| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
হুমায়রা হারুন
মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব শুধু প্রযুক্তিতে নয়, বরং মননের বিনিময়ে। ব্লগে যোগাযোগের মধ্যে সেই শ্রেষ্ঠত্বেরই প্রকাশ ঘটে। আপনি যখন লেখেন, মন্তব্য করেন, কিংবা অন্যের ভাবনা পড়েন — আপনি তখন মানব প্রজাতির মননে অংশ গ্রহন করেন।
ধূসর সাহারা মরুভূমির পশ্চিম অঞ্চলে অবস্থিত একটি দেশ নাইজার। নাইজারের দক্ষিণে মালি নামক এক মালভূমিতে বাস করে ডোগন (Dogon) নামক এক জাতিগোষ্ঠী। বহুকাল আগে থেকেই স্থাপত্য আর ভাস্কর্যে এদের অসাধারণ শিল্পমন্ডিত নকশা শৈলীর নিদর্শন পাওয়া যায়। সাহারার সেই দুরবর্তী এক মালভূমির মাঝে লুকিয়ে থাকা এই সুসভ্য আদিবাসীরা আধুনিক সভ্যতা থেকে দূরে থেকেও শিল্পকলার যে নিখুঁত ধারণা আর মুখোশ তৈরির যে নকশা অংকন করেছে তা বর্তমান সময়ে সমগ্র বিশ্ববাসীকে বিস্মিত করেছে। আরোও অবাককর বিষয় হলো তাদের জ্যোর্তিবিজ্ঞানের ওপর আগাধ জ্ঞান এবং বিশ্বব্রহ্মান্ড সৃষ্টি রহস্যের ওপর সুনির্দিষ্ট মতাদর্শন। মানমন্দির এর যন্ত্রপাতি বা যৎসামান্য দূরবীন না থাকা সত্ত্বেও ঐ দূর আকাশে অবস্থিত লুব্ধক বা Sirius (সিরিয়াস) নক্ষত্রমন্ডলীর সঠিক অবস্থান ও গঠন সম্পর্কে তাদের সঠিক গাণিতিক হিসাবও চমকপ্রদ। ডোগন সমাজ ব্যবস্থায় যারা যাজক শ্রেণির উপাধিপ্রাপ্ত তারাই বংশা্নুক্রমে জ্যোর্তিবিজ্ঞানে বিষয়ে পারদর্শীতা লাভ করে থাকেন ।
ডোগনদের মতে ৮.৬ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত সিরিয়াস নক্ষত্রমন্ডলী একটি বাইনারি স্টার সিস্টেম যেখানে দুটি নক্ষত্র একে অপরকে কেন্দ্র করে উপবৃত্তাকার পথে সর্বদা ঘূর্ণায়মান। নিজ অক্ষে ঘূর্ণায়মান Sirius –A নক্ষত্রটি আকাশের সবচেয়ে উজ্জ্বলতম নক্ষত্র । এর ভর আমাদের সূর্যের দ্বিগুন। একে ঘিরে তার সহচর নক্ষত্র Sirius –B এর আহ্নিক গতির গাণিতিক হিসাবেও ডোগনরা সঠিক ভাবে জ্ঞাত। আধুনিক বিশ্বের সাথে সংস্পর্শহীন এই ডোগন আদিবাসীরা খ্রীস্টপূর্ব তিনহাজার দুইশত বছর পূর্ব থেকেই কিভাবে এসব তথ্য জানলো তা ভেবে অবাক হয়েছেন পর্যটকরা এবং কালক্রমে জোর্তিবিজ্ঞানীর দলও। কারণ আধুনিক সভ্যতায় নভোমন্ডলে Sirius –A এর অবস্থান সনাক্ত হয়েছে খ্রীস্ট জন্মেরও এক হাজার আটশত (১৮০০) বছর পর এবং ১৯৭০ খ্রীস্টাব্দে এর চিত্র সম্বলিত তথ্য সংগৃহীত হয়েছে।
ডোগনরা শনি গ্রহের বলয় সম্পর্কিত তথ্যাদি দ্বারা পুরো রকমে জ্ঞাত আছে। তারা জানে সিরিয়াস –বি একটি বামন নক্ষত্র এবং এই বাইনারি স্টার সিস্টেমটি তাদের পূর্ণ ঘূর্ণন সমাপ্ত করতে ৫০ বছর কাল ক্ষেপন করে। তাই ডোগনদের পুরানো ইতিহাস জানতে তৎপর হয়ে উঠলেন গবেষকেরা। ডোগন সমাজের বয়োজেষ্ঠ্য জ্ঞানী গুরুজনদের নিকট হতে এলো চমকপ্রদ তথ্য। তাদের মতে সিরিয়াস নক্ষত্র মন্ডলী থেকে আগত মাছের মতন উভচর মানব সদৃশ ET বা এক্সট্রা টেরেস্ট্রিয়ালদের আগমনের সূত্র ধরেই তাদের কাছে এসকল তথ্যভান্ডারের উন্মোচন ঘটেছে আজ থেকে খ্রীস্টপূর্ব তিনহাজার বছর আগে। বৈশিষ্ট্যের দিক দিয়ে এই সব ET- রা উভচর বলেই জলে চলাচলে সক্ষম। তাই ডোগনদের কাছে এরা জল–দেবতা বা Master of water নামে অভিহিত। তদের আগমনের পরে এই সকল এক্সট্রা টেরেস্ট্রিয়ালরা ছিল ডোগন উপজাতির শিক্ষক এবং পথ প্রদর্শক। ডোগনরা তাদের ভাষায় এই ETদেরকে নম্মোস (Nommos) বলে সম্বোধন করে। ডোগনরা মনে করে অদূর ভবিষ্যতে এসকল এক্সট্রা টেরেস্ট্রিয়ালরা আবার আসবে মানব জাতির মাঝে জ্ঞানের আলো ছড়াতে।
আমাদের সূর্যকেন্দ্রিক সৌর জগতের ধারণা ও গঠন সম্পর্কে তথ্য, বৃহস্পতি গ্রহের চারটি উপগ্রহের বৈশিষ্ট্য ও নভোমন্ডলে এদের অবস্থান এবং উপবৃত্তাকার পথে গ্রহসমূহের গতিপথের ধরণ সম্বলিত চিত্রশিল্প আবিষ্কার হয়েছে ডোগনদের গুহার দেয়ালে অংকিত চিত্রলিপিতে। সুতরাং এই বিশ্ব ব্রহ্মান্ডে মানব সভ্যতা বাদে অতি অগ্রসরমান কোন সভ্যতা উপস্থিত আছে কি নাই, তা প্রমাণ সাপেক্ষ হলেও, ডোগন সমাজের মাঝে এদের উপস্থিতি এবং যোগাযোগ আমাদের কাছে অবাক করার মতন বিষয়। নয় কি?
তথ্যঃ আন্তর্জাল
আমার প্রথম পোস্ট অ্যান্টেনা গ্যালাক্সি
২১ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৩
হুমায়রা হারুন বলেছেন: ধন্যবাদ ।
আপনি একদম সঠিক বলেছেন - এই ধরনের বিষয়ের জন্য সুনির্দিষ্ট তথ্যসূত্র অপরিহার্য।
আমি আন্তর্জাল থেকে তথ্য নিয়েছি। তাই-ই উল্লেখ করে দিলাম ।
২|
২১ শে জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:২১
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: নাইজারের দক্ষিণে মালি নামক এক মালভূমিতে বাস করে
ডোগন (Dogon) নামক এক জাতিগোষ্ঠী।
.................................................................................
এই প্রথম এদের বিষয়ে জানলাম,
আরও জানার আগ্রহ থাকল ।
শুভ ব্লগিং
২১ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৮
হুমায়রা হারুন বলেছেন: ভ্যাটিকান -রা Fish people সম্বন্ধে জ্ঞাত। ।
পোপের মাথার মুকুটের আকৃতি মাছের মুখ সদৃশ।
৩|
২১ শে জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৮
কাজী ফাতেমা ছবি বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে
২১ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৫
হুমায়রা হারুন বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ কাজী ফাতেমা।
৪|
২১ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:৪৭
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
বেশ মুল্যবান তথ্য সমৃদ্ধ একটি পোস্ট । কত কিছু যে আজানা রয়ে গেছে এখনো । আপনি এখানে ডোগন জাতিগোষ্ঠি
নিয়ে পোস্ট না দিলে এদের কথা আদৌ জানা হত কিনা জানি না । আজকে দীর্ঘ সময় নিয়ে ইন্টার নেট ঘেটে ও
সেখান হতে প্রাপ্ত লিংক ফলো করে এদের বিষয়ে আরো অনেক গুরুত্বপুর্ণ তথ্য জানতে পারলাম ।
আপনার মুল্যবান তথ্য সমুহকে আরো একটু substantiate করে গেলাম ।
ডোগন জাতিগোষ্ঠির ইতিহাস কমপক্ষে খ্রিস্টীয় ১০ম–১৩শ শতাব্দী পর্যন্ত অনুসরণ করা যায়। ইসলামি সম্প্রসারণ
থেকে নিজেদের সংস্কৃতি রক্ষার জন্য তারা দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে আশ্রয় নিয়েছিল। জটিল মিথোলজি ও কসমোলজি,
প্রতীকসমৃদ্ধ মুখোশ নৃত্য মৌখিক জ্ঞান সংরক্ষণের শক্তিশালী ঐতিহ্য এবং জ্যোতির্বিদ্যার প্রতি গভীর আগ্রহ প্রভৃতি
ডোগন সমাজের প্রধানতম বৈশিষ্ট্য ।
ছবি ডোগন মুখুষ নৃত্য ।

ঠিকই বলেছেন ডোগনদের সৃষ্টি-তত্ত্ব অত্যন্ত জটিল এবং প্রতীকী। তাদের মতে সর্বসৃষ্টির মূল সত্তা আম্মা (Amma)
আম্মা প্রথমে একটি “বিশ্ব-ডিম” (Cosmic Egg) সৃষ্টি করেন।সেখান থেকে জন্ম নেয় নোম্মো (Nommo) জলজ,
উভলিঙ্গ, আলোকময় সত্তা ।নোম্মোরা পৃথিবীতে নেমে এসে মানবজাতিকে জ্ঞান প্রদান করে ।এই কসমোলজিতে
নক্ষত্র, গ্রহ, সংখ্যা ও জ্যামিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যা আপনি লেখাটিতে তুলে ধরেছেন ।
আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের তথ্য মতে সিরিয়াস একটি ডাবল স্টার সিস্টেম
Sirius A প্রধান উজ্জ্বল নক্ষত্র, Sirius B : একটি অতি ঘন White Dwarf
Sirius B খালি চোখে দেখা যায় না, এর ঘনত্ব অত্যন্ত বেশি (এক চা-চামচ পদার্থের ওজন কয়েক টন)।
ডোগনরা জানত সিরিয়াসের একটি অদৃশ্য সঙ্গী নক্ষত্র আছে যা দীর্ঘ কক্ষপথে ঘূর্ণায়মান (প্রায় ৫০ বছর)
এটি বিস্ময়কর, কারণ Sirius B আধুনিক টেলিস্কোপে আবিষ্কৃত হয় ১৮৬২ সালে।
ডোগনদের মতে, নোম্মোরা সিরিয়াস অঞ্চল থেকে আগত । আগুন ও শব্দের মাধ্যমে পৃথিবীতে অবতরণ করে
মানবজাতিকে জ্যোতির্বিদ্যা, কৃষি ও সামাজিক বিধান শেখায় ।এই ধারণা থেকেই কিছু গবেষক Ancient Astronaut
Theory বা প্রাচীন ভিনগ্রহী যোগাযোগের তত্ত্ব উত্থাপন করেছেন।
ডোগানদের বিষয়ে অবশ্য কিছু সমালোচনাও রয়েছে । ফরাসি নৃতত্ত্ববিদদের (বিশেষত Marcel Griaule)
প্রভাবেই এই জ্ঞান ডোগনদের মধ্যে প্রবেশ করেছে । ইউরোপীয় জ্যোতির্বিদ্যার তথ্য ডোগন পুরোহিতদের কাছে
পৌঁছাতে পারে ।
আধুনিক গবেষক Walter van Beek দাবি করেন, অনেক ডোগন এই জটিল জ্যোতির্বিদ্যার কথা আদৌ জানতেন না।
তবে ডোগন কসমোলজি সম্ভবত আক্ষরিক বৈজ্ঞানিক তথ্য নয় বরং প্রতীকী জ্ঞান (Symbolic Knowledge)
যেখানে নক্ষত্র মানে চেতনার স্তর নোম্মো মানে ঐশী জ্ঞান বা নবুয়তি সদৃশ সত্তা । এটি অনেকাংশে নবী-প্রেরিত
জ্ঞান বা ঊর্ধ্বতন উৎস থেকে অবতরণ করা হিকমাহ -এর ধারণার সাথে তুলনীয়।
পাহারের গুহায় থাকা ডোগনদের আর্ট এর কমামালা সুন্দর করে বলেছেন পোস্টে । নীচে উইপিডিয়ায় থাকা
এমন একটি চিত্র নীচে তুলে দিলাম । আগ্রহী পাঠকগন দেখে নিতে পারবেন ।
যাহোক, ডোগনদের বিষয়ে সমালোচকদের কথা আমলে না নিয়ে বলা যায় ডোগন জনগোষ্ঠির সিরিয়াস নক্ষত্রমণ্ডলী
সম্পর্কিত জ্ঞান আধুনিক চিন্তাকে চ্যালেঞ্জ জানায়। এটি একদিকে হয়তবা প্রাচীন প্রতীকী জ্ঞানভাণ্ডারের নিদর্শন অথবা
মানব ইতিহাসের এমন এক অধ্যায়, যা আমরা এখনো পুরোপুরি বুঝে উঠতে পারিনি।যাই হোক, ডোগন কসমোলজি
মানব সভ্যতার জ্ঞান, বিশ্বাস ও মহাবিশ্ব-অন্বেষণের এক অনন্য দলিল।
মন্তব্যের ঘরে দেখা যায় রেফারেন্সের চাহিদা রয়েছে । তাই কয়েকটি রেফারেন্স এখানে যুক্ত করা হল ।
রেফারেন্স (গ্রন্থ ও গবেষণা)
১. Marcel Griaule & Germaine Dieterlen,The Pale Fox (1965)
২. Robert K. G. Temple ,The Sirius Mystery (1976)
৩. Walter E. A. van Beek
“Dogon Restudied: A Field Evaluation of the Work of Marcel Griaule”
Current Anthropology, Vol. 32, No. 2 (1991)
৪. Carl Sagan The Cosmic Connection (1973)
৫. Ian Ridpat Sirius: Brightest Diamond in the Night Sky (2005)
৬. Dogon people : Wikipedia at https://en.wikipedia.org/wiki/Dogon_people.
মুল্যবান পোস্টটির জন্য ধন্যবাদ ।
শুভেচ্ছা রইল
৫|
২২ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৩:৩২
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: ২২ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৩:৩১০
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: হুমায়রা হারুন বলেছেন: @ স্বপ্নের শঙ্খচিলঃ..................
.........................................................................................
আপনার ভালোলাগা যথেষ্ট আনন্দ দিয়েছে
একসময় কবিতা লিখতাম, আকিজুঁকি হতো
৩/৪ দিন পর একটা কবিতা প্রকাশের মুখ দেখত ।
কিন্ত এখন দেখি কবিতা পড়ার "সেই হৃদয়ের গোপনে লালিত"
বন্ধুরা নেই, তাছাড়া
চলমান জীবনের ব্যস্ততা "কবি মন"কে আড়াল করে দেয় নিষ্ঠুর ভাবে ।
©somewhere in net ltd.
১|
২১ শে জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:৩৩
আলামিন১০৪ বলেছেন: আপনার প্রবন্ধ কৌতূহলোদ্দীপক, কিন্তু তথ্যসূত্র দেয়া প্রযোজন।