somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

‘Ripe Age’ এবং নিঃসঙ্গতাবোধ

০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

(চিন্তাসূত্রঃ হঠাৎ পাওয়া একটি চমৎকার ভিডিও ক্লিপ এবং অতঃপরের ভাবনা। ভিডিও লিঙ্কঃ Click This Link

জানিনা, এটা কোন ‘AI content’ কিনা, তবে ৯৯ বছরের পার্থক্যে থাকা এই বৃদ্ধা এবং শিশুটির কথোপকথন হৃদয়ে নাড়া দিয়ে গেল। বৃদ্ধার বয়স ১০৪ এবং শিশুটির মাত্র ৫। দু’জনের মাঝে খুবই candid আলাপচারিতা, এর মধ্য দিয়েই উঠে এসেছে জীবনের কিছু অমূল্য দর্শন। আমাদের মাঝে যারা ‘Ripe Age’ পর্যন্ত পৌঁছাতে পেরেছি, আলহামদুলিল্লাহ, তারা নিতান্তই সৌভাগ্যবান। আর যারা পারেন নি, তারা যে সৌভাগ্যবান নন, এ কথা ভাবার কোন প্রয়োজন নেই। আল্লাহতা’লা কাকে, কেন, কতটুকু হায়াৎ দিবেন, এটা জানার এখতিয়ার শুধুমাত্র তাঁরই। যার জন্য যেটা মঙ্গলজনক, তিনি তাকে সেটাই দিয়ে থাকেন। আপাতঃদৃষ্টিতে যেটাকে অমঙ্গলজনক মনে হয়, অন্তর্যামীর দৃষ্টিতে হয়তো সেটাই সেই ব্যক্তির জন্য মঙ্গলজনক। কারও ‘Ripe Age’ শুরু হয় ৭০ এর পর থেকেই, আবার কারো কারো ৮০ বা ৯০ তে গিয়ে সেটা শুরু হয়। যখনই শুরু হোক, ঐ বয়সটাকে সামলে নিয়ে যথাসম্ভব সুস্থ থেকে জীবনকে সঠিকভাবে যাপন, উপভোগ ও Celebrate করতে পারাটাই ‘Ripe Age’ এর সার্থকতা।

এই পাকা ফলের মত ঝুলে থাকার বয়সটাও অনেকের পছন্দের নাও হতে পারে। যারা জীবনের শেষদিন পর্যন্ত নিজেকে Competitive রাখতে পারেন, জীবনের প্রতি আগ্রহ ও ঔৎসুক্য ধরে রাখতে পারেন, অতি সামান্য হলেও কোথাও না কোথাও অবদান রাখতে পারেন, কারও মুখে হাসির রেখা ফোটাতে ও মনে আলোর শিখা জ্বালাতে পারেন, তারাই এ বয়সটাকে ভালোবাসতে পারেন এবং প্রকৃ্ত অর্থে ভাগ্যবান। জীবনের বোঝা তাদেরকে ন্যুব্জ করতে পারে না। অপরপক্ষে এমন বয়সে (পাকা ফল) পৌঁছানোর আগেই অনেকে জীবন ধারণের আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। এর নানাবিধ কারণ হতে পারে; যেমন যন্ত্রণাদায়ক অসুখ বিসুখ, পরিবারে অশান্তি, মানুষের কাছ থেকে পাওয়া বড় ধরণের কোন প্রতারণা, নিঃসঙ্গতাবোধ, বিষণ্ণতা, আকস্মিক বড় ধরণের কোন আর্থিক দুর্দশা, ইত্যাদি। নিঃসঙ্গতাবোধ দুই ধরণের হতে পারে; পূর্ণ পরিবারের সাথে থেকেও নিঃসঙ্গ বোধ করা, আবার ছানা-পোনা বড় হয়ে উড়ে যাবার পর যদি আপন ঠিকানার পথ খুঁজতে প্রবাসে বা দূরে কোথাও উড়ে যায় তখন শাবকহীন পক্ষীর ন্যায় ‘Empty Nester’ হয়ে প্রায় শুন্য ঘরে বসবাসের কারণে নিঃসঙ্গ বোধ করা। ওদের সাথে যদি নাতি নাতনিও চলে যায় তবে নিঃসঙ্গতাবোধ ত্বরান্বিত ও প্রবলতর হয়।

‘Ripe Age’ মানুষকে সুযোগ করে দেয় ফেলে আসা জীবনটাকে ফিরে দেখার। বিচক্ষণ ব্যক্তিরা নিজেদের কিছু ভুল ত্রুটিও সেই সুযোগে শুধরে নিতে কিংবা প্রায়শ্চিত্ত করতে পারেন। কেউ কেউ প্রকৃতিকে নতুন করে চিনতে শুরু করেন। নিজের ভেতরে লুকিয়ে থাকা কোন প্রতিভাকে আবিষ্কার করে মনের মাধুরী মিশিয়ে তার বিকাশ সাধন করতে পারেন। কে বলেছে বিকেলে ভোরের ফুল ফোটে না? ভোরের ফুল না ফুটুক, বিকেলে, সন্ধ্যায় বা নিশীথে যেসব ফুল ফোটে তাদের শোভা হয়তো রাতে দৃশ্যমান হয় না, কিন্তু তাদের সৌরভ তো চতুর্দিক মৌ্মাতাল করে রাখে। তাই তো দেখি কেউ ‘Ripe Age’ এ এসে নতুন করে ফটোগ্রাফী শিখছেন এবং এতে সিদ্ধহস্ত হচ্ছেন, কেউ নতুন করে গান ধরেছেন কিংবা বাদ্যবাজনা শিখছেন, ফিটনেস ফ্রীকরা নিয়মিত বিরতিতে ম্যারাথন দৌড় কিংবা ওয়াকাথনে অংশ নিচ্ছেন বা নিদেন পক্ষে নিয়ম করে সকাল বেলা ৪/৫ কি.মি হেঁটে ও শারীরিক অনুশীলন করে সবান্ধবে পেট পুরে নাস্তা করে বাসায় ফিরছেন। যাদের গিন্নী বাসায় কোন অজুহাতেই মিষ্টি খেতে দেন না, তারা এই সুযোগে টপাটপ দু’চারটা মিষ্টিও গিলে ফেলেন। আমার এক নিকট বন্ধু রীতিমত পরীক্ষা ও অডিশন দিয়ে এই পাকা বয়সেই বিপুল উৎসাহে রেডিওতে সংবাদ পাঠ শুরু করেছেন এবং তিনি ক্রমান্বয়ে ভালো করে চলেছেন। আমরা তার এই ইতিবাচক এনার্জীর পরিচয় পেয়ে গর্বিত। যারা এসবের কিছুতেই আগ্রহী নন, তারা নতুন করে তাদের বইপড়ার কিংবা লেখালেখির পুরনো অভ্যাসে ফিরে যান। অনেকে ধর্মে কর্মে নিবিড়ভাবে আত্মনিয়োগ করে শান্তি লাভ করেন। এভাবেই তারা বিষণ্ণতা ও নিঃসঙ্গতাবোধে বুঁদ হয়ে বসে না থেকে যে যেভাবে পারেন, ‘Ripe Age’ টাকে Celebrate করেন।

শুরুতেই বলেছি, যারা ‘Ripe Age’ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেন, তারা ভাগ্যবান। এই বয়সে তারা যাপিত জীবনের লব্ধ অভিজ্ঞতা থেকে কনিষ্ঠদেরকে ইতিবাচক ও উপকারী জ্ঞান বিতরণ করতে পারেন। সমাজহিতৈষী কাজে নিজেদেরকে নিয়োজিত করতে পারেন। বিনামূল্যে ছাত্র পড়াতে পারেন, নিরক্ষর বয়স্কদেরকে অন্ততঃ পত্রিকার হেডলাইন পাঠের কিংবা চিঠি লিখতে পারার উপযোগী জ্ঞান দান করতে পারেন। একজন মাত্র ব্যক্তিকে হলেও তার আর্থিক দুর্দশা দূর করায় ভূমিকা রাখতে পারেন। চিকিৎসকগণ অন্ততঃ দু’তিন মাস অন্তর এক দিনের জন্য দরিদ্রদেরকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দিতে পারেন। অর্থাৎ যার যেটুকু সাধ্য আছে, সে অনুযায়ী তিনি সমাজকে কিছু দিয়ে যাবার চেষ্টা করতে পারেন। তাহলে সন্তুষ্টি ও শান্তির একটি তৃপ্তি নিয়ে তারা সবাই শেষ জীবনটা কাটাতে পারেন। এসব কাজে নিজেকে নিয়োজিত করলে নিঃসঙ্গতাবোধ সহজে কাছে ভিড়তে পারবে না। জীবন পরিক্রমার প্রত্যুষ, মধ্যাহ্ন ও অপরাহ্ন যার যেমনই কাটুক না কেন, গোধূলিতে এসে অস্তমান সূর্য যেমন চতুর্দিকে সোনালী আভা ছড়িয়ে বিদায় নেয়, সব ‘পাকাফল’ দের ঝরে পড়ার লগনটাও যেন সেরকমই মায়াবী আলো ছড়িয়েই আসে! তারা চলে যাবার পরেও যেন তাদের আভা বেশ কিছুকাল রয়ে যায় এবং অন্যদের পথ দেখায়। সকলের জন্য সে দোয়াই রইলো।

ঢাকা
০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শব্দ সংখ্যাঃ ৭৩০
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৩০
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দেশের দুর্নীতি প্রতিরোধের জন্য একটি কাকতাড়ুয়া মডেল–২০২৬ নীতিপত্র প্রস্তাবনা দৃশ্যমান জবাবদিহি, নাগরিক নজরদারি ও AI প্রযুক্তিনির্ভর অনিয়ম প্রতিরোধ ব্যবস্থা

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৭:০৮


বাংলাদেশে দুর্নীতি ও অনিয়ম মোকাবিলায় প্রচলিত ব্যবস্থার একটি বড় অংশ হলো অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পরে তদন্ত ও শাস্তি।
কাকতাড়ুয়া মডেল–২০২৬-এর দর্শন হবে তার পাশাপাশি অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আগেই প্রতিরোধমূলক... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঁধনের ওপর হামলা নিন্দনীয়- কিন্তু নীতির মাপকাঠি কি সবার জন্য এক?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:২৩


বাঁধনের ওপর হামলা নিন্দনীয়- কিন্তু নীতির মাপকাঠি কি সবার জন্য এক?

আজমেরী হক বাঁধন ইতালিতে হেনস্তা ও হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, জুলাই- আগস্টের আন্দোলনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

"বাংলাদেশ কি একটি "ব্যর্থ রাষ্ট্রে" পরিণত হতে যাচ্ছে? - জঙ্গিবাদ ও পাকিস্তানপন্থার উত্থান"

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:০৮


বাংলাদেশ কি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে টিকে থাকতে পারবে, যেখানে আইন, ব্যক্তি স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকারের প্রশ্নগুলো সংখ্যাগরিষ্ঠের ধর্মীয় পরিচয় বা জনতুষ্টিমূলক ও সুবিধাবাদী রাজনীতি দ্বারা প্রভাবিত না হয়ে সব... ...বাকিটুকু পড়ুন

ট্রাক্টরগাজি → চাঁদগাজী → সোনাগাজী → জেনারেশন৭১ কে নিয়ে দুটি কথা।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৯


ব্লগার গাজী সাহেব জ্ঞানী কিন্তু তিনি কট্টরপন্থী তাঁর ছেড়া টাইপের মানুষ তবে আলাপচারীতার লোক হিবেবে উনি খারাপ না। আপনি যদি ওনার সংগে হিজড়া রানূ-র মতো জ্বীহুজুর জ্বীহুজুর বলেন এবং... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগের সুদিন ফিরিয়ে আনতে ব্লগ টিমের প্রতি বিনীত আবেদন

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:০৬


শ্রদ্ধেয় ব্লগ টিমের প্রতি বিনীত নিবেদন,
ব্লগের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কিছু কথা দীর্ঘদিন ধরেই মনে জমে আছে। কথাগুলো কোনো অভিযোগ হিসেবে নয়, বরং একজন সাধারণ ব্লগার ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×