নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমি আমার ভাবনা গুলো লেখার চেষ্টা করি।

আমি আমার অলস ভাবনাগুলো লেখার চেষ্টা করি।

অরণ্য মরুভুমি

আমি আমার অলস ভাবনাগুলো লেখার চেষ্টা করি।

অরণ্য মরুভুমি › বিস্তারিত পোস্টঃ

আমরা যেভাবে ধর্ষণ শিখলাম।

০৩ রা এপ্রিল, ২০১৬ রাত ২:০৮

সমস্যার ট্রিগার না দেখে আমরা বুলেট নিয়ে খুব মাথা ঘামাই এটা নতুন কিছুনা।

পরবর্তী কথাগুলো আমার কাছে সম্পূর্ণ বাস্তব, কারো কল্পনার সাথে মিলে গেলে তা কাকতালীয়।

বাংলা সিনেমার গানের দৃশ্য, নায়ক নায়িকার প্রেম হওয়ার পরের দৃশ্যেই গান, যেখানে তারা নাচছে। গানের অন্তরার সময় নায়ক নায়িকাকে পাপ্পি দিতে গেলো আর নায়িকা লজ্জায় তার মুখ ঘুরিয়ে নিল। একটা কাট মেরে পরিচালক নিয়ে গেল দুটো গোলাপ ফুলের দৃশ্যে যেখানে দুটো ফুল আলতো করে বাড়ি খেলো, অর্থাৎ পরিচালক এখানে পবিত্র ভালবাসার দৃশ্য দেখাতে চান না।

এই সিনেমারই অন্য দৃশ্যে যাই, যেখানে নায়িকার বাবার লোক বা অন্য কোন খলনায়ক নায়কের বোনকে ধাওয়া করে ধরে নিয়ে গেল গাজীপুর জঙ্গলের কোন বাংলোতে। সেখানের দৃশ্যগুলো যেমনটা হয়ে থাকে, নায়কের বোনকে মাঝখানে রেখে সবাই হাত তালি দিচ্ছে।প্রথমেই টান মেরে ওড়না সরিয়ে ফেলা হল। এর পর তাকে দুর্বল করার জন্য শরীরে করা হল আঘাত। এর পর ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়া হল বিছানায়। সিনেমেটোগ্রাফার তখন এক্সট্রিম ক্লোজে নায়িকার বুকের বিন্দু বিন্দু ঘাম নিচ্ছে্‌, ব্লা ব্লা ব্লা আর অনেক কিছু। লাস্ট শটে দেখানো হল নায়কের বোনের টান টান পা, মিশন শেষ। এর পর হয় তাকে হত্যা অথবা পরের দৃশ্যে......

এর পর সম্ভাব্য স্ক্রিপ্ট হচ্ছে, নায়কের বোন হাসপাতালে ভর্তির পর সুযোগ বুঝে পাচ তলার কাচের জানালা নিজের শরীর দিয়ে ভেঙে লফিয়ে পড়লো এফ ডিসির চত্বরে।
অথবা বাড়িতে ফেরার সময় হটাত ট্রাকের সামনে আত্মহত্যা, অথবা বাড়ি ফিরে লজ্জায় নিজের ঘরের দরজা লক করে ফ্যানের সাথে ওড়না পেচিয়ে আত্মহত্যা।
এদিকে নায়ক নায়িকার সাথে পবিত্র প্রেম (যে পবিত্র প্রেমের দৃশ্য পরিচালক দেখাতে লজ্জা পেয়েছিলেন) করে বাড়ি ফিরে দেখেতে পেল বোন ধর্ষণের অপমান সইতে না পেরে আত্মহত্যা করেছে। নায়ক তখন বোনের ওড়না কপালে বেধে নিয়ে প্রতিশোধের আগুনে পাগল হয়ে এক দৌড়ে চলে গেল আর একাই সবাইকে পুত করে দিল।

শুধু আমাদের দেশে না, এই উপমহাদেশের কিছু সিনেমা এইভাবেই ধর্ষণের প্রচার ও বাজারজাত করে আসছে অনেক আগে থেকেই। একটু খেয়াল করুন ধর্ষণের পর আত্মহত্যার ধারনার বীজবপন করেছে এই সিনেমাগুলোই। এই উপমহাদেশের সিনেমায় প্রচুর ধর্ষণের দৃশ্য, একটু গুগল করে দেখুনতো ধর্ষণ কোন অঞ্চলে বেশি হয়। বাসে, গাড়িতে ধর্ষণ, মেয়েদের ধরে নিয়ে যাওয়া এবং ধর্ষণের পর হত্যা বা আত্মহত্যা এই সমস্ত ধারনা এই অঞ্চলে আসলো কোথা থেকে। আমি বলছিনা শতভাগ শিখিয়েছে এই সকল সিনেমা। একজন কিশোর এই ধরনের দৃশ্যে আসলে কি শেখে? এখানেই হয় তার ধর্ষণের হাতেখড়ি।

পশ্চিমাদের চলচ্চিত্রের মাধ্যমে শেখানো হয় দুজনে রাজি তো হয়ে গেল প্রেম, বিছানার দৃশ্যও থাকলো। কারো সাথে বনিবনা হচ্ছেনা, ওকে সুখে শান্তিতে আমরা আলাদা হয়ে যাই, নো ভায়োলেন্স। আমি বলছিনা ওটাই অনুসরন করতে হবে, তবে আমাদের যা শেখানো হয়েছে তার থেকে ঢের ভালো ঐ সব দৃশ্য।

যে উপমহাদেশের ছেলে মেয়েকে ছোটবেলাতেই শেখানো হয় তোমাদের এক সাথে থাকা নিরাপদ নয়, স্কুলে ভাগ করা হয় প্রভাত শাখা ও দিবা শাখা, উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, বালক বিদ্যালয়, কো এডুকেশনে বসানো হয় ডান পাশ বাম পাশ করে, বাসে বসানো হয় শিশু ও প্রতিবন্ধিদের সাথে (উইদ ডিউ রেস্পেক্ট) এবং চলচ্চিত্রে প্রেমের বদলে শেখানো হয় ধর্ষণের ভিডিও টিউটোরিয়াল সে দেশে ধর্ষণ বন্ধ হবেনা কখনোই।

নিজেদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে অধিকাংশ মেয়েরাই দুনিয়াতো দুরের কথা নিজের দেশটিও ঘুরে দেখতে পারেনা। আমি জানি আমার মা, আমার বোন আমারি দেশের এক ভাগ না দেখে মরে যাবে। ওরা বেচে থেকে মরে যায়না, ওরা সারা জীবন নিশ্বাস নিয়ে ঘরে মরে থাকে।

শেষে একটা প্রশ্ন রেখে যাই, ধর্ষণ কিভাবে করা হয়, এটা আপনি কোথায় প্রথম দেখেছেন?

মন্তব্য ১ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (১) মন্তব্য লিখুন

১| ০৩ রা এপ্রিল, ২০১৬ রাত ৩:৩০

আমি ব্লগার হইছি! বলেছেন: খুব ভালো লিখেছেন। একেবারে সত্যি কথা।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.