নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

নিজস্ব ভাবনা চিন্তা নিয়ে আমার ভার্চুয়াল জগত!

এস.এম. আজাদ রহমান

মানুষ

এস.এম. আজাদ রহমান › বিস্তারিত পোস্টঃ

"‘৫ই আগস্ট সবার জন্য ভালো হয়েছে’- একটি বক্তব্যের রাজনৈতিক পাঠ"

০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:৪৯



"‘৫ই আগস্ট সবার জন্য ভালো হয়েছে’- একটি বক্তব্যের রাজনৈতিক পাঠ"

"৫ই আগস্ট সবার জন্য ভালো হয়েছে। শেখ হাসিনার প্রয়োজন ছিল বিশ্রাম। আওয়ামী লীগের দরকার ছিল শুদ্ধিকরণ। অন্যান্য দলগুলোরও যে সাত-ঘাটের তেঁতুলের বিচি নয়, সেটাও জনগণের জানা জরুরি ছিল... আলো, ডেভিল স্টার এবং সুশীল সমাজ বুঝেছে বাকস্বাধীনতা কী!"
- আবদুল করিম রাশেদ, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট

রাজনীতিতে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা কেবল ক্ষমতার পালাবদল নয়; বরং রাষ্ট্র, সমাজ এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে নতুন করে নিজের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়। আবদুল করিম রাশেদের এই বক্তব্যটিও সেই দৃষ্টিকোণ থেকেই বিবেচনার দাবি রাখে।

প্রথমেই তিনি বলেছেন, "শেখ হাসিনার প্রয়োজন ছিল বিশ্রাম।" এটি ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়; বরং দীর্ঘ সময় একটানা ক্ষমতায় থাকার ফলে যে রাজনৈতিক ক্লান্তি, প্রশাসনিক জড়তা এবং জনমানসে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা তৈরি হতে পারে—সেই বাস্তবতার প্রতি ইঙ্গিত হিসেবে দেখা যেতে পারে। গণতন্ত্রে নেতৃত্বের নবায়ন অনেক সময় রাজনৈতিক স্থিতিশীলতারও একটি অংশ।

একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, "আওয়ামী লীগের দরকার ছিল শুদ্ধিকরণ।" দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা যেকোনো রাজনৈতিক দলের ভেতরেই সুযোগসন্ধানী, দুর্নীতিগ্রস্ত বা আদর্শচ্যুত ব্যক্তিদের প্রবেশের অভিযোগ ওঠে। সেই প্রেক্ষাপটে শুদ্ধিকরণের আহ্বানকে দলকে দুর্বল করার নয়, বরং তার সাংগঠনিক শক্তি ও আদর্শগত ভিত্তি পুনর্গঠনের একটি প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া হিসেবে ব্যাখ্যা করা যায়।

রাশেদের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ হল- অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সীমাবদ্ধতাও জনগণের সামনে এসেছে। দীর্ঘদিন বিরোধী অবস্থানে থাকা দলগুলো ক্ষমতা বা রাজনৈতিক সুযোগের কাছাকাছি এলে তাদের সাংগঠনিক দুর্বলতা, নেতৃত্বের সংকট কিংবা নীতিগত অসঙ্গতিও জনসমক্ষে স্পষ্ট হয়। ফলে জনগণ তুলনামূলকভাবে সব পক্ষকে বিচার করার সুযোগ পায়।

তিনি ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিয়েও একটি বক্তব্য দিয়েছেন। এর মূল বক্তব্য হলো, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী কেবল ধর্মীয় পরিচয়ের আড়ালে নিজেকে রাজনৈতিক সমালোচনার ঊর্ধ্বে রাখতে পারে না। যে-ই হোক, তার অবস্থান ও কর্মকাণ্ড জনপরিসরে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে পারে। এটি রাজনৈতিক জবাবদিহিতার ধারণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ- যদিও এ বিষয়ে ভিন্নমতও থাকতে পারে।

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অংশ সম্ভবত তাঁর বাকস্বাধীনতা প্রসঙ্গ। তিনি দাবি করেছেন, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের মাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ—সাংবাদিক, সুশীল সমাজ, মতামতপ্রদানকারী নাগরিক- বাকস্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ ও গুরুত্ব নতুনভাবে উপলব্ধি করেছেন। ইতিহাস বলে, যখন মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়, তখন সমাজে এই অধিকার নিয়ে সচেতনতা ও আলোচনা আরও তীব্র হয়।

শেষ বাক্যে তিনি বলেছেন, "লীগ নেতাদের দম্ভ, অতি আত্মবিশ্বাস বা অন্য দলগুলোকে নিয়ে জনগণের মোহ- ৫ই আগস্ট সব ভেঙে তছনছ করে দিয়েছে।" এটিকে একটি রাজনৈতিক রূপক হিসেবে পড়া যায়। অর্থাৎ, তিনি মনে করেন, ওই দিনের ঘটনাপ্রবাহ রাজনীতির বহু পূর্বধারণা, অন্ধ সমর্থন এবং অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।

সব মিলিয়ে, আবদুল করিম রাশেদের বক্তব্যের সারমর্ম হলো- ৫ আগস্টকে তিনি কোনো একক দলের বিজয় বা পরাজয় হিসেবে নয়; বরং বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য একটি আত্মসমালোচনার মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন। তাঁর দৃষ্টিতে, এই ঘটনায় ক্ষমতাসীন দল, বিরোধী দল, ধর্মভিত্তিক রাজনীতি, গণমাধ্যম এবং নাগরিক সমাজ- সকলেরই নিজেদের নতুন করে মূল্যায়নের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

এই বিশ্লেষণের সঙ্গে সবাই একমত হবেন, এমন নয়। গণতান্ত্রিক সমাজে এ ধরনের রাজনৈতিক মূল্যায়ন নিয়ে মতভেদ থাকাই স্বাভাবিক। তবে রাশেদের বক্তব্যের পক্ষে যুক্তি দাঁড় করাতে গেলে বলা যায়, তিনি মূলত একটি আত্মসমালোচনামূলক রাজনৈতিক পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন, যেখানে কোনো পক্ষই সমালোচনার ঊর্ধ্বে নয়।

মন্তব্য ১১ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (১১) মন্তব্য লিখুন

১| ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৪৮

রাজীব নুর বলেছেন: না রাশেদ সঠিক কথা বলেন নাই।
শেখ হাসিনা না থাকাতে জামাত শিবিরের উত্থান। এতা জাতির জন্য অমঙ্গল।

০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:২২

এস.এম. আজাদ রহমান বলেছেন: অন্যান্য দলগুলি যে সাত-ধোয়া তেতুঁলের বিচি নয়! এটা সত্য।

২| ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৩৬

এম ডি মুসা বলেছেন: আচ্ছা আগে দলীয়করণভাবে সবকিছু চলতো। এখনো দলীয় করেন ভাবে সবকিছু চলে? চাকরি থেকে সবকিছুই দলীয়করণ সুপারিশ চলে। তাহলে পরিবর্তন টা কোথায় হচ্ছে?? বাঙালি তো বারবার পরিবর্তনের আশায় সংগ্রাম করে। সেটা তো রাজনীতিবিদের দখল করে নেয় কারণ এই দেশের রাজনীতিবিদেরাই দেশের দেশ পরিচালনা করে , বিকল্প কোন ব্যবস্থা আছে? গণতন্ত্রের বর্তমান আরেক নাম বাংলাদেশে মিথ্যা তন্ত্র।

০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:২৩

এস.এম. আজাদ রহমান বলেছেন: দলীয়করণ ছাড়া এদেশে কিছুই হয়নি হবেও না।

৩| ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৩৭

এম ডি মুসা বলেছেন: গণতন্ত্র তো সবার জন্য, বনমালী জনগণ। গণ মানি কেন দলীয়, লোকজন?

০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

এস.এম. আজাদ রহমান বলেছেন: শাসকদের জন্য দল আগে, তাই দলীয়কে ঠেকানোর কেউ নেই।

৪| ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:২৯

মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ বলেছেন: /অবমাননাকর, অপমানজনক ও একতরফা এক চুক্তির মাধ্যমে বিনে পয়সায় দুষ্টুরাষ্ট্রের কাছে দেশ বিক্রি হয়ে যাওয়াটা এখনকার বাস্তবতা। আমরা বোয়িং কিনতে বাধ্য, বেশি দামে এল পি জি কিনতে বাধ্য, গম কিনতে বাধ্য? এই পর্যায়ের লাল স্বাধীনতা ভোগের (নাকি বোঝা বইবার) নজির আগে ছিলো কি? ১৭৫৭ এর মিরজাফর যেমন ক্ষমতাহীন দায়িত্ব নিয়ে সময় পার করেছে তেমনি ২০২৪ এর মিরজাফর গং সেরকম সময়ই পার করছে।

বরং ইতোমধ্যেই sold out দেশের মানে আমাদের দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয় ভারতের কাছে যে প্রতিবাদমূলক বিবৃতি (ক্ষমতাচ্যুত হাসিনার সংবাদ সম্মেলনের কারনে) দিয়েছে, সেটাই হাইস্যকর। এই বিবৃতি তো এদেশে অবস্থিত দুষ্টুরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতই দিতে পারতো (স্টেট ডিপার্টমেন্টও দিতে পারতো কিন্তু এদেশের মতো দেশের জন্য ওদের মাথা ঘামানোর সময় বোধ করি নেই)।

৫ ই আগস্টকে এভাবে দেখলে তা সামগ্রিক ভাবে দেশের জন্য চুরান্ত খারাপ হয়েছে।

০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

এস.এম. আজাদ রহমান বলেছেন: ধন্যবাদ ভাই আপনি ঠিকই বলেছেন।

৫| ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৬

কিরকুট বলেছেন: আপনার কি মনে হয় আওয়ামিলীগ এতো কিছু পরেও শুদ্ধ হবে ? আমাকে জিজ্ঞাসা করুন উত্তর না । তারপরেও আমি চাই এই দেশে জামাত শিবির ও তাদের বেজন্মা ল্যাঞ্জা মুক্ত হোক । এইদেশ আমার বাপ দাদার কোন জামাত শিবির ও তাদের ল্যাঞ্জার না ।

০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:০০

এস.এম. আজাদ রহমান বলেছেন: এখানে কালবেলার আবদুল করিম রাশেদ এর বক্তব্য ব্যাখ্যা করেছি মাত্র।

৬| ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৫৬

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: দীর্ঘদিন বিরোধী অবস্থানে থাকা দলগুলো ক্ষমতা বা রাজনৈতিক সুযোগের কাছাকাছি এলে তাদের সাংগঠনিক দুর্বলতা, নেতৃত্বের সংকট কিংবা নীতিগত অসঙ্গতিও জনসমক্ষে স্পষ্ট হয়। ফলে জনগণ তুলনামূলকভাবে সব পক্ষকে বিচার করার সুযোগ পায়।
............................................................................................................................................................
তার বক্তব্য ব্যাখ্যায় অনেক কিছু বাস্তবতা থেকে উঠে এসেছে । যা অস্বীকার করা যায়না ।
আমাদের দেশটি মুসলিম প্রধান কিন্ত চারপাশে অন্য ধর্মর রাষ্ট্র আবার সামরিক সুবিধার জন্য
আমেরিকার একটি চোখ সারাক্ষন আমাদের উপর গোয়েন্দা গিরি ও সুবিধা নিতে ব্যস্ত ।
এখন যা ঘটেছে , তাহলে শেখ হাসিনা আমেরিকার ডীপ ষ্ট্যাটের প্রস্তাব মেনে নিত !
সেটাই ভালো ছিল অন্তত আমাদের জিডিপি ৬.৫ থেকে কমে ২.২ তে নামতনা ।
আমাদের সামগ্রিক অবস্হা এতটা খারাপ হতোনা ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.