নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

নিজেকে লেখক বলে পরিচয় দিতে সংকোচ হয়; লেখালেখি ইবাদতসদৃশ সাধনা বলেই লিখি। নিজেকে জানা, বিশ্বকে অনুধাবন করা এবং সর্বোপরি মহান স্রষ্টার পরিচয় অন্বেষণই আমার নীরব যাত্রার পাথেয়। দূরে সরিয়ে দেওয়া নয়-সৃষ্টিকূলকে ভালোবাসায় আগলে রাখার শিক্ষাই ইসলামের মূল বাণী।

নতুন নকিব

যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দল-রোল আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না, অত্যাচারীর খড়্গ কৃপাণ ভীম রণ-ভূমে রণিবে না- বিদ্রোহী রন-ক্লান্ত। আমি সেই দিন হব শান্ত।

নতুন নকিব › বিস্তারিত পোস্টঃ

সূরা মুলক, আয়াত ৫: প্রচলিত তাফসীরের আলোকে তথাকথিত সায়েন্টিফিক ব্যাখ্যার পর্যালোচনা

২৪ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৮:৩৫

সূরা মুলক, আয়াত ৫: প্রচলিত তাফসীরের আলোকে তথাকথিত সায়েন্টিফিক ব্যাখ্যার পর্যালোচনা

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

কুরআনুল কারিম আল্লাহ তাআলার নাযিলকৃত সর্বশেষ ও চূড়ান্ত গ্রন্থ। এটি যেমন হেদায়েতের কিতাব, তেমনি আকীদা ও বিশ্বাসের মৌলিক ভিত্তি। ফলে কুরআনের কোনো আয়াত ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে আবেগ, ব্যক্তিগত অনুমান বা আধুনিক জ্ঞানকে একক মানদণ্ড বানানো গ্রহণযোগ্য নয়। বরং তাফসীরের ক্ষেত্রে সাহাবায়ে কেরামের ব্যাখ্যা, সহীহ হাদীস এবং স্বীকৃত মুফাসসিরদের ব্যাখ্যাই মূল মানদণ্ড।

সূরা মুলক-এর ৫ নং আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন, তিনি নিকটবর্তী আকাশকে প্রদীপমালা দ্বারা সুশোভিত করেছেন, সেগুলোকে শয়তানদের প্রতি নিক্ষেপের উপকরণ বানিয়েছেন এবং শয়তানদের জন্য জ্বলন্ত অগ্নির শাস্তি প্রস্তুত রেখেছেন। এই আয়াতটি নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু লেখালেখিতে এমন এক ধরনের সায়েন্টিফিক তাফসীর হাজির করা হচ্ছে, যা মূল তাফসীরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

সামু ব্লগে ব্লগার রাশিদুল ইসলাম লাবলু এই আয়াতের ব্যাখ্যায় দাবি করেছেন যে এখানে শয়তান বলতে মানুষরূপী শয়তান বোঝানো হয়েছে এবং আকাশ থেকে নিক্ষিপ্ত বস্তু বলতে গ্রহাণু, অ্যাস্টিরয়েড বেল্ট কিংবা কুইপার বেল্টের বস্তুসমূহ বোঝানো হয়েছে। এমনকি সদম ও গোমরাহ ধ্বংসের ঘটনাকেও গ্রহাণুর আঘাতের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি পাঠকের কাছে আকর্ষণীয় মনে হলেও প্রশ্ন হলো, এই ব্যাখ্যা কি কুরআনের স্বীকৃত তাফসীরের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।

প্রথমে আমরা তাফসীর ইবনে কাসীর-এর দিকে তাকাই। ইমাম ইবনে কাসীর রহ. সূরা মুলক, আয়াত ৫-এর তাফসীরে স্পষ্টভাবে বলেছেন, আয়াতে উল্লিখিত “মাসাবীহ” দ্বারা নক্ষত্ররাজিকে বোঝানো হয়েছে, যা দুনিয়ার নিকটবর্তী আকাশকে শোভিত করে। আর “শয়তানদের প্রতি নিক্ষেপ” বলতে বোঝানো হয়েছে জিন শয়তানদের, যারা আকাশে উঠে ফেরেশতাদের পারস্পরিক কথোপকথন বা গায়েবি সংবাদ শোনার চেষ্টা করে। তখন আল্লাহর আদেশে তাদের দিকে জ্বলন্ত শিখাযুক্ত উল্কা বা শিহাব নিক্ষেপ করা হয়।

এই ব্যাখ্যার পক্ষে ইবনে কাসীর রহ. সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে বর্ণিত একাধিক সহীহ হাদিস উদ্ধৃত করেছেন। তার মধ্যে একটি অত্যন্ত প্রসিদ্ধ হাদিস হলো—

সহীহ বুখারীতে বর্ণিত হয়েছে,

عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ:
سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ عَنِ الشُّهُبِ، فَقَالَ:
«إِنَّهَا تُرْمَى لِمَوْتِ أَحَدٍ وَلَا لِحَيَاتِهِ، وَلَكِنْ إِذَا قَضَى اللَّهُ أَمْرًا فِي السَّمَاءِ، سَبَّحَتِ الْمَلَائِكَةُ، فَسَمِعَ ذَلِكَ مُسْتَرِقُو السَّمْعِ مِنَ الشَّيَاطِينِ، فَيُقْذَفُونَ، فَيُلْقُونَهُ إِلَى أَوْلِيَائِهِمْ، فَيَكْذِبُونَ مَعَهَا مِائَةَ كَذْبَةٍ»

অর্থাৎ, হযরত আয়িশা রা. বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ ﷺ-কে উল্কা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, এগুলো কারও মৃত্যু বা জন্মের কারণে নিক্ষেপ করা হয় না। বরং আল্লাহ যখন আকাশে কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেন, তখন ফেরেশতারা তাসবীহ পাঠ করে। তখন শয়তানরা চুরি করে সে কথা শোনার চেষ্টা করে। এরপর তাদের দিকে উল্কা নিক্ষেপ করা হয়। তারা যা সামান্য শুনতে পায়, তা তাদের অনুসারীদের কাছে পৌঁছে দেয় এবং তার সঙ্গে শত মিথ্যা যোগ করে দেয়। -সহীহ বুখারী, কিতাবুত তাফসীর, সূরা জ্বিন ও সূরা সাবা প্রসঙ্গ।

এই হাদিসটি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, শয়তান বলতে এখানে জিন শয়তানদের বোঝানো হয়েছে এবং উল্কা নিক্ষেপের বিষয়টি আখ্যানমূলক বা রূপক নয়, বরং একটি বাস্তব গায়েবি ঘটনা।

সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে,

عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ:
كَانَتِ الشَّيَاطِينُ يَسْتَمِعُونَ الْوَحْيَ فَيَسْتَرِقُونَهُ، فَإِذَا سَمِعُوا كَلِمَةً أَلْقَوْهَا إِلَى الْكَهَّانِ، فَزَادُوا فِيهَا تِسْعِينَ كَذْبَةً، فَأُحْرِقُوا بِالشُّهُبِ

অর্থাৎ, হযরত ইবনে আব্বাস রা. বলেন, শয়তানরা ওহির কথা শোনার চেষ্টা করত এবং তা চুরি করে নিত। তারা একটি কথা শুনে তা গণকদের কাছে পৌঁছে দিত এবং তার সঙ্গে বহু মিথ্যা যোগ করত। তখন তাদের উপর উল্কা নিক্ষেপ করা হতো এবং তারা দগ্ধ হতো। -সহীহ মুসলিম, কিতাবুস সালাম।

এই হাদিসগুলো ইমাম ইবনে কাসীর রহ.-এর ব্যাখ্যাকে অকাট্যভাবে সমর্থন করে এবং স্পষ্ট করে দেয় যে সূরা মুলক-এর আয়াতে আলোচিত শয়তানরা মানুষ নয়, বরং জিন জাতিভুক্ত শয়তান।

একই ব্যাখ্যা পাওয়া যায় মারেফুল কুরআনে। মুফতী শফী রহ. পরিষ্কার ভাষায় উল্লেখ করেছেন যে এটি একটি গায়েবি বিষয়, যার প্রকৃতি আমাদের ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য জগতের সঙ্গে পুরোপুরি তুলনীয় নয়। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, কুরআনের গায়েবসংক্রান্ত আয়াতগুলোকে আধুনিক বৈজ্ঞানিক অনুমানের আলোকে এমনভাবে ব্যাখ্যা করা যাবে না, যাতে আয়াতের মূল অর্থ পরিবর্তিত হয়ে যায় বা সাহাবা ও সালাফে সালেহীনের সর্বসম্মত ব্যাখ্যার বাইরে চলে যায়।

অতএব সহীহ হাদিস, ইবনে কাসীর এবং মারেফুল কুরআনের আলোকে এটি সুস্পষ্ট যে সূরা মুলক, আয়াত ৫-এ মানুষরূপী শয়তান, গ্রহাণু বেল্ট বা পৃথিবী ধ্বংসের কোনো ধারণা নেই। এসব ব্যাখ্যা কুরআনের উপর আরোপিত মনগড়া ধারণা, যা তাফসীরের মূলনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

এখন আলোচ্য সায়েন্টিফিক ব্যাখ্যার মূল দাবিগুলোর দিকে তাকালে কয়েকটি মৌলিক সমস্যা স্পষ্ট হয়। প্রথমত, আয়াতের শয়তানকে মানুষরূপী শয়তান বলা। অথচ আয়াতের প্রেক্ষাপট আকাশ, নক্ষত্র এবং ঊর্ধ্বজগতের নিরাপত্তা সংক্রান্ত। মানুষ সেখানে যাওয়ার সক্ষমতাই রাখে না। দ্বিতীয়ত, গ্রহাণু বা অ্যাস্টিরয়েড বেল্টকে আয়াতের নির্দিষ্ট অর্থ হিসেবে দাবি করা। কোনো সাহাবী, তাবেঈ বা স্বীকৃত মুফাসসির এই ব্যাখ্যা দেননি। তৃতীয়ত, সদম ও গোমরাহ ধ্বংসকে গ্রহাণুর আঘাত হিসেবে উপস্থাপন করা। কুরআন এই ধ্বংসকে আল্লাহর প্রত্যক্ষ গজব হিসেবে বর্ণনা করেছে। কোথাও গ্রহাণু আঘাতের কথা বলা হয়নি।

এ কারণে স্পষ্টভাবে বলা যায়, এই ব্যাখ্যা তাফসীর ইবনে কাসীর, মারেফুল কুরআনসহ কোনো নির্ভরযোগ্য তাফসীর গ্রন্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এটি তাফসীরের নামে একটি মনগড়া ব্যাখ্যা, যা পাঠকের মনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে এবং আকীদাগতভাবে ক্ষতিকর হতে পারে।

সবশেষে বিনয়ের সঙ্গে একটি অনুরোধ, ব্লগার রাশিদুল ইসলাম লাবলুকে। একজন লেখক হিসেবে তিনি নিশ্চয়ই সত্য অনুসন্ধানে আগ্রহী হবেন, এটা আশা করতেই পারি। সে ক্ষেত্রে কুরআনের মতো সংবেদনশীল ও গায়েবসংক্রান্ত বিষয়ে লেখালেখি করার সময় স্বীকৃত তাফসীর ও আলেমদের ব্যাখ্যার বাইরে গিয়ে ব্যক্তিগত সায়েন্টিফিক অনুমানকে চূড়ান্ত অর্থ হিসেবে উপস্থাপন করা থেকে বিরত থাকা একান্তভাবেই উচিত। কুরআন নিয়ে চিন্তা ও গবেষণা অবশ্যই প্রয়োজন, কিন্তু তা যেন কখনোই আল কুরআনের নির্ধারিত অর্থকে পরিবর্তন বা বিকৃত করার মাধ্যম না হয়। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা আমাদের সহিহ ঈমান, আকিদা এবং আমলের তাওফিক দান করুন। কুরআনুল হাকিমকে আমাদের জন্য হেদায়েতের আলোকবর্তিকা হিসেবে মঞ্জুর করুন।

কৃতজ্ঞতাঃ ব্লগার বাজ ৩ এবং আলামিন১০৪ এর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি, গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য।

মন্তব্য ১২ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (১২) মন্তব্য লিখুন

১| ২৪ শে জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:২১

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞান অনুযায়ী নক্ষত্র এবং উল্কা দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ভৌত সত্তা, যার একটি কোটি মাইল দূরের গ্যাসপিণ্ড এবং অন্যটি বায়ুমণ্ডলের অতি কাছের মহাজাগতিক ধূলিকণা। এই মৌলিক বৈজ্ঞানিক পার্থক্যটি স্মরণে রাখলে অদৃশ্যের বিষয়গুলোকে বিজ্ঞানের কোনো পরিবর্তনশীল থিওরির ছাঁচে না ফেলে বরং একে একটি স্বতন্ত্র আধ্যাত্মিক সত্য হিসেবে গ্রহণ করাই সবচেয়ে যৌক্তিক।

২৪ শে জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:৩৭

নতুন নকিব বলেছেন:



আপনার মন্তব্যটি যথার্থ। আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞান নক্ষত্র ও উল্কাকে ভিন্ন ভৌত সত্তা হিসেবে ব্যাখ্যা করে, কিন্তু কুরআন এগুলোকে গায়েবি বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে উল্লেখ করেছে, পদার্থবিজ্ঞানের পাঠ হিসেবে নয়। তাই অদৃশ্যের বিষয়গুলোকে পরিবর্তনশীল বৈজ্ঞানিক থিওরির ছাঁচে ফেলে ব্যাখ্যা না করে আল্লাহ যেভাবে বর্ণনা করেছেন সেভাবেই গ্রহণ করাই তাফসীরের সঠিক ও নিরাপদ পদ্ধতি। ধন্যবাদ।

২| ২৪ শে জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:৩৫

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: এই ব্যাখ্যা কি কুরআনের স্বীকৃত তাফসীরের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।
............................................................................................
এটা আমার ও প্রশ্ন সবাই কি কুরআনের ব্যাখা সহিভাবে করতে পারে ?
এর প্রয়োজন কেন ?
প্রকৃত কেউ জানার আগ্রহ থাকলে , স্বীকৃত ও জ্ঞানী ব্যক্তির নিকট যেতে পারেন ।

২৪ শে জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:৪২

নতুন নকিব বলেছেন:



আপনার কথা যৌক্তিক, সবাই কুরআনের তাফসীর সঠিকভাবে করতে পারে না। তাফসীর একটি বিশেষ জ্ঞানশাস্ত্র, যার জন্য ভাষাগত দক্ষতা, সহীহ হাদিস ও স্বীকৃত আলেমদের ব্যাখ্যার ওপর নির্ভর করা জরুরি। তাই প্রকৃতভাবে জানতে চাইলে মনগড়া ব্যাখ্যার পথে না গিয়ে স্বীকৃত ও জ্ঞানী আলেমদের তাফসীর অনুসরণ করাই সঠিক পদ্ধতি।

ধন্যবাদ।

৩| ২৪ শে জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯

রাজীব নুর বলেছেন: কবরের আযাব থেকে পরিত্রান পেতে সুরা মূলক খুব উপকারী সূরা।
আমার এক আংকেল প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই সূরা মূলক পড়েন।

কবরের আযাব নিয়ে আমি চিন্তিত নই। কারণ আমি পাপী বান্দা নই। আমি চেলচেলাইয়া বেহেশতে যাবো।

২৪ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৬

নতুন নকিব বলেছেন:



ধন্যবাদ। চ্যালচ্যালাইয়া একা যাইয়েন না, ওস্তাদরে সাথে নিয়ে যাইয়েন।

৪| ২৪ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৩

বাজ ৩ বলেছেন: রাজীব নূর@পাগলরা মূলত বিনা হিসাবে চেলচেলাইয়া বেহেশতে যাবে।আপনিও তাদেরই একজন মনে হয়

২৪ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৯

নতুন নকিব বলেছেন:



উহার সুস্থতার জন্য শুভকামনা রইল।

৫| ২৪ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩৪

বাজ ৩ বলেছেন: চমৎকার পোস্টটির জন্য ধন্যবাদ,নকিব ভাই।আমি মূলত লাবলু সাহেবকে অভিনব একজন তাফসিরকারক মনে করি।তিনি সাহসিকতার সহিত নিজের মতকে আয়াতের প্রকৃত অর্থের মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়েছেন।জীন শয়তানরা আসমানের বিভি্ন্ন ঘাটিতে গিয়ে লুকিয়ে লুকিয়ে গায়েবী তথ্য শুনার চেষ্টা করতো,তাদেরকে বিতারনের জন্যই নক্ষত্রকে নিক্ষেপ করা হোতো।

জীনেরা ভবিষ্যতের অনেক কথা শুনে ফেলত।এবং গনকের নিকট এসে,একটা সত্যের সাথে একশটা মিথ্যা বানিয়ে বলত,আর গনকরা মানুষকে বিভ্রান্ত করতো,

২৪ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১১

নতুন নকিব বলেছেন:



আপনি এবং জনাব আলামিন১০৪ মন্তব্য না করলে আমার হয়তো ব্লগার লাবলু সাহেবের সেই পোস্টে যাওয়াই হতো না। সে ক্ষেত্রে হয়তো এই পোস্টটিও আলোর মুখ দেখতো না। আপনারা সতর্ক করার কারণেই বিষয়টি নজরে এসেছে। আপনাদের দু'জনকেই আন্তরিক মোবারকবাদ।

৬| ২৫ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:৫৩

আলামিন১০৪ বলেছেন: আলকোরআনেই যেখানে প্রমা্ণিত সুরা জিন এর আয়াত দ্বারা সেখানে লাবলু এখনো তার অবস্থানের বিষয়ে অনড়, এটা নাকি মনুষ্য শয়তান...
লাবলু কি মুসলিমদের বিভ্রান্ত করার মিশনে নেমেছে নাকি সে নিজেই বিভ্রান্ত?

৭| ২৫ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৩:১৬

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:




খুবই গুরুত্বপুর্ণ একটি বিষয়ে কলম ধরেছেন । দিন কয়েক ধরে দেখছি কোরানের আয়াতের সাইনটিফিক
তাফসির বিষয়ক কয়েকটি পোস্ট । বিষযগুলি নিয়ে সেখানেই কথা বলতে চেয়েছিলাম । উনার লেখার গতিপথ
দেখে ধারনা হয়েছিল সেখানে কিছু বলা সঙ্গত হবে কিনা । এখন আপনার এই পোস্ট পাঠে মনে হল এখানেই
কিছু প্রাসঙ্গিক কথা বলে যাই ।

সূরা মুলক, আয়াত ৫–কে ঘিরে যে সব সায়েন্টিফিক ব্যাখ্যা প্রচলিত আছে, তার প্রকৃত অবস্থা বুঝতে হলে
আমাদের তিনটি স্তরে বিষয়টি দেখতে হবে যথা:-
(১) আয়াতের প্রকৃত ভাষ্য (নাস্‌স), (২) প্রচলিত ও নির্ভরযোগ্য তাফসীর ,(৩) আধুনিক সায়েন্টিফিক তাফসীর
দাবিগুলোর সীমাবদ্ধতা ও সমস্যাসমুহ ।

সুরা মুলক এর ৫ নং আয়াতের মূল পাঠ ও অনুবাদ দিয়েই শুরু করা যাক:-

وَلَقَدْ زَيَّنَّا السَّمَاءَ الدُّنْيَا بِمَصَابِيحَ وَجَعَلْنَاهَا رُجُومًا لِلشَّيَاطِينِ وَأَعْتَدْنَا لَهُمْ عَذَابَ السَّعِيرِ
অনুবাদ:
আমি অবশ্যই নিকটবর্তী আকাশকে প্রদীপসমূহ দ্বারা সুশোভিত করেছি এবং সেগুলোকে শয়তানদের জন্য
নিক্ষেপযোগ্য করেছি; আর আমি তাদের জন্য জ্বলন্ত আগুনের শাস্তি প্রস্তুত রেখেছি।
এখানে তিনটি বিষয়
স্পষ্ট; নিকটবর্তী আকাশ (السَّمَاءَ الدُّنْيَا), মাসাবীহ (مصابيح) তথা প্রদীপসমূহ ও শয়তানদের জন্য নিক্ষেপ
(رُجُومًا لِلشَّيَاطِينِ)

এখন দেখা যাক প্রচলিত ও নির্ভরযোগ্য তাফসীরসমুহ এ বিষয়ে কী বলে?
(ক) ইবন কাসীর, তাবারী, কুরতুবী, বাগাভী প্রমুথ প্রথিতযসা তাফসিরকারদের সবাই প্রায় একমত যে মাসাবীহ
দ্বারা বোঝানো হয়েছে নক্ষত্রসমূহ (النجوم) আর এগুলো হল (১) আকাশের সৌন্দর্য (২)পথনির্দেশ ও (৩)শয়তান
তাড়ানোর মাধ্যম। এখানে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে কোরান সব নক্ষত্র ছোঁড়া হয় বলেনি, বরং বলেছে নক্ষত্র
সমূহকে রুজূম (নিক্ষেপযোগ্য)বানানো হয়েছে। শয়তানদের উপর কী নিক্ষেপ করা হয়? হাদিসের আলোকে
বিষয়টি আরও পরিষ্কার।

সহিহ মুসলিম, তিরমিযী প্রভৃতি হাদিসে এসেছে জিনরা আকাশে উঠে সংবাদ শোনার চেষ্টা করত। তখন
তাদের দিকে শিহাব (شهاب) বা শুহুব নিক্ষেপ করা হতো। তাফসীরকাররা স্পষ্টভাবে বলেন নিক্ষিপ্ত বস্তু
হলো শিহাব (আগুনের উজ্জ্বল স্ফুলিঙ্গ)। নক্ষত্র নিজে ছুটে আসে না। ইবন কাসীর বলেন(ভাবার্থ) নক্ষত্রসমূহ
স্থির থাকে, কিন্তু সেগুলো থেকে আগুনের শিখা বা শিহাব বিচ্ছিন্ন হয়ে শয়তানদের দিকে নিক্ষিপ্ত হয়।

এখন একটু দেখা যাক তথাকথিত সায়েন্টিফিক ব্যাখ্যার সমস্যাটা কোথায়? প্রচলিত দাবিগুলির মধ্যে
অনেকে বলেন এখানে আসলে উল্কাপিণ্ড (meteor) বা asteroid-এর কথা বলা হয়েছে আর এটা আধুনিক
জ্যোতির্বিজ্ঞানের প্রমাণ।

কিন্তু এই দাবির সমস্যাগুলোর মধ্যে মুল দুটি সমস্য্ হল এই যে প্রথমত কোরান জ্যোতির্বিদ্যার বই নয়
কেননা কোরান নিজেই বলে هُدًى لِلنَّاسِ মানুষের জন্য পথনির্দেশ ।কোরানের উদ্দেশ্য হলো ঈমান, আখিরাত ও
আল্লাহর কুদরত উপলব্ধি, কোন বৈজ্ঞানিক তথ্য় উপাত্ত (ডেটা) দেওয়া নয়।

দ্বিতীয়ত: শিহাব মানে যে আধুনিক উল্কা ( meteor) এটা নিশ্চিত বলা যায় না । হ্যাঁ, বাহ্যিকভাবে মিল
থাকতে পারে, কিন্তু কোরান ও হাদিস গায়বী বাস্তবতা বর্ণনা করছে, আর জিন ও শয়তানের আকাশে ওঠা
এটা পরীক্ষাগারে যাচাইযোগ্য নয়। তাই একে জোর করে আধুনিক বৈজ্ঞানিক পরিভাষায় ঢোকানো তাফসীর
নয়, বরং তাকাল্লুফ (অতিরঞ্জন)।

তৃতীয়ত বিজ্ঞান পরিবর্তনশীল, কিন্তু কোরান চূড়ান্ত ও স্থায়ী ।আজকের বিজ্ঞান একে উল্কা বা meteor বলে
এক ব্যাখ্যা দিচ্ছে , তবে কাল হয়তো অন্য ব্যাখ্যা দেবে। যদি আমরা বলি এই আয়াতের মানে শুধু এটুকুই ,
তাহলে ভবিষ্যতে বিজ্ঞান বদলালে আয়াত নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হবে যা সালাফরা কখনো করেননি।

এখন প্রশ্ন হল তাহলে সঠিক ও ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান কী তা একটু দেখা যাক।
প্রথমত আহলে সুন্নাহর ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি হল:- (১) আয়াতকে তার প্রকাশ্য অর্থেই গ্রহণ করা(২) হাদিসের
ব্যাখ্যা অনুযায়ী বোঝা (৩) আর বিজ্ঞানকে আয়াত বোঝার সহায়ক হতে দেওয়া , আয়াতের প্রমানক বানানো
নয়। এ প্রসঙ্গে ইমাম শাতিবী খুব সুন্দর কথা বলেছেন, তিনি বলেছেন কোরানকে এমন বিষয়ে প্রবেশ করানো
উচিত নয়, যার জন্য তা নাজিল হয়নি।

সূরা মুলক ৫ নং আয়াত সম্পর্কে সার্বিকভাবে বলা যায় সেখানে আকাশের সৌন্দর্য,শয়তানদের গায়বী জগতে
বাধা এবং আল্লাহর কুদরতের নিদর্শন। এটা আধুনিক জ্যোতির্বিদ্যার সরাসরি প্রমাণ এমন দাবি অতিরঞ্জিত ।
সঠিক পন্থা হল নাস্‌স→হাদিস→সালাফের তাফসীর→তারপর বিজ্ঞান (যদি যথাযথভাবে মিলে)।

এখন সায়েন্টিফিক তাফসীর বলতে কী বোঝায় তাও একটু দেখা যাক ।সায়েন্টিফিক তাফসীর বলতে সাধারণত
বোঝানো হয়,কোরানের আয়াতগুলোকে আধুনিক বিজ্ঞান(যথা পদার্থবিদ্যা, জ্যোতির্বিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ইত্যাদি)
দিয়ে ব্যাখ্যা করা এবং দাবি করা যে আধুনিক বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারগুলো কোরানে পূর্বেই ইঙ্গিত করা ছিল।
এখানে দুইটি স্তর আলাদা করা জরুরি (১) ইশারা/সামঞ্জস্য খোঁজা (২)নিশ্চিত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ হিসেবে প্রতিষ্ঠা
করা । বিতর্ক মুলত শুরু হয়েছে মূলত দ্বিতীয় স্তরকে ঘিরে।

এখন সাইনটিফিক তাফসির এর ইতিহাসটা একটু দেখা যাক । প্রাচীন যুগে কি সায়েন্টিফিক তাফসীর ছিল?
উত্তরটা হবে না । ইমাম তাবারী, ইবন কাসীর, কুরতুবী, রাযী প্রমুখ বিখ্যাত তাফসিরকারিগন ভাষা, সাবাবুন নুযূল,
হাদিস ও সাহাবা-তাবেয়ীদের বক্তব্য ; এই চার স্তম্ভেই তাফসীর করেছেন।

ফখরুদ্দীন রাযী কখনো কখনো দার্শনিক আলোচনা করেছেন, কিন্তু তিনি কখনো বলেননি যে এই আয়াত আধুনিক
পদার্থবিদ্যার সূত্র প্রমাণ করে।তবে প্রশ্ন উঠে আধুনিক যুগে কেন এটি জন্ম নিল? ১৯শ–২০শ শতকের প্রেক্ষাপটে
বলা যায় মুসলিম বিশ্ব অনেকটাই রাজনৈতিকভাবে দুর্বল, ইউরোপীয় বিজ্ঞান ও শিল্প বিপ্লব এর প্রেক্ষাপটে
ইসলাম কি পিছিয়ে আছে ? এই প্রশ্ন আর এর প্রতিক্রিয়ায় কিছু ইসলামী চিন্তাবিদ বলতে চাইলেন, না!
কোরানেই সব আধুনিক বিজ্ঞান আছে। আর সেখান থেকেই দাওয়াহ মুখী আত্মরক্ষামূলক প্রবণতা তৈরি হয়।

এ বিষয়ে প্রধান ব্যক্তিত্ব ও গ্রন্থগুলি হল:-
(১) ১৯৪০ সালে প্রকাশিত তান্তাওয়ী জাওহারী। প্রায় হাজার পৃষ্ঠার একটি গ্রন্থ, যেখানে কোরানের আয়াত
দিয়ে ভূতত্ত্ব, উদ্ভিদবিদ্যা ওজ্যোতির্বিজ্ঞান বিষয় নিয়ে বলা হয়েছে, বলা হয়েছে কোরানে ৭৫০টির বেশি আয়াত
আছে প্রকৃতি নিয়ে।কিন্তু এখানে মুল সমস্যা হল এরকম বৈজ্ঞানিক তাফসিরে আয়াতের মূল উদ্দেশ্য প্রায়
হারিয়ে যায় আর তাফসীর হয়ে ওঠে বিজ্ঞান বই ।

(২) মরিস বুকাইয়িলি (Maurice Bucaille) তার The Bible, the Qur'an and Science পুস্তকে
যা আমাদের মুসলিমদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। পুস্তকটিতে কোরান ও আধুনিক বিজ্ঞানকে সম্পূর্ণ
সামঞ্জস্যপূর্ণ দাবি করা হয়েছে । এ প্রসঙ্গে উলামারা বলেন বইটি তাফসীর নয়, পুস্তকটিতে বিজ্ঞানকে
নির্বাচিতভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, ভবিষ্যতে বিজ্ঞান বদলালে তার দাবিও ভেস্তে যাবে।

কোরানের আয়াতের বৈজ্ঞানিক তাফসির বিষয়ে উলামায়ে কিরামের মৌলিক আপত্তিসমূহ মুলত নিন্মরূপ:-
( ১) কোরানের উদ্দেশ্য বিকৃত হয়ে যায়; ইমাম শাতিবী ( ৭৯০ হি.) বলেন কোরান নাজিল হয়েছে হিদায়াতের
জন্য, জ্যোতির্বিদ্যার জন্য নয়। যখন আয়াতকে বিজ্ঞান প্রমাণে ব্যস্ত করা হয় , তখন তাওহীদ, আখিরাত ও
তাকওয়া এগুলো পেছনে পড়ে যায়।

( ২) বিজ্ঞান পরিবর্তনশীল, কোরান স্থায়ী ও চূড়ান্ত; ইমাম ইবন আশূর (১৩৯৩ হি.) বলেন: যে অর্থ সময়ের সাথে
ভেঙে যায়, তা দিয়ে কোরানের ব্যাখ্যা করা নিরাপদ নয়। আজ atom indivisible নয়. ether নেই,
steady-state universe বাতিল । তাহলে পুরনো scientific tafsir কোথায় গেল?

( ৩) আয়াতে যা নেই, তা ঢুকিয়ে দেওয়া (تكلّف) উদাহরণ: الذرة = subatomic particle? لسماء = outer
space? العلق = embryo stages?কুরতুবী বলেন যে অর্থ আরবরা বুঝত না, তা আয়াতে আরোপ করা জুলুম।

( ৪) গায়েবকে পরীক্ষাগারে নামানো প্রসঙ্গে বলা হয় শয়তান, জিন, ফেরেশতা এগুলো গায়েব, আর
বিজ্ঞান শাহাদা জগতের বিষয়, দুই জগতকে জোর করে এক করা মুলত আকীদাগত বিশৃঙ্খলা ।

( ৫) ভবিষ্যতে ঈমানের ক্ষতি; শাইখ বকর আবু যায়দ বলেন, আজ বিজ্ঞান দিয়ে ঈমান রক্ষা করতে গিয়ে, কাল
বিজ্ঞান বদলালে ঈমান বিপন্ন হবে। তিনি বলেন বিশ্বাস দাঁড় করানো উচিত আল্লাহর খবরে, রাসূলের সত্যতায়
not on lab results ।

এখন কথা হল তাহলে সব বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাই কি বাতিল? না এখানে ভারসাম্য তথা গ্রহণযোগ্য সীমা
থাকা উচিত। শাইখ ইবন উসাইমীন, শাইখ সালেহ আল-ফাওযান প্রমুখ বলেন এ কথা বলা যাবে যে আয়াতটি
আধুনিক আবিষ্কারের সঙ্গে সংঘর্ষে নয়,এতে আল্লাহর কুদরতের ইশারা আছে। তবে এ কথা বলা যাবেনা যে
এই আয়াত শুধু এটাকেই বোঝায় আর এটা আধুনিক বিজ্ঞানের সরাসরি সূত্র ।

সায়েন্টিফিক তাফসীর সম্পর্কে সার্বিকভাবে বলা যায় এটি একটি আধুনিক প্রতিক্রিয়াশীল আন্দোলন, দাওয়াহর
আবেগে জন্ম কিন্তু পদ্ধতিগতভাবে অনেকটা বিপজ্জনক।

আহলে সুন্নাহর পথ হল কোরান হল হিদায়াতের কিতাব, বিজ্ঞান হল পর্যবেক্ষণের ফল।দু’টিকে মেলাতে গিয়ে
একটিকে অন্যটির অধীন করা যাবে না ।

আপনার মুল্যবান পোস্টটির জন্য ধন্যবাদ।

শুভেচ্ছা রইল

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.