| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |

এবারের ছাত্র আন্দোলনের মূল যে দাবি বা উদ্দেশ্য, তা আসলে অত্যন্ত সাধারণ। সে সব সকল মাধ্যমে বহু চর্চিত, প্রচারিত ও আলোচিত। তাই পুনরাবৃত্তি থেকে বিরত থাকছি। আন্দোলনের নেতৃত্ব যারা দিচ্ছে, তাদের আচরণে আমি শুরু থেকেই অত্যন্ত হতাশ ও বিরক্ত। আগাগোড়াই তাদের উদ্দেশ্য দেশকে ব্যাপক অরাজকতার অন্ধকারে নিয়ে যাওয়া। এর মাধ্যমে বর্তমান সরকারকে হঠিয়ে তাদের পছন্দের সেই বাংলাদেশ বিরোধী বিশেষ ধর্মান্ধ, সাম্প্রদায়িক, গোষ্ঠীকে ক্ষমতার মসনদে আসীন করা। সে লক্ষ্যেই প্রথম দিন থেকে এরা তৎপর। শুরুতে বোঝা না গেলেও, সময় গড়ানোর সাথেসাথে সব দিবালোকের মতো পরিষ্কার হয়ে যায়। আগাগোড়াই অসৎ উদ্দেশ্য। কোটা আন্দোলনের আড়ালে অন্য মিশন নিয়ে এরা অগ্রসরমান শুরু থেকেই। এছাড়াও আরেকটা বিষয় দেখে আসছি যে, প্রথম দিন থেকেই এরা অতিমাত্রায় ফুটেজ লোভী। ক্যামেরা মাইক্রোফোন নজরে এলেই হুঁশ হারিয়ে ফেলে। বাংলাদেশের শিক্ষার মানের দূর্দশা বুঝতে এইসব শিক্ষার্থীদের সমঝদারিতা, কথাবার্তা, আচারআচরণই যথেষ্ট। যা দুর্ভাগ্যজনক। অনিচ্ছাসত্ত্বেও বলতে বাধ্য হচ্ছি যে, এদের পারিবারিক শিক্ষাটাও বোধকরি যথাযথভাবে হয়নি। সাধারণ শিষ্টাচার, সৌজন্যতাবোধের অনুপস্থিতি স্বভাবচরিত্রে দৃশ্যমান। সবাই দেখেছেন, প্রধানমন্ত্রী নাহয় বাদই দিলাম; তাদের নানিদাদির বয়সী রাষ্ট্রের একজন সম্মানিত সিনিয়র নাগরিককে উদ্দেশ্য করে যে ভাষায় জনসমক্ষে কটু কথা বলা হয়েছে, আক্রমণাত্মক মনোভাবের প্রদর্শন করা হয়েছে, তা আসলে নজিরবিহীন। এর নিন্দা করবার ভাষা আমার জানা নেই। যতোই করি না কেন, তথাপি অপূর্ণই থেকে যাবে এদের এ বেয়াদবি এ ঔদ্ধত্যের প্রতিবাদ। সত্যি জঘণ্য! ধিক্কার জানাই। একরাশ ঘৃণা। শেখ হাসিনা কখনও এদের রাজাকার বলেননি। যে বক্তব্য নিয়ে তাঁকে আক্রমণ করা হয়েছিলো, তা দেখেছি। সাংবাদিকের সুনির্দিষ্ট প্রশ্নের স্বাভাবিক একটি জবাব ছিলো সেটা যে, মুক্তিযোদ্ধাদের নাতিপুতিরা রাষ্ট্রের বিশেষ সুযোগসুবিধা না পেলে কি রাজাকারের নাতিপুতিরা পাবে! যথার্থ বক্তব্য। ভুল কি আছে এতে? সাংবাদিক মুক্তিযোদ্ধাদের নাতিপুতি উল্লেখ করে দুপক্ষকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে প্রশ্নটি করে বসেছিলো। উপস্থিত উত্তরে সে মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা। ব্যাস, বিষয়টা আসলে ঠিক এতোটুকুই। এটা এতো বিরাট কিছু না যে, একে উপলক্ষ্য করে একেবারে আমি রাজাকার, তুই রাজাকার, আমরা রাজাকার, শেখ হাসিনা স্বৈরাচার শ্লোগান দিয়ে পুরো দেশকে এরকম বেসামাল করে দিতে হবে। এর কোনোই প্রয়োজন ছিলো না। এটা থেকে পরিষ্কার বোঝা যায় যে, মনেপ্রাণে এরা আসলে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী। এরা রাজাকারই। শেখ হাসিনা সরাসরি রাজাকার বললেও, তাদের নিজেদের রাজাকার দাবি করে ওইসব নোংরা শ্লোগান দেয়া কোনওমতেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। যারপরনাই ঘৃণা ও ধিক্কার জানাই। রাজাকার শুধুমাত্র একটি শব্দ নয়। ত্রিশ লক্ষ মানুষের রক্তের দাগ লেগে আছে রাজাকার শব্দে। আড়াই লক্ষ মা বোনের সম্ভ্রমহানির দগদগে ক্ষত, যন্ত্রণা জড়িয়ে আছে রাজাকার শব্দে। মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী, প্রতিক্রিয়াশীল বিশেষ ধ্বংসাত্মক গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত এদের দর্শন, চিন্তাচেতনা। শুরু থেকেই মিথ্যা প্রপঞ্চ নষ্টামি চলে আসছে এবারের তথাকথিত এই কোটা বিরোধী আন্দোলনে। নিঃসন্দেহে অনেক সাধারণ শিক্ষার্থী বিভ্রান্ত হয়েছে। আজ সবার কাছেই আমার জিজ্ঞাসা, কোটা আন্দোলনের নামে সারাদেশে এইসব উগ্রতা হিংস্রতা নাশকতার আদৌ প্রয়োজন ছিলো কি? দেশের প্রতিটি সভ্য বিবেকবান সচেতন নাগরিকের কাছেই প্রশ্নটি রেখে গেলাম। আজকের দিনে মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের দিয়ে কোনও সরকারি চাকরির দু’তিন শতাংশ কোটাও পূরণ করা সম্ভব নয়। স্বাভাবিকভাবে ধরে নেয়া যায় যে, একাত্তরের কিশোর মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদেরও সরকারি চাকরিতে নিয়োগের বয়স পার হয়ে গেছে। তাছাড়া ব্যাপারটা এমনও নয় যে, এই আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীরা মুক্তিযোদ্ধা কোটার জন্য নিজেরা কোথাও কোনও নিয়োগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এরা এখনও শিক্ষার্থী। পড়াশোনা নিয়ে ব্যাস্ত থাকার কথা। কিন্তু তা না করে দিনের পর দিন তুচ্ছ বিষয় নিয়ে সারা দেশ অচল করে দেবার প্রবণতা শুরু থেকেই চলে আসছে এদের মাঝে। যা সম্পূর্ণভাবে অগ্রহণযোগ্য এবং সেই সাথে নিন্দনীয়। তৃতীয় চতুর্থ দিন থেকেই আমার কাছে এদের উদ্দেশ্য দিবালোকের মতো পরিষ্কার হয়ে যায়। যা সৎ তো নয়ই, স্বাভাবিকও নয়। সে সব ইতোমধ্যেই বিস্তারিত আলোচনা করেছি। যাক, কথা আর বাড়াতে চাই না। কথায় আছে সমঝদারের জন্য ইশারাই যথেষ্ট। খুব ভালো চলছিলো বাংলাদেশ। শান্তি স্থিতিশীলতায় সমাজের সকল শ্রেণিপেশার মানুষের সুষ্ঠু সমন্বয়ে দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলছিলো বাংলাদেশ। এ সময় এ তুচ্ছ বিষয় নিয়ে দেশকে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ধ্বংস করবার এ অপচেষ্টাকে তীব্র ধিক্কার জানাই, ঘৃণা জানাই। এখন আর কোটা নেই। ছাত্রদের সবগুলো দাবিই পূরণ হয়েছে। তারপরও এরা আন্দোলনে সরব কেন? এতো অরাজকতা, অশান্তি, দাঙ্গাহাঙ্গামার জন্য উতলাপনা কেন এদের মাঝে? বাংলাদেশ ভালো আছে। বাংলাদেশ সুখে আছে। বাংলাদেশকে আপনারা ভালো থাকতে দিন। এই সুখ-শান্তি, স্থিতিশীলতা নষ্ট করবেন না। বাংলাদেশকে দয়া করে এভাবে পাকিস্তানের মতো ব্যর্থ, অকার্যকর, অরাজক রাষ্ট্রে পরিণত করবেন না। দেশের প্রচারমাধ্যমের কাছেও করজোড়ে অনুরোধ, এখন থেকে এদের ফুটেজ দেয়া একেবারে বন্ধ করে দিন। ক্যামেরা মাইক্রোফোন নিয়ে এদের পিছে ছোটাছুটি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দিন। এদের সব দাবি পূরণ হয়েছে। এখন এ আন্দোলন পুরোপুরিভাবে অর্থহীন। শুধুশুধু ফুটেজ দিয়ে এদের আর মাথায় তুলবেন না। এই ফুটেজখোরদের সম্পূর্ণভাবে বয়কট করুন। এই বিষয় একেবারেই সমাপ্ত হয়ে গেছে। নতুন কিছু নিয়ে মাতুন আপনারা।
১১ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:১৭
অর্ক বলেছেন: এরা বহুরুপী ছিলো, জনগণ বুঝে গেছে। এদের প্রতি আর আগ্রহ নেই কারও। মিডিয়ার জনগণকে নাচানোর গরম গরম ইস্যু চাই। সে সময় প্রতিযোগিতা লেগে গিয়েছিলো এদের নিয়ে। দেশের বিরাট সর্বনাশ হয়েছে। এক মাঘে শীত যায় না। সামনে সব জানা যাবে। কাদের ইন্ধনে কীসের বিপ্লব। কারা পিছন থেকে দেশকে অচল করে দিয়েছিলো সীমাহীন নাশকতা, সহিংসতা করে।
ধন্যবাদ।
২|
১১ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৮
মহাজাগতিক চিন্তা বলেছেন:
পোস্টটি অর্কের লেখা “মতামত পোস্ট: ১ আগস্ট ২৪ এ লেখা: আমার কথা ৯৫ ভাগ মিলে গেছে”। লেখক ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলন সম্পর্কে তাঁর পূর্ববর্তী মূল্যায়ন তুলে ধরে আন্দোলনের নেতৃত্ব, উদ্দেশ্য, কোটা সংস্কার, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন।
বাঁধ ভাঙ্গার আওয়াজ
আপনার জন্য একটি বিস্তারিত, যুক্তিনির্ভর মন্তব্য লিখলাম। এটি পোস্টের বক্তব্যের সঙ্গে সংলাপ তৈরি করবে, তবে লেখকের সঙ্গে ব্যক্তিগত বিরোধে না গিয়ে তাঁর যুক্তিগুলোকে প্রশ্ন করবে।
অর্ক, আপনার লেখাটি মনোযোগ দিয়ে পড়লাম। ১ আগস্ট ২০২৪-এ আপনি যে অবস্থান নিয়েছিলেন, বর্তমান পরিস্থিতির আলোকে সেটিকে পুনর্মূল্যায়ন করে নিজের বক্তব্যের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেছেন। নিজের পুরোনো লেখার সঙ্গে পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ মিলিয়ে দেখার এই উদ্যোগটি আলোচনার যোগ্য। তবে আপনার লেখার কয়েকটি বিষয়ে আমার কিছু প্রশ্ন ও ভিন্নমত রয়েছে।
প্রথমত, কোনো আন্দোলনের পরিণতি কী হয়েছে, তা দিয়ে আন্দোলনের সূচনালগ্নের উদ্দেশ্য সম্পূর্ণভাবে নির্ধারণ করা যায় না। একটি আন্দোলন শুরু হতে পারে নির্দিষ্ট দাবি নিয়ে, পরে রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনে তার পরিসর বাড়তে পারে, নেতৃত্বের পরিবর্তন হতে পারে কিংবা বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তি সেখানে নিজেদের স্বার্থে যুক্ত হতে পারে। কিন্তু পরবর্তী পর্যায়ে কোনো রাজনৈতিক শক্তি আন্দোলনের সুযোগ নিয়েছে বলেই শুরু থেকেই আন্দোলনের প্রত্যেক অংশগ্রহণকারীর উদ্দেশ্য একই ছিল—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য আরও প্রমাণ প্রয়োজন।
আপনি আন্দোলনের নেতৃত্বের উদ্দেশ্য নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। আপনার কাছে তাদের উদ্দেশ্য শুরু থেকেই পরিষ্কার হয়ে থাকলে, সেই সময়কার নির্দিষ্ট বক্তব্য, কর্মসূচি, সাংগঠনিক যোগাযোগ কিংবা কর্মকাণ্ডের উদাহরণ তুলে ধরলে আপনার যুক্তি আরও শক্তিশালী হতো। কারণ রাজনৈতিক বিশ্লেষণে সন্দেহ, অনুমান ও প্রমাণিত তথ্য এক জিনিস নয়।
দ্বিতীয়ত, কোটা সংস্কারের দাবিকে আপনি তুচ্ছ বিষয় হিসেবে দেখেছেন। কিন্তু সরকারি চাকরিতে নিয়োগের সুযোগ, মেধার মূল্যায়ন এবং বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের প্রতিনিধিত্ব—এসব বিষয় তরুণদের ভবিষ্যতের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। কোনো দাবির পক্ষে বা বিপক্ষে মত দেওয়া অবশ্যই সম্ভব; কিন্তু যে বিষয়টি একদল মানুষের কাছে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, সেটিকে তুচ্ছ বলে উড়িয়ে দিলে তাদের ক্ষোভ ও উদ্বেগের প্রকৃত কারণ বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে।
কোনো আন্দোলনের দাবি যৌক্তিক কি না, তা বিচার করতে হবে দাবির বিষয়বস্তু, তথ্য ও নীতিগত ভিত্তির আলোকে। একইভাবে আন্দোলনের নামে সহিংসতা, ভাঙচুর কিংবা নিরীহ মানুষের ওপর আক্রমণ ঘটলে তারও নিরপেক্ষ বিচার হওয়া উচিত। দাবির যৌক্তিকতা এবং আন্দোলনের সময় সংঘটিত অপরাধ—এই দুটি বিষয়কে আলাদা করে দেখাই ন্যায়সংগত।
তৃতীয়ত, আপনি লিখেছেন, শেখ হাসিনা শিক্ষার্থীদের সরাসরি ‘রাজাকার’ বলেননি; বরং সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে মুক্তিযোদ্ধাদের নাতিপুতিরা সুযোগ না পেলে রাজাকারের নাতিপুতিরা পাবে কি না—এমন বক্তব্য দিয়েছিলেন। এখানে বক্তব্যের আক্ষরিক অর্থের পাশাপাশি তার প্রেক্ষাপট, শব্দচয়ন এবং শ্রোতাদের ওপর প্রভাবও বিবেচনা করা দরকার। কোনো বক্তব্যের উদ্দেশ্য যা-ই হোক, সেটি কীভাবে গৃহীত হয়েছে এবং কেন তা প্রতিবাদের উপলক্ষ হয়েছে, সেটিও রাজনৈতিক বিশ্লেষণের অংশ।
আবার শিক্ষার্থীদের ‘আমি রাজাকার’ স্লোগানকে আপনি মুক্তিযুদ্ধবিরোধিতার প্রমাণ হিসেবে দেখেছেন। কিন্তু একটি স্লোগানের অর্থ নির্ধারণের ক্ষেত্রে সেটি কোন পরিস্থিতিতে, কী উদ্দেশ্যে এবং কাকে উদ্দেশ করে ব্যবহার করা হয়েছে, তা জানা জরুরি। কেউ যদি কোনো শব্দকে ব্যঙ্গ, প্রতিবাদ বা রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার জন্য ব্যবহার করেন, তাহলে শুধু শব্দটি দেখেই তাঁর আদর্শ নির্ধারণ করা যায় না। একইভাবে প্রতিবাদের ভাষা আপত্তিকর বা অসম্মানজনক হলে তার সমালোচনা করা যেতে পারে; কিন্তু সেই সমালোচনা যেন সব প্রতিবাদকারীর উদ্দেশ্য সম্পর্কে একক সিদ্ধান্তে পরিণত না হয়।
চতুর্থত, আপনি মুক্তিযুদ্ধের শহীদ ও নির্যাতিত মানুষের স্মৃতির কথা বলেছেন। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, শহীদদের আত্মত্যাগ এবং নির্যাতিত নারীদের বেদনা আমাদের জাতীয় জীবনের গভীরতম বাস্তবতা। এই ইতিহাসের প্রতি শ্রদ্ধা রাখা সবার দায়িত্ব। তবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের পাশাপাশি বর্তমান প্রজন্মের ন্যায়সংগত দাবি, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক অধিকারকেও গুরুত্ব দিতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে সম্মান করা এবং সরকারের কোনো নীতি বা সিদ্ধান্তের সমালোচনা করা পরস্পরবিরোধী নয়।
পঞ্চমত, আপনার লেখায় আন্দোলনকারীদের আচরণ, শিষ্টাচার ও পারিবারিক শিক্ষার বিষয়ে কঠোর মন্তব্য রয়েছে। কোনো ব্যক্তির অশালীন আচরণ বা সহিংস বক্তব্যের সমালোচনা অবশ্যই করা যায়। কিন্তু কয়েকজনের আচরণের ভিত্তিতে একটি বৃহৎ ছাত্রসমাজের পারিবারিক শিক্ষা, চরিত্র কিংবা নৈতিকতা সম্পর্কে সামগ্রিক সিদ্ধান্ত দেওয়া কতটা যুক্তিসংগত? আন্দোলনে অংশ নেওয়া প্রত্যেক শিক্ষার্থী একই রকম চিন্তা, উদ্দেশ্য বা আচরণের অধিকারী ছিলেন না। তাঁদের মধ্যে মতপার্থক্য ও অভিজ্ঞতার বৈচিত্র্য থাকাই স্বাভাবিক।
ষষ্ঠত, আপনি বলেছেন, বাংলাদেশ খুব ভালো চলছিল, শান্তি ও স্থিতিশীলতায় দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছিল। অর্থনৈতিক উন্নয়ন, অবকাঠামো, যোগাযোগব্যবস্থা কিংবা অন্যান্য ক্ষেত্রে অগ্রগতি থাকলে তা স্বীকার করা উচিত। কিন্তু উন্নয়নের পাশাপাশি কর্মসংস্থান, বৈষম্য, প্রশাসনিক জবাবদিহি, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং রাজনৈতিক অংশগ্রহণের প্রশ্নও বিবেচনা করা প্রয়োজন। একটি দেশ অর্থনৈতিকভাবে এগোতে পারে, অথচ তার নাগরিকদের একাংশ কোনো নীতি বা রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার প্রতি অসন্তুষ্ট থাকতে পারে। উন্নয়ন ও অসন্তোষ একই সঙ্গে বিদ্যমান থাকা অসম্ভব নয়।
এখানে সবচেয়ে জরুরি প্রশ্ন হলো, এত বিপুলসংখ্যক মানুষ কেন আন্দোলনে যুক্ত হলেন, পরিস্থিতি কেন ক্রমে সংঘাতমুখী হলো এবং রাষ্ট্র ও আন্দোলনকারী—উভয় পক্ষের ভূমিকা কী ছিল? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে শুধু আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করলেই চলবে না; রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা, রাজনৈতিক নেতৃত্বের বক্তব্য এবং সংঘাতের ধারাবাহিক ঘটনাগুলোকেও নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনা করতে হবে।
আপনি আন্দোলনের নেতৃত্বকে দেশকে পাকিস্তানের মতো ব্যর্থ ও অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করার চেষ্টার জন্য দায়ী করেছেন। এটি অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ। এমন অভিযোগের পক্ষে নির্দিষ্ট প্রমাণ থাকা প্রয়োজন। কোনো আন্দোলনের ফলে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে বলেই তার সব সংগঠক ও সমর্থকের চূড়ান্ত লক্ষ্য দেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করা ছিল—এমন সিদ্ধান্ত প্রমাণ ছাড়া গ্রহণ করা কঠিন।
আমার বিবেচনায়, একটি রাজনৈতিক আন্দোলনের মূল্যায়নে তিনটি প্রশ্ন আলাদা করে দেখা প্রয়োজন: আন্দোলনটি কেন শুরু হয়েছিল, তার গতিপথ কীভাবে পরিবর্তিত হয়েছিল এবং শেষ পর্যন্ত তার রাজনৈতিক ফলাফল কী হয়েছিল। এই তিনটি প্রশ্নের উত্তর এক নাও হতে পারে। আন্দোলনের কোনো দাবি ন্যায্য হতে পারে, সেই আন্দোলনের মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটতে পারে, আবার পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তি তার ফলাফল নিজেদের স্বার্থে ব্যবহারও করতে পারে। একটি সত্য প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে অন্য সত্যকে অস্বীকার করার প্রয়োজন নেই।
আপনি বলেছেন, আপনার পূর্ববর্তী বক্তব্যের ৯৫ ভাগ মিলে গেছে। আপনার কোন কোন নির্দিষ্ট পূর্বাভাস বাস্তব ঘটনার সঙ্গে মিলে গেছে, আর কোনগুলো মেলেনি—সেগুলো পাশাপাশি তুলে ধরলে পাঠকেরা নিজেরাই মূল্যায়ন করতে পারবেন। পূর্বাভাসের সফলতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে শুধু মিলে যাওয়া অংশ নয়, ভুল প্রমাণিত অংশও বিবেচনায় নেওয়া উচিত। তাতে আপনার বিশ্লেষণের বিশ্বাসযোগ্যতা আরও বাড়বে।
সবশেষে বলব, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে। কেউ আন্দোলনকে সমর্থন করতে পারেন, কেউ বিরোধিতা করতে পারেন। কিন্তু কোনো পক্ষকে আগেই দেশবিরোধী, ধর্মান্ধ, সাম্প্রদায়িক কিংবা ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে চিহ্নিত না করে তথ্য, যুক্তি ও প্রমাণের ভিত্তিতে বিচার করাই বেশি দায়িত্বশীল অবস্থান। একই মানদণ্ড সরকার, আন্দোলনের নেতৃত্ব, রাজনৈতিক দল এবং সাধারণ নাগরিক—সবার ক্ষেত্রেই প্রয়োগ করা প্রয়োজন।
আপনার লেখাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ের রাজনৈতিক বিতর্ককে সামনে এনেছে। তবে আমার মনে হয়, আন্দোলনের সমালোচনা করার পাশাপাশি আন্দোলনের পেছনের সামাজিক ও রাজনৈতিক কারণগুলোও অনুসন্ধান করা দরকার। কারণ কোনো আন্দোলনের সব দাবি সঠিক নয়, আবার কোনো আন্দোলনের সব অংশগ্রহণকারীও অসৎ উদ্দেশ্যে পথে নামেন না। সত্যকে বুঝতে হলে আবেগের পাশাপাশি প্রমাণ, আত্মসমালোচনা এবং ভিন্নমত শোনার মানসিকতাও প্রয়োজন।
আশা করি, আপনার পরবর্তী লেখায় নিজের পূর্বাভাসের পক্ষে নির্দিষ্ট তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরবেন এবং একই সঙ্গে বিপরীত দৃষ্টিভঙ্গির যুক্তিগুলোকেও বিবেচনা করবেন। তাতে বিতর্কটি ব্যক্তিগত অবস্থান অতিক্রম করে আরও অর্থবহ রাজনৈতিক বিশ্লেষণে পরিণত হবে।
১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:০৬
অর্ক বলেছেন: আপনার সাথে ঠিক বিরোধ নেই। এগুলো আদর্শ কথাবার্তা। এতে আমারও দ্বিমত নেই। কিন্তু যে সুনির্দিষ্ট ঘটনা নিয়ে লেখা সেটা ছিলো গভীর ষড়যন্ত্র। বহু খেলোয়াড় এতে। প্রচুর অর্থের লেনদেন হয়েছে। আপনি কি বাংলাদেশে থাকেন না! এখন তো সবাই জানে ব্যাপারটা। সে আন্দোলনের সমন্বয়করাও বিভিন্ন সময় বলেছে, দেশি, বিদেশি শক্তি ছিলো আমাদের পিছনে, কয়েকটি দূতাবাসের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ ছিলো, বিরাট ফান্ড ছিলো। এআইয়ের সাহায্য নিতে যেয়ে সব আসলে গুলিয়ে ফেলেছেন আপনি। যে সুনির্দিষ্ট ঘটনা নিয়ে লেখা সেটা কোনও স্বতঃস্ফূর্ত, আদর্শ আন্দোলন ছিলো না। এখানে এআই কি করবে! যাই হোক আপনি আসলে কিছুই জানেন না। সমস্যা এখানেই। সে সময়ও খোঁজখবর রাখেননি। পরবর্তীতেও ঘটনাপ্রবাহের দিকে নজর দেননি। লেখাটা ভালো করে পড়বেন সময় নিয়ে।
ধন্যবাদ।
৩|
১১ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৪১
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: ছাত্র আন্দোলন সামনে আরো হবে । তখন আপনি বলবেন এরা ঠিক কাজ করছে। যেহেতু এবার রাজনীতির সাথে কর্মসংস্থান ইস্যু জড়িয়ে গেছে কারো নিস্তার নাই । ![]()
১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৫৪
অর্ক বলেছেন: হাওয়ায় কিছু বলি না। সব দেখেশুনে বুঝে বিচার বিশ্লেষণ করেই বলি। শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের জায়গায় বিএনপি খালেদা জিয়া হলেও বলতাম, এটা বিরাট ষড়যন্ত্র। আমেরিকার কর্মসংস্থানের অবস্থা কি? সমস্যা আছে, থাকবেও। ধন্যবাদ।
৪|
১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:৫৭
মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন:
আপনি তো বিরাট জোতিষী।
১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৩৬
অর্ক বলেছেন: আপনার কি হায়া শরম নাই! ব্লক করেছিলাম না। কেন চুলকানি মার্কা মন্তব্য করেন। লেখা, লেখকের ভারিক্কি বোঝার ক্ষমতা নেই আপনার। এটা আপনার মতো ওই পাছা মোটা মাথা মোটা বাঙ্গু মোমিনদের লেখা না। বুঝতে পারছিলাম, দেশ জাতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে যাচ্ছে। চেয়েছিলাম যে, সবাই মিলে সাবধান হতে, সচেতন হতে। এই ষড়যন্ত্র যেন সফল না হয়। সে আফসোস থেকে শিরোনাম। এটা হোগলা পাতাখোর মাথায় ঢুকবে না। যাই হোক আমার লেখায় আর মন্তব্য না করাই ভালো সবদিক দিয়ে।
ধন্যবাদ।
©somewhere in net ltd.
১|
১১ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৮
শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু বলেছেন: এনসিপি নেতারা এখন বেঁচে আছে মিডিয়া এবং ইউটিউবারদের দয়ায়। একটা প্রোগ্রাম করলে সেখানে যেকয়জন মানুষ জড়ো হয় তার থেকে মিডিয়ার লোক বেশি থাকে। মিডিয়া এবং জামায়াত এই দুই সাপোর্ট তাদের পিছন থেকে সরে গেলে তখন দেখা যাবে কে সত্যিকারের বেপ্লবী???