নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমি আমাদের কথা বলতে এসেছি। আমি বাংলাদেশের কথা বলবো।আমি পৃথিবির অবহেলিত মানুষের পক্ষে ।জয় বাংলার প্রতিটি শহিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে। ৭১-এর স্বাধীনতা রক্ষায় জিবন বাজী রেখে লড়াই করে যাবো।জিবনের শেষ রক্ত বিন্দু দিয়ে ।জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু ।

ক্লোন রাফা

আমি নিরপেক্ষ নই । আমি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে।

ক্লোন রাফা › বিস্তারিত পোস্টঃ

রাজাকারনামা-২ (অপরাধির জন্য আমাদের,মানবতা ! বিচিত্র এই দেশের মানুষ!!)

১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:৫৫



সনজীদা খাতুন তখন ইডেন কলেজে কর্মরত ছিলেন । ইডেনের মেয়েরা 'নটীর পূজা' নামে একটা নাটক করেছিলো। সেই নাটকে একেবারে শেষের দিকে একটা গান ছিলো। তিনি ছাত্রীদের সেই গানটা শিখিয়েছিলেন। এর বাইরে নাটকের সাথে তাঁর অন্য কোনো সম্পৃক্ততা ছিলো না।

সম্পৃক্ততা না থাকলেও, এই নাটকের কারণে তাঁকে রংপুর কারমাইকেল কলেজে বদলি করে দেওয়া হয়। ইডেনের প্রিন্সিপ্যালের কাছে অভিভাবকরা এই মর্মে অভিযোগ করেছিলেন যে ছাত্রীরা ওই নাটকে ঘণ্টা বাজিয়ে পূজো করছে।

ঢাকায় পরিবার-পরিজন ফেলে রেখে সনজীদা খাতুন চলে যান রংপুরে। সেখানে তিনি যে বাড়িতে থাকতেন, সেই একই বাড়িতে রসায়ন বিভাগের তরুণ শিক্ষক কালাচাঁদ রায়ও থাকতেন। কালাচাঁদ বাবুর ছোট্ট সংসার। স্ত্রী মঞ্জুশ্রী আর এক মেয়ে সন্তান।

একাত্তর সালের মার্চ মাসে স্কুল কলেজ সব বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো। সনজীদা খাতুন ঢাকায় ফিরে আসেন মার্চ মাসের দশ তারিখে। পঁচিশে মার্চ পাকিস্তান আর্মির ক্র্যাক ডাউনের পর সীমান্ত পেরিয়ে চলে যান ভারতে। অন্যদিকে কালাচাঁদ বাবু চলে যান গাইবান্ধায়। ভারতে যাবার ব্যাপারে তাঁর আগ্রহ ছিলো না। তিনি মনে করেছিলেন নকশাল আন্দোলনের কারণে পশ্চিম বঙ্গ অনিরাপদ জায়গা। এর চেয়ে দেশের মাটিতেই থাকা ভালো।

অল্প কিছুদিন পরে সরকার যখন সবাইকে কাজে যোগ দিতে বললো, তিনি রংপুরে ফিরে যান কর্মস্থলে। স্ত্রী আর বাচ্চাদের অবশ্য রেখে গিয়েছিলেন তিনি গাইবান্ধায়। কিন্তু, তাঁর স্ত্রী মঞ্জু স্বামীকে ছাড়া থাকতে পারবেন না বলে, তিনিও একদিন বাচ্চাদের নিয়ে রংপুরের দিকে রওনা দেন। এর পরই ভয়াবহ এক বিপর্যয় নেমে এসেছিলো তাঁদের জীবনে। এই দম্পতির ভাগ্যে কী ঘটেছিলো, সেটা সরাসরি সনজীদা খাতুনের লেখা "সাংস্কৃতিক মুক্তির সংগ্রাম" বই থেকে তুলে দিচ্ছি আমি। তিনি লিখেছেন,

“তখন আমি ছেলেমেয়েদের নিয়ে কলকাতায় কর্নফিল্ড রোডের এক বাসায় আছি। রাখি চক্রবর্তী এসেছিল দেখা করতে। চলে যাওয়ার সময় যখন তাকে এগিয়ে দিতে গেছি তখন হঠাৎ বলল, ‘মঞ্জুর খবর তো জানেন, কলকাতার কাগজেও বেরিয়েছে'।। বুকে হাত চেপে জিজ্ঞেস করলাম, কী? বলল, ‘পড়েননি? ওদের স্বামী-স্ত্রীকে নিয়ে গিয়ে দমদমার ব্রিজের কাছে গুলি করে মেরে পুঁতে রেখেছিল। মঞ্জুর কোমর পর্যন্ত নিচের দিকটা মাটিতে পোঁতা। ঊর্ধ্বাঙ্গে কোনো আবরণ ছিল না। পাশবিক অত্যাচারের পর হত্যা।' একমুহুর্তের জন্য জ্ঞান হারিয়ে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বালিকা কন্যার ঘাড়ে ঢলে পড়েছিলাম।"

কালাচাঁদ বাবুর কাছে যে কেমিকেলস পাওয়া গিয়েছিলো, যেটা মূলত জমিতে ব্যবহার করা সার। ওটা দেখেই পাকিস্তান আর্মি ভেবে নিয়েছিলো বোমা বানানোর সরঞ্জাম রয়েছে তাঁর বাড়িতে। এই অপরাধে তুলে নিয়ে যতে চেয়েছিলো তাঁকে। মঞ্জু তখন প্রবলভাবে বাধা দেন। তিনি স্বামীকে আঁকড়ে ধরে থাকেন। মঞ্জুর কাছ থেকে কালাচাঁদ বাবুকে আলাদা করতে না পেরে, দু'জনকেই তুলে নিয়ে যায় তারা।

শুধু কালাচাঁদ বাবু একা নন, তিনিসহ চারজন হিন্দু শিক্ষককে পাকিস্তান আর্মি সেদিন তুলে নিয়ে গিয়েছিলো। বাকি তিনজন হচ্ছেন, চিত্ত রঞ্জন রায়, সুনীল বরণ চক্রবর্তী এবং রাম কৃষ্ণ অধিকারী। পাকিস্তান আর্মিকে কারমাইকেল কলেজে ডেকে নিয়ে এসেছিলো ইসলামি ছাত্র সংঘ। এরা ছিলো জামায়াতে ইসলামির ছাত্র সংগঠন। এদেরই উত্তরসূরি হচ্ছে আজকের দিনের ইসলামি ছাত্র শিবির।

ওই সময় রংপুর জেলা ইসলামি ছাত্র সংঘের প্রেসিডেন্ট ছিলো এটিএম আজহারুল ইসলাম।

২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এটিএম আজহারুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলো। এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়। সেই আপিলের রায় বের হয় ২০২০ সালের মার্চ মাসে। জুলাই মাসে তার আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন রিভিউ চেয়ে আবেদন করেন।

এই রিভিউ এর সিদ্ধান্ত সৌভাগ্য বয়ে নিয়ে আসে এটিএম আজহারুল ইসলামের জীবনে। আদালতের দীর্ঘসূত্রিতার কারণে কয়েক বছরেও সে রিভিউ এর ফলাফল আসে না। এর মধ্যে পালটে যায় সরকার। নতুন যে সরকার আসে, সেটা রাজাকার-বান্ধব সরকার। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ সর্বসম্মতি ক্রমে সব অপরাধ অস্বীকার করে তাকে খালাস করে দেয়।

একাত্তরের সব দায় থেকে মুক্তি পেয়ে এই যুদ্ধাপরাধী থেমে থাকে না। সংসদ নির্বাচনেও দাঁড়িয়ে যায়। বাংলাদেশের কৃতজ্ঞ জনতা তাকে ভোট দিয়ে সংসদ সদস্য হিসাবেও নির্বাচিত করে ফেলে। যার বহু আগেই ফাঁসি হয়ে যাবার কথা ছিলো ঘৃণ্য অপরাধের কারণে, সেই লোক এখন শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত সংসদ ভবনে বসে দেশের মানুষের জন্য আইন প্রণয়ন করবে।

এই সংসদে শুধু এটিএম আজহারুল ইসলামই যে নির্বাচিত হয়েছে তা নয়, আরও চারজন যুদ্ধাপরাধীর পুত্রও নির্বাচিত হয়েছে। বাবার অপরাধে ছেলেদের দোষী করাটা ঠিক না। কিন্তু, সমস্যা হচ্ছে আমাদের দেশে যুদ্ধাপরাধী রাজাকারদের ছেলেমেয়েদের মধ্যে বাবার অপরাধের জন্য সামান্যতম অনুতাপ নেই। তারা প্রত্যেকেই গর্বিত তাদের বাবাদের জন্য এবং বাবাদের আদর্শকেই তারা অন্তরে ধারণ করে।

গণতন্ত্রের যেমন অসংখ্য ভালো দিক আছে, তেমনি এর নেতিবাচক দিকও রয়েছে। জনগণের ভোটে বরাহ শাবকরাও নির্বাচিত হয়ে যেতে পারে এই রাজনৈতিক ব্যবস্থায়।

হায় আমার বাংলাদেশ, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারও করতে পারি না। তথাকথিত মানবতার দোহাই দেয়!

মন্তব্য ১৫ টি রেটিং +৩/-০

মন্তব্য (১৫) মন্তব্য লিখুন

১| ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:৫৬

অল্প বিদ্যা ভয়ংকর বলেছেন: সুন্দর পোস্ট।

তারেক রহমানের, শফিক-নাহিদের সাথে সাক্ষাত কিভাবে দেখছেন?

১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৮:২১

ক্লোন রাফা বলেছেন: আমাদের এডমিনিস্ট্রিশনে চুক্তি ভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ার একটা প্রক্রিয়া আছে। এবারের এই সিলেক্টিভ সরকারে সেই প্রক্রিয়া দেখতে পাবেন।
তারেক জিয়া বাংলাদেশ থেকে এবং রাজনীতি থেকে বিদায় নিয়েছিলেন মুচলেকা দিয়ে। এবং ফিরতে হয়েছে আরেক মুচলেকায়। তারই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে আপাতত।

২| ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:০৪

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: শুধু এটিএম আজহারুল ইসলামই যে নির্বাচিত হয়েছে তা নয়,
আরও চারজন যুদ্ধাপরাধীর পুত্রও নির্বাচিত হয়েছে।

..................................................................................
বাতাস ঘুরে গেলে অজানা কিছু বেরিয়ে আসে অন্ধকার থেকে ।
ভালো না মন্দ সময় বিচার করবে ।

৩| ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:১৪

জ্যাক স্মিথ বলেছেন: এভাবে এদের মুখোশ উম্মোচন করে দিতে হবে।

১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৪

ক্লোন রাফা বলেছেন: এটা দেখুন-https://youtube.com/shorts/ppt6pIjVWdU?si=53vLj4QZT2SWMeZ1

৪| ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:১৭

আমি নই বলেছেন: এর জন্যে আপনাদের দায়ও কম নয়। প্রতিপক্ষকে ঝোলানোর জন্য বিচারের কোন মানই ফলো করেন নাই। এই আজহারুল ইসলামের শাস্তি যে সাক্ষীর সাক্ষে হয়ছিল তিনি নাকি ৫ না ৬ কিলোমিটার দুরে থেকে দেখে তাকে চিনেছিলেন। অথচ একজন সুষ্থ মানুষ সর্বোচ্চ ১০০ মিটার পর্যন্ত ভালো ভাবে পরিচিত মানুষকে চিনতে পারে। যেখানে ৫০০ মিটার দুরের কাউকে দেখে চেনা সম্ভব না, সেখানে বিচারকরা ৫-৬ কিলো মেনে রায় দিয়েছিল। ফলাফল আগের দুই রায় বাতিল করে বর্তমান আপিল বিভাগ বলেছে, "আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অতীতের বিচারে আন্তর্জাতিক আইনের মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়নি। যে সমস্ত তথ্য প্রমাণ এই মামলায় ছিল, তা অতীতের আপিল বিভাগ সঠিকভাবে বিবেচনা করতে ব্যর্থ হয়েছে।"

১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৮:১৩

ক্লোন রাফা বলেছেন: ⬇️উত্তর

৫| ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৮:০৬

ক্লোন রাফা বলেছেন: একেবারে সঠিক বলেছেন/ শতভাগ দায় আমাদের। কারন আমরা মুক্তিযোদ্ধা এবং যুদ্ধের ইজারাদার। আপনাদের ভাষায় চেতনা ব‍্যবসায়ি।কাজেই সব দায় শুধুমাত্র আমাদের। কোনো যুদ্ধাপরাধের বিচারের প্রক্রিয়া কি আপনি দেখেছেন কিংবা কোথাও ডকুমেন্ট হিসেবে কিছু পড়েছেন! আমার ধারনা কোনটাই নেই আপনার। এই বিচার কখনোই গতানুগতিক আইন দ্বারা করা সম্ভব নয় বলেই বিশেষ আদালত এবং আইন করা হয়েছে।
নুরেমবার্গ্ ট্রায়াল হলো একটি যুদ্ধাপরাধের বিচার করার উদাহরণ। সেই বিচারে এই কিছুদিন পূর্বেও বিচার করে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে শুধুমাত্র সৈনিক ছিলো এই কারনে। হত‍্যা কিংবা অন্য কোনো অপরাধ করেছে কিনা তা জানার বিন্দুমাত্র প্রয়োজন মনে করেননি।
আর এই রাজাকার’তো একটি বাহিনীর আন্চলিক প্রধান । চল্লিশ বছর পূর্বে সংগঠিত প্রমাণিত সত্য অপরাধের বিচার করা কি এতই সহজ। ঐ নুরেমবার্গ ট্রায়ালের চেয়ে হাজার গুন স্বচ্ছ হয়েছে আমাদের বিচার প্রক্রিয়া।

৬| ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:১৩

রাজীব নুর বলেছেন: পাকিস্তান থেকে আমরা আলাদা হয়ে গেছি।
কিন্তু পাকিস্তানের জারজ আমাদের দেশে রয়ে গেছে অনেক।
ব্যারিস্টার ফুয়াদ থেকে আসিফ। এদের সাথে লড়াই অব্যহত রাখতে হবে।

৭| ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:০৩

আমি নই বলেছেন: আর এই রাজাকার’তো একটি বাহিনীর আন্চলিক প্রধান । চল্লিশ বছর পূর্বে সংগঠিত প্রমাণিত সত্য অপরাধের বিচার করা কি এতই সহজ। ঐ নুরেমবার্গ ট্রায়ালের চেয়ে হাজার গুন স্বচ্ছ হয়েছে আমাদের বিচার প্রক্রিয়া।

জী না, আপনারা বিচার ব্যাবস্থাকে জোকে পরিনত করেছিলেন। আপনাদের মুল লক্ষই ছিল প্রতিপক্ষকে ঝোলানো। স্কাইপ কেলেংকারীতে সব প্রকাশ হয়ে গেছিল, কিন্তু তারপরেও বিচার ব্যাবস্থার উন্নয়ন করার বদলে আপনারা স্কাইপের অডিও প্রকাশ করল কে সেটা নিয়ে ব্যাস্ত হয়েছিলেন। বিচার করা সহজ নয় দেখে মিথ্যা সাক্ষী দিয়ে বিচার সম্পুর্ন করতে হবে?? কি আজব।

যেখানে লাখ লাখ মুক্তিযুদ্ধের সময়ের মানুষ, হাজার হাজার মুক্তিযোদ্ধা জীবিত সেখানে ৬ কিলোমিটার দুরে থেকে দেখে চেনার মত আজগুবি সাক্ষির প্রয়োজন ছিলনা, এটা হয়েছে কারন আপনারা দলীয় বিবেচনায় অদক্ষ, অকর্মা তদন্তকারি এবং আইনজীবি নিয়োগ দিয়েছিলেন। তারা যদি একটু কষ্ট করত তাহলে সত্যিকার প্রমানই পেয়ে যেত, কিন্তু ঐযে ১ নাম্বার বলেছে তারাতারি ঝুলাতে হবে, সে জন্যে বাস্তব অবাস্তব বিবেচনায় না নিয়ে রায় দিয়েছে। যখন তাদের জোকারি বাহিরে প্রকাশ হচ্ছিল তখন সংবাদ প্রকাশের উপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল।

নুরেমবার্গ্ ট্রায়াল হলো একটি যুদ্ধাপরাধের বিচার করার উদাহরণ। সেই বিচারে এই কিছুদিন পূর্বেও বিচার করে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে শুধুমাত্র সৈনিক ছিলো এই কারনে। হত‍্যা কিংবা অন্য কোনো অপরাধ করেছে কিনা তা জানার বিন্দুমাত্র প্রয়োজন মনে করেননি।

তাই নাকি? আপনারা পারেনও ভাই। এখানে আপনি যা করলেন সেটাই আপনারা বিচারের সময়েও করেছিলেন। উল্টা-পাল্টা তথ্য-প্রমান দিয়েছিলেন যার কারনে বিচারটাই জোকে পরিনত হয়েছিল। খবরের লিংকটা দেন দেখি কোথায় শুধুমাত্র সৈনিক হওয়ার কারনে ফাসি দেয়া হয়েছিল।

যাইহোক, নুরেমবার্গ ট্রায়ালে শক্ত প্রমান ছারা কাউকেই শাস্তি দেয়া হয় নাই। প্রতিটি আসামীর বিরুদ্ধে চারটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছিল: শান্তির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, শান্তির বিরুদ্ধে অপরাধ, যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ। হাজার হাজার নাৎসি সৈনিক এবং কর্মকর্তা যুদ্ধের পর কোনো শাস্তিই পাননি কারণ তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অপরাধের প্রমাণ ছিল না, অনেক যুদ্ধাপরাধী কখনো বিচারের সম্মুখীনই হননি, ১৯৫০-এর দশকে অনেক দোষী সাব্যস্তকে মুক্তি দিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সুতরাং শুধুমাত্র সৈনিক ছিলো এই কারনে ফাসি দিয়েছে দাবীটা সম্পুর্ন মিথ্যা হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

শেষ কথাঃ সুনির্দিষ্ট সাক্ষি-প্রমানের ভিত্তিতে রাজাকারদের বিচার দাবী আমৃত্যু থেকে যাবে।

১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭

ক্লোন রাফা বলেছেন: ⬇️

৮| ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৪৬

ক্লোন রাফা বলেছেন: আপনি আসলেই মিথ্যাবাদি , শুধু প্রহরী এই অপরাধেই শাস্তি হয়েছে-/ আপনারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দাবীদার মনে করেন। তাহলে মাত্র একটা বিচার করে দেখান । কিভাবে সঠিক বিচার করতে হয়।এবং এই কমেন্টেও বললেন এই বিচারের দাবী থাকবেই। তার অর্থ বিচার করার সাধ্য এবং ইচ্ছা কোনোটাই নেই।সেই ত্যানা পেচানো চলছে চলবে অনন্তকাল।তবে , কিন্তু , যদি হাবলা হাবলা...

*কিছু উল্লেখযোগ্য বিচার:*

- *নুরেমবার্গ ট্রায়াল*: ১৯৪৫-১৯৪৬ সালে জার্মানির নুরেমবার্গে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ২২ জন উচ্চপদস্থ নাৎসি নেতাকে বিচার করা হয়।
- *ইচম্যান ট্রায়াল*: ১৯৬১ সালে ইসরায়েলে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে অ্যাডলফ ইচম্যানকে হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য বিচার করা হয়।
- *ফ্রাঙ্কফুর্ট অশউটজ ট্রায়াল*: ১৯৬৩-১৯৬৫ সালে জার্মানিতে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে অশউটজ কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পের ২২ জন প্রহরীকে বিচার করা হয়।

৯| ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:৩২

রাসেল বলেছেন: বিচারপতি মানিক কোন ক্লাসের মানুষ, বাংলাদেশের প্রায় সকলেই জানে।

১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৬

ক্লোন রাফা বলেছেন: Click This Link

১০| ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৭

আমি নই বলেছেন: ক্লোন রাফা বলেছেন: আপনি আসলেই মিথ্যাবাদি , শুধু প্রহরী এই অপরাধেই শাস্তি হয়েছে-/ আপনারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দাবীদার মনে করেন। তাহলে মাত্র একটা বিচার করে দেখান । কিভাবে সঠিক বিচার করতে হয়।এবং এই কমেন্টেও বললেন এই বিচারের দাবী থাকবেই। তার অর্থ বিচার করার সাধ্য এবং ইচ্ছা কোনোটাই নেই।সেই ত্যানা পেচানো চলছে চলবে অনন্তকাল।তবে , কিন্তু , যদি হাবলা হাবলা...

কি মিথ্যা বললাম? আপনার কাছেতো লিংক চাইলাম, আমাকে মিথ্যাবাদী প্রমান করুন। উল্টা নিজেকে মিথ্যাবাদী প্রমান করলেন। যদি নুরেমবার্গ ট্রায়ালে ২২ জন উচ্চপদস্থ নাৎসি নেতার বিচার করা হয়ে থাকে তাহলে কেন দাবী করলেন "সেই বিচারে এই কিছুদিন পূর্বেও বিচার করে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে শুধুমাত্র সৈনিক ছিলো এই কারনে। হত‍্যা কিংবা অন্য কোনো অপরাধ করেছে কিনা তা জানার বিন্দুমাত্র প্রয়োজন মনে করেননি।"??

ফ্রাঙ্কফুর্ট অশউটজ ট্রায়ালঃ এখানেও কাউকেই শুধু সৈনিক/প্রহরী হওয়ার জন্যে ফাসি দেয়া হয়নি। এই বিচারে কাউকে মৃত্যুদণ্ডই দেওয়া হয়নি, সবচেয়ে বড় শাস্তি ছিল যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। এমনকি ৩ জনকে খালাস দেওয়া হয়েছিল প্রমাণের অভাবে।

আপনার দাবীকৃত কোনো বিচারেই "শুধুমাত্র সৈনিক ছিলো এই কারনে" কাউতে ফাসি দেয়া হয়নি, আর বিচার গুলো অনেক আগেই হয়েছে, তাই "কিছুদিন পুর্বে" এই দাবীটাও মিথ্যা।

হুমম, বিচার করার সাধ্য আমার নেই কিন্তু দাবী করার সামর্থ আছে, সেটা সবসময় করি। বিচার করার ক্ষমতা থাকলে দেখার মত বিচারই করতাম। অন্তত ৬ কিলোমিটার দুরে থেকে চেনার দাবী করার মত আজগুবি কোনো সাক্ষী থাকতনা।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.