| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
জিম করা কি হারাম?
হ্যাঁ, জিম করা হারাম!
যদি জিমে গিয়ে নিজের পেশিবহুল বাহুডোরে কোনো ললনাকে জড়িয়ে ধরেন!
কিন্তু তারপরেও কথা থাকে।
এখানে জড়িয়ে ধরাটা হারাম। জিম করাটা নয়!
অর্থাৎ, জিমে গিয়ে শরীর বানানো, পেশি বানানো, বাইসেপ বানানো—এসবের সঙ্গে হারাম শব্দটা জুড়ে দেওয়ার আগে একটু ভাবতে হবে। কারণ পেশিবহুল বাহু থাকলেই যে সেই বাহুডোরে কোনো ললনাকে জড়িয়ে ধরতে হবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা তো নেই!
ডাম্বেল তোলা আর ললনা তোলা তো এক কথা নয়, ভাই!
কিন্তু সমস্যা হলো, কোনো একটা কাজের সঙ্গে হারাম শব্দটা জুড়ে দিতে পারলেই আমরা যেন একধরনের মানসিক শান্তি পাই। কাজটা কী, কেন করা হচ্ছে, কাজটার সঙ্গে নিষিদ্ধ বিষয়ের সম্পর্কটা কোথায়—এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজার আগেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি।
ফতোয়া রেডি!
কেউ জিমে যায় শরীর সুস্থ রাখতে, কেউ শক্তি বাড়াতে, কেউ নিজের ফিটনেসের জন্য। কিন্তু জিমের নাম শুনেই কারও কারও মনে এমন আশঙ্কা তৈরি হয়, যেন সেখানে ডাম্বেল, বারবেলের পাশাপাশি গোপনে কোনো প্রেমের ষড়যন্ত্রও চলছে!
ভাই, সব পেশির পেছনে প্রেম থাকে না। কোনো কোনো পেশির পেছনে প্রোটিন, পরিশ্রম আর মাসের শেষে জিমের ফি দেওয়ার দুঃখও থাকে!
এবার আসা যাক মূল প্রসঙ্গে।
ধর্মীয় বিধিনিষেধ অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। হারাম-হালালের পার্থক্য বোঝাও জরুরি। কিন্তু কোনো কাজের অপব্যবহার আর কাজটাকেই হারাম বলে দেওয়া তো এক বিষয় নয়।
জিমে গিয়ে কেউ অনৈতিক কাজ করলে সেই কাজের বিধান আর শরীরচর্চার বিধান কি এক হয়ে যাবে?
গাড়ি চালিয়ে কেউ অন্যায় করলে কি গাড়ি চালানোই হারাম হয়ে যায়? ছুরি দিয়ে কেউ অপরাধ করলে কি রান্নাঘরের সব ছুরির বিরুদ্ধে ফতোয়া জারি করতে হবে?
তাহলে জিমের বেলায় যুক্তির এই বিশেষ ব্যায়াম কেন?
মজার ব্যাপার হলো, জিমে যাওয়ার আগেই কেউ কেউ জিমের সম্ভাব্য সব কর্মকাণ্ডের বিচার করে ফেলছেন। কে জানে, হয়তো তাঁদের কল্পনায় প্রতিটি পেশিবহুল বাহুই কোনো না কোনো ললনাকে জড়িয়ে ধরার জন্য ব্যাকুল!
অথচ বাস্তবে একটা ডাম্বেল দিনের পর দিন জিমে পড়ে থাকে। সে কাউকে জড়িয়ে ধরে না, প্রেম করে না, কারও সংসারেও অশান্তি সৃষ্টি করে না। তবু তার উপস্থিতির কারণে জিমের ওপর সন্দেহের বোঝা চাপানোটা বেশ অদ্ভুত নয় কি?
যাঁরা জিম করা নিয়ে দ্বিধায় আছেন, তাঁদের জন্য কথাটা খুব সাধারণ। কোনো কাজের বিধান জানতে হলে কাজটা আসলে কী, সেখানে কী করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় বিধান কী বলছে—সেটা বুঝতে হবে। শুধু আশঙ্কা কিংবা শোনা কথার ওপর নির্ভর করে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়।
আর যাঁরা ফতোয়া দিচ্ছেন, তাঁদের প্রতিও একই কথা। কোনো নির্দিষ্ট পরিবেশে নিষিদ্ধ কিছু ঘটতে পারে বলে সেই পরিবেশের প্রতিটি কাজকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা আর নির্দিষ্ট কাজটির বিধান ব্যাখ্যা করা এক বিষয় নয়।
তবে মুফতি সাহেব হয়তো বলতেও পারেন, অবশ্যই গুনাহ! যদি সেই পেশিবহুল বাহু আর বাইসেপ দেখে ললনারা কাতর হয়ে পড়েন!
দেখেন তো, কী মুসিবতের কথা!
বেচারা গেলেন শরীর বানাতে, আর তাঁর অজান্তেই তাঁর বাইসেপ হয়ে গেল জনমনে অস্থিরতার কারণ!
এখন কথা হলো, ললনারা কাতর হলেই যে জিমওয়ালার অপরাধ হয়ে যাবে, সেই সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে আরও কিছু কথা ভাবার আছে না কি?
নাকি এখন থেকে ডাম্বেল তোলার আগে এটাও নিশ্চিত হতে হবে—বাইসেপের মাপ দেখে কেউ আবার আবেগপ্রবণ হয়ে পড়বেন না তো!
সুতরাং, জিম করা হারাম নয়। হারাম হতে পারে জিমে গিয়ে করা কোনো কাজ।
ডাম্বেলকে আসামি বানানোর আগে অপরাধটা অন্তত চিনে নিন!
নইলে একদিন দেখা যাবে, শরীরচর্চার জন্যও মানুষকে আগে মুফতির কাছে গিয়ে জেনে আসতে হচ্ছে—বাইসেপ বানালে গুনাহ হবে কি না!
— স্বপ্নবাজ সৌরভ
২|
২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৯
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: একদিন দেখা যাবে, শরীরচর্চার জন্যও মানুষকে আগে মুফতির
কাছে গিয়ে জেনে আসতে হচ্ছে
বাইসেপ বানালে গুনাহ হবে কি না!
......................................................................................
মাথাটা কি একদম গেছে ?
আজকাল কিছু মাওলানা ডাক্তার আছে
তাদের এক ফতোয়ায় সব ঠিক হয়ে যাবে ।
৩|
২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩০
আলামিন১০৪ বলেছেন: আমি পড়লাম, জিনা করা কি হারাম
মানুষজন সম্মতিতে আকাম করার অনুমতি চায় ব্লগে
৪|
২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:১০
মাথা পাগলা বলেছেন: জনগণ জিম করে ভন্ড হুজুরদের থাবড়াইতে যা না পারে তাই এই ফতোয়া দিতে চাচ্ছে। বডি বিল্ডিং হারাম কিন্তু নুনুস বিল্ডিংয়ে সোয়াব হবে। জনগণ কি ভোদাই?
©somewhere in net ltd.
১|
২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৭
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: এসব ফতুয়া মানুষ কেয়ার করে না ।