নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আপনার ব্লগের একটি সুন্দর শিরোনাম এখানে লিখুন

কাক তাডুয়া

আমি দেখতে কালো, ছেলে হিসেবে ভাল৷ চোখ জোড়া বাদামী ৷ আমার জীবন কিন্তূ অনেক দামি৷

কাক তাডুয়া › বিস্তারিত পোস্টঃ

অনুগল্পঃ ৯৯ রানের ভালবাসা

১৭ ই এপ্রিল, ২০১৬ রাত ১০:০১

সেকেন্ড ক্লাস শেষ করেই অর্পা শুভ্র কে ডাক দিলো। অর্পার চেহারাটা দেখে কেমন যেন বিষাদময় লাগছে। দোড়ে গেলো শুভ্র। ক্লাসের এক কোনে নিয়ে বললো, মাএর খুব অসুখ। হসপিটালে এডমিট করতে হয়েছে। আজ এবং এখনই যেতে হবে।
ওকে, চলো। আমি বাসে তুলে দিয়ে আসি।
তুমি বাকি ক্লাস করবা না?
না। তুমি সব কিছু নিয়ে রেডি হও।আমি সিএন জি নিয়ে আসি।

বরিশালের বাসে তুলে দিয়ে শুভ্র বাসায় ফিরলো। তারও মনটা খারাপ হয়ে গেছে।অর্পার চেহারাই তার মন খারাপের কারন।

চবি তে পড়ে দুইজন। এখন ৪র্থ ইয়ারে। ২ন্ড ইয়ার থেকে তাদের প্রেম। এক বছর লেগেছিল অর্পাকে লাইনে নিয়ে আসতে। অনেক কষ্টের, অনেক অপমানের ফল অর্পা। যার জন্য শুভ্র এখন সব করতে পারে। মেয়েটাও দেখতে শুনতে খারাপ না। বড়ই মিশুক। বিপদে আসা জাগাতে তার জুড়ি নেই। সবাই তার প্রতি তাই একটা টান অনুভব করে।

রাতে খাওয়া শেষ করতেই অর্পার কল। বাসায় পৌছে গেছে সে। এবার শুভ্র একটু শান্ত। মনটা একটু হালকা হয়েছে।
সকালে উঠে কল দিলো অর্পা কে। না, মোবাইল অফ। এক বার দুই বার না অফ। একটু পর পর দিচ্ছে কল, তাও কোনো লাভ নেই। ফেবু তে মেসেজও সিন হচ্ছে না। কি হলো তা ভেবে পাচ্ছেনা শুভ্র। মনের মাঝে কেমন যেন ভয় ভয় করছে। পড়ায় কোনো মনোযোগ নেই। সারাক্ষণ শুধু তার কথা মাথায় গুরছে। এভাবে একদিন দুইদিন এক সপ্তাহ কেটেছে। কোনো ভাবে খবর নেয়া পসিবল হচ্ছে না।

টিউশনি শেষ করে বাসায় ফিরে অর্পা কে কল দিয়ে দেখলো। না, সে দুষ্টু মেয়েটা গত সাত দিন একি কথা বলে যাচ্ছে। তার কথা ভেবে ভেবে খাওয়ায় অরুচি ধরেছে। চোখের নিচে কালো দাগ না ঘুমানোর কথাই বলে। এমন সময় দরজায় ঠক ঠক শব্দ। দরজা খুলে দেখে, অর্পা। আহা কি হয়েছে তার। সুন্দর চেহারা টা আর আগের মত নেই। সেই স্টাইলিশ মেয়েটা আজ বরই সাজ লেশ বিহীন। পরনে কিন্তু সেই শুভ্রের পছন্দের লাল জামাটা। যে জামা পরে ক্লাসে গেলে স্যাররাও তার প্রশংসা না করে থাকতে পারতো না। আজ সেই জামায় তাকে এ কেমন দেখাচ্ছে।
ও শুভ্রকে ডেকে বাহিরে নিয়ে গেলো। সেই বাগানে,প্রতিদিন সতেজ ফুল দিবে বলে তার জন্য যে বাগান শুভ্র করেছিল। কিছু বলার তীব্র আকাঙ্ক্ষা তার। শুভ্র তাকে দেখে এতোটাই বিমূঢ়, যে তার মুখ থেকে কোনো কথাই বের হচ্ছে না। দু জনই চুপ। কাক তাডুয়ার মত দারিয়ে রইল সে। নিরবতা ভাঙল তার একটি প্রশ্নে,
তুমি আমায় অনেক ভালবাস না?
হুম।
আমায় ছাড়া তুমি থাকতে পারবা?
একি ধরনের প্রশ্ন তোমার? তোমার কি শরীর খারাপ?
হুম।
ঠিক আছে এখন হলে যাও, সকালে ক্লাসে দেখা হবে।

সকালে ক্লাসে গিয়ে শুভ্রর অর্পার খোজ। হলের কেউই তাকে দেখেনি কাল রাতে। কি হয়েছে বুঝে উঠতে পারছে না। এদিকে ক্লাসে স্যার এসে গেছে। এখন আর কিছু করার নেই বসে থাকা ছাড়া।
স্যার আস্তে আস্তে শুভ্রের কাছে এসে বলতে লাগলো, তোমাদের সহপাঠী অর্পার বাসায় কল করা হয়েছিল। স্যারের গলাটা কেন জানি কাপছে। তার বাবা তাকে জোর করে বিয়ে দিতে চেয়েছিল। তাই সে বাসা থেকে পালাতে গিয়ে ছাদ থেকে পরে মারা যায় গতকাল রাতে।

শুভ্রর বাগানের ফুল গাছগুলোর আজ পানির বরই অভাব। পাতাগুলোও কাল হয়ে গেছে। পিপড়ার দল অবাধে বিছরণ করছে গাছে।

মন্তব্য ১ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (১) মন্তব্য লিখুন

১| ১৮ ই এপ্রিল, ২০১৬ দুপুর ১:৩০

Arafat Shawon বলেছেন: ভাল

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.