নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

একজন সুখী মানুষ, স্রষ্টার অপার ক্ষমা ও করুণাধন্য, তাই স্রষ্টার প্রতি শ্রদ্ধাবনত।

খায়রুল আহসান

অবসরে আছি। কিছু কিছু লেখালেখির মাধ্যমে অবসর জীবনটাকে উপভোগ করার চেষ্টা করছি। কিছু সমাজকল্যানমূলক কর্মকান্ডেও জড়িত আছি। মাঝে মাঝে এদিক সেদিকে ভ্রমণেও বের হই। জীবনে কারো বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ করিনি, এখন তো করার প্রশ্নই আসে না। জীবন যা দিয়েছে, তার জন্য স্রষ্টার কাছে ভক্তিভরে কৃতজ্ঞতা জানাই। যা কিছু চেয়েও পাইনি, এখন বুঝি, তা পাবার কথা ছিলনা। তাই না পাওয়ার কোন বেদনা নেই।

খায়রুল আহসান › বিস্তারিত পোস্টঃ

এগারটি বছর পার হয়ে গেল…. কিছু পরিসংখ্যান নিয়ে একাদশতম বর্ষপূর্তি পোস্ট

১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৪১



পূর্বের বর্ষপূর্তি পোস্টের লিঙ্কঃ দশম বর্ষপূর্তি পোস্ট

সামহোয়্যরইনব্লগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখ রাত ১১টা ২৬ মিনিটে প্রকাশিত হয় আমার প্রথম কবিতা, বক্ষমাঝে থাকবে তুমি। বলা যায় খুব দ্রুতই, মাত্র তৃতীয় দিনের মাথায় ই-মেইলে নিশ্চয়তা পাই যে আমি একজন “নিরাপদ ব্লগার” এবং আমার লেখা প্রথম পাতায় প্রকাশ পাবে।

সেই থেকে শুরু, আজ অবধি প্রায় নিয়মিতভাবেই লিখে চলেছি। মনের আনন্দে লিখি, নিজের কথাকে, ভাবনাকে, অনুভূতিকে অন্য আরও অনেকের সাথে শেয়ার করার অভিপ্রায়ে লিখি, কখনও বা স্রেফ মস্তিষ্কের আবদ্ধ ভাবনা-চিন্তাকে একটি স্পন্দনশীল, প্রাণবন্ত মিডিয়াতে অবমুক্ত করার জন্যই লিখি। কে পড়বে বা না পড়বে, সেটা মোটেই মাথায় রাখিনা। আমার প্রথম লেখাটি দুই মাসেরও বেশী সময় ধরে মন্তব্যহীন পড়েছিল। ১৭ই নভেম্বর ২০১৫ তারিখে এহসান সাবির প্রথম মন্তব্য করেন বক্ষমাঝে থাকবে তুমি কবিতাটির উপর। এরপর তিনি অবশ্য পরপর আমার প্রথম পাঁচটি কবিতার প্রত্যেকটিতে মন্তব্য করেছেন। আমার দ্বিতীয় কবিতা- পূর্ণতা প্রথমটার পরের দিনই প্রকাশ পায় আর প্রকাশের কয়েক ঘন্টার মাথায় প্রামানিক সেটার উপর প্রথম মন্তব্য করেন। সেই হিসেবে সামহোয়্যারইনব্লগে প্রকাশিত আমার কোন লেখায় প্রথম মন্তব্যটা পাই আমি প্রামানিক এর কাছ থেকেই, আমার দ্বিতীয় লেখায়। এজন্য আমি তার কাছে চির কৃতজ্ঞ। আমার কোন লেখায় প্রথম লাইক টা আমি পেয়েছিলাম না মানুষী জমিন এর কাছ থেকে। তিনি আমার প্রথম লেখাটাতে (বক্ষমাঝে থাকবে তুমি) কোন মন্তব্য না করে নীরবে একটি ‘লাইক’ দিয়ে চলে গিয়েছিলেন। আমার সবচেয়ে পুরনো লেখা যেটার উপরে প্রায় এক বছর পর্যন্ত কারো মন্তব্য পাই নাই, সেটা হচ্ছে ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তে প্রকাশিত আমার কবিতা সরবে নীরবে। প্রকাশিত হবার ৩৬০ দিন পরে বিলিয়ার রহমান এবং ৩৬৩ দিন পরে ভ্রমরের ডানা একটি করে মন্তব্য রেখে যান কবিতাটিতে, ফলে কোনরকমে কবিতাটি ‘মন্তব্যহীন’ পড়ে থাকার গ্লানি থেকে মুক্তি পায়।

গত বছরে, দশম বর্ষপূর্তি পোস্টে আমি সকল বর্ষপূর্তি পোস্ট নিয়ে কিছু তুলনামূলক পরিসংখ্যান তুলে ধরেছিলাম। এ কাজটি করতে গিয়ে আমি মোটামুটি সন্তুষ্টির সাথে লক্ষ্য করি যে আমার অন্যান্য পোস্টের চেয়ে বর্ষপূর্তি পোস্টগুলো মোটামুটি ভালো পাঠক নন্দিত হয়। গত দশটি বর্ষপূর্তি পোস্টের কিছু সংক্ষিপ্ত পরিসংখ্যানঃ

সর্বাধিক পঠিত ৩ টি বর্ষপূর্তি পোস্টঃ
১। তৃ্তীয় বর্ষপূর্তি পোস্ট – ১১৬০
২। দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি পোস্ট – ৯৯২
৩। পঞ্চম বর্ষপূর্তি পোস্ট – ৯০৩

সর্বাধিক মন্তব্যপ্রাপ্ত ৩ টি বর্ষপূর্তি পোস্টঃ
১। দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি পোস্ট – ৫১
২। তৃ্তীয় বর্ষপূর্তি পোস্ট – ৫০
৩। ষষ্ঠ বর্ষপূর্তি পোস্ট – ৪৬

সর্বাধিক ‘লাইক’ প্রাপ্ত ৩ টি বর্ষপূর্তি পোস্টঃ
১। তৃ্তীয় বর্ষপূর্তি পোস্ট – ২৯
২। ষষ্ঠ বর্ষপূর্তি পোস্ট – ২৭
৩। পঞ্চম বর্ষপূর্তি পোস্ট – ২৬

সর্বাধিক ‘প্রিয়’ তে নেয়া ৩ টি বর্ষপূর্তি পোস্টঃ
১। দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি পোস্ট –২
২। পঞ্চম বর্ষপূর্তি পোস্ট – ১
৩। দশম বর্ষপূর্তি পোস্ট – ১

দশম বর্ষপূর্তি পোস্টে আমি অতিরিক্ত তথ্য হিসেবে আমার দৃষ্টিতে আগের (প্রথম থেকে নবম) প্রতিটি বর্ষপূর্তি পোস্টের শ্রেষ্ঠ মন্তব্যকারীর নামোল্লেখ করেছিলাম। আজ দশম বর্ষপূর্তি পোস্টের শ্রেষ্ঠ মন্তব্যকারীর নামোল্লেখ করছি। তারা হলেন যৌথভাবে সমুদ্র সফেন এবং করুণাধারা

উপরের পরিসংখ্যানগুলো শুধুমাত্র বর্ষপূর্তি পোস্ট সংক্রান্ত। এবারে আসছি আমার শুধু গত এক বছরের কিছু পরিসংখ্যানেঃ
গত এক বছরে আমার ব্লগটি দেখা হয়েছেঃ ৩১৬২০ বার, অর্থাৎ প্রতিদিনে প্রায় ৮৭ বার। গত ১১ বছরের গড়ঃ প্রতিবছরে ৩৯৮০৬ বার, প্রতিদিনে ১০৯ বার।
পোস্ট করেছিঃ ২৮ টি, গড়ে প্রতিমাসে ২.৩৩টি, যা তার আগের বছরে ছিল মাত্র ১৭টি, প্রতিমাসে গড়ে ১.৪২টি।
মন্তব্য করেছিঃ ১০৬৮ টি, গড়ে প্রতিমাসে ৮৯টি, প্রতিদিনে প্রায় ৩টি করে; যা তার আগের বছরে ছিল ৬৫৩টি গড়ে প্রতিমাসে ৫৪.৪২টি, প্রতিদিনে প্রায় ১.৮টি করে।
মন্তব্য পেয়েছিঃ ৭২৯ টি, গড়ে প্রতিমাসে ৬১টি, প্রতিদিনে প্রায় ২টি করে।
নতুন অনুসরণঃ ৩ জন, মোট অনুসরণ ৩৩০ জন।

ইতোমধ্যে সামহোয়্যরইনব্লগের অস্তিত্ব সংকট নিয়ে বেশ জোরেসোরে আলোচনা শুরু হয়েছে। আমার ব্যক্তিগত অভিমত হলো, আমরা যেন prematurely চায়ের কাপে ঝড় না তুলে ব্লগ কর্তৃপক্ষ থেকে সুনির্দিষ্টভাবে কোন দিক নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত যথাসম্ভব উত্তম লেখা দিয়ে ব্লগটাকে সমৃদ্ধ করে চলি। লেখার মান উন্নত হলে এবং ব্লগীয় পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখলে এমনিতেই পাঠক সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। বিদায় নেয়ার আগে আমার অষ্টম বর্ষপূর্তি পোস্ট থেকে প্রাসঙ্গিক কিছু কথা এখানে পুনরুল্লেখ করছিঃ

ভালোয় মন্দে আমাদের এ ব্লগটা এগিয়ে চলেছে। ব্লগ থেকে গত প্রায় দেড় যুগে অনেক জ্যোতিষ্মান নক্ষত্র ঝরে পড়েছে, তাদের জন্যে আমরা প্রায়ই হা-হুতোশ করি। তবে সংখ্যায় কম হলেও, এরই মধ্যে টিমটিমে আলো নিয়ে অনেক নতুন তারাও উদিত হয়েছে। আসুন, তাদের আমরা সকলে মিলে উৎসাহিত করি। তাহলে নতুনরাও পুরনোদের মত অচিরেই দীপ্যমান হবে। যাওয়া আসা জগতের নিত্য খেলা। এর মাঝেই যারা শারীরিক অদৃশ্য থেকেও লেখালেখির মাধ্যমে পাঠকের মনে ঠাঁই করে নিতে পারবেন, তাদের ব্লগিংই সার্থক।

ব্লগ প্রতিষ্ঠাতা, প্রশাসক, মৌন ও সক্রিয় পাঠক, লেখক, পর্যবেক্ষক সকলের প্রতি শুভকামনা জানিয়ে আজকের এই বর্ষপূর্তির পোস্টের ইতি টানছি। সবাই ভালো থাকুন, সপরিবারে, সুস্বাস্থ্যে!


ঢাকা
১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শব্দ সংখ্যাঃ ৭০১

মন্তব্য ৩২ টি রেটিং +৯/-০

মন্তব্য (৩২) মন্তব্য লিখুন

১| ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৫৩

আহমেদ জী এস বলেছেন: খায়রুল আহসান,





এগারো বর্ষপূর্তির অভিনন্দন।
এগারটি বছর পার হয়েছে, একযুগও পার হয়ে যাবে আশা করি।

১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:২০

খায়রুল আহসান বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ।
আশা করি যতদিন বেঁচে আছি, সামুও বেঁচে থাকবে এবং আমিও এখানে এসে লিখে/পড়ে যাবো।

২| ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:১৫

মেহবুবা বলেছেন: অভিনন্দন বর্তমান সময়ে সা.ইনের একজন ধীশক্তিসম্পন্ন, গুনী, স্মরণ শক্তিতে অনন্য এবং রুচিশীল ব্লগারের ১১ তম বর্ষপূর্তিতে! সুস্থ, কর্মময়,ঈমানদার দীর্ঘ জীবন আপনার জন্য কামনা করি।

১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:১৫

খায়রুল আহসান বলেছেন: আপনার আন্তরিক শুভকামনা, প্রশংসা ও অভিনন্দনবাণী আমাকে স্পর্শ করে গেল। অনেক, অনেক ধন্যবাদ জানবেন।

৩| ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৪০

মরুভূমির জলদস্যু বলেছেন:
- অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা রইলো

১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫০

খায়রুল আহসান বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ।

৪| ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৩২

এম ডি মুসা বলেছেন: অভিনন্দন

১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৪২

খায়রুল আহসান বলেছেন: ধন্যবাদ।

৫| ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৩

এম ডি মুসা বলেছেন: এ কলম যেন নদীর স্রোত বইতে অনন্তকাল।

১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৩

খায়রুল আহসান বলেছেন: মন্তব্যে প্রীত হলাম, ধন্যবাদ।

৬| ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৪

নজসু বলেছেন:



অভিনন্দন প্রিয় ভাই।

১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৪

খায়রুল আহসান বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ জানবেন। আশাকরি ভালো আছেন।
শুভকামনা....

৭| ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৩

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: ভালোয় মন্দে আমাদের এ ব্লগটা এগিয়ে চলেছে।
..............................................................................
সবার এগিয়ে আসা হলে , আমার বিশ্বাস ব্লগ আবার
নব-যৌবন ফিরে পাবে ।

১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৮

খায়রুল আহসান বলেছেন: পোস্ট থেকে উদ্ধৃতির জন্য ধন্যবাদ।
আপনার এ বিশ্বাসের উপর আমার আস্থা রয়েছে।
মন্তব্য ও 'লাইক' এর জন্য ধন্যবাদ।

৮| ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৪৯

সুলাইমান হোসেন বলেছেন: অভিনন্দন

১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৯

খায়রুল আহসান বলেছেন: ধন্যবাদ জানবেন, শুভকামনা রইলো।

৯| ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫১

কাজী আবু ইউসুফ (রিফাত) বলেছেন: এটি নিছক একটি বর্ষপূর্তি পোস্ট নয়—একজন লেখকের দীর্ঘ এগারো বছরের পথচলা, স্মৃতি, কৃতজ্ঞতা ও আত্মসমীক্ষার এক আন্তরিক দলিল। প্রথম কবিতার নীরব পাঠক থেকে প্রথম মন্তব্য ও লাইকের স্মৃতি, মন্তব্যহীন লেখার অপেক্ষা, আর সংখ্যার পরিসংখ্যান—সবকিছু মিলিয়ে লেখাটি যেন সামহোয়্যারইনব্লগেরই একটি ছোট্ট ইতিহাস হয়ে উঠেছে।



বিশেষ করে লেখকের এই উপলব্ধিটি খুবই মূল্যবান—ব্লগের অস্তিত্ব সংকট নিয়ে অযথা হাহাকার না করে ভালো লেখা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং নতুন লেখকদের উৎসাহ দেওয়ার মাধ্যমে ব্লগকে সমৃদ্ধ করে যাওয়া। সত্যিই, একটি ব্লগ শুধু তার প্রতিষ্ঠাতা বা প্রশাসনের কারণে বেঁচে থাকে না; বেঁচে থাকে লেখক, পাঠক, মন্তব্যকারী এবং তাদের পারস্পরিক মমতার মধ্য দিয়ে।

পুরনো নক্ষত্ররা ঝরে গেলেও নতুনদের আলো জ্বালিয়ে দেওয়ার যে আহ্বান আপনি রেখেছেন, সেটিই এই দীর্ঘ পথচলার সবচেয়ে সুন্দর বার্তা। আপনার লেখালেখির এই নিরলস যাত্রা আরও দীর্ঘ হোক—স্মৃতি, অনুভব ও সৃষ্টিশীলতার আলোয় সামহোয়্যারইনব্লগের পাতায় আপনার উপস্থিতি আরও বহু বছর অমলিন থাকুক। শুভ বর্ষপূর্তি ও আন্তরিক শুভকামনা।

১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৩

খায়রুল আহসান বলেছেন: অত্যন্ত চমৎকার একটি পোস্টারসহ আপনার এই মন্তব্যটি আমাকে ভীষণভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। শুধু মন্তব্যেই নয়, পোস্টারেও আপনি ফাঁকে ফাঁকে অনেক মূল্যবান কথা বলেছেন।
আপনার উদ্ভাবনী মেধা ও ধীশক্তির প্রশংসা করছি।

১০| ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৭

জুল ভার্ন বলেছেন: অভিনন্দন এবং শুভ সার্বিক কামনা। ❤️

১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫২

খায়রুল আহসান বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ এবং শুভকামনা.....

১১| ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৯

চারাগাছ বলেছেন:
১১টি বছর ধরে সামহোয়্যার ইন ব্লগের আঙিনায় আপনি আপনার সুহৃদ মন আর অসাধারণ লেখনী দিয়ে ভালোবাসার যে বীজ বুনেছেন, আজ তা এক বিশাল মহীরুহ। আপনার মতো একজন গুণী ও সজ্জন মানুষের সান্নিধ্য পাওয়া এই ব্লগের অন্যতম বড় প্রাপ্তি।এই বিশেষ মাইলফলকে আপনাকে সশ্রদ্ধ সালাম জানাই। কামনা করি জীবনের প্রতিটি ক্ষণ আপনার আনন্দে আর সুস্বাস্থ্য কাটুক। আমাদের মাঝে এভাবেই ছায়া হয়ে থাকুন আরও বহুদিন!

১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:২০

খায়রুল আহসান বলেছেন: আপনার উদার মূল্যায়ন ও প্রশংসায় অত্যন্ত কৃতজ্ঞ বোধ করছি। আপনার প্রতি আন্তরিক শুভকামনা রইলো।

১২| ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৪৪

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



সাফল্যজনক ভাবে ব্লগে এগার বছর পুর্তীতে আন্তরিক অভিনন্দন । পোস্টে নীজের সম্পর্কে অনেক তথ্য উপাত্ত
তুলে ধরেছেন দেখে ভাল লাগল ।
পোস্টটি পাঠে এখানে বিনয়ের সাথে বলতে চাই সামহোয়্যারইনব্লগের অস্তিত্ব সংকট, বর্তমান অবস্থা কিংবা ভবিষ্যৎ
নিয়ে কেউ কথা বললে সেটিকে prematurely চায়ের কাপে ঝড় তোলা হিসেবে দেখার আগে বিষয়টিকে একটু
অন্যভাবে দেখার সুযোগ আছে বলে মনে করি। কারণ, দীর্ঘদিনের একটি প্রিয় ব্লগের দৃশ্যমান কিছু পরিবর্তন নিয়ে
প্রশ্ন তোলা মানেই উদ্বেগ প্রকাশ কিংবা অযথা ঝড় তোলা নয়; বরং অনেক সময় সেটি ভালোবাসা, দায়বদ্ধতা এবং
দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থেকেই উঠে আসে।

আমি মনে করি, ব্লগ কর্তৃপক্ষ থেকে সুনির্দিষ্টভাবে কোনো দিকনির্দেশনা না আসা পর্যন্ত আমরা শুধু উত্তম লেখা দিয়ে
ব্লগটাকে সমৃদ্ধ করে যাই”এই কথাটির সঙ্গে দ্বিমত করার বিশেষ কোনো কারণ নেই।
অবশ্যই ভালো লেখা লিখতে
হবে, ভালো লেখা দিয়ে ব্লগকে সমৃদ্ধ করতে হবে এবং লেখালেখির পরিবেশটিকে সুন্দর রাখার চেষ্টা করতে হবে।
কিন্তু তার পাশাপাশি ব্লগের দৃশ্যমান সমস্যাগুলো নিয়ে কথা বলাও কি নিষিদ্ধ বা অকালপ্রসূত হওয়া উচিত?বরং
আমার প্রশ্নটা একটু ভিন্ন।

আমরা যারা সামহোয়্যারইনব্লগে বহু বছর ধরে আছি, তারা তো একদিনে এই ব্লগের বর্তমান অবস্থার সঙ্গে পরিচিত
হইনি। দীর্ঘ সময় ধরে এখানে লিখেছি, পড়েছি, মন্তব্য করেছি, নতুন লেখকদের আসতে দেখেছি, আবার অনেক
প্রিয় লেখককে চলে যেতেও দেখেছি। অতীতের সঙ্গে বর্তমানের তুলনা করার মতো অভিজ্ঞতাও তাই আমাদের রয়েছে।
একসময় নতুন কোনো লেখক রেজিস্ট্রেশন করে নিয়মিত ভালো লেখা প্রকাশ করলে অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই
প্রথম পাতায় লেখার সুযোগ পেতেন এমন অভিজ্ঞতা আমার নিজেরও আছে। অথচ এখন অনেক লেখক ভালো
লেখা প্রকাশ করার পরও দীর্ঘ সময় প্রথম পাতায় যাওয়ার অপেক্ষায় থাকছেন বলে অভিযোগ করছেন। বিষয়টি
যদি দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকে, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠবে এটি কি বর্তমান নীতির অংশ, নাকি এর পেছনে
কোনো কারিগরি বা প্রশাসনিক কারণ রয়েছে?

একইভাবে, আগে ভালো মানের লেখা ব্লগটিমের বিবেচনায় নির্বাচিত পাতায় স্থান পেত। এর ফলে লেখকরাও
স্বাভাবিকভাবেই নিজেদের লেখার মান উন্নত করার জন্য উৎসাহিত হতেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে যদি নির্বাচিত
পাতায় নতুন লেখার কোনো দৃশ্যমান পরিবর্তন না থাকে, তখন একজন পুরোনো ব্লগারের মনে প্রশ্ন জাগতেই
পারে এটি কি সচেতন নীতিগত সিদ্ধান্ত, নাকি নির্বাচনী প্রক্রিয়াটি বর্তমানে সক্রিয় নেই?

এই প্রশ্ন তোলার অর্থ কিন্তু এই নয় যে আমরা ধরে নিচ্ছি ব্লগ কর্তৃপক্ষ কাজ করছেন না, কিংবা ব্লগের ভবিষ্যৎ
নিশ্চিতভাবেই অন্ধকার।

মডারেশনের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। একসময় অশালীন বা কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য দ্রুত সরিয়ে ফেলা হতো। এখন
অনেক সময় এমন মন্তব্য, এমনকি ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করে রুচিহীন ভাষায় লেখা পোস্টও দীর্ঘ সময় দৃশ্যমান থাকে।
কারও মন্তব্য করার অধিকার সীমিত থাকলেও তিনি যদি অন্য ব্লগারের নাম উল্লেখ করে কুরুচিপূর্ণ ভাষায় পোস্ট
করতে পারেন এবং সেটি দীর্ঘ সময় দৃশ্যমান থাকে, তাহলে সেটি নিয়ে প্রশ্ন ওঠা খুব অস্বাভাবিক কিছু নয়।
এখানেও আমার বক্তব্য কাউকে ব্যক্তিগতভাবে অভিযুক্ত করা নয়। বরং আমি মনে করি, একটি উন্মুক্ত লেখালেখির
প্ল্যাটফর্মে ন্যূনতম শালীনতা ও নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখার দায়িত্বটি লেখক, পাঠক এবং অবশ্যই কর্তৃপক্ষেরও।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বেশ কিছু কারিগরি সমস্যা। বিশেষ করে যারা গবেষণামূলক বা তথ্যনির্ভর লেখা লিখেন এবং
যেসব লেখায় অনেক ছবি, টেবিল, উপাত্ত ও অন্যান্য উপকরণ থাকে, তাদের জন্য সে রকম পোস্ট প্রকাশ এখন
বেশ কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। ছবি আপলোডের সীমাবদ্ধতা, একসঙ্গে বেশি ছবি দিতে না পারা, মন্তব্যে ছবি সংযুক্ত
করার সময় আগের লেখা পুনরায় চলে আসা এসব ছোটখাটো সমস্যা মনে হলেও নিয়মিত লেখালেখি করা একজন
ব্লগারের জন্য এগুলো যথেষ্ট বিরক্তিকর।

তার সঙ্গে যদি যুক্ত হয় ব্লগের ধীরগতি, লগইন করতে দীর্ঘ সময় লাগা, মন্তব্য প্রকাশে অস্বাভাবিক বিলম্ব, কখনো
কখনো মন্তব্য প্রকাশ না হওয়া এবং পুরোনো পোস্টে করা মন্তব্যের নোটিফিকেশন না পাওয়া তাহলে সবগুলো
বিষয়কে আলাদা আলাদা ছোট সমস্যা হিসেবে দেখার পরিবর্তে সামগ্রিকভাবে দেখাটাই হয়তো বেশি যুক্তিসঙ্গত।
বিশেষ করে পুরোনো পোস্টে কেউ সময় নিয়ে মন্তব্য করলে লেখক যদি তার কোনো নোটিফিকেশনই না পান,
তাহলে সেই মন্তব্যটি কার্যত লেখকের অগোচরেই থেকে যায়। অথচ একজন পাঠক যখন পুরোনো কোনো লেখা
খুঁজে বের করে মন্তব্য করেন, তখন তার সেই শ্রম ও আগ্রহকে গুরুত্ব দেওয়াও তো একটি সক্রিয় ব্লগিং পরিবেশের
অংশ।

এখানে আরেকটি বিষয়ও চোখে পড়ে লেখক ও পাঠকের সংখ্যা কমে যাওয়া, পোস্টের সংখ্যা কমে যাওয়া, অনেক
লেখায় দীর্ঘ সময় কোনো মন্তব্য না থাকা, ভিউ অত্যন্ত কমে যাওয়া এবং কখনো খুব অল্পসংখ্যক মাত্র ২/১ জন
ব্লগারকে অনলাইনে দেখা যাওয়া। এর প্রত্যেকটির আলাদা আলাদা ব্যাখ্যা থাকতে পারে। কিন্তু এগুলো যখন
একই সময়ে দৃশ্যমান হয়, তখন একজন দীর্ঘদিনের ব্লগারের মনে উদ্বেগ তৈরি হওয়া কি সত্যিই চায়ের কাপে ঝড়?
আমার কাছে বরং মনে হয়, এটিকে একটি সতর্ক সংকেত হিসেবে দেখা উচিত।

আর এখানেই অস্তিত্ব সংকট কথাটির অর্থ পরিষ্কার করা দরকার। কেউ যদি বলেন সামহোয়্যারইনব্লগ
আজই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, তাহলে সেটি অবশ্যই প্রমাণ ছাড়া বলা এবং অযথা উদ্বেগ প্রকাশ করা হবে। কিন্তু কেউ যদি
বলেন ব্লগের কিছু দৃশ্যমান পরিবর্তন আমাকে উদ্বিগ্ন করছে, তাই কর্তৃপক্ষের অবস্থান বা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
জানতে চাই। তাদের বিবেচনার জন্য কিছু প্রস্তাবনা পরামর্শ দিতে তাহলে সেটিকে premature বলা
আমার কাছে একটু কঠোর হয়ে যায়।কারণ অতীতে ব্লগের সুদিনেও অনেকে পরামর্শ মুলক পোস্ট দিয়েছেন
আমার মনে পরে আমাদের জনপ্রিয় প্রয়াত গুণী ব্লগার হেনা ভাই এর একটি পোস্ট প্রথম পৃষ্ঠায় স্টিকী হয়েছিল।
আমিউ সেখানে অনেক পরামর্শমুলক পুষ্ঠার পর পৃষ্ঠা কথা বলেছি , শ্রদ্ধেয় জানা আপা সেখানে আমার প্রস্তাবের
বিষয়ে কথা বলেছেন , মতামতকে গুরুত্ব দিয়েছেন , এবং বলেছেন তার দরজা সকলের গঠনমুলক পরামর্শ
প্রস্তাবনার জন্য সকল সময় খোলা আছে ।

আরো একটি কথা কোনো প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব সংকট তখনই আলোচনা করা যাবে যখন সংকট একেবারে চূড়ান্ত
পর্যায়ে পৌঁছে যাবে এমন কোনো নিয়ম তো নেই। বরং সংকটের সম্ভাব্য লক্ষণ দেখা দিলে আগেভাগে প্রশ্ন তোলা,
আলোচনা করা এবং সমাধানের পথ খোঁজাই তো অধিকতর দায়িত্বশীল আচরণ।

বাড়িতে কোনো যন্ত্র অস্বাভাবিক শব্দ করলে সেটি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাওয়ার পরেই কি আমরা পরীক্ষা করাব? নাকি
শব্দটা শুরু হওয়ার পরই দেখব কোথায় সমস্যা হচ্ছে?একটি ব্লগের ক্ষেত্রেও বিষয়টি অনেকটা তেমনই।

আর যথাসম্ভব উত্তম লেখা দিয়ে ব্লগটাকে সমৃদ্ধ করে চলি এই আহ্বানটি নিঃসন্দেহে সুন্দর। কিন্তু ভালো
লেখা শুধু লেখকের একার দায়িত্ব নয়। একটি প্রাণবন্ত ব্লগের জন্য প্রয়োজন সক্রিয় লেখক, আগ্রহী পাঠক, সুস্থ
মন্তব্যের পরিবেশ, কার্যকর মডারেশন, সচল কারিগরি ব্যবস্থা এবং সর্বোপরি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ব্যবহারকারীদের
একটি কার্যকর যোগাযোগব্যবস্থা।

লেখক ভালো লিখবেন এটি যেমন প্রয়োজন, তেমনি লেখাটি পাঠকের কাছে পৌঁছাবে, পাঠক মন্তব্য করবেন, লেখক
সেই মন্তব্যের নোটিফিকেশন পাবেন, অশালীনতা নিয়ন্ত্রণ হবে এবং ব্লগের প্রয়োজনীয় কারিগরি সুবিধাগুলো সচল
থাকবে এসবও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

তাই আমার মনে হয়, ভালো লেখা লিখুন এবং ব্লগের সমস্যাগুলো নিয়ে কথা বলুন এই দুটি বিষয়
পরস্পরের বিরোধী নয়। বরং দুটিই একই উদ্দেশ্যের অংশ হতে পারে, ব্লগটিকে আরও ভালো রাখা।

আর একটি বিষয় ব্যক্তিগতভাবে আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। কেউ যদি বহু বছরের অভিজ্ঞতা থেকে ব্লগের বর্তমান অবস্থা
নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, তাকে কটাক্ষ না করে বরং তার উদ্বেগের কারণগুলো নিয়ে আলোচনা করাই বেশি সুন্দর। তিনি
ভুলও হতে পারেন। তার আশঙ্কা অতিরঞ্জিতও হতে পারে। আবার তার পর্যবেক্ষণের মধ্যে সত্যিকার কোনো সমস্যার
ইঙ্গিতও থাকতে পারে। কিন্তু সেটি বোঝার জন্য প্রয়োজন আলোচনা, উপহাস নয়।

কারও বক্তব্যের সঙ্গে একমত না হলে বলা যায়, আমি বিষয়টিকে এভাবে দেখি না। বলা যায়, আমার
অভিজ্ঞতা ভিন্ন
। বলা যায়, কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের জন্য অপেক্ষা করাই ভালো। কিন্তু prematurely
চায়ের কাপে ঝড়
বলা হলে আলোচনাটি সমস্যার সমাধানের দিকে না গিয়ে ব্যক্তিগত অবস্থানকে ভিন্ন দৃস্টিতে
দেখার দিকে চলে যেতে পারে।

আমার মনে হয়, আমাদের সবারই একটু উদারভাবে বিষয়টি দেখা উচিত।
সামহোয়্যারইনব্লগ আমাদের অনেকের কাছে নিছক একটি ওয়েবসাইট নয়। এটি বহু বছরের স্মৃতি, পরিচয়, বন্ধুত্ব,
মতবিনিময় এবং লেখালেখির একটি জায়গা । তাই এর বর্তমান অবস্থা নিয়ে কেউ উদ্বিগ্ন হলে তাকে ভিন্ন কথা না
বলে করে বরং এটাও ভাবা যায় কেন তিনি উদ্বিগ্ন হয়েছেন?

হয়তো তার উদ্বেগ শেষ পর্যন্ত সত্যি হবে না। হয়তো ব্লগ কর্তৃপক্ষের হাতে ইতিমধ্যে সব সমস্যার সমাধানের
পরিকল্পনা আছে। হয়তো কারিগরি সমস্যাগুলো সাময়িক। হয়তো মডারেশন ব্যবস্থা নতুন কোনো কাঠামোর
মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এসবই সম্ভব।

আমরা যদি জানি যে ব্লগ কর্তৃপক্ষ সক্রিয় আছেন, সমস্যাগুলো তাদের নজরে আছে এবং সেগুলোর সমাধানে
কাজ চলছে, তাহলে উদ্বেগ অনেকটাই কমে যাবে। আর যদি সত্যিই কোনো পরিবর্তন বা সীমাবদ্ধতা এসে থাকে,
সেটিও ব্লগারদের জানা দরকার, সেভাবেই ব্লগার তার লেখার প্রস্তুতি নিতে পারেন। পরিষ্কার তথ্য থাকলে
অযথা জল্পনাও কমে যাবে।

সুতরাং আমার কাছে মনে হয়, এটি চায়ের কাপে ঝড় তোলার বিষয় নয়; বরং প্রিয় একটি ব্লগের বর্তমান
ও ভবিষ্যৎ নিয়ে দায়িত্বশীল আলোচনা।

আমরা অবশ্যই ভালো লিখব। ভালো লেখা দিয়ে ব্লগকে সমৃদ্ধ করব। নতুন লেখকদের উৎসাহিত করব। একে অন্যের
লেখায় গঠনমূলক মন্তব্য করব। অশালীনতা এড়িয়ে চলব।কিন্তু একই সঙ্গে যদি কোথাও সমস্যা দেখি, সেটিও বিনয়ের
সঙ্গে বলব।কারণ নীরব থাকা সবসময় আনুগত্যের পরিচয় নয়, আবার প্রশ্ন করাও সবসময় বিদ্রোহের লক্ষণ নয়।
কখনো কখনো প্রশ্ন করাটাই আসলে ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ।

আর সামহোয়্যারইনব্লগের মতো দীর্ঘদিনের একটি প্ল্যাটফর্মের ক্ষেত্রে আমার বিশ্বাস সংকট সত্যি হোক বা আশঙ্কা
মাত্র হোক, সেটি নিয়ে সময় থাকতে কথা বলাই ভালো। কারণ তখনও আমাদের হাতে কিছু করার সুযোগ থাকে।

শুভেচ্ছা রইল

১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৩৬

খায়রুল আহসান বলেছেন: আলী ভাই, You are fully entitled to have your own opinion and express it, as I am to have mine. কারও কোন বক্তব্যকে ছোট করে দেখানোর জন্য আমি ওকথা বলিনি। ব্লগের পাঠক সংখ্যা এবং পোস্ট সংখ্যা গত দশ বছর ধরেই ক্রমশঃ নিম্নমুখি। তবে বিশেষ করে গত ৫/৬ বছর ধরে মাঝে মাঝেই জিগির ওঠে, “ব্লগ মরে গেল, ব্লগের নিভু নিভু জীবন প্রদীপ এই বুঝি নিভে গেল”, ইত্যাদি। কিন্তু আজ অবধি ব্লগ মরে নাই। এ অবস্থার মধ্যেও কিছু নতুন ব্লগারের আগমন ঘটেছে, যারা নিয়মিতভাবে ভালো পোস্ট লিখে যাচ্ছেন। তবে ব্লগের অবস্থা গত ২১ বছরের মধ্যে এখন সবচেয়ে সঙ্গীন, এ কথাও অস্বীকার করার কোন উপায় নেই। ব্লগের এ দুরবস্থা থেকে কিভাবে উদ্ধার পাওয়া যায়, তা নিয়েও থেকে থেকে অনেক পোস্ট ও মন্তব্য উঠে এসেছে। সবচেয়ে জরুরী যে সমাধানটির কথা সার্বজনীনভাবে সর্বাগ্রে উঠে এসেছে, তা হলো ব্লগের কিছু টেকনিকাল অসুবিধাদি দূর করে ব্লগকে সেলফোনবান্ধব করে তোলা। কিন্তু সে লক্ষ্যে কোন কার্যক্রম আজ অবধি কারও নজরে আসেনি। এসব কারণ ও সম্ভাব্য প্রতিবিধান সম্পর্কে যে ব্লগ কর্তৃপক্ষ অজ্ঞ বা উদাসীন, সেটাও আমি অন্ততঃ মনে করি না।

The wearer knows best where the shoe pinches. ব্লগের দুই স্বপ্নদ্রষ্টা ও স্বপ্ন বাস্তবায়নকারী, জানা ও অরিল্ড, এখন অত্যন্ত দুঃসময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, এ কথা আমরা জানি। তাদের জুতো পরে না হাঁটা পর্যন্ত আমরা বুঝতে পারবো না, জুতোর ঠিক কোথায় পেরেকের খোঁচা কতটুকু লাগে। জানা ব্লগে ফিরে আসার মত সুস্থ হয়ে উঠুক, তার পরে হয়তো তারা উভয়ে ব্লগের এ সকল অসুবিধা নিরসনে সুনজর দিবেন। যাদের উপর তারা ব্লগ তদারকির দায়িত্ব অর্পণ করেছিলেন, তারা তাদের দায়িত্বের প্রতি কতটুকু সুবিচার করেছেন, সেটাও পরীক্ষা করে দেখবেন। এমন প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে থেকেও তারা ব্লগটাকে আপন খরচে আপন মায়ায় টেনে নিয়ে যাচ্ছেন, শুধু এ টুকুর জন্যই তারা আমাদের সকলের কৃতজ্ঞতা প্রাপ্য। ততদিন পর্যন্ত আমরা আমরাই না হয় চেষ্টা করে যাই, সামুকে যতটা সম্ভব, প্রাসঙ্গিক ও প্রাণবন্ত রাখার; অতীতে সামুকে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতায় বন্দী রাখার সময় আমরা যেভাবে ঐকান্তিকভাবে চেষ্টা করে গিয়েছিলাম যতটা সম্ভব দীর্ঘ সময় ধরে লগ-ইন থেকে এবং লেখালেখি করে সামুকে সচল রাখার জন্য। সে জন্যেই আমি বলেছি, “আমরা যেন prematurely চায়ের কাপে ঝড় না তুলে ব্লগ কর্তৃপক্ষ থেকে সুনির্দিষ্টভাবে কোন দিক নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত যথাসম্ভব উত্তম লেখা দিয়ে ব্লগটাকে সমৃদ্ধ করে চলি। লেখার মান উন্নত হলে এবং ব্লগীয় পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখলে এমনিতেই পাঠক সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে”

উপলব্ধি করছি, আমার কথাগুলো হয়তো আপনাকে কষ্ট দিয়েছে, বা দিচ্ছে। এ জন্য আমি যারপরনাই দুঃখিত বোধ করছি, যদিও আমার কথাগুলো কোন ব্যক্তিকেন্দ্রিক ছিল না। কথাগুলো আমার একাদশতম বর্ষপূর্তি পোস্টে কথা প্রসঙ্গেই বলেছি। ব্লগ নিয়ে আপনার এবং আরও অনেকের উদ্বেগ মোটেই অমূলক নয়। এ নিয়ে আপনার এবং অন্য কারও কথা বলাটাও অনভিপ্রেত নয়। তবে তা নিয়ে আমার দ্বিমত পোষণ করার অধিকারটুকুও নিশ্চয়ই আপনার মত একজন প্রাজ্ঞ ব্যক্তি অস্বীকার করবেন না। আমি শুধু চেয়েছি আরেকটু ধৈর্য ধরে আমাদের যার যতটুকু করা সম্ভব,করণীয়টুকু করে যেতে।

১৩| ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৫:১৭

হুমায়রা হারুন বলেছেন: অসংখ্য অভিনন্দন

১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫২

খায়রুল আহসান বলেছেন: আপনাকেও অসংখ্য ধন্যবাদ। ভালো থাকুন।

১৪| ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:১২

দেশ প্রেমিক বাঙালী বলেছেন: অভিনন্দন রইলো নিরন্তর।

১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৩

খায়রুল আহসান বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ জানবেন।

১৫| ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৪

রাজীব নুর বলেছেন: অভিনন্দন।
দীর্ঘদিন ব্লগে টিকে থাকা চারটেখানি কথা নয়।

১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৩

খায়রুল আহসান বলেছেন: জ্বী, 'চারটেখানি কথা নয়' বটে। চেষ্টা করে যাবো, যতদিন পারি, লিখে যেতে এবং এখানে থেকে যেতে।
মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ।

১৬| ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৫:৫৫

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



শ্রদ্ধেয় খায়রুল আহসান ভাই,
আপনার বক্তব্য ও দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি আমার যথেষ্ট শ্রদ্ধা রয়েছে। আপনি যেমন আপনার নিজস্ব মত পোষণ ও প্রকাশ
করার পূর্ণ অধিকার রাখেন, আমিও তেমনি আমার নিজস্ব মতামত প্রকাশ করার অধিকার রাখি এটি আমারো কাছে
স্বাভাবিক ও সুস্থ মতবিনিময়ের অংশ।

আপনার বিজ্ঞতাপ্রসূত মন্তব্যে ব্যবহৃত premature তথা ‘অকালপক্ব’ প্রসঙ্গটি নিয়েও আমি মোটেও কষ্ট পাইনি বা ব্যক্তিগতভাবে নেওয়ার মতো কিছু মনে করিনি। বরং বিষয়টিকে আমি ব্লগীয় শালীনতা ও সৌহার্দ্য বজায় রেখে
কিছু যুক্তি ও ভাবনার আদান-প্রদান হিসেবেই দেখেছি।
নিজের লেখা কিংবা মন্তব্যের ওপর অন্যের মন্তব্য বা প্রতিমন্তব্য নিয়ে আমার জীবনদর্শনের একটি ছোট্ট কথা আছে-
ফুলের আঘাতে মূর্ছা আমি যাই না
সুগন্ধের অন্তরালে কাঁটার ভাষা চিনি।
আমি সুবাস নিই, কিন্তু বিবেক বন্ধক রাখি না।
ফুল ঝরে যায়; কিন্তু যে চোখ তার আড়ালের
উদ্দেশ্য পড়ে, সে মূর্ছা যায় না।


তাই কোনো মন্তব্যেই আমি সহজে কষ্ট পাই না। বরং ভিন্নমত, সমালোচনা কিংবা প্রশ্নকে নিজের জানার ভুবনটিকে
আরও একটু বিস্তৃত করার সুযোগ হিসেবেই দেখি।

যাহোক, প্রায় বছর দুয়েক আগে সামু জননী জানার প্রতি শিরোনামে যে কবিতাটি লিখেছিলাম, সেটি আপনি পড়ে সেখানে সুন্দর একটি মন্তব্যও করেছিলেন।
পরবর্তীতে জানা আপুও সেখানে এসে কিছু কথা বলে গিয়েছিলেন।

এর আগেও ব্লগের উন্নয়ন এবং এর আর্থিক স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে তাঁর সঙ্গে বেশ কিছু ই-মেইল আদান-
প্রদান হয়েছিল। দুর্ভাগ্যবশত, বর্তমানে সেই ই-মেইল ঠিকানাটি আর কার্যকর নেই।
সেই কারণেই ব্লগটিকে আরও সচল ও প্রাণবন্ত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠিত দৃষ্টিকোণ থেকে কিছু ভাবনা ও প্রস্তাব
তুলে ধরে কয়েকটি পোস্ট দেওয়ার চেষ্টা করেছি। মূলত উদ্দেশ্য ছিল তাঁর কাছ থেকে, অথবা তাঁর পক্ষ থেকে,
কোনো একটি প্রতিক্রিয়া পাওয়া; এবং সম্ভব হলে ব্লগের ভবিষ্যৎ পথচলার বিষয়ে সঠিক দিকনির্দেশনা পাওয়া।
বিশেষ করে তাঁর এই কঠিন সময়ে, তাঁরই হাতে গড়ে ওঠা এবং তাঁরই দীর্ঘদিনের পরিচর্যায় এগিয়ে চলা এই ব্লগ
কমিউনিটির পক্ষ থেকে শুধু এটুকুই জানাতে চেয়েছি আমরা আছি আপনারই সঙ্গে।

তাঁর জায়গায় নিজেকে কল্পনা করে, তাঁর অনুভূতিটুকু বোঝার চেষ্টা করেই ব্লগটিকে আবারও সচল ও প্রাণবন্ত
করার বিষয়ে কিছু কথা বলেছি। এর মধ্যে কোনো ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য বা অন্য কোনো অভিপ্রায় নেই; বরং রয়েছে
এই প্রিয় ব্লগটির প্রতি এক ধরনের দায়বোধ ও আন্তরিকতা।
তবে ব্লগের বর্তমান সংকট কিংবা এর উন্নয়ন নিয়ে লেখা পোস্টগুলোর বিষয়ে তাঁর কাছ থেকে, অথবা তাঁর পক্ষ
থেকে, এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া না পাওয়ায় সত্যিই কিছুটা উৎকণ্ঠিত বোধ করছি।

আশা করি, আমার কথাগুলোকে ব্যক্তিগত সমালোচনা হিসেবে নয়, বরং একজন সহব্লগারের আন্তরিক উদ্বেগ ও
শুভকামনা হিসেবেই দেখবেন।
আপনার মতের প্রতি যেমন শ্রদ্ধা আছে, তেমনি ভিন্নমত প্রকাশের অধিকারটুকুকেও আমি সমানভাবে সম্মান করি।

শুভেচ্ছা ও আন্তরিক শুভকামনা রইল।

১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৪

খায়রুল আহসান বলেছেন: "premature তথা ‘অকালপক্ব’ প্রসঙ্গটি নিয়েও আমি মোটেও কষ্ট পাইনি বা ব্যক্তিগতভাবে নেওয়ার মতো কিছু মনে করিনি" - যাক, এটা জেনে স্বস্তি পেলাম, কেননা আমার কোন কথায় আপনি কষ্ট পেলে আমিও কষ্ট পেতাম।
ভালো থাকুন, শুভকামনা.....

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.