নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

কি কৈতাম, আমি কি কৈতাম।

তূর্য্য আহমেদ রাহী

কি কইতাম,আমি কি কইতাম

তূর্য্য আহমেদ রাহী › বিস্তারিত পোস্টঃ

অল কোয়ায়েট অন দ্যা ওয়েস্টার্ন ফ্রন্ট

১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ দুপুর ১:৩৯

বইটা অনেকদিন থেকেই পড়ার ইচ্ছে। হাতের কাছে থাকার পরও পড়ার সময় করে উঠতে পারি নি! কাল সময় করে পড়েই ফেল্লাম! আসলেই বইটি যুদ্ধক্ষেত্রের চরম বাস্তবতা তুলে ধরেছে। কারণ হয়তো বইটির লেখক এরিক মারিয়া রেমার্ক নিজেই ছিলেন প্রথম বিশ্বযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণকারী!

উপন্যাসের নায়ক প্রথম বিশ্বযুদ্ধ! ডালপাল বহুব্যাপ্ত হলেও সূচনা জার্মানীতে! ভয়াবহ তার রূপ জার্মানীর পক্ষ থেকে যারা এই যুদ্ধে যোগ দেয় তাদের প্রত্যেকের বয়সই ১৯ বছরের কাছাকাছি! তাদের একজনের ভাষ্য যুদ্ধের রূপটা এই রকম "আমরা যাব কোথায়?জীবনের শিকড় মাটিতে গেঁড়ে বসার আগেই অতীতের স্মৃতি মুছে গেছে যুদ্ধের তোড়ে। যুদ্ধ সব মুছে দিয়েছে। এখন আমরা পতিত জমির মতই,আর কখনো আমাদের জীবনে ফুল ফুটবেনা।" " কোথায় শেষ এর জানিনা, যুদ্ধ আমাদের স্বাভাবিক জীবনকে ভীষণ বদলে দিয়েছে? সব কিছু কেমন বদলে গিয়েছে!" রেমার্ক যুদ্ধকে তুলে ধরেন হাঁড় মাংস সমেত!

উপন্যাসের শুরুই হয় যুদ্ধের রূঢ় সত্য তুলে ধরার মাধ্যমে! যুদ্ধের খাবার সরবরাহ কিংবা প্রাপ্তি এক অনিশ্চিত ঘটনা! মাঝে মাঝে সেখানে কিছু নাটক থাকে! হিসেব করে রান্না করতে হয়। কিন্তু উপন্যাসের শুরুতে হিসাব বদল করে দেয়া হয়! যতজনের জন্য রান্না করা হয়েছে ততজন লাইনে দাঁড়ায়নি! কারণ? কারণ আর কিছুই না। যুদ্ধের ফ্রন্টে তাদের সহযোদ্ধাদের কেউ মারা গিয়েছে, কেউ আহত হয়ে শয্যাশায়ী।ফলে খাবারের জন্য আজ যারা লাইনে দাঁড়িয়েছে তাদের একজন বলেছে,"তাহলে আজ পেট ভরে খেতে পারব আমরা!!"

উপন্যাসের নায়ক উত্তম পুরুষে বলে যায় তার নিত্যাদিনের কথা। কখনো সে নির্বিকার, কখনো সে সমালোচনা মুখর কখনো সে মানবিক আবেগে জর্জরিত!... কেমারিখের একটি পা আঘাতপ্রাপ্ত হয় যুদ্ধক্ষেত্রে।পরে সেটি কেটে ফেলতে হয়।সবাই সহানুভূতিশীল। কিন্তু হলে কি হবে সে তো আর জুতা পরতে পারবেনা! সেই জুতার দিকে দৃষ্টি পড়ে সবার! তার পরের দৃশ্য আঁকা হয়েছে এইভাবে--"কেমারিখের বুট দখল করার লোভে মুলার ব্যাতিব্যাস্ত। ওর মৃত্যুর সময় আমরা কেউ হাসপাতালে না থাকলে ওর বুট জোড়া হাতছাড়া হয়ে যাবে ভেবে সারাক্ষণ উদ্বিগ্ন থাকে মুলার! স্বাভা্বিক অবস্থায় এমন চিন্তা কি ওর মাথায় আসত? নিশ্চয় না!" আবার আরেক যুদ্ধাহত সেনার মুখে বলিয়েছেন," কি লাভ এত যুদ্ধ করে? মানুষ হত্যা করে? যাদের ক্ষমতার এত লোভ এত প্রয়োজন তারা বন্দুক গুলি কামান নিয়ে কোন স্টেডিয়ামে গিয়ে নিজেরা যুদ্ধ করলেই তো পারে,অনেক গুলি প্রাণ বেঁচে যাবে।" নায়কের মুখে আরও বলিয়েছেন,"সবচেয়ে বড় কথা যুদ্ধক্ষেত্রে বাস্তবতাই একমাত্র সত্য, আবেগ নয়।সেখানে আবেগ অচল।যুদ্ধের ময়দানে ভালো বুট সহজেই মেলে না!"... এমন উচ্চারণ রেমার্কের পক্ষেই সম্ভব। কেননা আগেই বলেছি, তিনি সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন। তাই যুদ্ধের রুঢ় বাস্তবতা তার চেয়ে আর কে ভালভাবে বুঝতে পারবে? বইটা পড়ার সময় নিজেই মনে হয় যুদ্ধক্ষেত্রে হারিয়ে গিয়েছিলাম! আপনি যদি যুদ্ধের মানে বুঝতে চান তাহলে রেমার্কের এই বইটি পড়তে পারেন! বইটি আপনাকে সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে নিয়ে যাবে এবং যুদ্ধের চেহারাকে চোখের সামনে তুলে ধরে বলবে.."দেখুন! যুদ্ধের আসল বাস্তবতা দেখুন!"

মন্তব্য ২ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:২৪

মাহবুবুল আজাদ বলেছেন: আমার প্রিয় একটা বই।

১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ সকাল ৯:০৫

তূর্য্য আহমেদ রাহী বলেছেন: আমারও

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.