| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
কাজী ফাতেমা ছবি
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। লেখকের অনুমতি ব্যতীত যে কোন কবিতা, গল্প, ছড়া, ছবি পোস্ট করা হতে বিরত থাকবেন।

মাছে ভাতে আমরা ছিলাম বাঙালি,
উনুন ঘরে থাকতো, রঙবাহারী মাছের ডালি
মলা ছিল -:ঢেলা ছিল, ছিল মাছ চেলা,
মাছে ভাতে ছিলাম বাঙালি মেয়েবেলা।
কই ছিল পুকুর ভরা, শিং ছিল ডোবায়
জলে হাঁটলেই মাছেরা - ছুঁয়ে দিত পায়,
ঝাঁক বেঁধে বেড়াতো দারকিনা মাছ
জলে ভরা পুকুরে টেংরা পুটির নাচ।
মাগুর ছিল, আর ছিল টাকি - শোল
মা টাকির পিছনে পোনারা ঘুরতো হয়ে গোল,
জলের উপর কাটতো সাঁতার কানপোনা
ঘাটের পৈঠায় বসে - বেলে মাছের হত স্বপ্ন বোনা।
চান্দা মাছ লুকাতো রোজ কচুরিপানায়
কাটতো সাঁতার পুকুরে জলে মাছেরা আপন ডানায়
ইছা মাছ, পুটি মাছ আহা টুপটাপ শব্দে
খেলতো দিনরাত পুকুরটার মধ্যে।
তেলাপিয়া, আড় মাছ আর ছিল রুই
ঝালেঝুলে মা রানতো সাথে দিত পুঁই,
বাতাসি ছিল বুঝি, ছিল আরও কাতলা,
শীতের সকালে সে মাছের রান্নায় ঝোল হত পাতলা।
মাছগুলো কমে গেল, পুকুরে মাছ নাই
নেই যে ডোবাতেও মাছেদের রোশনাই,
চাষের মাছেতে মজা কী আর মিলে ভাই,
কিনতে গেলে আগুন, বাজারেও শান্তি নাই।
কালের অতলে হারালো রংবাহারি মাছগুলো
ভালোই ছিল, সুখের ছিল বিগত দিনগুলো,
নিয়ামত কমে গেল, পাপ যে বেড়ে গেল
রবের বরকত কমে গিয়ে জীবনও এলোমেলো।
===============================
©কাজী ফাতেমা ছবি
৩০/০১/২৪
২|
৩০ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১০:৩৭
পথের ধূলো বলেছেন: অসাধারণ। সকল দেশি মাছের নামও বলে দিয়েছেন।
৩|
৩০ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১০:৪২
নতুন নকিব বলেছেন:
সুন্দর হয়েছে কবিতা। গভীর আক্ষেপগুলোয় বাস্তবতা উঠে এসেছে। ভালো লেগেছে।
আহ! কোথায় হারিয়ে গেল সেই অফুরন্ত মাছ!
খাল বিল নদী নালা সাগর পুকুর,
মাছে মাছে সবই ছিল টইটম্বুর।
৪|
৩১ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:৪৬
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
হরেক পদের মিঠা পানির মাছ
নিয়ে সুন্দর মনোমুগ্ধ কবিতা
পাঠে হৃদয় মন গিয়েছে ভরে
তবে কিছু বলি সকলের তরে ।
মাছ নিয়ে নেই আর আক্ষেপ
একদিন নদী নালা কাঁদত নীরব তীরে
জাল ফিরত শূন্য, চোখ ভরত হাহাকারে
খাল–বিল–হাওরের বুকে ছিল সংশয়
মাছ ছিল স্বপ্ন, পাতে ছিল অভাবের ক্ষয়।
স্বাধীনতার ভোরে ক্ষুধা ছিল সঙ্গী
মাছের খোঁজে মানুষ ছিল ক্লান্ত ভঙ্গি
খোলা জলে ভরসা, প্রকৃতির দয়া
আজ নয় কাল ছিল আশায় আশায়।
কিন্তু সময় বদলায়, বদলায় মানুষের চিন্তার ধারা
পুকুরে নামল বিজ্ঞান, ঘামে ভিজল চাষির ধরা
কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্য বিভাগের উদ্যোগে
হারাতে বসা স্বপ্ন ফিরে এল নতুন প্রত্যয়ে।
দেশে বিলুপ্তির মুখে পতিত
দেশী জাতের মিঠা পানির মাছ
আজ আর নিঃশব্দ হাহাকার নয়
তাদের উৎপাদন বেড়েছে আশাতীত
গবেষণা আর যত্নে ফিরেছে বিশ্বাস।
অন্য দেশী ছোট মাছ তো আছেই পাশে
শুধু টেংরার গল্পটাই বলি আলাদা ভাষে
নদীনালার কোণায় কোণায় ফিরেছে তারা
একেকটি নাম যেন ইতিহাসের ধারা।
তিস্তা টেংরা, বামন টেংরা,
গাং টেংরা, কেরালা টেংরা,
গুলসা টেংরা, কাবাসী টেংরা,
লুনা টেংরা, বাজুরী টেংরা।
আবার কাবাসী, টেংরা, ডোরা টেংরা
গুড়া টেংরা হারিয়ে যাওয়া কত সুর
আজ পুকুরে, গবেষণায়, চাষির ঘরে
এদের উৎপাদনও বাড়ে বহুদূর।
রুই কাতলা মৃগেল ডাকে স্বপ্নের নাম
পাঙ্গাস আর তেলাপিয়া গড়ে নতুন গ্রাম
বন্ধ জলে শৃঙ্খলা, খোলা জলে সংরক্ষণ
আইন, গবেষণা, হাত ধরাধরি উন্নয়ন।
আজ সংখ্যা কথা বলে নীরব অথচ দৃঢ়,
স্বাধিনতাপুর্ব উৎপাদন ৫ লক্ষ টন হতে
৫০ লক্ষ টন ছাড়িয়ে উৎপাদন অটল স্থির
বিশ্বের বুকে উঠল নাম গর্বের সারিতে
মিঠাপানির মাছে দ্বিতীয় আমরা পৃথিবীতে।
নদী আজও বয়ে যায়, তবে চোখে ভয় নয়
পুকুরে পুকুরে জীবন, পরিকল্পিত এক জয়
পাতে মাছ, মনে সাহস, ভবিষ্যৎ দীপ্ত আশ্বাস
মাছ নিয়ে আর নেই আক্ষেপ ,যদিও দামে নাভিম্বাস
তার পরেও দেশী মাছ নিয়েই গড়ি আত্মবিশ্বাস।
আপনার সুন্দর কবিতাটির জন্য ধন্যবাদ ।
শুভেচ্ছা রইল
©somewhere in net ltd.
১|
৩০ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:৩২
শায়মা বলেছেন: বাহ! কত মাছের নাম জানা গেলো!!!