| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সৈয়দ কুতুব
নিজের অজ্ঞতা নিজের কাছে যতই ধরা পড়ছে প্রচলিত বিশ্বাসের প্রতি ততই অবিশ্বাস জন্মাছে!
কারিনা কায়সার এখন জীবন আর মৃত্যুর মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছেন। একটা তরুণ মেয়ে। বয়স ত্রিশের আশেপাশে। একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটর। আরেকটা বড় পরিচয় হলো তিনি বাংলাদেশের জাতীয় ফুটবল দলের কিংবদন্তি খেলোয়াড় কায়সার হামিদের মেয়ে। দীর্ঘদিন ধরে ফ্যাটি লিভারের সমস্যায় ভুগছিলেন। পরে হেপাটাইটিস এ এবং ই ধরা পড়ে। সেখান থেকে অবস্থা গড়ায় লিভার ফেইলিউরের দিকে। এখন তার পরিবার মানুষের কাছে দোয়া চাইছে। একজন বাবা তার মেয়েকে বাঁচানোর জন্য রাষ্ট্র আর সমাজের দরজায় দরজায় কড়া নাড়ছেন।
স্বাভাবিক একটা সমাজে এরকম ঘটনায় মানুষের সহানুভূতি জেগে ওঠার কথা ছিল। মানুষ বলত, আল্লাহ মেয়েটাকে সুস্থ করে দিন। কিন্তু আমরা এখন আর স্বাভাবিক সমাজে বাস করি না। আমরা এমন এক সময়ে ঢুকে পড়েছি যেখানে একজন অসুস্থ মানুষকে দেখেও মানুষের ভেতর ঘৃণা, প্রতিশোধ আর বিকৃত আনন্দ জেগে ওঠে।
কারিনা জুলাই আন্দোলনের সময় সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় ছিলেন। ছাত্র জনতার পক্ষে কথা বলেছেন। সেটাই এখন তার বিরুদ্ধে একদল মানুষের ঘৃণার কারণ। আওয়ামী লীগপন্থী বিভিন্ন আইডি আর পেজ থেকে তার অসুস্থতা নিয়ে বিদ্রুপ করা হচ্ছে। কেউ তাকে “গণভবন লুটপাটকারী” বলছে। কেউ তার মৃত্যু কামনা করছে। কেউ আবার স্লাটশেমিং করছে। হাজার হাজার মানুষ সেই পোস্টে “আলহামদুলিল্লাহ” লিখে মন্তব্য করছে। যেন একজন মানুষের মৃত্যুযন্ত্রণা তাদের কাছে কোনো ট্র্যাজেডি না, বরং রাজনৈতিক প্রতিশোধের উৎসব।
সবচেয়ে ভয়ের বিষয় হলো, এই সংস্কৃতি নতুন না। বহু বছর ধরে বাংলাদেশে ধীরে ধীরে একটা নিষ্ঠুর রাজনৈতিক সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। এর পিছনে পুরোপুরি দায়ী জামায়াত শিবির ; আগে দেখা যেত আওয়ামী লীগের কেউ মারা গেলে বা দুর্ঘটনায় পড়লে জাশি ও কাশিরা মিলে “আলহামদুলিল্লাহ” লিখে উল্লাস করছে। অবাক হয়ে ভাবতাম , মানুষ কি সত্যিই এতটা নিষ্ঠুর হতে পারে? যাকে ভালোভাবে চিনি না জানি না এমন একজন মৃত বা মৃত্যুপথযাত্রী মানুষকে নিয়ে এভাবে আনন্দ করা কীভাবে সম্ভব?
কিন্তু ঘৃণার বীজ একবার বপন করলে সেটা একসময় সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়ে । আজ সেই একই সংস্কৃতি উল্টো দিকে ঘুরে এসেছে। এখন জামায়াত বা শিবিরপন্থী কারও মৃত্যু হলেও হাজার হাজার মানুষ একইভাবে “আলহামদুলিল্লাহ” লিখে মন্তব্য করে। যেন মৃত্যু এখন রাজনৈতিক সমর্থকদের জন্য ফুটবল ম্যাচের গোল উদযাপন। যেন প্রতিপক্ষের লাশ দেখলে মানুষ নিজের আদর্শের বিজয় অনুভব করে।
কারিনার ঘটনায় আরও একদল মানুষের প্রতিক্রিয়া দেখা গেল। ডানপন্থী অনেকে তার ওপর ক্ষুব্ধ পুরনো এক মন্তব্যের কারণে। গত বছর ভূমিকম্পের সময় তিনি পবিত্রতা আর পর্দা নিয়ে কিছু বলেছিলেন। সেই বক্তব্য অনেকের ভালো লাগেনি। এখন তার অসুস্থতার সময় তারাও সহানুভূতি দেখাতে পারছে না। যেন মানুষের সব পরিচয়ের আগে এখন রাজনৈতিক আর আদর্শিক পরিচয় দাঁড়িয়ে গেছে। একজন মানুষ অসুস্থ কি না, একজন বাবা কাঁদছে কি না, একটা পরিবার ভেঙে পড়ছে কি না, এসব আর গুরুত্বপূর্ণ না। গুরুত্বপূর্ণ হলো সে “আমার দল” না “ওদের দল”।
আমরা আসলে ধীরে ধীরে এমন এক সমাজে ঢুকে পড়ছি যেখানে মায়া মমতা দুর্বলতার লক্ষণ হয়ে যাচ্ছে। ক্ষমা, সহানুভূতি, মানবিকতা এসব শব্দকে মানুষ বোকামি ভাবতে শুরু করেছে। এখন মানুষের ভেতরে শুধু প্রতিশোধের ক্ষুধা। সামাজিক মাধ্যম খুললেই বোঝা যায় আমাদের সমাজের ভেতরে কতটা পচন ধরেছে। বাস্তব জীবনে যারা হয়তো ভদ্র, তারাই ফেসবুকের কমেন্ট বক্সে মৃত্যুর জন্য উল্লাস করে। একজন মানুষের মা, বোন, ভাই, বন্ধু সেই মন্তব্যগুলো পড়লে তাদের মনের ওপর কী যায়, সেটা ভাবার ন্যূনতম সংবেদনশীলতাও অনেকের নেই।
কারিনার অসুস্থতার পেছনে আরেকটা বাস্তবতাও আছে, যেটা আমরা ইচ্ছা করে এড়িয়ে যাই। বাংলাদেশে খাবার এখন ধীরে ধীরে বিষে পরিণত হচ্ছে। কারিনা একজন ফুড ব্লগার ছিলেন। তার ভিডিওতে দেখা যায় নানা ধরনের রাস্তার খাবারের রিভিউ। ফুচকা, চটপটি, ফাস্টফুড, তেলে ভাজা খাবার। কিন্তু আমরা কি জানি সেই খাবারে কী ব্যবহার হচ্ছে? একই তেল কতবার ব্যবহার করা হচ্ছে? সস কেমন? ময়দা কেমন? রাস্তার পাশের খাবার কতটা স্বাস্থ্যকর?
বাংলাদেশে এখন গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ প্রায় মানুষের নিত্যসঙ্গী। সারজেল ২০ যেন জাতীয় খাবারের অংশ হয়ে গেছে। মানুষ কেবল ক্ষুধার জন্য না, মুখের স্বাদের জন্য প্রতিদিন নিজের শরীরে ধীরে ধীরে বিষ ঢুকিয়ে যাচ্ছে। বাইরে খাওয়া বন্ধ করতে বিশেষজ্ঞরা বলেন ঠিকই, কিন্তু বাস্তবতা হলো লাখ লাখ মানুষ এই সংস্কৃতির ভেতরেই আটকে আছে। কেউ ব্যবসার জন্য, কেউ অভ্যাসের জন্য, কেউ সময়ের অভাবে।
সবচেয়ে দুঃখের বিষয় হলো, খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে রাষ্ট্রের কার্যকর নজরদারি খুব কম। রাস্তার পাশে কী বিক্রি হচ্ছে, কোন তেল ব্যবহার হচ্ছে, কতটা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, এগুলো নিয়ে বড় কোনো সামাজিক আন্দোলন নেই। অথচ তরুণ বয়সেই এখন মানুষ লিভার ফেইলিউর, কিডনি ডিজিজ, ক্যানসার, স্ট্রোক নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে।
আমরা এমন এক সময়ে এসে দাঁড়িয়েছি যেখানে শুধু খাবার না, মানুষের মনও বিষাক্ত হয়ে গেছে। শরীরে বিষ ঢুকছে খাবার দিয়ে, আর মনে বিষ ঢুকছে রাজনীতি আর ঘৃণার মাধ্যমে। এই দুই বিষ একসাথে একটা অসুস্থ সমাজ তৈরি করছে। সেখানে একজন অসুস্থ মেয়েকে দেখে মানুষ দোয়া করার বদলে উল্লাস করে। সেখানে মৃত্যু মানুষকে কাঁদায় না, বরং কমেন্ট সেকশনে উৎসবের পরিবেশ তৈরি করে।
সমাজের অধঃপতন আসলে এভাবেই হয়। হঠাৎ করে না। ধীরে ধীরে। একটু একটু করে। যখন মানুষ অন্যের কষ্ট দেখে আনন্দ পেতে শেখে, তখনই বুঝতে হবে ভাঙন শুরু হয়ে গেছে।
Karina Kaiser on Life Support Becomes Target of Political Hate Speech-https://thedissent.news/current-affairs/karina-kaiser-on-life-support-becomes-target-of-political-hate-speech
photocard credit : the dissent
১২ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১২:১০
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: তাহার রোগমুক্তি প্রার্থণা করি ।
২|
১২ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:২৪
সন্ধ্যা রাতের ঝিঁঝিঁ বলেছেন: কারো মৃত্যু নিয়ে হাসি তামাশা কখনোই কাম্য না। সরি টু সে, এই অবস্থা তো একদিনে হয়নি। নারী হিসেবে আমি বলতে পারি বিএমআই থেকে সামান্য এক কেজি বেশি ওয়েট হলে কত রকমের অস্বস্তি দেখা দেয়। সেখানে আপার ক্লাস হিসেবে তার তো আরো সচেতন হওয়া উচিত ছিল। আমার বডি আমার চয়েজ এগুলো আসলে যৌক্তিক কিছু না। ফিটনেস এর কোনো বিকল্প নেই। নারীর জন্য দুনিয়া অনেক কঠিন। ফিটনেস একদিকে আর বাকিসব অন্যদিকে থাকা উচিত। এটার জন্য অনেক কিছু করতে হয় এমন ও না। যাস্ট একটা হেলদি লাইফ স্টাইল ই যথেষ্ট। হাতে গোণা কয়েকজনের জেনেটিক্যালি সমস্যা থাকে সেটা আলাদা বিষয়।
১২ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১:১৯
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আপনার সাথে সহমত পোষণ করছি।
৩|
১২ ই মে, ২০২৬ সকাল ৮:১০
শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু বলেছেন: যে কারো অসুস্থতা দু:খজনক। কে কোন মতাদর্শ লালন করে এটা বড় কথা নয়, প্রয়োজন আমাদের সবার মানবিক বোধের বিকাশ।
১২ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১২:১১
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: মানবিক বোধের বিকাশ দিন দিন কমছে । ইহা বাড়ানোর মতো সার আপাতত দেশে নেই ।
৪|
১২ ই মে, ২০২৬ সকাল ১০:০৯
অপু তানভীর বলেছেন: লীগের অবস্থা হইছে এমন যে জুলাইয়ে আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া কারো যদি পাতলা পায়খানা হয় তবুও এরা খুশি হয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেয় ''পাপ বাপকেও ছাড়ে না''।
এদের আসলে এই সুখ! আর তো কিছু করারও নেই। ![]()
১২ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১২:১০
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আসলেই উহারা দেউলিয়া হয়ে গেছে ।
৫|
১২ ই মে, ২০২৬ সকাল ১০:১৮
কলিমুদ্দি দফাদার বলেছেন: [
বাংলাদেশে এখন গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ প্রায় মানুষের নিত্যসঙ্গী। সারজেল ২০ যেন জাতীয় খাবারের অংশ হয়ে গেছে। মানুষ কেবল ক্ষুধার জন্য না, মুখের স্বাদের জন্য প্রতিদিন নিজের শরীরে ধীরে ধীরে বিষ ঢুকিয়ে যাচ্ছে। এইসব ফালতু কথা বাদ দিয়া; ভালো কথা বলেন। তেল-চর্বি, ভাজাপোড়া আন-হাইজেনিক পদ্ধতিতে বানানো খাবার খেয়ে আমাদের ইউমিনিটি সিষ্টেম অনেক শক্তিশালী। করোনার মতো ভাইরাস ও আমাদের কাবু করতে পারেনি.......
১২ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১:১৭
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আমি নিশ্চিত হলাম; আপনি প্রচুর বাইরের খাবার খান এবং পকেটে Sergel 20 নিয়ে ঘোরেন। ![]()
৬|
১২ ই মে, ২০২৬ সকাল ১০:২০
মহাজাগতিক চিন্তা বলেছেন: কারিনার সুস্থ্যতা কামনা করি।
১২ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১:১৮
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আমাদের সবার চাওয়া তাই ।
৭|
১২ ই মে, ২০২৬ সকাল ১০:৩৬
মোঃ মাইদুল সরকার বলেছেন: দুঃখ জনক। সুস্থ্যতা কামনা করছি।
১২ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১:১৮
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: কারিনার সুস্থ্যতা কামনা করছি।
৮|
১২ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১২:০৯
শ্রাবণধারা বলেছেন: তিনি সুস্থ হয়ে উঠুন এই দোয়া করি।
১২ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১:১৮
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আমাদের সকলের এখন একটাই চাওয়া ।
৯|
১২ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৭
শায়মা বলেছেন: যেটাই হোক এই ঘটনা দেখেও যদি স্ট্রিট ফুডের লোকজনদের এবার শিক্ষা হয় সাথে যারা নিশ্চিন্তে কিচ্ছু হবে না ভেবে খায় তাদের আরও বড় শিক্ষা হয়!!!
১২ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৬
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: লোভ সামলানো বড়ো দায় । মাজার মজার খাবার সামনে দেখলে মনে হয় মেডিসিন লাগলে মেডিসিন খাবো তবুও স্ট্রিট ফুড ছাড়া চলবে না ![]()
১০|
১২ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৬
রাজীব নুর বলেছেন: মেয়েটা সুস্থ হোক। এখন এটাই কাম্য।
১২ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৩
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আপনিও বাইরের খাবার কমান । টাকা বেশি হলে বাহিরের খাবার খেতে হবে এমন না ।
১১|
১২ ই মে, ২০২৬ রাত ৯:৫৪
শায়মা বলেছেন: আর খাবে না.....
কারিনাকে দেখেও শিক্ষা যদি না হয় কারো তো বুঝবো আমাদের দেশের মানুষজন স্বেচ্ছামৃত্যু পছন্দ করে...... ![]()
১২ ই মে, ২০২৬ রাত ৯:৫৯
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: ঠিক আছে আর খাবো না । ![]()
©somewhere in net ltd.
১|
১২ ই মে, ২০২৬ ভোর ৫:২৯
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: দীর্ঘদিন ধরে ফ্যাটি লিভারের সমস্যায় ভুগছিলেন।
পরে হেপাটাইটিস এ এবং ই ধরা পড়ে।
,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
এত সচেতন এক তরুন, তার এভাবে ফুসকা খাওয়া ঠিক
ছিলোনা । আমি তাহার রোগমুক্তি প্রার্থণা করি ।