নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

নিজস্ব ভাবনা চিন্তা নিয়ে আমার ভার্চুয়াল জগত!

এস.এম. আজাদ রহমান

মানুষ

এস.এম. আজাদ রহমান › বিস্তারিত পোস্টঃ

টবি ক্যাডম্যানের প্রস্থান: ট্রাইব্যুনাল না কি ট্র্যাজেডি?

২১ শে জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:২৮

টবি ক্যাডম্যানের প্রস্থান: ট্রাইব্যুনাল না কি ট্র্যাজেডি?

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আবারও আন্তর্জাতিক আলোচনায়-তবে কোনো ন্যায়বিচারের দৃষ্টান্ত স্থাপনের জন্য নয়, বরং একজন আন্তর্জাতিক আইনি বিশেষজ্ঞের নীরব প্রস্থান ঘিরে। ব্রিটিশ ব্যারিস্টার টবি ক্যাডম্যানের পদত্যাগ কোনো বিচ্ছিন্ন প্রশাসনিক ঘটনা নয়; এটি একটি ব্যবস্থাগত ব্যর্থতার জোরালো ইঙ্গিত।

যে ট্রাইব্যুনাল নিজেকে “আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন” বলে দাবি করে, সেই ট্রাইব্যুনালের আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে একজন অভিজ্ঞ আন্তর্জাতিক পরামর্শক সরে দাঁড়ান-এবং কর্তৃপক্ষ বলে, “চুক্তির মেয়াদ শেষ”! ঠিক যেভাবে সব অস্বস্তিকর প্রশ্নের জবাবে এ দেশে বহুদিন ধরে একটাই ব্যাখ্যা চলে-কাকতাল।

সময়টা লক্ষ্য করুন।
একটি বহুল বিতর্কিত রায়ের আপিল শুনানির ঠিক প্রাক্কালে এই পদত্যাগ। আইন, সময়সীমা, প্রক্রিয়া—সবকিছু যখন চাপের মুখে, তখনই একজন আন্তর্জাতিক মানের আইনি মস্তিষ্ক দরজা বন্ধ করে বেরিয়ে যান। এটা কি কেবল কাগজের মেয়াদ ফুরানো? নাকি ভেতরের আইনি বিশৃঙ্খলা আর নৈতিক সংকটের সঙ্গে নিজের নাম জড়াতে অনিচ্ছা?

বাংলাদেশের মানুষ “ক্যাঙারু কোর্ট” শব্দটা শিখেছে অভিজ্ঞতা থেকে, গুজব থেকে নয়। রায় আগে, যুক্তি পরে-এই সংস্কৃতি যদি ট্রাইব্যুনালেও ঢুকে পড়ে, তাহলে সেখানে আন্তর্জাতিক পরামর্শক টিকে থাকবেন কীভাবে? টবি ক্যাডম্যানের মতো একজন আইনজ্ঞ জানেন, ইতিহাস একদিন রায় নয়, প্রক্রিয়াই বিচার করে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো-এই ট্রাইব্যুনাল কেবল দেশের ভেতরের দর্শকের জন্য নয়। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থার মুখপাত্র হিসেবেই এটি দাঁড়িয়ে আছে। সেখানে যদি স্বচ্ছতা না থাকে, নিরপেক্ষতার প্রশ্ন ওঠে, তাহলে এর দায় কে নেবে? চিফ প্রসিকিউটর? প্রশাসন? নাকি সবশেষে রাষ্ট্র নিজেই?

আরেকটি অস্বস্তিকর সত্য-আমাদের এখানে বিচার প্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক লক্ষ্য পূরণের হাতিয়ার বানানোর ইতিহাস নতুন নয়। কিন্তু যখন আন্তর্জাতিক অপরাধের মতো সংবেদনশীল ও গুরুতর বিষয়ে একই কৌশল প্রয়োগ করা হয়, তখন সেটি শুধু নৈতিক ব্যর্থতা নয়, রাষ্ট্রীয় আত্মঘাতের শামিল।

টবি ক্যাডম্যান মুখ খোলেননি-এটাই হয়তো সবচেয়ে উচ্চস্বরে বলা বক্তব্য। কারণ যারা আন্তর্জাতিক আইনের ভেতরে কাজ করেন, তারা জানেন কখন কথা বলা বিপজ্জনক আর কখন চুপ থাকাই প্রতিবাদ।

আজ প্রশ্ন একটাই-
এই পদত্যাগ কি একটি ব্যক্তির সরে যাওয়া,
নাকি বাংলাদেশের বিচারিক বিশ্বাসযোগ্যতার আরেকটি স্তম্ভ নিঃশব্দে ভেঙে পড়া?


যদি দ্বিতীয়টাই সত্য হয়, তবে ভবিষ্যতে ইতিহাস আমাদের বিচার করবে-কোন রায়ে নয়, কোন নীরবতায় আমরা সায় দিয়েছিলাম তার জন্য।

মন্তব্য ৫ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (৫) মন্তব্য লিখুন

১| ২১ শে জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:১৪

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: একজন আন্তর্জাতিক আইনি বিশেষজ্ঞের নীরব প্রস্থান
................................................................................
আইন, সময়সীমা, প্রক্রিয়া ও প্রয়োগ সবই হতে হবে নিরপেক্ষ ;
না হলে এই আন্তর্জাতিক আইনি বিশেষজ্ঞের জবাবদিহিতার প্রশ্ন সামনে
চলে আসে । কোন একসময় দেশের রাজনৈতিক আচরন ন্যায়সঙ্গত
হলে , যিনি বা যাহারা অবৈধ কাজগুলো করে আইনী বাহবা নিচ্ছেন
তাদেরকে কাঠগড়ায় দাড়াঁতে হবে ।

২১ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:০১

এস.এম. আজাদ রহমান বলেছেন: ধন্যবাদ মন্তব্য করার জন্য।

২| ২১ শে জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭

ধুলো মেঘ বলেছেন: সরকার বলছে, তাদের মেয়াদ যেহেতু আর অল্প কিছুদিন আছে, তাই তারা এই চুক্তির মেয়াদ আর বাড়াবেনা। নতুন সরকার এসে চাইলে নতুন করে চুক্তি করতে পারবে।

২১ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:০২

এস.এম. আজাদ রহমান বলেছেন: ক্যাডম্যানের বক্তব্যটা আবারে শুনে নিতে পারেন।

৩| ২১ শে জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৫২

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: গণভোটে হা ভোট দিতে ভুলবেন না ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.