| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
খায়রুল আহসান
অবসরে আছি। কিছু কিছু লেখালেখির মাধ্যমে অবসর জীবনটাকে উপভোগ করার চেষ্টা করছি। কিছু সমাজকল্যানমূলক কর্মকান্ডেও জড়িত আছি। মাঝে মাঝে এদিক সেদিকে ভ্রমণেও বের হই। জীবনে কারো বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ করিনি, এখন তো করার প্রশ্নই আসে না। জীবন যা দিয়েছে, তার জন্য স্রষ্টার কাছে ভক্তিভরে কৃতজ্ঞতা জানাই। যা কিছু চেয়েও পাইনি, এখন বুঝি, তা পাবার কথা ছিলনা। তাই না পাওয়ার কোন বেদনা নেই।
(প্রায় দু’মাস আগে লেখা। তখন গ্রীষ্মকাল হলেও ঢাকায় কয়েকদিন পরপর বৃষ্টি হতো। এখনকার মত “ঘাম ঝরে দরদর” ধরণের গরম ছিল না। রাতগুলো তুলনামূলকভাবে বেশ ঠাণ্ডা থাকতো।)
আজ খুব ভোরে (শেষরাতে) বিজলি চমকানোর আলো আর বজ্রপাতের শব্দে ঘুম ভেঙে গেল। রাতে শোবার আগে দেখে নিয়েছিলাম, কাঁচের জানালাটা ইঞ্চি চারেক খোলা রেখে নেটের জানালাটা পুরোটা লাগানো আছে। ঘুমানোর আগে ঘরের ভেতরে বাতাস চলাচলের জন্য শিওরের কাছের জানালায় এ সামান্য ব্যবস্থাটুকু নিশ্চিত করাটা এখন আমার প্রাত্যহিক অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটুকু খোলা না রাখলে একটু হাঁসফাস বোধ করি। ঘুম ভেঙে গেলেও, আরেকটু ঘুমোতে ইচ্ছে করছিল। ঘুম জড়ানো চোখে সময়টা দেখে নিলাম, কেবলমাত্র ফজরের ওয়াক্ত শুরু হয়েছে। উঠবো উঠবো করতে করতে ভয় হচ্ছিল, উঠতে না পারলে ফজরের নামাজটা ওয়াক্তের মধ্যে পড়ে নিতে পারবো না। কারণ, এ সময়ের ঘুমটা মারাত্মক রকমের গভীর হয়ে থাকে। যাহোক, আমার এই আলসেমির বিরুদ্ধে প্রকৃ্তিই বাধ সাধলো। আধো ঘুমের মধ্যেই টের পেলাম, বৃষ্টির ঝাপটার একটা হাল্কা ধারা মুখে এসে লাগছে। ধড়ফড় করে উঠে জানালার কাঁচটা পুরোপুরি লাগিয়ে দিলাম। আর এই দ্রুত অনুশীলনের কারণে চোখে লেগে থাকা ঘুমটাও কোথায় যে চলে গেল!
ভোর ছয়টায় হাঁটার জন্য নিচে নেমে দেখি, আমাদের বাসার পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া সরু খালটার বুকে যেন জোয়ার এসেছে। ভোর রাতের সেই সামান্য সময়ের (কিন্তু ভারীবর্ষণ) বৃষ্টিতেই প্রায় মরা খালটা জলে ভরে টইটম্বুর হয়ে গেছে। এই জলস্রোত গুলশান লেক হয়ে গিয়ে মিশবে হাতির ঝিলের জলের সাথে। সেই আনন্দে মাতোয়ারা খালের স্রোতধারা উত্তর থেকে দক্ষিণে বয়ে যাচ্ছে, মৃদু লয়ে নয়, বেশ ব্যস্ত ত্রস্ত হয়ে। সেই স্রোতে ভেসে যাচ্ছে গাছের ঝরা পাতা, শুকনো সরু ডাল ও কঞ্চি এবং আরও হরেক রকমারি ভাসমান দ্রব্যাদি। একটাও পলিথিন ব্যাগ চোখে পড়লো না বলে মনটা খুশি হলো। আকাশে পাখিদের ওড়াউড়ি চলছে, খালের পাশের গাছ-গাছালিতে বসে থাকা পাখিদের কিচির মিচির আওয়াজও বেশ জোরেই শোনা যাচ্ছে। অদূরে দেখলাম একটা কানি বকও ওঁৎ পেতে বসে আছে জল থেকে টুপ করে তার সকালের নাশতার কোন উপকরণ বেছে নেয়ার জন্য। সাধারণতঃ ছোট কোন মাছ, ব্যাঙাচি কিংবা খালের তীর ঘেঁষে চলমান কোন পোকা মাকড় ছাড়া এখানে তার মেন্যুতে আর কিছু পাওয়ার কথা নয়।
এসব দেখতে দেখতে মুহূর্তের মধ্যেই শৈশবে ফিরে গেলাম। ঝরা পাতা, শুকনো সরু ডাল ও কঞ্চি ইত্যাদিকে ‘কেয়াপাতার নৌকো’ এবং সরু খালটিকে ‘তালদিঘি’ কল্পনা করে নিজের অজান্তেই যেন স্মৃতি থেকে আওড়ালামঃ
“কেয়াপাতায় নৌকো গড়ে’
সাজিয়ে দেব ফুলে,
তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেবো,
চলবে দুলে দুলে।"
(ছুটি, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)
যদিও কল্পিত ‘কেয়াপাতার নৌকো’গুলো ‘দুলে দুলে’ চলছিল না, বহমান স্রোত দ্বারা সোজা ধাবিত হচ্ছিল, তথাপি চোখে যাই দেখি না কেন, মনে স্মৃতির ঐ কথাগুলোই ভাসছিল।
প্রতিটি মানুষের অন্তরে একটি ইম্প্রেশনিস্ট কবি সত্তা রয়েছে। শৈশবের স্মৃতিমালা তার কোমল মনে যে ইম্প্রেশন রেখে যায়,সেটা অবিনাশী। বয়স যতই বাড়ুক, অনুকূল পরিবেশ পেলে সেটা তার মনের ক্যানভাসে উদয় হয়, তাকে ভাবায়, তাকে দিয়ে লেখায়।
ঢাকা
১৭ মে ২০২৬, ভোর ০৬-০২
শব্দ সংখ্যাঃ ৪৩০
স্থির ছবিতে তেমন বোঝা যাচ্ছেনা। ভিডিও করেছি, কিন্তু সেটা সামুতে পোস্ট করার তরিকা জানা নেই।
০৪ ঠা জুলাই, ২০২৬ রাত ১১:০৫
খায়রুল আহসান বলেছেন: “এই তিনের কম্বো যে কতোকাল দেখি না....” – আপনার মন্তব্যের এই অংশটাতে একটি প্রচ্ছন্ন হাহাকার লুকিয়ে আছে। বেশিরভাগ প্রবাসীর মনেই এমন হাহাকার থাকে। আমি একসময় একটানা বহুদিন প্রবাসে ছিলাম। তখন আমার মনেও এমন হাহাকার উঠতো।
“এই কথা কয়টা আর লেখার বাকি অংশ থেকে দেশের ভেজামাটির সুঘ্রান পাচ্ছি, যেটা পৃথিবীর কোন সুগন্ধিই দিতে পারবে না” – আসলেই, বৃষ্টির পরে পরে আমাদের দেশের মাটি থেকে যে সোঁদা গন্ধ নাকে এসে লাগে, তা বোধকরি পৃথিবীর আর কোথাও পাওয়া যায় না।
পোস্ট পাঠান্তে নস্টালজিয়া আপনাকে স্পর্শ করেছে, এটা উপলব্ধি করে মনে মনে সাফল্য অনুভব করছি।
প্রথম মন্তব্য এবং প্রথম ‘লাইক’টির জন্য অশেষ ধন্যবাদ জানবেন।
২|
০৪ ঠা জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:২৬
অপ্সরা বলেছেন: শৈশবের চাইতে সুন্দর স্মৃতি আর কিছুতে নেই.......
৩|
০৪ ঠা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:১২
রাজীব নুর বলেছেন: আজকাল আমার শুধু ছোটবেলার সৃতি মনে আসে।
আমি সব কিছু বাদ দিয়ে অতীতে চলে যাই। বড় ভালো লাগে।
৪|
০৪ ঠা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:২৫
জ্যাক স্মিথ বলেছেন: প্রতিটি মানুষের অন্তরে একটি ইম্প্রেশনিস্ট কবি সত্তা রয়েছে। শৈশবের স্মৃতিমালা তার কোমল মনে যে ইম্প্রেশন রেখে যায়,সেটা অবিনাশী। বয়স যতই বাড়ুক, অনুকূল পরিবেশ পেলে সেটা তার মনের ক্যানভাসে উদয় হয়, তাকে ভাবায়, তাকে দিয়ে লেখায়। - অসধারণ উক্তি করেছেন।
৫|
০৪ ঠা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৯
গেঁয়ো ভূত বলেছেন: আপনার লেখাটি অসাধারণ এক আত্মোপলব্ধি ও নস্টালজিয়ার চমৎকার দলিল। একটি সাধারণ বর্ষণমুখর সকাল কীভাবে মানুষের মনের ভেতরের শৈশব আর কবিসত্তাকে জাগিয়ে তুলতে পারে, তা আপনি খুব সহজ কিন্তু দারুণ গভীর ভাষায় ফুটিয়ে তুলেছেন। যান্ত্রিক ঢাকার বুকে থেকেও প্রকৃতির ছোট ছোট পরিবর্তনকে (যেমন খালের স্রোত, পাখির ডাক বা বকের শিকার ধরা) যেভাবে আপনি পরম মমতায় পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং তার সাথে রবীন্দ্রনাথের ‘ছুটি’ কবিতার মেলবন্ধন ঘটিয়েছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। লেখার শেষাংশে আপনার সেই উপলব্ধি "শৈশবের স্মৃতিমালা মানুষের মনে যে অবিনাশী ইম্প্রেশন রেখে যায়, তা অনুকূল পরিবেশে মনকে ভাবায় ও লেখায়" পাঠকের বুকেও এক টুকরো শান্তির পরশ বুলিয়ে দেয় এবং নিজের হারিয়ে যাওয়া শৈশবকে নতুন করে খোঁজার অনুপ্রেরণা জোগায়।
ভাল থাকবেন। সুস্থ থাকবেন।
৬|
০৪ ঠা জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:০৩
কাছের-মানুষ বলেছেন: স্মৃতিকথা পড়ে ভাল লাগল। যত সময় যাচ্ছে পুরোনো স্মৃতি মনে পড়ছে, নষ্টালজিক হই, চলারপথে কত বন্ধু, কত প্রিয় মানুষের সাথে চলেছি, আজ অনেকের সাথে যোগাযোগ নেই।
শৈশবের স্মৃতিগুলো সত্যি অবিনাশী।
©somewhere in net ltd.
১|
০৪ ঠা জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:১১
ভুয়া মফিজ বলেছেন: আমি দেশ ছাড়ার পর যখনই দেশে গিয়েছি, শীতকালে গিয়েছি। বিজলি চমকানোর আলো, বজ্রপাতের শব্দ আর মুষলধারের বৃষ্টি............এই তিনের কম্বো যে কতোকাল দেখি না তা একমাত্র উপরওয়ালা জানে। প্রচন্ডভাবে মিস করি। ইংল্যান্ডে এই কম্বোর দেখা পাওয়া মোটামুটি অসম্ভব। প্রতিবার শীতে দেশে গেলে ভাবি, পরেরবার অবশ্যই কালবৈশাখীর সময়ে আসবো। বিভিন্ন বাস্তবতায় আসা আর হয়ে উঠে না।
প্রতিটি মানুষের অন্তরে একটি ইম্প্রেশনিস্ট কবি সত্তা রয়েছে। শৈশবের স্মৃতিমালা তার কোমল মনে যে ইম্প্রেশন রেখে যায়, সেটা অবিনাশী। বয়স যতই বাড়ুক, অনুকূল পরিবেশ পেলে সেটা তার মনের ক্যানভাসে উদয় হয়, তাকে ভাবায়, তাকে দিয়ে লেখায়। চমৎকার উপলব্ধি!! এই কথা কয়টা আর লেখার বাকি অংশ থেকে দেশের ভেজামাটির সুঘ্রান পাচ্ছি, যেটা পৃথিবীর কোন সুগন্ধিই দিতে পারবে না।