| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |

বালিতে পড়ে থাকা রোদটা তখনো তপ্ত ছিল। সূর্য ডুবছিল ঠিকই, কিন্তু আগুন জ্বালিয়ে পোড়ানোর মতো না। ওই সময়ে সমুদ্রে সূর্যাস্ত নামার যে একটা ঢং, ওইটা দেখলে মনে হয় দুনিয়ার সব ঝামেলা একটু হলেও থেমে স্তব্ধ হয়ে যায়। ঢেউয়ের পর ঢেউ এসে নোনাজলের ক্ষত ধুয়ে দিচ্ছিল। মনে হয় পানি বুঝি নিজেই বলছে আয় সুখ এখানে এসে পাশে বস।
কিন্তু সমস্যা হলো, ওই ডাক শোনার মতো মানুষটা আমি নিজেও ঠিক ছিলাম না। দূরত্বটাই তখন সবচেয়ে কাছের সঙ্গী।
ভেজা বালির ওপর হাঁটতে হাঁটতে পায়ের ছাপ অগনিত। সমুদ্রটা অদ্ভুত হালকা নীল কাঁচের মতো, বাতাস এত জোরে বইছিল যে গলায় শব্দ গিয়েও জট পাকিয়ে যাচ্ছিল। কথা বলতে চাইলেও কথা আর বের হয় না।
বালিতে অপরিবর্তিত এক ঢঙে দাঁড়িয়ে থাকা নৌকার গায়ে জমা লবন বালি দেখে মনে হলো এইটা ঠিক আমার মতোই, দিনের পর দিন জমে থাকা না থাকার কথার স্তর একরকম একাধিক।
ঝিনুকের মুখে আটকে থাকা আলোগুলা কেউ খুলে দেখতে চায় না। সবাই ভাব ধরে না জীবনে তাদের ধাপে ধাপে যা দেয় তার কি রকম, তা অবশ্য কাউকে বলার নয়, বললে ও কি কেউ তা ভারী ভাবে নেবে? নেবে না, এই সমুদ্রের শুকনা বালির মতন হাতের আঙ্গুলের ফাঁক দিয়ে গড়িয়ে ঝরে ঝরে পড়বে।
জীবনের দুঃখের ব্যাপার গুলো শামুকের মতো ধীরে চলে, প্রতিটা মুহূর্তে শ্বাস টান দিয়ে নিজেকে জানান দিতে হয় ইভরিথিং অলরাইট। ঢেউয়ের পর ঢেউ একই কথা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বলছে, সব ঠিক আছে, সব ঠিকঠাক আছে।
সমুদ্রের পাশের টংগের দোকানের চায়ের কাপে নোনাভাব লাগছিল। চোখে বালিতে পুর্ন বাতাস। সূর্য ডুবে গেছে ঠিকই, কিন্তু আকাশের রঙ শেষ হচ্ছে না।
কিছু বিদায় কোনোদিন ঠিকমতো শেষ হয় না। রাতজাগা ঢেউ ভোরের হালকা রোদের গায়ে গা এলিয়ে দিল। আর ওই সময়ে গিয়ে, সমুদ্রের একদম পাশে, মনটা আমার অবশেষে ঘুমিয়ে পড়ল।
মাথার ভেতরে একটা নীল শহর তখনো শব্দ করছিল। ঢেউ মাইগ্রেনের মতো একটার পর একটা নাম গুনছে, হারিয়েছি, পেয়েছি, কিচ্ছু পাই নাই, কিছুই না।
ধোঁয়া উঠা চায়ের কাপে একটার পর একটা স্বীকারোক্তি জমছিল। তখন বুঝলাম কিছু কান্নার কারণ আসলেই ছিল, নকল বানানো কিংবা দুঃখ বিলাস না।
ক্ষমা করে উঠার পর ধীরে ধীরে সোজা হাঁটা শুরু করলাম। তখনই বুঝলাম আসলে কোনো মানুষের কাছে না, সমুদ্রটাই ছিল আমার ওই একমাত্র জায়গা, যেখানে সুখ এসে মাথার উপর চুপচাপ বসতে পেরেছিল।
১৫ ই জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:২২
সামিয়া বলেছেন: হুম...
২|
১৫ ই জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:১০
সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:
সমুদ্রতে দুঃখগুলো ডুবিয়ে আসতে পেরেছিলেন কি?
১৫ ই জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:২২
সামিয়া বলেছেন: হ্যাঁ হ্যাঁ হ্যাঁ
৩|
১৬ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:৫৪
রাজীব নুর বলেছেন: সমুদ্র মানুষকে মহান করে তোলে।
২৬ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:৫৬
সামিয়া বলেছেন: হুম
৪|
২৫ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০২
খায়রুল আহসান বলেছেন: কিছু বেদনার কথা শোনালেন।
মানুষ যখন বেদনার্ত হয়, তখন সে প্রকৃতির কাছে যায়। কারণ প্রকৃতি মানুষের সমব্যথী বন্ধু। বিষণ্ণতায় প্রকৃতির কাছে গেলে সে স্বস্তি, সান্ত্বনা ও মমতা অনুভব করে।
চাঁদের প্রভাবে সমুদ্রে জোয়ার ভাটা হয়। চাঁদ প্রেমের প্রতীক। চাঁদের স্নিগ্ধ আলো কিংবা নিকষ কালো আঁধারের প্রভাবে ভাবুক মানুষের বুকেও তো জোয়ার ভাটার কিছুটা ছোঁয়া লাগতেই পারে।
সাগরের গর্জন নিস্তব্ধতার মাঝেই শুনতে ভালো লাগে। নীরবতা প্রাকৃতিক, কোলাহল নাগরিক। এ দুয়ের মধ্যে পার্থক্য তো থাকতেই হবে। প্রকৃতির নিস্তব্ধতা বিঘ্নিত হলে সে এলাকাটা যতই বিরান হোক, কোলাহলে পরিণত হয়। কোলাহলে বেদনার্ত মন স্বস্তি পায় না।
২৬ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:৫৬
সামিয়া বলেছেন: খুব সুন্দর বলেছেন, থ্যাঙ্ক ইউ
©somewhere in net ltd.
১|
১৫ ই জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:৫৪
মায়াস্পর্শ বলেছেন: সমুদ্র । শান্তি ।