নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মানব মঙ্গল আমার একান্ত কাম্য

মহাজাগতিক চিন্তা

একদা সনেট কবি ছিলাম, ফরিদ আহমদ চৌধুরী ছিলাম, এখন সব হারিয়ে মহাচিন্তায় মহাজাগতিক চিন্তা হয়েছি। ভালবাসা চাই ব্লগারদের, দোয়া চাই মডুর।

মহাজাগতিক চিন্তা › বিস্তারিত পোস্টঃ

হযরত আলী (রা.) ও হযরত মুয়াবিয়ার (রা.) যুদ্ধে আল্লাহ হযরত মুয়াবিয়ার (রা.) পক্ষে ছিলেন

১৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১:০৬



সূরাঃ ৫ মায়িদা, ৬৭ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬৭। হে রাসূল! তোমার রবের নিকট থেকে তোমার প্রতি যা নাযিল হয়েছে তা’ প্রচার কর। যদি না কর তবে তো তুমি তাঁর রেসালাত প্রচার করলে না। আল্লাহ তোমাকে মানুষ হতে রক্ষা করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ কাফির সম্প্রদায়কে সৎপথে পরিচালিত করেন না।

# হযরত আলী (রা.) ও হযরত মুয়াবিয়ার (রা.) যুদ্ধে বিরক্ত খারেজী তাঁদের উভয়কে হত্যার চেষ্টা করলো। তখন আল্লাহ খারেজী হত্যা চেষ্টাকারীরর হাত থেকে হযরত মুয়াবিয়াকে (রা.) রক্ষা করলেন। কিন্তু আল্লাহ খারেজী হত্যা চেষ্টাকারীরর হাত থেকে হযরত আলীকে (রা.) করলেন না। উক্ত ঘটনা প্রমাণ করে হযরত আলী (রা.) ও হযরত মুয়াবিয়ার (রা.) যুদ্ধে আল্লাহ হযরত মুয়াবিয়ার (রা.) পক্ষে ছিলেন।

সূরাঃ ২ বাকারা, ১২৪ নং আয়াতের অনুবাদ-
১২৪। আর যখন তোমার প্রতিপালক ইব্রাহীমকে কয়েকটি বাক্য (কালিমাত) দ্বারা পরীক্ষা করেছিলেন, পরে সে তা পূর্ণ করেছিল; তিনি বললেন নিশ্চয়ই আমি তোমাকে মানব জাতির ইমাম বানাব; সে বলেছিল আমার বংশধরগণ হতেও; তিনি বলেছিলেন, আমার প্রতিশ্রুতি জালেমদের প্রতি প্রযোজ্য হবে না।

সূরাঃ ৩ আলে-ইমরান, ২৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৬। বল হে সার্বভৈৗম শক্তির (রাজত্বের) মালিক আল্লাহ! তুমি যাকে ইচ্ছা ক্ষমতা (রাজত্ব) প্রদান কর এবং যার থেকে ইচ্ছা ক্ষমতা (রাজত্ব) কেড়ে নাও। তুমি যাকে ইচ্ছা ইজ্জত দান কর, আর যাকে ইচ্ছা বেইজ্জতি কর।তোমার হাতেই মঙ্গল।নিশ্চয়ই তুমি সকল বিষয়ে সর্বশক্তিমান।

# ইব্রাহিম (আ.) বংশিয় হযরত মুয়াবিয়া (রা.) ও তাঁর সহযোগী মারওয়ান এবং তাঁদের বংশে আল্লাহ নব্বই বছর মুসলিম বিশ্বের রাজত্ব প্রদান করেন। ইব্রাহিম (আ.) বংশিয় হযরত আলী (রা.) ও তাঁর পুত্র হযরত ইমাম হাসান (রা.) ছয় বছর মুসলিম বিশ্বের খেলাফত প্রাপ্ত হন। হযরত আলী (রা.), তাঁর পরিবারের সদস্য, তাঁর বংশ ও সহযোগীদের ক্ষেত্রে হারাজ বা হত্যাকান্ডের ঘটনা চলমান আছে। ইদানিং তাঁর বংশের ইমাম আলী খামেনী হত্যাকান্ডের শিকার হন। উল্টা ইব্রাহিম (আ.) বংশিয় হযরত মুয়াবিয়া (রা.) ও তাঁর সহযোগী মারওয়ান এবং তাঁদের বংশ নব্বই বছরের রাজত্ব পায়। তারা মুসলিম রাজত্বকে বিস্তৃত ও শক্তিশালী করে। উক্ত ঘটনা প্রমাণ করে হযরত আলী (রা.) ও হযরত মুয়াবিয়ার (রা.) যুদ্ধে আল্লাহ হযরত মুয়াবিয়ার (রা.) পক্ষে ছিলেন।

সূরাঃ ৯ তাওবা, ৬০ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬০। সদকা বা যাকাত ফকির, মিসকিন, এর কর্মচারী, (মোয়াল্লেফাতে কুলুব) অন্তর আকৃষ্ট,দাসমুক্তি, ঋণ পরিশোধ, আল্লাহর পথে ও মুসাফিরের জন্য। এটা আল্লাহর বিধান। আল্লাহ সর্বজ্ঞ সুবিজ্ঞ।

সূরাঃ ১১০ নাসর, ১ ও ২ নং আয়াতের অনুবাদ-
১। যখন আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় আসবে।
২। আর তুমি মানুষকে দলে দলে আল্লাহর দীনে প্রবেশ করতে দেখবে।

সূরাঃ ৩ আলে-ইমরান, ১৩৯ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৩৯। তোমরা হীন বল হবে না এবং দুঃখিত হবে না। তোমরাই বিজয়ী যদি তোমরা মুমিন হও।

# মোয়াল্লেফাতে কুলুব (অন্তর আকৃষ্ট) যাকাতের ব্যয়ের খাত। হযরত মুয়াবিয়া (রা.) ছিলেন মোয়াল্লেফাতে কুলুবের সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তি। হুনায়নের যুদ্ধের গণিমতের মাল থেকে রাসূল (সা.) তাঁকে একশত উট উপহার দিয়েছেন। তাঁকে ওহী লেখক পদে নিয়োগ দিয়েছেন। এ ঘটনা হযরত আলীর (রা.) মাওলা হওয়ার পূর্বের ঘটনা। মোয়াল্লেফাতে কুলুব সেই ব্যক্তি যিনি পক্ষে থাকলে অনেক উপকার এবং যিনি বিপক্ষে থাকলে অনেক ক্ষতি। মক্কার রাজপুত্র হযরত মুয়াবিয়া (রা.) খালেদ ইবনুল ওলিদ (রা.), আমর ইবনুল আস (রা.), মুগিরা ইবনে শোবা (রা.) ও ওসমান বিন তালহাকে (রা.) সাথে নিয়ে ইসলাম গ্রহণ করেন। খালেদ সাইফুল্লা খেতাব পান যা হযরত আলীর (রা.) আসাদুল্লা খেতাব থেকে বড়। হযরত মুয়াবিয়া (রা.) ও তাঁর সাথীদের ইসলাম গ্রহণে মক্কা হীন বল হয়। তখন হযরত মুয়াবিয়ার (রা.) সাথী প্রবল খালেদ সাইফুল্লা (রা.) মক্কা জয় করেন। তখন মানুষ দলে দলে আল্লাহর দীনে প্রবেশ করে। কিন্তু হযরত আলীর খায়বর বিজয়ে মানুষ দলে দলে আল্লাহর দীনে প্রবেশ করেনি। সুতরাং হযরত মুয়াবিয়া (রা.) ও তাঁর সাথীদের ইসলামে অবদান বেশী।

হযরত মুয়াবিয়া (রা.) ও তাঁর সাথীগণ কখনও হীনবল হননি।তাঁরা সব সময় বিজয়ী ছিলেন। কিন্তু হযরত আলী (রা.) এবং তাঁর সহযোগী মালেক উশতার ও হযরত আবু বকরের (রা,) ছেলে মোহাম্মদ হারাজ বা হত্যাকান্ডের শিকার হন। একপক্ষকে আল্লাহ রক্ষাকরে সবসময় বিজয়ী করলেন। হযরত মুয়াবিয়াকেও (রা.) হযরত আলী (রা.) হারাতে পারলেন না। কিন্তু হযরত আলী (রা.) ও তাঁর দুই সহযোগীকে আল্লাহ রক্ষা করলেন না। উক্ত ঘটনা সমূহ প্রমাণ করে হযরত আলী (রা.) ও হযরত মুয়াবিয়ার (রা.) যুদ্ধে আল্লাহ হযরত মুয়াবিয়ার (রা.) পক্ষে ছিলেন। হযরত আলী (রা.) হযরত মুয়াবিয়াকে (রা.) লানত দিয়েছেন সেই লানত তাঁর নিজের দিকে ফিরে এসেছে। শিয়ারা হযরত মুয়াবিয়াকে (রা.) লানত দেয়। সেই লানত তাদের দিকেই ফিরে আসে। শিয়ারা হযরত মুয়াবিয়াকে (রা.) লানত দেওয়া বন্ধ না করলে তাদের দিকে লানত আসা বন্ধ হবে না।

মোয়াল্লেফাতে কুলুব হিসাবে রাসূল (সা.) থেকে হযরত মুয়াবিয়া (রা.) উট উপহার পেয়েছেন। হযরত ওমর (রা.) ও হযরত ওসমান (রা.) তাঁকে সিরিয়ার শাসক বানিয়েছেন। হযরত আলী তাঁকে সিরিয়ার শাসক পদ থেকে বরখাস্ত করে মুয়াল্লেফাতে কুলুবের বিধি ভঙ্গ করেন। তাঁর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে হযরত মুয়াবিয়া (রা.) ইমারাতের বিধি ভঙ্গ করেন। কিন্তু হযরত আলী (রা.) আগে মুয়াল্লেফাতে কুলুবের বিধি ভঙ্গ করেন। সেজন্য আল্লাহ হযরত মুয়াবিয়ার (রা.) পক্ষে থাকলেন।


মন্তব্য ৭ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (৭) মন্তব্য লিখুন

১| ১৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১:১৫

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: মুসলিম সমাজের ইতিহাস বলে , তারা
পূর্ব থেকে হানাহানিতে লিপ্ত,
তাই আজও মধ্যপ্রাচ্য তথা আরব বিশ্বে শান্তি নাই ।

১৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১:৩৭

মহাজাগতিক চিন্তা বলেছেন: আরব বিশ্বের অশান্তির প্রধান কারণ শিয়া ইরান। ইরান থেকে আত্মরক্ষা করতেই আরবরা নিজ দেশে আমেরিকাকে ঘাটি করতে দিয়ে নিজেরা বিপদে আছে।

২| ১৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১:৩৯

শ্রাবণধারা বলেছেন: একজন প্রবল শয়তানও যুদ্ধে জয়লাভ করতে পারে। ইতিহাসে এমন উদাহরণ হাজারে হাজারে আছে। তাই বলে কোন এক শয়তান যুদ্ধে জিতে গেলে আল্লাহ তার পক্ষে ছিলেন এটা বলাটা সুস্থ মানুষের লক্ষণ নয়।

১৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:১৩

মহাজাগতিক চিন্তা বলেছেন: জয়ের নিয়ম মেনে চললে মুমিনরাও জয় লাভ করতে পারে। সূরাঃ ৩ আলে-ইমরান, ১৩৯ নং আয়াতে আল্লাহ মুমিনদের হীনবল না হওয়ার কথা বলেছেন। শয়তানের সাথে শয়তানের যুদ্ধে শয়তানের জয় কোন বিষয় নয়। আর প্রবল হওয়ার আগে মুমিন যুদ্ধ না করে হিজরত করবে। মুমিন প্রবল হওয়ার পর তারা আর হীনবল হয় না।

৩| ১৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৫:৪১

রাজীব নুর বলেছেন: হযরত আলীর খুব রাগ হলে- মাটিতে গড়াগড়ি খেতেন।

৪| ১৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১০:৪০

রানার ব্লগ বলেছেন: আমার মনে হচ্ছে আপনি অতি চিন্তায় স্বাভাবিকতা হারাচ্ছেন। কিছুদিন বিশ্রাম নিন।

৫| ১৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১০:৫৬

আলামিন১০৪ বলেছেন: কী আর বলব আপনাকে। ইতিহাস পড়ুন। দেখুন কী কারণে তালহা (রাঃ) ও যুবাইর (রাঃ), আলী (রাঃ) এর বিরুদ্ধে যুদ্ধে গিয়েও পরে রাসুল (সঃ) এর ভবিষ্যতবাণীর কথা মনে করিয়ে দিলে তারা যুদ্ধ থেকে নিজেদের গুটিয়ে নেন।

রাসুল (সঃ) এ সংকটের কথা চিন্তা করেই, আহলে বাইতের বিষয়ে মুসলিমদের সতর্ক করেছিলেন।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.