নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

বাড়ির কাছে আরশিনগর সেথা পড়শি বসত করে, একঘর পড়শি বসত করে আমি একদিনও না দেখিলাম তারে।

অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য

মানুষ পথিক বেশে ঘুরছে দেশে দেশে একটু ছায়াতলে থমকে দাঁড়ায়, স্মৃতিটুকু রেখে শুধু একদিন তো চলে যায়।

অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য › বিস্তারিত পোস্টঃ

জামায়াতের দ্বিচারিতায় পরিপূর্ণ রাজনীতি

২২ শে জুলাই, ২০২৬ ভোর ৫:২৮


১৯৪১ সালে ব্রিটিশ ভারতের লাহোরে ইসলামী চিন্তাবিদ সাইয়েদ আবুল আ’লা মওদূদী ‘জামায়াতে ইসলামী’ গঠন করেন। পরবর্তীতে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর এটি ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। আকিদাগতভাবে অন্যান্য ইসলামি দলের সাথে পার্থক্য আছে জামায়াতে ইসলামীর। ইসলামী আন্দোলন ও হেফাজত তো দলটাকে তো ইসলামী দল হিসেবেই মানে না। তারপরও বলতে হবে বাংলাদেশে সবচেয়ে শক্তিশালী ইসলামী দল।

জামায়াত ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠারও বিরোধিতা করে। শুধু তাই না, নিজস্ব বাহিনী গঠন করে পাকবাহিনীকে সহায়তা করেছে। খুন, ধর্ষণ ও লুটপাটে তাদের সহায়তা করেছে। অথচ এরাই এখন সবচেয়ে বড় দেশপ্রেমিক সাজে। পাকিস্তান ভাঙা ভুল ছিল বারবার বলেও তারা দেশপ্রেমিক। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তীতে তো তারা পুরোপুরি ফর্মে আছে। শোনা যায় তাদের ক্ষমতায় আনতে ডিপস্টেটের প্রচেষ্টা ছিল। যদিও সেটা সম্ভব হয়নি।

জামায়াতে ইসলামের শীর্ষ স্থানীয় নেতারা দলটির রাজনীতির সঙ্গে নিজেদের সন্তানদের যুক্ত হতে দেন না। এমনকি তাদের সন্তানদের মাদ্রাসার শিক্ষাও দেন না।

সদ্য জামায়াত ত্যাগ করা জামায়াতের জনৈক রুকন লিখেছেন, জামায়াতে ইসলামীর ব্যাপারে আমার প্রথম আপত্তি: ‘ইসলামী দল’ কিন্তু নেতৃত্বে আলেম নেই, সন্তানদের গন্তব্য পাশ্চাত্য! এরা সাধারণ মানুষকে দ্বীন কায়েমের আবেগ দেখিয়ে দলে টানে। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, এদের মূল নীতিনির্ধারণী বা শীর্ষ নেতৃত্বে কোনো প্রকৃত ও বরেণ্য আলেম নেই। দল চালায় মূলত কর্পোরেট ধাঁচের কিছু চতুর রাজনীতিবিদ।

সবচেয়ে বড় দ্বিচারিতা হলো, যে পশ্চিমা শিক্ষা ও সংস্কৃতিকে এরা দিনরাত গালমন্দ করে, নিজেদের সন্তানদের কিন্তু তারা আলেম বানাতে মাদ্রাসায় পাঠায় না। নেতাদের সন্তানেরা পড়ে দেশের সবচেয়ে দামি ইংরেজি মাধ্যমে এবং উচ্চশিক্ষার জন্য পাড়ি জমায় সেই ইউরোপ-আমেরিকায়, যাদের এরা ‘ইসলামের শত্রু’ বলে গালি দেয়।

যেমন: গোলাম আজম (সাবেক আমির): পশ্চিমা শিক্ষা ও সংস্কৃতির কট্টর সমালোচক ও ইসলামী রাষ্ট্র ব্যবস্থার প্রবক্তা। অথচ উনার ছেলেদের প্রায় সবাই যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন পশ্চিমা দেশে উচ্চশিক্ষা নিয়েছেন এবং সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। এদের কেউ প্রচলিত ধারার মাদ্রাসায় পড়েননি।

মতিউর রহমান নিজামী (সাবেক শীর্ষ নেতা): স্যেকুলার শিক্ষা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে আজীবন কড়া বক্তব্য দিয়েছেন। কিন্তু উনার সন্তানরা পশ্চিমা এবং আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত। উনার এক মেয়ে ঢাকার নামী ইংরেজি মাধ্যম স্কুল থেকে পড়াশোনা করে পরবর্তীতে বিদেশে থিতু হয়েছেন।

দেলোয়ার হোসাইন সাঈদী (সাবেক নায়েবে আমির): উনার ওয়াজ বা বয়ানের মূল ভিত্তিই ছিল পশ্চিমা সংস্কৃতির ধ্বংসাত্মক রূপের সমালোচনা করা। অথচ উনার ছেলেরা আধুনিক ব্যবসায়িক ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত। উনার নাতি-নাতনিরা দেশের নামী ইংলিশ মিডিয়ামে পড়েছেন এবং বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য গেছেন।

বর্তমান শীর্ষ নেতৃবৃন্দ: বর্তমানের শীর্ষ ও সমমনা দলগুলোর কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরার অধিকাংশ নেতার সন্তানরা মালয়েশিয়া, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন নামী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএ, এমবিএ বা ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছেন।

এই দ্বিচারিতা থেকে আমার উপলব্ধি: এ কেমন ইনসাফ? সাধারণ মানুষের সন্তানরা রাজপথে আবেগ বিলিয়ে দেবে, হামলা-মামলার শিকার হয়ে জীবন ধ্বংস করবে, আর নেতাদের সন্তানেরা পাশ্চাত্যের বিলাসবহুল স্যেকুলার জীবন উপভোগ করবে—এ কেমন ইসলামী ইনসাফ? যে শিক্ষা ব্যবস্থা নেতাদের নিজেদের সন্তানদের জন্য “উত্তম ও ক্যারিয়ার গড়ার মাধ্যম”, সেই একই শিক্ষা ও সংস্কৃতি সাধারণ মানুষের জন্য কেন “জাহেলিয়াত” হবে?

মূল কথা হচ্ছে ধর্মের ফতোয়া এবং দ্বীন কায়েমের এই আবেগ এদের কাছে কেবলই সাধারণ মানুষকে সম্মোহিত করে রাখার একটি হাতিয়ার। মূল লক্ষ্য ক্ষমতার অংশীদার হওয়া এবং নিজেদের আখের গোছানো। এদের এই মুখোশটা চিনে রাখা প্রতিটি সচেতন নাগরিকের দায়িত্ব।

এ অভিযোগ শুধু বাংলাদেশের জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধেই নয়, জামায়াতের প্রতিষ্ঠাতা আবুল আ’লা মওদূদীর বিরুদ্ধেও রয়েছে। তাঁর নয় সন্তানের মধ্যে একজনকেও তিনি জামায়াত কিংবা এর ছাত্রসংগঠনের সঙ্গে যুক্ত করেননি। মওদূদীর সন্তানেরা পড়েছেন পশ্চিমা আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থায়। মওদূদীর নাতনি সোফিয়া ফারুক মওদূদী আমেরিকান রিপাবলিক পার্টির নেত্রী। ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির নির্বাহী সভাপতি শাহরিয়ার কবিরের নির্মিত “জিহাদ উইদাউট বর্ডার” নামের এক তথ্যচিত্রে উঠেছে এসেছে এ সত্য।

জানা যায়, ওই তথ্যচিত্রে একটি সাক্ষাৎকারে আবুল আলা মওদুদীর ছেলে সৈয়দ হায়দার ফারুক মওদূদী ধর্মীয় রাজনীতির নামে জামায়াতের ভণ্ডামীর নানা ঘটনা তুলে ধরেন। সৈয়দ হায়দার ফারুক বলেন, আমার বাবা আবুল আ’লা মওদূদী জামায়াতে ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা। কিন্তু আমার কোনো ভাইবোন জামায়াত বা এর ছাত্র সংগঠন তুলাবা ইসলামিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকেননি। আমাদের পরিবারের সদস্যরা জামায়াত ও তার ছাত্র সংগঠনের ধারে-কাছেও যায়নি, এমনকি আমরা সমর্থকও ছিলাম না।

যদি আমার বাবা জামায়াতের কোনো মিটিংয়ের আশপাশে আমাদের দেখতেন তখন তিনি আমাদের বলতেন, তোমরা এখানে এসেছ কেন? তিনি সব সময় আমাদের জামায়াত থেকে দূরে রাখতেন। তিনি জামায়াত থেকে সব সময় এমনভাবে আমাদের আলাদা রাখতেন যেন জামায়াত ইসলাম হেরোইনের মতো ড্রাগ। আর ড্রাগ ভরা এ ব্যাগ বাড়ির বাইরে কোথাও লুকিয়ে রাখতে হবে। বাবা তাঁর সব রাজনৈতিক দর্শন বাড়ির সদস্যদের থেকে দূরে রাখতেন।

মওদূদীপুত্র হায়দার ফারুক আরো বলেন, আমরা ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে পড়েছি। আমাদের সঙ্গে জামায়াতের রাজনীতির কোনো সম্পর্ক ছিল না। আমাদের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাজীবনের কোনো সময় জামায়াত অথবা তার ছাত্রসংগঠনের সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। এমনকি জামায়াতকে আমরা ভালো রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবেও মনে করতাম না। কারণ তাদের ভণ্ডামি আমরা কাছ থেকেই দেখেছি।

সৈয়দ হায়দার মওদূদী তাঁর সাক্ষাৎকারে বলেন, একদিন মাওলানা আজাদ আমাদের এখানে আসেন। তিনি আমার বাবাকে জিজ্ঞেস করলেন, আমি শুনেছি তুমি নাকি একটি ইসলামিক পার্টি গঠন করতে যাচ্ছ? বাবা উত্তরে ‘হ্যাঁ’ বললে মাওলানা আজাদ জামায়াতে ইসলামের খসড়া গঠনতন্ত্র দেখতে চান। খসড়া গঠনতন্ত্রটি মাওলানাকে দেওয়া হয়। তিনি তা পড়েন এবং এ বিষয়ে পরে আলাপ করবেন বলে বাবাকে জানান।

মাওলানা আজাদ দুই দিন পর আবার ফিরে আসেন। তিনি আমার বাবাকে জামায়াতের গঠনতন্ত্র সম্পর্কে বলেন, এর আলোকে পার্টি গঠন করা হলে এটি একটি ফ্যাসিবাদী পার্টি হবে। আমি তোমাকে অনুরোধ করছি, তুমি জামায়াতে ইসলামী তৈরি করার চিন্তা বাদ দাও। এসব অপ্রয়োজনীয় কাজ। আমি বিভিন্ন সময় অনেক কিছু করার চেষ্টা করেছি। এমনকি বেড়াল-কুকুরও এক সঙ্গে থাকে। কিন্তু ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলো কখনো এক হয় না। তুমি তাদের ঐক্যবদ্ধ করে কিছুই করতে পারবে না।

মওদূদীর পরতে পরতে ছিল ভণ্ডামি আর চাতুর্য। ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্ত হয়ে ভারত ও পাকিস্তান রাষ্ট্র গড়ে ওঠে ১৯৪৭ সালে। এ সময় পাকিস্তানের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিলেন মওদূদী। এ প্রসঙ্গে তাঁর ছেলে বলেন, আমার বাবা পাকিস্তানের বিরোধিতা করেছিলেন। পাকিস্তানের ব্যাপারে আমার বাবা বলতেন, পাকিস্তান একটি নাপাক, অপবিত্র ভূমি। মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ সম্পর্কে তিনি বলতেন, যে তাঁর ছয় ফুটের শরীরে ইসলাম কায়েম করতে পারে না, সে কি করে সারা দেশে ইসলাম কায়েম করবে? কিন্তু পাকিস্তান কায়েম হওয়ার পর সুর পরিবর্তন করে ফেলে তিনি বলেন, আমরাই পাকিস্তান বানিয়েছি। আল্লামা ইকবাল, জিন্নাহ ও মাওলানা মওদুদী পাকিস্তান বানিয়েছেন।

পাকিস্তানে তালেবানদের বিস্তার প্রসঙ্গে সৈয়দ হায়দার মওদূদী বলেন, একটা সময় আফগানিস্তানে রাশিয়ার অবৈধ অনুপ্রবেশের অজুহাতে যুক্তরাষ্ট্রও সেখানে তাদের নাক গলাতে শুরু করে। ওসামা বিন লাদেনকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই তৈরি করেছে। লাদেন মার্কিনিদের কেনা গোলাম ছিল। এখানকার সব ধর্মীয় গ্রুপ যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে দাঁড়ায়। কিন্তু আফগানিস্তানের জেহাদ শেষ হওয়ার পর জামায়াতের আমির (১৯৭২ থেকে ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত) মিয়া তোফায়েল মোহাম্মদ এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, কী ঘটতে পারে সে সম্পর্কে আমাদের ধারণা না থাকার কারণে আমরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দ্বারা ব্যবহৃত হয়েছি।

তবে বিষয়টি কেবলই না জানার নয় বলে মন্তব্য করেন মওদূদীপুত্র। তিনি বলেন, প্রকৃত ঘটনা হচ্ছে সে সময় যুক্তরাষ্ট্র থেকে অজস্র ডলার নিয়েছে পাকিস্তানের জামায়াতে ইসলাম। এই ডলারের জোরেই সব জেনে-বুঝেও তারা চোখ ও মুখ বন্ধ রেখেছিল।

জামায়াতের নেতারা জান্নাত পাবার আশায় আপনার সন্তানকে মাদ্রাসায় পড়তে বলবে কিন্তু, নিজেদের সন্তান-সন্ততিদের ইসলামি শিক্ষা / ইসলাম থেকে যোজন যোজন মাইল দূরে রাখবে। প্রত্যেকের সন্তান আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে আমেরিকা বৃটেনের নাগরিকত্ব নিয়ে সেখানে বসবাস করছে আর এরা বাংলাদেশে ধর্মের দোকান দিয়ে ব্যবসা খুলে বসেছে। জি/হা/দ আর ইসলাম প্রতিষ্ঠার নাম করে আপনার সন্তানের জীবন বিপন্ন করছে। এদের চরিত্র দ্বিচারিতায় পরিপূর্ণ।

সোমবার (২০ জুলাই) সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা গাজী নজরুল ইসলামের একটি হোটেল কক্ষে তরুণীর সাথে অবস্থানের ভাইরাল হওয়া সিসিটিভি ফুটেজ অথবা ভিডিওটি তো সবাই দেখেছেন। ভিডিওটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হয়, এটি এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা। তবে ভাইরাল ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি নয়, বরং তা আসল বলে জানিয়েছে তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান ‘দ্য ডিসেন্ট’ ও ‘রিউমর স্ক্যানার’।

এদিকে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম দাবি করেছেন, ভিডিওতে দেখা যাওয়া ওই তরুণী তার দ্বিতীয় স্ত্রী। লিখিত এক বিবৃতিতে গাজী নজরুল ইসলাম দাবি করেন, হিংসা ও ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে তাদের স্বামী-স্ত্রীর ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে ও ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

গাজী নজরুল ইসলাম বিবৃতিতে আরো বলেন, গত ১৩ জুলাই আমার প্রথমা ও দ্বিতীয় স্ত্রী, যথাক্রমে মাকছুদা বেগম ও মরিয়াম বেগমকে সঙ্গে নিয়ে রাজধানীর মগবাজারে আমার দ্বিতীয় স্ত্রীর পিতা মাসুম বিল্লাহর ব্যবসায়িক অফিসে যাই। সেখানে আমরা আনুমানিক সোয়া এক ঘণ্টা অবস্থান করি।

বিবৃতিতে সংসদ সদস্য বলেন, আমরা উক্ত অফিসে অবস্থানকালে জোহরের নামাজ আদায়ের পূর্বে আমার গাড়িচালক ও আমার দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা ওবায়দুল্লাহ গাড়ি দেখার কথা বলে বাইরে যায়। পরবর্তীতে সে ৫/৭ জন অপরিচিত ব্যক্তিকে নিয়ে আমাদের কক্ষে প্রবেশ করে এবং আমাদের জিম্মি করে ১ লাখ টাকা আদায় করে। আমি চলাচলের জন্য যে ভাড়া গাড়িটি ব্যবহার করি, ওবায়দুল্লাহর যোগসাজশে পরবর্তীতে সেটিও আটকে রেখে দফায় দফায় আমাদের কাছে

কয়েক লাখ টাকা দাবি করা হয়। আমরা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আমাদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়। আমি এসময় জানতে পারি, আমার দ্বিতীয় স্ত্রীর পিতা মাসুম বিল্লাহর সঙ্গে ওবায়দুল্লাহর পূর্বশত্রুতা ও পারিবারিক বিরোধের জের ধরেই এই ষড়যন্ত্রের ঘটনা ঘটানো হয়েছে।

নাটক খারাপ না, ১৮ বছরও হয়নি এমন তরুণী তারচেয়ে ৫৭ বছরের বড় একজনকে বিয়ে করেছে। সেটা অবশ্য করতেই পারে লোভে পড়ে অথবা ভয়ে। তবে ভিডিওতে আবার সময় দেখা যায় ২০২৩ সালের। সেটা হলেও বিপদ। মেয়েটি নাবালিকা।

বর্তমানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে আর বিএনপি-জামায়াত জোটবদ্ধ থাকলে ঘটনাটা মনে হয় ধামাচাপা দেওয়া সহজ হতো। মামুনুল যেমন শহিদুল ভাইয়ের বউকে নিয়ে রিসোর্টে গিয়ে মানবিক বিয়ের গল্প ফেঁদেছিলেন, এই গাজী নজরুলও এই গল্প ফাঁদতে পারতেন। যদিও চেষ্টা করেছেন, তবে নাটক ঠিকমতো জমানো যায়নি।

দেখা যাক ঘটনার প্রতিক্রিয়া কী দেখায় জামায়াত। জানা যাচ্ছে, তারা নাকি তদন্ত করছে। তদন্ত চলাকালীন পরিমনির সাথে রাত কাটিয়ে পুলিশের মেধাবী এসপি সাকলাইন চাকরি হারালেন সম্প্রতি, নজরুল সাহেবের সাথে কী হয় সেটা দেখতে আমরা আপাতত পপকর্ণ নিয়ে গ্যালারিতে বসলাম।

ছবি ও তথ্যসূত্র: ইন্টারনেট, ফেসবুক ও জাতীয় পত্রিকা

মন্তব্য ১১ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (১১) মন্তব্য লিখুন

১| ২২ শে জুলাই, ২০২৬ ভোর ৫:৫০

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: জামায়াত ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠারও বিরোধিতা করে।
............................................................................................
উনারা এখন দাবী করেন যে, তাহারা মুক্তি যোদ্ধার দল,
বাহ্ কান কাটা রমজান ও কবর থেকে উঠে আসবে,
তাদের ইসলামী শাসন দেখে ।

২২ শে জুলাই, ২০২৬ ভোর ৫:৫৩

অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য বলেছেন: বর্তমান পর্যায়ে আসতে তারা বহু কৌশলের আশ্রয় নিয়েছে। এখন অবস্থা - জোর যার মুল্লুক তার।

২| ২২ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ৮:৩২

গহীনে রক্তক্ষরণ বলেছেন: যদিও আমি জামাতের রাজনীতি করি না । তবে এটুকু বুঝি যে, আমাদের বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ ”মোনাফেক” । বিশেষ করে ইসলাম ধর্মের লোকেরা ৯৯%ই মোনাফেক (ব্যতিক্রম ব্যতিত) । আর এত মোনাফেকদের ভিড়ে যতটা সম্ভব ব্যক্তি নিজেকে পরিশুদ্ধ রেখে (কিছুটা বাধ্যতামূলক মোনাফেকী চরিত্র সহ) টিকে থাকা যায়, সেই চেষ্টা একমাত্র লেখকের ভাষায় সবচেয়ে নোংরা এই জামাত নামক দলটি ছাড়া এই দেশের আর কোন রাজনৈতিক দলের ভেতরেতো নেই-ই, এমনকি কোন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকেও দেখা যায় না ( ব্যতিক্রম ছিল আগে, এখন ব্যতিক্রমও আর দেখছি না ) । এই যেখানে অবস্থা, সেখানে কার বিরুদ্ধে কলম ধরছি এভাবে ? আমার কি যোগ্যতা আছে ? যাদের সম্পর্কে এই দেশের মিডিয়া যত গল্প শুনিয়েছে, তার ৯৯% যে মিথ্যা, সেটাও ইতিহাস দ্বারা প্রমাাণিত দেখা যাচ্ছে । সুতরাং কলম হাতে থাকলেই স্বাধীনভাবে লেখা যায় । কিন্তু যার বিরুদ্ধে লিখছি, তার চেয়ে আমার চরিত্র কতটা ভালো অথবা কতটা খারাপ ? সেটি কি বিবেচনায় রাখছি আমরা ??

২২ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:৩৮

অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য বলেছেন: এটা সত্যি দেশের বেশিরভাগ মানুষ মুনাফেক, স্বার্থবাদীও বটে। লেখায় যাদের সম্পর্কে আলোচনাকরা হলো, তাদের মুনাফেকি আর সবাইকে ছাড়িয়ে যায়।

৩| ২২ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ৯:০৬

আলামিন১০৪ বলেছেন: উচ্চশিক্ষা কি ইসলাম বিরোধী?
জ্ঞান তো মুসলিমদের হারানো সম্পদ
আপনারা কি মুসলিমদের কোরআন-হাদিসের মর্মার্থ বুঝতে দিতে চান না?

২২ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:৪১

অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য বলেছেন: আপনি চাইলে ফতোয়া দিতে পারেন? নাকি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে যিনি ডিগ্রিধারী তিনিই দিতে পারেন?

৪| ২২ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ৯:৩৭

মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ বলেছেন: ৭১ তো আরও পরের বিষয়।

মুসলিম হিসেবে যদি কারো moral compass কোরআন আর সুন্নাহ ভিত্তিক হয় (এখানে আহমাদুল্লাহ, আজহারীর মতো middle man দের অন্ধের মতো অনুসরণ/অনুকরন থাকবে না বরং আল্লাহ আমাদের যে এলেম দিয়েছেন তা যেন সম্মান করি, আল্লাহ প্রদত্ত ঐ এলেমের ওপর ভরসা রাখি), তবে জামায়াতি মোনাফেকদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে জাহান্নামের সর্ব নিম্নস্তরে বসবাস করার বন্দবস্তের প্রয়োজন আছে কি?

জামায়াতে ইসলামের মোনাফেকির এতো নজির থাকার পর এ বিষয়ে কোন সন্দেহ থাকার অবকাশ নেই যে ইসলাম ছেড়ে আমাদের জামায়াতের ইসলাম গ্রহন করতে হবে।

২২ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:৪৩

অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য বলেছেন: সবই স্বার্থবাদিতা। মানুষের আবেগ নিয়ে খেলা।

৫| ২২ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:১৪

কিরকুট বলেছেন: জা/শি গোষ্ঠি হঠাত করে মাওলানা ভাষানির প্রতি দরদের ভান্ড অল্টায় দিছে তো সেই মাওলানা সাহেবের বানী জেনে নিন । জা/শি গোষ্ঠি হঠাত করে মাওলানা ভাষানির প্রতি দরদের ভান্ড অল্টায় দিছে তো সেই মাওলানা সাহেবের বানী জেনে নিন ।



৬| ২২ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:৩২

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: জামায়াতের কাছে , 'বাঙালির কেন স্বাধীনতা লাগবে' এটা কোনো উদ্বেগের বিষয় ছিল না। তাদের একমাত্র উদ্বেগের বিষয় ছিল অখণ্ড পাকিস্তান। এটাকেই তারা মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ভাবতো। একই কারণে তারা দেশভাগের বিরোধিতা করেছে; কারণ ভারত ও পাকিস্তান মিলে থাকলে উম্মাহর ঐক্য অটুট থাকতো। জিন্নাহ সেক্যুলার ধাঁচের রাজনীতিবিদ ছিলেন দেখে মওদুদী তাঁকে দেখতে পারতেন না। আইয়ুব খান সামরিক শাসনের বিরোধিতা করার কারণে মওদুদীকে জেলে পাঠিয়েছিলেন। আশ্চর্যের বিষয় হলেও সত্য, বাঙালি জাতীয়তাবাদকে নিধনে দুই বিপরীত মেরুর ভাবাদর্শ: মওদুদী এবং পাকিস্তান সামরিক জান্তা ঐক্যবদ্ধ হয়। মওদুদী ঢাকায় এসে প্রচার করা শুরু করেন, "ছয় দফা হারাম"। জামায়াত একটি ইসলামিক দল ; এটা মুলত মুসলিম ব্রাদারহুডের এশিয়া সংস্করণ । এরদোয়ানের একেপি দলটিও একই পথের পথিক।

৭| ২২ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:১১

রাসেল বলেছেন: দ্বিচারিতা ছাড়া বাংলাদেশে কেউ কি রাজনীতি করে?

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.