| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সৈয়দ কুতুব
নিজের অজ্ঞতা নিজের কাছে যতই ধরা পড়ছে প্রচলিত বিশ্বাসের প্রতি ততই অবিশ্বাস জন্মাছে!
কাজী সালাউদ্দিন সাহেবের আসলেই রাজকপাল , এই কথা বললে বিন্দুমাত্র বাড়িয়ে বলা হয় না। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের মসনদে টানা ষোলো বছর বসে থাকার এক বিরল কীর্তি তিনি গড়েছেন, যা বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে সত্যিই এক অনন্য নজির। এত বছর ধরে একটা চেয়ারে বসে থাকা চাট্টিখানি কথা নয়, এর জন্য চাই অসাধারণ ধৈর্য, অসামান্য মনোবল আর সবচেয়ে বড় কথা চেয়ারের প্রতি এক অটুট ভালোবাসা যা তিনি প্রমাণ করে দেখিয়েছেন বারবার। মানুষ চাকরি বদলায়, সরকার বদলায়, এমনকি ঋতুও বদলায়, কিন্তু সালাউদ্দিন সাহেবের চেয়ারপ্রীতি কখনো বদলায়নি, এটাই তো আসল স্থিতিশীলতা।
স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের সদস্য হওয়া থেকে শুরু করে শেখ কামালের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হওয়া পর্যন্ত তার জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ই যেন সাজানো এক সৌভাগ্যের মালা। পকেটে শেখ কামালের ছবি রাখার অভ্যাসটাও কী চমৎকার একটা আবেগের নিদর্শন, যদিও কাকতালীয়ভাবে সেই আবেগটাই তার পদ বাঁচিয়ে রেখেছিলো। এটাকে নিছক ভালোবাসা ছাড়া আর কী বলা যায়? সামরিক সরকার আসুক বা বেসামরিক, আওয়ামী লীগ আসুক বা অন্য কেউ, সালাউদ্দিন সাহেব সবার কাছেই সমান প্রিয় থেকেছেন, এমন সর্বজনগ্রাহ্য ব্যক্তিত্ব খুঁজে পাওয়া সত্যিই ভাগ্যের ব্যাপার।
তার আমলে জাতীয় দলের ফিফা র্যাঙ্কিং একশো আশি নব্বইয়ের ঘরে ঘোরাফেরা করেছে ঠিকই, কিন্তু এটাকে ব্যর্থতা না বলে বরং ধারাবাহিকতা বলাই ভালো। কারণ পুরো ষোলো বছর ধরে র্যাঙ্কিং একইরকম রাখাটাও একধরনের কৃতিত্ব, প্রতিটি বছর হতাশা উপহার দেওয়া চাট্টিখানি কথা নয়। ফিফা যখন দেশের কর্মকর্তাদের শাস্তি দিচ্ছিল, তখনও তিনি অক্ষত থেকেছেন, এটাই তার সততার প্রমাণ, অন্য কিছু ভাবার কারণ নেই।
মেয়েদের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের তিনটা কাপ তার আমলের গর্বের সম্পদ, যদিও একই সময়ে মেয়েদের দল টাকার অভাবে অলিম্পিক বাছাইপর্বে যেতে পারল না; সেটা নিয়ে বেশি ভাবার দরকার নেই, সাফল্যের গল্পেই তো মন ভরে যায়। ২০২৪ সালে সরকার পতনের পরও তিনি চেয়ার ছাড়বেন না বলে অটল থাকলেন, এটাকে তার দায়িত্ববোধ বলেই মনে করি ; দেশপ্রেমিক মানুষ সহজে দায়িত্ব ছাড়তে চান না। অন্তর্বর্তী সরকার ফিফার নিষেধাজ্ঞার ভয়ে তাকে সরাতে সাহস পায়নি, শেষমেশ তিনি নিজেই মহানুভবতার পরিচয় দিয়ে সরে দাঁড়ালেন, এ যেন আত্মত্যাগের এক জ্বলন্ত উদাহরণ।
বাফুফে ছাড়ার কিছুদিনের মধ্যেই সাফ সভাপতি পদে আবার জয়ী হয়ে ফেরাটা প্রমাণ করে তিনি কতটা অপরিহার্য মানুষ ছিলেন । নিজ দেশ বাদ দিয়ে কেবল ভুটান আর নেপালের সমর্থন নিয়ে প্রতিবারের মতো বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হওয়া নিশ্চয়ই তার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার ফল, এটাকে কোনো ভাবেই সাফের অধঃপতন বলা যাবে না । তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনো মামলা নেই, কোনো অভিযোগও নেই, এই রেকর্ডই বলে দেয় ষোলো বছর ধরে তিনি কতটা নিরপেক্ষভাবে ফুটবলের সেবা করে গেছেন। শুধু আক্ষেপ একটাই, এমন মানুষকে আমরা ২০৪১ সাল পর্যন্ত বাফুফে সভাপতি হিসাবে ধরে রাখতে পারলাম না ।
Kazi Salahuddin re-elected Saff president unopposed-টিবিএস নিউজ
সাফের মসনদে আবারও ‘দুর্নীতির বরপুত্র’ কাজী সালাউদ্দিন-যুগান্তর
একজন আলোচিত-সমালোচিত সালাউদ্দিন- চ্যানেল আই অনলাইন ।
১২ বছরে কী দিলেন সালাউদ্দিন?- প্রথম আলো
ফটোকার্ড ক্রেডিট : ঢাকা ট্রিবিউন
১৪ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫৭
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: ঠিক কয়েছেন জাতক সাহেব।
২|
১৪ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:০১
জুল ভার্ন বলেছেন: পোস্টের বক্তব্যের সাথে একমত।
১৪ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫৭
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: ধন্যবাদ ।
৩|
১৪ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:৪০
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: দেশপ্রেমিক মানুষ সহজে দায়িত্ব ছাড়তে চান না।
..............................................................................
এমনটা প্রচার করা হয়েছিল যে , তিনি একরোখা ও পদলোভী
এখন কেন আবার উল্টো বয়ান আসছে ??
যদি উনার বিরুদ্ধে কোন তহবিল তসরুফ বা র্দূর্ণীতির মামলা
না থাকে তবে তিনি বিচক্ষন ও বুদ্ধিমান মানুষ।
..................................................................................
সুতরাং খেলার জগতে অবদানের জন্য অবশ্যই সম্মানিত করা উচিৎ ।
১৪ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫৭
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: উনাকে স্বাধীনতা পদক দেয়া হউক।
©somewhere in net ltd.
১|
১৪ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৩০
মহাজাগতিক চিন্তা বলেছেন: বিশ্ব এগিয়ে যায় আমরা স্থিতিশিলতায় পড়ে থাকি।