| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
কাছের-মানুষ
মানুষ মরে গেলে পচে যায়, বেঁচে থাকলে বদলায়, কারণে বদলায়, অকারণেও বদলায় । তবে আমি মনে হয় আগের মতই আছি , কখনও বদলাবওনা মনে হয় ! !
বেশ কয়েক বছর দেশে যাই না, এবার ভাবছিলাম দেশে গিয়ে ঘুরে আসব! সামারে আমাদের ছুটি থাকে লম্বা তিন মাস, কোন ক্লাস নেই। আমেরিকায় একাডেমিক লাইনে এটা একটা সুবিধা, সামারে তিন মাস ছুটি, আর উইন্টারে ডিসেম্বরে সেমিস্টার শেষ করে প্রায় এক মাসের লম্বা ছুটি, বছরে মোটামুটি চার মাস আয়েস করে কাটিয়ে দেয়া যায়, অন্তত ক্লাস নেওয়ার ঝামেলা থাকে না। তবে রিসার্চ, পাবলিকেশন নিজের তাগিদে করতে হয়! মে মাসের মাঝামাঝি আমাদের সেমিস্টার শেষ হবে, চিন্তা করছিলাম বউকে দেশে পাঠিয়ে দিব, আর আমি ছুটিতে শুয়ে বসে না থেকে একটি ন্যাশনাল ল্যাবে তিন মাসের জন্য জয়েন করব, একটু রিসার্চ করব, সাথে কিছু মাল-পানিও ইনকাম হবে! মালপানি কামাতে ভাল লাগে! ল্যাবের কাজ শেষ হলে দেশে স্বল্প সময়ের জন্য ঘুরে আসব! হিসেব ক্লিয়ার, মামলা ডিসমিস! কিন্তু ভেজাল বাজল সম্প্রতি সময়ের যুদ্ধ, সব হিসেব নিকেশ পাল্টে গেল একটি পলকে, কে আপন, কে যে পর, হল রে! ফ্লাইট সব বন্ধ!
আজকে আমাদের মিডটার্ম শেষ হল, পোলাপানদের খাতা দেখা শেষ করলাম, সামনের সপ্তাহ থেকে এক সপ্তাহের স্প্রিং ব্রেক! তবে এবারের স্প্রিং ব্রেকে কোথাও যাওয়ার জোগাড় নেই, রোজা চলছে, রোজা রেখে কোথাও ঘুরতে যেতে মজা নেই! তবে রোজায় একটি শান্তি, প্রতিদিন সন্ধ্যায় মসজিদে চলে যাই, মসজিদে ইফতার করি, ডিনার সেরে আর মসজিদে আসা বাংলাদেশীদের সাথে ধূমায়া আড্ডা দেই, তারপর একেবারে তারাবি শেষে বাড়ি ফিরি। সময় একেবারে খারাপ যাচ্ছে না, আমার ছেলেও মসজিদে আসতে পছন্দ করে, কারণ মসজিদের দোতলায় আলাদা বাস্কেটবলের বিশাল কোর্ট বানানো হয়েছে, যেখানে নামাজ পড়তে এসে এখানে খেলাধুলা করা যায়, তাছাড়া আমাদের মসজিদে পার্টি করার জন্য নিচের তলায় বিশাল কিচেন, কয়েকশো মানুষ একসাথে খাবার দাবারের ব্যবস্থা আছে।
যাইহোক, ধান বানতে শীবের গীত বয়ে চলছি! বলছিলাম ইরান যুদ্ধের কথা! মাঝে মাঝে ব্লগে ঢুঁ মারি, বেশ কয়েকদিন যাবত বেশ কিছু হেভি-ওয়েট ব্লগার যুদ্ধ মুদ্দক নিয়ে ধূমায়া পোস্ট করছে, পড়তে গিয়ে মাঝে মাঝে ক্লান্ত হয়ে পড়ি! সেদিন এক পোস্টে মন্তব্য পড়তে গিয়ে দেখি এক সেমি-হেভিওয়েট ব্লগার মন্তব্য করছে, পৃথিবীর অর্ধেক যুদ্ধ নাকি লাগে বাংলাদেশীদের জন্য! আমি মনে মনে বলি আস্তাক ফিরুল্লা খাইছে, এ আবার কোন গবেষণা! মন্তব্য পড়ে আমি স্মৃতির পাতায় হাত বুলালাম, কোরিয়াতে তখন পড়াশোনার জন্য হিজরত করেছি, আমাদের স্কলারশিপের একটি শর্ত ছিল, কোরিয়ান ভাষায় হাফেজ হতে হবে, তার পড়াশোনা হবে কোরিয়ানে! এক বছর কোরিয়ান ভাষায় হাফেজ হওয়ার পরই মিলবে ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি! আমরা সব দেশ থেকে আগত বিদেশী ছেলেরা একই ক্লাসে কোরিয়ান শিখি, তার মাঝে অনেক দেশ দেখলাম, বাংলাদেশের নামই জানে না, আমার চাইনিজ ক্লাসমেট বাংলাদেশ কোথায় সেটা জানার জন্য তার ইলেক্ট্রনিক ডিকশনারিতে বাংলাদেশ লিখে সার্চ দিয়েছে, তারপর হঠাৎ "মংজ্বালা .... মংজ্বালা" বলে চিৎকার দিয়ে উঠল, আমি বললাম কি হল কার আবার অন্তর জ্বালা করল! ও বলল অন্তর্জ্বালা না, তোমাদের দেশ বাংলাদেশকে আমরা "মংজ্বালা" নামে চিনি! যাইহোক, এখনো বিদেশে থাকি, অনেক দেশই আমাদের দেশকে সেরকম চিনে না, যেরকম ভারতকে চিনে। আমাদের দেশে বাংলাদেশীরা ব্লগে কি লেখে, পত্র পত্রিকায় কি লেখা হয় অথবা ফেসবুকে যে লম্ফ-ঝম্ফই করুক না কেন, সেটা আমাদের মাঝেই মোটামুটি সীমিত থাকে, সেই এরকম একটি নিরীহ দেশ কিভাবে বিশ্বের অর্ধেক যুদ্ধের জন্য দায়ী সেটা লাখ দিরহামের প্রশ্ন!
যুদ্ধ মানুষের স্বাভাবিক চিন্তা করার ক্ষমতা হ্রাস করে! লিখতে চাচ্ছি কি, আর লিখলাম কি! মূল পয়েন্টে আসি! পৃথিবীতে এত এত যুদ্ধ, এর নেপথ্যের কারণ কি। ইরানের সরকার তার জনগণকে কষ্ট দিচ্ছে, পারমাণবিক বোমা বানাচ্ছে, আমেরিকা আর ইজরায়েল এটা বরদাস্ত করছে না! ডান্ডা মেরে ঠান্ডা বানিয়ে দিচ্ছে! কিন্তু কেন! এর শানেনজুল কি, কেন ইরাক, সিরিয়া, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনতে পরাশক্তির এত চিন্তা! ইহার আর কি কারন থাকতে পারে!!
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে ব্রিটিশ পাউন্ড মোটামুটি ভাবে বৈশ্বিক মুদ্রা হিসেবে প্রচলন ছিল যেহেতু প্রায় অর্ধেক পৃথিবী ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অধীনে ছিল। বলা হত ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সূর্য কখনো অস্ত যায় না! দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ধীরে ধীরে দেশগুলো বিশেষ করে ইউরোপের ফ্রান্স, জার্মান থেকে শুরু করে পরাশক্তিগুলো তাদের গোল্ড বা সোনা নিয়ে চিন্তায় ছিল! সেগুলো কোথায় রাখা যায়! ভৌগলিকভাবে আমেরিকা আটলান্টিক সাগরের ওপারে অবস্থিত, এই কারণে ইউরোপীয় দেশগুলো তাদের সোনা বা গোল্ড আমেরিকায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিল তাদের পণ্য, মেশিনারির বিনিময়ে। সেই মোতাবেক সেখানে জড়ো করল, বলা হয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়েই পৃথিবীর প্রায় ৭০-৮০% গোল্ড আমেরিকায় জমা করে। এবং ১৯৪৪ সালে প্রায় ৪৪ দেশ এক সম্মেলনে সিদ্ধান্ত নেয় যেহেতু পৃথিবীর বেশীর ভাগ গোল্ড আমেরিকায় তাই ডলারকেই গ্লোবাল কারেন্সি হিসেবে ডিক্লেয়ার করা হয়। সেই সময় প্রতি আউন্স সোনার দাম ধরা হয় ৩৫ ডলার। সেটাই ছিল আমেরিকার জন্য গেম চেঞ্জার!
আমেরিকা বলে তোমাদের সোনা রাখো, যখন সোনা দরকার হবে তখন ডলার দিয়ে নিয়ে যাবে! সবাই বলল ঠিক আছে ওস্তাদ! আমেরিকা গনহারে ডলার ছাপাতে শুরু করল! এক ডলারে হয় ১০০ সেন্ট, একটি ডলার ছাপাতে খরচ হয় ১ সেন্ট, বাকি ৯৯ সেন্টই লাভ। এই ডলার ধূমায়া ইউরোপীয় দেশ, যেমন ফ্রান্স, জার্মান সবাই নিতে শুরু করল তাদের পণ্যের বিনিময়ে। আমেরিকা প্রচুর সম্পদ, মেশিনারি, ভিয়েতনাম যুদ্ধের খরচ সব কিছুই এই ডলার থেকে আসতে লাগল। এর কারণ পরাশক্তিগুলোর ডলার প্রয়োজন ছিল তাদের সোনা ফিরে পেতে তাই তারা ডলার নামক কাগজের বিনিময়ে তাদের পণ্য, ব্যবসা করতে লাগল আমেরিকার সাথে। সেই সময়ের ডলারের আধিপত্যে অন্য দেশগুলোও ডলারকে ব্যবহার করতে লাগল। ধীরে ধীরে আমেরিকা হয়ে উঠল অপরিহার্য! তাদের মিলিটারি, রিসার্চ, হাউজিং, ইন্ডাস্ট্রিজ ফুলেফেঁপে উঠল, কারণ এক ডলার ছাপাতে খরচ হয় ১ সেন্ট, বাকি ৯৯ সেন্ট দিয়ে বহির্দুনিয়া থেকে সম্পদ আনতে লাগল। ১৯৬০ পর্যন্ত যে পরিমাণ ডলার ছাপানো হয়েছিল, সেটা তাদের কাছে থাকা গোল্ডের প্রায় সমান ছিল। ১৯৭০ এর দিকে এসে এত পরিমাণ ডলার ছাপানো হল যে তা তাদের কাছে গচ্ছিত রাখা সোনার সব দিয়ে দিলেও ডলার শেষ হবে না। এই শুভংকরের ফাঁকি প্রথম দিকে ফ্রান্স বুঝতে পেরে ১৯৭০ এর দিকে বিশাল ডলার ভর্তি শিপ পাঠিয়েছিল, যাতে বিনিময়ে সোনা নিয়ে আসা যায়। আমেরিকা তখন জানিয়ে দিল তারা আর সোনা দিতে পারবে না ডলারের পরিবর্তে!
ঘটনা এখানে থামলে এখন হয়ত আমরা অন্য রকম বিশ্ব দেখতাম! কিন্তু না, কাহিনী এখনও বাকি হে মেরি দোস্ত! ১৯৭৪ সালে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নিক্সন সৌদির সাথে পেট্রো ডলার চুক্তি করল, চুক্তি অনুসারে তেলের লেনদেন হবে সব ডলারে। এই চুক্তির বিনিময়ে আমেরিকা তাদের রাজতন্ত্র টিকিয়ে রাখার নিশ্চয়তা দিল। পেট্রো ডলার চুক্তির ফলে পুরো বৈশ্বিক মুদ্রা ব্যবস্থা আমূল পরিবর্তন হল, কারণ পৃথিবীর সব দেশেরই তেল লাগবে, তার মানে সবারই ডলার প্রয়োজন। ট্রিলিয়ন ডলারের এই তেলের মার্কেটই ডলারকে একছত্র আধিপত্য দিল, সাথে আমেরিকাকে সুপার পাওয়ার থাকার নিশ্চয়তা! পরাশক্তিগুলো যাদের কাছে ডলারের মজুদ ছিল, তারা সৌদি থেকে তার বিনিময়ে তেল কিনে মালামাল হতে লাগল, ওদিকে সেই ডলার আবার সৌদি আমেরিকায় ইনভেস্ট করতে লাগল, যেমন ট্রেজারি বন্ড, হাউজিং ইত্যাদিতে ইনভেস্ট শুরু করল! জাপানের ট্রিলিয়ন ডলার আমেরিকায় রক্ষিত, কোরিয়ার বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার, ইউরোপ ইত্যাদি সবাই ডলারের কাছে মাথা নত করল। বিনিময়ে আমেরিকা সৌদিতে তাদের মিলিটারি বেইস দিয়ে রক্ষার নিশ্চয়তা দিল! জাপানের সাথে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের চুক্তি অনুসারে মিলিটারি রাখতে পারবে না, তাদেরও আমেরিকার মিলিটারির সাহায্য দরকার, দক্ষিণ কোরিয়ার দরকার উত্তর কোরিয়ার হাত থেকে বাঁচার, ওদিকে আমেরিকা ন্যাটোর মাধ্যমে ইউরোপকে রাশিয়ার আগ্রাসন থেকে বাঁচার নিশ্চয়তা দিচ্ছে, বিনিময়ে ডলারের এই লেনদেন টিকিয়ে রাখতে সবাই একযোগে কাজ করছে!
ডলারের এই আধিপত্য একমাত্র ইরান, রাশিয়া এবং চীন অগ্রাহ্য করেছে। তার মাঝে চীন এবং রাশিয়া আমেরিকার ধোয়া ছোঁয়ার বাইরে, বাকি রইল ইরান। ভৌগলিক ভাবে ইরান এমন জায়গায় অবস্থিত যার পাশে হরমুজ প্রণালী অবস্থিত! ইরান যদি পারমাণবিক ক্ষমতা পেয়ে যায় সেটা ডলারের এই ইকো সিস্টেমের জন্য মারাত্মক হুমকি। পেট্রোডলারকে যে রাষ্ট্র চ্যালেঞ্জ করেছে আমেরিকা হয়ত স্যাংশন দিয়ে, বোমা ফেলে যেভাবেই হোক তাকে থামিয়েছে, এবং সামনেও থামাবে! কারণ ডলার ফেল করলে, সমস্ত আমেরিকা ফেল করবে, সাথে সৌদি, ইউরোপ, কোরিয়া, সারা পৃথিবীর পরাশক্তিগুলোর ওহ অহ শুরু হয়ে যাবে। আর আমাদের মত দরিদ্র দেশগুলো তো মোটামুটি লম্বা সময়ের জন্য না খেয়ে মরবে মরে যাবে! অর্থাৎ অ্যামেরিকার ডলারের যদি আধিপত্য হারায় তাহলে সবাই এক সাথে মরবে! তাই পরাশোক্তিগুলো (সৌদি-সহ) দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে মধ্যপ্রাচ্যের এই অঞ্চলে ইরানকে আমেরিকার থামাতেই হবে, সাথে ইজরাইলকে এই অঞ্চলে শক্তিশালী হতে হবে, কারণ শক্তিশালী ইজরায়েল আমেরিকার জন্য এই অঞ্চলে প্রভাব বিস্তারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ!
বাদবাকী যত ইস্যু আছে, ইরান তার দেশে ইসলামিক হুকুমত জোর করে চাপিয়ে দিচ্ছে, তাদের জনগণকে নিপীড়ন করছে, তাই আমেরিকা আর ইজরায়েল ত্রাতা হিসেবে আসছে এগুলো সব বকওয়াস। মধ্যপ্রাচ্যের কোন যুদ্ধই ধর্মের জন্য নয়, বরং ডলারের আধিপত্য বাঁচিয়ে রাখাই প্রধান উদ্দেশ্য। আমেরিকা সুপার পাওয়ার হয়েছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে, এবং কতদিন থাকবে তা নির্ভর করছে, ডলার কতদিন তার আধিপত্য ধরে রাখতে পারে তার উপর। ডলারের আধিপত্য আবার নির্ভর করছে আমেরিকা তার ডিফেন্স সিস্টেম কতদিন ধরে রাখতে পারে, কারণ ইতিমধ্যেই চীন তার ডিফেন্স বাজেট আমেরিকার কাছাকাছি করেছে! তাছাড়া ডলারের এই পুরো ইকোসিস্টেমে একটি ত্রুটি আছে। ডলার যেভাবে সার্কুলেট হচ্ছে, এবং নতুন ডলার যেভাবে মার্কেটে আমেরিকা ছাড়ছে, সেটা সাপ্লাই এবং ডিমান্ড চেইন মেইনটেইন করছে না, যার ফলে আমেরিকার ঋণ বেড়েই চলছে (এটাই একমাত্র কারন না)! সোনা আর ডলার যেমন ফেল করেছিল এটাও ফেল করার কথা লজিক অনুসারে।
যাইহোক এখানে বলে রাখি আমেরিকার ডলার ছাপানোর ক্ষমতা আমেরিকার সরকারের হাতে নেই, এটা নিয়ন্ত্রণ করে আমেরিকার ফেডারেল ব্যাংক, যার মালিক আবার ইহুদিরা, বিশেষ করে রথচাইল্ড ফ্যামিলি! ইরান ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে তার প্রতিবেশীদের বোমা মেরেছে, এটা আমেরিকার ইজ্জতের সওয়াল, কারণ পেট্রোডলারের চুক্তি অনুসারে সৌদি আরব-সহ দেশগুলোকে নিরাপত্তা দেয়া তার জন্য ফরজ! সে চাইবে না এখানে তার প্রয়োজন নেই এমন কোন অবস্থা তৈরি হোক! অন্যদিকে ইরান বরাবরই ডলারের আধিপত্যের বিরুদ্ধে, তার আশেপাশের প্রক্সি-সংগঠন যেমন হিজবুল্লা, হামাস ইত্যাদি দিয়ে এর বিরুদ্ধে লড়াই করে। তবে আমেরিকা ইরানের প্রক্সি গুলোকে গত কয়েক বছর দুর্বল করতে পেরেছে। চীন এবং রাশিয়া এসে সমর্থন দিলেও কিন্তু এরা কখনই আমেরিকার সাথে সরাসরি যুদ্ধে যাবে না। চীন দীর্ঘ সময় কোন বড় যুদ্ধে যায়নি, তাই তার অর্থনীতিও অনেক শক্তিশালী, সে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে যুদ্ধ এড়াতে। আমেরিকার ৯০ এর আগেও ইচ্ছে ছিল, সে একাই নাম্বার ওয়ান পাওয়ার থাকবে, ডলারের আধিপত্য ধরে রাখার এটাই একমাত্র উপায়, সেইদিক দিয়ে দেখলে চীন তাদের কাছে এক অস্বস্তির নাম। যাইহোক, দেখা যাক আগামীর পৃথিবী কোথায় যায়!
যুদ্ধে কেউ হারে না, যদি কেউ হারে সেটা মানবতা! পৃথিবীর এই ইতিহাস যুদ্ধের ইতিহাস। বিশ্বে প্রতি বছরই কোন না কোন দেশে যুদ্ধ লাগছে, আমার সত্যিই কষ্ট হয় শিশু এবং বৃদ্ধদের কথা ভেবে। ছোট শিশু হয়ত রাতে ভয়ে কুঁকড়ে থাকে, বোমার শব্দে তাদের শৈশব ফিকে হয়ে যায়, এই পৃথিবীটি বোঝার আগেই দেখতে হয় ভয়, ক্ষুধা, হিংস্রতা, বিদ্বেষ! আমি ক্ষুদ্র মানুষ, পৃথিবীর কোন দেশে শান্তি বর্ষিত হচ্ছে, আমি আদার ব্যাপারী হয়ে জাহাজের খবর নিয়ে কাজ নেই, আমি চিন্তায় আছি বাংলাদেশে ছুটিতে যেতে পারব কি-না, সব ফ্লাইট বন্ধ!
প্রিয় ব্লগারদের কাছে দোয়ার আর্জি রইল! জগতের সকল প্রাণী সুখী হোক!
০৬ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ৯:৪৬
কাছের-মানুষ বলেছেন: ইরান যুদ্ধের একটাই কারণ, সেটা হলো ইসরাইল। নেতানিয়াহু এবং জায়নবাদীরা আমেরিকার প্রায় সব কংগ্রেস এবং সিনেট সদস্যদে কিনে নিয়ে (অথবা ব্ল্যাকমেইল করে) আমেরিকাকে এই যুদ্ধে জড়িয়েছে।
ইসরাইল গত চল্লিশ বছর ধরে চাচ্ছে ইরানকে কাবু করতে। আমেরিকা এখনই ইরান আক্রমণ করত না, ইহুদিরা তাকে কোনো না কোনোভাবে এখনই নামিয়েছে, সেটা ব্ল্যাকমেইল হোক বা যেভাবেই হোক, নামিয়েছে, এটাই সত্য।
এগুলোতে মুড়ি-মুড়কির মতো সবাই লেখে! তাই আমি এই লেখায় ওভারভেল গোল নিয়েই লিখতে চেয়েছি, দ্যা আলটিমেট ট্রু।
আশ্চর্যের বিষয় হলো আপনার এই লেখায় একবারও ইসরাইলের নাম নেওয়া হয়নি। বড়ই আশ্চর্য!!!!
আপনি বোধ হয় পড়েননি, আমি লিখেছি, মধ্যপ্রাচ্যে শক্তিশালী ইসরাইল আমেরিকার প্রয়োজন!
এজন্য যা করার তাই করবে আমেরিকা!
ইসরায়েলের নাম বেশি না নেওয়াতে আপনি নাখোশ হয়েছেন বোধ হয়! আশ্চর্য হবেন না প্লিজ, ইহাতে কোন মারফতি লাইনের প্যাচ নেই।
ইসরাইল, ইসরাইল, ইসরাইল, ইসরাইল, ইসরাইল, ইসরাইল, ইসরাইল, ইসরাইল, ইসরাইল, ইসরাইল, ইসরাইল, ইসরাইল, ইসরাইল, ইসরাইল, ইসরাইল, ইসরাইল।
ভাল থাকুন।
২|
০৬ ই মার্চ, ২০২৬ ভোর ৫:৪১
সাজিদ উল হক আবির বলেছেন: ভালো ব্যাখ্যা করেছেন, এবং মনোযোগ ঠিক জায়গায় ফিরিয়ে এনেছেন। অ্যামেরিকার শুরু করা অধিকাংশ যুদ্ধের মূল কারণই ডলারের আধিপত্য বজায় রাখা। লিবিয়ার গাদ্দাফিকে উল্টে দেয়ার কারণও সম্ভবত এটাই ছিল যে সে আফ্রিকান দেশগুলোর জন্য আলাদা মুদ্রা চালু করতে চেয়েছিল।
পরিবার পরিজন নিয়ে নিরাপদে থাকেন, এই দোয়া করি। আমরা বাংলাদেশিরা পৃথিবীর জিও পলিটিক্যাল ম্যাপে সিগনিফিক্যান্ট না, এটা এক অর্থে ব্লেসিং। মাথার ওপর সরয়ার ফারুকি ছাড়া আর কেউ ড্রোন ওড়ায় না। কারো মিসাইলের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে হয় না।
০৬ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ৯:৫৪
কাছের-মানুষ বলেছেন: জিওগ্রাফিক্যালি আমরা মধ্যপ্রাচ্যের মতো কোনো ভূমিতে নেই, এটা এক অর্থে ব্লেসিংও। আমাদের নিজেদের শিক্ষায় ও সংস্কৃতিতে উন্নত করতে হবে! সব দেশের মতো আমাদেরও নিজেদের কিছু সামাজিক চ্যালেঞ্জ আছে। আছে ধনী-গরীব, শিক্ষা ও ধর্মীয় বিভাজন। আমরা আমাদের মতো চ্যালেঞ্জ নিয়ে বেঁচে আছি! এই চ্যালেঞ্জগুলো কীভাবে মোকাবিলা করে সামনে এগিয়ে যাব, তার মধ্যেই নির্ভর করছে দেশের ভবিষ্যৎ। আশা করি আমরা পারবো!
পাঠ ও মন্তব্যের জন্য কৃতজ্ঞতা রইল অনেক।
৩|
০৬ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ৭:৩৬
শায়মা বলেছেন: অনেক ভালো থেকো ভাইয়া।
যুদ্ধ চাইনা পৃথিবীর কোথাও।
০৬ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ৯:৫৮
কাছের-মানুষ বলেছেন: আমরা কেউই যুদ্ধ চাই না।
এই পৃথিবী যুদ্ধ মুক্ত হোক, আগামীর শিশুরা একটি নিরাপদ, সুন্দর পৃথিবীতে বড় হোক।
আজকে আমার ছেলের জন্মদিন ছিল, পাশের বাসার ওর দুজন আমেরিকান বাচ্চা ফ্রেন্ড বাসায় আসছিল, গেল মাত্র! আমি শিশুদের শিশু হিসেবেই দেখি, সব শিশুদের একটি নিরাপদ এবং সুন্দর পরিবেশ পাবার অধিকার আছে!
আপনি ভাল থাকুন।
৪|
০৬ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ৮:৩৩
মেহবুবা বলেছেন: অর্থ অনর্থের মূল তার সাথে আছে অহংকার, আধিপত্যবাদ!
যুদ্ধে মানবতা হারবে কি? লাপাত্তা হয়ে যায় এবং যুদ্ধ শুরু হয় অমানবিক কিছু শক্তির খেলা হিসেবে।
মানুষের জীবন কোন মূল্যই রাখে না, আমরা আধুনিক সভ্য জাতি!!! লজ্জা এবং ঘৃণা বর্তমান সভ্যতার জন্য।
স্কুলে বোমা মেরে বাচ্চাদের অবলীলায় মেরে ফেলা এবং তার জন্য কোন জবাবদিহিতা নেই !
মন, মেজাজ, শরীর সব খারাপ হয়ে যাচ্ছে ; এটাও যুদ্ধ নিজের সাথে!৷
"যুদ্ধ মানুষের স্বাভাবিক চিন্তা করার ক্ষমতা হ্রাস করে"-- সঠিক লিখেছেন।
যাই হোক, ওখানে মসজিদের ব্যাপারটা বেশ ভাল লাগল।
০৬ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:০৫
কাছের-মানুষ বলেছেন: আমার আসলে পত্রিকা পড়তে এখন আর আগের মতো ইচ্ছে করে না। চারদিকে কিছু না কিছু লাগেই থাকে!
হ্যাঁ, এখানকার মসজিদগুলো এরকমই। মসজিদে নারী-পুরুষ সবাই গিয়ে নামাজ পড়ে। রমজান মাসে সারা মাস জুড়েই আমেরিকার মসজিদগুলোতে ইফতার এবং ডিনার প্রদান করা হয়, অন্তত আমেরিকায় আমি চারটি স্টেইটে ছিলাম, সবগুলোতেই এরকম।
আমাদের মসজিদে প্রতিদিন ১৫০-২০০ মানুষের ডিনার, ইফতার দেওয়া হয়। মসজিদের ভিতরে সবার জন্য চেয়ার-টেবিলে বসে খাবার সুবিধা রয়েছে। আর শুক্রবারে মানুষ বেড়ে দাঁড়ায় ২০০-৩০০ জনের মতো! বাচ্চারা মসজিদের জিমে গিয়ে খেলাধুলা করে, আর আমরা বড়রা নিচে আড্ডা দিতে থাকি নামাজের আগ পর্যন্ত! অনেক আমেরিকান নন-মুসলিমও আসে। মসজিদের খাবার প্রায় বেঁচে যায়, সেগুলো পরের দিন হোম-লেস মানুষদের খুঁজে দেওয়া হয়।
ভাল থাকুন।
৫|
০৬ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ১১:৪২
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: ডলারের শক্তি কেবল পেট্রোডলারে সীমাবদ্ধ নয়, বরং আমেরিকার বিশাল ভোক্তা বাজার, প্রযুক্তিগত আধিপত্য এবং শক্তিশালী বন্ড মার্কেটের ওপর দাঁড়িয়ে আছে যা কোনো একক দেশের তেল বিক্রির মুদ্রা পরিবর্তনের মাধ্যমে ধসে পড়া অসম্ভব ।
ব্রিটিশ পাউন্ড একসময় বিশ্ব শাসন করলেও তার পতন ব্রিটেনকে ধ্বংস করেনি, অথচ এখানে ডলারের পতনকে সবার মৃত্যু হিসেবে অতিরঞ্জিত করে দেখানো হয়েছে।
আমেরিকার নৌবাহিনীর ৫ম ফ্লিট বাহরাইনে স্থায়ীভাবে মোতায়েন আছে শুধু এই অঞ্চলের জন্য। হরমুজ বন্ধের যেকোনো চেষ্টায় আমেরিকা ঘণ্টার মধ্যে সামরিক জবাব দিতে পারবে। পারমাণবিক অস্ত্র থাকলেও ইরান কি সেই মুহূর্তে পারমাণবিক যুদ্ধ শুরু করবে? করবে না কারণ সেটা ইরানের নিজের অস্তিত্বের শেষ।
আমেরিকা যাকেই পেট্রোডলার চ্যালেঞ্জ করতে দেখেছে তাকেই ধ্বংস করেছে - এই দাবিটি ইতিহাসকে এক রঙে রাঙানোর চেষ্টা। ইরাক যুদ্ধের পেছনে মিথ্যা WMD অজুহাত ছিল, কর্পোরেট তেল স্বার্থ ছিল, ইসরাইলের নিরাপত্তার হিসাব ছিল, অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ছিল এই জটিল বাস্তবতাকে শুধু ডলার রক্ষা বলে চালিয়ে দেওয়া oversimplification বলে মনে হয় ।
০৬ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৩৪
কাছের-মানুষ বলেছেন: ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের পাউন্ডের পতন হয়েছে, এই দাবি করা হয়নি। তবে আমেরিকা সুপারপাওয়ার হিসেবে এক নম্বর জায়গা দখল করে আছে , ডলার থেকে বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে।
বাংলাদেশে যদি কোনো আর্থিক সংকটে গনহারে টাকা ছাপানো হয়, তবে সেটা বাংলাদেশকে রক্ষা করবে না (শুধু স্বল্প সময়ের জন্য কাজ হবে), কারণ আমাদের বাজার শুধু বাংলাদেশেই সীমাবদ্ধ। ফলে মুদ্রাস্ফীতিতে দেশের অবস্থা 'বারোটা' বেজে যাবে। কিন্তু আমেরিকা ডলার ছেপে অনেক লম্বা সময় ধরে পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবে, কারণ তার বাজার এবং ডলার সারা পৃথিবীতে ব্যবহৃত হয়। তাদের প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য, ট্রেজারি—এগুলোর জয়জয়কারের পেছনেও ডলারের আধিপত্যের বিশাল ভূমিকা আছে।
পারমাণবিক অস্ত্র থাকলেও ইরান কি সেই মুহূর্তে পারমাণবিক যুদ্ধ শুরু করবে? সে পারমাণবিক যুদ্ধ করবে কিনা, এটা বড় কথা না। পারমাণবিক অস্ত্র সমৃদ্ধ প্রতিটি দেশ পারমাণবিক যুদ্ধ করবে না, এটা একেবারে শেষ অস্ত্র। তবে এই অস্ত্র তাকে বাড়তি সুবিধা দেয়। যেমন উত্তর কোরিয়া ছোট দেশ হলেও, কেউ তাকে আগ্রাসন চালাচ্ছে না। কারণ তার কাছে বোমা আছে। এটা শুধু ব্যবহার করার জন্য নয়, এটা থাকলে অনেক হিসেব-নিকেশ পাল্টে যায়। আমেরিকার মিডিয়া পর্যন্ত (এবং সরকার বলছে) ইরান পারমাণবিক সমৃদ্ধ হলে তারা তাকে কিছু করতে পারবে না।
গত বিশ বছর ধরে অ্যামেরিকা ইসরায়েল বলে আসছে, এই এক সপ্তাহের মধ্যে ইরান বোমা বানিয়ে ফেলছে, আরেক এক মাস, তাই এখনো থামাতে হবে ইত্যাদি, অর্থাৎ আপনার কাছে বোমা কোন বিষয় না হলেও যেখা যাচ্ছে অ্যামেরিকা সেটা অনেক গুরুত্ব দিচ্ছে, এতই গুরুত্ব দিচ্ছে, সেই দেশে বোমা ফেলে পর্যন্ত এই অস্ত্র বানানো থেকে বিরত রাখতে চাচ্ছে!
আমেরিকা যাকেই পেট্রোডলার চ্যালেঞ্জ করতে দেখেছে, তাকেই ধ্বংস করেছে - এই দাবিটি ইতিহাসকে এক রঙে রাঙানোর চেষ্টা। ইরাক যুদ্ধের পেছনে মিথ্যা WMD-র অজুহাত ছিল, কর্পোরেট তেলের স্বার্থ ছিল, ইসরায়েলের নিরাপত্তার হিসাব ছিল, অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ছিল। এই জটিল বাস্তবতাকে শুধু 'ডলার রক্ষা' বলে চালিয়ে দেওয়া অতিসরলীকরণ (oversimplification) বলে মনে হয়।
উপরে তিনটি পয়েন্ট, কর্পোরেট তেলের স্বার্থ ছিল, ইসরায়েলের নিরাপত্তার হিসাব ছিল, অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ছিল — আমার লেখায় এই তিনটি পয়েন্টই টাচ করেছি। পেট্রোডলার এবং একে ঘিরে অর্থনৈতিক রাজনীতি, তার ওপর শক্তিশালী ইসরায়েল প্রতিষ্ঠা, যেটা আমেরিকার স্বার্থ রক্ষা করবে (শক্তিশালী ইসরায়েল মানেই ইসরায়েলের নিরাপত্তা), আপনি নতুন কী ভ্যালু অ্যাড করলেন, বুঝলাম না!
আমাদের মত সব সময় মিলবে না, মিলানোর দরকারও নেই। আপনার কাছে যেটা oversimplification, আরেকজনের কাছে সেটা overcomplication-ও হতে পারে।
আপনি ভাল থাকুন।
৬|
০৬ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:০২
জ্যাক স্মিথ বলেছেন: চমৎকার বিশ্লেষণ- আপনি প্রথাগত যুক্তি তর্ক পাশ কাটিয়ে এই যুদ্ধের মেইন পয়েন্টগুলোর গভীরে আলোকপাত করেছেন।
ইসরাইল আমেরিকাকে এই যুদ্ধে টেনে এনেছে- এই থিওরী আমার কাছে বাতুলতা মনে হয়। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে এই দুই দেশেরই রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন স্বার্থ এটাকে এক ও অভিন্ন স্বার্থ বললেও ভুল হবে না। বিষয়টা এমন নয় যে হুট করেই অযাচিতভাবে ইজরাইল এই যুদ্ধে আমেরিকাকে টেনে এনেছে, দুই পক্ষ একসাথে দীর্ঘ আলাপ আলোচনার মাধ্যমেই এই যুদ্ধে এসেছে এটা দিনের আলোন ন্যায় স্পষ্ট। আপনি যদি গত ৪০ বছরের ইরানের সাথে আমেরিকার বিরোধগুলো পর্যালচনা করেন তহলে দেখতে পাবেন ইরানের উপর আক্রমণ এই মুহুর্তে আমেরিকার জন্য অবশ্যম্ভাবী ছিলো, যার বেশকিছু পয়েন্ট আপনি তুলে ধরেছেন। আর ইসরাইলের অস্তিত্ব রক্ষায় ইরানকে থামানোর প্রয়োজন যা সবাই জানে।
ইরানীয় দৃষ্টিকোন থেকে যেমন এই যুদ্ধে বিরুদ্ধে অনেক যুক্তি রয়েছে, আবার আমেরিকান দৃষ্টিকোন থেকে দেখলে দেখা যাবে তাদের জন্য এই যুদ্ধ অতি জরুরী। সব মিলিয়ে আমেরিকা মূলত এখানো 'জোর যার মূল্লুক তার' নীতিরই প্রয়োগ করছে।
০৬ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৩৯
কাছের-মানুষ বলেছেন: আপনি সঠিক বলেছেন, বুঝতে পেরেছেন কোথায় ফোকাস করতে চেয়েছি।
সবাই যে পয়েন্টগুলো ফোকাস করে সেগুলো পুনরাবৃত্তি করে সামুর হার্ডডিস্ক ভরতে চাইনি শূধু শুধু, তার মানে এই নয় সেই পয়েন্ট গুলো ইনভ্যালিড।
আপনি ভাল থাকুন।
৭|
০৬ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:০৫
জ্যাক স্মিথ বলেছেন: ইসরাইল আমেরিকাকে এই যুদ্ধে টেনে এনেছে - এটা কিন্তু আপনাকে উদ্দ্যেশে করে বলা নয়, অনেকেই এমনটি মনে করেন তাদের উদ্দ্যেশেই মূলত বলেছি।
০৬ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৩৯
কাছের-মানুষ বলেছেন: আমি বুঝতে পেরেছি। ধন্যবাদ আপনাকে।
৮|
০৬ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ২:২২
রাজীব নুর বলেছেন: এশিয়া এবং মধ্যেপ্রাচ্যের কোনো মসজিদে নামাজ ছাড়া অন্য কোনো কিছুর ব্যবস্থা নেই। অথচ আমি অনেক মসজিদে দেখেছি, সাতার কাটার ব্যবস্থা আছে। খেলাধূলার জায়গা আছে। ফাস্টফুড এর ব্যবস্থা আছে। আমাদের বাংলাদেশে মসজিদের অভাব নেই। আমাদের মসজিদ গুলোতে শুধু নামাজ হয়। অনেকে ক্লান্ত পথিক মসজিদে বিশ্রাম নিতে যায়। কিন্তু তখন এসি চালানো হয় না।
০৬ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪৩
কাছের-মানুষ বলেছেন: আমেরিকার এবং ইউরোপের মসজিদগুলো অনেকটা কমিউনিটি ফিল দেয়, মানুষের সামাজিকতার আঁতুড়ঘর বলে মনে হয়। মধ্যপ্রাচ্যের মসজিদের অবস্থা জানি না, তবে বাংলাদেশের মসজিদগুলোতে শুধু নামাজ হয়,এই কথাটি সত্য।
পাঠ ও প্রতিক্রিয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা রইল।
৯|
০৬ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ২:২৯
রাজীব নুর বলেছেন: ১। আমি কোনদিন মসজিদে ইফতার করিনি।
২। মংজ্বালা কেন?
৩। আধুনিক বিশ্বে যুদ্ধ কেন হবে? এটাই আমি বুঝি না। মানুষ সেই গুহা থেকে বের হয়েছে, পৃথিবী গড়েছে। তাহলে যুদ্ধ কেন হবে? ৪। সৌদির সাথে আমেরিকার প্রেট্রো চুক্তি তো আজ আর নাই। সেটার সময় তো শেষ হয়ে গেছে।
০৬ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৫০
কাছের-মানুষ বলেছেন: মংজ্বালা কেন বলে, আমি জানি না। আধুনিক বিশ্বে কেন যুদ্ধ হব এটা আমারও প্রশ্ন। সবার সুস্থভাবে বেঁচে থাকার অধিকার আছে। পেট্রোডলার চুক্তি আছে কি না, যদি সংক্ষেপে উত্তর দেই, সেটা এখনো আছে। ১৯৭০-এ যেই চুক্তি ছিল, সেটা সময়ের সঙ্গে আরও বিকশিত হয়েছে। যদিও সেটা সম্প্রতি এক্সপায়ার হয়েছে, কিন্তু সেই চুক্তির প্র্যাকটিস এখনো বলবৎ আছে এবং সেই চুক্তির নবায়ন ও নতুন কিছু নিয়ে কথা চলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটা সাধারণ কোনো চুক্তির মতো; এক্সপায়ার হলে আবার নবায়ন হবে।
আপনি ভালো থাকুন।
১০|
০৬ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ২:৩০
রাজীব নুর বলেছেন: ইদের আগে দেশে আসতে পারবেন। টেনশনের কিছু নাই।
০৬ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৫১
কাছের-মানুষ বলেছেন: আপনার মুখে ফুল চন্দন পরুক।
১১|
০৬ ই মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৩
শেরজা তপন বলেছেন: আপনার ইতিহাসভিত্তিক যৌক্তিক বিশ্লেষন পড়ে অনেক কিছু নতুন করে জানলাম, শিখলাম। ধন্যবাদ ভ্রাতা।
০৬ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৫২
কাছের-মানুষ বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ। আপনি ভাল থাকুন।
©somewhere in net ltd.
১|
০৬ ই মার্চ, ২০২৬ ভোর ৪:৫০
শ্রাবণধারা বলেছেন: ইরান যুদ্ধ সম্পর্কে আপনার এই ডলার এবং সৌদি আরবের ব্যাখ্যা এই প্রথম শুনলাম! আপনার উল্লেখিত ডলারের আধিপত্যে ধরে রাখার বিষয়টি সত্য - কিন্তু এটার সাথে আমেরিকার ইরান আক্রমনের কোন সম্পর্ক নেই। ইরানের উপর আমেরিকার এবং ইউরোপের অর্থনৈতিক অবরোধ চলছে। বৈশ্বিক ফিনান্সিয়াল মার্কেট থেকে ইরানকে বিছিন্ন রাখা হয়েছে।
ইরান যুদ্ধের একটাই কারন সেটা হলো ইসরাইল। নেতানিয়াহু এবং জায়নবাদীরা আমেরিকার প্রায় সব কংগ্রেস এবং সিনেট সদস্যদের কিনে নিয়ে (অথবা ব্লাক মেইল করে) আমেরিকাকে এই যুদ্ধে যুক্ত করেছরে।
আশ্চর্যের বিষয় হলো আপনার এই লেখায় একবারও ইসরাইলের নাম নেওয়া হয়নি। বড়ই আশ্চর্য!!!!