নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মানব মঙ্গল আমার একান্ত কাম্য

মহাজাগতিক চিন্তা

একদা সনেট কবি ছিলাম, ফরিদ আহমদ চৌধুরী ছিলাম, এখন সব হারিয়ে মহাচিন্তায় মহাজাগতিক চিন্তা হয়েছি। ভালবাসা চাই ব্লগারদের, দোয়া চাই মডুর।

মহাজাগতিক চিন্তা › বিস্তারিত পোস্টঃ

আল কোরআনের ১১৪ সূরায় হানাফী মাযহাবের সঠিকতার অকাট্য প্রমাণ (পর্ব-১৬)

০৮ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০১



সূরাঃ ১৬ নাহল, ৯৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
৯৩। আল্লাহ ইচ্ছা করলে তোমাদেরকে এক উম্মাত (একজাতি) করতে পারতেন, কিন্তু তিনি যাকে ইচ্ছা বিভ্রান্ত করেন এবং যাকে ইচ্ছা হেদায়াত দান করেন। তোমরা যা কর সে বিষয়ে অবশ্যই তোমাদেরকে প্রশ্ন করা হবে।

* আল্লাহ যাকে ইচ্ছা বিভ্রান্ত করেন এবং যাকে ইচ্ছা হেদায়াত দান করেন বিধায় তাঁর কিতাব মেনে মুসলিম তিহাত্তর দলে বিভক্ত হয়েছে। এর মধ্যে আল্লাহর তাদেরকে হেদায়াত দান করার ইচ্ছা করেন যারা তাঁর কিতাব বুঝে। যারা তাঁর কিতাব না বুঝে ফিতনা সৃষ্টি করে আল্লাহ তাদেরকে বিভ্রান্ত করার ইচ্ছা করেন।আল্লাহর কিতাব বুঝাকে ফিকাহ বলে। আল্লাহর কিতাব একেক জন একেক রকম বুঝোক এটা আল্লাহ চান না। তিনি চান যারা তাঁর কিতাব বুঝতে চায় তারা সবাই তাঁর কিতাব একই রকম বুঝুক যেন যারা তাঁর কিতাব বুঝে তারা সবাই এক উম্মত হয়ে থাকতে পারে।

সূরাঃ ১৬ নাহল, ১২০ নং আয়াত থেকে ১২৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১২০। ইব্রাহীম ছিল এক উম্মাত, আল্লাহর অনুগত হানিফ (একনিষ্ঠ), আর তিনি মুশরিকদের অন্তর্ভূক্ত ছিলেন না।
১২১। সে ছিল আল্লাহর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞ; আল্লাহ তাঁকে মনোনীত করেছিলেন, আর তাকে সিরাতিম মুসতাকিমে হেদায়েত প্রদান করেছেন।
১২২। আমরা তাকে দুনিয়ায় মঙ্গল দান করেছিলাম।আর আখিরাতেও সে নিশ্চয়ই সালেহীনগণের মধ্যে সামিল ছিল।
১২৩। এখন আমি তোমার প্রতি ওহী পাঠালাম, তুমি ইব্রাহীমের হানিফ (একনিষ্ঠ)মিল্লাতের অনুসরন কর, আর সে মুশরিকদের মধ্যে গণ্য ছিল না।

* হযরত ইব্রাহীম (আ.) এক উম্মাত ছিলেন এবং তাঁর অনুসরনে রাসূল (সা.) এক উম্মাত ছিলেন। রাসূলের (সা.) পর এক উম্মাত হয়ে থাকা হলো সিরাতাম মুসতাকিম। এ সিরাতাম মুসতাকিম হলো সবাই আল্লাহর কিতাব একই রকম বুঝা বা আল্লাহর কিতাবের অভিন্ন বুঝ বা অভিন্ন ফিকাহ। রাসূলের (সা.) ফিকাহ অলিখিত অভিন্ন ফিকাহ ছিল। রাসূলের (সা.) পর মাওলা, আমির ও ইমাম অভিন্ন ফিকাহ সংকলন করে সারা বিশ্বের ইমামগণের নিকট এটি জনগণকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য পাঠিয়ে দিলে মুসলিম জনতার ইবাদতের নিয়ম বিভিন্ন রকম হত না। মাওলা অভিন্ন ফিকাহ সংকলন করে আমির কর্তৃক অনুমোদন করিয়ে ইমাম কর্তৃক সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করলে মুসলিম জাতি ভীষণ উপকৃত হতো। রাসূলের (সা.) পর মাওলা আলী (রা.) ত্রিশ বছর বেঁচে থেকেও অভিন্ন ফিকাহের দায়িত্ব পালন করেননি। ইমাম হাসান (রা.) রাসূলের (সা.) পর আটত্রিশ বছর বেঁচে থেকেও অভিন্ন ফিকাহের দায়িত্ব পালন করেননি। ইমাম হোসেন (রা.)রাসূলের (সা.) পর বায়ান্ন বছর বেঁচে থেকেও অভিন্ন ফিকাহের দায়িত্ব পালন করেননি। আল্লাহও তাঁদেরকে মানুষের হাত থেকে রক্ষা করেননি। তাঁরা হত্যাকান্ডের শিকার হন। তারপর থেকে মাওলা আলীর (রা.) আহলে বাইত ইমামগণের মধ্যে হত্যাকান্ডের ধারা অব্যাহত আছে। ইদানিং তাঁর আহলে বাইতের ইমাম আলী খামেনী নিহত হয়েছেন। প্রথম খলিফা যুদ্ধে ব্যস্ত ছিলেন বলে অভিন্ন ফিকাহর দায়িত্ব পালন না করলেও আল্লাহ তাঁকে রেহাই দিলেন। তারপর সাহাবা (রা.) হিসাবে যারা খেলাফতের বাইয়াত গ্রহণ করেছেন অভিন্ন ফিকাহের দায়িত্ব পালন না করায় তাঁদের সবাই হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছেন। হযরত মুয়াবিয়া (রা.) রেহাই পেয়েছেন জনগণ তাঁকে খলিফা না মেনে বাদশাহ মানার কারণে।উক্ত অভিন্ন ফিকাহের অভাবে মুসলিম তিহাত্তর দলে বিভক্ত হওয়ার পর তাদেরকে এক উম্মাতে পরিণত করার নিয়তে ইমাম আবু হানিফা (র.) অভিন্ন ফিকাহ সংকলন করলে হযরত ইব্রাহীম (আ.) ও রাসূলের (সা.) আব্বাসীয় আহলে বাইত মুসলিম বিশ্ব আমির খলিফা হারুনুর রশিদ ইমাম আবু হানিফা (র.) সংকলিত অভিন্ন ফিকাহ পরিশোধন ও হানাফী মাযহাব নামে অনুমোদন করলে দুই তৃতীয়াংশ মুসলিম এর অনুসারী হয়। তারপর আব্বাসীয় ও তুর্কী মিলিয়ে আশি জনের বেশী মুসলিম আমির এর পৃষ্ঠপোষকতা করে। হানাফীদের যারা বিরোধীতা করে তাদের ক্ষেত্রে মুসলিম বিশ্ব আমিরের পৃষ্ঠপোষকতা অনুপস্থিত। ইমাম আলী খামেনী মুসলিম বিশ্ব আমির ছিলেন না। মুসলিম বিশ্ব আমিরগণের পৃষ্ঠপোষকতা প্রাপ্ত হানাফী মাযহাবের পৃষ্ঠপোষকতা না করে তিনিও হত্যাকান্ডের শিকারে পরিণত হলেন। হানাফী ছাড়া এক উম্মাত হওয়ার দাবী হানাফী বিরোধী কোন দলের প্রতি মুসলিম বিশ্ব আমিরগণের পৃষ্ঠপোষকতা রয়েছে? অথচ রাসূলের (সা.) পর আমিরের অনুসরনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সুতরাং হানাফী বিরোধী কোন দল মিল্লাতে ইব্রাহীম (আ.) ও উম্মাতে মোহাম্মদ (সা.) নয়। সাহাবা (রা.) হওয়ার কারণে শিয়া ইমামগণের প্রথম তিন জন ছাড়া অন্য ইমামগণের জান্নাতের নিশ্চয়তা নাই। এ ক্ষেত্রে আহলে বাইত হিসাবে অনুসরনিয় হলেন হযরত ইব্রাহীম (আ.) ও রাসূলের (সা.) আব্বাসীয় আহলে বাইত। আল্লাহ হযরত আব্বাসকে (রা.) সকল মুসলিমের অভিযোগ থেকে নিরাপদ রেখেছেন। আর তাঁর আহলে বাইত ও তাঁদের হানাফী অনুসারীদেরকে রহমত ও বরকতে মুড়িয়ে প্রায় বারশত বছর তাদের বিরানব্বই জনকে মুসলিম বিশ্ব আমির বানিয়েছেন। অপরপক্ষে হযরত আলীর (রা.) পর তাঁর আহলে বাইতের মধ্যে কোন মুসলিম বিশ্ব আমির নাই। তাঁর আহলে বাইত ইমাম মাহদী (আ.) হানাফী হিসাবে মুসলিম বিশ্ব আমির হবেন। আমার স্বপ্ন সঠিক হলে ইনি পাকিস্তানের লাদাখের বাসিন্দা হবেন। পৃথিবীতে পবিত্র ভূমি একটাই সেটি পাকিস্তান। আমরা পাকিস্তান থেকে আলাদা হয়েছি, কারণ আমাদের ভূমি পবিত্র ভূমি নয়।আমরা হিন্দু দ্বারা ঘেরা। তথাপি হানাফী হিসাবে আল্লাহ যেটুকু রক্ষা করেছেন সেটাও আল্লাহর শুকরিয়া। হানাফী পাকিস্তানের শত্রু মোকাবেলার পরমাণু অস্ত্র আছে। বিশ্বের অধিকাংশ অঞ্চল, দেশ ও জনসংখ্যা হানাফীদের। আল্লাহর রহমত ও বরকত তাদের সাথেই আছে। হযরত ইব্রাহীম (আ.) ও রাসূলের (সা.) এক উম্মাতের দৃষ্টান্ত শুধুই হানাফী।এক উম্মাতের কাতারে মুসলিমদের আর কোন দল না থাকায় তাদেরকে সঠিক বলার কোন সুযোগ নাই। মুসলিমদের মাঝে বিভেদ সৃষ্টির দায়ে তাদের সবাই জাহান্নামী।তাদের চটকদার কথায় যারা বিভ্রান্ত হয় তারা মূলত সেই সব লোক যাদেরকে আল্লাহ বিভ্রান্ত করেন।

মন্তব্য ৬ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (৬) মন্তব্য লিখুন

১| ০৮ ই মে, ২০২৬ সকাল ১০:৪৯

অগ্নিবাবা বলেছেন: নিরপেক্ষভাবে বললে, এখানে আসল সমস্যাটা হলো — Qur'an-এ একই সাথে দুই ধরনের বক্তব্য পাওয়া যায়:
মানুষকে নির্বাচনকারী ও দায়ী বলা হয়েছে।
আবার আল্লাহর ইচ্ছাকে চূড়ান্ত বলা হয়েছে।

এই দুইটাকে পুরোপুরি যুক্তিগতভাবে মিলানো কঠিন — এটা শুধু আপনার না, শত শত বছর ধরে ধর্মতাত্ত্বিকদেরও বিতর্ক।
যেমন:
Surah Al-Kahf 18:29
“যার ইচ্ছা ঈমান আনুক, যার ইচ্ছা কুফরি করুক।”

এখানে মানুষের স্বাধীনতা বোঝায়।
আবার:
Surah At-Takwir 81:29
“তোমরা ইচ্ছা করতে পারবে না, যদি না আল্লাহ ইচ্ছা করেন।”

এখানে আল্লাহর ইচ্ছাকে সর্বশেষ কর্তৃত্ব বলা হচ্ছে।
আরও কঠিন আয়াত আছে:
Surah An-Nahl 16:93
“তিনি যাকে ইচ্ছা বিভ্রান্ত করেন, যাকে ইচ্ছা হেদায়াত দেন।”

নিরপেক্ষ বিশ্লেষণে তিনটা সম্ভাব্য অবস্থান দেখা যায়:
কঠোর পূর্বনির্ধারণবাদ: সবই আল্লাহ ঠিক করেন, মানুষের স্বাধীনতা সীমিত বা ভ্রম।
সীমিত স্বাধীনতা: মানুষ বেছে নেয়, কিন্তু আল্লাহ সেই কাঠামো নিয়ন্ত্রণ করেন।
দার্শনিক অসামঞ্জস্য: দুই ধরনের বক্তব্য পুরোপুরি harmonize করা যায় না
অনেক ধর্মীয় ব্যাখ্যা “মানুষের ইচ্ছা আছে কিন্তু আল্লাহর অধীন” — এই মধ্যপন্থা নেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু সমালোচকরা বলেন, যদি আল্লাহ আগেই নির্ধারণ করেন কে পথ পাবে আর কে পাবে না, তাহলে নৈতিক দায় পুরোপুরি মানুষের উপর চাপানো যৌক্তিকভাবে দুর্বল হয়ে যায়।

০৮ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১২:০৮

মহাজাগতিক চিন্তা বলেছেন: আপনি চুরি করতে আল্লাহর ইচ্ছা লাগবে। আপনি নামাজ পড়তে আল্লাহর ইচ্ছা লাগবে। আপনার দোষ আপনি নামাজ বাদ দিয়ে চুরি করলেন কেন? আপনি নামাজ বাদ দিয়ে চুরি করার ইচ্ছা করলেও সেটা আপনি করতে পারবেন না যদি যার সম্পদ আপনি চুরি করেছেন বলে ঠিক করেছেন আল্লাহ যদি তার সম্পদ রক্ষা করবেন বলে ঠিক করেন। আপনি তখন চুরি করতে সক্ষম হবেন যখন যার সম্পদ আপনি চুরি করেছেন বলে ঠিক করেছেন তার সম্পদ খোয়া যাওয়া আল্লাহ অনুমোদন করেন। এখন একজনের সম্পদের নিরাপত্তা আল্লাহ দিরেচ্ছন, অন্য জনের সম্পদের নিরাপত্তা আল্লাহ দিচ্ছেন না কেন? আল্লাহ যার সম্পদের নিরাপত্তা দেওয়ার কারণ সে ভিক্ষুককে দান করায় ভিক্ষুক তার জন্য দোয়া করেছে। আপনি মদ পান করবেন বলে ইচ্ছা করলেন, কিন্তু আপনার স্ত্রী আপনার মদ পান না করার ইচ্ছা করলেন। এ ক্ষেত্রে আপনার স্ত্রীর ইচ্ছা আল্লাহ অনুমোদন করলে আপনি মদ পান করতে সক্ষম হবেন না। এখন যার ইচ্ছা যেমনই হোক না কেন আপনার পাপ কাজের কারণে আপনার পাপ হবে। তবে কোন কারণে আপনার পাপ আল্লাহ মাপ করলে আপনাকে পাপী বলা যাবে না। তারপর আপনার কারণে আপনি জাহান্নামে গেলে তাতে কারো কিছু আসে যায় না। কারণ আপনার হিসাব একান্তই আপনার। আপনার মন্তব্য পড়ে জানা জায় আপনি অনেক কিছু জানেন তবে আপনি অনেক কিছু বুঝেন না।

২| ০৮ ই মে, ২০২৬ সকাল ১০:৫২

অগ্নিবাবা বলেছেন: এইবার চাচা, যত ত্যানা প্যাচাইবেন তত কুফরি করবেন।

০৮ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১২:১২

মহাজাগতিক চিন্তা বলেছেন: ক্ষতে প্রলেপ দিতে ত্যানা প্যাচাতেই হয়। এটা প্রয়োজন। ত্যানা প্যাচালেই যে সেটা মন্দ কাজ বিষয়টা সেরকম নয়। আপনি যত যাই বলুন আমি তাতে রাগ হব না। তবে আপনার ক্ষতি দেখে আমার দু:খ হতে পারে। কারণ এটা মানবিকতা। মানুষ অন্যের দু;খ দেখলে কষ্ট পায়।

৩| ০৮ ই মে, ২০২৬ সকাল ১১:৩৫

বিচার মানি তালগাছ আমার বলেছেন: আপনি এভাবে রায় দিতে পারেন না। এসব রায়ও আমাদের পরকালে কাজে আসবে না। যার যার আমলেই নির্ধারিত হবে জান্নাত। আল্লাহ আমাদের সবাইকে হেদায়েত করুক ও সঠিক পথ দেখান। আমিন...

০৮ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১২:১৬

মহাজাগতিক চিন্তা বলেছেন: অভিন্ন ফিকাহ অমান্য করা অপরাধ। কারণ অভিন্ন ফিকাই আল্লাহর বিধান। কোরআন-হাদিস অভিন্ন ফিকার উৎস। আপনি আল্লাহর বিধানের উৎসের আমল করলেন, কিন্তু বিধানের আমল করলেন না। তাহলে আপনি আপনার আমলের ফল কিভাবে পাবেন?

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.