নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মানব মঙ্গল আমার একান্ত কাম্য

মহাজাগতিক চিন্তা

একদা সনেট কবি ছিলাম, ফরিদ আহমদ চৌধুরী ছিলাম, এখন সব হারিয়ে মহাচিন্তায় মহাজাগতিক চিন্তা হয়েছি। ভালবাসা চাই ব্লগারদের, দোয়া চাই মডুর।

মহাজাগতিক চিন্তা › বিস্তারিত পোস্টঃ

রাসূলের (সা.) একমাত্র অনুসরনীয় আহলে বাইত তাঁর চাচা হযরত আব্বাস ইবনে আব্দুল মোত্তালিব (রা.)

০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৩




সূরাঃ ৩৩ আহযাব, ৩২ নং ও ৩৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
৩২। হে নবী পত্নিগণ! তোমরা অন্য নারীদের মত নও। যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় কর তবে পর পুরুষের সহিত কোমল কন্ঠে এমনভাবে কথা বলবে না, যাতে অন্তরে যার ব্যাধী আছে, সে প্রলুব্ধ হয়। আর তোমরা ন্যায় সঙ্গত কথা বলবে।
৩৩। আর তোমরা নিজগৃহে অবস্থান করবে এবং প্রচীন যুগের মত নিজদিগকে প্রদর্শন করে বেড়াবে না।তোমরা সালাত কায়েম করবে ও যাকাত প্রদান করবে। আর আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অনুগত থাকবে। হে আহলে বাইত (নবি পরিবার)! নিশ্চয়ই আল্লাহ চান তোমাদের থেকে অপবিত্রতা দূর করতে এবং তোমাদেরকে সম্পূর্ণরূপে পবিত্র করতে।

সূরাঃ ২১ আম্বিয়া, ৭ নং আয়াতের অনুবাদ-
৭। তোমার পূর্বে আমি ওহীসহ পুরুষ পাঠিয়েছিলাম; তোমরা না জানলে আহলে যিকরকে (যিকর সমৃদ্ধ)জিজ্ঞাসা কর।

সূরাঃ ৫ মায়িদা, ৬৭ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬৭। হে রাসূল! তোমার রবের নিকট থেকে তোমার প্রতি যা নাযিল হয়েছে তা’ প্রচার কর। যদি না কর তবে তো তুমি তাঁর রেসালাত প্রচার করলে না। আল্লাহ তোমাকে মানুষ হতে রক্ষা করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ কাফির সম্প্রদায়কে সৎপথে পরিচালিত করেন না।

সূরাঃ ৩ আলে-ইমরান, ২৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৬। বল হে সার্বভৈৗম শক্তির (রাজত্বের) মালিক আল্লাহ! তুমি যাকে ইচ্ছা ক্ষমতা (রাজত্ব) প্রদান কর এবং যার থেকে ইচ্ছা ক্ষমতা (রাজত্ব) কেড়ে নাও। তুমি যাকে ইচ্ছা ইজ্জত দান কর, আর যাকে ইচ্ছা বেইজ্জতি কর।তোমার হাতেই মঙ্গল।নিশ্চয়ই তুমি সকল বিষয়ে সর্বশক্তিমান।

সূরাঃ ২ বাকারা, ১২৪ নং আয়াতের অনুবাদ-
১২৪। আর যখন তোমার প্রতিপালক ইব্রাহীমকে কয়েকটি বাক্য (কালিমাত) দ্বারা পরীক্ষা করেছিলেন, পরে সে তা পূর্ণ করেছিল; তিনি বললেন নিশ্চয়ই আমি তোমাকে মানব জাতির ইমাম বানাব; সে বলেছিল আমার বংশধরগণ হতেও; তিনি বলেছিলেন, আমার প্রতিশ্রুতি জালেমদের প্রতি প্রযোজ্য হবে না।

* অনুসরনীয় করার জন্য আল্লাহ আহলে বাইতকে সম্পূর্ণরূপে পবিত্র করেন। ওহীর বাহক পুরুষ বিধায় অনুসরনীয় আহলে বাইতগণ পুরুষ হবেন। ওহীর বাহকগণের বয়স চল্লিশ বছর হওয়ায় অনুসরনীয় আহলে বাইতগণ চল্লিশ বছর বয়সী হবেন। চল্লিশের কম বয়সী হযরত ইসাকে (আ.) আল্লাহ ওহীর বাহক করে আবার তাঁকে তাঁর কাছে তুলে নিয়েছেন। চল্লিশের বেশী বয়সে আবার তাঁকে পৃথিবীতে মানুষকে পথদেখাতে পাঠানো হবে। রাসূলের (সা.) ইন্তেকালের সময় রাসূলে তাঁর চল্লিশের বেশী বয়সী একমাত্র পুরুষ আহলে বাইত ছিলেন তাঁর চাচা হযরত আব্বাস ইবনে আব্দুল মোত্তালিব (রা.)। রাসূলের (সা.) ইন্তেকালের পর তিনি একুশ বছর বেঁচে ছিলেন। মুসলিমদের মাঝে তিনি কোন বিভেদ সৃষ্টি করেননি।আল্লাহ তাঁকে মানুষ থেকে রক্ষা করেছেন।তাঁর বংশধরগণকে আল্লাহ প্রায় সাড়ে সাতশত বছর মুসলিম বিশ্বের রাজত্ব প্রদান করেন। তার আগে খোলাফায়ে রাশেদার খেলাফত ছিল ত্রিশ বছর। উমাইয়া রাজত্ব ছিল নব্বই বছর। প্রায় দেড় কোটি বর্গ কিলোমিটারের এবং প্রায় সাড়ে সাতশত বছরের এত্তবড় রাজত্ব ইব্রাহীম (আ.) বংশিয় আর কোন পক্ষ পায়নি।

সূরাঃ ৩ আলে-ইমরান, ১০৫ নং আয়াতের অনুবাদ-
১০৫। তোমরা তাদের মত হবে না যারা তাদের নিকট সুস্পষ্ট প্রমাণ আসার পর বিচ্ছিন্ন হয়েছে ও নিজেদের মাঝে মতভেদ সৃষ্টি করেছে। তাদের জন্য মহাশাস্তি রয়েছে।

সূরাঃ ২ বাকারা, ২৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৫৩। ঐসব রাসূলদের আমরা তাদের কোন জনের উপর কোন জনকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি। তাদের মধ্যে কোন জনের সঙ্গে আল্লাহ কথা বলেছেন।আর কোন জনকে উচ্চ মর্যাদায় উন্নীত করেছেন। আর আমরা মরিয়ম পুত্র ঈসাকে প্রকাশ্য মুজেযা দান করেছি। আর তাকে পবিত্র আত্মা দ্বারা সাহায্য করেছি।আর আল্লাহ ইচ্ছা করলে নবিগণের পরবর্তী লোকেরা পরস্পরের সঙ্গে যুদ্ধ-বিগ্রহে লিপ্ত হতো না। কিন্তু তারা পরস্পর ইখতিলাফ (মতভেদ) করেছিল।তাতে তাদের কিছু লোক মুমিন এবং কিছু লোক কাফের হয়ে গেল। আল্লাহ ইচ্ছা করলে তারা পরস্পর যুদ্ধ-বিগ্রহে লিপ্ত হতো না। কিন্তু আল্লাহ যা ইচ্ছা তাই করে থাকেন।

সূরাঃ ৩৫ ফাতির, ১ নং আয়াতের অনুবাদ-
১।প্রশংসা আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর, যিনি বার্তাবাহক করেন মালাইকাকে (ফেরেশতা) যারা দুই-দুই, তিন-তিন অথবা চার-চার পাখা বিশিষ্ট। তিনি তাঁর সৃষ্টিতে যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন। আল্লাহ সর্ব বিষয়ে সর্ব শক্তিমান।

* রাসূলের (সা.) অন্য আহলে বাইতের মধ্যে পুরুষ আহলে বাইত হযরত আলী (রা.) রাসূলের (সা.) ইন্তেকালের সময় তেত্রিশ বছর বয়সী ছিলেন। মুসলিমদের তিনটি দল তাঁর সাথে মতভেদ এবং যুদ্ধেলিপ্ত হয়। অবশেষে খারেজীরা তাঁকে হত্যা করে। আল্লাহ মানুষ হতে তাঁকে রক্ষা করেননি। তাঁর পুত্র হযরত ইমাম হাসানকে (রা.) তাঁর স্ত্রী হত্যা করে। কারবালায় তাঁর পুত্র হযরত হোসেনের (রা.) মাথা কেটে ইয়াজিদের লোকেরা তাকে উপহার দেয়। ফেরেশতার বদলে হোসেনী ব্রাহ্মণ ইমামের পক্ষে যুদ্ধ করে তাঁকে রক্ষা করতে পারেনি। এরপর হযরত আলী (রা.) বংশের ইমামগণ হত্যাকান্ডের শিকার হতে থাকেন। ইদানিং হযরত আলী (রা.) বংশের ইমাম আলী খামেনীকে হত্যা করে ইসরায়েল।ইমাম আলী খামেনীর দেশ ইরানের পক্ষে ফেরেশতা যুদ্ধ করছে না। তারা আযানেই অন্য মুসলিমদের সাথে মতভেদ ও বিভেদে লিপ্ত হয়েছে।

সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতাম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে তাঁর পথ হতে বিচ্ছিন্ন করবে। এভাবে আল্লাহ তোমাদেরকে নির্দেশ দিলেন যেন তোমরা সাবধান হও।

সূরাঃ ৬ আনআম, আয়াত নং ১৫৯ এর অনুবাদ-
১৫৯। যারা দ্বীন সম্বন্ধে নানা মতের সৃষ্টি করেছে এবং বিভিন্ন শিয়ায় (দল) বিভক্ত হয়েছে তাদের কোন দায়িত্ব তোমার নয়। তাদের ব্যবস্থ্যা করার দায়িত্ব আল্লাহর।আল্লাহ তাদেরকে তাদের কাজ সম্পর্কে জানিয়ে দিবেন।

সূরাঃ ২ বাকারা, ২৮৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৮৬। আল্লাহ কারো উপর এমন কোন কষ্ট দায়ক দায়িত্ব অর্পণ করেন না যা তার সাধ্যাতীত।সে ভাল যা উপার্জন করে তার প্রতিফল তার। সে মন্দ যা উপার্জন করে তার প্রতিফল তার। হে আমাদের প্রতিপালক যদি আমরা ভুলে যাই অথবা আমাদের ত্রুটি হয় তবে আমাদেরকে পাকড়াও করো না। হে আমাদের প্রতিপালক আমাদের পূর্ববর্তিগণের উপর যেমন গুরু দায়িত্ব অর্পণ করেছিলে আমাদের উপর তেমন দায়িত্ব অর্পণ করবেন না।হে আমাদের প্রতিপালক এমন ভার আমাদের উপর অর্পণ করবেন না যা বহন করার শক্তি আমাদের নেই।আমাদের পাপ মোছন করুন, আমাদেরকে ক্ষমা করুন, আমাদের প্রতি দয়া করুন, আপনিই আমাদের অভিভাবক। সুতরাং কাফির সম্প্রদায়ের উপর আমাদেরকে জয়যুক্ত করুন।

* আল্লাহর পথ হলো অভিন্ন পথ। বিভিন্ন পথ অনুসরনে তাঁর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কিন্তু হযরত আলী (রা.) পক্ষের আহলে বাইত বিভিন্ন শিয়ায় বিভক্ত হয়েছে ।তাদের কোন দায়িত্ব রাসূলের (সা.) নয়। তাদের ব্যবস্থ্যা করার দায়িত্ব আল্লাহর।আল্লাহ তাদেরকে তাদের কাজ সম্পর্কে জানিয়ে দিবেন।ঘটনা হলো মতভেদ করা যেমন অপরাধ, তেমনি মতভেদ নিরসনে কাজ না করাও অপরাধ।সেই অপরাধে জামায়াত নেতাগণকে আল্লাহ মানুষ থেকে রক্ষা করেননি। হযরত আলীর (রা.) আহলে বাইত সৈয়দ আব্বদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, সৈয়দ বাহাদুর শাহ ও সৈয়দ রেজাউল করিম ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারেননি। আহলে বাইত এত্ত দলে বিভক্ত হলে মানুষের পক্ষে তাদের অনুসারী হওয়া অসম্ভব। আহলে বাইতগণের মতভেদের অপরাধের কারণে মুসলমানগণ বিশৃঙ্খল অবস্থায় অমুসলিমদের হাতে মার খাচ্ছে।

সূরাঃ ৩ আলে-ইমরান, ১০৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১০৩। তোমরা একত্রে আল্লাহর রজ্জু দৃঢ়ভাবে ধর! আর বিচ্ছিন্ন হবে না। তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ স্মরণ কর।যখন তোমরা শত্রু ছিলে তখন তিনি তোমাদের অন্তরে প্রীতি সঞ্চার করেছেন, ফলে তাঁর দয়ায় তোমরা পরস্পর ভাই হয়ে গেলে।তোমরাতো অগ্নি কুন্ডের প্রান্তে ছিলে, আল্লাহ উহা হতে তোমাদেরকে রক্ষা করেছেন। এভাবে আল্লাহ তোমাদের জন্য তাঁর নিদর্শনসমূহ স্পষ্টভাবে বিবৃতকরেন যাতে তোমরা সৎপথ পেতে পার।

সূরাঃ ৪ নিসা, আয়াত নং ১১৫ এর অনুবাদ-
১১৫। কারো নিকট সৎপথ প্রকাশ হওয়ার পর সে যদি রাসুলের বিরুদ্ধাচরণ করে এবং মু’মিনদের পথ ব্যতিত অন্যপথ অনুসরন করে, তবে সে যে দিকে ফিরে যায় সে দিকেই তাকে ফিরিয়ে দেব এবং জাহান্নামে তাকে দগ্ধ করব, আর উহা কত মন্দ আবাস।

* আব্বাসী এ কাফের ও কাফের বললে তো হবে না। মুসলমানদেরকে ঐক্যবদ্ধ করার যথাযথ চেষ্টা না করলে আল্লাহ তাঁর ফতোয়াগিরি ছুটিয়ে দিতে পারেন। এমনকি তাঁকে জাহান্নামেও নিক্ষেপ করতে পারেন। তারপর তো বলবেন আমি যাদেরকে কাফের বললাম তাদের সাথে আমিও কেন জাহান্নামে? সুতরাং মরার আগেই যার যা করার সেটা করে জান্নাত্তের ব্যবস্থা করতে হবে।

মন্তব্য ৬ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (৬) মন্তব্য লিখুন

১| ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৬:৪৬

মহাজাগতিক চিন্তা বলেছেন:



আল্লাহর সুন্নাতের সাথে আল্লাহ চুল পরিমাণ মতভেদ সহ্য করেন না

সূরাঃ ৩৫ ফাতির, ৪৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
৪৩। পৃথিবীতে অহংকার প্রকাশ এবং কূট ষড়যন্ত্রের কারণে (অকল্যাণ)।কূট ষড়যন্ত্র এর আহলকে(এর সাথে সংযুক্ত সকল ব্যক্তি) পরিবেষ্ঠন করে। তবে কি এরা অপেক্ষা করছে পূর্ববর্তীদের সুন্নতের? কিন্তু তুমি আল্লাহর সুন্নাতে কখনও কোন পরিবর্তন পাবে না এবং আল্লাহর সুন্নতে কোন ব্যতিক্রমও দেখবে না।

সূরাঃ ২, বাকারা। ১০৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
১০৬। আমরা কোন আয়াত মানসুখ বা রহিত করলে অথবা ভুলে যেতে দিলে তা’হতে উত্তম বা তার সমতুল্য কোন আয়াত আমরা প্রদান করে থাকি।তুমি কি জান না যে আল্লাহ সর্ব বিষয়ে সর্ব শক্তিমান।

সূরা: ৪৫ জাছিয়া, ৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬। এগুলি আল্লাহর আয়াত, যা আমি তোমার নিকট যথাযথভাবে তিলাওয়াত করছি। সুতরাং আল্লাহর এবং তাঁর আয়াতের পরিবর্তে তারা কোন হাদিসে বিশ্বাস করবে?

সূরাঃ ৪৮ ফাতহ, ২৯ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৯। মোহাম্মাদ আল্লাহর রাসুল; তাঁর সহচরগণ কাফিরদের প্রতি কঠোর এবং নিজেদের মধ্যে পরস্পরের প্রতি সহানুভূতিশীল; আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি কামনায় তুমি তাদেরকে রুকু ও সিজদায় অবনত দেখবে।তাদের লক্ষণ তাদের মুখমন্ডলে সিজদার প্রভাব পরিস্ফুট থাকবে: তওরাতে তাদের বর্ণনা এরূপ এবং ইঞ্জিলেও তাদের বর্ণনা এরূপই। তাদের দৃষ্টান্ত একটি চারা গাছ, যা থেকে নির্গত হয় নতুন পাতা, অতঃপর ইহা শক্ত ও পুষ্ট হয় এবং পরে কান্ডের উপর দাঁড়ায় দৃঢ়ভাবে যা চাষীদের জন্য আনন্দ দায়ক। এভাবে মুমিনদের সমৃদ্ধি দ্বারা আল্লাহ কাফিরদের অন্তর্জালা সৃষ্টি করেন। যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে আল্লাহ তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ক্ষমা ও মহাপুরস্কারের।

সূরাঃ ৮ আনফাল, ৬৭ থেকে ৬৯ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬৭।দেশে ব্যাপকভাবে শত্রুকে পরাভূত না করা পর্যন্ত বন্দী রাখা কোন নবির উচিত নয়। তোমরা পার্থিব সম্পদ কামনা কর। আল্লাহ চান পরকালের কল্যাণ। আল্লাহ পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময়।
৬৮। আল্লাহর পূর্ব বিধান না থাকলে তোমরা যা গ্রহণ করেছ সেজন্য তোমরা মহাশাস্তিতে আক্রান্ত হতে।
৬৯। যুদ্ধে যা লাভ করেছ তা’ বৈধ ও উত্তম বলে ভোগ কর। আর আল্লাহকে ভয় কর, আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়ালু।

* আল্লাহর সুন্নাতে পরিবর্তন ও ব্যতিক্রম না থাকায় আল্লাহর সুন্নাতের পরিবর্তে আয়াত মানসুখ ও হাদিস বাতিল। আল্লাহর পূর্ব বিধান রাসূল (সা.) ও সাহাবার (রা.) প্রতি ক্ষমা ও মহাপুরস্কার থাকায় বদর বন্দী বিষয়ে আল্লাহর সুন্নাত লংঘিত হলেও তাঁরা মহাশাস্তিতে আক্রান্ত হওয়া থেকে রক্ষা পেয়েছেন।

সূরাঃ ৩ আলে-ইমরান, ১০৫ নং আয়াতের অনুবাদ-
১০৫। তোমরা তাদের মত হবে না যারা তাদের নিকট সুস্পষ্ট প্রমাণ আসার পর বিচ্ছিন্ন হয়েছে ও নিজেদের মাঝে মতভেদ সৃষ্টি করেছে। তাদের জন্য মহাশাস্তি রয়েছে।

সূরাঃ ২ বাকারা, ২৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৫৩। ঐসব রাসূলদের আমরা তাদের কোন জনের উপর কোন জনকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি। তাদের মধ্যে কোন জনের সঙ্গে আল্লাহ কথা বলেছেন।আর কোন জনকে উচ্চ মর্যাদায় উন্নীত করেছেন। আর আমরা মরিয়ম পুত্র ঈসাকে প্রকাশ্য মুজেযা দান করেছি। আর তাকে পবিত্র আত্মা দ্বারা সাহায্য করেছি।আর আল্লাহ ইচ্ছা করলে নবিগণের পরবর্তী লোকেরা পরস্পরের সঙ্গে যুদ্ধ-বিগ্রহে লিপ্ত হতো না। কিন্তু তারা পরস্পর ইখতিলাফ (মতভেদ) করেছিল।তাতে তাদের কিছু লোক মুমিন এবং কিছু লোক কাফের হয়ে গেল। আল্লাহ ইচ্ছা করলে তারা পরস্পর যুদ্ধ-বিগ্রহে লিপ্ত হতো না। কিন্তু আল্লাহ যা ইচ্ছা তাই করে থাকেন।

সূরাঃ ৪ নিসা, আয়াত নং ১১৫ এর অনুবাদ-
১১৫। কারো নিকট সৎপথ প্রকাশ হওয়ার পর সে যদি রাসুলের বিরুদ্ধাচরণ করে এবং মু’মিনদের পথ ব্যতিত অন্যপথ অনুসরন করে, তবে সে যে দিকে ফিরে যায় সে দিকেই তাকে ফিরিয়ে দেব এবং জাহান্নামে তাকে দগ্ধ করব, আর উহা কত মন্দ আবাস।

* আল্লাহর সুন্নাতের সাথে আল্লাহ একচুল পরিমাণ মতভেদ সহ্য করেন না। এরজন্য মহাশাস্তি রয়েছে।আর সেই মহাশাস্তি হলো জাহান্নাম। ক্ষমা ও মহাপুরস্কারের ঘোষণা থাকায় মতভেদের কারণে রাসূল (সা.) ও সাহাবায়ে কেরামের (রা.) ঈমান ক্ষাতগ্রস্থ্য হয়নি। তথাপি তাঁরা পরস্পরের সঙ্গে যুদ্ধ-বিগ্রহে লিপ্ত হয়ে হাজারে হাজারে নিহত হয়েছেন। এসব যুদ্ধে সাহাবা মুমিন থাকলেও অসাহাবা কাফের হয়ে গেছে। এভাবে কুফুরী বাড়তে থাকায় কারবালায় হযরত ইমাম হোসেন (রা.) তাঁর প্রতিপক্ষে কোন মুমিন খুঁজে পাননি। তাঁরা ইমামের মাথা কেটে ইয়াজিদকে উপহার দেয়।আল্লাহর সুন্নাত কি?

সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতাম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে তাঁর পথ হতে বিচ্ছিন্ন করবে। এভাবে আল্লাহ তোমাদেরকে নির্দেশ দিলেন যেন তোমরা সাবধান হও।

সূরা: ৯ তাওবা, ১২২ নং আয়াতের অনুবাদ-
১২২। আর মু’মিনদের এটাও উচিৎ নয় যে (জিহাদের জন্য) সবাই একত্রে বের হয়ে পড়বে। সুতরাং এমন কেন করা হয় না যে, তাদের প্রত্যেক বড় দল হতে এক একটি ছোট দল (জিহাদে) বের হয় যাতে অবশিষ্ট লোক ফিকাহ (দীনের গভীর জ্ঞান) অর্জন করতে থাকে। আর যাতে তারা নিজ কওমকে ভয় প্রদর্শন করে, যাতে তারা সাবধান হয়।

সূরাঃ ৫ মায়িদা, ৬৭ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬৭। হে রাসূল! তোমার রবের নিকট থেকে তোমার প্রতি যা নাযিল হয়েছে তা’ প্রচার কর। যদি না কর তবে তো তুমি তাঁর রেসালাত প্রচার করলে না। আল্লাহ তোমাকে মানুষ হতে রক্ষা করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ কাফির সম্প্রদায়কে সৎপথে পরিচালিত করেন না।

সূরাঃ ৩৫ ফাতির, ১ নং আয়াতের অনুবাদ-
১।প্রশংসা আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর, যিনি বার্তাবাহক করেন মালাইকাকে (ফেরেশতা) যারা দুই-দুই, তিন-তিন অথবা চার-চার পাখা বিশিষ্ট। তিনি তাঁর সৃষ্টিতে যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন। আল্লাহ সর্ব বিষয়ে সর্ব শক্তিমান।

সূরাঃ ৩ আলে-ইমরান, ১০৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১০৩। তোমরা একত্রে আল্লাহর রজ্জু দৃঢ়ভাবে ধর! আর বিচ্ছিন্ন হবে না। তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ স্মরণ কর।যখন তোমরা শত্রু ছিলে তখন তিনি তোমাদের অন্তরে প্রীতি সঞ্চার করেছেন, ফলে তাঁর দয়ায় তোমরা পরস্পর ভাই হয়ে গেলে।তোমরাতো অগ্নি কুন্ডের প্রান্তে ছিলে, আল্লাহ উহা হতে তোমাদেরকে রক্ষা করেছেন। এভাবে আল্লাহ তোমাদের জন্য তাঁর নিদর্শনসমূহ স্পষ্টভাবে বিবৃতকরেন যাতে তোমরা সৎপথ পেতে পার।

* আল্লাহর সুন্নাত অভিন্ন ফিকাহ। এটির ব্যাপক শিক্ষার ব্যবস্থা না করায় রাসূল (সা.) ইন্তেকালের সময় নিজ গৃহে তাঁর সাহাবায়ে কেরামের (রা.) মাঝে ফিতনা দেখেছেন। তাঁর ইন্তেকালের পর তাঁর সাহাবায়ে কেরাম (রা.) একশত বছর মহাফিতনায় ডুবে ছিলেন। বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলাম দলে অভিন্ন ফিকাহ চালু না করায় এবং দেশে অভিন্ন ফিকাহ শিক্ষার ব্যবস্থা না করায় মানুষের প্রবল ঘৃণায় আক্রান্ত হয়। আল্লাহ তাদের নেতাদেরকে হত্যাকান্ড থেকে রক্ষা করেননি। ভবিষ্যতে দক্ষিণ এশিয়ায় মুসলিম জাতি গণহত্যার শিকার হতে পারে। ইদানিং গাজায় গণহত্যা হয়েছে, এখন ইরানে গণহত্যা হচ্ছে।কোথাও আল্লাহ তাদেরকে ফেরেশতা দিয়ে তাদেরকে মানুষ থেকে রক্ষা করছেন না। মতভেদ নিরসনে কাজ না করলে অভিন্ন ফিকাহের অনুসারীরাও আল্লাহর শাস্তি থেকে রেহাই পায় না। বিপদ থেকে আত্মরক্ষায় মুসলিম জাতির কাজ হলো নিজেদের মতভেদ নিরসন করে নিজেদের মধ্যে অভিন্ন ফিকাহ চালু করা এবং অভিন্ন ফিকাহের ব্যাপক শিক্ষার ব্যবস্থা করা। এর জন্য প্রতিটি মসজিদে অভিন্ন ফিকাহ শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা জরুরী। আল্লাহ ঐক্যের কথা বললেও মুসলমানের নামাজেই ঐক্য নাই। কোনটা নাভীর নীচে হাত বাঁধেম কোনটা বুকে হাত বাঁধে এবং কোনটা হাত বাঁধে না। একদল অসভ্য সহিহ সহিহ বলে সহিহ মতভেদ সৃষ্টি করে। অথচ অভিন্ন ফিকাহের পরিবর্তে আয়াতই মানসুখ, সেখানে সহিহ হাদিস অনেক দূরের গল্প। কোনটি অভিন্ন ফিকাহ?

সূরাঃ ৬২ জুমুআ, ২ নং থেকে ৪ নং আয়াতের অনুবাদ।
২। তিনিই উম্মীদের মধ্যে একজন রাসুল পাঠিয়েছেন তাদের মধ্য হতে, যে তাদের নিকট আবৃত করে তাঁর আয়াত সমূহ; তাদেরকে পবিত্র করে এবং শিক্ষা দেয় কিতাব ও হিকমাত; এর আগে তো এরা ছিল ঘোর বিভ্রান্তিতে।
৩। আর তাদের আখারিনের (অন্যান্য) জন্যও যারা এখনো তাদের সহিত মিলিত হয়নি। আল্লাহ পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময়।
৪। ওটা আল্লাহরই অনুগ্রহ, যাকে ইচ্ছা তিনি ওটা দান করেন। আর আল্লাহ তো মহা অনুগ্রহশীল।

সূরাঃ ৪৮ ফাতহ, ২৮ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৮। তিনিই তাঁর রাসূলকে হেদায়াত ও দীনেহক (সত্যদীন) সহ প্রেরণ করেছেন অপর সমস্ত দীনের উপর ইহাকে জয়যুক্ত করার জন্য। আর সাক্ষী হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট।

সূরাঃ ২ বাকারা, ১২৪ নং আয়াতের অনুবাদ-
১২৪। আর যখন তোমার প্রতিপালক ইব্রাহীমকে কয়েকটি বাক্য (কালিমাত) দ্বারা পরীক্ষা করেছিলেন, পরে সে তা পূর্ণ করেছিল; তিনি বললেন নিশ্চয়ই আমি তোমাকে মানব জাতির ইমাম বানাব; সে বলেছিল আমার বংশধরগণ হতেও; তিনি বলেছিলেন, আমার প্রতিশ্রুতি জালেমদের প্রতি প্রযোজ্য হবে না।

সূরাঃ ৪ নিসা, ৫৯ নং আয়াতের অনুবাদ-
৫৯। হে মুমিনগণ! যদি তোমরা আল্লাহ ও আখিরাতে বিশ্বাস কর তবে তোমরা (ইতায়াত) আনুগত্য কর আল্লাহর, আর (ইতায়াত) আনুগত্য কর রাসুলের, আর যারা তোমাদের মধ্যে আমির।কোন বিষয়ে তোমাদের মধ্যে বিরোধ দেখাদিলে উহা উপস্থাপিত কর আল্লাহ ও রাসুলের নিকট। ওটা উত্তম এবং পরিনামে ভাল।

* রাসূলের (সা.) সময় অভিন্ন ফিকাহ অলিখিত ছিল। ইমাম আবু হানিফার (রা.) নেতৃত্বে আখারিনের শুরায় এটি সংকলিত হয়। ইব্রাহীম বংশিয় মুসলিম বিশ্ব আমির খলিফা হারুনের শুরায় এটি পরিশোধীত হয়ে আমির কর্তৃক অনুমোদীত হলে দুই তৃতীয়াংশ মুসলিম কর্তৃক গৃহিত হয়। এর সাথে মতভেদ ইহকালে ফিতনা এবং পরকালে জাহান্নাম। লোকেরা যে হাদিস ও তাফসির প্রচার করছে এসব অভিন্ন নয় এবং অন্য সকল ফিকাহ কোন মুসলিম বিশ্ব আমির অনুমোদীত নয় সেজন্য হানাফী মাযহাবের পরিবর্তে এসব কিছু সুনিশ্চিতভাবেই বাতিল। তথাপি মুসলমানের হুঁস না হলে সামনে তাদের জন্য আছে পারমাণবিক বোমা। এর হাত থেকে তাদের রেহাই পাওয়ার কোন শক্তি নাই। অভিন্ন ফিকাহ সংক্রান্ত দায়িত্ব পালন করলে আল্লাহ তাদের রক্ষার ব্যবস্থা করতে পারে। ইদানিং তারা আল্লাহ থেকে অমুসলিমদেরকে বেশী ভয় পাচ্ছে। অমুসলিমদের গোলাম না হয়ে থাকলে তাদের ইহকাল নাই এবং অমুসলিমদের গোলাম হয়ে থাকলে তাদের পরকাল নাই। মুসলিম জাতি এখন উভয় সংকটে আছে। এর একমাত্র সমাধান মতভেদ নিরসন করে অভিন্ন ফিকাহ অনুযায়ী আল্লাহর অভিন্ন পথে চলা।

০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:৫২

মহাজাগতিক চিন্তা বলেছেন: আলাদা পোষ্ট না দিয়ে পোষ্টটি মন্তব্য আকারে প্রেজেন্ট করলাম।

২| ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:১৬

রাজীব নুর বলেছেন: ধর্মীয় বিষয় গুলো মানুষের অনীহা বেশি।

০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৪

মহাজাগতিক চিন্তা বলেছেন: অখন্ড ভারত ও ইসরায়েল গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। এতে রাজীব নুর স্বপরিবারে মারা যেতে পারে।

৩| ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:৩১

রানার ব্লগ বলেছেন: রাজীব নুরের প্রতিবাদ করা উচিৎ ।

লেখক যেহারে কপি পেস্ট মেরে ব্লগ চালাচ্ছেন এতে কেবল কেনো রাজীব নুর একাই আপমানিত হবেন।

০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৫

মহাজাগতিক চিন্তা বলেছেন: আমার পোষ্ট কপি-পেষ্ট মনে করা আপনার ভুল ধারণা।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.