| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
যেহেতু প্রসঙ্গটা মুননা কে নিয়ে সেহেতু আজকে ছেঙ্গারচর এর মুনানার কথাই বলছি। ঘটনাটি ঘটেছে ২০০৩ সালের জুলাই মাসের ২১ তারিখে। মাত্র কয়েক দিন আগে (১৩/০৬/২০০৩) বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছি, আমার অফিস থেকে ছুটি নিয়ে শশুর বাড়ী যেতে হবে সেই কারনে মা-বাবা আগেই চলে গিয়েছিল তার বেয়াই বাড়ীতে (আমার শশুর বাড়ী) আমি যাব ছুটি নিয়ে, কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস সঠিক সময়ে অফিস থেকে বের হতে পারলাম না। যখন বের হয়ে নারায়নগঞ্জ গেলাম তখন বিকাল ৫:০০ টার লঞ্চ ধরতে পারলাম না বাধ্য হয়ে অন্য লঞ্চে করে যেতে হবে বাসায় ফিরার ও কোন উপায় নাই কারন ঘড়ের চাবি মা-এর কাছে। উপয়ন্তর না দেখে অন্য একটা লঞ্চে করে শশুর বাড়ীর উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলাম। বিকেল গড়িয়ে প্রায় সন্ধা হয়ে আসছিল, আমার পক্ষে কোন ক্রমেই সম্ভব না যে একা একা শশুর বাড়ী যাব। লঞ্চের ডেকে দেখলাম ৪/৫ জন উঠতি বয়সের ছেলে (যদি আমি তাদের বকাটে বলি তবে তাদের অপমান করা হবে যা আমার পক্ষে সম্ভব না) ফাজলামো করছিল। তাদের বলেছিলাম আমাকে একটু পথ চিনিয়ে দিতে তাদের মধ্যে একজন নাম মুন্না সে আমার দিকে তাকিয়ে বল্ল "আমরা কারো সাহায্য করি না" আমার মনে হলো এরাই আমাকে আমার গন্তব্যে পৌচাতে সাহায্য করবে আমি তাদের বললাম সত্যকার ভাবে যদি কারো সহযোগীতা না পাই তাহলে আমার আত্মীয়ের বাসায় যাওয়াটা একটু কষ্টকর হবে। ঠিক আছে দেখা যাক বলে তারা তাদের আড্ডায় মশগুল হয়ে গেল সন্ধার পর আমাদের গন্তব্যে লঞ্চ পৌছালে আমরা লঞ্চ থেকে নামলাম এর পর একটা দোকানে চা খেলাম, সেই দোকানেই প্রায় ৩০ মিনিট ব্যয় করায় রাস্তায় আর কোন রিক্সা বা অন্য কোন বাহন নেই যেটাতে চড়ে নিজ গন্তব্যে যাব। মুন্না আমায় সাহস দিয়ে বল্ল কোন চিন্তা করবেন না আমি আপনাকে গন্তব্যে পৌছে দিব। ওর কথায় তেমন ভরষা করতে পারলাম না তার পরও বাধ্য হয়ে রওয়ানা হলাম ওর সাথে অনেকদুর হাটার পর একটা রিক্সা পেলাম যেটা একটু সামনে (ছেঙ্গার চর বাজারে) যেতে রাজি হয়েছে যার বিনিময়ে নিয়মের দ্বিগুন ভাড়া দিতে হবে তাকে কোন উপয়ন্তর না দেখে রিক্সায় উঠে পরলাম বাজারে আসার পর মুনানা আমায় জিজ্গেস করল কোন গ্রামে যাব তাকে বলেছিলাম মরাধন সে আমায় আবার জিজ্গেস করল কোন মরাধন বড়মরাধন না ছোটমরাধণ (সঠিক ঠিকানা না জানায়) একটু অপ্রস্তুত হয়ে গেলাম ভাবলাম হলে ছোট হবে কেন? বড়টাই বলি, যেই ভাবা সেই কাজ তাকে বললাম বড়মরাধন যাব যথারিতি ছেঙ্গারচর বাজার থেকে আর একটা রিক্সা নিলাম বড়মরাধন যাবার জন্যে সে খানে গিয়ে বুঝলাম আমি ভুল জায়গায় চলে এসেছি একজন ভদ্রলোক আমার শশুরের নাম সুনে জানালো আমায় ছোট মরাধন যেতে হবে। কিছুই করার নেই তাই করতে হবে কিন্তু বাধ সাধে রিক্সাওয়ালা সে আর যাবে না, উপয়ন্তর না দেখে আমি আর মুন্না হাটতে শুরু করলাম মুন্না আমাকে বল্ল ভাই আপনার হাতের ব্যাগ গুলো আমায় দিন যেহেতু আমাদের এলাকার মেহমান আপনি শুধু শুধু আপনি একা কেন কষ্ট করবেন আমিও একটু কষ্ট করি আপনার সাথে আমি বাধা দিতেই সে আমার হাত থেকে শশুর বাড়ীর জন্য আনা ফলের ব্যাগ ও অন্য ব্যাগ ও তার হাতে নিয়ে নিল। এদিকে তখন রাত ৯:০০ টা বাজে অন্ধকার রাত কাউকে কেউই দেখিনা কেবল কথা বলায় বুঝতে পারি আমরা দু'জন হাটছি। পকেটে সিগারেটের প্যাকেট থেকে সিগারেট দিলাম মুন্নার হাতে সিগারেটের আগুনে বুঝা যাবে সে আমার সাথে আছে। মনে হচ্ছিল যদি মুন্না একটু থেমে যায় তা হলে আমার কিছু করার বা বলার নাই যদি আময় বলে আপনা কাছে কি আছে তা আমায় দিয়েদিন তা হলেও আমার কিছু করার বা বলার নাই। যাক এমনটা কিছুই হলোনা প্রায় এক ঘন্টারও পরে আমার নিজ গন্তব্যে পৌছে দিল মুন্না। যার কথা আমার আজও মনে পড়ে।
©somewhere in net ltd.