| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
১)
দেবী খুবই বুদ্ধিমতী এবং সুন্দরী। এক উচ্চাভিলাষী পরিবারে দেবীর জন্ম, এমনই উচ্চাভিলাষী যে তাদের একমাত্র ভাবনা কীভাবে সবাইকে ছাড়িয়ে উপরে ওঠা যায়! দেবীর যখন জন্ম হলো তখন তার ভাইয়ের বয়স ১৪ বছর, মেধাবী ভাইটি ক্লাসের সবাইকে টপকিয়ে সবসময় প্রথম স্থান অধিকার করে। ছোটবেলা থেকেই দেবীর মাথায় ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে, ভাইয়ের মত তাকেও সবার উপরে উঠতে হবে। দেবী বরাবরই প্রাণপণ চেষ্টা করে গেছে, কিন্তু ভাইয়ের মত ভাল রেজাল্ট করতে পারেনি। দেখা গেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় ভাই যেমন প্রথম কয়েকজনের মধ্যে স্থান পেয়েছিল দেবী তা পায়নি, বরং তার স্থান হয়েছে একেবারে শেষের দিকে। ফলে একই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাই সবচাইতে চাহিদাসম্পন্ন বিষয়ে পড়তে পারলেও, দেবীকে ভর্তি হতে বাধ্য হয়েছে সবচাইতে কম চাহিদার বিষয়ে পড়তে! দেবী খুব কাঁদলো। বড় ভাই বলল, "কান্দিস না! আমি তোকে গাইড করব, যাতে তুই সবাইকে ছাড়িয়ে যেতে পারিস।"
ততদিনে অবশ্য বড় ভাই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়া শেষে আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া শেষ করে আমেরিকাবাসী হয়ে গেছে। কিন্তু আমেরিকার ব্যস্ত জীবনের মধ্যেও বড় ভাই দেবীর খেয়াল রাখতে লাগলো, তাকে গাইড করতে লাগল যাতে সে তার ক্লাসে প্রথম স্থান অধিকার করতে পারে। ভাই দেবীকে বুঝিয়ে দিল, কীভাবে উপযুক্ত মানুষ বেছে নিয়ে তার সাথে বন্ধুত্ব করতে হবে যাতে পরবর্তীতে তাঁরা তাকে তার লক্ষ্য অর্জনে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। শুধু শিখিয়ে দিয়েই ভাই থেমে থাকল না, দেবী তার লক্ষ্য অর্জনের পথে ঠিকমতো যাচ্ছে কিনা তার তদারকি করার জন্য দেবীর সমস্ত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করতে লাগলো। দেবীর বন্ধুরাও একসময় বুঝে গেল যে, তাদের গ্রুপ চ্যাটে মাঝে মাঝেই দেবীর বদলে দেবীর ভাই তাদের সাথে কথা বলে!
বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেকগুলো ভালো ছেলের সাথে দেবীর বন্ধুত্ব হলো। দেবীর সুন্দর চেহারা, অমায়িক আচরণ দেখে তার বন্ধুরা মুগ্ধ হয়ে যেত, তাই নানাভাবে তারা দেবীকে লেখাপড়ায় সাহায্য করতে লাগলো। এদের মধ্যে যাকে ভবিষ্যতের জন্য সবচেয়ে সম্ভাবনাময় মনে হয়েছে তার সাথেই দেবীর সবচাইতে বেশি বন্ধুত্ব হলো। পরবর্তী আট বছর ধরে এই সম্পর্ক অটুট রইল, কিন্তু দেবী এঁকে বিয়ে করল না। সম্পর্কের প্রাথমিক সময়েই, গভীর ভালোবাসার দোহাই দিয়ে দেবী ছেলেটিকে বাধ্য করল ক্লাসের সমস্ত মেয়ে, এমনকি তাঁর মেয়ে কাজিনদের সঙ্গে পর্যন্ত সমস্ত রকম সম্পর্ক ছিন্ন করতে... বাস্তব জীবনের এবং সামাজিক মাধ্যমের সব সম্পর্ক। এরপর দেবী ছেলেটিকে বাধ্য করলো এমন সব বন্ধু এবং আত্মীয়-স্বজনের সাথে সম্পর্ক চুকাতে, যারা তাকে উঁচুতে উঠতে সাহায্য করতে পারবে না!
এই ছেলেটিকে দিয়ে দেবী তার সমস্ত অ্যাসাইনমেন্ট করিয়ে নিতো। একবার এরকম একটা অ্যাসাইনমেন্ট করে দেবার পর ছেলেটি জানতে পারে যে, অ্যাসাইনমেন্টটি দেবী নিজের জন্য করায় নি, বরং হাতে রাখা আরেকজন ছেলে বন্ধুর জন্য করিয়ে নিয়েছে।
দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের লেখাপড়া শেষ করে দেবী আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি করতে গেল, তার বয়ফ্রেন্ড ছেলেটিও আমেরিকার অন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করতে গেল। ইন্টারনেটের এই যুগে লং ডিসটেন্স কোন সমস্যা না, তাই দেবী আরো বেশি চাপ দিয়ে তার সমস্ত অ্যাসাইনমেন্ট এবং রিসার্চের জন্য প্রয়োজনীয় কোডিং এই ছেলেটিকে দিয়ে করাতে লাগলো। কখনো কখনো দিনে ছয়/ আট ঘন্টা করে ছেলেটি দেবীর কাজ করে দিতে লাগলো, ফলে তার নিজের রিসার্চে পিছিয়ে যেতে লাগলো। যখনই ছেলেটি দেবীকে তার অসুবিধার কথা বলতো তখনই দেবী প্রচুর কান্নাকাটি করতো, নিজের অসহায় অবস্থার কথা বলে অনুরোধ করত তাকে সাহায্য করতে। কয়েকবার ছেলেটি এই সম্পর্ক থেকে বের হয়ে যেতে চেয়েছে, কিন্তু দেবী আত্মহত্যা করবে বলায় সে আবারো সম্পর্ক ঠিক রাখে। ইতিমধ্যে দেবী বিশ্ববিদ্যালয় বদলে আরো ভালো একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েছে। দেবী হয়তো বুঝতে পেরেছিল এই ছেলেটিকে আর বেশি দিন আটকে রাখতে পারবে না, তাই সে নতুন শিকার খুঁজতে লাগলো যার মাধ্যমে তার ক্যারিয়ার এগিয়ে যেতে পারে। এমন একটা ছেলেকে দেবী পেয়েও গেল। এই ছেলেটি এমন একজন যাকে দীর্ঘদিন ধরে দেবী খুঁজছিল। ছেলেটির নাম জ্ঞান, দেশে এবং বিদেশে তার একাডেমিক ফলাফল এবং রিসার্চ খুব উচ্চ মানের। জ্ঞানের আমেরিকান পাসপোর্ট আছে, কারণ তার জন্ম আমেরিকায় তার বাবা যখন পিএইচডি করছিলেন সেই সময়। জ্ঞানের পরিবার উচ্চ শিক্ষিত এবং সামাজিকভাবে মর্যাদা সম্পন্ন। জ্ঞানের বাবা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, তার দাদাও বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপক ছিলেন। তিনি এমন বিষয়ে পিএইচডি করেছিলেন যেটাতে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে তিনিই ছিলেন প্রথম। জ্ঞান নম্র- ভদ্র, ছয় ফিটের বেশি লম্বা সুদর্শন, সহজ সরল এক তরুণ যাকে সহজেই ম্যানিপুলেট করা সম্ভব। এই সবকিছু বিবেচনা করে দেবী জ্ঞানের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলল, যদিও একই সাথে আরো কয়েকজনের সাথেও তার সম্পর্ক থাকলো। এবারে দেবীর সাথে আট বছরের সম্পর্কে থাকা ছেলেটি দেবীকে ছাড়তে পেরে হাঁপ ছেড়ে বাঁচলো!
দেবী কোডিং একেবারেই পারতো না, আবার জ্ঞান ছিল কোডিংয়ের পন্ডিত। অতএব জ্ঞান খুশি মনে দেবীর রিসার্চের জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত কোডিং করে দিতে লাগলো, নিজের রিসার্চ এর সাথে সাথে দেবীর রিসার্চেও কাজ করতে লাগলো। এইবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন জ্ঞানকে দেবীর সম্পর্কে জানালো যে সে কিভাবে বিভিন্ন জনের সাথে সম্পর্ক করে নিজের সুবিধা আদায় করে নেয়। জ্ঞান তাদের কথা বিশ্বাস করলো না বরং দেবীর পরামর্শে তাদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করলো। অবশ্য তখনও জ্ঞানের বিবেচনা বোধ কিছুটা হয়তো অবশিষ্ট ছিল, যার জন্য সে দেবীর প্রচন্ড কর্তৃত্বপরায়নতা বুঝতে পেরে এই সম্পর্ক থেকে বের হতে চেয়েছিল, কিন্তু দেবী আগের মতই আত্মহত্যা করবে বলে নাটক করায় জ্ঞান বাধ্য হল সম্পর্ক বজায় রাখতে। দেবী ধারণা করলো, হয়তো জ্ঞান এই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে যেতে চাইবে। তাই ভাইয়ের পরামর্শে দেবী জ্ঞানকে বিয়ের প্রস্তাব দিল। দেশে নয়, দেবীর ইচ্ছায় বিয়ে হলো আমেরিকায়। জ্ঞানের মা বাবা আমেরিকায় গিয়ে ছেলের বিয়ে দিলেন। দু'বছর পর দেবী- জ্ঞান দেশে আসার পর জ্ঞানের মা-বাবা জাঁকজমকপূর্ণ এক রিসেপশন অনুষ্ঠান করলেন। পুত্রবধূ দেবীর জন্য তাদের ভালোবাসার কোনো কমতি ছিল না।
এই অনুষ্ঠান শেষে আমেরিকায় ফিরে গিয়েই দেবী রূপ পাল্টে ফেলল, সে জ্ঞানকে বাধ্য করল পরিবার এবং বন্ধু-বান্ধবের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করতে। জ্ঞানের সামাজিক মাধ্যমের নিয়ন্ত্রণ, ফোনের দখল নিয়ে নিল (জ্ঞানের ফোনের সাথে দেবীর ফোন লিংক করে, যে কারণে জ্ঞান নিজের ফোন দিয়ে দেবীর অনুমতি ছাড়া কারো সাথে কথা বলতে পারতো না) এবং জ্ঞানের পাসপোর্ট লুকিয়ে ফেলল। শুধু মানসিক নির্যাতন নয়, জ্ঞানকে সে শারীরিকভাবেও নির্যাতন করতো। একবার রেগে গিয়ে জ্ঞানের হাতে কাঁটা চামচ বিঁধে ক্ষতবিক্ষত করে দেয়ায় যখন জ্ঞান বলেছিল সে ৯১১ এ জানাবে, সঙ্গে সঙ্গে দেবী ছুরি হাতে নিয়ে বলে জ্ঞান ফোন করলেই সে নিজের হাত নিজে কেটে পুলিশকে বলবে জ্ঞান তার হাত কেটে দিয়েছে, যাতে পুলিশ জ্ঞানকে স্ত্রী নির্যাতনের দায়ে জেলে ঢোকায়! মাঝে মাঝেই রেগে গিয়ে দেবী জ্ঞানকে ল্যাপটপ দিয়ে মাথায় বাড়ি মেরে বলতো, কথা না শুনলে জ্ঞানের পরিবারকে তার পরিবার শেষ করে দিবে!
এই ঘটনাগুলো জ্ঞান শেয়ার করেছে তার দীর্ঘদিনের কয়েকজন পুরনো বন্ধুর সাথে। জ্ঞান সবার সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করলেও তার বন্ধুরা এটা সহজে মেনে নিতে পারেনি, তাঁরা বিভিন্নভাবে জ্ঞানের অফিসের সময় যোগাযোগ করে কথা বলার চেষ্টা করতো, কখনো কথা বলতে পারতো অল্প কিছু সময়ের জন্য, সেই সময় জ্ঞান তাদের এসব বলেছিল।
কিন্তু জ্ঞানের মা- বাবা, আত্মীয়-স্বজন এভাবে লুকিয়ে কথা বলতেন না, তারা বুঝেছিলেন যে দেবী জানতে পারলে জ্ঞানের উপর আরো অত্যাচার করবে। তবু, থাকতে না পেরে, ছেলের কন্ঠস্বর শোনার জন্য জ্ঞানের মা একদিন জ্ঞান কে ফোন করেছিলেন, কারণ জ্ঞান বিয়ের আগে প্রতিদিন মায়ের সাথে একবার করে কথা বলতো। মায়ের ফোন রিসিভ করে দেবী। জ্ঞানের মাকে তুই তুকারি করে গালাগালি করে বলে, বাড়াবাড়ি করলে সে তাদের চরম শাস্তি দেবে। তারপর আর জ্ঞানের মা কখনো ফোন করেননি, ছেলের কন্ঠস্বর আর জীবনেও শুনতে পাননি।
জ্ঞানের বাবা একটা কনফারেন্সে আমেরিকায় যাবার পর ছেলের সাথে দেখা করতে ছেলের বাসায় যান। তখন দেবী দরজা খুলে একই ভাবে গালাগালি করে বাসা থেকে তাড়িয়ে দেয়। এতেই ক্ষ্যান্ত হয় না, সে কোর্টে গিয়ে জ্ঞানের বাবা মা বোনের উপর restraining order নেয়, যাতে এরা কেউ দেবীর বাড়িতে যেতে চাইলে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে।
এই সম্পর্ক থেকে জ্ঞান সহজেই বের হতে পারতো। কেন বের হলো না তার কারণ অজ্ঞাত। হতে পারে দেবী জ্ঞানের পরিবারের সদস্যদের ক্ষতি করবে বলে ভয় পেয়ে, অথবা জ্ঞান হয়তো স্টকহোম সিন্ড্রম ভুগছিল যেখানে নির্যাতনকারীর প্রতি আনুগত্য জন্মে যায়।
এই দম বন্ধ করা পরিস্থিতিতে জ্ঞানের জন্য খোলা জানালা ছিল কেবল কাজ করে যাওয়া। তার প্রচুর রিসার্চ পেপার হলো, আর বিখ্যাত টেক কোম্পানিতে খুব তাড়াতাড়ি দক্ষ কর্মী হিসেবে পরিচিতি পেল।
দেবী কিন্তু বুঝতে পারছিল, এত নিয়ন্ত্রণ সত্ত্বেও জ্ঞান সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে যেতে পারে, তাকে ডিভোর্স দিতে পারে। হিসাব নিকাশে অতি পারদর্শী দেবী দেখলো ডিভোর্স হলে জ্ঞানের সমস্ত সম্পদের অর্ধেক সে পাবে। ইতিমধ্যেই সে জ্ঞানকে বাধ্য করেছে পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে পাওনা অংশ বাবার কাছ থেকে লিখিয়ে নিতে। এই সম্পত্তির অর্ধেক, টেক কোম্পানিতে জ্ঞানের যে শেয়ার আছে তার অর্ধেক এবং জ্ঞানের জমানো টাকার অর্ধেক দেবী পাবে ডিভোর্স হলে। এটুকুই। কিন্তু দেবী বা তার উচ্চাভিলাষী ভাইয়ের বিবেচনায় এটা নগন্য প্রাপ্তি। বিশাল প্রাপ্তি হয় যদি জ্ঞানের লাইফ ইন্সুরেন্স, কোম্পানির করা লাইফ ইন্সুরেন্স, পেনশন ফান্ডের টাকা, স্টক সব পাওয়া যায়। দেবী হিসাব করে দেখেছে এসব মিলে কয়েক মিলিয়ন ডলার হবে, এই টাকা অনেক স্বস্তি দেবে। তাছাড়া বিয়ের সুবাদে পাওয়া আমেরিকান পাসপোর্টও দেবীর জন্য বিশাল স্বস্তি বয়ে এনেছে।
২)
বাংলাদেশ সময় বিকাল বেলা জ্ঞানের মা- বাবা জানতে পারলেন, আগের দিন তাদের ছেলে জ্ঞানকে অচেতন অবস্থায় আমেরিকার এক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। জ্ঞানের ঠিক কি হয়েছে, কোনো অসুখ বা এক্সিডেন্ট কিনা সেটা তারা জানতে পারলেন না। জ্ঞানের বাবা-মা সেদিন রাতেই ছেলেকে দেখতে আমেরিকা রওয়ানা হন। দীর্ঘ দু বছর পর তারা ছেলের মুখ দেখতে পারবেন, ছেলে সুস্থ হয়ে উঠলে কথা বলবেন, এই ছিল তাদের আশা। আমেরিকায় পৌঁছে জানতে পারেন, জ্ঞান আত্মহত্যা করতে গিয়েছিল, ৯১১ এ ফোন করে জ্ঞানকে হাসপাতালে পাঠায় দেবী, সে আছে আইসিইউতে অচেতন অবস্থায়। হাসপাতালে দেবী জানিয়েছে যে, সে জ্ঞানকে রান্নাঘরে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে নামিয়ে নেয়, তারপর ৯১১ তে ফোন করে। হাসপাতালে পরীক্ষা করে দেখা যায় যে, যখন তাকে হাসপাতালে আনা হয়, তার আগে প্রায় এক ঘন্টা যাবত জ্ঞানের ব্রেনে অক্সিজেন সাপ্লাই বন্ধ থাকায় জ্ঞান যখন হাসপাতালে পৌঁছেছে তখন তার ব্রেন ডেড ছিল। দেবীর কথা অনুযায়ী হাসপাতালের রেকর্ডে লেখা হয় যে আত্মহত্যা করতে গিয়ে জ্ঞানের এই অবস্থা হয়েছে। কিন্তু এই রেকর্ড বানিয়ে দিয়েই দেবী নিখোঁজ হয়ে যায় পুরোপুরি। পরে তার ভাই পরিচিতদের ফোন করে জানান যে, স্বামীর আত্মহত্যা- চেষ্টা দেখে দেবী বিপর্যস্ত হয়ে নিজেও সুইসাইডাল হয়ে গেছে, তাই তার ভাই তাকে মানসিক চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করেছেন।
অথচ তিন দিন পরেই হাসপাতালে আসে দেবী, দেখা গেল তার মধ্যে অস্থিরতার চিহ্নমাত্র নেই! সে জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী জ্ঞানের ব্যাপারে সমস্ত সিদ্ধান্ত নেবার অধিকার একমাত্র তারই আছে, কারণ সে জ্ঞানের স্ত্রী। আই সি ইউ তে বসে থাকার অধিকার দেবীকে দেয়া হলো, স্ত্রীর অধিকার হিসেবে। মৃতপ্রায় স্বামীর পাশে আইসিইউতে বসেই দেবী একটা পেপার সাবমিট করে ফেললো!
নয় দিন পর যখন লাইফ সাপোর্ট খুলে নেয়া হলো, তখনও মরদেহ কোথায় রাখা হবে সে ব্যাপারে কেবলমাত্র দেবীর সিদ্ধান্ত নেয়া হলো, জ্ঞানের আত্মীয়রা জানতেও পারলেন না যে দেবী কি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত দিয়েই উধাও হয়ে গেল দেবী। শোনা গেল সে অন্য স্টেটে তার ভাইয়ের বাসায় গিয়েছে। জ্ঞানের মা- বাবা, আত্মীয়-স্বজন অনেক চেষ্টা করেও দেবীর সাথে যোগাযোগ করতে পারলেন না, জানতে পারলেন না জ্ঞানের মরদেহ কোথায় রাখা হয়েছে। যদিও এই মৃত্যু নিয়ে সকলের মনে অনেক প্রশ্ন ছিল, কিন্তু জ্ঞানের শোকাহত, হতভাগ্য মা- বাবার একমাত্র চাওয়া ছিল দীর্ঘদিনের অদেখা মৃত সন্তানের মুখ একবার দেখা এবং সন্তানের মৃতদেহ দেশে নিয়ে কবর দেয়া। কিন্তু দেবী এর কোনটি হতে দিচ্ছিল না। অন্য স্টেটে, ভাইয়ের বাড়িতে বসে সে জ্ঞানের কবর দেবার ব্যবস্থা করল নিজেদের শহরে। বললো, জ্ঞানের ইচ্ছা ছিল, তারা যে শহরে বসবাস করছে সেই শহরেই যেন তাকে কবর দেয়া হয়, তাই সে জ্ঞানের শেষ ইচ্ছা পূরণ করছে। একজন ৩২ বছর বয়স্ক সুস্থ সবল মানুষ, যে তার জীবন মাত্র শুরু করেছে, সে কেন নিজের কবর কোথায় দিতে হবে একথা বলতে গেল, এই প্রশ্ন অনেকের মনে জাগলেও দেবীর কাছে প্রশ্ন করার কোন সুযোগ ছিল না।
জ্ঞানের মা- বাবা যখন আইনের সাহায্য চাইলেন, যাতে জানতে পারেন তাদের ছেলের সাথে আসলে কি ঘটেছিল, তখন দেখলেন পুলিশ দেবীর অনুমতি ছাড়া কোনো তদন্ত করবে না। কারণ মার্কিন আইনে কেবলমাত্র মৃতের স্ত্রীকে অধিকার দেয়া হয়েছে স্বামীর ময়না তদন্ত, দাফন, আর্থিক সম্পদের বিষয়ে। দেবী ময়নাতদন্ত করতে কিছুতেই রাজি হল না। করোনারের রিপোর্টকে ময়না তদন্তের রিপোর্ট বলে আখ্যা দিয়ে দেবী বলল যে ময়নাতদন্তে হয়ে গেছে, যেখানে বলা হয়েছে যে জ্ঞান আত্মহত্যা করেছে। দেবী আরো জানালো যে সে জ্ঞানকে এতটাই ভালোবাসে যে ময়নাতদন্ত করতে গিয়ে জ্ঞানের মরদেহের কাটা ছেঁড়া সে সহ্য করতে পারবে না...
এই সময় শুভবুদ্ধি সম্পন্ন অনেক মানুষ, এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে এগিয়ে এলেন। তাঁরা দাবি তুললেন, জ্ঞানের মৃত্যুর তদন্ত হোক, সত্য প্রকাশিত হোক। তাঁরা জানতে চাইলেন, জ্ঞান কি সত্যি আত্মহত্যা করেছিল? যদি করে থাকে, তাহলে কি এমন পরিস্থিতি হয়েছিল যে তাকে আত্মহত্যা করতে হলো এভাবে? কেন সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতলে না নিয়ে তাকে এক ঘণ্টা পরে হাসপাতালে নেয়া হলো? বাড়িতে একমাত্র দেবী ছিল, জ্ঞান যখন আত্মহত্যা করছিল সেই সময় দেবী কি করছিল?
প্রশ্নগুলোর উত্তর পাওয়া গেল না!
কয়েক মিলিয়ন ডলারের মালিক হওয়া থেকে দেবী মাত্র এক ধাপ দূরে আছে, কোনভাবে জ্ঞানের কবর তাদের শহরে দেয়া গেলেই আর কোন তদন্ত হবে না।
ছবি সূত্র: view this link
১২ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩৭
করুণাধারা বলেছেন: নাহ্! এটা গল্প না। এটা একটা দুঃখের কাহিনী, একটা চলমান ঘটনা নিয়ে।
"বুদ্ধিমতী" শব্দটির প্রয়োগ হয়তো ঠিক হয়নি! এটা বলে বোঝাতে চাচ্ছিলাম, যে মানুষ এবং পরিস্থিতি বুঝে ম্যানুপুলেশন করতে দক্ষ। যাকে তুমি বলছো opportunist. এটা দিয়ে ভর্তি পরীক্ষায় ভালো করার তেমন সুযোগ নেই। আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় যদি স্থান শেষের দিকে থাকে, তবে সবাই নিয়ে ফেলার পরে সবচাইতে কম চাহিদা সম্পন্ন বিষয়েই ভর্তি হতে হয়।
কন্ট্রাডিকশন দেখতে পাচ্ছ, কারণ দেবীর চরিত্র বোঝাতে গেলে আরো অনেক ঘটনা বলতে হয়। অনেক কিছু বাদ দিয়ে লিখেছি বলে পরস্পর বিরোধী বলে মনে হচ্ছে।
গ্রুপ চ্যাটে ভাইয়ের প্রক্সি দেবার ব্যাপারটি দেবীর সহপাঠীরা সামাজিক মাধ্যমে উল্লেখ করেছেন। এর মানে যে সে বোকা হাবা তা নয়, বরং তার ভাই সবকিছুর পর্যবেক্ষক ছিল।
তার প্রথম প্রেমিক অবশ্যই স্টুপিড। সেও এখন প্রকাশ্যে এসেছে সামাজিক মাধ্যমে, জানিয়েছে কিভাবে সে বারবার সম্পর্ক ছাড়তে চাইলেও দেবী নানাভাবে তাকে আটকে দিত।
আন্ডারগ্র্যাডে দেবী তার বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করেছিল, কারণ সেখানে ভালো ছাত্র কেউ ছিল না। এরপর সে আমেরিকার মাঝারি মানের বিশ্ববিদ্যালয় এম এস এ ভর্তি হয়, এই সময় ভালো রিসার্চ প্রেমিকের বদান্যতায়। এখান থেকে এম এস নিয়ে সে আরেকটু ভালো বিশ্ববিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করতে যায়, জ্ঞানকে বিয়ে করে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করে।
এই যে অন্যের সহযোগিতা নেয়ার কথা, এটা আমি বানিয়ে বলিনি। বিভিন্ন সময়ে সে যাদের ব্যবহার করেছে, তারাই এখন প্রকাশ্যে এসব বলছে এবং জ্ঞান যে তার কোডিং করে দিত সেটারও প্রমাণ এসেছে।
আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ভর্তির সময় Diversity and equity কে প্রাধান্য দেয়া হয়। এই কোটা ব্যবস্থায় অনেকেই সহজে ভর্তি হতে পারে। তাছাড়া এমন জালিয়াতির ঘটনা আরও আছে আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়ে। যেমন রংগাপ্পা ডিয়াস (Ranga Dias) নামের একজন পদার্থবিজ্ঞানী ও অধ্যাপক, নিজের গবেষণায় এত বিখ্যাত ছিলেন যে বলা হত তিনি নোবেল প্রাইজ পেতে পারেন। পরে তার জালিয়াতি ধরা পড়ে। ডেটা ফেব্রিকেশনের জন্য ব্যাপকভাবে আলোচিত হন এবং তার গবেষণাপত্রগুলো প্রত্যাহার করা হয়।
তোমার বাকি প্রশ্নগুলোর উত্তর দেয়ার চেষ্টা করছি।
২|
১১ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:৩৯
মিরোরডডল বলেছেন:
জ্ঞানতো রীতিমতো মূর্খতার পরিচয় দিলো, নামটার অসন্মান হলো!!
একটা মেধাবী ছেলে কোনটা সত্যি আর কোনটা আত্মহত্যার হুমকি নাটক এটা ধরতে পারলো নাহ?
পরিবার পরিজন সবার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে ফেললো ফর দিজ গ্রিডি উইমেন?
তার নিজের কোন বোধশক্তি নেই, রাইট রং বোঝার সেন্স নেই!
একজন ৩২ বছর বয়স্ক সুস্থ সবল মানুষ, যে তার জীবন মাত্র শুরু করেছে, সে কেন নিজের কবর কোথায় দিতে হবে একথা বলতে গেল, এই প্রশ্ন অনেকের মনে জাগলেও দেবীর কাছে প্রশ্ন করার কোন সুযোগ ছিল না।
Not really.
একজন সুস্থ সবল প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষ, ইভেন ইয়াং এইজ, কথা প্রসঙ্গে তার মৃত্যু ভাবনা এবং সে কোথায় তার কবর চায় এটা তার পরিবার বা কাছের মানুষদের বলতেই পারে। অস্বাভাবিক কিছু না।
জ্ঞান যেহেতু নির্যাতিত ছিলো, এটা হত্যাকাণ্ড হলেও হতে পারে।
গল্প না হয়ে যদি সত্যি ঘটনা হয়ে থাকে, তদন্তে কি হয়েছিলো জানাবে।
পৃথিবীতে এলাম, আবার চলেও যাবো কিন্তু কিছুই জানা হলো না।
ভারতীয় শুনেছি, কিন্তু বাংলাদেশি কোন পুরুষের নাম জ্ঞান আজ প্রথম জানলাম।
এইজন্য ধারাপু তুমি একটা থ্যাংকস পেতেই পারো
ঘুমিয়েই যাচ্ছিলাম, অনেক রাত এখন 3.40।
তোমার লেখা দেখে ঘুম চলে গেলো
১২ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৪৫
করুণাধারা বলেছেন: জ্ঞানতো রীতিমত মূর্খতার পরিচয় দিল নামটার অসম্মান হলো!!!
তার সত্যিকার নাম তো আর জ্ঞান না, তার সত্যিকার নামের অর্থ জ্ঞান, চেতনা, উপলব্ধি ইত্যাদি। এর মধ্যে জ্ঞান নামটাই আমি বেছে নিলাম, যদিও নিজেরও নামটা পছন্দ হয়নি।
ভারতীয় শুনেছি, কিন্তু বাংলাদেশী কোন পুরুষের নাম জ্ঞান আজ প্রথম জানলাম। এজন্য ধারাপু তুমি একটা থ্যাংকস পেতেই পারো।
বাংলাদেশের পুরুষের নাম যে জ্ঞান হয় সেটা আজকে দ্বিতীয় বার জেনে নাও, তারপর আরেকবার আমাকে থ্যাংকস দাও।
এই দেখো তোমার জন্য গুগল করে আনলাম। এই মানুষটিকে তার ঘনিষ্ঠজনেরা জ্ঞান বলে ডাকে।
জ্ঞানময় নামে একাধিক ব্যক্তি রয়েছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন राजधानी উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)-এর এস্টেট ও ভূমি শাখার সহকারী পরিদর্শক জ্ঞানময় চাকমা।
যারা ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স এর শিকার হয় তারা সহজে বের হয়ে আসতে পারে না, সেটা পুরুষ বা নারী হোক। এই ছেলেটির বেলায়ও সেটাই ঘটেছে সম্ভবত। শুধু আত্মহত্যার হুমকি না, ছেলেটির পরিবারের সদস্যদের ক্ষতি করবে বলে হুমকি দিত বলে শুনেছি।
৩০/৩২ বছর বয়সে মৃত্যু ভাবনা অবশ্যই আসতে পারে কিন্তু যে জায়গায় চাকরি উপলক্ষে গিয়ে মাত্র কিছুদিন হয় থাকছে, যেখানে পরিচিত কেউ থাকেনা, সেখানে কেন কবর দেয়ার কথা বলতে হবে, এটা কেউ সহজে মানতে পারছে না।
সত্যি ঘটনাটা জানার জন্য সবাই চেষ্টা করছে। সেটার জন্য দুজনের ফোনের কল রেকর্ড, ঘটনাস্থল পরিদর্শন, শেষ যে মানুষ পাশে ছিল তাকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং অটোপ্সি করা দরকার। এর কিছুই পুলিশ করছে না। আমিও জানার চেষ্টা করছি।
রাত চারটা পর্যন্ত জেগে থাকলে তুমি কাজ করো কি করে!! এরপর থেকে আরো আগে পোস্ট দেবার চেষ্টা করবো, যেন তোমাকে এভাবে রাত জাগতে না হয় মন্তব্য করতে।
৩|
১২ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:১২
জনারণ্যে একজন বলেছেন: মিরোর, এটা সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া এক সত্য ঘটনার ছায়া অবলম্বনে লেখা।
১২ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৪৬
করুণাধারা বলেছেন: ঠিক ধরেছেন, জনারন্যে একজন।
ধন্যবাদ আমার হয়ে মিরোরকে জানিয়ে দেবার জন্য। আমি তো এইমাত্র উত্তর দিতে আসতে পারলাম।
৪|
১২ ই আগস্ট, ২০২৬ ভোর ৪:৫৯
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: ঘটনা চমৎকার,
...................................................................................
তবে
বর্তমান পরিবেশে মনে হচ্ছে , কোন ঘটনার ছায়া গল্প হতে পারে ।
তবে এক্সাইটিং !
পৃথিবীতে কিছু কিছু নারী বা পুরূষ জন্মই নেয়, অন্যরটা কিভাবে নিজের
আয়ত্তে আনবে তার দারুন দক্ষতা নিয়ে ।
১২ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৪৮
করুণাধারা বলেছেন: এটা একটা দুঃখজনক সত্য ঘটনা নিয়ে লেখা, স্বপ্নের শঙ্খচিল। ঘটনা এখনো চলমান। সত্যটা কি সেটাই সবাই জানতে চাচ্ছে।
পৃথিবীতে কিছু কিছু নারী বা পুরূষ জন্মই নেয়, অন্যরটা কিভাবে নিজের
আয়ত্তে আনবে তার দারুন দক্ষতা নিয়ে ।
খুবই সত্যি। দুঃখজনক।
৫|
১২ ই আগস্ট, ২০২৬ ভোর ৬:১৫
মিরোরডডল বলেছেন:
@জনারণ্যে একজন
গুড টু সি ইউ অরণ্য।
সত্য ঘটনার ছায়া অবলম্বনে লেখা।
আমারও তাই মনে হয়েছে। সেটা ভেবেই পড়া এবং মন্তব্য করা।
বাই দিজ টাইম, সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া ড. ইরফানের ঘটনাটা পড়েছি।
একটা প্রশ্ন, Isn't postmortem mandatory for suspicious death?
ওইয়াফ চায় না বলে ময়নাতদন্ত হবে না, এটাও স্বাভাবিক না কারণ সে নিজেই সাস্পেক্টের লিস্টে প্রথমে থাকবে।
যাইহোক, এরকম একটা ঘটনা প্রপার তদন্ত করা হোক এটাই আশা করবো।
ম্যানি থ্যাংকস, ভালো থাকবে অরণ্য।
ধারাপুকেও থ্যাংকস।
লেখাটা না পড়লে ঘটনাটা জানা হতো না।
১২ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৫৩
করুণাধারা বলেছেন: Isn't postmortem mandatory for suspicious death?
অনেক ক্ষেত্রেই পোস্টমর্টেম আবশ্যিক, তবে এক্ষেত্রে পুলিশ আবশ্যিক বলে মনে করছে না। কারণ ওয়াইফ বলেছে আত্মহত্যা। ওয়াইফ যদি বলে সন্দেহজনক কিছু আছে, কেবলমাত্র তখনই পুলিশ ইনভেস্টিগেট করবে, ওয়াইফ কে জিজ্ঞাসাবাদ করবে। এটাই সেই স্টেটের ল। যদি পুলিশের সন্দেহের অবকাশই না থাকে, তাহলে পোস্টমর্টেম করবে কেন?
অবস্থা এমন, জ্ঞানের মা বাবা এবং তার স্ত্রী, দুই পক্ষই আইনজীবী নিয়োগ করেছেন। একজন চাচ্ছেন পোস্টমর্টেম করতে এবং আরেকজন সেটা ঠেকাতে চাচ্ছেন। দেখা যাক কি হয়।
৬|
১২ ই আগস্ট, ২০২৬ ভোর ৬:১৮
মিরোরডডল বলেছেন:
টাইপো ছিলো, শব্দটা ওয়াইফ হবে।
১২ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৫৩
করুণাধারা বলেছেন: বুঝতে পেরেছি।
৭|
১২ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:৪৬
জনারণ্যে একজন বলেছেন: মিরোর, তাই তো হওয়া উচিত, তবে নিশ্চিত নই।
অনেকদিন পর আপনাকে দেখে; কথা বলে আমারও ভালো লাগলো। অনেক ভালো থাকবেন, শুভকামনা রইলো।
পৃথিবীতে সুস্থ-স্বাভাবিক মানুষের খুব দরকার এখন।
১২ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৫৭
করুণাধারা বলেছেন: পৃথিবীতে সুস্থ-স্বাভাবিক মানুষের খুব দরকার এখন।
ঠিক।
কয়েকদিন আগে একটা ভিডিও দেখছিলাম, একটা মহিলা তার বাড়িওলিকে নয় টুকরো করে, মাথাটা বাজার ব্যাগে ভরে রাস্তা দিয়ে নিয়ে গিয়ে খালে ফেলে দিয়ে বাজার ব্যাগটা ভাঁজ করতে করতে রাস্তা দিয়ে ফিরে যাচ্ছিল। মনে হচ্ছিল যেন সে একটা লাউ কেটে টুকরা টুকরা করেছে।
৮|
১২ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:২৭
শ্রাবণধারা বলেছেন: সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া অল্প বয়সী, পেশাগত জীবনে অত্যন্ত উজ্জ্বল এই ছেলেটির অতি দুঃখজনক মৃত্যুর ঘটনাটি পড়েছিলাম। কিন্তু এর পেছনের এই ভয়াবহ গল্পটি জানা ছিল না।
আপনি পোস্টে খুব চমৎকারভাবে তার জীবনের এই করুণ গল্পটি তুলে এনেছেন।
১২ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:০১
করুণাধারা বলেছেন: এই খুবই দুঃখজনক ঘটনাটি আমাকে খুব ভাবাচ্ছে। আমেরিকার আইন নিয়ে, আমাদের মানবিকতা আর বিবেক নিয়ে...
আইনের কারণে মা-বাবা সন্তানের সন্দেহজনক মৃত্যু নিয়ে কোন তদন্ত করাতে পারছেন না। যে সন্তানকে তারা ভালোবাসা দিয়ে বড় করে তুলেছেন তার ব্যাপারে তাদের কোন অধিকার নেই, আমেরিকান আইনে Next of kin শুধুমাত্র spouse. এই ঘটনা না ঘটলে হয়তো এই অদ্ভুত আইনটি সম্পর্কে জানতে পারতাম না। এখন পরিস্থিতি এমন যে, মা বাবা দাফন করা ঠেকাতে পেরেছেন কিন্তু স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া অটোপ্সি করাতে পারছেন না। ধারণা করা হচ্ছে, মা বাবা হয়তো দু-তিন মাস অপেক্ষা করে, ছেলের কথা ভেবে, দাফন করাতে রাজি হয়ে যাবেন, আমেরিকাতেই। তারপর ঘটনাটা ধামাচাপা পড়ে যাবে।
৯|
১২ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৫
ভুয়া মফিজ বলেছেন: এ তো দেখি ছোট-বড় সাইকোপ্যাথের গপ্পো!!!! মানে, ভাই ছোট আর বোন বড় সাইকো!!!!! ![]()
এমন সাইকো আমাদের চারপাশে বহু আছে; এদের খালি চোখে দেখে বোঝা যায় না। দিনে পর দিন পর্যবেক্ষণে রাখতে হয়, তবেই এরা ধরা দেয়। তবে যতো যাই বলেন, দেবীর প্রথম বয়ফ্রেন্ড আর গেয়ান (বেকুবকে আর জ্ঞান বললাম না) দুইটাই মহাবেকুব। সুন্দরী মেয়ে দেখলেই চোখ ট্যারা হয়ে যাওয়া আর চেতনা বিলুপ্ত হওয়াদেরকে মহাবেকুব ছাড়া আর কি বলা যায় বলেন!!! এই ধরনের বেকুবদের বদান্যতাতেই দেবীর মতো সাইকোরা ভালো-মন্দ খেয়ে পড়ে বেচে থাকে।
দেবীর মতো এতোটা বদমাশ না হলেও এর কাছাকাছি একজন আমার খুবই ঘনিষ্ঠ আত্মীয়া আছে। সেও আম্রিকাতেই থাকে। এরে একবার এমন প্যাদানী দিয়েছিলাম যে, শেষে আমার বউ আমাকে ধমক দিয়ে বলেছিল, আমি নাকি বেশি বেশি করছি!!!! কন দেখি কেমন লাগে? এখন অবস্থা এমন যে, পারিবারিক কোন অনুষ্ঠানে আমি থাকবো জানলে সে সেই এলাকার ধারে-কাছেও আসে না।
১২ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:০৬
করুণাধারা বলেছেন: : এ তো দেখি ছোট-বড় সাইকোপ্যাথের গপ্পো!!!! মানে, ভাই ছোট আর বোন বড় সাইকো!!!!! ![]()
এই কথাটাই সবাই বলছে, এরা একটা সাইকোপ্যাথ পরিবার!!
আপনার মত, আমিও এমন কাউকে কাউকে চিনি! আমাদের আশেপাশেই এমন অনেকে আছে, যারা কেবল কথা আর অভিনয় দিয়ে অন্যকে বশীভূত করে ফেলে। আমার এক সহপাঠী মেয়ে, আরেক সহপাঠী ছেলের থেকে যেসব পড়া সে বুঝতো না সেসব বুঝে নিত, বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় এম এস করাকালীন। যখন মেয়েটি মাস্টার্সে ছেলেটির চাইতে ভালো রেজাল্ট করে তখনই ছেলেটি বুঝতে পারে, এবং পরে মেয়েটির নাম শুনলে পর্যন্ত তেলে বেগুনে জ্বলে ওঠে।
দেবীর প্রথম বয়ফ্রেন্ড হয়তো বেকুব হতে পারে, কিন্তু জ্ঞানকে আমি বেকুব বলবো না, বরং সরল বিশ্বাসী ছেলে বলা যায়। (একটা কথা জ্ঞান তো ওর নাম নয়, ওর যে চমৎকার নামটি আছে তার বাংলা অর্থ জ্ঞান)। সে তার পরিবারের সাথে খুব ঘনিষ্ঠ। দাদাকে মসজিদে নামাজ পড়তে নিয়ে যেত, যখন দাদা অসুস্থ হয়ে হাঁটতে পারেন না তখন নিজের রুম ছেড়ে দাদার রুমে থাকতে লাগলো তার সেবা করার জন্য, কখনো সারা রাত জেগে। এই সব কিছুর মাঝেও সে খুব ভালো রেজাল্ট করছিল। কিন্তু সে কোন মেয়েদের সাথে কখনো ঘনিষ্ট হয়নি। দেবীকে দেখে তার চোখ টেরা হবার কথা নয়, তার পরিবারের মেয়েরা দেবীর চাইতে বহু গুনে সুন্দরী, ভদ্র এবং শিক্ষিত। তবে মেয়েদের সাথে চেনাজানা না থাকায় সম্ভবত সে দেবীর ছলাকলা বুঝতে পারেনি।
তবে এই ঘটনা শিক্ষামূলক হয়ে থাকবে, সকল পুরুষ এবং নারীদের জন্য।
এই কথাটাই সবাই বলছে, এরা একটা সাইকোপ্যাথ পরিবার!!
১০|
১২ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৪
খায়রুল আহসান বলেছেন: নারীদেরকে সাধারণতঃ মায়াবতী বলে মনে করা হয়। কিন্তু সকল পশু-পক্ষী-প্রাণীসহ মানুষের মধ্যেও নারী প্রজাতি যখন হিংস্র হয়ে ওঠে, তখন তারা সকল হিতাহিত জ্ঞানের শেষ সীমাটি অতিক্রম করে যেতে পারে নির্দ্বিধায়। A tigress is always more ferocious than a tiger.
খুনের মামলা কখনও তামাদি হয় না। জ্ঞানের মা বাবা অথবা অন্য কোন ন্যায়বিচারপ্রার্থী শুভাকাঙ্খী যুক্তরাষ্ট্রের একজন ভালো আইনজীবির শরণাপন্ন হতে পারেন। শতাব্দী পরে হলেও, এমন একটি নির্মম মৃত্যুর (এখনই এটাকে হত্যাকাণ্ড বলা হয়তো ঠিক হবে না) পেছনের রহস্য একদিন উদ্ঘাটিত হবে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে বলেই আমার বিশ্বাস। এলাকার বাঙালি-আমেরিকানরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে ন্যায়বিচারের দাবী তুলতে পারেন।
ঘটনাটির কথা ভাসা ভাসা শুনেছিলাম। আপনার এ পোস্ট পড়ে অনেক কিছুই জানা হলো। কিন্তু ঘটনাটি এতটাই বিষাদময় যে এ নিয়ে কিছু লিখা তো দূরের কথা, ভাবতেও ভয় হয়।
'জ্ঞান' নামের যে প্রকৃ্ত মানুষটি আজ লোকান্তরে, তার মাগফিরাত এবং রহস্যটির আশু উন্মোচন কামনা করছি।
©somewhere in net ltd.
১|
১১ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:০০
মিরোরডডল বলেছেন:
ধারাপু, এটা কি কোন গল্প নাকি বেইজড অন ট্রু স্টোরি।
লেখাতে কন্ট্রাডিকশন আছে, অনেক প্রশ্ন ঘুরছে।
দেবী নাকি বুদ্ধিমতী, তাহলে কেউ কিছু মাথায় ঢোকাতে চাইলেই সে টোপ গিলবে কেনো,
বুদ্ধি কোথায় ছিলো, নিজ বুদ্ধি কাজে লাগায়নি কেনো?
বুদ্ধিমত্তা থাকা সত্ত্বেও সে শেষে স্থান পেয়ে ডিম্যান্ডলেস সাবজেক্ট পড়েছে, বিষয়টা কেমন নাহ!
ট্রিক্স করে কারো কাছ থেকে সুযোগ সুবিধা নেয়া, কাউকে ব্যবহার করা, এগুলো বুদ্ধিমত্তার পরিচয় না,
এই বৈশিষ্ট্যগুলোকে বলে ধূর্ততা, she’s not intelligent at all, but shrewd selfish, an opportunist.
এখানেই কন্ট্রাডিকশন, প্রথম কয়েক প্যারায় যেভাবে একটা ইউনিতে পড়া মেয়েকে ভাই সব গাইড করছে,
ইভেন গ্রুপ চ্যাটে প্রক্সি দেয়, তখন মনে হচ্ছে she’s a dumb & disabled.
তার প্রথম প্রেমিককেও একটা ষ্টুপিড মনে হয়েছে।
কি করে আট বছর এই মেয়েকে টলারেইট করে, দেবী তাকে ছেড়ে যাবার আগে তারই উচিত ছিলো দেবীকে কুইট করা।
আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করতে গেলো কি করে, যে কিনা তার সমস্ত অ্যাসাইনমেন্ট এবং রিসার্চ পেপার অন্যকে দিয়ে করায়!!!!!!!!
আরও অনেক কোয়েশ্চেন আছে ধারাপু