| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সত্যপথিক শাইয়্যান
আমার কাছে অনেক আইডিয়া আছে এবং আমি তা ব্লগে এপ্লাই করি! জানেনই তো, পৃথিবীর সব কিছুর মূলে রয়েছে আইডিয়া!

আপনি যত বড় আর মহানই হোন না কেন, ছোটদের প্রতি আপনার দায়িত্ব ও কর্তব্য ভুলে যেতে পারেন না। এমন দায়িত্ব আর কর্তব্যজ্ঞান থেকেই মহান মানুষের জন্ম হয়। আপনি একটু মনে করে দেখুন, পৃথিবীর বড় বড় বিপদের সময়ই মানব জাতির সবচেয়ে মহান ব্যক্তিটি ত্রাতার ভূমিকায় এগিয়ে আসেন।
আপনি যত বড়, শক্তিশালী কিংবা প্রভাবশালীই হোন না কেন—ছোটদের প্রতি আপনার দায়িত্ব ও কর্তব্য কখনোই শেষ হয়ে যায় না। বরং যত বড় হন, দায়িত্ব তত বাড়ে। ইতিহাস আমাদের বারবার দেখিয়েছে, প্রকৃত মহান মানুষ তার ক্ষমতা, খ্যাতি বা অবস্থান দিয়ে নয়—বরং দুর্বলদের প্রতি তার দায়িত্ববোধ ও মানবিক দায়বদ্ধতার মাধ্যমেই মহান হয়ে ওঠেন।
কিছু বাস্তব উদাহরণঃ
পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বিপদগুলোর সময় আমরা লক্ষ্য করি, সাধারণ মানুষ নয়—বরং সবচেয়ে সচেতন, নৈতিক ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিরাই ত্রাতার ভূমিকায় এগিয়ে আসেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় উইনস্টন চার্চিলের কথা ভাবুন। যুদ্ধের ভয়াবহতা যখন ব্রিটেনকে গ্রাস করছিল, তখন তিনি কেবল একজন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন না—তিনি ছিলেন জনগণের সাহস, আশ্রয় ও নেতৃত্বের প্রতীক। তাঁর বক্তৃতা, সিদ্ধান্ত এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা একটি জাতিকে টিকে থাকার শক্তি জুগিয়েছিল।
একইভাবে, দক্ষিণ আফ্রিকার নেলসন ম্যান্ডেলা দীর্ঘ ২৭ বছর কারাবরণ করেও প্রতিশোধের পথে হাঁটেননি। বরং তিনি তাঁর জাতির সবচেয়ে ক্ষুদ্র ও নিপীড়িত মানুষের জন্য ক্ষমা, সহনশীলতা ও ন্যায়বিচারের পথ বেছে নিয়েছিলেন। তাঁর মহানত্ব জন্ম নিয়েছিল এই দায়িত্ববোধ থেকেই—যে দায়িত্ব তিনি নিজের নয়, পুরো জাতির জন্য বহন করেছিলেন।
আরও কাছের উদাহরণ আমরা পাই প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়। বন্যা, ঘূর্ণিঝড় বা মহামারির সময় যখন সাধারণ মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়ে, তখন অনেক শিক্ষক, ডাক্তার, স্বেচ্ছাসেবক ও সমাজের দায়িত্বশীল মানুষ নিজের নিরাপত্তা ভুলে অন্যের পাশে দাঁড়ান। তাঁরা হয়তো রাষ্ট্রনায়ক নন, কিন্তু দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে তাঁরা নিঃসন্দেহে মহান।
উপলব্ধিঃ
সত্য হলো—মহানত্ব কোনো জন্মগত উপাধি নয়। এটি গড়ে ওঠে দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে। যারা ছোটদের অবহেলা করে, দুর্বলদের তুচ্ছ মনে করে কিংবা ক্ষমতাকে কেবল নিজের স্বার্থে ব্যবহার করে—তারা বড় হতে পারে, কিন্তু মহান হতে পারে না।
উপসংহারঃ
অতএব, আপনি যত বড়ই হন না কেন, যদি ছোটদের কথা ভুলে যান—তাহলে আপনার বড় হওয়া অসম্পূর্ণ থেকে যায়। কারণ দায়িত্ব ও কর্তব্যজ্ঞান থেকেই জন্ম নেয় সেই মানুষটি, যিনি বিপদের দিনে ত্রাতা হন, ইতিহাসে আলো জ্বালান এবং মানবতার মানদণ্ড হয়ে থাকেন।
ছবি সূত্রঃ AFP News Agency
১৩ ই জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:৪০
সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:
এ,এফ,পি'র ভিডিওটি দেখার পরে থেকেই এমন চিন্তা মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিলো।
ধন্যবাদ নিরন্তর।
২|
১৩ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:২৪
আফলাতুন হায়দার চৌধুরী বলেছেন: প্রিয় ব্লগার শাইয়্যান, অনেক দিন পর আপনাকে দেখলাম।
(ইয়ে মানে, অনেক দিন পর এসেছি কি না!)
ছোটোবেলায় টেলিভিশনে জ্ঞনীদের বচন দেখানো হত। তার মধ্যে একটা ছিলো,
"তুমি বুড়োকে লাথি মারো, কারন তুমি জানো সে কি। কিন্তু ছোটোদের লাথি মেরো না। কারন তুমি জানোনা বড় হয়ে ওরা কি হবে।"
মনে মনে ভাবতাম, "কিয়ারে, বুইঝলাম ছোডোরে লাইত্থাইলে বড় হইয়া লাইত্থাইবো। কিন্তু বুইড়ারে লাইত্থাইতে কয় কা?"
সামুতে সোনাগাইজ্জারে দেইখা বুইঝলাম, টেলিভিশনে এই জিনিষ কেন দেখাইতো।
১৩ ই জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:৪১
সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:
প্রিয় আফলাতুন হায়দার চৌধুরী ভাই,
আপনাকে অনেক দিন পরে পেয়ে ভালো লাগলো। আশা করি ভালো আছেন।
বড় হিসেবে আমাদের দায়িত্ব অনেক, সব ক্ষেত্রেই।
ভালো থাকুন নিরন্তর।
৩|
১৩ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১২
রাজীব নুর বলেছেন: আসলে প্রতিটা মানুষের অনেক দায় দায়িত্ব।
১৪ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:৩৩
সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:
সহমত। ধন্যবাদ নিরন্তর।
©somewhere in net ltd.
১|
১২ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:১৮
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আপনার কাছে থেকে নতুন করে এসব বিষয় জানলাম ।