| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সাজিদ উল হক আবির
সাধু সাবধান ! ব্লগের মালিক বঙ্গালা সাহিত্যকে ধরিয়া বিশাল মাপের ঝাঁকি দিতে নিজেকে শারীরিক ও মানসিক ভাবে প্রস্তুত করিতেছেন। সেই মর্মে তিনি এখন কিটো ডায়েটিং, ডন-বৈঠক ও ভারোত্তলন প্রশিক্ষণে ব্যস্ত। প্রকাশিত গ্রন্থঃ১। শেষ বসন্তের গল্প । (২০১৪)২। মিসিং পারসন - প্যাত্রিক মোদিয়ানো, ২০১৪ সাহিত্যে নোবেল বিজয়ী (অনুবাদ, ২০১৫) ৩। আয়াজ আলীর ডানা (গল্পগ্রন্থ - ২০১৬ ৪। কোমা ও অন্যান্য গল্প(গল্প গ্রন্থ, ২০১৮) ৫। হেমন্তের মর্সিয়া (কবিতা, ২০১৮) ৬। কাঁচের দেয়াল (গল্পগ্রন্থ, ২০১৯) ৭।শহরনামা (উপন্যাস, মাওলা ব্রাদার্স, ২০২২), ৮। মুরাকামির শেহেরজাদ ও অন্যান্য গল্প (অনুবাদ, ২০২৩), ৯। নির্বাচিত দেবদূত(গল্পগ্রন্থ, ২০২৪), ১০। দেওয়ানেগির চল্লিশ কানুন/ফরটি রুলস অফ লাভ (অনুবাদ, ঐতিহ্য, ২০২৪)
বেঙ্গল রেনেসাঁ একটি বহুল আলোচিত বিষয়। পাশ্চাত্য রেনেসাঁর সঙ্গে এর একটা মৌলিক তফাৎ হল, চৌদ্দ শতকে ইতালির ফ্লোরেন্স নগরে রেনেসাঁ (রিভাইভাল বা পুনরুত্থান) – এর যে প্রথম জ্যোতি পৃথিবী চোখে দেখে, তা ছিল দীর্ঘদিনের বাইবেল শাসিত ধর্মীয় এপিস্টেম বা জ্ঞানকাণ্ডকে প্রত্যাখ্যান করে হাজার বছরের পুরনো গ্রেকো – রোমান সময়ের মানববাদী বিশ্ববিক্ষার দিকে ইউরোপের প্রত্যাবর্তন। বিপরীতে উনিশ শতকের শুরুতে যে বেঙ্গল রেনেসাঁ হয়, কোলকাতায়, তাতে বাঙ্গালীরা হাজার বছরের পুরনো কোন বাঙ্গালী সভ্যতা ও সংস্কৃতির দিকে অগ্রসর হয় না। বরং দীর্ঘদিনের মুঘল সাম্রাজ্যের অধীনতাকে পরিহার করে ইংরেজি ও পাশ্চাত্য সভ্যতা ও জ্ঞানবিজ্ঞানের প্রতি অনুরক্ত হয়ে পড়ে। বাংলা সাহিত্যের আদিতম নিদর্শন যদি চর্যাপদ হয়ে থাকে, তবে তার দিকে ফিরে আসলেই ১৯ শতকের বাঙ্গালীর নেয়ার মতো কিছু ছিল না। তাই ইংরেজদের সভ্যতা থেকে যা কিছু নেয়ার, নিজেদের চিন্তার জায়গাকে উন্নত করার জন্য বাঙ্গালীরা ততটুকুই গ্রহণ করেছে নিজের সাধ্যমতো।
বেঙ্গল রেনেসাঁর ওপর অসংখ্য গ্রন্থ রচিত হলেও, এই বিষয়ক সবচে গুরুত্বপূর্ণ এবং তৎ-সমসাময়িক সময়ে লেখা গ্রন্থটি হল শিবনাথ শাস্ত্রীর লেখা রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ। বইটির বিষয়ে আমার প্রথম আগ্রহ সৃষ্টি হয় ২০১৪ সালে, যখন আমি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের লেখা সেই সময় উপন্যাসটি পড়ি। সুনীল তার ঐ ঢাউশ সাইজের উপন্যাস লেখার বীজমন্ত্র শাস্ত্রী মহাশয়ের লেখা ঐ আদি গ্রন্থ থেকে পান। কাজেই গ্রন্থটি নিয়ে আমার আগ্রহ ছিল আগে থেকেই। কিন্তু ৫ অগাস্ট ২০২৪ সালের পর, যখন বাংলা একাডেমী আগ্রহ নিয়ে বাংলার মুসলিম গণজাগরণ ও শিখা গোষ্ঠীকে নিয়ে কাজ করা শুরু করে, এবং আমার পরিচিত ইন্টেলেকচুয়াল বন্ধুবান্ধবদের সার্কেলে এই শিখা গোষ্ঠী নিয়ে আগ্রহের পুনঃজাগরণ ঘটে, তখন আমার আরও ১০০ বছর পিছিয়ে আদি বেঙ্গল রেনেসাঁর স্বরূপ জেনে, তার সঙ্গে শিখাগোষ্ঠীর একটা তুল্যমূল্য বোঝাপড়ার আগ্রহ তৈরি হয়। সে আগ্রহ থেকেই রামতনু লাহিড়ী হাতে তুলে নেয়া। বইটি পাঠ শেষ হল দিন কয় আগে। স্মৃতি থেকে বইটি পাঠের কিছু অভিজ্ঞতা টুকে রাখছি এই ব্লগে।
বইটি পড়তে গেলে সর্বপ্রথম চোখে পড়ে লেখক শিবনাথ শাস্ত্রীর বেঙ্গল রেনেসাঁ এবং তার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিবর্গের জীবনের খুঁটিনাটি তুলে আনার ব্যাপারে অনুপম মমতার পরিচয়। তিনি পারতপক্ষে ১জন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকেও বাদ দেন নি তার আলাপে। যার জীবন অন্তত ২ – ৪ লাইনও দাবী করে, তাকেও তুলে এনেছেন এই বইয়ে।
ঘটনার মধ্যে মনে দাগ কেটেছে প্রথমবারের মতো পশ্চিমবঙ্গে আইন করে সতীদাহ প্রথা রোধের প্রয়াস, কৃষ্ণনগরের রাজাদের গুণী প্রজা প্রতিপালনে ঐতিহাসিক ভূমিকা, খ্রিস্টান ধর্মের সংস্পর্শে এসে নিরাকার একেশ্বরবাদী ব্রাহ্ম সমাজের জন্ম, সেই ব্রাহ্মসমাজের দুই – তিনভাগ হয়ে যাওয়া, নীলকরদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ, সিপাহী বিপ্লব, নারী শিক্ষা, বিধবাবিবাহ, ব্রাহ্মসমাজের জবাবে হিন্দু ধর্মের পুনরুত্থান ইত্যাদি। মনে হতে পারে, ঘটনা আসলে খুব বেশি কিছু ঘটে নি। কিন্তু এই সমস্ত ঘটনাই ইতিহাসের এত জগদ্দল পাথরের মতো বোঝা ঠেলে ঠেলে নির্মিত হয়েছে – যার একটিরও ঠিকঠাক মতো সমাধা হতে ১০০ বছর লেগে যাওয়ার কথা। সেখানে এইসব উন্নতিই সাধিত হয়েছে মোটাদাগে ১০০ বছরের মধ্যে।
উল্লেখযোগ্য চরিত্রাবলীর মাঝে মনে আছে ইউরোপ থেকে খ্রিস্ট ধর্মের সাথে পাশ্চাত্য সভ্যতার আলো সাথে করে নিয়ে আসা যাজক উইলিয়াম ক্যারি, হিন্দু কলেজের তরুণ শিক্ষক ডিরোজিও – যার তত্ত্বাবধানে গড়ে ওঠে ইয়াং বেঙ্গল গ্রুপ, ব্রাহ্ম সমাজের আদি প্রতিষ্ঠাতা রাজা রামমোহন রায়, রবীন্দ্রনাথের দাদা প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর ও আদি ব্রাহ্মসমাজের আচার্য মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর, ব্রাহ্ম সমাজে নতুন দিশা পত্তনকারী ও আদি ব্রাহ্মসমাজের সঙ্গে ভাঙ্গন সৃষ্টিকারী কেশবচন্দ্র সেন, লেখক ও সমাজ সংস্কারক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, কবি ঈশ্বরচন্দ্রগুপ্ত ও মাইকেল মধুসূদন দত্ত, নাট্যকার দীনবন্ধু মিত্র, সমাজ হিতৈষী কালীপ্রসন্ন সিংহ এবং বইটির মূল ব্যক্তিত্ব রামতনু লাহিড়ী স্বয়ং – যার জীবন বর্ণনার ফাঁকে ফাঁকে উঠে এসেছে গোটা বেঙ্গল রেনেসাঁর ইতিহাস।
নিঃসন্দেহে ঐ ১০০ বছরে বাঙ্গালী প্রায় ১০০০ বছরের পথ পরিক্রমা করে।
পূর্ববঙ্গের মুসলিম পাঠক হিসেবে আমার এতোটুকুই ক্ষেদ রয়ে গেছে যে, এই বই থেকে অভাগা অনগ্রসর বঙ্গীয় মুসলমান সমাজের তৎকালীন অবস্থার ব্যাপারে কিছু জানা যায় না। সম্ভবত দীর্ঘদিন মুঘল শাসনের অধীনে থাকার ক্ষেদ থেকেই শিবনাথ শাস্ত্রীর সচেতন এ সিদ্ধান্ত। না হলে ব্রাহ্মসমাজের প্রতিষ্ঠায় ইসলামিক থিওলজির প্রভাব তিনি পুরোপুরি এড়িয়ে যেতেন না, গিরিশচন্দ্র সেনের কোরআনের প্রথম বঙ্গানুবাদ, অথবা রামমোহন রায়ের পরবর্তী সময়ে ব্রাহ্মসমাজের নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় কিছুটা হলেও যে ইসলামের ছোঁয়া ছিল, তার সামান্যতম উল্লেখ না করে শিবনাথ শাস্ত্রী কিছুটা বিস্তারিত বর্ণনায় যেতেন। সর্বোপরি, বেঙ্গল রেনেসাঁরই সন্তান বেগম রোকেয়া এবং মীর মশাররফ হোসেনকে সম্পূর্ণ উহ্য রাখতেন না নিজের লেখায়।
যাক, তবুও আমি ধন্যবাদ দিই শাস্ত্রী মহাশয়কে তার এই সেমিনাল কিতাব রচনার জন্য। অপেক্ষাকৃত সহজ ভাষায়, দরদ নিয়ে, এবং তৎকালীন সময়ে পারস্পারিক মুখোমুখি হওয়া বিভিন্ন আন্দোলন (যেমন ব্রাহ্মসমাজ বনাম হিন্দুসমাজ) এর কোনটার প্রতিও বিশেষ পক্ষপাত না দেখিয়ে ফ্যাক্টগুলো অ্যাজ ইট ইজ – উপস্থাপনের জন্য।
২|
১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:০০
এ.টি.এম.মোস্তফা কামাল বলেছেন: অনেক সময় নেট ধীরগতির হলে এটা হয়। ছবির আকৃতি বড় হলেও সমস্যা হয়।
২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:১২
সাজিদ উল হক আবির বলেছেন: ধন্যবাদ ভাই। ছবির সাইজ ২ মেগাবাইট ছিল, যেখানে ১০ মেগাবাইট পর্যন্ত সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা। বিভিন্ন জায়গা থেকে আপলোডএর চেষ্টা করেও একই ফল পেলাম। কাজেই সমস্যাটা নেটস্পীডে হয়তো না, হয়তো ডাউনলোডকৃত ছবির ভার্শনে।
৩|
১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:১৮
এ.টি.এম.মোস্তফা কামাল বলেছেন: অনগ্রসর মুসলিম সমাজের কথা কেন নাই তার জবাব এই অংশে লেখকের মনোভাবের মধ্যেই পাবেন। তখন এটাই ছিল স্বাভাবিক ভঙ্গি-
“যখন সমগ্র দেশ যবন রাজাদিগের করকবলিত হইয়া মুহমান হইতেছিল, তখন তাঁহারা " স্বীয় মস্তকে ঝড়বৃষ্টি সহিয়া দেশমধ্যে জ্ঞানী ও গুণীজনকে রক্ষা করিয়াছেন; এবং শিল্প, সাহিত্য, কলাদির উৎসাহদান করিয়াছেন। যবনাধিকার কালে দেশীয় রাজগণ অনেক পরিমাণে সর্ব্বময় কর্তা ছিলেন। তাঁহাদের দেয় নির্দ্ধারিত রাজস্ব দিলেই তাঁহারা স্বীয় অধিকার মধ্যে যথেচ্ছ বাস করিতে পারিতেন। সুত্বরাং তাঁহারা পাত্র মিত্র সভাসদে পরিবেষ্টিত হইয়া সুখেই বাস করিতেন। জ্ঞানী ব্যক্তিগণ অনেক সময়ে ইহাঁদের আশ্রয়ে বাস করিয়া নিরাপদে স্বীয় স্বীয় প্রতিভাকে বিকাশ করিবার অবসর পাইতেন। ইহার নিদর্শন এখনও বিদ্যমান রহিয়াছে। এখনও পুরাতন রাজধানী সকলের সন্নি-কটেই, বিষ্ণুপুরের সুগায়ক ও কৃষ্ণনগরের সুকারিকরদিগের ন্যায়, শিল্প সাহিত্যাদির ভগ্নাবশেষ দৃষ্ট হইতেছে।”
একইভাবে মুসলিম লেখকরা লিখতেন মুসলিমদের নিয়ে। ব্যতিক্রম ছিলেন নজরুল। তিনি সবাইকে এক কাতারে এনেছিলেন।
২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:২০
সাজিদ উল হক আবির বলেছেন: শাস্ত্রী মহাশয় যদি মুঘল রাজাদের শাসনও যবনরাজাদের কর কবলিত হয়ে গোটা দেশের মুহ্যমান হওয়া বলে উল্লেখ করেন, তবে সে দাবী ঐতিহাসিকভাবে কতোটুকু সঠিক - তার বিচার নির্মোহ ঐতিহাসিকগনই করবেন। তবে ইতিহাসের সাধারণ পাঠক হিসেবে জানি যে এক আওরাঙ্গজেব বাদে কঠোরভাবে ধর্মীয় অনুশাসন মানা মুঘল সম্রাট খুঁজে পাওয়া দুষ্কর।
ধন্যবাদ, কামাল ভাই, আপনার বিস্তারিত মন্তব্যে।
৪|
১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:৩৪
ব্যতীপাত বলেছেন: এটি বাঙালি মুসলমানের হীনমন্যতা প্রসূত বিদ্বেষ। রোকেয়ার তাঁর প্রধান সক্রিয়তা বিশ শতকের শুরুতে, অথচ শিবনাথ শাস্ত্রীর বইয়ের পটভূমি মূলত উনিশ শতকের মধ্যভাগ'। ব্রাহ্মসমাজের তৌহিদবাদ বা একেশ্বরবাদে যে ইসলামের (বিশেষ করে সুফিবাদ) প্রভাব ছিল, তা রামমোহন রায় স্বীকার করলে। যদিও রক্ষণশীল হিন্দুরা যদি এড়িয়ে গেছিলেন,
কিন্তু মুসলিমরাও কি দেশের ইসলামের যে স্থানীয় প্রভাব তাকে মেনেছিলেন? তো এদেশকে আপন ভাবত না, দলে দলে হিযরত করছিল আফগানিস্তাণ, খিলাফত রক্ষায় জানবাজী করছিল- তাহলে হিন্দুরাই বা কেন তাদের আপন ভাববে ? তখন যারা ফরাজী ওহাবী আন্দোলন করে, কেন ভারতকে শত্রুর দেশ মনে করত? এমন কি শুক্রবারের নামাজও পড়া নিষিদ্ধ করেছিল । তাদের মধ্যে দেশাত্মবোধের অভাব বা প্যান-ইসলামিজমের (Pan-Islamism) প্রতি ঝোঁক ছিল তা স্বাভাবিকভাবেই সমকালীন হিন্দু বুদ্ধিজীবীদের মনে একটি অবিশ্বাসের দেয়াল তৈরি করেছিল- এটা কি সাজিদএল আবির অস্বীকার করবেন?
২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:২৭
সাজিদ উল হক আবির বলেছেন: আপনার পেছনের কিছু ব্লগ পোস্ট পড়ে আসলাম। আপনি তো যথেষ্ট পড়ুয়া মানুষ, এবং সম্ভবত বয়স্ক ব্লগার। এরকম আক্রমণাত্মক উপায়ে মন্তব্য করলে তো স্বাভাবিক আলাপের গতি ব্যাহত হবে। মন্তব্যের প্রথমেই একটা নেতিবাচক কনক্লুশান ড্র করে বাকি অংশে যদি নিজের মতো করে যুক্তি সাজাতে থাকেন, তবে কারই বা আলাপ করতে ইচ্ছে হবে, বলুন? অন্তত আমার নামের বানানটা ঠিক ভাবে লেখা উচিৎ ছিল আপনার। ওটা কি ইচ্ছাকৃত করেই বিকৃত করলেন?
আপনার পুরো মন্তব্যের জবাব এককথায় এভাবে দেয়া যায় যে - আমরা সাধারণ মানুষ, আমরা জাতিগত দ্বেষ থেকে যে ভুল করতে পারি, শিবনাথ শাস্ত্রীর মতো সাধক পুরুষের কাছ থেকে সে আচরণ কাম্য নয়।
৫|
১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:৪০
ব্যতীপাত বলেছেন:
অন্যদিকে -মুসলমানরা ‘হিন্দু ঘৃণা’ কি একেবারে দুর্লক্ষ্য? কেন বাংলা ছেড়ে না থেকে অভিজাত মুসলমানেরা আলীগড়ে পড়তে যেত কেন? কেন তারা উত্তর ভারতে সৈয়দ আহমেদের পাল্লায় পড়ে ‘হিন্দু-বাঙ্গালি বিদ্বেষী হলেন? আশরাফ মুসলিম বাংলাকে ‘হিন্দুর ভাষা’ মনে করত বলে উর্দু বলতো- নবাব আব্দুল লতিফ আশরাফ বাঙালির জন্য উর্দুভাষায় শিক্ষার পক্ষে, আর ‘আতরাফদের জন্য যথেষ্ট আরবী ফারসী মিশ্রিত বাংলা’ করার পক্ষে রিপোর্ট পর্যন্ত দিয়েছিলেন।
তৎকালীন মুসলিম অভিজাত শ্রেণির (Ashraf) একটা বড় অংশ বাংলাকে 'হিন্দুয়ানি ভাষা' মনে করতেন এবং উর্দুকে মুসলিম পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দেখতেন। যেখানে রামতনু লাহিড়ী বা অক্ষয়কুমার দত্তরা বাংলাকে আধুনিক রূপ দিচ্ছিলেন, সেখানে মুসলিম উচ্চবিত্তরা বাংলাকে অবজ্ঞা করায় একটি সাংস্কৃতিক বিচ্ছিন্নতা তৈরি হয়।সে কারনেই হয়তো মুসলিমদের অনুপস্থিতি।
মুসলিম শাসকেরা বাংলাকে মনে করত 'দোজখ এ নিয়ামতপুর'। তাই টাকা লুটে পশ্চিম ,উত্তরে ভারতে বা আপন দেশে চলে যেত- মুসলিম রাজারাজড়ারা মুসলিম জনগনকে কোন সুবিধা দিত না, বরং হিন্দুদের দিয়েই তারা জমিদারি জায়গীরদারী চালাত । তুলনায় বরং প্রান্তিক মানুষদের মধ্য এই ভেদাভেদ ছিল না- তারা বনবিবি আর পাচপীরদের নিয়ে, বাউল বৈষ্ণব মিলে একত্রে থাকতো। যদি বর্ণ হিন্দুদের যদি দোষ দিই তবে একই দোষে দোষী আশরাফ (উচ্চশ্রেণির) মুসলমানেরাও-
শিবনাথ শাস্ত্রীর গ্রন্থে মুসলিমদের অনুপস্থিতি বলা য়ায় তৎকালীন সমাজের এক খণ্ডিত বাস্তবতার প্রতিফলন। মুসলিম সমাজ যখন নিজেই নিজেকে মূলধারা থেকে সরিয়ে নিয়েছিল (উর্দু প্রীতি বা হিজরতের মাধ্যমে), তখন শিবনাথ শাস্ত্রী বা তাঁর সমসাময়িকরা তাঁদের 'বাঙালি নবজাগরণের' অংশ হিসেবে গণ্য করার রসদ পাননি।
২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:৪৩
সাজিদ উল হক আবির বলেছেন: আশরাফ মুসলিম বলতে বঙ্গের যে নবাব শ্রেণীর কথা বললেন, তারা কাশ্মীর থেকে সিলেট হয়ে ঢাকায় এসেছিলেন। তাদের মাতৃভাষা বাংলা ছিল না, ফলে তাদের কাছ থেকে বাংলাভাষার প্রতি বিশেষ কোন প্রীতি আশা করা মুশকিল। ভাষা বেঁচে থাকে এবং পরিপুষ্ট হয় সমাজের দরিদ্র্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছেই। পূর্ববঙ্গের বাংলা মূলত আতরাফ মুসলমানদের বাংলা।
যেকোন ধর্মীয় কাঠামোর পরিমণ্ডলে বড় না হলে তা ঠিক কীভাবে কাজ করে সেটা বোঝা সম্ভব না। তাই প্যান - ইসলামিক চেতনা আপনার পক্ষে বোঝা দুষ্কর। পূর্ববঙ্গের কয়জন আতরাফ মুসলিম হিজরত করে খেলাফত কায়েম করতে অটোম্যান আর্মিতে যোগ দিয়েছিলেন, আমার জানা নাই। পূর্ববঙ্গের মুসলিমদের ম্যাস - হিজরতের ঘটনাটাও ঐতিহাসিকভাবে অবিশ্বাস্য। পারলে কিছু রেফারেন্স দেবেন আপনার দাবীর স্বপক্ষে।
আপনি তো পুরোটা মন্তব্য জুড়ে হোয়াটঅ্যাবাউটিজমই করে গেলেন। সেই সূত্রে আমিও একটু হোয়াটঅ্যাবাউটইজম করি।
পশ্চিমবঙ্গের যে আশরাফ, বা বর্ণহিন্দুদের উদ্যোগে বঙ্গভঙ্গ রদ হল ১৯১১তে, তারা কেন '৪৭ এ নিজের পূর্ববঙ্গীয় স্বজাতিদের ছেড়ে গেলেন?
শিবনাথ শাস্ত্রীর দৃষ্টিভঙ্গীর সবচে বড় সমালোচনা এসেছে দলিতঅধ্যয়ন (সাবঅলটার্ন স্টাডিজ) - এর তরফ থেকে, যার মুলে ছিলেন রণজিৎ গুহ, পার্থ চ্যাটারজি ও দিপেশ চক্রবর্তীরা। সংক্ষেপে বললে, রামতনু লাহিড়ী গ্রন্থটি অবিভক্ত বঙ্গের উচ্চবর্ণের হিন্দুদের দিকে তাকিয়ে লেখা একটি ঐতিহাসিক গ্রথ, যাতে দলিত ও নিম্নবর্গের হিন্দুদের ইতিহাসকে উহ্য রাখা হয়েছে।
সে যাক, ঝগড়া করার মানসিকতা পরিহার করে মন্তব্য করলে আপনার সঙ্গে ভবিষ্যতে আরও সুন্দর আলাপ হতে পারে। কিন্তু আমার নাম উল্লেখ করলে বানানটা বিকৃত করবেন না।
©somewhere in net ltd.
১|
১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:৪১
সাজিদ উল হক আবির বলেছেন:
ছবি কেন মূল পোস্টে সংযুক্ত করতে পারছি না, কেউ জানলে জানাবেন কাইন্ডলি। জেপিজি ফরমেট ২ মেগাবাইটের কম।