নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সাহিত্য, সংস্কৃতি, কবিতা এবং সমসাময়িক সামাজিক বিষয়াদি নিয়ে গঠনমুলক লেখা লেখি ও মুক্ত আলোচনা

ডঃ এম এ আলী

সাধারণ পাঠক ও লেখক

ডঃ এম এ আলী › বিস্তারিত পোস্টঃ

Ripe Age দুই প্রান্তের দুই মানুষঃ সামু শব্দের সেতু প্রজন্মের বন্ধন

১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:২৪


একজন দাঁড়িয়ে জীবনের শুরুতে
চোখে তার অগণিত স্বপ্ন
আগামীর পথে কত প্রশ্ন
কত না-জানা, কত বিস্ময়
কত দূরের নীল আকাশ
ডাকে তাকে প্রতিদিন।

অন্যজন বসে জীবনের শেষে নয়
বরং দীর্ঘ পথ পেরিয়ে আসা এক প্রান্তে
প্রায় শতটি বসন্তের স্মৃতি নিয়ে
চোখের কোণে সময়ের রেখা
বুকে জমা হাজার গল্প
আর নীরবতার ভেতর
এক সমুদ্র প্রজ্ঞা।

দুজনের মাঝে
প্রায় শত বছরের দূরত্ব
একজনের হাতে স্মার্টফোন
অন্যজনের হাতে পুরোনো দিনের চিঠি
একজন ভবিষ্যৎ খোঁজে স্ক্রিনের আলোয়
অন্যজন অতীত দেখেন
স্মৃতির ম্লান জানালায়।

তবু কথা যখন শুরু হলো
দূরত্ব কোথায় যেন হারিয়ে গেল!
তরুণ বলল-
আমি ভয় পাই
যদি ভুল করি?
বৃদ্ধ মৃদু হেসে বললেন-
ভয় আমিও পেয়েছি একদিন,
কিন্তু পথ তো ভয়কে সঙ্গে নিয়েই হাঁটতে হয়।

একটি ছোট্ট সাহসী পদক্ষেপ
অনেক বড় অন্ধকারকে
পেছনে ফেলে যায়।
তরুণ বলল
আমার অনেক স্বপ্ন।
বৃদ্ধ বললেন
স্বপ্ন ছিল আমারও,
সব পূর্ণ হয়নি
তবু অপূর্ণ স্বপ্নগুলোও
জীবনকে সুন্দর করেছে।

কথা বলতে বলতে
দুই প্রজন্মের দুই তীর
ধীরে ধীরে কাছে এলো;
তারা বুঝল-
সময় বদলায়, প্রযুক্তি বদলায়
মানুষের পোশাক বদলায়
পৃথিবীর ভাষাও বদলায়
কিন্তু মানুষের হৃদয়ের ভাষা
বদলায় না কখনো।

মানুষ আজও চায়-
কেউ তার কথা শুনুক
তার চোখের জল বুঝুক
তার আনন্দে একটু হাসুক
তার একাকিত্বে পাশে বসুক।

তাই তো বৃদ্ধ দিলেন
অভিজ্ঞতার আলো
আর তরুণ ফিরিয়ে দিল
আগামীর রোদ্দুর।

একজন বলল
জীবনকে ভয় পেয়ো না।
অন্যজন বলল-
আগামীকাল এখনো সুন্দর।

এইভাবেই
দুই প্রান্তের দুই মানুষ
একটি অদৃশ্য সেতু বানাল-
যার এক প্রান্তে অতীত
অন্য প্রান্তে ভবিষ্যৎ
আর মাঝখানে দাঁড়িয়ে
আজকের মানুষ।

হয়তো এটাই জীবনের সত্য
আমরা কেউ একা নই;
কেউ আমাদের আগে হেঁটেছে
কেউ আমাদের পরে হাঁটবে।

বৃদ্ধের স্মৃতি
তরুণের স্বপ্নে মিশে যায়
তরুণের স্বপ্ন
বৃদ্ধের চোখে ফিরিয়ে আনে
হারানো বসন্তের আলো।

তাই আসুন
বয়সের দেয়াল না তুলে
একটু কাছে বসি
একটু মন দিয়ে শুনি
একটু সময় দিই একে অন্যকে।

হয়তো দেখব
যাকে এত দূরের মানুষ ভেবেছিলাম
তার বুকেও আমারই মতো
একটি হৃদয় ধ্বনিত হয়।

আর তখন বুঝব-
শত বছরের ব্যবধানও
মানুষকে আলাদা করতে পারে না
যদি দুটো হৃদয়ের মাঝে
ভালোবাসার একটি সেতু থাকে।

জীবন তাই শুধু
কত বছর বেঁচে থাকার নাম নয়-
জীবন হলো
কত হৃদয় ছুঁয়ে গেলাম
কত মানুষকে সাহস দিলাম
কত অন্ধকারে আলো জ্বাললাম
আর চলে যাওয়ার আগে
কারও মনে রেখে গেলাম
একটুখানি আশার আলো।

একদিন আমরাও হব স্মৃতি
তবু যদি আমাদের কথায়
কোনো তরুণ সাহস পায়
কোনো বৃদ্ধ একাকিত্ব ভুলে হাসেন
তবেই হয়তো
আমাদের বেঁচে থাকাটা
সার্থক হবে।

সামুর পাতায় তেমনি করে আজও
নবীন-প্রবীণের মেলা
নবীনের চোখে আগামীর স্বপ্ন
প্রবীণের স্মৃতির ভেলা।

একজন আনে নতুন দিনের ভাষা
অন্যজন অভিজ্ঞতার আলো
দুজন মিলে শব্দের সেতু গড়ে
সামু হয়ে ওঠে আরও ভালো।

প্রবীণের প্রজ্ঞা নবীনের ডানায়
দেয় উড়বার সাহস
নবীনের প্রাণে প্রবীণ খুঁজে পান
হারানো দিনের সুবাস
এই মেলবন্ধনেই বেঁচে থাকুক সামু
প্রজন্ম পেরিয়ে ভালোবাসায়।

সকলের তরে শুভেচ্ছা রইল ।

বিশেষ দ্রস্টব্য : কবিতাটি গুণী ব্লগার শ্রদ্ধেয় খায়রুল আহসান এর লেখা
‘Ripe Age’ এবং নিঃসঙ্গতাবোধ
হতে অনুপ্রানীত তাই কবিতাটি এই গুণী ব্লগারের প্রতি উৎসর্গিত।

মন্তব্য ৩৪ টি রেটিং +৯/-০

মন্তব্য (৩৪) মন্তব্য লিখুন

১| ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

কাজী আবু ইউসুফ (রিফাত) বলেছেন: অনেক সুন্দর হয়েছে! আপনি এতো ব্যস্ততার মাঝেও এতো সুন্দর করে গুছিয়ে লিখেন! সবদিক সামলান কিভাবে ~অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।

১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৪৩

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:


মুল্যবান মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ ।
ব্লগের এই ক্রান্তিকালে ব্লগটিকে একটু সচলতা দেয়ার জন্য ব্যস্ত সময়ের মাঝেও একটুখানি সময় সামুর জন্য
ব্যয় করছি । সকলকে আহ্বান করছি সকলেই যেন একটু সদয় দৃষ্টি দেন সামুর প্রতি , তাই সকলের সাথে ‌
আমিউ একটু সামিল থাকতে চাই । নীজে করি কাজ অপরে শেখাও মত । গত কয়েকদিন যাত দেখছি ব্লগে
বিচরণকারীর সংখ্যা ১, ২, ৩ করে বাড়ছে । নবীনের সাথে অনেক প্রবীনদেরকেও ব্লগে দেখা যাচ্ছে ।
তাই আশাবাদীতো আমরা হতেই পারি ।

শুভেচ্ছা রইল

২| ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১৭

সৈয়দ মশিউর রহমান বলেছেন: বাহ্ দারুণ হয়েছে। ভালোলাগা রইলো।

১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৪৬

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



দারুন অনুভুত হয়েছে শুনে খুশি হলাম । ভালো লাগায় আন্তরিক থন্যবাদ ।
আপনার লেখাগুলিও মুল্যবান , চালিয়ে যান লেখা , ভরে উঠুক সামু ব্লগের
পাতা । এ কামনাই করি ।

শুভেচ্ছা রইল

৩| ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:০৩

খায়রুল আহসান বলেছেন: চমৎকার লিখেছেন। + +
আমার উল্লেখিত পোস্টটি পড়ে কিংবা সংযুক্ত ভিডিও ক্লিপটি দেখে আপনার মনে উদিত ভাবনা ও অনুভূতির সন্নিবেশ ঘটিয়েছেন এ কবিতাটিতে। তাই কবিতাটি আমার প্রতি উৎসর্গ করেছেন, এজন্য নিজেকে সম্মানিত বোধ করছি।
অনেক, অনেক ধন্যবাদ ও শুভকামনা ...

১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:০০

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



জোড়া প্লাসের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ
আমার উল্লেখিত পোস্টটি পড়ে কিংবা সংযুক্ত ভিডিও ক্লিপটি দেখে এ প্রসঙ্গে সবিনয়ে বলতে চাই
কিংবা হবেনা আসল কথাটি হবে এবং , ফুট নোটে আমি পরিস্কার করে বলেছি কবিতাটি আপনার
পোস্ট হতে অনুপ্রানীত । ব্লগে আরো অনেক গুণী ব্লগার থাকতে কেন আপনাকেই কবিতাটি উৎসর্গ করেছি
তার একটি কার্যকারণ বুঝাতে তাই শব্দটি যোগ করেছি । আপনি সম্মানীত বোধ করছেন জেনে
অনেকটাই সস্থিবোধ করছি ।

শুভেচ্ছা রইল ।

৪| ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫০

কাজী ফাতেমা ছবি বলেছেন: দারুন হয়েছে

১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:০১

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:




দারুন হয়েছে জেনে পুলকিত হলাম ।
শুভেচ্ছা রইল

৫| ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:০১

সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:




আপনার কথায় দেখি আজ
দুই প্রজন্মের হাত,
এক হাতে স্মৃতির প্রদীপ,
অন্য হাতে প্রভাত।

যে পথ পেরিয়ে প্রবীণ এলেন
সময়ের স্রোত বেয়ে,
সে পথেই নবীন হাঁটে
নতুন স্বপ্ন নিয়ে।

অভিজ্ঞতার ছায়াতলে
স্বপ্ন পায় ডানা,
নবীনের হাসিতে ফেরে
হারানো দিনের গানা।

বয়স শুধু সংখ্যামাত্র,
হৃদয় থাকে তরুণ,
মনের দরজা খুললে
দূরত্ব হয় নতুন।

সামুর পাতায় তাই আজ
মিলুক সব কণ্ঠ,
প্রবীণের জ্ঞান হোক
নবীনের পথের দিশা যন্ত্র।

অতীত-আগামীর মাঝে
আজকের সেতু গড়ি,
মানুষ হয়ে মানুষের পাশে থাকাই
হোক বড় পরিচয় ধরি।

১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:০৭

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



খুব সুন্দর হয়েছে আপনার কাব্যিক মন্তব্য ।
কালকে সুন্দর সুন্দর ললনাদের সাথে আপনার
পিছপা দৌঁড় দেখলাম । মহাব্যস্ততার কারণে
সেই ভীরের মাঝে পড়তে চা্াইনী । দৌঁড়ের
বেগ একটু কমলে ধেখতে যাব ।
একটি গানার সুরারোপ করে গান গেয়ে
সেটি দিতে অনুরোধ করেছিলাম । 'মনে
হয় বেমালুম ভুলে গেছেন ।

শুভেচ্ছা রইল

৬| ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:০২

মেহবুবা বলেছেন: এক হাতে স্মৃতির প্রদীপ
অন্য হাতে প্রভাত

নিজের চোখ নতুন করে মেলে ধরবার প্রভাত, নতুনকে চিনে নেবার প্রভাত, নিজেকে প্রকাশের আলোময় প্রভাত।

১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:৩৯

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



অলোময় প্রভাত ঠিক জায়গাটিতেই হিট করেছেন ।
শিলাইদহে বসে কবিগুরুর লেখা
আলো আমার, আলো ওগো, আলো ভুবন-ভরা।
আলো নয়ন-ধোওয়া আমার, আলো হৃদয়-হরা॥

রবিন্দ্র সঙ্গিতটি ইন্দ্রানী সেনের এর কন্ঠে
শুনা যাক তাহলে আপনাদের মতো নবীন
আর আমাদের মতো প্রবীনদের
একসাথে বসে ।

শুভেচ্ছা রইল

৭| ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৪২

সুলাইমান হোসেন বলেছেন: প্রবীনের তো জীবন শেষ,নবীনের কেবল শুরু,
প্রবীনকে তাই মেনে নিতে হবে নবীনের গুরু,
হাজার হাজার অভিজ্ঞতায় টইটুম্বুর প্রবীন,
যেখানে,জীবনের ঝড়-তুফানে অজ্ঞ থাকে নবীন।
নবীনকে তাই নিতে হবে প্রবীন থেকে শিক্ষা,
অভিজ্ঞতার ঝুলি থেকে গ্রহন করো দীক্ষা।

প্রবীনরা যেথায় যেথায় করেছিলে ভুল,
নবীনরাও সেথায় যেন না দেয় মাশুল।

প্রবীনকে মনে কোরো না তুমি সমাজের বোঝা!
প্রবীন থেকে উচিত তোমার,জীবনের শিক্ষা খোঁজা।

সামুর পাতা জ্বলে উঠুর প্রবীনের আলোতে,
নবীনের তখন সহজ হবে জীবন গাড়ি চালাতে।
হে প্রবীন! দাযিত্ব কিন্তু তোমার অনেক কঠিন,
যদিও ক্ষয় হয়েছে জীবনের অনেক প্রোটিন।

প্রবীনের অন্তর এখন তুলোর মত কোমল,
কোমল হৃদয় থেকে বেরোয় ভালো ভালো আমল।
নবীনের দিল যেখানে পাথর সম শক্ত
অধিকাংশ সময় তাহার গরম থাকে রক্ত।

প্রবীনের কাছ থেকে তাই দিল করো নরম,
কেয়ামতের দিনে যাতে না পেতে হয় সরম।

হে নবীন দায়িত্ব কিন্তু তোমার অনেক কঠিন।
প্রবীন থেকে শিক্ষা করো এই জীবনের রুটিন।
প্রবীনকে দাও হৃদয় থেকে অনেক ভালোবাসা,
প্রবীন আলোয় ভরে ফেলো হদয়ের বাসা।



১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:০০

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



আপনার কবিতার প্রতিটি পঙ্‌ক্তি যেন বয়সের দুই প্রান্তের মাঝে নির্মিত এক সেতু এক প্রান্তে প্রবীণের সঞ্চিত
জীবন, অন্য প্রান্তে নবীনের অদম্য সম্ভাবনা। সত্যিই, প্রবীণ মানেই অস্তগামী সূর্য নন; বরং তিনি সেই সূর্যাস্তের
আগুন, যার রঙে জীবনের দীর্ঘ দিনের অভিজ্ঞতা জমাট বেঁধে থাকে। আর নবীন হলো সেই সূর্যোদয় যার আলো
এখনো অনাগত দিনের অসংখ্য সম্ভাবনাকে জাগিয়ে তোলার অপেক্ষায়।

জীবন কখনো শুধু তারুণ্যের উচ্ছ্বাসে পূর্ণ হয় না, আবার কেবল অভিজ্ঞতার ভারেও এগিয়ে যায় না। নবীনের হাতে
থাকে গতি, প্রবীণের হাতে থাকে দিকনির্দেশনা। একজন জানে কীভাবে ছুটতে হয়, অন্যজন জানেন কোন পথে
ছুটলে খাদে পড়ে যেতে হয় না। তাই প্রজন্মের এই সম্পর্ক প্রতিদ্বন্দ্বিতার নয় এটি উত্তরাধিকারের, ভালোবাসার
এবং জ্ঞান হস্তান্তরের এক মহৎ অধ্যায়।

প্রবীণের প্রতিটি ভুল যেন নবীনের জন্য সতর্কবার্তা, প্রতিটি সাফল্য যেন পথের মশাল, প্রতিটি ক্ষত যেন জীবনের
অদৃশ্য মানচিত্র। যে নবীন প্রবীণের অভিজ্ঞতাকে অবহেলা করে, সে অনেক সময় সেই একই পাথরে হোঁচট খায়,
যেখানে পূর্বসূরিরা একদিন রক্তাক্ত হয়েছিল। আর যে নবীন সেই অভিজ্ঞতাকে শ্রদ্ধার সঙ্গে গ্রহণ করে, সে
অতীতের ভুলকে ভবিষ্যতের প্রজ্ঞায় রূপান্তর করতে পারে।

আবার প্রবীণের দায়িত্বও কম নয়। বয়সের ভারে শরীর হয়তো ধীর হয়, কিন্তু তখন কথার ও চরিত্রের দায়
আরও গভীর হয়। নবীনদের কেবল উপদেশ দিয়ে নয়, নিজের জীবন দিয়েই শেখাতে হয় কীভাবে কঠিন
সময়ে মানুষ থাকতে হয়, কীভাবে পরাজয়ের মধ্যেও মর্যাদা ধরে রাখতে হয়, কীভাবে ক্ষমা করতে হয়,
কীভাবে হৃদয়কে পাথর না বানিয়ে তুলোর মতো কোমল রাখা যায়।

আর এই ভাবনাতেই আপনার লেখাটি শুধু প্রবীণ-নবীনের কথা বলে থেমে থাকেনি; এটি যেন একটি বৃহত্তর
সামাজিক দর্শনের দরজা খুলে দিয়েছে। কারণ একটি সভ্যতার প্রকৃত শক্তি তার অট্টালিকার উচ্চতায় নয়, বরং
কতটা আন্তরিকভাবে সে তার অতীতকে ধারণ করে এবং কতটা প্রজ্ঞার সঙ্গে ভবিষ্যৎকে নির্মাণ করে তার
ওপর নির্ভর করে।

প্রবীণরা যদি হন জীবনের গ্রন্থাগার, তবে নবীনরা সেই গ্রন্থের আগামী অধ্যায়। গ্রন্থাগার পুড়িয়ে দিয়ে নতুন
ইতিহাস লেখা যায় না; আবার পুরোনো বইয়ের তাকেই চিরকাল বসে থাকলেও নতুন ইতিহাস জন্ম নেয় না।
প্রয়োজন পুরোনো জ্ঞানের আলো হাতে নিয়ে নতুন পথ নির্মাণ করা।

সামুর পাতায় তাই প্রবীণের অভিজ্ঞতা হোক বাতিঘর, নবীনের স্বপ্ন হোক পালতোলা নৌকার হাওয়া। একজন
দেখাক দিগন্তের দিক, অন্যজন এগিয়ে নিয়ে যাক নৌকা। তাহলেই প্রজন্মের ব্যবধান আর দেয়াল থাকবে না
তা হয়ে উঠবে সেতু।

শেষ পর্যন্ত বয়সের জয় বা তারুণ্যের জয় নয় জয় হোক মানবতার।প্রবীণের প্রজ্ঞা আর নবীনের প্রাণশক্তি যখন
একই হৃদয়ে মিলিত হবে, তখনই সমাজের অন্ধকারে জ্বলে উঠবে সেই আলো, যার কাছে প্রজন্মের সব বিভাজন
ক্ষুদ্র হয়ে যায়।

আপনার এই অসাধারণ ভাবনাকে তাই শুধু একটি মন্তব্য হিসেবে নয়, প্রজন্মান্তরের প্রতি একটি মানবিক আহ্বান
হিসেবেই দেখি।প্রবীণ হোন নবীনের শিকড়, নবীন হোক প্রবীণের স্বপ্নের ডানা এই দুইয়ের মিলনেই নির্মিত
হোক আগামী দিনের মহাকাব্য।

শুভেচ্ছা রইল

৮| ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৮

মরুভূমির জলদস্যু বলেছেন: আপনার এই কবিতাটা পড়ে আমার খুব প্রিয় দুই শিল্পীর দুটি গান মনে পরে গেলো -


সুমনের - চালশের গান
আজকে যে বেপরোয়া বিচ্ছু
শান্ত সুবোধ হবে কাল সে
চোখের সঙ্গী হবে চশমা
চল্লিশ পেরোলেই চালশে

আজকে যে আড্ডায় মশগুল
নির্বান্ধব হবে কাল সে
হরিহর আত্মা শুধু চশমা
চল্লিশ পেরোলেই চালশে

আজকে যে শিস দিয়ে গান গায়
কোন গান শুনবে হে কাল সে
চোখ থেকে খুলে নিয়ে চশমা
ভুলে গিয়ে চোখে আছে চালশে

আজকে যে দল বেঁধে দীঘা যায়
নিরালা সফরে যাবে কাল সে
সফর সঙ্গী শুধু চশমা
চল্লিশ পেরোলেই চালশে

আজকে যে প্রেমে পড়ে উন্মাদ
ঘোর সংসারী হবে কাল সে
শয্যা সঙ্গী শুধু চশমা
চল্লিশ পেরোলেই চালশে

আজকে যে শিস দিয়ে গান গায়
কোন গান শুনবে হে কাল সে
চোখ থেকে খুলে নেবে চশমা
ভুলে যাবে চোখে আছে চালশে

আজকে যে চুল রাখে বাবরি
লুকোবে চাঁদির টাক কাল সে
কি করে লুকোবে তার চশমা
চল্লিশ পেরোলেই চালশে

আজকে যে সারাদিন টই টই
ঘরকুনো হয়ে যাবে কাল সে
কাগজ পড়বে পরে চশমা
চল্লিশ পেরোলেই চালশে

আজকে যে শিস দিয়ে গান গায়
কোন গান শুনবে হে কাল সে
চোখ থেকে খুলে নেবে চশমা
ভুলে যাবে চোখে আছে চালশে

আজকে যে খুব জলজ্যান্ত
অ্যালবাম এ ঠাই পাবে কাল সে
ফটোগ্রাফ এর চোখে চশমা
চল্লিশ পেরোলেই চালশে

আজকে যে মুখে মারে বিশ্ব
চুপচাপ হয়ে যাবে কাল সে
ভাগ্যহীনের চোখে চশমা
চল্লিশ পেরোলেই চালশে

আজকে যে শিস দিয়ে গান গায়
কোন গান শুনবে হে কাল সে
চোখ থেকে খুলে নেবে চশমা
ভুলে যাবে চোখে আছে চালশে

আজকে যে প্রতিবাদী কন্ঠ
সর্বংসহা হবে কাল সে
সয়ে যাবে অসহ্য চশমা
চল্লিশ পেরোলেই চালশে

অথবা যে আজ নি:শব্দ
স্বশব্দে ফেটে যাবে কাল সে
ভূলে যাবে চোখে আছে চশমা
ভূলে যাবে চোখে আছে চালশে

আজকে যে শিস দিয়ে গান গায়
যেন গান গেয়ে ওঠে কাল সে
চোখ থেকে খুলে নিয়ে চশমা
মন থেকে মুছে দিয়ে চালশে
কাল সে।।


আর
অঞ্জন দত্তের - ক্যালসিয়াম
ডাক্তার বলছে ক্যালসিয়ামটা কম
টিউটর বলছে অংকটা কমজোরি
ছোটকা বলছে ধুচ্ছাই নেই তোর দম
ঠাম্মা বলছে আচার গেছে চুরি
পিসি বলছে বখে গ্যাছে হিন্দি ছবি দেখে
দিদি বলছে ভীষণ আন্সমার্ট
দাদু বলছে সময়টাই গোলমেলে করবে কি
জ্যাঠা বলছে প্যাঁদিয়ে উলকাঠ
ছাঁদের পাচিল বলছে আয়
ছুটে আয় খালি পায়
আকাশ বলছে গলা খুলে গা
দুপুর বলছে কান্না পেলে
ছাঁদে উঠে গিয়ে
সবাই যা বলছে ভুলে যা

জিগর ব্যাম জিগর ব্যাম জিগর ব্যাম ব্যাম ব্যাম ব্যাম (২)

মা বলছে, মা বলছে দুধটা একদম মুখেই তুলছেনা
হরলিক্স বলছে এমনি এমনি খাও
অ্যান্টি বলছে আগে এতো কেয়ারলেস ছিল না
বাবা বলছে জাহান্নামে যাও।
পাশের বাড়ির বৌদি বলছে আঁকার স্কুলে দিন না
মামা বলছে স্পোকেন ইংলিশ উইক
দাদু বলছে সময়টাই গোলমেলে করবে কি
জ্যাঠা বলছে প্যাঁদালেই সব ঠিক
ছাঁদের পাচিল বলছে আয়
ছুটে আয় খালি পায়
আকাশ বলছে গলা খুলে গা
দুপুর বলছে কান্না পেলে
ছাঁদে উঠে গিয়ে
সবাই যা বলছে ভুলে যা

জিগর ব্যাম জিগর ব্যাম জিগর ব্যাম ব্যাম ব্যাম ব্যাম (২)

সুমন বলছে পারো যদি অন্য ছবি এঁকো
টিনটিন বলছে চল এন্টার্কটিকা
টিভি বলছে বলো আই অ্যাম অ্যা কমপ্লেন বয়
অঞ্জন বলছে টিভি দেখো না
তোপসেটাই বা কেন লেখা বন্ধ করে দিলো
ফেলুদা কিছুই বলছে না
দাদু বলছে সময়টা গোলমেলে করবে কি?
জ্যাঠা বলছে প্যাঁদালেই সোজা
ছাঁদের পাচিল বলছে আয়
ছুটে আয় খালি পায়
আকাশ বলছে গলা খুলে গা
দুপুর বলছে কান্না পেলে
ছাঁদে উঠে গিয়ে
সবাই যা বলছে ভুলে যা

জিগর ব্যাম জিগর ব্যাম জিগর ব্যাম ব্যাম ব্যাম ব্যাম

১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:৪২

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



প্রিয় মরুভুমির জলদস্যু , আপনার মন্তব্য পড়ে মনে হলো আমার Ripe Age কবিতাটিকে আপনি শুধু পড়েননি,
বরং তার ভেতরে লুকিয়ে থাকা সময়ের দুই ভিন্ন সুরকে ধরে এনে আমার সামনে দুটি অসাধারণ আয়না মেলে
ধরেছেন। এজন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা।

সুমনের ‘চালশের গান’ যেন বয়সকে নিয়ে জীবনের এক মিষ্টি, নির্মম অথচ অসম্ভব মানবিক আয়না। আজ যে
বেপরোয়া, কাল সে হয়তো চশমার আড়ালে পৃথিবী দেখবে; আজ যে দল বেঁধে পথ চলে, কাল সে হয়তো নিজের
নিঃসঙ্গতার সঙ্গী হবে। আজকের প্রেম, প্রতিবাদ, আড্ডা, উচ্ছ্বাস সবই সময়ের হাতে ধীরে ধীরে অন্য রূপ নেয়।
অথচ আশ্চর্যের বিষয়, বয়স বাড়ে, চোখে চালশে আসে, চুলে রুপালি আলো নামে কিন্তু মানুষটির ভেতরের সেই
তরুণ সত্তাটি কোথাও যেন সম্পূর্ণ মরে যায় না।

আর সেখানেই আমার Ripe Age-এর সঙ্গে ‘চালশের গান’-এর এক গভীর আত্মীয়তা খুঁজে পাই। বয়স আসলে
শুধু শরীরের ক্যালেন্ডার নয়; বয়স হলো অভিজ্ঞতার স্তর, স্মৃতির ভার, হারানোর হিসাব এবং নিজেকে নতুন করে
চিনে নেওয়ার সময়। চল্লিশ, পঞ্চাশ কিংবা ষাট কোনো সংখ্যাই মানুষের স্বপ্ন দেখার বয়সের শেষসীমা নয়। চোখে
চশমা উঠতে পারে, কিন্তু দৃষ্টির গভীরতা বরং আরও বেড়ে যেতে পারে।

অন্যদিকে অঞ্জন দত্তের ‘ক্যালসিয়াম’ যেন সেই বয়সের আরেক প্রান্তের দুরন্ত বিদ্রোহ। চারপাশের সবাই কিছু না
কিছু বলছে ডাক্তার, টিউটর, মা, বাবা, দাদু, জ্যাঠা, পিসি, দিদি প্রত্যেকের হাতে যেন জীবনের আলাদা আলাদা
প্রেসক্রিপশন। কিন্তু ছাদের পাঁচিল আর আকাশ এসে যেন শেষ পর্যন্ত বলে নিজের জীবনটাকেও একটু নিজের
মতো করে বাঁচো।

এই গানটি তাই আমার কাছে শুধু হাস্যরসের গান নয়; এটি সামাজিক প্রত্যাশার বিরুদ্ধে ব্যক্তিসত্তার এক মজার
অথচ তীক্ষ্ণ ঘোষণা। মানুষকে সবাই নিজের মতো করে গড়তে চায়, অথচ মানুষটির নিজের ভেতরে যে একটি
নিজস্ব পৃথিবী আছে, তার খবর কয়জন রাখে?

এই দুই গানকে পাশাপাশি রাখলে Ripe Age-এর দর্শন যেন আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে

একদিকে সময় আমাদের বদলে দেয়, অন্যদিকে আমরা সময়ের ভেতর দিয়েই নিজেকে খুঁজে নিই।

সুমনের গান মনে করিয়ে দেয় যৌবনের বেপরোয়া ঘোড়া একদিন ধীর হবে, চোখে চশমা উঠবে, চারপাশের
কোলাহল স্তিমিত হবে।

আর অঞ্জনের ‘ক্যালসিয়াম’ মনে করিয়ে দেয় সেই ধীর হয়ে আসা জীবনটাকেও যেন অন্যের কথার ভারে নিস্তেজ
করে না ফেলি; আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে আবারও গলা খুলে গান গাওয়ার মতো সাহস যেন থাকে।

তাই Ripe Age আমার কাছে বার্ধক্যের গল্প নয়এটি পরিণত হওয়ার গল্প। কাঁচা বয়স যখন অভিজ্ঞতার আগুনে
পাকে, তখন জীবন শুধু পুরোনো হয় না জীবন আরও গভীর, আরও রসালো, আরও অর্থবহ হয়ে ওঠে। ফল যেমন
পাকলে তার স্বাদ বদলায়, মানুষও তেমনি সময়ের স্পর্শে বদলে গিয়ে কখনো কখনো নিজের সবচেয়ে সুন্দর
সংস্করণে পৌঁছে যায়।

চোখে চালশে আসুক, হাঁটায় ধীরতা আসুক, চুলে রুপালি ঋতু নামুক তবু হৃদয়ের জানালাটি যেন বন্ধ না হয়।

কারণ শেষ পর্যন্ত
যৌবন আমাদের শেখায় কীভাবে ছুটতে হয়,
অভিজ্ঞতা শেখায় কোথায় যেতে হয়,
আর Ripe Age শেখায় কেন যেতে হয়।

আপনি যে দুটি গান এনে আমার কবিতার পাশে বসিয়ে দিলেন, তাতে মনে হলো আমার কবিতার দুটি হারিয়ে
যাওয়া অধ্যায় যেন হঠাৎ ফিরে পেলাম। একটিতে সময়ের মৃদু পরিহাস, অন্যটিতে জীবনের বেপরোয়া
স্বাধীনতা আর মাঝখানে দাঁড়িয়ে মানুষ।

আপনার এই চমৎকার পাঠ-প্রতিচ্ছবি আমার কবিতাটিকে আমার নিজের কাছেই যেন নতুন করে চিনিয়ে দিল।
এমন পাঠকের জন্যই হয়তো লেখা যিনি কবিতার শব্দ পেরিয়ে তার ভেতরের মানুষটিকে দেখতে পান।

অশেষ কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা রইল।

৯| ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:২৩

শায়মা বলেছেন: ছবিতে একটা খায়রুলভাইয়ার ছবি দিতে হত আর আরেকদিকে নবীনের কার ছবি যে দেওয়া যায়!!! কোনো নবীনই তো দেখছিনা আর এখানে .......:(


আর মাঝখানে নদী আর তাতে একটা নৌকা সেই নৌকায় আমরা কেউ কেউ ....... :)

১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৭:৪০

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



ইস! কেন যে আমি এত বড় ভুল করলাম!! , আগে বলবে তো আমার Ripe Age দুই প্রান্তের দুই মানুষ কবিতায়
প্রচ্ছদ ছবিতে কেন যে এক প্রান্তে খায়রুলভাইয়ার আর আরেক প্রান্তে নবীনের ছবি হিসাবে ব্লগের চীর সবুজ চির
নবীন আমাদের সাজুগুজু আপু হিসাবে তোমাকেই বা কেন দিতে ভুলে গেলাম! আমিউ তো রাইপ এজ ভুল তো
হতেই পারে ।

যাহোক, তোমার আবদার কী আমি না রেখে পারি । তোমাদের দুজনকে আমার এই পোস্টের মন্তব্যের ঘরেই পেয়ে
গেলাম। আর মাঝখানে নৌকায় তোমাদেরকে সহ আরো কয়েকজনকে তুলে দিলাম।

আমি জানি তোমার আর খায়রুল ভাই এর খুব সুন্দর সুন্দর ছবি আছে, তবে পাবলিক ডমেনে মানে সামু নীকে
প্রকাশিত ছবিই ব্যবহার করেছি। সুন্দর ছবি ইমেজ বানাতে আমি তেমন পারিনা, তাই মনে হল মাগো মা ঝি ল ঝি
করলাম কী রঙগে , আমার ভাঙ্গা নৌকা বাইতে আ্ইলাম গাংগের মত হয়ে গেল। তুমিতো ছবি বানাতে পটু ,
তাই সুন্দর একটি ছবি ইমেজ বানিয়ে তোমার ব্লগ বাগানে একটি নতুন ভিন্ন আংগিকের পোস্ট দেয়ার কথা ভাবতে
পার, যেখানে একদিকে ব্লগের প্রবীন আর দিকে নবীন, মাঝে নৌকায় অগনিত ব্লগার বসে মাঝ নদীতে একটি
তুখোর ব্লগ আড্ডা জমিয়ে তুলতে পারে ব্লগের ক্ষীয়মনতার এ যুগে ।

সুভেচ্ছা রইল

১০| ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন:
কোথায় অমন উল্লাসধ্বনি, কোথায় মাতন জাগে?
আমার প্রাণে একটি পাখি নাচছে অনুরাগে।
অবোধ পাখি, নাম জানে না—গাইছে সরল তান,
বুকের মাঝে জড়িয়ে আছে তাহার একটি গান।

বাইরে ভুবন রত্ন ছড়ায়, বৈভবে পথ ঢাকা,
আমার মনে একটি সুরের গোপন ছবি আঁকা।
একতারাতেই বাজছে সামুর যে সুর, একলা আপন মনে,
সারাটি প্রাণ রাখল ঢেকে পরম সংগোপনে।

১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:০১

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



বাহ কী সুন্দর অন্তরগত আনন্দ, একাকী সুর, পাখির অনুরাগ এবং সামুর একতারার মায়া ধরে
লিখলেন কবিতা ।

কবিতা পাঠে আমারো হৃদয় বীণায় প্রতিধ্বনি জাগে

কোথায় সে গোপন বাঁশি, কোথায় মধুর টান
নিঃশব্দ বুকের কোণে জেগে ওঠে গান
যে পাখিটি নাম না জেনে ডাকে আপন মনে
তারই ডাকে বসন্ত নামে নির্জন গোপন ক্ষণে।

বাহির জুড়ে রঙের মেলা, অন্তরে এক সুর
একতারার সেই মায়াতে মুছে যায় সব দূর
সামুর পাতায় হৃদয় মেলে একলা যে প্রাণ হাসে
তারই অনুরাগী প্রতিধ্বনি রয়ে যায় ভালোবাসে।

শুভেচ্ছা রইল

১১| ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:০০

আহমেদ জী এস বলেছেন: ডঃ এম এ আলী,




চমৎকার! চমৎকার!! চমৎকার!!!
চোখে চালশে আসুক, হাঁটায় ধীরতা আসুক, চুলে রুপালি ঋতু নামুক তবু হৃদয়ের জানালাটি যেন বন্ধ না হয়।সুপার্ব একটি প্রত্যাশা।

১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:৫০

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



ঘন্টাখানেক আগে কাজী ফাতেমা ছবি আপুর কবিতা দেহের রূপ একদিন নাই হয়ে যায় পাঠান্তে
সেখানে মন্তব্যের ঘরে লিখে এসেছিলাম কবিতা একটা সেটা আপনার মন্তব্যের সাথে খাপ খেয়ে বলে এখানেও
তুলে দিলাম প্রবীনের মাঝে নবীন প্রত্যাশার যোগান দিতে ।

কেন গো এমন করুন রোদন
দেহের রূপ একদিন নাই হয়ে যায়
তবে জানেনইতো-
বয়স হলেই হয় না লোকে বুড়ো

যদিও ঝুলে যাবে চামড়া একদিন
পাকবে মাথার চুল
তবু কেন থামবে বলো
হাসি-ঠাট্টার দুল?

চোখের নিচে কালি পড়ুক
মুখে পড়ুক ভাঁজ
মনের আয়না মসৃণ থাকলে
কিসের বয়সের লাজ!

দাঁত যদি বা ঝরে পড়ে
চুলে রুপালি ঢেউ
মনের মাঝে বসন্ত থাকলে
বুড়ো কোথায় কেউ?

হাঁটুর জোর কমে এলেও
স্বপ্ন হবে না ক্ষয়
দেহটা শুধু বয়সী হবে
মনটা তরুণ রয়।

যা ইচ্ছে তাই খেতে না পারি
কিছু ইচ্ছে যাক থেমে
তবু কত গান বাকি আছে
জীবন-বীণার প্রেমে।

সবাই যদি ব্যস্ত হয়ে
নিজের পথে যায়
মনের মাঝে মানুষ থাকলে
একাকিত্ব কোথায়?

ঝাপসা যদি চোখের আলো
দৃষ্টি হবে গভীর
বছর যত বাড়ে তত
জীবন হয় সমৃদ্ধির।

বয়স কোনো শিকল নয় তো
বয়স জীবনের ফুল
দেহের চামড়া কুঁচকে গেলেও
মনের চামড়া মসৃণই রাখো
তবেই জীবন হবে কূল।

প্রভুর কাছে এইটুকু চাই
দেহে যতই ক্ষয়
মনের ভিতর শিশুটি যেন
শেষ নিঃশ্বাস অবধি রয়।

শুভেচ্ছা রইল

১২| ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৪৫

মেহবুবা বলেছেন: @শায়মা, তুমি কিন্তু এখানে আমার মন্তব্য জবাব দেখবে না

১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:২৭

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:




মেহবুবা, আপনার মন্তব্যের জবাব শায়মা কী না দেখে থাকতে পারবে? :)
লেখা যেমন শব্দে বেঁচে থাকে, তেমনি পাঠকের ভালোবাসা আর কথায় তার পূর্ণতা পায়। আপনার মন্তব্য তাই
শুধু মন্তব্য নয় লেখার আঙিনায় রেখে যাওয়া একটুকরো আপনজনের স্পর্শ।
শায়মা জবাব দিতে দেরি করলে অভিমান করবেন না, আপনার কথা যে তাঁর চোখ এড়িয়ে যাবে
সে সাধ্য মনে হয় তাঁর নেই। :)

১৩| ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:০২

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: মেহবুবা বলেছেন: @শায়মা, তুমি কিন্তু এখানে আমার মন্তব্য জবাব দেখবে না
.............................................................................................................
কি অমন কথা গুলো সখী গণে কহে
যাহা বাতাশে ভাসিবে না,
আসিবে না কাণে ?

১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৪১

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



আহা, এ যে দেখি সখীদের কথার মাঝে মধুর মল্লযুদ্ধ! বাধানোর লক্ষন গাথা ।
মেহবুবা অভিমান করে বললেন-তার মন্তব্যের জবাব নাকি এখানে দেখা যাবে না!
আর স্বপ্নের শঙ্খচিল আপনি সেই কথাকেই কাব্যের পাখায় তুলে দিয়ে বললেন;
“কি অমন কথা গুলো সখীগণে কহে,
যাহা বাতাসে ভাসিবে না,
আসিবে না কানে?”

সখীদের কথা কি আর বাতাসে মিলিয়ে যায়? সে কথা তো বাতাসে ভেসে ভেসেই এক সখীর কান থেকে আরেক
সখীর মনে গিয়ে বসে!

তাই মেহবুবা, আপনার অভিমানও রইল, শঙ্খচিলের কাব্যিক সাক্ষ্যও রইল আর এই ব্লগের পাতায় শায়মা আর
আপনার দুজনের কথোপকথনটুকুও থাকুক একটুখানি মায়া হয়ে।
শেষ পর্যন্ত সখীদের কথা সে যতই গোপন করে বলা হোক বাতাসও বোধহয় তা গোপন রাখতে পারে না!

শুভেচ্ছা রইল

১৪| ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৪০

সুলাইমান হোসেন বলেছেন: কষ্ট করে মন্তব্যের জবাব দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।আমার লেখা'হাকিক্বতুল মায়ারিফ'সিরিজ পড়ার আমন্ত্রন রইলো।কোনো পরামর্শ এবং সংশধনী দিলে তাও গ্রহন করা হবে।

১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:০৬

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



আপনার লেখা 'হাকিক্বতুল মায়ারিফ' সিরিজ পড়ে একটি মন্তব্য ও করে এসেছি ।

শুভেচ্ছা রইল

১৫| ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:৪৪

মরুভূমির জলদস্যু বলেছেন:
- অঞ্জন দত্তের আরো একটি গানের কথা মনে পড়ে গেলো। গানটি যখন শুনি তখনই এক ধরনের নিরবতা আচ্ছন্ন করে ফেলে আমার মনটাকে।

অঞ্জন দত্ত - শহুরে ঘরছাড়া
এইতো সেদিন কিশোর ছিলাম
পাড়া ছিল দখলে
খেলাধুলোয় ভালো ছিলাম
পড়াশুনার বদলে
মন বলতো, "ওড়াও ঘুড়ি"
বাবা বলতেন, "দাঁড়া
সন্ধ্যের পর ফিরলে বাড়ি
হবি যে তুই ঘরছাড়া"
বাইরে তখন বন্ধু সবাই
শত্রু ছিলেন বাবা
তার কথাটি মনে হতো
নিত্য বাঘের থাবা

হঠাৎ পাড়া দখল হলো
দালানকোঠার সারিতে
সারাদিনই সময় এখন
কাটছে নিজের বাড়িতে

কোথায় গেল ঘুড়িগুলো?
কোথায় গেল পাড়া?
আজকে আমি ঘরে থেকেও
শহুরে এক ঘরছাড়া

আজও আমার চোখে ভাসে
সবুজ ঘাসের ঐ মাঠ
বিকেল হলেই বসে যেত
খেলাধুলোর যত হাট
আকাশপানে দৌড়ে যেতাম
আকাশ ছোঁয়ার খেলায়
আকাশটাকে ছোঁয়া যেত
সেই সে কিশোরবেলায়
কাটতো সময় আকাশ দেখে
আকাশ ছিল কাছে
দিনের আকাশ কেড়ে নিত
রাতের ওই অক্টোপাসে

হঠাৎ আকাশ দখল হলো
দালানকোঠার সারিতে
নীলগুলো সব হারিয়ে গেল
কালো ধোঁয়ার গাড়িতে

কোথায় গেল ঘুড়িগুলো?
কোথায় গেল পাড়া?
আজকে আমি ঘরে থেকেও
শহুরে এক ঘরছাড়া

হঠাৎ আকাশ দখল হলো
দালানকোঠার সারিতে
নীলগুলো সব হারিয়ে গেল
কালো ধোঁয়ার গাড়িতে

কোথায় গেল ঘুড়িগুলো?
কোথায় গেল পাড়া?
আজকে আমি ঘরে থেকেও
শহুরে এক ঘরছাড়া
কোথায় গেল ঘুড়িগুলো?
কোথায় গেল পাড়া?
আজকে আমি ঘরে থেকেও
শহুরে এক ঘরছাড়া

১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১৪

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:


ধন্যবাদ আবার এসে সুন্দর একটি গান রেখে গেলেন এখানে ।
কিছু গান শুধু শোনা যায় না, মনের ভেতর পুরোনো কোনো দরজা খুলে দেয়। শহুরে ঘরছাড়া তেমনই একটি গান।
এখানে হারিয়ে যাওয়া ঘুড়ি, পাড়ার মাঠ কিংবা নীল আকাশ আসলে শুধু শৈশবের স্মৃতি নয় এগুলো আমাদের সেই
সহজ, মুক্ত এবং আপন পৃথিবীর প্রতীক, যেটা ধীরে ধীরে শহরের কংক্রিটের ভিড়ে হারিয়ে গেছে।

একসময় যে বাবা ছিলেন শৈশবের চোখে শত্রু, সময়ের ব্যবধানে সেই বাবার কথাগুলোই স্মৃতির কোমল অংশ হয়ে
ফিরে আসে। আর সবচেয়ে গভীর উপলব্ধিটি যেন শেষ কথাটিতে ঘর আছে, শহর আছে, কিন্তু নিজের সেই চেনা
পৃথিবীটি নেই; তাই মানুষ ঘরে থেকেও ঘরছাড়া।

অঞ্জন দত্তের গানের বড় অনুভা এখানেই অতি সাধারণ শহুরে জীবনের গল্পকে তিনি এমন এক ব্যক্তিগত স্মৃতিতে
রূপ দেন, যেখানে শ্রোতা নিজের হারিয়ে যাওয়া পাড়া, বিকেল, মাঠ, বন্ধু আর আকাশকে খুঁজে পায়। গানটি শুনতে
শুনতে মনে হয়, শহর শুধু আমাদের চারপাশের জায়গাটুকুই বদলায়নি; কখনো কখনো আমাদের ভেতরের
ঠিকানাটিও বদলে দিয়েছে।

শুভেচ্ছা রইল
আপনার মন্তব্য লিখুন

১৬| ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৮

রাজীব নুর বলেছেন: সহজ সরল ভাষায় সুন্দর কবিতা লিখেছেন।

১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৪:৪৯

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



সুন্দর অনুভবের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ ।

শুভেচ্ছা রইল ।

১৭| ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:০০

সুলাইমান হোসেন বলেছেন: সামুর কিছু ব্লগারদের প্রতি আন্তরিক ভালোবাসা রয়েছে।প্রতিদিন সামুতে এসে তাদেরকে একনজর দেখে নেই।এখন প্রশ্ন হলো সামু যদি বন্ধ হয়ে যায়,তাহলে প্রিয় ব্লগারদের সাথে যোগাযোগের বিকল্প কোনো ব্যাবস্তা কি করা যায়?

১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৪:৫১

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



মোটেও উদ্বিঘ্ন হবেনা । সামু অটোতে হলেও তার
মুল টেকনিক্যাল ফিচার নিয়ে অনির্দিষ্টকাল পর্যন্ত
চলতে পারবে ।

শুভেচ্ছা রইল

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.