভাগের অনেক আগে থেকেই অবিভক্ত বাংলা থেকে দলে দলে বাঙ্গালিরা আসামে যায়; সেখানে চাষবাস শুরু করে, ক্রমশ ব্যবসা আর চাকরিতে তারা অগ্রসর হয়ে ওঠে। ইংরেজ বিদায় নেয়ায় দেশভাগে আসামে বাঙালিরা সংখ্যালঘু হয়ে পড়ে। আমার নানা নানীর বাড়ি বিক্রমপুর হলেও তারা ব্যবসা করতেন আসামে। ব্যবসার খাতিরে তারা বছরের ছয় মাস আসামেই থাকতেন। পিতলের থালা বাটি গ্লাসের ব্যবসা। পিতল দিয়ে মূর্তিও বানানো হতো। নানা নানীর ব্যবসা ভালো যাচ্ছিলো। তারা চিন্তা করলেন- আসামে জমি কিনে একটা দোতলা বাড়ি করবেন।
দেশবিভাগ ছিলো এমন একটি পরিণতি,
যা ইচ্ছা না থাকা সত্ত্বেও মেনে নিতে হয়েছিলো অধিকাংশ মানুষকে। একই আকাশ, একই বাতাস, দু'বাংলার মানুষের ভাষাও এক। রাজনৈতিক নিপীড়নের স্বীকার হয়ে জান-মাল-ইজ্জতের নিরাপত্তাহীনতার কারণে নিরূপায় হয়ে অনেক সময় মানুষ যুগ যুগ ধরে এক দেশ থেকে অন্য দেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। দেশ ভাগের সময়ে সে দেশের বড় বড় হিন্দু জমিদারেরা লক্ষ লক্ষ বর্গ একর জমি ছেড়ে ভারতে চলে আসেন। তখন সেই জমির অধিকার পান অতি চালাক কিন্তু দরিদ্র মুসলিম চাষীরা।
১৯২৭ সাল। বাইগার নদী এঁকেবেঁকে গিয়ে মিশেছে মধুমতী নদীতে।
বাইগার নদীর তীর ঘেঁষে ছবির মতো সাজানো সুন্দর একটি গ্রাম আছে। পুরো গ্রাম জুড়ে সুন্দর ঝকঝকে সকাল। চারিদিকে স্বচ্ছ রোদ। রোদের তাপ নেই। গিমাডাঙ্গা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আজ একটা ছোট্র ছেলে প্রথম ক্লাশ করতে এসেছে। বালকের পূর্বপুরুষদেরই গড়ে তোলা গিমাডাঙ্গা টুঙ্গিপাড়া স্কুল। হাসি খুশি প্রানবন্ত বালকটির বয়স ছয়-সাত বছর হবে। বাবা মা আদর করে বালকটিকে খোকা বলে ডাকেন। খোকাকে স্কুলে নিয়ে এসেছে- তার বড় বোন ফাতেমা বেগম। খোকাটি হাসি মুখে ক্লাশে রুমে ঢুকে প্রথম বেঞ্চে বসল কোনো রকম সংকোচ ছাড়াই। অন্য ছেলেদের মতন সে কোনো কান্নাকাটি করল না। এই সাহসী বালকের মায়ের নাম সায়েরা খাতুন। স্কুল ছুটির পর খোকা একাএকা হেঁটে বাসায় ফিরল। প্রায় সোয়া কিলোমিটার দূরত্ব। তার মেজ বোন আছিয়া বেগম ভাইকে আনতে স্কুলে যেতে চেয়েছিল- কিন্তু খোকা চিৎকার করে বলেছে- আমি একাই আসতে পারব- এতটুকু পথ।
প্রতিদিন বিকেলে খোকা খুব ফুটবল খেলতেন।
দোয়েল ও বাবুই পাখি ভীষণ ভালোবাসতেন। বাড়িতে শালিক ও ময়না পুষতেন। আবার নদীতে ঝাঁপ দিয়ে সাঁতার কাটতেন। বানর ও কুকুর পুষতেন বোনদের নিয়ে। পাখি আর জীবজন্তুর প্রতি ছিল গভীর মমতা। মাছরাঙা ঢুব দিয়ে কীভাবে মাছ ধরে তাও তিনি খেয়াল করতেন খালের পাড়ে বসে। খোকার মনটা ছিল আকাশের মতো উদার। তখনকার দিনে স্কুলে তার অনেক গরিব বন্ধু ছিল- যারা ভালো করে পেটপুরে খেতে পারতো না, খোকা ওই শিশুদের বাড়িতে নিয়ে আসতেন। মাকে বলে দুধ ভাত খেতে দিতেন।
গোপালগঞ্জ মিশন স্কুলে নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় খোকা স্কুলের শিক্ষক বসুরঞ্জন সেনগুপ্তের বাসায় প্রাইভেট পড়তেন। একদিন সকালে তাঁর বাড়ি থেকে পড়া শেষ করে আসার পথে এক খালি গা বালককে দেখলেন। জিজ্ঞেস করলে ছেলেটি বললো, এই শীতে তার গায়ে দেয়ার মতো কিছু নেই। সঙ্গে সঙ্গে খোকা গায়ের গেঞ্জি খুলে ওই ছেলেকে দিয়ে দেন। বাড়ি ফিরে আসেন চাদর গায়ে, আদুল গায়ে। বালকের কষ্ট সেদিন খোকা সহ্য করতে পারেননি। বয়স যখন চৌদ্দ, তখন সপ্তম শ্রেণীতে পড়াকালীন তিনি হঠাৎ চক্ষুরোগে আক্রানত্ম হন। অনেক চিকিৎসা চলে। কিন্তু অসুখ সারে না। এ কারণে তাঁর লেখাপড়া সাময়িক বন্ধ হয়ে যায়। তিন বছর পর আবার সুস্থ হয়ে তিনি অষ্টম শ্রেণীতে ভর্তি হন। এই খোকা ১৯৩৮ সনে আঠারো বছর বয়সে ফজিলাতুন্নেসা নামক এক তরুনীকে বিয়ে করেন। এই দম্পতির ঘরে দুই কন্যা এবং তিন পুত্রের জন্ম হয়। কন্যারা হলেন- শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানা।
২|
২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪১
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: আসাম বাংলাদেশের একেবারেই সীমান্তঘেঁষা এলাকা।
.....................................................................................
ত্রিপুরা বাংলাদেশের পেটের মধ্যে থাকে ।
ওখান থেকে আমি গ্রামিন ফোনে কথা বলতাম ।
৩|
২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৩২
শায়মা বলেছেন: এই ইতিহাস জানা হলো ভাইয়া! ![]()
৪|
২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১১
আহমেদ রুহুল আমিন বলেছেন: পুর্ববাংলার হিন্দু জমিদারেরা লক্ষ একর জমি ছেড়ে ভারতে যাওয়ায় দরিদ্র চালাক মুসলমান চাষী রা সেই জমি দখল করে আরাম আয়েশে জীবন কাটাচ্ছে। সেই জমির অংশীদার কি খোকা বাবুর পরিবাররাও ছিলেন? লেখার ধারাবাহিকতায় সেই প্রশ্ন ফুটে উঠেছে....!
৫|
২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৪৭
চারাগাছ বলেছেন:
লেখাটি পড়লাম। ইতিহাস, স্মৃতিকথা ও ব্যক্তিগত ব্যাখ্যা—তিনটিই এখানে একসঙ্গে এসেছে, তাই কয়েকটি জায়গা নিয়ে একটু প্রশ্ন থেকে যায়। বিশেষ করে ১৯৪৩ সালের নৌকার ঘটনাটি এবং জিন্নাহ হেলিকপ্টার থেকে উদ্বাস্তু দেখে “এ আমি কী করিলাম” বলেছিলেন—এই দাবিগুলোর নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক সূত্র পাওয়া যাবে কি?
দেশভাগ ও আসামে বাঙালিদের ওপর নির্যাতনের ঐতিহাসিক বাস্তবতা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। একইভাবে শেখ মুজিবের শৈশবের কিছু ঘটনাও জীবনী ও স্মৃতিকথায় পাওয়া যায়। তবে কোনটি নথিভুক্ত ইতিহাস, কোনটি পারিবারিক স্মৃতিচারণ এবং কোনটি লেখকের ব্যাখ্যা—এগুলো আলাদা করে উল্লেখ করলে লেখাটি আরও বিশ্বাসযোগ্য ও মূল্যবান হতো।
ধন্যবাদ রাজীব নুর।
©somewhere in net ltd.
১|
২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫০
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: পড়লাম ।