নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মানব মঙ্গল আমার একান্ত কাম্য

মহাজাগতিক চিন্তা

একদা সনেট কবি ছিলাম, ফরিদ আহমদ চৌধুরী ছিলাম, এখন সব হারিয়ে মহাচিন্তায় মহাজাগতিক চিন্তা হয়েছি। ভালবাসা চাই ব্লগারদের, দোয়া চাই মডুর।

মহাজাগতিক চিন্তা › বিস্তারিত পোস্টঃ

সুস্পষ্ট প্রমাণ সহকারে উপদেশ গ্রহণের জন্য আল্লাহ কোরআন সহজ করে দিলেও মুসলমান মতভেদে লিপ্ত হয় কোন কারণে?

৩১ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ রাত ৮:৫২



সূরাঃ ৫৪, কামার ১৭ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৭। কোরআন আমরা সহজ করে দিয়েছি উপদেশ গ্রহণের জন্য; অতএব উপদেশ গ্রহণকারী কেউ আছে কি?

সূরাঃ ৩ আলে-ইমরান, ১০৫ নং আয়াতের অনুবাদ-
১০৫। তোমরা তাদের মত হবে না যারা তাদের নিকট সুস্পষ্ট প্রমাণ আসার পর বিচ্ছিন্ন হয়েছে ও নিজেদের মাঝে মতভেদ সৃষ্টি করেছে। তাদের জন্য মহাশাস্তি রয়েছে।

সূরাঃ ২ বাকারা, ২৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৫৩। ঐসব রাসূলদের আমরা তাদের কোন জনের উপর কোন জনকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি। তাদের মধ্যে কোন জনের সঙ্গে আল্লাহ কথা বলেছেন।আর কোন জনকে উচ্চ মর্যাদায় উন্নীত করেছেন। আর আমরা মরিয়ম পুত্র ঈসাকে প্রকাশ্য মুজেযা দান করেছি। আর তাকে পবিত্র আত্মা দ্বারা সাহায্য করেছি।আর আল্লাহ ইচ্ছা করলে নবিগণের পরবর্তী লোকেরা পরস্পরের সঙ্গে যুদ্ধ-বিগ্রহে লিপ্ত হতো না। কিন্তু তারা পরস্পর ইখতিলাফ (মতভেদ) করেছিল।তাতে তাদের কিছু লোক মুমিন এবং কিছু লোক কাফের হয়ে গেল। আল্লাহ ইচ্ছা করলে তারা পরস্পর যুদ্ধ-বিগ্রহে লিপ্ত হতো না। কিন্তু আল্লাহ যা ইচ্ছা তাই করে থাকেন।

* সুস্পষ্ট প্রমাণ সহকারে উপদেশ গ্রহণের জন্য আল্লাহ কোরআন সহজ করে দিলেও মুসলমান মতভেদের কারণে পরস্পরের সঙ্গে যুদ্ধ-বিগ্রহে লিপ্ত হয়ে হাজারে হাজারে ও লাখে লাখে নিহত হচ্ছে কেন?

সূরা: ৯ তাওবা, ১২২ নং আয়াতের অনুবাদ-
১২২। আর মু’মিনদের এটাও উচিৎ নয় যে (জিহাদের জন্য) সবাই একত্রে বের হয়ে পড়বে। সুতরাং এমন কেন করা হয় না যে, তাদের প্রত্যেক বড় দল হতে এক একটি ছোট দল (জিহাদে) বের হয় যাতে অবশিষ্ট লোক ফিকাহ (দীনের গভীর জ্ঞান) অর্জন করতে থাকে। আর যাতে তারা নিজ কওমকে ভয় প্রদর্শন করে, যাতে তারা সাবধান হয়।

সূরাঃ ৩৫ ফাতির, ৪৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
৪৩। পৃথিবীতে অহংকার প্রকাশ এবং কূট ষড়যন্ত্রের কারণে (অকল্যাণ)।কূট ষড়যন্ত্র এর আহলকে(এর সাথে সংযুক্ত সকল ব্যক্তি) পরিবেষ্ঠন করে। তবে কি এরা অপেক্ষা করছে পূর্ববর্তীদের সুন্নতের? কিন্তু তুমি আল্লাহর সুন্নাতে কখনও কোন পরিবর্তন পাবে না এবং আল্লাহর সুন্নতে কোন ব্যতিক্রমও দেখবে না।

সূরাঃ ৫ মায়িদা, ৬৭ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬৭। হে রাসূল! তোমার রবের নিকট থেকে তোমার প্রতি যা নাযিল হয়েছে তা’ প্রচার কর। যদি না কর তবে তো তুমি তাঁর রেসালাত প্রচার করলে না। আল্লাহ তোমাকে মানুষ হতে রক্ষা করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ কাফির সম্প্রদায়কে সৎপথে পরিচালিত করেন না।

* আল্লাহ ফিকাহ দিয়ে ভয় প্রদর্শন করতে ও সাবধান হতে বললেন এবং তিনি এ কাজে জিহাদ থেকে বেশী লোক নিযুক্ত করতে বললেন।কিন্তু শুরু থেকেই আল্লাহর এ সুন্নতটি অবহেলিত থাকলো। অবশেষে রাসূলের (সা.) ইন্তেকালের সময় তাঁর ঘর থেকে মতভেদের যাত্রা শুরু হলো। তারপর সাহাবা (রা.) ও অন্যান্যরা পরস্পরের সঙ্গে যুদ্ধ-বিগ্রহে লিপ্ত হয়ে হাজারে হাজারে নিহত হলেন। তাতে সাহাবায়ে কেরাম (রা.) মুমিন থাকলেও অন্যান্যরা কাফের হয়ে গেল। রাসূলের (সা.) জন্য রেসালাতের দায়িত্ব কঠিন থাকায় ফিকাহের দায়িত্ব পালন না করায় তিনি আল্লাহর শাস্তি থেকে রেহাই পেলেন। কিন্তু সাহাবায়ে কেরামের (রা.) অনেকে ফিকাহের দায়িত্ব পালন না করায় হারাজ বা হত্যাকান্ডের শিকার হলেন এবং অন্যান্যরা তো কাফেরই হয়ে গেলো। মুসলিমদের দায়িত্ব ছিল ফিকাহ সংকলন করে কোরআন ও হাদিসের দলিল সহকারে সেই ফিকাহ প্রচার করা। কিন্তু তাঁরা কোরআন ও হাদিসের দলিল সহকারে ফিকাহ প্রচার না করে ফিকাহ বিহীন কোরআন ও হাদিস প্রচার করে আল্লাহর বিরাগ ভাজন হলেন।

সূরাঃ ৬২ জুমুআ, ২ নং থেকে ৪ নং আয়াতের অনুবাদ।
২। তিনিই উম্মীদের মধ্যে একজন রাসুল পাঠিয়েছেন তাদের মধ্য হতে, যে তাদের নিকট আবৃত করে তাঁর আয়াত সমূহ; তাদেরকে পবিত্র করে এবং শিক্ষা দেয় কিতাব ও হিকমাত; এর আগে তো এরা ছিল ঘোর বিভ্রান্তিতে।
৩। আর তাদের অন্যান্যের জন্যও যারা এখনো তাদের সহিত মিলিত হয়নি। আল্লাহ পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময়।
৪। ওটা আল্লাহরই অনুগ্রহ, যাকে ইচ্ছা তিনি ওটা দান করেন। আর আল্লাহ তো মহা অনুগ্রহশীল।

# সূরাঃ ৬২ জুমুআ, ৩ নং আয়াতের তাফসির- তাফসিরে ইবনে কাছির
৩। এ আয়াতের তাফসিরে আবু হুরায়রা হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, একদা আমরা রাসূলুল্লাহর পার্শ্বে বসে ছিলাম, এমন সময় তাঁর উপর সূরা জুমুয়া অবতীর্ণ হয়। জনগণ জিজ্ঞাস করেন হে আল্লাহর রাসূল (সা.)! ‘ওয়া আখারিনা মিনহুম লাম্মা ইয়ালহাকু বিহিম’ দ্বারা কাদেরকে বুঝানো হয়েছে? কিন্তু তিনি কোন উত্তর দিলেন না। তিন বার এ প্রশ্ন করা হয়। আমাদের মধ্যে সালমান ফারসীও (রা.) ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর হাতখানা সালমান ফারসীর (রা.) উপর রেখে বললেন, ঈমান যদি সারিয়্যা নক্ষত্রের নিকট থাকত তাহলেও এই লোকগুলোর মধ্যে এক কিংবা একাধিক ব্যক্তি এটা পেয়ে যেত।(ফাতহুলবারী ৮/৫১০, মুসলিম ৪/১৯৭২, তিরমিযী ৯/২০৯, ১০/৪৩৩, নাসাঈ ৫/৭৫, ৬/৪৯০, তাবারী ২৩/৩৭৫)।

সহিহ বোখারী ৪৯৯ নং হাদিসের (সালাতের ওয়াক্ত সমূহ অধ্যায়) অনুবাদ-
৪৯৯। হযরত যুহুরী (র.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি দামেশকে আনাস ইবনে মালেকের (রা.) নিকট গিয়ে দেখতে পেলাম, তিনি কাঁদছেন। আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কাঁদছেন কেন? তিনি বললেন, আমি যা যা দেখেছি তার মধ্যে এ নামাযই আজ পর্যন্ত অবশিষ্ট ছিল। কিন্তু এখন নামাজও নষ্ট হতে চলেছে।

সহিহ আল বোখারী, ৬৫৭২ নং হাদিসের (কিতাবুল ফিতান)-
৬৫৭২। হযরত ওসামা ইবনে যায়েদ (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নবি করিম (সা.) মদীনার এক সুউচ্চ অট্টালিকার উপর আরোহন করে বললেন, আমি যা কিছু দেখছি, তোমরা কি তা’ দেখছ? তারা বলল, জী না। তিনি বললেন, আমি দেখছি যে, তোমাদের ঘরের ভিতরে বৃষ্টি পাতের ন্যায় ফিতনা পতিত হচ্ছে।

* ফিকাহের (দীনের গভীর জ্ঞান) অভাব জনিত কারণে অল্পবিদ্যা ভয়ংকর রূপ ধারণ করে মুসলিম কাফের হয়ে খারেজী হতে থাকে তাতে ঈমান সারিয়্যা নক্ষত্রের নিকট চলে যাওয়ায় ইসলাম বিনষ্ট হয়। সেজন্য কারবালায় হযরত ইমাম হোসেন (রা.) তাঁর প্রতিপক্ষে কোন মুমিন খুঁজে পাননি। তারা তাঁর মাথা কেটে ইয়াজিদকে উপহার দিলে মদীনাবাসী এর প্রতিবাদ করে। তখন ইয়াজিদ তাঁদেরকে লাঞ্চিত করে। তখন মদীনার ঘর সমূহের ভিতরে বৃষ্টি পাতের ন্যায় ফিতনা পতিত হয়। অবশেষে একশতবার আল্লাহর দিদারপ্রাপ্ত পারসিক ইমাম আবু হানিফা (র.) ফিকাহ সংকলন ও শিক্ষার ব্যবস্থা করলে ঈমান সারিয়্যা নক্ষত্রের নিকট থেকে পৃথিবীতে ফিরে আসে। তখন মুসলিমদের মাঝে হারাজ বা হত্যাকান্ড কমতে থাকে।

সূরাঃ ৪ নিসা, ৫৯ নং আয়াতের অনুবাদ-
৫৯। হে মুমিনগণ! যদি তোমরা আল্লাহ ও আখিরাতে বিশ্বাস কর তবে তোমরা (ইতায়াত) আনুগত্য কর আল্লাহর, আর (ইতায়াত) আনুগত্য কর রাসুলের, আর যারা তোমাদের মধ্যে আমির।কোন বিষয়ে তোমাদের মধ্যে বিরোধ দেখাদিলে উহা উপস্থাপিত কর আল্লাহ ও রাসুলের নিকট। ওটা উত্তম এবং পরিনামে ভাল।

সহিহ মুসলিম, ৪৪৫৬ নং হাদিসের (কিতাবুল জিহাদ) অনুবাদ-
৪৪৫৬। হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) কর্তৃক বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি তার আমিরের মধ্যে এমন কোন ব্যাপার দেখে, যা সে অপছন্দকরে তবে সে যেন ধৈর্য্য অবলম্বন করে। কেননা, যে লোক জামায়াত থেকে কিঞ্চিত পরিমাণ সরে গেল এবং এ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করল সে জাহেলিয়াতের মুত্যুই বরণ করল।

* অবশেষে সবচেয়ে পরাক্রান্ত আব্বাসীয় কুরাইশ খলিফা আমির হারুনুর রশিদ ইমাম আবু হানিফার (র.) ফিকাহ পরিশোধন করে অনুমোদন করলে দুই তৃতীয়াংশ মুসলিম এর অনুসারী হয়। তখন ইসলামের স্বর্ণযুগ শুরু হয়।

সূরাঃ ৬২ জুমুআ, ২ নং আয়াতের অনুবাদ।
২। তিনিই উম্মীদের মধ্যে একজন রাসুল পাঠিয়েছেন তাদের মধ্য হতে, যে তাদের নিকট আবৃত করে তাঁর আয়াত সমূহ; তাদেরকে পবিত্র করে এবং শিক্ষা দেয় কিতাব ও হিকমত; এর আগে তো এরা ছিল ঘোর বিভ্রান্তিতে।

সূরাঃ ৮ আনফাল, ৬০ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬০। তোমরা তাদের মোকাবেলার জন্য যথাসাধ্য শক্তি ও অশ্ব-বাহিনী প্রস্তত রাখবে। এর দ্বারা তোমরা সন্ত্রস্ত রাখবে আল্লাহর শত্রুকে, তোমাদের শত্রুকে, এছাড়া অন্যদেরকে যাদের সম্পর্কে তোমরা জাননা, আল্লাহ জানেন।আল্লাহর পথে তোমরা যা ব্যয় করবে এর পূর্ণ প্রতিদান তোমাদেরকে দেওয়া হবে এবং তোমাদের প্রতি জুলুম করা হবে না।

* রাসূল (সা.) কিতাব ও হিকমাত শিক্ষা দিয়েছেন। আল্লাহ রাসূলকে (সা.) ব্যবসায় হিকমাত শিক্ষা দিয়ে তাঁর উপর কোরআন নাযিল করেন। ব্যবসায় হিকমাতে দক্ষ হযরত ওসমান (রা.) কোরআন সংকলন করেন। ব্যবসায়ে হিকমাতে দক্ষ ইমাম আবু হানিফা (র.) ফিকাহ সংকলন ও শিক্ষার ব্যবস্থা করেন।সামরিক হিকমাতে এগিয়ে গিয়ে উমাইয়াগণ খেলাফত প্রাপ্ত হয়। তাদের থেকে এ বিষয়ে আরো এগিয়ে আব্বাসীয়গণ খেলাফত প্রাপ্ত হয়। তাদের থেকে এ বিষয়ে আরো এগিয়ে মঙ্গলগণ খেলাফত ধ্বংস করে।বিবিধ হিকমাতে অমুসলিমগণ এগিয়ে যাওয়ায় মুসলিমগণ তাদের তাবেদারে পরিণত হয়।সুস্পষ্ট প্রমাণ সহকারে উপদেশ গ্রহণের জন্য আল্লাহ কোরআন সহজ করলেও মুসলিম কোরআন না বুঝে ক্ষতিগ্রস্থ্য হলে আল্লাহ তাদের পক্ষে কিভাবে থাকবেন?

সূরাঃ ৮ আনফাল, ৬৫ ও ৬৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬৫। হে নবি! মু’মিন দিগকে যুদ্ধের জন্য উদ্বুদ্ধ কর। তোমাদের মধ্যে কুড়িজন ধৈর্যশীল থাকলে তারা দুইশতজনের উপর বিজয়ী হবে।তোমাদের মধ্যে একশত জন থাকলে এক হাজার কাফিরের উপর জয়ী হবে।কারণ তারা বোধশক্তিহীন সম্প্রদায়।
৬৬। আল্লাহ এখন তোমাদের ভার লাঘব করলেন।তিনিতো অবগত আছেন যে তোমাদের মধ্যে দূর্বলতা আছে।সুতরাং তোমাদের মধ্যে একশত জন ধৈর্যশীল থাকলে তারা দুইশতজন উপর বিজয়ী হবে।তোমাদের মধ্যে এক হাজার থাকলে আল্লাহর অনুমতিক্রমে তারা দুই হাজারের উপর বিজয়ী হবে।আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে রয়েছেন।

সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতাম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে তাঁর পথ হতে বিচ্ছিন্ন করবে। এভাবে আল্লাহ তোমাদেরকে নির্দেশ দিলেন যেন তোমরা সাবধান হও।

সূরাঃ ৩ আলে-ইমরান, ১০৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১০৩। তোমরা একত্রে আল্লাহর রজ্জু দৃঢ়ভাবে ধর! আর বিচ্ছিন্ন হবে না। তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ স্মরণ কর।যখন তোমরা শত্রু ছিলে তখন তিনি তোমাদের অন্তরে প্রীতি সঞ্চার করেছেন, ফলে তাঁর দয়ায় তোমরা পরস্পর ভাই হয়ে গেলে।তোমরাতো অগ্নি কুন্ডের প্রান্তে ছিলে, আল্লাহ উহা হতে তোমাদেরকে রক্ষা করেছেন। এভাবে আল্লাহ তোমাদের জন্য তাঁর নিদর্শনসমূহ স্পষ্টভাবে বিবৃতকরেন যাতে তোমরা সৎপথ পেতে পার।

* এখন যারা ইসলাম প্রতিষ্ঠার কাজ করছে এরা একতৃতীয়াংশ নাগরিককে ইসলামের অনুসারী না বানিয়ে ইসলাম প্রতিষ্ঠার কাজ করে সফল হচ্ছে না। এখন এদের প্রথম কাজ ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা। ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত করে এরা ক্ষমতা পাওয়ার পর এদের কাজ হবে সকল মসজিদে সকল নামাজের পর অভিন্ন ফিকাহ শিক্ষার ব্যবস্থা করা। তাতে অভিন্ন নিয়মে হালাল খোর ইসলাম পালনকারী ৩৪% নাগরিক পাওয়া গেলে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত করার সম্ভাবনা দেখা দিবে। ইসলাম প্রতিষ্ঠিত করার জন্য ইসলাম প্রতিষ্ঠিতকারীদের ঐক্য লাগবে। আমাদের ইসলাম প্রতিষ্ঠিত কারীরা এটাই পারছে না। তারা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অভিন্ন প্রার্থী দিতে পারছে না। ইসলামে সবার ভোট গৃহিত নয়। যারা শুদ্ধ তাদের ভোট ইসলামে গৃহিত হয়। এমন শুদ্ধ লোক হলো ইমাম মোয়াজ্জিন। প্রত্যেক সংসদীয় আসনে যারা ইসলামের পক্ষে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করতে চায় সেই আসনের ইমাম-মোয়াজ্জিন গণের তাদের একজন জাতীয় সংসদে অংশগ্রহণ করলে কোন আসনে ইসলামের পক্ষে একাধীক প্রার্থী থাকবে না। এমন ভোটে যে দলের বেশী লোক জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী মনোনীত হবেন সে দলের নেতাকে অন্য সবাই নেতা মানলে ইসলামের পক্ষের সবাই এক নেতার অধীনে ঐক্যবদ্ধ হতে পারে। আমার সকল কথার পক্ষে কোরআন থাকে। কেউ আমার কথা না বুঝলে সে আমার সাথে আলোচনায় বসতে পারে। তথাপি ইসলামপন্থীগণ সুস্পষ্ট প্রমাণ সহকারে উপদেশ গ্রহণের জন্য আল্লাহ কোরআন সহজ করে দিলেও তার তা’ না বুঝলে তারা মতভেদে পড়ে থাকবে এবং অন্যদের দ্বারা লাঞ্চিত হবে। এ ক্ষেত্রে আল্লাহ তাদের রক্ষার দায়িত্ব গ্রহণ করবেন না। মহানবির (সা.) নাতির মাথাই আল্লাহ রক্ষা করেননি। সুতরাং এ ক্ষেত্রে অন্য কারো রক্ষা পাওয়ার সম্ভাবনা নাই।

মন্তব্য ১০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (১০) মন্তব্য লিখুন

১| ০১ লা জানুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৫:৪৬

আলামিন১০৪ বলেছেন: মসজিদে নামাজ পড়তে গেলে অনেক মানুষ অনেকভাবে নামায পড়ে- যে মাযহাবের হই না কেন আমাদের ইমামের অনুসরণ করা উচিত।
হানাফি মতে সমূদ্রের সব প্রাণী খাওয়া যায় না- তিনি ঠিক বলেন নাই।

আমি মনে করি- সমগ্র পৃথিবীর বিভিন্ন মত-পথের নেতৃস্থানীয় উলামাদের সদস্য করে আল আযহার বা কোন সার্বজনীন গ্রহণযোগ্য ইসলমী বিশ্ববিদ্যালয় ভিত্তিক একটি কমিটি থাকা প্রয়োজন যারা বিভিন্ন বিষয়ে ব্যাখ্যা সহ লিখিত সিদ্ধান্ত দিবেন।
মুস্কিল হলো আপনার মতো এক এক জন এক এক ভাবে ব্যাখ্যা করে মত-পার্থক্য তৈরি করে অথচ আল্লাহ ইসলামের রজ্জু শক্তভাবে ধারন করে মত-পার্থক্য দূর করতে বলেছেন।

ইসলামী শরিয়তের উৎস- কোরআন, হাসিস, ইজমা ও কিয়াস। আবু হানিফার নামে আপনি নতুন করে বিভেদ সৃষ্টি করছেন।

০১ লা জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৭:১১

মহাজাগতিক চিন্তা বলেছেন:


আল্লাহর সুন্নাত কোরআনের ফিকায় পরিবর্তন ও ব্যতিক্রম বিহীন অভিন্ন পথ সিরাতাম মুসতাকিম না থাকার কথা বলা কুফুরী

সূরাঃ ৩৫ ফাতির, ৪৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
৪৩। পৃথিবীতে অহংকার প্রকাশ এবং কূট ষড়যন্ত্রের কারণে (অকল্যাণ)।কূট ষড়যন্ত্র এর আহলকে(এর সাথে সংযুক্ত সকল ব্যক্তি) পরিবেষ্ঠন করে। তবে কি এরা অপেক্ষা করছে পূর্ববর্তীদের সুন্নতের? কিন্তু তুমি আল্লাহর সুন্নাতে কখনও কোন পরিবর্তন পাবে না এবং আল্লাহর সুন্নতে কোন ব্যতিক্রমও দেখবে না।

সূরা: ৯ তাওবা, ১২২ নং আয়াতের অনুবাদ-
১২২। আর মু’মিনদের এটাও উচিৎ নয় যে (জিহাদের জন্য) সবাই একত্রে বের হয়ে পড়বে। সুতরাং এমন কেন করা হয় না যে, তাদের প্রত্যেক বড় দল হতে এক একটি ছোট দল (জিহাদে) বের হয় যাতে অবশিষ্ট লোক ফিকাহ (দীনের গভীর জ্ঞান) অর্জন করতে থাকে। আর যাতে তারা নিজ কওমকে ভয় প্রদর্শন করে, যাতে তারা সাবধান হয়।

সূরাঃ ৫ মায়িদাহ, ৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
৩। তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে মৃত, রক্ত, শূকরমাংস, আল্লাহ ব্যতীত অপরের নামে যবেহকৃত পশু, আর শ্বাসরোধে মৃত জন্তু, প্রহারে মৃত জন্তু, শৃংগাঘাতে মৃত জন্তু এবং হিংস্র পশুতে খাওয়া জন্তু, তবে যা তোমরা যবেহ করতে পেরেছ তা’ ব্যতীত, আর যা মূর্তি পুজার বেদির উপর বলি দেওয়া হয় তা এবং জুয়ার তীরদ্বারা ভাগ্য নির্ণয় করা, এ সব পাপ কাজ। আজ কাফেরগণ তোমাদের দ্বীনের বিরুদ্ধাচরণে হতাশ হয়েছে; সুতরাং তাদেরকে ভয় করবে না, শুধু আমাকে ভয় কর। আজ তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীন পূর্ণাঙ্গ করলাম ও তোমাদের প্রতি আমার অনুগ্রহ সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীন মনোনীত করলাম। তবে কেহ পাপের দিকে না ঝুঁকে ক্ষুধার তাড়নায় বাধ্য হলে তখন আল্লাহ তো ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতাম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে তাঁর পথ হতে বিচ্ছিন্ন করবে। এভাবে আল্লাহ তোমাদেরকে নির্দেশ দিলেন যেন তোমরা সাবধান হও।

* আল্লাহর কথা অনুযায়ী আল্লাহর সুন্নাত কোরআনের ফিকায় পরিবর্তন ও ব্যতিক্রম বিহীন পূর্ণাঙ্গ অভিন্ন পথ সিরাতাম মুসতাকিম না থাকার কথা বলা কুফুরী। উপরের কথাটি কোরআনের একটি আয়াত নয় বরং চারটি আয়াত আল্লাহর সুন্নাত কোরআনের ফিকায় আছে। সুতরাং এক আয়াত দিয়ে চট জলদি যারা ফতোয়া দেয় তাদের মধ্যে কোরআনের ফিকাহ নাই এবং তারা কোরআনের আলেম নয়।আল্লাহর সুন্নাত কোরআনের ফিকাহ কি রকম?

সূরাঃ ৪ নিসা, ৫৯ নং আয়াতের অনুবাদ-
৫৯। হে মুমিনগণ! যদি তোমরা আল্লাহ ও আখিরাতে বিশ্বাস কর তবে তোমরা (ইতায়াত) আনুগত্য কর আল্লাহর, আর (ইতায়াত) আনুগত্য কর রাসুলের, আর যারা তোমাদের মধ্যে আমির।কোন বিষয়ে তোমাদের মধ্যে বিরোধ দেখাদিলে উহা উপস্থাপিত কর আল্লাহ ও রাসুলের নিকট। ওটা উত্তম এবং পরিনামে ভাল।

সূরাঃ ২ বাকারা, ২৮৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৮৬। আল্লাহ কারো উপর এমন কোন কষ্ট দায়ক দায়িত্ব অর্পণ করেন না যা তার সাধ্যাতীত।সে ভাল যা উপার্জন করে তার প্রতিফল তার। সে মন্দ যা উপার্জন করে তার প্রতিফল তার। হে আমাদের প্রতিপালক যদি আমরা ভুলে যাই অথবা আমাদের ত্রুটি হয় তবে আমাদেরকে পাকড়াও করো না। হে আমাদের প্রতিপালক আমাদের পূর্ববর্তিগণের উপর যেমন গুরু দায়িত্ব অর্পণ করেছিলে আমাদের উপর তেমন দায়িত্ব অর্পণ করবেন না।হে আমাদের প্রতিপালক এমন ভার আমাদের উপর অর্পণ করবেন না যা বহন করার শক্তি আমাদের নেই।আমাদের পাপ মোছন করুন, আমাদেরকে ক্ষমা করুন, আমাদের প্রতি দয়া করুন, আপনিই আমাদের অভিভাবক। সুতরাং কাফির সম্প্রদায়ের উপর আমাদেরকে জয়যুক্ত করুন।

সূরাঃ ৫৩ নাজম, ৩ নং ও ৪ নং আয়াতের অনুবাদ-
৩। আর সে মনগড়া কথা বলে না।
৪। এটাতো ওহি যা তার প্রতি ওহি হিসেবেই পাঠানো হয়।

সূরাঃ ৩৫ ফাতির, ২৮ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৮। এভাবে রং বেরং- এর মানুষ, জন্তু ও আন’আম রয়েছে। নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে (ওলামা) আলেমরাই তাঁকে ভয় করে।নিশ্চয়্ই আল্লাহ পরাক্রমশালী ক্ষমাশীল।

সূরাঃ ৩ আলে-ইমরান, ১০৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১০৩। তোমরা একত্রে আল্লাহর রজ্জু দৃঢ়ভাবে ধর! আর বিচ্ছিন্ন হবে না। তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ স্মরণ কর।যখন তোমরা শত্রু ছিলে তখন তিনি তোমাদের অন্তরে প্রীতি সঞ্চার করেছেন, ফলে তাঁর দয়ায় তোমরা পরস্পর ভাই হয়ে গেলে।তোমরাতো অগ্নি কুন্ডের প্রান্তে ছিলে, আল্লাহ উহা হতে তোমাদেরকে রক্ষা করেছেন। এভাবে আল্লাহ তোমাদের জন্য তাঁর নিদর্শনসমূহ স্পষ্টভাবে বিবৃতকরেন যাতে তোমরা সৎপথ পেতে পার।

সূরাঃ ৩ আলে-ইমরান, ১০৫ নং আয়াতের অনুবাদ-
১০৫। তোমরা তাদের মত হবে না যারা তাদের নিকট সুস্পষ্ট প্রমাণ আসার পর বিচ্ছিন্ন হয়েছে ও নিজেদের মাঝে মতভেদ সৃষ্টি করেছে। তাদের জন্য মহাশাস্তি রয়েছে।

সূরাঃ ১০১ কারিয়া, ৬ নং ও ৭ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬। তখন যার পাল্লা ভারী হবে
৭। সেতো লাভ করবে সন্তোষ জনক জীবন।

সূরাঃ ৪ নিসা, আয়াত নং ১১৫ এর অনুবাদ-
১১৫। কারো নিকট সৎপথ প্রকাশ হওয়ার পর সে যদি রাসুলের বিরুদ্ধাচরণ করে এবং মু’মিনদের পথ ব্যতিত অন্যপথ অনুসরন করে, তবে সে যে দিকে ফিরে যায় সে দিকেই তাকে ফিরিয়ে দেব এবং জাহান্নামে তাকে দগ্ধ করব, আর উহা কত মন্দ আবাস।

* আল্লাহর সুন্নাত কোরআনের ফিকাহ হলো পূর্ণাঙ্গ কোরআন। পূর্ণাঙ্গ কোরআন আপনার জানা না থাকলে রাসূলের (সা.) সুন্নাতে আল্লাহর সুন্নাত কোরআনের ফিকাহ খোঁজ করুন।রাসূলের (সা.)পূর্ণাঙ্গ সুন্নাত আপনার জানা না থাকলে আমিরগণের আমলে আল্লাহর সুন্নাত কোরআনের ফিকাহ খোঁজ করুন। আমিরগণের সকল আমল আপনার জানা না থাকলে ওলামার আমলে আল্লাহর সুন্নাত কোরআনের ফিকাহ খোঁজ করুন। ওলামা মানে কমপক্ষে তিন জন আলেম। যেমন ইমাম আবু হানিফা (র.), ইমাম আবু ইউসুফ (র.) ও আমির হারুনুর রশিদ। তাঁদের একজন অথবা দু’জন মানলে হবে না। কারণ এক জন ও দু’জনে ওলামা হয় না। ওলামা হতে তিন জনই লাগে।উক্ত তিনজন একটি ফিকাহ প্রচার করেছেন। সেই ফিকাহ মানে দুই তৃতীয়াংশ মুসলিম। ওলামাতে সন্তুষ্ট না হলে ওলামা জামায়াতে আল্লাহর সুন্নাত কোরআনের ফিকাহ খোঁজ করুন। ওলামা জামায়াতে সন্তুষ্ট না হলে ওলামার পাল্লাভারী জামায়াতে আল্লাহর সুন্নাত কোরআনের ফিকাহ খোঁজ করুন।এটিই হানাফী জামায়াত।তাতেও সন্তুষ্ট হতে না পারলে মু’মিনদের পথ ছেড়ে আপনি সোজা জাহান্নামে চলে যাবেন।

সূরাঃ ৫ মায়িদাহ, ৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬। হে ঈমানদারগণ! যখন তোমরা নামাজের উদ্দেশ্যে দন্ডায়মান হও তখন তোমাদের মুখমন্ডল উত্তমভাবে ধৌত কর এবং হাতগুলো কনুই পর্যন্ত ধুয়ে নাও, আর মাথা মাসেহ কর এবং পাগুলো টাকনু পর্যন্ত ধুয়ে ফেল। কিন্তু যদি তোমরা অসুস্থ থাকো অথবা সফরে থাক, অথবা তোমাদের কেউ পায়খানা থেকে আসে, কিংবা তোমরা স্ত্রীদের স্পর্শ কর।অত:পর যদি পানি না পাও তবে পবিত্র মাটি দ্বারা তায়াম্মুম করে নাও। তখন তোমরা তা’ দিয়ে তোমাদের মুখমন্ডল ও হাত মাসেহ কর। আল্লাহ তোমাদের উপর কখনই কোন অসুবিধায় ফেলতে চান না, বরং তিনি তোমাদেরকে পবিত্র করতে ও তোমাদের উপর স্বীয় নেয়ামত পূর্ণ করতে চান। যেন তোমরা তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন কর।

সূরাঃ ৯ তাওবা, ১০১ নং আয়াতের অনুবাদ-
১০১। মরুবাসীদের মধ্যে যারা তোমাদের আশেপাশে আছে তাদের কেউ কেউ মুনাফিক। মদীনাবাসীদের মধ্যেও কেউ কেউ মোনাফেকী রোগে আক্রান্ত। তুমি তাদের সম্পর্কে জান না। আমরা তাদের সম্পর্কে জানি।আমারা সিগ্র তাদেরকে দু’বার শাস্তি দেব। এরপর তারা মহা শাস্তির দিকে যাত্রা করবে।

সূরাঃ ৯ তাওবা, ১০৭ নং আয়াতের অনুবাদ-
১০৭। আর যারা মসজিদ নির্মাণ করেছে ক্ষতি সাধন, কুফুরী ও মুমিনদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এবং ইতিপূর্বে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের বিরুদ্ধে যে সংগ্রাম করেছে তার গোপন ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহারের জন্য, তারা শপথ করেই বলবে তারা ভাল কিছু করার জন্যই ওটা করেছে; আর আল্লাহ সাক্ষি দিচ্ছেন নিশ্চয়ই তারা মিথ্যাবাদী।

* আল্লাহ অজুতে মুখমন্ডল ধুতে বলেছেন।মুখমন্ডল ধুতে গেলে মুখের ভিতর ও বাহির ধুতে হবে। সেই জন্য আপনাকে কুলি করতে হবে ও নাকে পানি দিতে হবে। কারণ এগুলো মুখমন্ডলের বাইরে নয়। আল্লাহ অজুতে মাথা মাসেহ করতে বলেছেন, কান ও ঘাড় মাথার অংশ। সেজন্য মাথা মাসেহ করতে গেলে কানের ভিতর ও বাহির মাসেহ করুন এবং ঘাড় মাসেহ করুন।মাথা কাটতে কেউ ঘাড় বাদ দিয়ে কাটে না। সুতরাং ঘাড়কে মাথার অংশ নয় বলার সুযোগ নাই।আল্লাহ কনুইসহ হাত ধুতে বলেছেন। হাতের কব্জি পর্যন্ত অংশ হাতের বাইরে নয়।হাতের প্রথমে এটি বিধায় আগে হাতের এ অংশ ধুবেন। তারপর কনইসহ হাতের বাঁকী অংশ ধুবেন। আল্লাহ টাকনু সহ পা ধুতে বলায় টাকনু সহ পা ধুবেন।পবিত্র কিছু দিয়ে পাঢাকা থাকলে এবং তা’ খুলে পা ধোয়াতে অসুবিধা থাকলে এর উপর মাসেহ করুন। কারণ চুল দ্বারা ঢাকা মাথা আল্লাহ মাসেহ করতে বলেছেন।ক্ষতি সাধন, কুফুরী ও মুমিনদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে মোনাফেক রাসূল (সা.) ও তাঁর সাহাবায়ে কেরামের (রা.)নামে মিথ্যা কথা প্রচার করায় তাঁদের পর ওলামার অনুসারী হবেন। ওলামার অনুসরনের জন্য ইমাম আবু হানিফা (র.), ইমাম আবু ইউসুফ (র.) ও আমির হারুনুর রশিদের অনুসরন সবচেয়ে উপযুক্ত। কারণ তাঁদের প্রান্তের দু’জন মাঝের জন দ্বারা যুক্ত। তাঁদের মধ্যে বিচ্ছিন্নতা নাই।ইমাম আবু ইউসুফ (র.) ইমাম আবু হানিফার (র.) প্রধান ছাত্র এবং হারুনুর রশিদের প্রধান উজির।তিনি খেলাফতের প্রধান বিচারপতি। এমন উপযুক্ত সংযোগে সংযুক্ত ওলামা আপনি আর পাবেন না। সেজন্য দুই তৃতীয়াংশ মুসলিম তাঁদের অনুসারী। আপনি তাঁদের অনুসারী না হয়ে মুসলিম ঐক্যে কেন ফাটল ধরালেন এর কৈফিত না দিতে পারলে আপনাকে জাহান্নামে যেতেই হবে। এরপর আপনি যেই হোন না কেন তাতে কোন কাজ হবে না।

২| ০১ লা জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:৪৯

মহাজাগতিক চিন্তা বলেছেন:


কোন ওলামার অনুসরনে হিদায়াত আছে?

সূরাঃ ৯ তাওবা, ১০১ নং আয়াতের অনুবাদ-
১০১। মরুবাসীদের মধ্যে যারা তোমাদের আশেপাশে আছে তাদের কেউ কেউ মুনাফিক। মদীনাবাসীদের মধ্যেও কেউ কেউ মোনাফেকী রোগে আক্রান্ত। তুমি তাদের সম্পর্কে জান না। আমরা তাদের সম্পর্কে জানি।আমারা সিগ্র তাদেরকে দু’বার শাস্তি দেব। এরপর তারা মহা শাস্তির দিকে যাত্রা করবে।

সূরাঃ ৯ তাওবা, ১০৭ নং আয়াতের অনুবাদ-
১০৭। আর যারা মসজিদ নির্মাণ করেছে ক্ষতি সাধন, কুফুরী ও মুমিনদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এবং ইতিপূর্বে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের বিরুদ্ধে যে সংগ্রাম করেছে তার গোপন ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহারের জন্য, তারা শপথ করেই বলবে তারা ভাল কিছু করার জন্যই ওটা করেছে; আর আল্লাহ সাক্ষি দিচ্ছেন নিশ্চয়ই তারা মিথ্যাবাদী।

সূরাঃ ২ বাকারা, ২৮৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৮৬। আল্লাহ কারো উপর এমন কোন কষ্ট দায়ক দায়িত্ব অর্পণ করেন না যা তার সাধ্যাতীত।সে ভাল যা উপার্জন করে তার প্রতিফল তার। সে মন্দ যা উপার্জন করে তার প্রতিফল তার। হে আমাদের প্রতিপালক যদি আমরা ভুলে যাই অথবা আমাদের ত্রুটি হয় তবে আমাদেরকে পাকড়াও করো না। হে আমাদের প্রতিপালক আমাদের পূর্ববর্তিগণের উপর যেমন গুরু দায়িত্ব অর্পণ করেছিলে আমাদের উপর তেমন দায়িত্ব অর্পণ করবেন না।হে আমাদের প্রতিপালক এমন ভার আমাদের উপর অর্পণ করবেন না যা বহন করার শক্তি আমাদের নেই।আমাদের পাপ মোছন করুন, আমাদেরকে ক্ষমা করুন, আমাদের প্রতি দয়া করুন, আপনিই আমাদের অভিভাবক। সুতরাং কাফির সম্প্রদায়ের উপর আমাদেরকে জয়যুক্ত করুন।

সূরাঃ ৬২ জুমুআ, ২ নং আয়াতের অনুবাদ।
২। তিনিই উম্মীদের মধ্যে একজন রাসুল পাঠিয়েছেন তাদের মধ্য হতে, যে তাদের নিকট আবৃত করে তাঁর আয়াত সমূহ; তাদেরকে পবিত্র করে এবং শিক্ষা দেয় কিতাব ও হিকমত; এর আগে তো এরা ছিল ঘোর বিভ্রান্তিতে।

* ক্ষতি সাধন, কুফুরী ও মুমিনদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে মোনাফেক রাসূল (সা.) ও সাহাবায়ে কেরামের (রা.) নামে মিথ্যা হাদিস প্রচার করায় বিকল্প অনুসরনের উপযোগ সৃষ্টি হয়েছে।কিতাবের সাথে রাসূল (সা.) যে হিকমাতের শিক্ষা দিয়েছেন এটি সে হিকমাতের কথা। এটি ব্যবসায় হিকমাত। যাতে সঠিক দাড়িপাল্লা দিয়ে মাপার কথা বলা হয়েছে, পণ্যের ত্রুটি প্রকাশ করে তা’ বিক্রি করতে বলা হয়েছে এবং ওজনে কম দিতে নিষেধ করা হয়েছে। মিথ্যা হাদিস দ্বারা মোনাফেক রাসূল (সা.) ও সাহাবার সুন্নাতে ঘাটতি সৃষ্টি করায় বিকল্প অনুসরনের উপযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ব্যবসায় হিকমাত হলো সেই হিকমাত যাতে আল্লাহ রাসূলকে (সা.) দক্ষ করে, সেই হিকমাতে দক্ষ হযরত খাদিজার (রা.) সাথে তাঁকে বিয়ে দিয়ে তার পর তাঁকে তাঁর কিতাব প্রদান করেছেন। ব্যবসায় হিকমাতে দক্ষ হযরত ওসমান (রা.) রাসূলের (সা.) প্রতি নাযিল করা কিতাব সংকলন করেছেন।ব্যবসায় হিকমাতে দক্ষ ইমাম আবু হানিফা (র.) আল্লাহর কিতাবের ফিকাহ সংকলন তৈরী করে সেটি শিক্ষার ব্যবস্থা করেছেন। উপযোগ হলো ব্যবসায় হিকমাতের বিধান। এটি হলো কোন কিছুর অভাব পূরণের ক্ষমতা।মিথ্যা হাদিস দ্বারা মোনাফেক হিদায়াতে সমস্যা তৈরী করায় হেদায়াতের উপযোগ কোথায় পাবেন সেটি সন্ধান না করে হিদায়াত ক্ষেত্রে আপনি নিরুপায়। নতুন উপযোগে হিদায়াতের উৎস কি?

সূরা: ৯ তাওবা, ১২২ নং আয়াতের অনুবাদ-
১২২। আর মু’মিনদের এটাও উচিৎ নয় যে (জিহাদের জন্য) সবাই একত্রে বের হয়ে পড়বে। সুতরাং এমন কেন করা হয় না যে, তাদের প্রত্যেক বড় দল হতে এক একটি ছোট দল (জিহাদে) বের হয় যাতে অবশিষ্ট লোক ফিকাহ (দীনের গভীর জ্ঞান) অর্জন করতে থাকে। আর যাতে তারা নিজ কওমকে ভয় প্রদর্শন করে, যাতে তারা সাবধান হয়।

সূরাঃ ৪ নিসা, ৫৯ নং আয়াতের অনুবাদ-
৫৯। হে মুমিনগণ! যদি তোমরা আল্লাহ ও আখিরাতে বিশ্বাস কর তবে তোমরা (ইতায়াত) আনুগত্য কর আল্লাহর, আর (ইতায়াত) আনুগত্য কর রাসুলের, আর যারা তোমাদের মধ্যে আমির।কোন বিষয়ে তোমাদের মধ্যে বিরোধ দেখাদিলে উহা উপস্থাপিত কর আল্লাহ ও রাসুলের নিকট। ওটা উত্তম এবং পরিনামে ভাল।

সূরাঃ ৩৫ ফাতির, ২৮ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৮। এভাবে রং বেরং- এর মানুষ, জন্তু ও আন’আম রয়েছে। নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে (ওলামা) আলেমরাই তাঁকে ভয় করে।নিশ্চয়্ই আল্লাহ পরাক্রমশালী ক্ষমাশীল।

সহিহ মুসলিম, ৪৫৭৬ নং হাদিসের (কিতাবুল ইমারাহ) অনুবাদ-
৪৫৭৬। হযরত জাবির ইবনে সামুরা (রা.)কর্তৃক বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহকে (সা.) বলতে শুনেছি, বারজন খলিফা অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত ইসলাম পরাক্রান্ত অবস্থায় চলতে থাকবে। তারপর তিনি যে কি বললেন, তা’ আমি বুঝতে পারিনি। তখন আমি আমার পিতার নিকট জিজ্ঞাস করলাম তিনি কি বলেছেন? তিনি বললেন নবি করিম (সা.) বলেছেন, তাঁদের সকলেই হবে কোরাইশ বংশোদ্ভুত।

সহিহ সুনানে ইবনে মাজাহ, ২৩০ নং হাদিসের (অবতরনিকা অধ্যায়) অনুবাদ-
২৩০। হযরত যায়েদ ইবনে সাবিত (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি আমার থেকে একটি হাদিস শুনে অতঃপর তা’ অন্যদের কাছে পৌঁছে দেয় আল্লাহ তাকে হাস্যোজ্জল ও আনন্দময় করে দেবেন। কেননা এমন কতক ফিকাহ বাহক রয়েছে, যারা প্রকৃতপক্ষে ফকীহ নয়। কোন কোন ক্ষেত্রে এমনও হয় যে, ফিকাহ শিক্ষাদানকারীর চেয়ে উক্ত বিষয়ের শিক্ষার্থী অধিকতর জ্ঞানী হয়ে থাকে।

* আল্লাহর হিকমাত অনুযায়ী হিদায়াতের নতুন উৎস হলেন ফিকাহ ও আমির সংযুক্ত ওলামা। তাঁরা হলেন ইমাম আবু হানিফা (র.), ইমাম আবু ইউসুফ (র.) ও আমির হারুনুর রশিদ (র.)।যাতে উভয় প্রান্তের সংযোজক ইমাম আবু ইউসুফ (র.) ইমাম আবু হানিফার (র.) ছাত্র ও আমির হারুনুর রশিদের উজির ও তাঁর খেলাফতের প্রধান বিচারপতি।ওলামার এ সেটের অনুসারী দুই তৃতীয়াংশ আলেম। আমার কথা বিশ্বাস না হলে আলেম হিসাবে স্বীকৃত ইমামগণের সংখ্যা গণনা করে দেখতে পারেন।হারুনুর রশিদ আমির কারণ তিনি সবচেয়ে পরাক্রান্ত কুরাইশ খলিফা। ইমাম আবু হানিফা ফকিহ হওয়ার কারণ তাঁর ছাত্র ইমাম আবু ইউসুফ (র.) তাঁর থেকে বেশী জ্ঞানী। কারণ ইমাম আবু হানিফার (র.) খেলাফতের প্রধান বিচারপতি হওয়ার যোগ্যতা থাকলেও তাঁর এ সংক্রান্ত অভিজ্ঞতা ছিল না, কিন্তু ইমাম আবু ইউসুফের (র.)প্রধান বিচারপতি হওয়ার যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা উভয় ছিল। ইমাম আবু ইউসুফ (র.) ফকিহ ছিলেন না কারণ তাঁর কোন ছাত্র তাঁর থেকে বেশী জ্ঞানী ছিল না। ইমাম আবু হানিফা (র.), ইমাম আবু ইউসুফ (র.) ও আমির হারুনুর রশিদ (র.) এর মত ওলামা সেট আর একটিও নাই। সুতরাং আল্লাহর হিকমাত অনুযায়ী হিদায়াতের নতুন উপযোগে ওলামার এ সেটের অনুসারী যারা নয় তারা সুনিশ্চিতভাবে পথভ্রষ্ট। শুধু ইমাম আবু হানিফার (র.) মান্যতায় হিদায়াত নাই, শুধু ইমাম আবু ইউসুফের (র.) মান্যতায় হেদায়াত নাই, শুধু হারুনুর রশিদের মান্যতায় হেদায়াত নাই। তাঁদের সেটের মান্যতা হানাফী মাযহাবের মান্যতায় হেদায়াত আছে। এর বাইরে জাহান্নাম আছে।

সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতাম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে তাঁর পথ হতে বিচ্ছিন্ন করবে। এভাবে আল্লাহ তোমাদেরকে নির্দেশ দিলেন যেন তোমরা সাবধান হও।

সূরাঃ ৪ নিসা, আয়াত নং ১১৫ এর অনুবাদ-
১১৫। কারো নিকট সৎপথ প্রকাশ হওয়ার পর সে যদি রাসুলের বিরুদ্ধাচরণ করে এবং মু’মিনদের পথ ব্যতিত অন্যপথ অনুসরন করে, তবে সে যে দিকে ফিরে যায় সে দিকেই তাকে ফিরিয়ে দেব এবং জাহান্নামে তাকে দগ্ধ করব, আর উহা কত মন্দ আবাস।

* বিভিন্ন পথে হিদায়াত থাকে না হিদায়াত থাকে অভিন্ন পথে যারা বিভিন্ন পথে হেদায়াত থাকার কথা বলে তারা আলেম নয় তারা জাহান্নামী।

সূরাঃ ৩ আলে-ইমরান, ১০৫ নং আয়াতের অনুবাদ-
১০৫। তোমরা তাদের মত হবে না যারা তাদের নিকট সুস্পষ্ট প্রমাণ আসার পর বিচ্ছিন্ন হয়েছে ও নিজেদের মাঝে মতভেদ সৃষ্টি করেছে। তাদের জন্য মহাশাস্তি রয়েছে।

সূরাঃ ২ বাকারা, ২৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৫৩। ঐসব রাসূলদের আমরা তাদের কোন জনের উপর কোন জনকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি। তাদের মধ্যে কোন জনের সঙ্গে আল্লাহ কথা বলেছেন।আর কোন জনকে উচ্চ মর্যাদায় উন্নীত করেছেন। আর আমরা মরিয়ম পুত্র ঈসাকে প্রকাশ্য মুজেযা দান করেছি। আর তাকে পবিত্র আত্মা দ্বারা সাহায্য করেছি।আর আল্লাহ ইচ্ছা করলে নবিগণের পরবর্তী লোকেরা পরস্পরের সঙ্গে যুদ্ধ-বিগ্রহে লিপ্ত হতো না। কিন্তু তারা পরস্পর ইখতিলাফ (মতভেদ) করেছিল।তাতে তাদের কিছু লোক মুমিন এবং কিছু লোক কাফের হয়ে গেল। আল্লাহ ইচ্ছা করলে তারা পরস্পর যুদ্ধ-বিগ্রহে লিপ্ত হতো না। কিন্তু আল্লাহ যা ইচ্ছা তাই করে থাকেন।

সূরাঃ ৬২ জুমুআ, ২ নং থেকে ৪ নং আয়াতের অনুবাদ।
২। তিনিই উম্মীদের মধ্যে একজন রাসুল পাঠিয়েছেন তাদের মধ্য হতে, যে তাদের নিকট আবৃত করে তাঁর আয়াত সমূহ; তাদেরকে পবিত্র করে এবং শিক্ষা দেয় কিতাব ও হিকমাত; এর আগে তো এরা ছিল ঘোর বিভ্রান্তিতে।
৩। আর তাদের অন্যান্যের জন্যও যারা এখনো তাদের সহিত মিলিত হয়নি। আল্লাহ পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময়।
৪। ওটা আল্লাহরই অনুগ্রহ, যাকে ইচ্ছা তিনি ওটা দান করেন। আর আল্লাহ তো মহা অনুগ্রহশীল।

# সূরাঃ ৬২ জুমুআ, ৩ নং আয়াতের তাফসির- তাফসিরে ইবনে কাছির
৩। এ আয়াতের তাফসিরে আবু হুরায়রা হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, একদা আমরা রাসূলুল্লাহর পার্শ্বে বসে ছিলাম, এমন সময় তাঁর উপর সূরা জুমুয়া অবতীর্ণ হয়। জনগণ জিজ্ঞাস করেন হে আল্লাহর রাসূল (সা.)! ‘ওয়া আখারিনা মিনহুম লাম্মা ইয়ালহাকু বিহিম’ দ্বারা কাদেরকে বুঝানো হয়েছে? কিন্তু তিনি কোন উত্তর দিলেন না। তিন বার এ প্রশ্ন করা হয়। আমাদের মধ্যে সালমান ফারসীও (রা.) ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর হাতখানা সালমান ফারসীর (রা.) উপর রেখে বললেন, ঈমান যদি সারিয়্যা নক্ষত্রের নিকট থাকত তাহলেও এই লোকগুলোর মধ্যে এক কিংবা একাধিক ব্যক্তি এটা পেয়ে যেত।(ফাতহুলবারী ৮/৫১০, মুসলিম ৪/১৯৭২, তিরমিযী ৯/২০৯, ১০/৪৩৩, নাসাঈ ৫/৭৫, ৬/৪৯০, তাবারী ২৩/৩৭৫)।

সহিহ বোখারী ৪৯৯ নং হাদিসের (সালাতের ওয়াক্ত সমূহ অধ্যায়) অনুবাদ-
৪৯৯। হযরত যুহুরী (র.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি দামেশকে আনাস ইবনে মালেকের (রা.) নিকট গিয়ে দেখতে পেলাম, তিনি কাঁদছেন। আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কাঁদছেন কেন? তিনি বললেন, আমি যা যা দেখেছি তার মধ্যে এ নামাযই আজ পর্যন্ত অবশিষ্ট ছিল। কিন্তু এখন নামাজও নষ্ট হতে চলেছে।

সহিহ আল বোখারী, ৬৫৭২ নং হাদিসের (কিতাবুল ফিতান)-
৬৫৭২। হযরত ওসামা ইবনে যায়েদ (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নবি করিম (সা.) মদীনার এক সুউচ্চ অট্টালিকার উপর আরোহন করে বললেন, আমি যা কিছু দেখছি, তোমরা কি তা’ দেখছ? তারা বলল, জী না। তিনি বললেন, আমি দেখছি যে, তোমাদের ঘরের ভিতরে বৃষ্টি পাতের ন্যায় ফিতনা পতিত হচ্ছে।

* ফিকাহ সংকলনের অনুপস্থিতি জনিত কারণে রাসূলের (সা.) ইন্তেকালের সময় তাঁর ঘরেই তাঁর সাহাবায়ে কেরাম মতভেদে লিপ্ত হয়েছেন। তারপর তাঁরা পরস্পরের সঙ্গে যুদ্ধ-বিগ্রহে লিপ্ত হয়ে হাজারে হাজারে নিহত হয়েছেন। এসব যুদ্ধে যারা সাহাবা ছিলেন তাঁরা মুমিন থাকলেও অন্যান্যরা কাফের হয়েগেছে।কাফের সংখ্যা অতিমাত্রায় বাড়ায় ইসলাম নষ্ট হয় এবং ঈমান সারিয়্যা নক্ষত্রের নিকট চলে যায়। সেজন্য কারবালায় হযরত ইমাম হোসেন (রা.) তাঁর প্রতিপক্ষে কোন মুমিন খুঁজে পাননি। তারা তাঁর মাথা কেটে ইয়াজিদকে উপহার দিলে মদীনাবাসী এর প্রতিবাদ করে। ইয়াজিদ তখন মদীনাবাসীকে লাঞ্চিত করে। তখন মদীনার ঘর সমূহে বৃষ্টি পাতের ন্যায় ফিতনা পতিত হয়। তারপর পারসিক ইমাম আবু হানিফা (র.) ফিকাহ সংকলন করে এর শিক্ষার ব্যবস্থা করেন। তারপর সবচেয়ে পরাক্রান্ত আব্বাসীয় কুরাইশ খলিফা হারুনুর রশিদ (র.) ইমাম আবু হানিফার (র.) ফিকাহ পরিশোধন করে অনুমোদন করলে দুই তৃতীয়াংশ মুসলিম এর অনুসারী হয়। তখন যারা এর বিরোধীতা করে তাদের বিরোধীতা কোন পরাক্রান্ত কুরাইশ আমির অনুমোদন করেননি বিধায় সে সব বাতিল। শিয়া ইমামগণের কেউ পরাক্রান্ত নয় বিধায় তাদের শিয়া ইসলামী শিয়া নয়।

০১ লা জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:৫০

মহাজাগতিক চিন্তা বলেছেন: পোষ্টটি বুঝতে মন্তব্যটি মনযোগ দিয়ে পড়ুন।

৩| ০১ লা জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:০৬

আলামিন১০৪ বলেছেন: আপনি আমার কথা বুঝেছেন বলে মনি হয় না..

একটা ছোটপ্রশন করি আশা করি উত্তর পাব,,

বলেন তো নামাজ পড়াতে ভিন্নতা কেন আসল? রাসুল (সঃ) কি বিভিন্নভাবে নামায পড়িয়েছে?..

নিজের মনমতো উত্তর দিবেন না...একটু পড়াশুনা করে দিবেন

০১ লা জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:২৯

মহাজাগতিক চিন্তা বলেছেন: রাসূলের (সা) নামাজ বিভিন্ন রকম ছিল না। মোনাফেক মিথ্যা হাদিস প্রচার করে নামাজে ভিন্নতা এনেছে।

৪| ০১ লা জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:১৭

রাজীব নুর বলেছেন: নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানবেন।

০১ লা জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:৩০

মহাজাগতিক চিন্তা বলেছেন: নতুন ইংরেজী, আরবী ও বাংলা বছর আছে। আপনাকে সকল নতুন বছরের শুভেচ্ছা।

৫| ০১ লা জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:০০

আলামিন১০৪ বলেছেন: লেখক বলেছেন: রাসূলের (সা) নামাজ বিভিন্ন রকম ছিল না। মোনাফেক মিথ্যা হাদিস প্রচার করে নামাজে ভিন্নতা এনেছে।

বিস্তারিত প্রমাণসহ দিন। স্পেসিফিক বলেন, নামায সংক্রান্ত কোন কোন হাদিসে কোন বর্ণনাকারী মোনাফেক ছিল আর এতে তার লাভ কি?

০১ লা জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:১৭

মহাজাগতিক চিন্তা বলেছেন: তারা কিভাবে সহিহ ছিল পারলে আপনি সেটা বলুন।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.