| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ভারসাম্য একটি গুরুত্বপূর্ন ব্যাপার। না থাকলে ভারসাম্যহীন হয়ে পড়তে হয়। এমন নয় যে, সবখানেই এই অদ্ভুত ব্যাপারটি প্রয়োজন। যেমন ধরুন আপনি শুয়ে আছেন, এমতাবস্থায় কিন্তু দাঁড়িয়ে থাকার ভারসাম্য আপনার প্রয়োজন নেই। কিন্তু যদি দাঁড়িয়ে থাকেন, তবে ও জিনিস আপনার লাগবেই। আর যদি দৌড়ান বা হাঁটেন তবে ওটা না থাকলে চিৎপটাং হবেন।
সজীব ওয়াজেদ জয়। তার বেশ কয়েকটি পরিচয় আছে। আইটি স্পেশালিস্ট, পুরুষ মানুষ, বঙ্গবন্ধুর নাতি, তার বউ ক্রিস্টিনার স্বামী, বাংলাদেশের নাগরিক। এত পরিচয় তার বর্তমান পরিচয়কে সহায়তা করেনি, বরং তার বর্তমান পরিচয়, প্রধানমন্ত্রীর ছেলে হিসেবে রাজনীতিতে যুক্ত হওয়াই বরং বাকি পরিচয়গুলোকে সহায়তা করেছে। এখন এই পরিচয়ে যেহেতু তিনি বর্তমানের রাজনীতিতে হেটে বা দৌড়ে চলেছেন তাই ভারসাম্য প্রয়োজন বৈকি !
সম্প্রতি জাফর স্যারের একটি মন্তব্য ঘুরছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে, যা নতুন মাত্রায় বিশ্লেষণের দাবি রাখে। এ প্রেক্ষিতে, প্রথম প্রশ্ন, তিনি সত্যিই এমন মন্তব্য করেছেন কিনা? দ্বিতীয় প্রশ্ন, তা তার ভারসাম্যহীন কিনা ? তৃতীয়ত, যদি হয় বা না হয় তবে চিৎপটাং এর পূর্বাপর কি ?
প্রথমেই জাফর স্যারকে উদ্ধৃত করে এ সম্পর্কে বিডিনিউজ বলছে,
অধ্যাপক জাফর ইকবাল বলেন, “হত্যাকাণ্ডকে স্পর্শকাতর বিষয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় যে স্টেইটমেন্ট দিয়েছেন, তা মৌলবাদীদের জন্য একটা গ্রিন সিগনাল।
এবং
অভিজিৎ একজন ঘোষিত নাস্তিক ছিলেন উল্লেখ করে জয় বলেছিলেন, “আমরা (আওয়ামী লীগ) নাস্তিক হিসেবে পরিচিত হতে চাই না। তবে এতে আমাদের মূল আদর্শের কোনো বিচ্যুতি হবে না। আমরা ধর্ম নিরপেক্ষতায় বিশ্বাসী।”
তো প্রথম প্রশ্নের উত্তর পাওয়া গেল, সজীব ওয়াজেদ জয় এই কথা বলেছেন। এখন আসছে মিলিয়ন ডলারের প্রশ্ন, ভারসাম্যহীনতা। এর আবার দুটো দিক আছে।
প্রথমত,
আগেই বলেছি, রাজপুত্রের এহেন কথা তার রাজ্য সংশ্লিষ্ট ভূমিকার জন্যই গুরুত্বপূর্ন হয়ে উঠেছে। শুধুমাত্র আইটি স্পেশালিস্ট, পুরুষ মানুষ, বঙ্গবন্ধুর নাতি, তার বউ ক্রিস্টিনার স্বামী বা শুধুই একজন বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে এই কথা হাটে বিকোত কিনা আমার সন্দেহ আছে। তো ক্ষমতাসীন আওয়ামী সরকার যখন মুখে ফেনা তুলে ফেলছে যে তারা কোনভাবেই ধর্মীয় জঙ্গীবাদ সমর্থন করে না, তখন তার এই বক্তব্য জাফর স্যারের কথা মতই ধর্মান্ধ গোষ্ঠীর কাছে মোর্স কোড বিবেচিত হতে পারে। তাই তাদের আপাত মুখে ফেনা তুলে ফেলা বক্তব্যের সাথে এ বড়ই ভারসাম্যহীন।
দ্বিতীয়ত,
তিনি বোধ করি এই বক্তব্য দেবার সময় ভুলে গিয়েছিলেন তিনি বঙ্গবন্ধুর রক্ত বহন করে চলেছেন। তিনি কি বিশ্বাস করেন বা না করেন তা তার ব্যাক্তিগত ব্যাপার। তবে সাধারন জনগণ তাকে বঙ্গবন্ধুর নাতি বলে যতটা সমীহ করে, শেখ হাসিনার ছেলে বলে ততটা করেনা বলেই ধারণা। তিনি কি ৭ ই মার্চের সেই চমৎকার ঐতিহাসিক ভাষণটি ভুলে গিয়েছিলেন ? তিনি কি বঙ্গবন্ধুর রাজসিক দৃঢ়তার কথা ভুলে গিয়েছিলেন ? তিনি কি ভুলে গিয়েছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান কোন স্বরে কথা বলতেন ? বা তিনি কি বিস্মরিত হয়েছিলেন যে, মুক্তিযুদ্ধের পর ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে বঙ্গবন্ধু কোন আমেজে কথা বলেছিলেন ভারতীয় সেনাবাহিনী ফিরিয়ে নিতে ? যদিও জয়ের কথা অনেকটা ভুট্টোর কথার মত হয়ে গেল, সামনে বলেন এককথা ভেতরে রইল অন্যটা। তাই যদি হয়ে থাকে তবে অগত্যা তিনি এখানেও ভারসাম্যহীনতার পরিচয় দিলেন।
এবার আশা যাক চিৎপটাং এর পূর্বাপর নিয়ে। জয়ের অনেক অনুসারী রয়েছেন এবং তা থাকাই স্বাভাবিক। যা সাভাবিক নয় তা হচ্ছে এদের কারও কারও স্তাবকীয় বা দলদাস হিসেবে আচরণ। এদের অনেকেই এখন জয়ের এই বক্তব্যকে বৈধতা দেবার চেস্টায় এর জাস্টিফাই করার চেস্টা করছেন। ভাবটা পরিষ্কার, যা বলেছে ভুল বলেছে কিন্তু জয় ভুল বললেও তা ঠিক তো হতে হবে ! জয়কে নিয়ে দেশের মানুষের আশান্বিত হবার জায়গা আছে। বিপরীত রাজপুত্র তারেক সাহেবের চেয়ে তিনি শিক্ষিত, উদার, প্রগতিশীল এবং বিজ্ঞান নির্ভর। উপরন্তু বাংলাদেশের যুবসমাজকে তথ্যপ্রযুক্তিতে সাবলীল করে তোলার ক্ষেত্রে তার ভুমিকা মানুষের নজরে এসেছে। এহেন পরিস্থিতিতে, তাঁকে নিয়ে যে ভারসাম্যহীনতার ঘটনা ঘটল, তাতে বিরোধী পক্ষ তথা জামাত-শিবির-জংগীগোষ্ঠী যে কিছুটা হলেও নিশ্চিন্ত বোধ করবে এটা নিসন্দেহে। এবং এখানেই স্বাধীনতার পক্ষের মানুষ হিসেবে, বংগবন্ধুর নাতি হিসেবে, প্রগতিশীল মানুষ হিসেবে তার চিৎপটাং ঘটে। আবারও বলি, অনেকেই বলছে ওটা নাকি জয়ের রাজনৈতিক স্ট্রাটেজি। তাই যদি হয়, তবে তিনি তার নানার আদর্শ পান নাই যে কি করে শক্ত হয়ে কথা বলতে হয়, পেয়েছেন ভুট্টো সাহেবের আদর্শ।
অনেকের কাছে যে আশা করছি না, এর পরও জয়ের কাছে সেই আশাটুকু থাকবে, যেনো তিনি তার পূর্বপুরুষের মত মেরুদন্ড সোজা করে কথা বলতে পারেন। তার এই বক্তব্য মুক্তমনা মানুষদের, যুক্তিবাদী, দেশপ্রেমী সব বাঙ্গালীকে আহত করেছে। আহত করেছে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ধারন করা সাহসী মানুষদের। আগামী দিনে যে আসছে আজ যদি সে ভারসাম্যহীন হয়, তবে যে আমরাও চিৎপটাং হবো। দলদাসেরা তোষামোদি করবেই। স্তাবকের যন্ত্রনা কি ছিল তা বুঝতে যেন তিনি ভারসাম্যের প্রশ্নে তাজউদ্দিন আর মোসতাক কে বিবেচনা করেন। তবেই তিনি বুঝবেন, বংগবন্ধুর চিৎপটাং কেন হয়েছিল। আর বঙ্গবন্ধুর চিৎপটাং এ বাংলাদেশ কতখানি চিৎপটাং হয়েছিল তাও বিবেচ্য।

২|
১৫ ই মে, ২০১৫ রাত ২:০৬
জামান।জামান বলেছেন: ধন্যবাদ শান্তনু চৌধুরী
©somewhere in net ltd.
১|
১৫ ই মে, ২০১৫ রাত ২:০১
শান্তনু চৌধুরী শান্তু বলেছেন: বাহ্ বেশ :-)