নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সাহিত্য, সংস্কৃতি, কবিতা এবং সমসাময়িক সামাজিক বিষয়াদি নিয়ে গঠনমুলক লেখা লেখি ও মুক্ত আলোচনা

ডঃ এম এ আলী

সাধারণ পাঠক ও লেখক

ডঃ এম এ আলী › বিস্তারিত পোস্টঃ

অমর একুশে বই মেলা: প্রযুক্তির যুগে ছাপার বই: প্রয়োজন, না কি স্মৃতির অবশেষ: নাকি সমন্বয়ের ভবিষ্যৎ

০৫ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:৫০


মানবসভ্যতার জ্ঞানভাণ্ডার দীর্ঘকাল ধরে বহন করে এনেছে মুদ্রিত বই। কাগজে ছাপা অক্ষরের বই একসময় ছিল জ্ঞানের প্রধান বাহন, সংস্কৃতির ধারক এবং বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার অপরিহার্য মাধ্যম। কিন্তু একবিংশ শতাব্দীর প্রযুক্তিনির্ভর বাস্তবতায় প্রশ্ন উঠেছে মানুষ কি এখনও ছাপার বই কিনে পড়বে? নাকি অনলাইন প্রকাশনার বিপুল সম্ভাবনার সামনে মুদ্রিত বই ক্রমশ অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ছে?

অনলাইন জ্ঞানের বিস্তৃত সম্ভাবনা

ডিজিটাল প্রযুক্তি জ্ঞান প্রকাশের জগতে এক বিপ্লব ঘটিয়েছে। অনলাইনে প্রকাশিত একটি লেখা কেবল অক্ষরের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং তা বহুমাত্রিক তথ্যের এক জীবন্ত ভাণ্ডারে পরিণত হয়। একটি বিষয়ের ব্যাখ্যার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে প্রামাণ্য চিত্র, ব্যাখ্যামূলক ভিডিও, প্রাসঙ্গিক গবেষণার লিংক, পাদটিকা, ফুটনোট কিংবা রেফারেন্স গ্রন্থের সরাসরি সংযোগ। ফলে পাঠক একই সঙ্গে বহুস্তরীয় জ্ঞান লাভের সুযোগ পান।

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের আরেকটি বড় সুবিধা হলো লেখক ও পাঠকের মধ্যে সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগ। পাঠক তাদের মতামত, প্রশ্ন বা সমালোচনা জানাতে পারেন, এবং লেখক তৎক্ষণাৎ প্রতিক্রিয়া দিতে পারেন। এর ফলে জ্ঞানচর্চা একমুখী না হয়ে সংলাপভিত্তিক হয়ে ওঠে।

তদুপরি অনলাইনে প্রকাশিত বই সহজেই ডাউনলোড করা যায়, প্রয়োজনে অংশবিশেষ কপি করা যায়, এমনকি পাঠকের সুবিধামতো ফন্ট বড় বা ছোট করে পড়া যায়। ডিজিটাল বিপণন ব্যবস্থার কারণে বই বিশ্বব্যাপী দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। আর্কাইভিং প্রযুক্তির মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ লেখাগুলো দীর্ঘকাল সংরক্ষণ করাও সম্ভব।

পরিবেশগত দৃষ্টিকোণ

মুদ্রিত বই তৈরির সঙ্গে জড়িত কাগজ উৎপাদন, মুদ্রণ এবং পরিবহন সবই প্রাকৃতিক সম্পদের উপর চাপ সৃষ্টি করে। বন উজাড়, জ্বালানি ব্যবহার এবং পরিবেশ দূষণের প্রশ্ন আজ বিশ্বজুড়ে আলোচিত। এই প্রেক্ষাপটে অনলাইন প্রকাশনা তুলনামূলকভাবে পরিবেশবান্ধব বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

তবুও ছাপা বইয়ের প্রাসঙ্গিকতা

তবে এই বাস্তবতার মাঝেও ছাপার বই পুরোপুরি অপ্রয়োজনীয় হয়ে যায়নি। বরং মানুষের মনন ও পাঠাভ্যাসের সঙ্গে এর একটি গভীর সম্পর্ক রয়েছে।

প্রথমত, ছাপা বই পড়ার অভিজ্ঞতা মনোসংযোগ বাড়াতে সাহায্য করে। ডিজিটাল মাধ্যমে পড়ার সময় নানা ধরনের বিজ্ঞাপন, নোটিফিকেশন বা অন্য লিংকের প্রলোভন পাঠকের মনোযোগ বিচ্ছিন্ন করতে পারে। কিন্তু কাগজের বই পাঠককে একাগ্রতার সঙ্গে বিষয়ের গভীরে প্রবেশের সুযোগ দেয়।

দ্বিতীয়ত, দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও ছাপা বই এখনও গুরুত্বপূর্ণ। ডিজিটাল ফরম্যাট প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে অপ্রচলিত হয়ে যেতে পারে, কিন্তু শত শত বছর পুরোনো পাণ্ডুলিপি ও বই আজও পাঠযোগ্য অবস্থায় টিকে আছে।

তৃতীয়ত, বইয়ের সঙ্গে মানুষের আবেগগত সম্পর্কও অস্বীকার করা যায় না। একটি বই হাতে নিয়ে পড়ার স্পর্শ, পৃষ্ঠা উল্টানোর অনুভূতি, কিংবা নিজের সংগ্রহে বই সাজিয়ে রাখার আনন্দ এই অভিজ্ঞতাগুলো এখনও অনেক পাঠকের কাছে অমূল্য।

ভবিষ্যতের সম্ভাব্য সহবস্থান

বাস্তবতা হলো ডিজিটাল প্রকাশনা ও মুদ্রিত বই একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়; বরং তারা পরস্পর পরিপূরক। দ্রুত তথ্যপ্রাপ্তি, বিস্তৃত ব্যাখ্যা ও আন্তঃসংযোগের জন্য অনলাইন মাধ্যম অত্যন্ত কার্যকর। অন্যদিকে গভীর মননশীল পাঠ, দীর্ঘস্থায়ী সংরক্ষণ এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার জন্য মুদ্রিত বই এখনও অপরিহার্য।

অতএব বলা যায়, প্রযুক্তির যুগে ছাপার বইয়ের গুরুত্ব হয়তো কমেছে, কিন্তু তার প্রয়োজনীয়তা শেষ হয়ে যায়নি। বরং ভবিষ্যতের জ্ঞানচর্চা সম্ভবত এমন এক ভারসাম্যের দিকে এগোবে, যেখানে ডিজিটাল ও মুদ্রিত উভয় মাধ্যমই নিজ নিজ শক্তি নিয়ে মানবসভ্যতার জ্ঞানভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করবে।

বইমেলা বিশেষ করে দেশের বৃহত্তম ও জনপ্রিয় অমর একুশে বই মেলা হতে পারে মুদ্রিত ও ডিজিটাল জ্ঞানের মিলনমঞ্চ

বিশ্বের নানা দেশে বইমেলা জ্ঞানচর্চা ও প্রকাশনা শিল্পের এক গুরুত্বপূর্ণ উৎসব হিসেবে বিবেচিত হয়। আমাদের দেশেও অমর একুশে গ্রন্থমেলা বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক জীবনে এক অনন্য ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। প্রতি বছর অসংখ্য পাঠক, লেখক ও প্রকাশকের মিলনমেলায় পরিণত হওয়া এই আয়োজন প্রমাণ করে যে মুদ্রিত বইয়ের প্রতি মানুষের আবেগ ও আগ্রহ এখনও গভীরভাবে বিদ্যমান।

তবে এই জনপ্রিয়তাকে কেবল মুদ্রিত বইয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না রেখে ডিজিটাল প্রকাশনার বিকাশের জন্যও ব্যবহার করা যেতে পারে। বরং বইমেলাকে এমন একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্মে রূপান্তর করা সম্ভব, যেখানে মুদ্রিত ও ডিজিটাল উভয় ধরনের জ্ঞানপ্রকাশ সমানভাবে বিকশিত হবে।

প্রথমত, বইমেলায় প্রকাশকদের স্টলের পাশাপাশি ডিজিটাল প্রকাশনা প্ল্যাটফর্মের জন্য বিশেষ বিভাগ রাখা যেতে পারে। সেখানে পাঠকরা একই বইয়ের মুদ্রিত সংস্করণের পাশাপাশি ই–বুক সংস্করণ সম্পর্কে জানতে পারবেন এবং কিউআর কোড বা অনলাইন লিংকের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে ডাউনলোড করার সুযোগ পাবেন।

দ্বিতীয়ত, নতুন বই প্রকাশের সময় লেখকরা মুদ্রিত বইয়ের সঙ্গে সঙ্গে তার ডিজিটাল সংস্করণও প্রকাশ করতে পারেন। এতে বইটি একদিকে যেমন বইমেলায় আগত পাঠকদের হাতে পৌঁছাবে, অন্যদিকে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা পাঠকরাও অনলাইনে সহজেই তা সংগ্রহ করতে পারবেন।

তৃতীয়ত, বইমেলায় আলোচনা সভা, সেমিনার ও কর্মশালার মাধ্যমে প্রকাশনা শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলাপ-আলোচনা করা যেতে পারে। সেখানে মুদ্রিত বইয়ের পাশাপাশি ডিজিটাল আর্কাইভ, অনলাইন লাইব্রেরি এবং ই–বুক বিপণনের নতুন পদ্ধতি নিয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করা সম্ভব।

চতুর্থত, বইমেলাকে ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী আরও উন্মুক্ত করা যায়। মেলার বিভিন্ন অনুষ্ঠান, বই প্রকাশনা অনুষ্ঠান কিংবা লেখক–পাঠক সংলাপ অনলাইনে সরাসরি সম্প্রচার করা হলে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা এপার ওপারের কোটিরো বেশি বঙ্গভাষী পাঠকরাও এই সাংস্কৃতিক উৎসবের অংশ হতে পারবেন।

এইভাবে বইমেলা কেবল ছাপা বই বিক্রির একটি অনুষ্ঠান হয়ে না থেকে, জ্ঞান ও প্রকাশনার এক সমন্বিত উৎসবে পরিণত হতে পারে। যেখানে মুদ্রিত বই তার ঐতিহ্য ও গভীর পাঠের অভিজ্ঞতা নিয়ে টিকে থাকবে, আর ডিজিটাল প্রকাশনা জ্ঞানের দ্রুত বিস্তার ও বহুমাত্রিক উপস্থাপনার সুযোগ সৃষ্টি করবে।

অতএব বলা যায়, ভবিষ্যতের প্রকাশনা জগতে প্রতিযোগিতার চেয়ে সহযোগিতার পথই অধিক কার্যকর। বইমেলার মতো বৃহৎ সাংস্কৃতিক আয়োজন যদি এই সমন্বয়ের ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে, তবে মুদ্রিত ও ডিজিটাল উভয় ধারাই একসঙ্গে বিকশিত হয়ে জ্ঞানচর্চার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে সক্ষম হবে।

মন্তব্য ১২ টি রেটিং +৪/-০

মন্তব্য (১২) মন্তব্য লিখুন

১| ০৫ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ১১:২৭

নতুন বলেছেন: বর্তমানের প্রজন্ম বিশ্বসাহিত্যের জ্ঞান ছাড়াই বড় হচ্ছে। বেশিরভাগই সোসাল মিডিয়ার ভুল তথ্য জেনে বড় হচ্ছে।

প্রিন্টেট বই ভবিষ্যতে একটা বিলাশি অভ্যাস হিসেবে দেখা যাবে সম্ভবত। :(

বই মেলাকে সময়ের সাথে তালমালিয়ে ডিজিটাল বই এবং বই পড়ে জ্ঞানচর্চায় মানুষকে উদ্ভধ্য করতে চেস্টা চালিয়ে যেতে হবে।

০৫ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ১১:৪৬

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:




ঠিকই বলেছেন , বর্তমান প্রজন্মের একটি বড় অংশ বিশ্বসাহিত্যের বিশাল ভাণ্ডারের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার আগেই
বড় হয়ে উঠছে,এটি সত্যিই চিন্তার বিষয়। অনেকেই আজ জ্ঞান অর্জনের নির্ভরযোগ্য উৎসের বদলে সামাজিক
যোগাযোগমাধ্যমের অগভীর বা কখনও ভুল তথ্যের ওপর নির্ভর করছে। ফলে গভীর পাঠ, বিশ্লেষণী চিন্তা ও
সমৃদ্ধ সাহিত্যচর্চার সুযোগ ধীরে ধীরে সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে।

এমন পরিস্থিতিতে মনে হয়, হয়তো এক সময় মুদ্রিত বই পড়া একটি বিলাসী অভ্যাসে পরিণত হবে যা
ভাবতেই মন খারাপ লাগে। কিন্তু একই সঙ্গে এটাও সত্য যে বই ও জ্ঞানচর্চার শক্তি কখনও হারিয়ে যায় না,
শুধু তার মাধ্যম বদলায়।

তাই বইমেলা এবং বইকেন্দ্রিক উদ্যোগগুলোর এখন সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে আসা অত্যন্ত জরুরি।
মুদ্রিত বইয়ের পাশাপাশি ডিজিটাল বই, অডিওবুক এবং অনলাইন পাঠ উদ্যোগের মাধ্যমে মানুষকে আবার
বইয়ের জগতে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করতে হবে। যদি সৃজনশীলভাবে এই উদ্যোগগুলো নেওয়া যায়, তবে
নতুন প্রজন্মকে বই পড়ার আনন্দ, গভীর চিন্তা এবং সত্যিকারের জ্ঞানচর্চার পথে অনুপ্রাণিত করা অবশ্যই
সম্ভব।

কারণ শেষ পর্যন্ত, মাধ্যম বদলাতে পারে কিন্তু জ্ঞান, সাহিত্য এবং বইয়ের প্রতি মানুষের আকর্ষণ কখনও
নিঃশেষ হয়ে যায় না।

সহমত পোষনের জন্য ধন্যবাদ ।

শুভেচ্ছা রইল ।

২| ০৫ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:১৬

রাজীব নুর বলেছেন: বইয়ের পাঠক একদম কমে গেছে। আসলেই অনেক কমে গেছে।
মানুষ ব্যস্ত ফেসবুক, ইউটিউব আর টিকটক নিয়ে।

০৬ ই মার্চ, ২০২৬ ভোর ৪:০৩

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



ভাই এটাইতো বাস্তবতা ।
শুভেচ্ছা রইল

৩| ০৫ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ২:২৪

সাজিদ উল হক আবির বলেছেন: ছাপার বই বনাম পিডিএফ - বিতর্কে আমার কিছু চিন্তা যুক্ত করছি।

শ্রদ্ধেয় ব্লগার, খেয়াল করে দেখবেন, আপনি লেখক শব্দটি ব্যবহার করছেন। লেখক পরিচয়টি আদতে একটা বিস্তীর্ণ পরিসরের গোষ্ঠীকে চিহ্নিত করে। সোশ্যাল মিডিয়া বা ব্লগে সমসাময়িক ইস্যুর ওপর নিয়মিত ৩০০ - ৪০০ শব্দে মতামত দিয়ে যিনি হাজার দশেক ফলোয়ার জুটিয়ে নিয়েছেন, তিনিও যেমন লেখক, তেমনি যারা জার্নালে ভারী গবেষণা প্রবন্ধ লিখছেন, তারাও লেখক, যারা পত্রপত্রিকায় কলাম লিখছেন, তারাও লেখক, তেমনি যিনি ১০০০ - ১৫০০ পৃষ্ঠার একটি উপন্যাস লিখছেন, তিনিও লেখক। অনলাইনে সবচে বেশী বেকায়দায় পড়ি সম্ভবত আমরা যারা কথাসাহিত্যের চর্চা করি। উপন্যাস বাদ দিয়ে যদি সিরিয়াস গল্পও বিবেচনা করি, কমলকুমার মজুমদার, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, কিংবা দেবেশ রায়ের গল্প - ছাপার পৃষ্ঠায় দাগিয়ে অনেক সময় নিয়ে একটু একটু করে প্রখর মনোযোগ সহকারে পড়েও অনেক সময় অর্থ উদ্ধার করতে গিয়ে আমাদের গলদঘর্ম হতে হয়। সেখানে যদি ইলিয়াসের খোয়াবনামা উপন্যাসটি অনলাইনে পড়া লাগতো, তবে মনে হয় না এই উপন্যাস আমার কখনো পড়া শেষ হত। মনোযোগ ধরে রাখতে পারতাম না।

বলতে চাইছি, বিশুদ্ধ কথাসাহিত্যের চর্চা আমরা যারা করি, আমার ব্যক্তিগত অভিমত, আমাদের জন্য আসলে ঠিক অনলাইন/ পিডিএফ/ সফটকপির জগতটা না।

আমি এও বিশ্বাস করি, যে ক্লাসিক লিটারেচার সৃষ্টির স্বপ্ন নিয়ে কথাসাহিত্যের চর্চা শুরু করেছিলাম, সেটাও সফটকপিতে সম্ভব নয়।

আমাদের প্রকাশকেরা কখনোই প্রকাশনার ডিটেলস আমাদের সঙ্গে শেয়ার করেন না। লেখার সফট কপি ছড়িয়ে গেলে সেটার করাপ্টেড ভার্শন বের করা আরও সহজ হবে বলে মনে হয়। বাংলাদেশ অতটা প্রযুক্তিগতভাবে অ্যাডভান্সড নয়, আর হলেও সেটা নেগেটিভ ভাবেই। আই মিন, লেখকের উপকারে আসবে না ই বুক। যদি আসে, সেটা প্রকাশকের। আমার দুজন প্রকাশক তাদের প্রকাশনায় আমার প্রকাশিত সমস্ত বই আমার অনুমতি না নিয়েই ই বুক করে ফেলেছেন। সেগুলোর যে হার্ড কপি তাদের প্রকাশনায় আছে, সেগুল বিক্রি শেষ হলে আমি চেষ্টা করতাম আরও ভাল প্রকাশনা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে তা পুনঃ প্রকাশের। কিন্তু আমার অনুমতি ছাড়াই ই- বুক বের করে ফেলায় সেটা আর সম্ভব হবে না। ছাপার বইই নিয়ম মেনে প্রকাশ করা হয় না এদেশে, ই - বুকে লেখকদের সাড়ে সর্বনাশ।

শেষ কথা হল, মানুষের যে পার্সোনাল প্লেজার রিডিং এর অভ্যাস, ঘরের এক কোনে একটা কোজি অ্যাটমস্ফেয়ারে একটা বই নিয়ে বসে বসে পড়া - এই অভ্যাসের বয়স খুব বেশী দিন নয়। ইংল্যান্ডে প্রথম প্রিন্টিং প্রেস আসে ১৪৭৬ সালে। গনহারে বই ছাপা হওয়া, মানুষের বাসায় বাসায় বই থাকা, পড়া এগুলোর বয়স হয়তো ৪০০ বছর, সর্বোচ্চ, যেখানে মানুষের ইতিহাস লাখো বছরের। লাখো বছরের ইতিহাসে মাত্র ৪০০ বছর আগে যে বিনোদন ও তথ্যের আকর (তথা ছাপার হরফে বই) ছিল না, সেটা আর ৪০০ বছর পরে সম্পূর্ণ উধাও হয়ে যেতে পারে, আমার মতো ছাপার বইয়ের ভক্তেরা যতই কান্নাকাটি করুক না কেন। আগে যেমন মহাকাব্য লেখা হত, এখন হয় না, ঠিক সেভাবেই হয়তো আজ হতে ৫০ বা ১০০ বছর পর মানুষ আর উপন্যাসও পড়বে না।

কিন্তু উপন্যাস লিখে একটা জীবন কাটিয়ে দেবো বলে আমরা যারা পন করেছি, জানি না আমাদের জন্য সামনের দিনগুলোতে কি অপেক্ষা করছে।

০৬ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ৮:১২

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



আপনার মন্তব্যটি মনোযোগ দিয়ে পড়লাম। লেখালেখি ও পাঠের অভিজ্ঞতা নিয়ে আপনার আন্তরিক ভাবনার প্রতি
আমার সত্যিই শ্রদ্ধা আছে। বিশেষ করে লেখক শব্দটির বিস্তৃত পরিসর নিয়ে যে কথা বলেছেন, সেটি যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ
এবং অনেক ক্ষেত্রেই সত্যও বটে।

তবে বিনয়ের সঙ্গেই কিছু বিবেচনাযোগ্য বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে চাই। আপনি যে উপসংহারটিতে
পৌঁছেছেন বিশুদ্ধ কথাসাহিত্যের চর্চাকারীদের জন্য অনলাইন বা পিডিএফের জগতটি উপযোগী নয় আমার
মনে হয় বিষয়টি এতটা সরলভাবে নির্ধারণ করা যায় না।

কমলকুমার মজুমদার, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস বা দেবেশ রায়ের মতো গভীর ও জটিল কথাসাহিত্য পাঠ করতে
মনোযোগ, ধৈর্য এবং পুনঃপাঠের প্রয়োজনএ কথা নিঃসন্দেহে সত্য। কিন্তু সেই মনোযোগের অভাবের কারণ মাধ্যম
(কাগজ না স্ক্রিন) এই সিদ্ধান্তটি সম্ভবত একটু তাড়াহুড়ো হয়ে গেছে। কারণ পাঠের গভীরতা শেষ পর্যন্ত পাঠকের
মানসিক প্রস্তুতি ও অভ্যাসের উপরই বেশি নির্ভর করে, মাধ্যমের উপর নয়।

বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, পৃথিবীর বহু গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্য, গবেষণা এবং চিন্তাধারাই এখন ডিজিটাল মাধ্যমে পড়া, সংরক্ষণ
ও আলোচিত হচ্ছে। এমনকি অনেক গুরুগম্ভীর সাহিত্য পাঠকও আজকাল পিডিএফ বা ই–রিডারে মনোযোগ দিয়েই
পড়েন। ফলে কেবল মাধ্যমের কারণে বিশুদ্ধ সাহিত্য পাঠ অসম্ভব এ কথা বলা হয়তো একটু কঠোর বা সীমিত ধারণা
হয়ে দাঁড়ায়।

আরও বিনয়ের সাথে বলি সম্ভবত এখানে অনলাইনের সীমাবদ্ধতার চেয়ে আমাদের পাঠাভ্যাসের পরিবর্তনটাই বড়
বিষয়। যদি মনোযোগের অভ্যাস গড়ে ওঠে, তবে ইলিয়াসের খোয়াবনামা যেমন কাগজে পড়া যায়, তেমনি স্ক্রিনেও
পড়া সম্ভব।তাই আপনার অভিজ্ঞতাকে অস্বীকার না করেই বলছি সম্ভবত অনলাইন জগৎ কথাসাহিত্যের জন্য নয়,
এই সিদ্ধান্তটি একটু পুনর্বিবেচনার দাবি রাখে। কারণ বাস্তবতা হয়তো এর চেয়ে অনেক বেশি বিস্তৃত।

আরো একট বিষয় সাহিত্যের মূল্য বা ক্লাসিক হওয়ার সম্ভাবনা কখনোই তার বাহন বা মাধ্যমের উপর নির্ভর করে
না। বরং নির্ভর করে তার শিল্পগুণ, চিন্তার গভীরতা এবং মানবজীবনের সার্বজনীন সত্যকে ধারণ করার ক্ষমতার
উপর। ইতিহাসে বহুবার দেখা গেছে, সাহিত্য বিভিন্ন মাধ্যমে রূপান্তরিত হয়েছে ;হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপি থেকে
ছাপাখানা, ছাপাখানা থেকে ডিজিটাল। কিন্তু কোনো যুগেই মাধ্যমের পরিবর্তন সাহিত্যের মহত্ত্বকে খর্ব করতে
পারেনি।

দ্বিতীয়ত, অনলাইন বা সফটকপি মাধ্যমকে অবজ্ঞা করা আসলে একধরনের রক্ষণশীল মানসিকতা, যা সাহিত্যের
স্বাভাবিক বিবর্তনকে অস্বীকার করে। আজকের বিশ্বে অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ, গল্প, উপন্যাস এবং গবেষণা প্রথমে
ডিজিটাল মাধ্যমে প্রকাশিত হয়ে পরে মুদ্রিত রূপ পেয়েছে। অর্থাৎ ডিজিটাল মাধ্যম সাহিত্যচর্চার শত্রু নয়, বরং
তার বিস্তার ও পাঠকের নাগাল বাড়ানোর একটি শক্তিশালী উপায়।

তৃতীয়ত, ক্লাসিক সাহিত্য সফটকপিতে সম্ভব নয়, এই দাবি কেবলমাত্র ব্যক্তিগত ধারণা নয়, বরং বাস্তবতার
পরিপন্থী একটি সার্বিক সিদ্ধান্ত। সাহিত্যের ক্লাসিক হয়ে ওঠা নির্ধারণ করে সময়, পাঠকসমাজ এবং সমালোচনা
মূলক মূল্যায়ন, কোনো লেখক নিজে আগেভাগে তার জন্য আলাদা মাধ্যম নির্ধারণ করে দিতে পারেন না।

বলা যায়, সাহিত্যের ইতিহাস আমাদের শেখায় মহৎ সাহিত্য মাধ্যমকে বড় করে না; বরং মহৎ সাহিত্যই মাধ্যমকে
অর্থবহ করে তোলে। তাই সফটকপি বা অনলাইনকে ছোট করে দেখানো মূলত সাহিত্যকে নয়, বরং সময়ের
পরিবর্তনকে বুঝতে না পারার একটি সীমাবদ্ধতারই প্রকাশ।

আজকের বিশ্বে এমন বহু সাহিত্যকর্ম ও গবেষণা আছে যেগুলো প্রথমে অনলাইন বা ডিজিটাল মাধ্যমে প্রকাশিত
হয়েছে, পরে মুদ্রিত বই বা প্রথাগত প্রকাশনায় এসেছে। নিচে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ দেওয়া হলো।

উপন্যাস
১. The Martian by Andy Weir প্রথমে লেখক নিজের ব্লগে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করেন।পাঠকের আগ্রহ বাড়ার
পর এটি ই–বুক হিসেবে প্রকাশিত হয় (২০১১)।পরে বড় প্রকাশনা সংস্থা বইটি প্রিন্ট সংস্করণে প্রকাশ করে (২০১৪) সুত্র : Click This Link)
পরবর্তীতে এটি থেকে একই নামে বিখ্যাত চলচ্চিত্রও তৈরি হয়।

২. Worm by John C. McCrae ২০১১–২০১৩ সালে ওয়েবসাইটে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।কয়েক লক্ষ
পাঠক অর্জন করে এবং পরে এটি ই–বুক ও প্রিন্ট সংস্করণে প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়।আধুনিক ওয়েব-সিরিয়াল
সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। সুত্র : https://en.wikipedia.org/wiki/Worm_(web_serial)

৩. Keisha the Sket by Jade LB.২০০৫–২০০৭ সালে এক কিশোরী লেখক ইন্টারনেটে কিস্তিতে প্রকাশ করেন।
পরে এটি ভাইরাল হয়ে যায় এবং ২০২১ সালে বই হিসেবে প্রকাশিত হয়।২০২২ সালে এটি British Book
Awards-এ পুরস্কারও পায়। সুত্র : https://en.wikipedia.org/wiki/Keisha_the_Sket

৪. The Plant (novel) by Stephen King ২০০০ সালে লেখক নিজেই এটি ইন্টারনেটে ই–বুক সিরিজ হিসেবে প্রকাশ করেন। এটি ছিল অনলাইন প্রকাশনার একটি বিখ্যাত পরীক্ষামূলক উদ্যোগ। সুত্র : https://en.wikipedia.org/wiki/The_Plant_(novel)

অনলাইন থেকে বই হওয়া গ্রাফিক/কমিক সাহিত্য
Hooky by Míriam Bonastre Tur প্রথমে Webtoon প্ল্যাটফর্মে অনলাইনে প্রকাশিত হয়।পরে ২০২১ সালে
এটি গ্রাফিক নভেল হিসেবে মুদ্রিত বই আকারে প্রকাশিত হয়। সুত্র : Click This Link

৬. Fifty Shades of Grey(novel) by E. L. James:প্রথমে fan fiction হিসেবে FanFiction.net-এ প্রকাশিত হয়েছিল।পরে সম্পাদনা করে উপন্যাস হিসেবে প্রকাশিত হয়।বিশ্বজুড়ে ১০ কোটির বেশি কপি বিক্রি হয়েছে।সুত্র সুত্র:https://en.wikipedia.org/wiki/Fifty_Shades_of_Grey

৭. Mother of Learning by Domagoj Kurmaic;প্রথমে এটি ওয়েব সিরিয়াল হিসেবে অনলাইনে প্রকাশিত হয়।পরে সম্পাদিত হয়ে মুদ্রিত উপন্যাস সিরিজ হিসেবে প্রকাশিত হয়।
ফ্যান্টাসি সাহিত্যে এটি ব্যাপক জনপ্রিয়।

এই উদাহরণগুলো দেখায় যে আধুনিক যুগে সাহিত্য ব্লগ, ওয়েবসাইট, ওয়েবসিরিয়াল, ফ্যানফিকশন সাইট,
ইত্যাদি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে জন্ম নিতে পারে।পরে সেগুলো প্রিন্ট বই, বেস্টসেলার, এমনকি চলচ্চিত্রেও রূপ
নিতে পারে।অর্থাৎ বাস্তব উদাহরণই প্রমাণ করে যে মাধ্যম (ডিজিটাল বা প্রিন্ট) সাহিত্যকে ক্লাসিক বা
গুরুত্বপূর্ণ করে না; সাহিত্যিক শক্তিই তা নির্ধারণ করে।

এত গেল আন্তর্জাতিক পর্যায় , এবার ফিরে দেখা যাক নীজ দেশের প্রতি ।

১. অভিজিৎ রায় এর অবিশ্বাসের দর্শন, প্রথমে লেখকের ব্লগ মুক্তমনা ব্লগ-এ ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন প্রবন্ধ
হিসেবে প্রকাশিত হয়েছিল।পরে সেগুলো সংকলিত হয়ে বই আকারে প্রকাশিত হয়। বাংলা বুদ্ধিবৃত্তিক প্রবন্ধ
সাহিত্যে এটি একটি আলোচিত কাজ।

২. অভিজিৎ রায় এর আলো হাতে চলিয়াছে আঁধারের যাত্রী‌; বিজ্ঞানমনস্কতা ও যুক্তিবাদ নিয়ে লেখা অনেক
অংশ প্রথমে ব্লগে প্রকাশিত হয়েছিল।পরে বই আকারে প্রকাশ পায় এবং বিস্তৃত পাঠকগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে।

৩. বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম-এর ব্লগ বিভাগ; এখানে প্রকাশিত অনেক গল্প, প্রবন্ধ ও স্মৃতিকথা পরে
লেখকের ব্যক্তিগত বইয়ে স্থান পেয়েছে।অর্থাৎ প্রথম প্রকাশ ডিজিটাল, পরে মুদ্রিত রূপ।

৪. আমাদের এই সামহোয়্যার ইন ব্লগ; ২০০০ এর দশকের অন্যতম প্রভাবশালী বাংলা ব্লগ প্ল্যাটফর্ম।এখানকার অনেক ব্লগার পরে তাঁদের লেখা গল্প, প্রবন্ধ বা স্মৃতিকথা বই হিসেবে প্রকাশ করেছেন।
উদাহরণ হিসাবে এখানে কয়েক জনের সাহিত্য কর্মগাথা তুলে দিলাম ।

একি খেলা আপন সনে - ২১ (শেষ-পর্ব) ধারাবাহিক গল্প হতে উপন্যাসে রূপান্তর : লেখিকা কঙ্কাবতি রাজকন্যা ( তিনি আর কেও নন সামু ব্লগের অন্যতম সেরা ব্লগার , সাহিত্যিক , কবি , প্রবন্ধিক , রম্য ও ছবিব্লক উপস্থাপন কারী শায়মা এর একটি প্রকাশ্য নিক )

আত্মজৈবনিক উপন্যাসঃ স্বপ্ন বাসর (শেষ পর্ব), রচনায় প্রখ্যাত ব্লগার আবুহেনা মোঃ আশরাফুল ইসলাম

কানাডা প্রবাসী সামু ব্লগার লোকসানা লেইস লিখিত : ১) আকাশের চিঠি ২) আলোর যাত্রা ৩)চন্দ্রিমায় নীল জল উপন্যাস ত্রয়ী ।
https://m.somewhereinblog.net/mobile/blog/Somudrojol/30386322
মাস তিনেক আগে আমন্ত্রিত অতিথী হিসাবে তিনি লন্ডনের ত্রয়োদশ বইমেলা এবং সংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ করে গেছেন ।
আরো যারা প্রতিতযশা লেখক লেখিকা আছেন তাদের মাঝে ব্লগার খায়রুল আহসান , কানাডা প্রবাসী ব্লগার সোহানী ও মোস্তফা কামাল পলাশ অন্যতম যাদের লেখা প্রথমেই ব্লগে প্রকাশের পর ছাপার অক্ষরে বাধাইকৃত পুস্তকে প্রকাশ হয়েছে ।

এর মধ্য আবু হেনা ভাই আর আমাদের মাঝে নাই ( আল্লাহ উনাকে বেহেস্ত নসিব করুন)।
এই সুযোগে তার প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি জানিয়ে তার স্মরণে বিদ্রোহী ভৃগুর লেখা কবিতাখানি দিলাম তুলে

আমাদের হেনা ভাই
কালও ছিলেন, আজ আর নেই
ভাবতেই ব্যাথায় মন ভেঙ্গে যায়!
কোথায় হারালেন? কোন অজানায়?

চলে তো যেতেই হয়।
আগে বা পরে সবাই-ই চলে যাই,
হারানোর ব্যাথা হায়, বুঝি বলে বোঝানোর নয়!
দিনান্তে শুধু শুন্যতাটুকু-প্রবল দীর্ঘশ্বাস হয়ে রয় ।

প্রকৃতির চিরন্তনী বদলের সাধ্য নেই কোন
সকলেই করি অসহায় সমপর্ণ
নির্বাক চেয়ে করি, অসহায় ক্রন্দন
হায়! কে বদলায় নিয়তির অমোঘ বিধান!

আজো পেলাম না খুঁজে পায়নিতো কেউ
চলে যায় সবাই! কোথায়? দেখেনি সে ঢেউ!
পরের যে কাল তাইতো পরকাল
আজ নিয়ে ব্যস্ত সবে; পায়নি তার তল!

যেখানেই থাকুন ভায়া থাকুন ভালো
সবার স্মৃতিতে র’বেন হয়ে- আলো
শুভকামনা জানাই সকলেই স্রস্টায়
চিরসূখে থাকুন সদা এই কামনায়।।

সৃষ্টি যত অমর: রয়ে যায় মহাকালে
স্রষ্টা চলে যায় সৃষ্টি রয়ে যায় কালের আ’লে;
কে বলে তুমি নাই? এই তো আছো সবার স্মৃতির কো
লে
তুমি রবে অমর, অব্যয় তোমার-ই সৃস্টির আঁচলে।
আমাদের হেনা ভাই
কালও ছিলেন, আজ আর নেই
ভাবতেই ব্যাথায় মন ভেঙ্গে যায়!
কোথায় হারালেন? কোন অজানায়?

চলে তো যেতেই হয়।
আগে বা পরে সবাই-ই চলে যাই,
হারানোর ব্যাথা হায়, বুঝি বলে বোঝানোর নয়!
দিনান্তে শুধু শুন্যতাটুকু-প্রবল দীর্ঘশ্বাস হয়ে রয় ।

প্রকৃতির চিরন্তনী বদলের সাধ্য নেই কোন
সকলেই করি অসহায় সমপর্ণ
নির্বাক চেয়ে করি, অসহায় ক্রন্দন
হায়! কে বদলায় নিয়তির অমোঘ বিধান!

আজো পেলাম না খুঁজে পায়নিতো কেউ
চলে যায় সবাই! কোথায়? দেখেনি সে ঢেউ!
পরের যে কাল তাইতো পরকাল
আজ নিয়ে ব্যস্ত সবে; পায়নি তার তল!

যেখানেই থাকুন ভায়া থাকুন ভালো
সবার স্মৃতিতে র’বেন হয়ে- আলো
শুভকামনা জানাই সকলেই স্রস্টায়
চিরসূখে থাকুন সদা এই কামনায়।।

সৃষ্টি যত অমর: রয়ে যায় মহাকালে
স্রষ্টা চলে যায় সৃষ্টি রয়ে যায় কালের আ’লে;
কে বলে তুমি নাই? এই তো আছো সবার স্মৃতির কোলে
তুমি রবে অমর, অব্যয় তোমার-ই সৃস্টির আঁচলে।

উল্লেখ্য প্রথমে সামুতে লিখেই পরে তা বই আকারে প্রকাশকারীর তালিকায় রয়েছেন আরো অনেকেই । তাদের সকলের নাম খুঁজে খুঁজে তুলে দিলে এ মন্তব্যের পরিসর বিশাল আকার ধারণ করবে । তবে আপনি এ ব্লগে আমার থেকেও জেষ্ঠ ব্লগার তাই আপনি আমার থেকে তাদের পরিচয় জানেন অনেক বেশী করে ।

৫. অনলাইন সাহিত্য পোর্টাল (যেমন) বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর ডটকম-এর সাহিত্য বিভাগ, কালের কণ্ঠ বা
অন্যান্য পত্রিকার অনলাইন সাহিত্য পাতা। এই প্ল্যাটফর্মগুলোতে প্রথম প্রকাশিত বহু গল্প ও প্রবন্ধ পরে
লেখকের গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

বাংলা সাহিত্যেও এখন ধীরে ধীরে একটি বাস্তবতা তৈরি হয়েছে । অনেক লেখা প্রথমে ব্লগ, অনলাইন ম্যাগাজিন
বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত হয়। পরে সেগুলো সংকলিত হয়ে বই হিসেবে প্রকাশিত হয়।

অতএব, বাংলা সাহিত্যেও উদাহরণ পাওয়া যায় যে ডিজিটাল মাধ্যম সাহিত্যচর্চার পরিপন্থী নয়; বরং অনেক


ক্ষেত্রে এটি নতুন লেখক ও পাঠকের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করছে।

অলোচনার এ পর্যায়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক সত্য মনে রাখা দরকার। বাংলা সাহিত্যের তথাকথিত
ক্লাসিক রচনাগুলোর বেশিরভাগই প্রথমে বই হিসেবে নয়, পত্রিকা বা সাময়িকপত্রে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত
হয়েছিল। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর বহু গল্প ও প্রবন্ধ প্রথমে প্রকাশিত হয়েছিল ভারতী
পত্রিকা ও বঙ্গদর্শন-এর মতো সাময়িকপত্রে। একইভাবে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়-এর অনেক উপন্যাসও প্রথমে
ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়েছিল বঙ্গদর্শন-এ। অর্থাৎ সেই সময়ের নতুন মাধ্যম ছিল পত্রিকা যা অনেক
রক্ষণশীল পাঠকের কাছে একসময় গম্ভীর সাহিত্যচর্চার উপযুক্ত স্থান বলে বিবেচিত হত না। কিন্তু ইতিহাস
দেখিয়েছে, মাধ্যম নয়, রচনার শিল্পমানই শেষ পর্যন্ত সাহিত্যকে স্থায়িত্ব দেয়। আজকের দিনে পত্রিকার সেই
ভূমিকাই অনেক ক্ষেত্রে পালন করছে ব্লগ, ওয়েবম্যাগাজিন ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। সুতরাং ডিজিটাল মাধ্যমে
প্রকাশিত সাহিত্যকে আগেভাগেই ক্লাসিক হতে অক্ষম বলে ঘোষণা করা আসলে সাহিত্যিক ইতিহাসের এই
মৌলিক বাস্তবতাকেই অস্বীকার করা।

যাহোক আপনার অভিজ্ঞতার বর্ণনা এবং উদ্বেগ দুটোই নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ, এবং লেখক হিসেবে এমন
পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়া যে হতাশাজনক হতে পারে, সে বিষয়ে দ্বিমত করার অবকাশ নেই। বিশেষ করে
প্রকাশকের পক্ষ থেকে অনুমতি ছাড়া ই-বুক প্রকাশ করা বা প্রকাশনার স্বচ্ছতার অভাব এসব বিষয় সত্যিই
আলোচনার দাবি রাখে।

তবে খুব বিনয়ের সঙ্গে একটি ছোট পর্যবেক্ষণ যোগ করতে চাই। প্রযুক্তি বা মাধ্যমের পরিবর্তনকে সব সময়ই
লেখকের বিরুদ্ধ শক্তি হিসেবে দেখা হয়তো পুরো বাস্তবতাকে ধারণ করে না। ইতিহাসে দেখা যায়, প্রতিটি নতুন
মাধ্যম মুদ্রণযন্ত্র, সংবাদপত্র, রেডিও, টেলিভিশন প্রথমে আশঙ্কার জন্ম দিলেও শেষ পর্যন্ত সৃষ্টিশীলতার জন্য নতুন
পরিসরই তৈরি করেছে। ই-বুকও হয়তো সেই ধারারই একটি অংশ হতে পারে, যদি লেখক–প্রকাশক সম্পর্কটি
ন্যায্য ও স্বচ্ছ হয়।

আরেকটি ছোট কথা পাঠাভ্যাসের বয়স হয়তো কয়েক শতক, কিন্তু মানুষের গল্প শোনার ও বলার আকাঙ্ক্ষা তো
অনেক বেশি প্রাচীন। মহাকাব্য লিখিত আকারে কমে গেলেও গল্প তো হারিয়ে যায়নি; বরং রূপ বদলে টিকে আছে।
একটি উদাহরণ এখানে প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ করছি যে বাংলা সাহিত্যে এখন পর্যন্ত দুটি মহাকাব্য বিখ্যাত হয়ে আছে ,
একটি হল মীর মোশারফ হোসেন লিখিত বিষাদসিন্ধু ( যা মুলত কারবালার বিষাদময় কাহিনী নিয়ে রচিত ) ,
দ্বিতীয়টি মহাকবি কায়কোবাদ রচিত মহাশ্মসান ( যা ১৭৬১ সালের পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের ভয়াবহ ধ্বংসলীলার
ওপর ভিত্তি করে রচিত) , অনেকেই বিশেষ করে আমার প্রিয় বাংলা বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর ড.শফিউল্লাহ
১৯৭৪ সনে কথা প্রসঙ্গে বলেছেন যে কবি মাইকেল মধুসুদন দত্ত রচিত মেঘনাদ বধ কাব্য গ্রন্থটিকে আধা ( Half )
মহাকাব্যের পর্যায়ে ফেলা যায় । তবে কথা হল এইসব মহাকাব্যের নায়ক নায়িকা সকলেই উচ্চ পর্যায়ের রাজা
বাদশা সেনাপতি পর্যায়ের । তাই বলে কি অতি সাধারণ থেকে কাওকে নিয়ে মহাকাব্য রচনা করা যায়না?
এ প্রঙ্গঙ্গে উল্লেখ্য একজন সাধারণ নগর নটি আম্রপালীকে নিয়ে আমি এই সামুতেই নগরবধু আম্রপালী
লেখাটির সংক্ষেপিত আংশ প্রথমে ১৯১৭ ব্লগে প্রকাশ করি । তারপর এর কিছুটা পাঠক প্রিয়তা দেখে
পরে ২০২২ সালে আরো সম্প্রসারিত আকারে লিখে বাধাই করা পুস্তক আকারে প্রকাশ করেছি । পুস্তকটিতে
থাকা বিষয়বস্তুরসংক্ষেপিত একটি রূপ এই ডিজিটাল প্লাটফরম সামুতেই প্রথম প্রকাশ করি । লিংকে গিয়ে
দেখতে পারেন ।

কথা হল, আমি জানি গুণেমানে তা মহাকাব্যের ধারে কাছেও না , আমি শুধু দেখাতে চেয়েছি রূপক হিসাবে
কেবল শুধু কী রাজা বাদশা সেনাপতিরাই মহাকাব্যের নায়ক নায়িকা হতে পারে? অতি সাধারণ নীচু হেয় মানুষকে
নিয়ে কেন মহাকাব্য রচিত হতে পারেনা ?। যাহোক ,মোদ্দা কথা হল প্রথমেই ডিজিটাল প্লাট ফর্মে আত্ম প্রকাশ ,
তারপরে ছাপা অক্ষরে বইএ প্রকাশ । আপনি বিজ্ঞ মানুষ আশা করি আমার কথাটি বুঝতে পেরেছেন ।

যাহোক হয়তো উপন্যাসও সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হবে না বরং সময়ের সঙ্গে তার প্রকাশভঙ্গি বদলাতে পারে।তাই
জীবনভর উপন্যাসিক হয়ে থাকতে হলে আর লিখতে হলে বাস্তবতার সাথে হয়ত সমন্বয় সাধন করেই যেতে
হবে । তবে কামনা করি যে কোন পরিস্থিতিতেই যেন আপনার উপন্যাস লেখার গতি আরো প্রবল থেকে
প্রবলতর হয় ।

আপনার উদ্বেগের জায়গাটি তাই অস্বীকার না করেই মনে হয়, আলোচনাটি হয়তো বই বনাম ই–বুক নয়,
বরং লেখকের অধিকার ও প্রকাশনার নৈতিকতা এই জায়গাটিতে কেন্দ্রীভূত হলে আমাদের সবার জন্যই
বেশি ফলপ্রসূ হতে পারে।

আপনার অভিজ্ঞতা শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ এ ধরনের কথোপকথনই হয়তো ভবিষ্যতের প্রকাশনা
সংস্কৃতিকে একটু বেশি ন্যায়সংগত করে তুলতে সাহায্য করবে।

শুভেচ্ছা রইল

০৬ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ৮:৩৯

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



উপরে নগরবধু আম্রপালী লিংটি কাজ করছেনা বিধায় এখানে তুলে দেয়া হলো
নগরবধু আম্রপালী মহাকাব্য

৪| ০৫ ই মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৯

সুলাইমান হোসেন বলেছেন: মনোযোগ দিয়ে চমৎকার লেখাটা পাঠ করলাম,

আসলে ছাপার বই এখন তেমন পড়া হয়না,তারপরও ছাপার বইয়ের অপরিসীম। ছাপার বই পাঠকের হৃদয়ে দ্রুত পৌছায়,এবং বেশি মনে থাকে,চোখের জন্যও ভালো।কিন্তু বর্তমানে ভর্চুয়াল, অনলাইন,মাল্টিমিডিয়াতেই মানুষ বেশি সময় ব্যায় করে।এজন্য ছাপার বই পড়ার সময় এখন অনেক কমে গিয়েছে।

বর্তমান শিক্ষার্থীরা পড়ালেখায় অমনোযোগী হওয়ার পেছনেও এই ডিজিটাল নেটওয়ার্ক,ই-বুক,ফেসবুক,টিউটিউব অনেকটা দায়ী,এগুলো মানুষের মনকে একমুখী রাখেনা,বিভিনমূখী করে ফেলে।যেকারনে মূল সাবজেক্ট অধরাই থেকে যায়।শিক্ষার্থী এবং পাঠকেরা কম্পিউটার মোবাইলের স্কিন থেকে চোখ সরিয়ে ছাপা বইয়ে দিকে যদি অধিক চোখ রাখে,তাহলে বেশি লাভ হবে বলে আমি মনে করি।কিন্তু এমনটা আমি নিজেও পারব বলে মনে হয়না :)

৫| ০৫ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:৩৩

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:



১। বর্তমান প্রজন্ম কেনো বই পড়ছে না? বর্তমান প্রজন্ম বই না পড়ার কারণ কি?

৬| ০৬ ই মার্চ, ২০২৬ ভোর ৪:৪০

হুমায়রা হারুন বলেছেন: আপনার এই লেখাটিতে বই ও প্রযুক্তির যুগল গুরুত্ব অত্যন্ত সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন।
ডিজিটাল মাধ্যমের দ্রুততা ও তথ্যভাণ্ডার যেমন আধুনিক পাঠকের চাহিদা পূরণ করে, তেমনি মুদ্রিত বইয়ের স্থায়িত্ব ও আবেগ পাঠক-সমাজে আজও অপরিহার্য।
বইমেলা, বিশেষ করে অমর একুশে গ্রন্থমেলার কথা উল্লেখ করে আপনি আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতাকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। সব মিলিয়ে, লেখাটি বর্তমান সময়ে জ্ঞানের চর্চায় ভারসাম্যের প্রয়োজনীয়তা ও বইয়ের প্রতি মানুষের গভীর সংযোগের একটি বাস্তব ও প্রাসঙ্গিক চিত্র প্রকাশ করেছে।
লেখাটিতে বইমেলাকে আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত করার বেশ কিছু কার্যকর ও যুগোপযোগী প্রস্তাবনা তুলে ধরেছেন। বিশেষ করে মুদ্রিত ও ডিজিটাল সংস্করণের সমন্বয়, পাঠকদের জন্য তাৎক্ষণিক ই-বুক সংগ্রহের সুযোগ, প্রকাশনা শিল্প নিয়ে আলোচনা সভা এবং বইমেলার অনুষ্ঠানসমূহ অনলাইনে সম্প্রচারের কথা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী।
এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বইমেলা শুধু দেশের গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং বিশ্বব্যাপী বাংলা ভাষাভাষী পাঠকদের জন্য একটি উন্মুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক জ্ঞান-উৎসবে পরিণত হবে। আপনার ভাবনা বইমেলার ভবিষ্যৎ উন্নয়নের জন্য নিঃসন্দেহে অনুপ্রেরণাদায়ক।

অনেক ধন্যবাদ।

৭| ০৬ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

শায়মা বলেছেন: এখন এই বর্তমানে অনেকেই আমরা মনে করি ছাপার বইয়ের গুরুত্ব কমে যাচ্ছে। মোবাইল, ইবুক এসবই এখন চলছে এবং চলবে। তবুও এখনও আমার মনে হয় ছাপার বইয়ের মূল্যও আমাদের কাছে কমেনি। বই হাতে নিয়ে পড়লে যে আনন্দ ও মনোযোগ সম্ভব তা ডিজিটাল বুকে পাওয়া যায় না।

বইমেলা আমাদের ভাষা, সংস্কৃতি ও সাহিত্যচর্চার এক অমূল্য ট্রাডিশন। আমার ধারণা, ছাপার বই কখনই হারিয়ে যাবে না। ইবুক ও ছাপার বই বেঁচে থাকবে একে অপরের হাত ধরে.......নতুন ও পুরাতন মিলেমিশে....

৮| ০৬ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ২:৩২

রাজীব নুর বলেছেন: এখন আমি বই পড়তে পারি না।
দশো মিনিট বই পড়লেই ঘুম এসে যায়। তাছাড়া চোখেও সমস্যা। ছোট লেখা পড়তে পারি না। ঝাপসা লাগে। চওশ্মা আছে কিন্তু দরকারের সময় খুজে পাই না।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.