নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মানুষ মরে গেলে পঁচে যায় আর বেঁচে থাকলে বদলায়

সৈয়দ কুতুব

নিজের অজ্ঞতা নিজের কাছে যতই ধরা পড়ছে প্রচলিত বিশ্বাসের প্রতি ততই অবিশ্বাস জন্মাছে!

সৈয়দ কুতুব › বিস্তারিত পোস্টঃ

খ্যাতির বিড়ম্বনা

১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:২৫


ক্ষেতের মধ্যে কনটেন্ট বানাতে বানাতে নাবালিকা নিয়ে ধরা খেয়ে এখন শ্রীঘরে আছেন ক্রিয়েটর রিপন মিয়া। ২০১৬ সালের দিকে  রিপন মিয়ার যাত্রা শুরু। আম গাছে আম নেই, ঢিল কেন মারো। তোমার সাথে প্রেম নাই, চোখ কেন মারো। এই ধরনের ছোট ছোট ছন্দ মিলিয়ে ভাইরাল হয়ে যান । শেষ পর্যন্ত নিজের বানানো বন্ধু তুমি একা হলে আমায় দিয়ো ডাক, তোমার সাথে গল্প করব আমি সারা রাত ছন্দকে বাস্তবে রুপ দিতে গিয়ে  হাতেনাতে ধরা পড়লেন রিপন মিয়া। সেলিব্রিটি হওয়ার এটাই বুঝি মজা। কচি থেকে বুড়া সবাই এখন রিপন মিয়াকে চায়।  

কনটেন্ট ক্রিয়েশন করে  নিজের ভাগ্য ফিরিয়েছেন রিপন মিয়া। নেত্রকোনার একসময়কার গরিব রাজমিস্ত্রি এখন হাজার হাজার মানুষের পরিচিত মুখ। টাকা পয়সাও হয়েছে ভালোই। কিন্তু একটা ছোট সমস্যা আছে। তিনি বিবাহিত মানুষ। বউ বাচ্চা সবই আছে। তারপরও সেলিব্রিটি হওয়ার গরম সামলানো কঠিন হয়ে গেছে। মানুষও তাকে দাম দেয়। মেয়েরা সেলফি তোলে। ফেসবুকে ছবি দেয়। ফলে তার মনে  হয়েছে, একটু আধটু নষ্টামি  তো করা যেতেই পারে । তবে শেষ রক্ষা হলো না । 

আরেকটি ঘটনা দেখুন। ফেসবুকে চ্যাট, তারপর কাল্পনিক প্রেম এবং পরিণামে এগারো বছরের এক শিশুর সঙ্গে বিশ বছরের যুবকের বিবাহ । তেরো বছর বয়সে সেই শিশু যখন সন্তানের মা হলো, তখন তার কোল থেকে সন্তানকে কেড়ে নেওয়া হলো। সন্তান ফিরে পেতে সেই কিশোরী মা যখন লিগ্যাল এইডে দৌড়াদৌড়ি শুরু করল, তখন দুই পক্ষই  যুক্তি নিয়ে হাজির। মেয়ে বলে তাকে ফুঁসলানো হয়েছে, আর ছেলে বলে মেয়েই নাকি তাকে পালিয়ে যেতে বলেছিল। 

আমাদের বর্তমান যুগের ট্রেন্ডটাও দারুণ! স্কুলে যাওয়ার বয়সে টিকটক, পড়াশোনার বয়সে রিলস, আর  বয়স হওয়ার আগেই বিয়ে করে সংসার করা। দুটো ভিডিও বানালেই প্রেম, পাঁচটা বানালেই গভীর ভালোবাসা, আর দশটা বানালেই সোশ্যাল মিডিয়ার 'পাওয়ার কাপল'! তারপর একদিন বিচ্ছেদ হলে ফেসবুক লাইভে এসে কান্নাকাটি, একে অপরের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার আর লাখ লাখ ভিউয়ের নোংরা ব্যবসা। 

দুটো ঘটনা আলাদা মনে হলেও একটা জায়গায় মিল রয়েছে। রিপন মিয়া ভাইরাল হয়ে নিজেই নিজের বিপদ ডেকে এনেছেন, আর ওই কিশোরী মেয়েটা ভাইরাল দুনিয়ার প্রেমের ফাঁদে পড়ে এখন সন্তান কোলে নিয়ে পথে পথে ঘুরছে। দুজনেরই জীবন উলটে গেছে, শুধু কারণটা আলাদা। আর এই দুইটা মানুষের এমন অবস্থার পেছনে আমাদের দায়টাও কম না। যে মানুষ যত বেশি নাটক করতে পারে, আমরা তাকে তত বেশি মাথায় তুলি। যে যত বেশি সীমা ভাঙতে পারে, তার ফলোয়ার তত বাড়ে। তারপর সেই মানুষটা যখন সত্যিই সীমা ছাড়িয়ে যায়, তখন আমরা আঙুল তুলে বলি এই লোকটা এমন করল কীভাবে। অথচ নিজেদের একবারও জিজ্ঞেস করি না, আমরা কেন এদের এত বড় করে তুলছি ।


ফোটোকার্ড ক্রেডিট : নিউজ এইজ এবং জগত নিউজ ।

মন্তব্য ৬ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (৬) মন্তব্য লিখুন

১| ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৩৩

জ্যাক স্মিথ বলেছেন: সেলিব্রেটি হলেই দেখি নারীদের সাথে ইয়ে ইয়ে করে... আমারও সেলিব্রেটি হইতে মুঞ্চায়।

১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৪১

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: তবে তেরো বছরের মেয়েটির ঘটনা একটি সম্প্রদায় কে আরো উসকে দিবে। ইহা থেকে কিশোর কিশোরীকে রক্ষা করিতে হইবে ।

২| ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ ভোর ৪:২৬

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: আমাদের বর্তমান যুগের ট্রেন্ডটাও দারুণ! স্কুলে যাওয়ার বয়সে টিকটক,
পড়াশোনার বয়সে রিলস, আর বয়স হওয়ার আগেই বিয়ে করে সংসার করা।

............................................................................................................
এর মূলত কারন হলো আমাদের সমাজ ব্যবস্হা ভেঙ্গে পড়েছে , ভারত , বাংলাদেশ ছাড়া
এরকম সামাজিক অব্যবস্হা উন্নত বিশ্বে দেখা যায়না । কারন সেখানে একটি শিশু বড়
করতে গিয়ে বাবা, মা ছাড়াও রাষ্ট্র কিছু নজরদারী করে , ফলে বাচ্চারা সহজে বিপথে যাবার
সুযোগ পায়না ।
===========================================================
আমার পরিবারে আমি বাচ্চাদেরকে ১০ম শ্রেণীতে উঠার পূর্বে কোন মোবাইল ফোন ধরতে দেই
নাই, সন্ধ্যায় এক ঘন্টা কার্টুন শেষে টিভি বন্ধ থাকত, তাদের মনযোগ নষ্ট হবে বিধায় নিজেরাও
টিভি চালাতামনা ।সংসারে শিশু জন্ম নিলে অবশ্যই বাবাও মার সঠিক দ্বায়িত্ব নিতে হবে, না হলে
বাচ্চা নেওয়াটা অপরাধ হিসাবে গণ্য করতে হবে ।

১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:০১

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আপনি ঠিক কাজ করেছেন ।

৩| ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:২৪

রাজীব নুর বলেছেন: এরা মূলত সমাজের আগাছা। চাঁদগাজীর ভাষায় মগজহীন।

১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:১৬

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: ভাইরাল হলে চাকুরির চেয়ে বেশি টাকা কামানো যায় ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.