নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

বাড়ির কাছে আরশিনগর সেথা পড়শি বসত করে, একঘর পড়শি বসত করে আমি একদিনও না দেখিলাম তারে।

অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য

মানুষ পথিক বেশে ঘুরছে দেশে দেশে একটু ছায়াতলে থমকে দাঁড়ায়, স্মৃতিটুকু রেখে শুধু একদিন তো চলে যায়।

অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য › বিস্তারিত পোস্টঃ

ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’

০১ লা মে, ২০১৬ বিকাল ৫:০১

ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ অতি পরিচিত একটা নাম এদেশে, অথচ এ সম্পর্কে আমরা অনেক কিছুই জানি না । অনলাইনে যে তথ্য পাওয়া যায়, সেগুলো এক করে এখানে দেওয়া হলো ।

শুরুর কথা
চায়না (১৯৬২) এবং পাকিস্তান (১৯৬৫)-এর সাথে যুদ্ধে পরাজয়ের পর ভারতীয় সরকার উপলব্ধি করে তাদের একটি শক্তিশালী গোয়েন্দা সংস্থা দরকার ।  এই উপলব্ধি থেকেই ১৯৬৮ সালের ২১ সেপ্টেম্বর প্রাক্তন বৃটিশ ইন্টেলিজেন্স অফিসার ও আইবির ডেপুটি ডাইরেক্টর আর.এন.কাও’র নেতৃত্বে ভারতে প্রতিষ্ঠা লাভ করে Research and Analysis Wing (RAW). কাও ইন্দিরা সরকারকে বোঝাতে সক্ষম হন যে, একটি শক্তিশালী গোয়েন্দা সংস্থা ছাড়া যুদ্ধে জয়লাভ করা সম্ভব না । নিঊ দিল্লীতে ‘র’- এর হেডকোয়ার্টার অবস্থিত।

ইতিহাস (১৯৩৩-১৯৬৮)
ব্রিটিশ সরকার ১৯৩৩ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে লোক নিয়োগ এবং সীমান্তে গোয়েন্দাগিরি চালানোর নিমিত্তে Intelligence bureau (IB) গঠন করেন, ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পর সঞ্জীব পিল্লাই প্রথম ভারতীয় হিসাবে IB র ডিরেক্টর পদে আসীন হন । পিল্লাই ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা M15 এর মত করে ভারতীয় IB-কে সাজান, কিন্তু ১৯৬২ এর ইন্দো-চায়না যুদ্ধে (২০শে অক্টোবর-২১শে নভেম্বর ১৯৬২) ভারতের শোচনীয় ব্যর্থতায় প্রধানমন্ত্রী নেহেরু ইন্ডিয়ান আর্মি চিপ জেনারেল জয়ন্ত নাথ চৌধুরীকে IB-কে নতুন করে ঢেলে সাজাতে বলেন ।

(১৯৬৮-বর্তমান)
এর পরম্পরায় ইন্দিরা গান্ধীর নির্দেশে কাও ‘র’-এর নীল নকশা আঁকেন । শুরুতে মাত্র ২৫০ জন জনবল নিয়ে ২ কোটি রুপি বাজেট নিয়ে কাও কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন । ১৯৭১ সালে কাও আকাশ গোয়েন্দা পরিচালনার জন্য Aviation Research Centre (ARC) গঠন করতে বাধ্য করেন । ১৯৯০ সালে ‘র’ প্রথম প্যারা মিলিটারি বাহিনী Sepecial Frontier Force (SFF) গঠন করে । ভারত সরকার 2004 সালে এর সাথে যোগ করেন National Technical Facilities Organisation(NTFO), National Technical Research Organization (NTRO) এর মত সংগঠন ।

উদ্দেশ্য
পার্শ্ববর্তী দেশসমূহ, যাদের সাথে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা সরাসরি জড়িত; তাদের রাজনৈতিক ও সামরিক কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে ঐ সব দেশের বৈদেশিক নীতি নির্ধারণে ভূমিকা রাখা ।
প্রবাসে অবস্থানকারী ভারতীয় বা ভারতীয় বংশদ্ভুত জনগোষ্ঠীকে ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক সমর্থন ও সহানুভূতি নিজের পক্ষে নিয়ে আসা ।
পশ্চিম ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাওয়া পার্শ্ববর্তী দেশগুলো, বিশেষত পাকিস্তানের সমরাস্ত্র সাপ্লাই পর্যবেক্ষণে রাখা ও সীমিত করা চেষ্টা ।

রিসার্চ অ্যান্ড এনালাইসিস উইং এর সাংগঠনিক কাঠামো সম্পর্কে যতদূর জানা যায়, তা মার্কিন সি আই এ ধাঁচে গঠিত । একজন ক্যাবিনেট সেক্রেটারির (রিসার্চ) পদর্যাদা সম্পন্ন প্রধানের অধীনে বিভিন্ন ডেস্ক ও অপারেশনাল গ্রুপে বিভক্ত । বিভিন্ন ডেস্কের অধীনস্তরা বেশির ভাগ চীন ও পাকিস্তান সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ । ‘র’ প্রধান প্রশাসনিকভাবে মন্ত্রী পরিষদ সচিবের কাছে রিপোর্ট করেন এবং মন্ত্রী পরিষদ সচিব প্রধানমন্ত্রীকে রিপোর্ট করে থাকেন । তবে ক্ষেত্রবিশেষে ‘র’ সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছেও রিপোর্ট করে থাকে । এছাড়া জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার কাছেও রুটিন মাফিক প্রতিদিন ‘র’ প্রধান রিপোর্ট দেন ।

সংগঠন
‘র’- এর সংগঠন ভৌগোলিক এলাকা ও অপারেশনাল কার্যক্রমের ভিত্তিতে বিভক্ত । দুইজন বিশেষ সচিবের ও একজন ডাইরেক্টর পদমর্যাদার অ্যাভিয়েশন রিসার্চ সেন্টারের জন্য চারজন অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা বিভিন্ন ভৌগলিক এলাকার জন্য এছাড়া ৪০টি ডেস্কে বিভক্ত কার্যক্রমের জন্য কমপক্ষে ৪০ জন জয়েন্ট সেক্রেটারি পদমর্যাদার কর্মকর্তা বর্তমানে কর্মরত ।

নয়াদিল্লীর লোদি রোডের সদর দফতর –আঞ্চলিক সদর দফতর-বিদেশে অবস্থিত স্টেশন অফিস-মাঠকর্মী । বিদেশে অবস্থিত স্টেশন অফিসগুলো একজন কন্ট্রোলিং অফিসারের অধীনে যারা মাঠ পর্যায়ে অবস্থানকারী কর্মীদের অ্যাসাইন্টমেন্ট প্রদান, নিয়ন্ত্রণ, সুপারভিশন তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করে থাকে । বিভিন্ন সূত্র থেকে ফিল্ড অফিসার ও সহকারী ফিল্ড অফিসাররা তথ্য সংগ্রহ করে সিনিয়র ফিল্ড অফিসারকে দেয় সিনিয়র ফিল্ড অফিসার বা স্টেশন অফিসার সেই প্রাপ্ত তথ্য যাচাইবাছাই করে আঞ্চলিক বা সদর দফতরের বিভিন্ন ডেস্কে প্রেরণ করেন । এরপর ডেস্ক প্রধান সেই তথ্য গুরত্ব বিচারে আরও উপরে প্রেরণ করেন । ‘র’ এ কর্মীদের কে এজেন্ট হিসেবে না বলে রিসার্চ অফিসার বলা হয় । এই গোয়েন্দা সংস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে নারী অফিসার কাজ করে থাকে । বিগত বছরে চীন ও পাকিস্তান ডেস্ক ভেঙে আলাদাভাবে চীনের জন্য একটি ডেস্ক করা হয়েছে ।

এস এফ এফঃ এস্টাবলিশমেন্ট ২২ ‘র’ পরিচালিত বিশেষ বাহিনী । যারা ক্ল্যান্ডেস্টাইন অপারেশন পরিচালনা করে থাকে।

রিক্রুটমেন্ট
স্বাধীন সংস্থা হিসাবে ‘র’- এর কর্মকর্তা বা মাঠ পর্যায়ে কর্মী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সাধারণত ধরাবাঁধা কোনো নিয়ম নেই । সাধারণত ভারতীয় সেনা, নৌ, বিমান বাহিনীর স্পেশাল ফোর্স, পুলিশ বাহিনী, আই এ এস ক্যাডার, আই, বি, সিবিআই অথবা মেধা বিচারে সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয় গ্রাজ্যুয়েট ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকেও নেয়া হয়ে থাকে । ‘র’ এ কর্মরত চাকরিকে অ্যানালাইসিস ক্যাডার সার্ভিস বা আরএএস বলা হয় ।

আই এ এস (বাংলাদেশি মানদন্ডে বি সি এস) অফিসারদের মধ্য থেকে যারা ‘র’তে যেতে ইচ্ছুক, তাদের ক্যাবিনেট সেক্রেটারিয়েট এর অধীনে ডেপুটি ফিল্ড অফিসার DFO পদের পরীক্ষায় বসতে হয়, পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মধ্য থেকে মেধার ভিত্তিতে সেরাদের বেছে নেওয়া হয়; এরা সবাই রিসার্চ অ্যান্ড এনালাইসিস ক্যাডার নামে পরিচিত হয় । কমপক্ষে ৮ বছর DFO থাকার পরে তাকে পরবর্তি লেভেলে ফিল্ড অফিসার FO পদে পদায়ন করা হয় । কমপক্ষে ৫ বছর FO থাকার পর তাকে সিনিয়ার ফিল্ড অফিসার SFO (ক্লাশ ওয়ান) হিসাবে প্রমোশন করা হয় । এরপরের ধাপে স্টেশন প্রধান বা রেসিডেন্স অফিসার RO হিসাবে নিয়োগ দেওয়া হয় । এরপর তাকে কোনো ডেস্ক প্রধান হিসাবে ‘র’ আঞ্চলিক দফতর, সদর দফতরে রাখা হয় অথবা নিজ নিজ বাহিনী বা ভারতের অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিসের যেকোনো স্থানে পাঠানো হয় ।

DFO FO SFO রা সরাসরি বিদেশের মাটিতে কর্মরত থাকে । তারা তাদের স্টেশন অফিসারের ভাগ করে দেওয়া দায়িত্ব অনুযায়ী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে এবং ইনফর্মার হিসাবে স্থানীয় গুরুত্বপুর্ণ ও প্রয়োজনীয় ব্যক্তিদের, ঐ দেশের গোয়েন্দা সংস্থা বা ঐ দেশে অবস্থানকারী তৃতীয় কোনো দেশের গুপ্তচর কর্মীকে নিজের পক্ষে আনার চেষ্টা করে ।

পরিচালক
‘র’ প্রায় সব পরিচালকই ইন্ডিয়ান পুলিশ সার্ভিস থেকে এসেছেন । একমাত্র অশোক চর্তুরবেদী ছাড়া সমস্ত পরিচালকেরা চীন, পাকিস্তান expert ছিলেন । অশোক চর্তুরবেদী ছিলেন নেপাল বিষেশজ্ঞ ।

১। আর.এন.কাও এবং শঙ্কর নায়ার ইম্পেরিয়াল পুলিশ (IP) থেকে এসেছেন, যা ব্রিটিশ ঔপনিবেশিকের পুলিশ সার্ভিস ছিল ১৯৪৭ পর্যন্ত ।
২। এন.এফ. সান্তুক ভারতীয় নেভিতে, পরে ভারতীয় পুলিশ সার্ভিস এবং Indian Frontier Adminastration Force এ ছিলেন।
৩। বিক্রম সুদ Indian Postal Service এ ছিলেন এবং পরে স্থায়ীভাবে RAS ক্যাডারে যান । এখন তিনি পর্যবেক্ষক উপদেষ্টা হিসাবে কাজ করেন ।
৪। এ.এস.দুলাত একজন ভারতীয় পুলিশ সার্ভিস অফিসার, ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো থেকে আসেন ।
৫। কে.সি. ভার্মা একজন ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো অফিসার ছিলেন । 
৬। সঞ্জীব ত্রিপাঠী বর্তমান ডিরেক্টর, যিনি RAS থেকে এসেছেন ।

প্রশিক্ষণ
রিক্রুট হিসাবে নির্বাচিত হওয়ার পর নির্বাচিত ব্যক্তিকে প্রয়োজন ভেদে সল্পমেয়াদি বেসিক ও দীর্ঘ মেয়াদি কালেক্টিভ ট্রেনিং প্রদান করা হয় । স্বল্প মেয়াদে ১০ দিনের ট্রেনিং এ প্রধানত রিক্রুটের মনোবল বৃদ্ধির ব্যবস্থা করা হয়, পাশাপাশি বহির্দুনিয়া আর গোয়েন্দা জগতের পার্থক্য ব্যাখ্যা, প্রতিপক্ষের গোয়েন্দা চেনার উপায়, গোয়েন্দা জগতে শত্রু বা বন্ধু নেই সবাই প্রতিদ্ধন্ধি সাধারণ ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার যেমন রেডিও ট্রান্সমিটার ব্যাবহার ইত্যাদি । এই ট্রেনিং সাধারণত হরিয়ানার গুরুগাও এ ট্রেনিং স্কুলে প্রদান করা হয় । এছাড়া প্রশিক্ষিত অফিসারদের মুম্বাইয়ে ফিনান্সীয়াল ইন্টেলিজেন্স স্কুলে প্রশিক্ষন দেওয়া হয় ।

প্রাথমিক ট্রেনিং শেষ প্রয়োজনমাফিক দেরাদুনে ১-২ বছরের ফিল্ড ট্রেনিং প্রদান করা হয় । ফিল্ড ট্রেনিং এ আন্ডার কাভার অপারেশন, কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স,স্যাবোটেজ, জনমত ম্যানিপুলেট ও দন্দ্ব সৃস্টির কৌশলসহ অনেক বিষয়ে ব্যাপক ট্রেনিং প্রদান করা হয় । ট্রেনিং সেন্টারে সবাই নিজ নিজ নাম পরিচয়ের বদলে কোড ব্যবহার করে থাকে ।

সরাসরি নিয়োগকৃত DFO দের সাধারণত বেসিক ও অ্যাডভান্স দুই ধরনের ট্রেনিং সম্পন্ন করার পর বিদেশে ডেপুটি ফিল্ড অফিসার হিসাবে পাঠানো হয় । সংশ্লিষ্ট দেশের স্থানীয় রিক্রুটদের মেধা,গুরুত্ব ও কাজের ধরণ বুঝে শুধু বেসিক অথবা অ্যাডভান্স ট্রেনিং উভয়ই দেওয়া হয় ।

কর্ম পদ্ধতি
“যা বল প্রয়োগে অর্জন সম্ভব নয়, তা ধোঁকা দিয়ে সিদ্ধ করা যায়, বিষাক্ত গোখরা সাপও কাক আর সোনার হারের ফাঁদে পরাজিত হয় ।” –চাণক্য

তথ্য সংগ্রহ: কভার্ট ও নন কভার্ট উভয় পদ্ধতি ব্যবহার করে ‘র’ তথ্য সংগ্রহ করে থাকে ।

আক্রমনাত্তক গোয়েন্দাবৃত্তি: ‘র’ এলাকা ভেদে আক্রমণাত্মক গোয়েন্দা কৌশল পরিচালনা করে । এর মধ্যে গুপ্তচরবৃত্তি, মানসিক যুদ্ধ পরিচালনা, অন্তর্ঘাতমুলক কর্মকাণ্ড ।

ক্ল্যান্ডেস্টাইন অপারেশনঃ সামরিক বাহিনীর স্পেশাল ফোর্স থেকে নেওয়া বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের সহায়তায় গুপ্তহত্যা পরিচালনা করা হয় ।

প্রতিগোয়েন্দাবৃত্তি: ‘র’ দেশের অভ্যন্তরে ও দেশের বাইরে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোতে প্রতিদন্দ্বী গোয়েন্দা সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যাপকভাবে কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স পরিচালনা করে ।

মেইল হ্যাকিং ও ইন্টার্সেপ্সহনঃ ‘র’ আইটি এক্সপার্টরা নিয়নিত স্থানীয় গুরুত্বপূর্ণ দফতর ও ব্যক্তির ইমেইল হ্যাক করে থাকে এবং পোস্টাল মেইল ইন্টার্সেপ্ট করে থাকে।

গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার কাছাকাছি ট্রান্সমিটার স্থাপনঃ সংশ্লিস্ট দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা যেমন বিভিন্ন বাহিনী সদর দফতর, সরকারি গুরুত্বপূর্ণ অফিস ও অত্যন্ত স্পর্ষ্কাতর ব্যক্তিবর্গের বাড়িতে টেলিফোনে আঁড়ি পাতে ও আশেপাশে স্থায়ী বা ভ্রাম্যমাণ হাই ফ্রিকোয়েন্সি ট্রান্সমিটারসহ প্রযুক্তি ব্যবহার করে নজরদারি ও তথ্য সংগ্রহ করে।

জনমত ঘোরানোঃ ‘র’ বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট দেশের জনমত তার পছন্দ ও সুবিধা অনুযায়ি ঘোরাতে চেষ্টা করে; এজন্য RO নির্দেশনা অনুযায়ী ঐ দেশে অবস্থানকারী DFO এবং FO রা তাদের স্থানীয় নেটওয়ার্ক, লোকাল ইনফর্মার ও রিক্রুটদের ব্যবহার করে প্রকাশিত তথ্য ম্যানিপুলেট করার চেষ্টা করে।

পর্যবেক্ষণ, ম্যাসেজ ইন্টারসেপশন, সিগন্যাল ও পোস্টাল চ্যানেল ব্যবহার, পর্যবেক্ষণ, ফোন ট্যাপিং, ইমেইল হ্যাক, কোড উদ্ধারের মতো আধুনিক গোয়েন্দা কৌশল ব্যবহার করে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। একই তথ্য একাধিক উৎস হলে সংগ্রহ করে ক্রস চেক করে দেখা হয়। এমনকি ব্ল্যাকবেরি কোম্পানির পরিসেবা ও নেটওয়ার্ক ‘র’ পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে।

এ পর্যন্ত পরিচালিত গুরুত্বপুর্ণ অপারেশন
হিমালয়ে ELINT অপারেশন, যা ১৯৬৪ সালে চীনের পারমানবিক পরীক্ষা চালানোর পর সিআইএ ও ‘র’ ১৯৬৮ সালে যৌথভাবে চীনের মিসাইল স্টেশন ও ঐ বিস্ফোরণের স্থান নিশ্চিত হওয়ার জন্য বিখ্যাত ভারতীয় পর্বতারোহী নন্দা দেবীর সহায়তায় পরিচালনা করে।

১৯৭১ এ বাংলাদেশে অপারেশনঃ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সক্রিয় অংশ গ্রহন। ১৯৭০ এ কাশ্মীরী বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ব্যবহার করে ভারতের বিমান ছিনতাই করে পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া, যার ফলশ্রুতিতে ভারত তার আকাশসীমার উপর দিয়ে পাকিস্তানে দুই পাশের বিমান চলাচল নিষিদ্ধ করে দিতে পারে।

অপারেশন স্মাইলিং বুদ্ধাঃ ‘র’- এর দেওয়া ১৯৭৪ সালে ভারতের পারমাণবিক অস্ত্র প্রোগ্রাম এর কোড নেম। ১৯৭৪ এর ১৮ মে পারমানবিক অস্ত্র তৈরী ও পরীক্ষার আগে পর্যন্ত গোপনীয়তা রক্ষা।

সিকিম দখলঃ ১৯৭৫ এ ‘র’- এর সহযোগিতায় ভারতীয় বাহিনী সিকিম একিভূত করে।

কাহুটা ব্লু প্রিন্ট ফাঁসঃ ১৯৭৮ সালে পাকিস্তানের রাওয়াল পিন্ডিতে কাহুটা এলাকায় খান রিসার্চ ল্যাবটারিতে পাকিস্তানের পারমাণবিক কর্মসুচির খবর উদ্ধার করে ‘র’। ল্যাবরেটরির কাছে তাদের পরিচালিত একটি নাপিতের দোকান থেকে সংগ্রহ করা চুলের স্যাম্পল এ বেডিয়েশন পরীক্ষা করে। এরপর তারা ক্ল্যান্ডেস্টাইন অপারেশন পরিচালনা করে প্রকল্প ধ্বংস করতে চাইলে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মোরাজি দেশাই তাদের নিবৃত্ত করেন এবং পাক প্রেসিডেন্ট জিয়াউল হককে ফোন করে ‘র’- এর পরিকল্পনার কথা জানিয়ে দেন।

অপারেশন মেঘদূতঃ ১৯৮২ তে ভারতের সেনাবাহিনীর যে ধরনের স্নো ওয়ার্ফেয়ারের গিয়ার ব্যবহার করে একই ধরনের আর্টিক ওয়ার্ফেয়ারের গিয়ার পাকিস্তান লন্ডনের একটি কোম্পানি থেকে সংগ্রহ করছে জানতে পারে ‘র’। যার ফলে ভারতীয় সেনাবাহিনী পাকিস্তানিদের পূর্বেই সিয়াচেল হিমবাহের সিংভাগ দখল করে নেয়।

ক্ল্যান্ডেস্টাইন অপারেশনঃ মধ্য আশির দশকজুড়ে পাকিস্তানের অবস্থিত খালিস্তানি (শিখ) বিদ্রোহীদের ঘাঁটিতে ক্ল্যান্ডেস্টাইন অপারেশন পরিচালনা করে।

অপারেশন ক্যাকটাসঃ ২০০ তামিল গেরিলার হাতে দখল হয়ে যাওয়া মালদ্বীপকে সহায়তায় ‘র’ ও ভারতীয় বিমান বাহিনী একসাথে অভিযান পরিচালনা করে। ৩রা নভেম্বর ১৯৮৮ ইন্ডিয়ান এয়ারফোর্সের সহায়তায় মালদ্বীপ ক্ষমতা পুনর্দখল করে।

শ্রীলংকায় তামিল ট্রেনিংঃ আশির দশক ধরে ‘র’ শ্রীলংকায় তামিলদের স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্য উদ্বুদ্ধকরণ ট্রেনিং পরিচালনাসহ পরবর্তীতে ভারতীয় বাহিনীর অভিযানে সহায়তা করে।

অপারেশন চাণক্যঃ পুরো ৯০ এর দশক ধরে কাশ্মীর উপত্যকায় আইএসআই ও তাদের ট্রেনিংপ্রাপ্ত গেরিলাদের ধরতে এ অভিযান চালানো হয়।

অ্যান্টি অ্যাপারটিড মুভমেন্টঃ RAW অনেক স্বাধীন আফ্রিকান দেশের গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ এবং দক্ষিণ আফ্রিকা ও নামিবিয়া বিরোধী জাতিবিদ্বেষ সংগ্রাম করতে সাহায্য করে। RAW অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কিছু আফ্রিকান দেশের গোয়েন্দা সংস্থার প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান কাজ সহায়তা করে।

অপারেশন লিচঃ মিয়ানমারকে দমন করার জন্য কোচিন বিদ্রোহীদের অস্ত্র দিয়ে সাহায্য করে, পরে নিজেরাই KIA (Kochin Independence Army)’র ৬ জন শীর্ষ নেতাকে হত্যা করে প্রমাণ করে আসলেই গোয়েন্দা কর্মকাণ্ডে কোনো শত্রুমিত্র নেই।

নর্দান অ্যালায়েন্সঃ এছাড়া আফগান গৃহযুদ্ধে ৯০ দশকের মাঝামাঝি সময়ে নর্দান অ্যালায়েন্সকে ‘র’ সহায়তা করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পরিচালিত ‘ওয়ার অন টেরর’ এ সক্রিয়ভাবে সিআইএ, মোসাদসহ অন্যান্য পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থার সাথে অংশগ্রহণ করে।

অপারেশ মেহেরানঃ ২০১১ সালে পাকিস্তানের মেহেরান নৌ ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে তিনটি অত্যাধুনি আর্লি ওয়ার্নিং রাডারযুক্ত পাকিস্তানের একমাত্র আর্লি ওয়ার্নিং বিমান স্কোয়াড্রন ধ্বংস করা।

পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে বিদ্রোহীদের প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র প্রদান। পাকিস্তানের করাচি ভিত্তিক রাজৈতিক হত্যাকাণবড পরিচালনা। নেপালের রাজা বিরেন্দ্র বীর বিক্রমকে নির্বংশ করা। ৯০ এর দশকে নেওয়া এক পরিকল্পনার অংশ হিসাবে মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশগুলোতে গত দেড় দশক ধরে ৫,০০০ ভারতীয় তরুণীদের বিয়ের জন্য উপযুক্ত পাত্রী হিসাবে তৈরি করে প্রেরণ করা হয়েছে।

সমালোচনা
১। ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১০ “আউটলুক ম্যাগাজিন” রিপোর্ট করে সাবেক চিফ অশোক চর্তুরবেদীকে নিয়ে, ভারত সরকারের তহবিল ব্যবহার করে তার স্ত্রীকে নিয়ে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ করে অবসর গ্রহণ করার পরে, অশোক চর্তুরবেদীর কুটনৈতিক পাসপোর্ট সারেন্ডার তো করেনইনি উপরন্তু তার স্ত্রীর জন্য জারি করে আর একটি।
২। অবসর গ্রহণ করার পর মেজর জেনারেল ভি কে সিং ‘র’ এর অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি নিয়ে একটি বই লেখেন। এরপরই “অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট” র আওতায় গ্রেফতার হন।
৩। ১৯শে আগষ্ট ২০০৯ ‘র’- এর গুরগাও প্রশিক্ষণ একাডেমির ভাষা পরিচালক ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর অফিসের সামনে আত্নহত্যা করতে উদ্যত হন। এ ব্যাপারে খুব বেশি কিছু জানা যায় না।
৪। একজন সিনিয়র প্রযুক্তিগত অফিসার সিবিআই দ্বারা ঘুস গ্রহণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হন ৪ ফেব্রুয়ারী ২০০৯ এ, ডিরেক্টর স্তরের এই কর্মী, যে “সংবেদনশীল” প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত সরঞ্জাম এর এক্সপোর্ট লাইসেন্স মঞ্জুর কাজ করত। তার বিরুদ্বে অভিযোগ উঠে ১ লক্ষ রুপি ঘুস গ্রহণের।
৫। সেপ্টেম্বর ২০০৯, ৭ জন RAS ক্যাডার এ.বি.মথুরকে special secretary’র (IPS cader) বিধিবহির্ভুত পদোন্নতি প্রদান করায় পদ ত্যাগ করেন।

বাংলাদেশে ‘র’-এর অপারেশন ও কার্যক্রম
বাংলাদেশে কমপক্ষে ১ লক্ষ ‘র’ কর্মী ও ইনফর্মার সক্রিয় আছে বলে জানা যায়। এর মধ্যে ভারতীয় ৪,০০০ এর মতো (স্পেকুলেশন) আর বাকিরা ইনফর্মার, ধর্মীয় ও মতাদর্শগতভাবে ‘র’- এর প্রতি চরম সহানুভুতিশীল যাদের যেকোনো কাজে লাগানো সম্ভব।

বাংলাদেশে যে সব বড় ঘটনার সাথে রিসার্চ অ্যান্ড এনালাইসিস উইং এর সংশ্লিষ্টতা নিয়ে আঙ্গুল তোলা হয়ঃ
বাংলাদেশে পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি বাহিনী গঠন ও পরিচালনায় ‘র’ জড়িত আছে বলে ধারণা করা হয়।
১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমান হত্যা পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে ‘র’- এর সংশ্লিষ্টতা ছিল বলে ধরা হয়।
এরশাদের ক্ষমতায় আরোহণ এ সহযোগিতা ও তাকে ডবল এজেন্ট সন্দেহে এরশাদের পতনে সহায়তা।
১৯৯৬ এর জেনারেল নাসিমের ব্যার্থ অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা।
সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এম এস কিবরিয়া হত্যাকাণ্ড।
১/১১ বিডিআর বিদ্রোহ
ইলিয়াস আলী নিরুদ্দেশ
এছাড়া বাংলাদেশের গার্মেন্টস সেক্টরে অস্থিরতা তৈরির জন্য রিসার্চ অ্যান্ড এনালাইসিস উইংকে দায়ী করা হয়।

(ক্যাপ্টেন নিমোর ব্লগ থেকে সংগৃহীত)

মন্তব্য ০ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.