নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

ব্লগের স্বত্বাধিকারী সামিয়া

সামিয়া

Every breath is a blessing of Allah.

সামিয়া › বিস্তারিত পোস্টঃ

ছোট গল্পঃ প্রমোশন

২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৫৫


একই ডিপার্টমেন্টে কাজ করতো দু’জন সায়ন চৌধুরী আর ঈশিতা রহমান। ঈশিতা এসেছিল সায়নের আগে। তাই শুরু থেকেই কাজের বেশিরভাগ দায়িত্ব ছিল তার হাতে। প্রেজেন্টেশন, ক্লায়েন্ট ব্রিফ, স্টোর রুমের চাবি, এমনকি গুরুত্বপূর্ণ কেবিনেটগুলোর অ্যাক্সেস সবই স্বাভাবিকভাবে তার দখলে। মিটিংয়ে সে কথা বললে সবাই মন দিয়ে শুনতো। তার যুক্তি পরিষ্কার কণ্ঠে আত্মবিশ্বাস।

সায়ন বসে থাকতো হাত গুটিয়ে একই টেবিলে, ধীরে ধীরে তার ভেতরে জমতে লাগল এক ধরনের রাগ।
- এভাবে চলতে থাকলে আমি কোথায় দাঁড়াবো?
প্রমোশন তো দূরের কথা, নিজের অস্তিত্বই সংকটে পরে আছে। একদিন সে সিদ্ধান্ত নিল এই দৃশ্যপট বদলাতে হবে।
পরিকল্পনা করে সে এইচআর হেড মাহমুদ স্যারের কেবিনে গেল। খুব ঠান্ডা গলায়, সাজিয়ে গুছিয়ে বলল ঈশিতা দায়িত্বে গাফিলতি করছে, ফাইল ম্যানেজমেন্টে অসংগতি আছে, ক্লায়েন্ট ডেটা শেয়ারিংয়ে সমস্যা অনেক এছাড়া সে সবাইকে অনেক ছোট করে কথা বলে এমনকি স্যার আপনাকেও পেছনে তুই তোকারি করে কথা বলে প্রায়ই, সবই বানানো। কিন্তু কথাগুলো এমনভাবে বললো, যেন প্রমাণসহ সত্য।


সেইদিন বিকেলের দিকে ঈশিতার ফোন এল। তাকে এইচআর ডিপার্টমেন্টে যেতে বলা হয়েছে।
সে তখন হাজার হাজার ফাইল গুছাচ্ছিল। কপালে ভাঁজ পড়লেও আতঙ্কিত ছিল না কারন কী হতে পারে, সে জানে না।
সেই মুহূর্তে সায়ন একবার তাকাল তার দিকে।
ফাইলের স্তূপের ভেতর ডুবে থাকা মেয়েটিকে হঠাৎ অদ্ভুতভাবে যোগ্য মনে হলো। এক সেকেন্ডের জন্য মনে হলো‌ প্রমোশনটা সত্যিই তার প্রাপ্য। ততক্ষণে দেরি হয়ে গিয়েছে। ঈশিতা এইচআর ডিপার্টমেন্টে গেল এবং ফিরে এল কালো, বিষণ্ন মুখ নিয়ে।
সায়ন খুব স্বাভাবিক কন্ঠে জিজ্ঞেস করল,
কী হয়েছে?
ঈশিতা শান্ত গলায় বলল,
- আমাকে রেজিগনেশন নোটিস দিতে বলা হয়েছে।

শেষ মুহূর্তে সায়ন কিছুটা চেষ্টা করেছিল তবে নিজের নিরাপত্তা বজায় রেখে। সে ঈশিতাকে বলেছিল,
- এইচআর স্যারের কাছে গিয়ে সরি বলে আসেন।
ঈশিতা অবাক হয়ে বলেছিল
- সরি কেন বলব ভাইয়া? আমি তো কিছু করিনি।
সায়ন জানতো, সে কিছু করেনি। কিন্তু এইচআর তো জানে তার বলা অজস্র মিথ্যা কথা গুলো।
ঈশিতা শেষ পর্যন্ত চাকরিটা হারালো।

চার বছর কেটে গেছে।
সায়ন এখন তার ডিপার্টমেন্টের অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর। কো অর্ডিনেটর হিসেবে এলাকার দুইটা ছোট ভাইকে নিয়েছে নিজের ডিপার্টমেন্টে। যে অফিসে সে পাত্তাই পেত না সেই অফিসে এখন তার ক্ষমতা অনেক। মিটিংয়ে তার কথা সঠিক হোক না হোক তাতেই সবাই রাজি হয়।
এইভাবে দিনগুলো যাওয়ার মাঝে ফাইলের স্তূপের ভেতর ঝুঁকে থাকা ঈশিতার মুখটা মনে পড়ে সায়নের, অপরাধবোধ বলতে এইটুকুই।

মন্তব্য ১২ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (১২) মন্তব্য লিখুন

১| ২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৩

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: ঈশিতার মুখটা মনে পড়ে সায়নের, অপরাধবোধ বলতে এইটুকুই।
...............................................................................................
মিথ্যার কোন মাফ হয়না
অথচ আমরা অবলীলায় বলতে থাকি ।
পাপবোধ থেকে অনুশোচনা আসে
তবে, আধুনিক যুগে রাজনীতিবিদরা একে অপরাধ বলেনা
এটা হলো স্মার্টনেস ।

২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৫:২৩

সামিয়া বলেছেন: এক্সাক্টলি দ্যাটস দা পয়েন্ট। ধন্যবাদ

২| ২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: পড়লাম ।

২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৫:২৩

সামিয়া বলেছেন: ধন্যবাদ

৩| ২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৮

সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:



কোথাও একটা গাফিলতি হয়েছে।

২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৫:২৩

সামিয়া বলেছেন: মামুর জোর থাকাতেও ভাগ্য লাগে।

৪| ২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:১০

অপু তানভীর বলেছেন: প্রমাণ ছাড়া এভাবে চাকরি ছেড়ে দিতে বলল এইচআর? :-&

২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৫:২৭

সামিয়া বলেছেন: মামুর জোড় যার নাই তার সপক্ষে প্রমাণ এইচ আরের কালেক্ট করে লাভ কী, নিজের লোক নিতে হবেনা বোকা গুলোকে ছাঁটাই করে! আসলে এটিই অহরহ হচ্ছে প্রাইভেট চাকরিতে। যারা প্রাইভেট চাকরি করে এসেছে তাদের মাত্র দশ জনের অভিজ্ঞতা যাচাই করেন সাত জনই এমন পাবেন। ধন্যবাদ।

৫| ২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:২৩

হুমায়রা হারুন বলেছেন: লেখক বলেছেন, যারা প্রাইভেট চাকরি করে এসেছে তাদের মাত্র দশ জনের অভিজ্ঞতা যাচাই করেন সাত জনই এমন পাবেন।
কথাটা ভীষণ সত্যি।

২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:৫৭

সামিয়া বলেছেন: ব্যাপারটা কি পরিমান বৈষম্যের তাইনা? অথচ যারা করে তাদের কাছে এটা কোন অপরাধই না।

৬| ২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:০০

হুমায়রা হারুন বলেছেন: লেখক বলেছেনঃ ব্যাপারটা কি পরিমান বৈষম্যের তাইনা? অথচ যারা করে তাদের কাছে এটা কোন অপরাধই না।

তা তো বটেই।
এদেরকে কাছ থেকে দেখে খটকা লাগতো। পরে বুঝেছি এরা মানুষ নয়। দেখতে মানুষ, কিন্তু আসলে মানুষরূপী ইবলিশ।
আর কলিগদের কথা কি বলবো। তাদের কখনো পাশে পাওয়া যায় না। কারণ তারাই তো কান ভারী করার কাজটা করে। বা তাদের পেট চালানোর দায় থাকে। তাই তাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সাহস থাকে না।
যদি কেউ একজন প্রতিবাদ করতে যায়, তাহলে তাকে বেয়াড়া বলে সিল দেয়, আশপাশের সবাই।
অর্থাৎ পুরো সিস্টেমটা নিয়ন্ত্রিত হয় ইবলিশদের দিয়ে।
এখন যদিও সত্য উন্মোচনের সময় এসে গেছে। আস্তে আস্তে সারা বিশ্বে একটা পরিবর্তন আসছে। আমাদের মাঝেও আসছে। এই ওল্ড সিস্টেমের পরিবর্তন আসবে।

২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:০৬

সামিয়া বলেছেন: কতটা তিক্ত আপনার অভিজ্ঞতা সেটা আপনার কথা স্পষ্ট, একই জিনিস আমিও পার করে এসেছি, আপনার মতামতের সাথে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে আমার মতামত মিলে গেছে, যাই হোক একদিন পরিবর্তন আসবে এটাই সান্তনা, আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম ভালো থাকুক এইটুকুই চাওয়া, অনেক ধন্যবাদ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.