নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

একজন সুখী মানুষ, স্রষ্টার অপার ক্ষমা ও করুণাধন্য, তাই স্রষ্টার প্রতি শ্রদ্ধাবনত।

খায়রুল আহসান

অবসরে আছি। কিছু কিছু লেখালেখির মাধ্যমে অবসর জীবনটাকে উপভোগ করার চেষ্টা করছি। কিছু সমাজকল্যানমূলক কর্মকান্ডেও জড়িত আছি। মাঝে মাঝে এদিক সেদিকে ভ্রমণেও বের হই। জীবনে কারো বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ করিনি, এখন তো করার প্রশ্নই আসে না। জীবন যা দিয়েছে, তার জন্য স্রষ্টার কাছে ভক্তিভরে কৃতজ্ঞতা জানাই। যা কিছু চেয়েও পাইনি, এখন বুঝি, তা পাবার কথা ছিলনা। তাই না পাওয়ার কোন বেদনা নেই।

খায়রুল আহসান › বিস্তারিত পোস্টঃ

পবিত্র হজ্জ্ব- ২০২৫ এর মায়াময় স্মৃতি….(৮)

১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:১০

আমরা ০৯ জিলহজ্জ্ব/০৫ জুন রাত সাড়ে দশটার দিকে মুযদালিফায় পৌঁছলাম। বাস থেকে নেমেই অযু করে একসাথে দুই ইকামায় মাগরিব ও এশার নামায পড়ে নিলাম। নামাযে ইমামতি করেছিলেন আমাদের দলেরই একজন, লন্ডন থেকে আগত জনাব নাসিম, পিতা আবু যাফর। তার পর হাল্কা কিছু খেয়ে নিয়ে যে যার মত করে পরেরদিন সকালে জামারাতে নিক্ষেপের জন্য ছোট ছোট পাথরখণ্ড সংগ্রহ করে আলাদা করে তিনটি ছোট খালি পানির বোতলে ঢুকিয়ে রাখলাম। মিনায় হজ্জ্বের পরে দুইদিন অবস্থান করলে মোট ৪৯টি পাথরের প্রয়োজন হয়। কিন্তু কোন কারণে তিনদিন অবস্থান করতে হলে আরও ২১টি, অর্থাৎ মোট ৭০টি পাথরখণ্ডের প্রয়োজন হয়। সম্ভাব্য পরের পরিস্থিতিটা সামলানোর লক্ষ্যে আমরাও একেকজন মোট ৭০টি করেই পাথরখণ্ড সংগ্রহ করেছিলাম। উল্লেখ্য যে পাথরগুলোর আদর্শ সাইজ হলো শিমের বিচির সমান। এর চেয়ে বড়-ছোট হলে হাতের মুঠিতে ধরে রাখতে এবং নিক্ষেপ করতে অসুবিধে হয়। কাছাকাছি উচ্চভূমিগুলোর পাদদেশে গিয়ে এই সাইজের পরিষ্কার পাথর যথেচ্ছ সংখ্যক সংগ্রহ করা যায়। কোন ওয়াশরুমের নিকটবর্তী এলাকা থেকে পাথর সংগ্রহ না করাই উত্তম। কোন পাথরের গায়ে ময়লা লাগা থাকলে সেটাকে ধুয়ে নিতে হবে; না থাকলে সেটাকে পরিষ্কার পাথর হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে।

পাকা রাস্তার একপাশে বাসগুলো লাইন করে পার্কিং করে রাখা ছিল, অপর পাশে হাজ্জ্বী সাহেবগণ যে যার মত করে একটা কাপড়ের চাদর অথবা পাতলা সতরঞ্চি (স্লীপিং ম্যাট) বিছিয়ে শুয়ে পড়লেন। মুযদালিফায় একটি রাত “খোলা আকাশের নিচে” ঘুমানো/বসে থাকা/ বিশ্রাম নেয়া হজ্জ্বের একটি পূর্বশর্ত। হাজ্জ্বী সাহেবগণ জাগ্রত প্রতিটি মুহূর্তই ইবাদতে নিমগ্ন থাকতেন। তাই আমরা সবাই সবসময় সতর্ক থাকতাম যেন কেউ কারও অসুবিধা বা বিরক্তির কারণ না হই। অনেকে না শুয়ে হাতে বহন করা চেয়ার-কাম-ওয়াকিং স্টিক এ বসে নীরবে স্রষ্টার ক্ষমা প্রার্থনায় মগ্ন হলেন। শুধুমাত্র বাসচালকগণ ও তাদের সহকারীগণ বাসে বসে এসি চালিয়ে ঘুমিয়ে গেলেন। তাদের মাত্র দুই/ তিনজনের জন্য প্রতিটি বাসের এসি’র ঘরঘর শব্দের মাঝেই হাজ্জ্বীগণ ঘুমাতে/ বিশ্রাম নিতে বাধ্য হলেন। আমিও রাতের ওয়াশরুমের কাজ সেরে অযু করে এসে মাগফিরাতের দোয়া দরুদ পড়তে পড়তে এক কাত হয়ে শুয়ে পড়লাম। কিছুক্ষণ পরেই ঘুমে চোখ বুঁজে এলো।

মুযদালিফা মক্কার নিকটবর্তী, মিনা’র দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত চার কিলোমিটার দীর্ঘ একটি খোলা উপত্যকা। এলাকাটির ক্ষেত্রফল ১২.২৫ বর্গ কিলোমিটার। এলাকাটি আরাফাত পাহাড় ও মিনা’র মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত। আরাফাত ও মিনা’র মত এখানে কোন তাবু’র ব্যবস্থা নেই; খোলা আকাশের নিচেই হাজ্জ্বীগণকে এখানে রাত কাটাতে হয়। শরীর ক্লান্ত থাকায় বাস ও মানুষের চলাচলের শব্দ সত্ত্বেও আমার ঘুমের কোন ব্যাঘাত ঘটেনি। এক সময় আমার ছেলে আমাকে ডেকে তুলে বললো, কিছুক্ষণের মধ্যেই ওয়াশরুমে ও অযুখানায় লম্বা লাইন পড়ে যাবে। আমি যেন তাড়াতাড়ি অযু করে এসে তাহাজ্জুদ ও ফজরের নামাজের জন্য তৈ্রি হয়ে নেই। দ্রুতই তার কথাটা সঠিক প্রমাণিত হলো। অযু করতে করতেই দেখলাম ভীড় অনেকটা বেড়ে গেছে। তাহাজ্জুদের পর ফজরের ওয়াক্তের জন্য অপেক্ষা করতে থাকলাম। ওয়াক্ত হলে উপস্থিত সবাই জামাতবদ্ধ হয়ে ফজরের নামায পড়ে নিজ নিজ বাস সন্ধান করে বাসে উঠে বসলাম। প্রতিটি স্টপেজে সব হুজ্জ্বাজগণকে একত্রিত করে শৃঙ্খলার সাথে বাসে উঠানো ও নামানোর দায়িত্বটা আমাদের মোয়াল্লেম জনাব আব্দুল্লাহ আল মামুন শাহিন সুচারুরূপে পালন করেন। তিনি শৃঙ্খলার সাথে আপোষ করেন নাই, আবার তার আচরণে বিনয় ও শিষ্টাচারেরও অভাব ছিল না। বিশেষ করে বয়স্কদের প্রতি তিনি বেশ যত্নবান ছিলেন।

সূর্যোদয়ের পূর্বেই মুযদালিফার সীমানা ত্যাগ করা আবশ্যক। বাসচালক সে হিসেব কষেই বাস চালানো শুরু করলো। বহু হাজ্জ্বী যানজটে আটকা পড়ার ভয়ে পোটলা পুটলি বাসে রেখে পদব্রজেই রওনা দিলেন। মুযদালিফার সীমানা ত্যাগ করার সময় মনটা মোচড় দিয়ে উঠলো এই ভেবে যে আবার কি কখনো এখানে আসা হবে? প্রায় বিশ পঁচিশ লক্ষ হাজ্জ্বী একসাথে একই গন্তব্যের দিকে অগ্রসর হচ্ছেন, যানজট ও জনজট তো লাগারই কথা; তা ট্রাফিক সিস্টেমকে যতই উন্নত করা হোক না কেন! তাই আমাদেরকেও গন্তব্যের নিকটবর্তী হবার অনেক আগেই বাস ছেড়ে নেমে আসতে হলো। ততক্ষণে রোদ বেশ চাড়া দিয়ে উঠেছে। জনস্রোতের সাথে মিশে আমরা ধীরে ধীরে ‘বড় জামারাত’ বা জামারাত আল আক্বাবা এর দিকে এগোচ্ছি। কাছাকাছি এলে সাতটি পাথরখণ্ড বোতল থেকে বের করে হাতের মুঠিতে নিলাম। যতই জামারাতের নিকটবর্তী হচ্ছিলাম, ততই মানুষের মাঝে পাথর নিক্ষেপের উত্তেজনা বেড়ে যাচ্ছিল। অনেকে অনেক দূর থেকে পাথর নিক্ষেপ করছিল, ফলে সেগুলো লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে মানুষের গায়ে গিয়ে পড়ছিল। আমরা কয়েকজন সে উত্তেজনা দমন করে জামারাতের একেবারে নিকটে গিয়ে সঠিকভাবে লক্ষ্যস্থির করে পাথর নিক্ষেপ করলাম। ফলে পাথরের কোন অপচয় হয় নাই, আমাদের ছোঁড়া পাথর অন্য কারও গায়েও পড়েনি।

জামারাত থেকে ফেরার পথে খুবই ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম। ফলে বিশ্রাম নেয়াটা আবশ্যকীয় হয়ে উঠেছিল। এর পরবর্তী কাজ আপাততঃ দুটো ছিলঃ পশু কুরবানি করা ও তারপর নিজের মাথা মুণ্ডন করা। এ দুটো কাজ করার পর ইচ্ছে করলে গোসল করে এহরাম পরিত্যাগ করে স্বাভাবিক পোষাক পরিধান করা যায়। একই দিনে পরে সুবিধেমত সময়ে মক্কায় গিয়ে হজ্জ্বের ফরয তাওয়াফ ও সা’ঈ করতে হয়। বিশ্রাম নিতে নিতে আমাদের কাছে খবর আসলো যে আমাদের পশু কুরবানি হয়ে গেছে। এই খবর পাওয়ার পর আমরা তিন/চারজন মিলে রওনা হ’লাম কোন একটা সেলনের উদ্দেশ্যে, মাথামুণ্ডনের জন্য। একই দিনে কাছাকাছি সময়ে প্রায় বিশ পঁচিশ লক্ষ হাজ্জ্বী মাথামুণ্ডন করবেন, তাই প্রতিটি সেলনের সামনে স্বাভাবিকভাবেই দীর্ঘ লাইন ছিল। আজকের এই দিনটির জন্য মক্কা ও মিনা’র ক্ষৌরকারগণ মুখিয়ে থাকে। সারা বছরে তারা যা আয় করে, তার সিংহভাগ অংশ আসে এই কয়েকটি দিনে হাজ্জ্বীদের মাথামুণ্ডন বাবদ আয় থেকে। তাই স্বাভাবিকের চেয়ে বহুগুণ বেশি মূল্য চুকিয়ে আমরা ‘আজিজিয়া’য় ফিরে এলাম। সেখানে এহরাম পরিত্যাগ করে গোসল করে নিয়ে স্বাভাবিক পোষাক পরে কাছাকাছি একটা তুর্কী হোটেলে গিয়ে লাঞ্চ করলাম।

ঢাকা
১৫ ডিসেম্বর ২০২৫
শব্দ সংখ্যাঃ ৮২৫

মন্তব্য ৪ টি রেটিং +৬/-০

মন্তব্য (৪) মন্তব্য লিখুন

১| ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:৩০

সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:



খুবই সুন্দর স্মৃতিচারণ, ভাইয়া।

আমার উমরাহ-এঁর কথা মনে করিয়ে দিলো। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের ২৮ তারিখ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, ওইবারের নিউ ইয়ার উদযাপন আল্লাহর ঘরে করবো। ১ দিনের নোটিশে অবশেষে ৩১ ডিসেম্বর সপরিবারে মক্কায় উমরাহ পালন করতে সক্ষম হই! আলহামদুলিল্লাহ। ১ তারিখে নতুন দিনে মক্কার অলিতে-গলিতে পদাচারনা শুরু হয়।

আবার কবে যে যেতে পারবো!

২| ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:৫৪

নতুন নকিব বলেছেন:



মাশাআল্লাহ, আগের পর্বগুলোর মতই হৃদয়ছোঁয়া বর্ণনা। Hajj-এর প্রতিটি ধাপ আপনি যে যত্ন, শৃঙ্খলা ও অনুভূতির সাথে তুলে ধরেছেন, তা আমাদেরকেও যেন সরাসরি Muzdalifah ও Mina-এর প্রান্তরে নিয়ে গেছে। আপনার হজের প্রাণবন্ত বর্ণনা পড়তে পড়তে আমার নিজের হজের স্মৃতিগুলোও মানসপটে ভেসে উঠছে।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আপনার হজ্জ কবুল করুন, আপনার ও আপনার পরিবারের সকল ইবাদত গ্রহণ করুন এবং এই মায়াময় স্মৃতিগুলোকে নাজাতের উসিলা বানিয়ে দিন। আমিন।

এমন সুন্দর, তথ্যসমৃদ্ধ ও আত্মিক অনুভূতিতে ভরা লেখা আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ। আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান প্রদান করুন।

৩| ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৭

এ.টি.এম.মোস্তফা কামাল বলেছেন: ভালো লাগলো আপনার সুন্দর বর্ণনা। মীনা আরাফা আর মুজদালিফায় সিকোন্সেটা খেয়াল করুন। মীনায় তাঁবুর ভিতরে শোয়ার জন্য ফোম আছে। আরাফায় তাঁবুর নীচে কার্পেট। মুজদালিফায় মাটি। ছাদ নেই। তার মানে স্মরণ করিয়ে দেওয়া-পরের পর্ব মাটির নীচে। সোবাহানাল্লাহ।

৪| ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:৩৯

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



পবিত্র হজ্জ্ব-২০২৫ এর এই পর্বটি পড়তে গিয়ে মনে হলো যেন আমিও লেখকের সাথে মুযদালিফার খোলা
আকাশের নিচে সেই পবিত্র রাতটি কাটাচ্ছি। ঘটনাগুলোর সূক্ষ্ম বর্ণনা, বাস্তব অভিজ্ঞতার আন্তরিক উপস্থাপন
এবং আধ্যাত্মিক অনুভূতির মিশ্রণ লেখাটিকে শুধু স্মৃতিচারণ নয়, বরং এক জীবন্ত হজযাত্রার দলিল করে
তুলেছে। বিশেষ করে শৃঙ্খলা, সহমর্মিতা ও ইবাদতমুখর পরিবেশের চিত্র আমাদের হৃদয়ে গভীর প্রশান্তি
জাগায়। এমন লেখা হজের বাহ্যিক কর্মধারা যেমন শেখায়, তেমনি এর অন্তর্নিহিত আত্মিক সৌন্দর্যও
অনুভব করায়।

লেখাটিতে থাকা কিছু কথামালা যেমন যথাস্থানে পৌঁছানোর অনেক আগেই আবেগ তারিত হয়ে পিছন থেকে
কিছু মানুষের নিক্ষেপ করা পাথর টুকরা ( যদিও পাথরগুলি মটর দানার মত ছোট আকারের হয়ে থাকে) সামনে
থাকা অনেকের গায়ের উপর পরেছে । এতে করে বিশেষ কেহ কেহ মনে করতে পারেন যে সন্মুখে থাকা লোকগুলি
কি তবে শয়তান ছিল যার পিঠের উপর পাথর পরেছে ( নাউযুবিল্লাহ) । তাই বিষয়টিকে একটু খোলাসা করার
নিমিত্ত এই পাথর নিক্ষেপ সম্পর্কে কিছু কথা এখানে এই মন্তব্যের ঘরে যুক্ত করে গেলাম।

হজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি আমল হলো রামী আল-জামারাত অর্থাৎ নির্দিষ্ট স্থানে পাথর (ডিল) নিক্ষেপ করা।
এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো বড় জামারত বা জামারাত আল-আকাবা-এ ডিল নিক্ষেপ করা। নিচে এর
ইতিহাস,ধর্মীয় তাৎপর্য, প্রতীকী অর্থ এবং হজের প্রেক্ষাপটে কিছু প্রাসঙ্গিক কথা একটু বিস্তারিতভাবে বলা গল ।

প্রথমেই জামারাত কী সে বিষয়েই কথা বলা যাক । জামারাত হল মক্কার নিকটবর্তী মিনা এলাকায় তিনটি নির্দিষ্ট
স্তম্ভ বা চিহ্ন রয়েছে, যেগুলোকে বলা হয় ১)ছোট জামারত (জামারাত সুগরা)২) মাঝারি জামারত (জামারাত উস্তা)
৩)বড় জামারত (জামারাত আল-আকাবা)হাজিগণ নির্দিষ্ট দিনে এই তিন স্থানে ছোট ছোট পাথর নিক্ষেপ করেন।
তবে ঈদুল আযহার দিনে প্রথম যে কাজটি করা হয়, তা হলো বড় জামারাতে ডিল মারা।

এর পটভুমিতে রয়েছে ঐতিহাসিক হযরত ইবরাহিম (আ.)-এর ঘটনা।এই আমলের মূল উৎস হলো হযরত
ইবরাহিম (আ.), তাঁর পুত্র ইসমাইল (আ.), এবং শয়তানের ঘটনাটি।
ঘটনাটি সম্পর্কে সংক্ষেপে বলা যায় যখন আল্লাহ তাআলা ইবরাহিম (আ.)কে স্বপ্নে তাঁর প্রিয় পুত্রকে কুরবানি করার
নির্দেশ দিলেন তখন তিনি আল্লাহর আদেশ পালন করতে মিনার দিকে রওনা হন। পথে শয়তান তিনবার এসে
তাঁকে বাধা দেয়।শয়তান তাঁকে আল্লাহর আদেশ পালন থেকে বিরত রাখতে চেষ্টা করে।তখন ইবরাহিম (আ.)
শয়তানকে তাড়ানোর জন্য পাথর নিক্ষেপ করেন।তিনটি আলাদা স্থানে এই ঘটনা ঘটে।সেই তিন স্থানই
আজকের তিন জামারাত।বড় জামারাত হলো সেই স্থান যেখানে শয়তানকে শক্তভাবে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল।

হজব্রত পালনকারীদের ডিল নিক্ষেপ করার মূল উদ্দেশ্য সমুহ হল; (ক) শয়তানকে প্রতীকীভাবে প্রত্যাখ্যান
করা এটি বাস্তবে শয়তানকে মারার জন্য নয় বরং প্রতীকী ঘোষণা আমি শয়তানের প্ররোচনা প্রত্যাখ্যান করছি।
অর্থাৎ অহংকার, লোভ,কামনা,পাপপ্রবণতা প্রভৃতির বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রতীক।(খ) আল্লাহর আদেশের প্রতি নিঃশর্ত
আনুগত্য প্রকাশ করা ।ইবরাহিম (আ.) যুক্তি নয়, আল্লাহর নির্দেশকে অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন।ডিল নিক্ষেপ
মানে হে আল্লাহ, আমিও আপনার আদেশ মানতে প্রস্তুত।(গ) আত্মসংযম ও নফসের বিরুদ্ধে সংগ্রাম।

ইসলামে সবচেয়ে বড় জিহাদ হলো নিজের নফসের বিরুদ্ধে সংগ্রাম।ডিল মারার সময় হাজিগন মনে করেন
প্রতিটি পাথর নিক্ষেপ সমান একটি পাপ বা দুর্বলতা ত্যাগ করা , প্রতিটি নিক্ষেপ সমান আত্মশুদ্ধির অঙ্গীকার।
বড় জামারাত বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ । ঈদুল আযহার (১০ জিলহজ) দিনে হাজিরা প্রথমে বড় জামারাতে ৭টি পাথর
নিক্ষেপ করেন।এটি হজের একটি ওয়াজিব আমল।এরপর কুরবানি ও মাথা মুন্ডন করা হয়।এটি প্রতীকীভাবে
বোঝায় শয়তানকে প্রত্যাখ্যান,তারপর আত্মত্যাগ(কুরবানি) এরপর নতুন পবিত্র জীবন শুরু।

পাথর নিক্ষেপ প্রকৃতপক্ষে নিয়মের ভেতরের কিছু মুল্যবান শিক্ষা , বাহ্যিক কাজ ছোট পাথর নিক্ষেপ হলেও
অভ্যন্তরীন শিক্ষা অহংকার নয় বিনয়,নির্দিষ্ট সংখ্য(৭) শৃংখলা ও আনুগত্য। আধ্যাত্মিক ভাবনায় পাথর নিক্ষেপ
শুধু একটি শারীরিক কাজ নয় এটি আত্মার বিপ্লব।প্রতিটি পাথর নিক্ষেপ একটি শয়তানি প্রবৃত্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ
পাথরকে প্রতিক হিসাবে ধরা যায় ; ১মটি অহংকার দুর,২য় টি রাগ নিয়ন্ত্রন , ৩য় টি লোভ ত্যাগ, ৪র্থটি হিংসা
দূর , ৫ম টি গুনাহ পরিত্যাগ, ৬ষ্ট টি দুনিয়াপ্রীতি কমানো , ৭মটি আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পন ।

এই আমল স্মরণ করায় হযরত ইবরাহিম (আ.)-এর দৃঢ় ঈমান।বার্তা হলো আল্লাহর পথে বাধা এলে আমি
শয়তানকে প্রত্যাখ্যান করব।নিজের নফসকে লক্ষ্য করে নিক্ষেপ ।আসল শয়তান তিন রূপে আসে;সন্দেহ
তথা ওয়াছোয়াছা, ভয়, দুনিয়ার মোহ। তাই ডিল নিক্ষেপ মানে নিজের ভিতরের অন্ধকারকে আঘাত করা।
এর গভীর তাসাউফি ব্যাখ্যা হিসাবে কিছু আলেম বলেন; কাবা বলতে আল্লাহর প্রেম, আরাফাত বলতে
আত্মসমর্পণ, কুরবানি মানে ত্যাগ আর জামারাত হল শয়তানের বিরোদ্ধে ঘোষনা তথা আত্মশুদ্ধির যুদ্ধ
অর্থাৎ হজ হলো আত্মার পুনর্জন্ম।

আমি সর্বান্তকরনে বিশ্বাস করি পবিত্র হজ সমাপনান্তে আপনি আত্মশুদ্ধির যুদ্ধ জয় করে এসেই আমাদের তরে
আপনার পবিত্র হজব্রত পালনের সময় অর্জিত মুল্যবান অভিজ্ঞতা সমুহ আমাদের সাথে শেয়ার করেছেন ।
তাই মিনতীরেখে গেলা পরিশুদ্ধ আত্মা নিয়ে আপনি আমার এই দীর্ঘ মন্তব্যের ঘরে কোন ভুল ভ্রান্তি হলে
মার্জনার চোখে দেখবেন ।

শুভেচ্ছা রইল ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.