| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সৈয়দ কুতুব
নিজের অজ্ঞতা নিজের কাছে যতই ধরা পড়ছে প্রচলিত বিশ্বাসের প্রতি ততই অবিশ্বাস জন্মাছে!
মাইলস্টোন স্কুলের কথা কি এখনও মনে আছে? একটা ট্রেনিং জেট ক্রাশ করেছিল স্কুলের ওপর। ছোট ছোট বাচ্চারা ক্লাস করছিল, হঠাৎ আকাশ থেকে নেমে এল মৃত্যু। ঠিক যেমনটা আমরা সিনেমাতে দেখি, অথচ সেটা ছিল নিষ্ঠুর বাস্তব। আমরা আসলে এক অদ্ভুত ‘গোল্ডফিশ মেমোরি’র জাতি। বেইলি রোডের আগুনে যখন ২১ জন মানুষ নিছক এক রেস্তোরাঁয় খেতে গিয়ে পুড়ে ছাই হয়ে গেল, তখন কয়েকদিন খুব শোরগোল হলো। তারপর সব ঠান্ডা। এখন আর সেই আগুনের উত্তাপ কারো গায়ে লাগে না।
ঠিক একইভাবে মাইলস্টোন স্কুলের ওপর যখন ট্রেনিং জেটটা আছড়ে পড়ল, সেই মুহূর্তের বীভৎসতাও আমরা প্রায় ভুলতে বসেছি। আমাদের দেশে প্রতিদিন মানুষ মরে: কেউ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে, কেউ স্রেফ মাথার ওপর ইঁট পড়ে, আবার কেউ বা হামের মতো অসুখে। অভাবী দেশে মৃত্যুর মিছিল এতই দীর্ঘ যে, ছয় মাস বা এক বছর আগের শোক মনে রাখাটা এখানে বিলাসিতা মাত্র। সম্প্রতি মাইলস্টোনকে নিয়ে এক অপ্রত্যাশিত সাক্ষ্য এসেছে। খালেদ মহিউদ্দিনের একটি টক শোতে হুম্মাম কাদের চৌধুরী, যার পিতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী যুদ্ধাপরাধের দায়ে ফাঁসি হয়েছিল, তিনি বলেছেন:
"একটা ট্রেনিং জেট ক্রাশ করেছিল মাইলস্টোন স্কুলে। সবাই ছোটাছুটি করছিল কীভাবে ক্রাইসিসটা ট্যাকল করা যায়... সৎ সাহস নিয়ে একটা কথা বলতে চাই: ডা. সামন্ত লাল সেন, আওয়ামী লীগের শেষ সময়ে মন্ত্রীও ছিলেন। ওনাকে সবাই চেনে এজ গুরু অফ ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট আর বার্ন ইউনিটের জন্য। ওনার তরফ থেকেও সাহায্যের হাত বাড়ানো হয়েছিল, আমি এই মেসেজটা পাস করেছিলাম ইন্টেরিম সরকারের কাছে, ওনারা বলেছে 'অ্যাবসোলিউটলি নট'। আমি জানি না, ওনাকে নিলে হয়তো কয়েকটা জান বাঁচানো যেত। এটা ছিল তাদের ঘাড়ত্যাড়ামি।"
এখানেই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সমস্যাটা লুকিয়ে আছে। আমাদের দেশে যোগ্যতার চেয়ে 'রঙ' বা 'ট্যাগ' অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ডা. সামন্ত লাল সেন নিঃসন্দেহে একজন অসাধারণ চিকিৎসক এবং তার বার্ন ইউনিট প্রতিষ্ঠার অবদান অনস্বীকার্য। কিন্তু তিনি যখন শেখ হাসিনার শেষ সময়ে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হওয়ার পথে পা বাড়ালেন, তখন থেকেই তিনি নিজের পেশাদারিত্বের নিরপেক্ষতা বিসর্জন দিয়ে দিলেন। যিনি দেশের সেরা চিকিৎসকদের একজন হিসেবে পরিচিত, তিনি কি সত্যিই বুঝতে পারেননি যে ২০২৪ সালের সেই নির্বাচন কী ছিল?
যেখানে বিরোধী দল অংশ নেয়নি আর ডামি প্রার্থী দিয়ে ভোটের অভিনয় করা হয়েছিল, সেখান থেকে মন্ত্রী হওয়া মানে একটি ব্যর্থ ব্যবস্থাকে বৈধতা দেওয়া। তিনি বুঝেননি না কি বুঝেও লোভে পড়েছিলেন, সেটা তিনিই জানেন। তবে তিনি যদি শুধু তার সাদা অ্যাপ্রনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতেন এবং কোনো দলের আশ্রয় না নিতেন, তবে যেকোনো সরকারই আজ তার কাছে ছুটে যেত। একজন নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞের যে অপরিসীম মূল্য, তা তিনি নিজেই একটা রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে কমিয়ে ফেলেছেন।
এই ধরনের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কঠিন নিয়ম চালু আছে বাংলাদেশে। যে দল ক্ষমতায় আসে, প্রথম কাজই হলো আগের দলের সব কিছু মুছে দেওয়া : স্কুল-কলেজের নামফলক থেকে শুরু করে প্রশাসনের প্রতিটা স্তর পর্যন্ত। আগের সরকারের আমলারা ওএসডি হন, অবসরে যান, কেউ কেউ জেলে যান। এটাকে কেউ সংস্কৃতি বলে, কেউ বলে প্রতিশোধ। আসল সত্যি হলো, ক্ষমতার পালাবদলে যোগ্যতার কোনো মূল্য নেই এই দেশে। যোগ্যতা বিচার হয় দলীয় পরিচয়ে।
গত পনেরো বছরে যারা আওয়ামী লীগের সাথে যুক্ত ছিলেন, সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন বা কোনোভাবে যোগাযোগ রেখেছেন, তাদের একটা বড় অংশকে এখন মূল্য দিতে হচ্ছে। কেউ জেলে, কেউ দেশ ছেড়েছেন, কেউ সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন। এমনকি যারা কিছুই করেননি, শুধু একদিন কোনো একটা অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের কারো পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তুলেছিলেন, তারাও সমস্যায় পড়েছেন। এই আগুনেই এখন ডা. সামন্ত লাল সেনের মতো দক্ষ মানুষরা পুড়ে 'ফ্যাসিবাদীর দোসর' হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন। এটা নতুন কোনো ঘটনা নয়, এটাই বাংলাদেশের ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি।
আওয়ামী লীগ যে দীর্ঘ সময় দেশ পরিচালনা করেছে, তাতেই ডা. সেনের মতো দক্ষ মানুষকে এত দেরিতে নিয়োগ দেওয়া থেকে বোঝা যায় স্বাস্থ্য খাতের অবস্থা কতটা খারাপ ছিল। করোনা মহামারীর সময় যখন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি ছিল, তখনই তাকে নিয়োগ দেওয়া যেত। অথচ ২০০৮ সালে প্রথমবার ক্ষমতায় এসেও সেটা করা হয়নি। বরং হাসান মাহমুদ বা দিপু মনিদের মতো ভুইফোঁড় মানুষরা বারবার মন্ত্রী হয়েছেন এবং দেশের ক্ষতি করেছেন।
অন্তর্বর্তী সরকারে যারা উপদেষ্টা হয়েছেন, সামনের দিনগুলো তাদের জন্য খুব একটা সহজ হবে না। যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠছে বা উঠবে, তাদের পরিণতি মইন উ আহমেদের মতো হওয়ার আশঙ্কা কম নয়। জুলাইয়ের কোটা আন্দোলন থেকে ক্ষমতায় আসা সত্ত্বেও রাজনৈতিক পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে, তাতে ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। আজ যারা হিরো, কাল তারা জিরো হতে সময় লাগবে না।
আমাদের বুদ্ধিজীবী এবং দক্ষ মানুষেরা যখন রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তি শুরু করেন, তখন তারা আসলে নিজেদেরই ক্ষতি করেন না, বরং পুরো জাতির জন্য এক অপূরণীয় আক্ষেপ তৈরি করেন। রাজনীতি আসবে, যাবে; কিন্তু মেধা আর যোগ্যতার যে অপচয় হচ্ছে এই প্রতিহিংসার সংস্কৃতিতে, তার মাশুল কে দেবে? সম্ভবত সেই উলুখাগড়া নামের সাধারণ মানুষরাই, যাদের জীবনের দাম রাজাদের লড়াইয়ের চেয়ে অনেক কম।
১১ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫০
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আপনার সাথে একমত ।
২|
১১ ই মে, ২০২৬ ভোর ৫:১৮
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: অন্তর্বর্তী সরকারে যারা উপদেষ্টা হয়েছেন,
সামনের দিনগুলো তাদের জন্য খুব একটা সহজ হবে না।
..................................................................................
পেশাজীবি মানুষের কাছে রাজনীতি বড় হওয়া উচিৎ নয়
যারা নিজ নিজ কর্মে খ্যাতি অর্জন করেছেন ,
তাদের দেশ সেবার জন্য নিরপেক্ষ থাকা অতীব জরুরী ।
১১ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫০
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: ইউনুস সাহেব কি নিরপেক্ষ ছিলেন না ?
৩|
১১ ই মে, ২০২৬ সকাল ১১:৫৬
নতুন বলেছেন: "একটা ট্রেনিং জেট ক্রাশ করেছিল মাইলস্টোন স্কুলে। সবাই ছোটাছুটি করছিল কীভাবে ক্রাইসিসটা ট্যাকল করা যায়... সৎ সাহস নিয়ে একটা কথা বলতে চাই: ডা. সামন্ত লাল সেন, আওয়ামী লীগের শেষ সময়ে মন্ত্রীও ছিলেন। ওনাকে সবাই চেনে এজ গুরু অফ ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট আর বার্ন ইউনিটের জন্য। ওনার তরফ থেকেও সাহায্যের হাত বাড়ানো হয়েছিল, আমি এই মেসেজটা পাস করেছিলাম ইন্টেরিম সরকারের কাছে, ওনারা বলেছে 'অ্যাবসোলিউটলি নট'। আমি জানি না, ওনাকে নিলে হয়তো কয়েকটা জান বাঁচানো যেত। এটা ছিল তাদের ঘাড়ত্যাড়ামি।"
এটাও একটা রাজনিতিক ডায়ালগ।
ডা সামন্ত লাল সেন অবশ্যই গুরু অফ ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট। কিন্তু ঐ সময় উনার জন্য বার্ন ইউনিট বন্ধ ছিলো না, এবং সেই সময়ের যারা আহত ছাত্র/শিক্ষকদের চিকিতসার দায়ীত্বে ছিলো তারা অবশ্যই তাদের সাধ্য মতন চেস্টা করেছে। আমাদের দেশের চিকিতসা ব্যবস্থার উন্নয়ন দরকার।
হামে দেশে ৪০০ এর মতন শিশু মারা গেছে, কিছুদিন পরে আরেক রাজনিতিক এই সরকারের ব্যর্থতা নিয়ে কথা বলবে কিন্তু রাজনিকিতরা দেশের চিকিতসা ব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য আন্দলোন করবে না। ![]()
১১ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৪
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: এভাবেই চলবে ..।
৪|
১১ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১২:২১
বিচার মানি তালগাছ আমার বলেছেন: হুম্মাম কাদের চৌধুরী এখন সুশীল সাজার চেষ্টা করছেন। শুধু তিনিই না, বিএনপি'র অনেক নেতা সুশীল সুশীল কথাবার্তা ইদানিং বলছেন। বাংলাদেশে সুশীলতা দিয়ে মার্কেট পাওয়া যায় না। বিএনপি-কে মানুষ ভোট দিয়েছে অতি সুশীলদের (BAL) বিরুদ্ধে গিয়ে। যাই হোক, ছাত্র রাজনীতি, শিক্ষক রাজনীতি, পেশাজীবি রাজনীতি পুরোপুরি বন্ধ হওয়া উচিত আমাদের দেশে। এর মাধ্যমে সমাজে এমন বিভাজন তৈরি হয় যে, সরকার বদলালে দক্ষ লোককেও ক্ষতির শিকার হতে হয়...
১১ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৪
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: সরকার বদলালে দক্ষ লোককেও ক্ষতির শিকার হতে হয়.. এটা সঠিক কথা ।
৫|
১১ ই মে, ২০২৬ দুপুর ২:০৩
ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:
চিকিৎসা ব্যবস্থা উন্নত করার জন্য কি কি টাস্ক গঠন করা উচিত? - ৯০ দিনে দেশের আমূল চিকিৎসা ব্যবস্থা উন্নত করা সম্ভব কিনা?
১১ ই মে, ২০২৬ দুপুর ২:৪২
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: এখানে কোনো নির্বাচিত সরকারের সমালোচনা করা হচ্ছে না। তাই ৯০ দিনে সরকারের পক্ষে কী করা যেত বা করা সম্ভব ছিল, সেই উত্তর দিচ্ছি না। ‘মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি’ আমাদের সবাইকে দারুণভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে। তাই যখন কেউ এই প্রসঙ্গে বক্তব্য দেন, সবাই শুনতে চায় আসলে পর্দার আড়ালে কী ঘটেছিল। এটি নিয়ে যেমন আলোচনা হচ্ছে, তেমনই সমালোচনাও চলছে।
চিকিৎসা ব্যবস্থা উন্নত করার জন্য কি কি টাস্ক গঠন করা উচিত?
চিকিৎসক সংখ্যা বাড়ানো , গ্রামে পোস্টিংয়ে বাড়তি বেতন, দ্রুত পদোন্নতি, এবং বাসস্থান সুবিধা , প্রতিটি উপজেলায় অন্তত গাইনি, শিশু ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ নিশ্চিত করতে হবে এবং কমিউনিটি ক্লিনিক মডেলকে আরও শক্তিশালী করতে হবে । মানুষ রংপুর বা বরিশালে জন্মেছেন বলে তিনি ঢাকায় এসে চিকিৎসা করাতে হবে , এটা গ্রহণযোগ্য না ।
৬|
১১ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:২৫
ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:
১। আমার মন্তব্যে কিভাবে মনে হয়েছে, “আপনার শেখ হাসিনার সব দোষ!” অথবা নির্বাচিত কোনো সরকারে সমালোচনা করেছি?
২। আপনি বার্ন ইউনিটের চিকিৎসার কথা বলেছেন, চিকিৎসা ব্যবস্থার কি সমস্যার কারণে ছাত্র ছাত্রীর চিকিৎসা দেওযা সম্ভব হয়নি বা ভালো চিকিৎসা দেওয়া যায়নি - রাজনৈতিক কারণ নাকি চিকিৎসা ব্যবস্থা ভালো ছিলো না।
৩। মাইলস্টোন কাহিনী সকলের মনে আছে। গোল্ডফিস মেমোরি হচ্ছে ফেসবুকের অতি চালাকি ও লেইম শ্রেনীর একটি শব্দ।
৪। আমার প্রশ্ন “যথাযথ কর্তৃপক্ষ” বলতে একটি বিষয় আছে, এই বিষয়ে আপনি কিছু বুঝেন? মাইলস্টোন স্কুলের সাথে “যথাযথ কর্তৃপক্ষ” - কিভাবে জড়িত?
১১ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৬
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: ১: আমার মন্তব্যে কিভাবে মনে হয়েছে "আপনার শেখ হাসিনার সব দোষ!" অথবা নির্বাচিত কোনো সরকারের সমালোচনা করেছি?লেখায় ইন্টেরিম সরকারের সিদ্ধান্তকে "ঘাড়ত্যাড়ামি" বলা হয়েছে, উপদেষ্টাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সতর্ক করা হয়েছে। পুরোটা পড়লে এই প্রশ্ন আসত না।
২: চিকিৎসা ব্যবস্থার কি সমস্যার কারণে ছাত্রছাত্রীর চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয়নি -রাজনৈতিক কারণ নাকি চিকিৎসা ব্যবস্থা ভালো ছিল না? আমি বার্ন ইউনিটের চিকিৎসা নিয়ে লিখিনি, এটা আমার লেখার বিষয় নয় । আমি লিখেছি একটা নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নিয়ে। হুম্মাম কাদের চৌধুরী নিজে টক শোতে বলেছেন "অ্যাবসোলিউটলি নট" - এটা তার মুখের কথা, আমার মাথা থেকে বের করা না।
৩: গোল্ডফিশ মেমোরি হচ্ছে ফেসবুকের অতি চালাকি ও লেইম শ্রেণির একটি শব্দ? গোল্ডফিশ মেমোরি ফেসবুকের ভাষা না। এটা একটা পুরনো সাংস্কৃতিক রূপক ; গোল্ডফিশ ছোট বাটিতে সাঁতার কাটে যেন প্রতিটা ঘোরাই নতুন অভিজ্ঞতা, এই পর্যবেক্ষণ থেকেই শব্দটা এসেছে। ১৯৫০ এর দশক থেকে বিজ্ঞানীরা গোল্ডফিশের স্মৃতিশক্তি নিয়ে গবেষণা করছেন। এটা ফেসবুক আসার বহু আগের ধারণা।
৪: "যথাযথ কর্তৃপক্ষ" বলতে একটি বিষয় আছে, এই বিষয়ে আপনি কিছু বুঝেন? মাইলস্টোন স্কুলের সাথে "যথাযথ কর্তৃপক্ষ" কিভাবে জড়িত? আমার লেখাটা কোনো তদন্ত রিপোর্ট না, বিশ্লেষণ পেপারও না। আমি লিখেছি বাংলাদেশের একটা চেনা ছবি নিয়ে যেখানে ক্ষমতা বদলালে রাজনৈতিক হাওয়া বদলায়, সেই হাওয়া যারা বোঝেন না তারাই ভোগেন। কে দোষী কে নির্দোষ সেটা আমার বিষয় না। এই সহজ কথাটা বুঝতে "যথাযথ কর্তৃপক্ষ" লাগে না।
আমি বিশেষজ্ঞ না, সাধারণ মানুষ। সাধারণ মানুষের আবেগ আর পর্যবেক্ষণ প্রকাশের অধিকার আছে। আপনার প্রতিটা প্রশ্ন আমার মূল বক্তব্যকে একটুও স্পর্শ করেনি। সবগুলো প্রশ্নে একটাই সুর : 'আপনি কি বোঝেন?', 'এই বিষয়ে আপনার জ্ঞান আছে?', 'গোল্ডফিশ মেমোরি লেইম শব্দ।' আমার কাছে সবসময় মনে হয় এই ধরণের প্রশ্ন আসলে সাধারণ মানুষকে চুপ করিয়ে দেওয়ার কৌশল ইউজ করা হয় । বিশেষজ্ঞ না হলেও আমি দেখতে পাই, অনুভব করতে পারি, প্রশ্ন করতে পারি। একজন মা যার সন্তান মাইলস্টোনে মারা গেছে তাকে কেউ জিজ্ঞেস করে না 'আপনি কি বিমান রক্ষণাবেক্ষণ বোঝেন?' তার কষ্ট এবং প্রশ্নের অধিকার সম্পূর্ণ বৈধ।
৭|
১১ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০
ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:
সহমত । আপনি সঠিক। আপনার পোস্টে ইন্টেরিয়র ডিজাইন না ইন্টেরিম কি যেনো নাম! আর হুম্মাম হচ্ছে সাবজেক্ট। আর অবজেক্ট হচ্ছে - মাইলস্টোন কাহিনী। আমি মাইলস্টোনকে সাবজেক্ট ধরে মন্তব্য করেছি।
আমার মন্তব্যে কি বলেছি ভুলে যান। এই পোস্টে মন্তব্য শেষ।
আপনাকে অশেষ অশেষ ধন্যবাদ।
১১ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৯
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আপনাকও অশেষ অশেষ ধন্যবাদ।
৮|
১১ ই মে, ২০২৬ রাত ৮:৪৭
কলিমুদ্দি দফাদার বলেছেন:
এইসব দেশ নিয়ে লেখা আর চিন্তা বাদ দিন....
৯|
১১ ই মে, ২০২৬ রাত ১১:১৯
রাজীব নুর বলেছেন: আপনি তো ধীরে ধীরে রাজনীতি বিশ্লেষক হয়ে যাচ্ছেন।
©somewhere in net ltd.
১|
১১ ই মে, ২০২৬ ভোর ৫:০৭
ঢাকার লোক বলেছেন: আমাদের দেশে এমপি, মন্ত্রী, ভিসি বা সচীব হওয়ার অর্থনৈতিক এবং সামাজিক অবস্থানের বিবেচনায় এতই লোভনীয় যে সুযোগ মিললে উপেক্ষা করা কঠিন। তাই প্রস্তাব এলে না করা হয়ে উঠে না।