নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে বিরাজ সত্যসুন্দর ॥

অর্ক

...

অর্ক › বিস্তারিত পোস্টঃ

ইলিয়াস কাঞ্চন

০৮ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৩



আমার ছোটোবেলায় ইলিয়াস কাঞ্চন সুপারহিরো। খুব সম্ভবত জীবনে প্রথম হলে দেখা সিনেমা ছিলো জবরদোস্ত। সেখানে ইলিয়াস কাঞ্চন ও ওয়াসিম নায়ক। তিনবার দেখেছিলাম। বাড়ির কাছে হল। সেভাবে কড়াকড়ি ছিলো না। ছোটো বাচ্চা হিসেবে অনেকসময় গুরুত্ব দেয়া হতো না। এদিকসেদিক দিয়ে ঢুকে পড়ে ফ্রী দেখতাম। প্রথমবার একা; পরে একবার বন্ধু নজরুল, আরেকবার বান্ধবী রুবি ছিলো সাথে। আশেপাশে ছ-সাতটা সিনেমা হল ছিলো তখন। ঢাকাই সিনেমার প্রধান নায়ক সে সময় ইলিয়াস কাঞ্চনই। অন্যরা তাঁর পরে। জসীম, রুবেলের শক্ত অবস্থান ছিলো। পাশাপাশি ওয়াসিম, ফারুক, রাজ্জাক, আলমগিরও জনপ্রিয়। মান্না স্ট্রাগল করছিলো। নব্বই দশকের কথা। ইলিয়াস কাঞ্চন তুমুল জনপ্রিয়। নামেই সিনেমা হিট। মনে পড়ছে, এমনও হয়েছে, প্রায় সবগুলো হলেই ইলিয়াস কাঞ্চনের সিনেমা একযোগে চলছে। নিজেও তাঁর বেশকিছু সিনেমা হলে বসে দেখেছি। অনেক আগের কথা। সেভাবে সবকিছু আজ আর মনে নেই। তখন মোবাইল, কম্পিউটার, ইন্টারনেট ছিলো না। মানুষের বিনোদনের অন্যতম অনুষঙ্গ ছিলো সিনেমাই। সিনেমা নিয়ে খুব চর্চা হতো। আমি আমার স্কুলের দুজন শিক্ষককে কাছের একটি হলে ইভিনিং শো দেখে ফিরতে দেখেছিলাম। লজ্জায় দৌড়ে পালিয়েছিলাম। শহরজুড়ে নিয়মিত মাইকিং, ক্যানভাস হতো। দলবেঁধে লোকজন সিনেমা দেখতে যেতো। পরিবার পরিজন নিয়েও যেতো বিভিন্ন আলোচিত সিনেমা দেখতে। এরকম একটি সিনেমার কথা মনে পড়ছে, হুমায়ুন আহমেদের ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’। সপরিবারে উৎসবমুখর পরিবেশে হলে গিয়ে উপভোগ করেছিলো সবাই। সড়কে সার বেধে লোকজনকে হল অভিমুখে যেতে দেখেছিলাম ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ দেখতে। শুরুর দিকে হুমায়ুন আহমেদের প্রতিটি সিনেমাতেই এরকম হতো। নারীপুরুষ আবালবৃদ্ধবনিতা সবাই একসাথে হলে গিয়ে উপভোগ করতো। তখন গ্রাম থেকে কোনও আত্মীয় শহরে এলে, প্রথম বায়না ধরতো হলে গিয়ে সিনেমা দেখার। আহা, সময় চলে যায়! মনে হচ্ছে যেন কিছুদিন আগের কথা, অথচ দীর্ঘ সময় কেটে গেছে মাঝে! সর্বত্র কতো কতো পরিবর্তন! ২০০০ সালে ঢাকার শেওড়াপাড়ায় ছিলাম। বিন্দুবৃত্ত গলি। সেখানে মিলেনিয়াম উদযাপন করতে দেখেছি মানুষদের। সে কী উৎসব, আনন্দ, হৈচৈ! মুহুর্মুহু ফটকা ফোটানোর তীব্র আওয়াজ, ঝলমলে আতশবাজি, হৈহল্লা। দীর্ঘসময় ধরে চলেছিলো সে উদযাপন। যাই হোক আবার ইলিয়াস কাঞ্চনে ফিরে আসি। ইলিয়াস কাঞ্চনকে দুয়েকবার কাছ থেকে দেখার সৌভাগ্য হয়েছে আমার। একবার শীতকালে শিল্পকলা একাডেমির প্রধান ফটকে আয়েশ করে চিতই পিঠা ভর্তা দিয়ে খাচ্ছিলেন। দীর্ঘকায় সুদর্শন লোক। স্যুট পরে ছিলেন; লাল বা বেগুনি রঙ; স্যুটে তেমন কমন নয়। সিনেমার নায়ক বলে কথা। ব্যক্তিত্ব, বেশভুষাতেই ফুটে ওঠে। তাঁর চোখ দুটো অদ্ভুত রকমের মায়াময়। বারবার চোখ চলে যায় চোখে। হা হা হা।

(চলবে)

মন্তব্য ৪ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (৪) মন্তব্য লিখুন

১| ০৮ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:০৩

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: বেদের মেয়ে জোছনা দেখেন নাই ? সেটাই সবচেয়ে বেশি হিট ছিলো। ২২ কোটি নাকি কামিয়েছে?

০৮ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৭

অর্ক বলেছেন: তখন আমি মায়ের কোলে। পরেও হয়তো হলে এসেছিলো। আমি দেখিনি। অবশ্যই। সেটা ব্লকবাস্টার হিট সিনেমা। ছোটবেলায় ওইরকম ছবি ভালো লাগতো। দেখলে ভালো লাগতো নিঃসন্দেহে। ছোটবেলায় দেখা কিছু সিনেমার নাম মনে করার চেস্টা করি। সুখের ঘরে দুঃখের আগুন, ময়নামতি, কোবরা, লড়াকু, মাকড়সা, মি মাওলা ইত্যাদি। এর মধ্যে দুয়েকটা ছবি অনিবার্য কারণে পুরো দেখতে পারিনি। হে হে হে।

ধন্যবাদ।

২| ০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৩৫

আলমগীর সরকার লিটন বলেছেন: বেদের মেয়ে জোছনা সিনেমা দিয়েেই ইলিয়াস কাঞ্চন

০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৫৪

অর্ক বলেছেন: ঠিক। ওটা ব্লকবাস্টার হিট। কিন্তু তার আগেও হিট ছবি আছে। ইলিয়াস কাঞ্চন তাঁর সময়ে কবরি ছাড়া সিনিয়র, জুনিয়র সব নায়িকার সঙ্গে জুটি বেধেছেন।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.