| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
নাহল তরকারি
আমি ধার্মিক। আমি সব কিছু ধর্মগ্রন্থ অনুযায়ী বিচার বিশ্রেশণ করি। আমি সামাজিক রীতিনীতি, সমাজিক কু সংস্কার, আবেগ দিয়ে কোন কিছু বিচার করি না।
কিছু স্বপ্ন, কিছু স্মৃতি এবং নানীর বাড়ি
আমি বেশ কিছুদিন ধরে একটি বিশেষ ধরনের স্বপ্ন দেখছি। স্বপ্নের কথায় যাওয়ার আগে কিছু পেছনের গল্প বলা প্রয়োজন।
ক্লাস নাইনে পড়ার সময় থেকে অনার্স শেষ করা পর্যন্ত আমার জীবনের দীর্ঘ একটা সময় কেটেছে নানীর বাড়িতে। বলতে গেলে, নানীর বাড়িতেই আমার বেড়ে ওঠা, লেখাপড়া এবং জীবনের অনেক স্মৃতি জমে আছে।
নানীর বাড়িটি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের একেবারে পাশে। এতটাই কাছে যে, দিন-রাত বাস, ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহনের শব্দ খুব স্পষ্টভাবে শোনা যেত। সেই গাড়ির শব্দই ছিল আমার প্রতিদিনের জীবনের পরিচিত এক অংশ।
কয়েক দিন আগে স্বপ্নে দেখলাম, অনার্সের ক্লাস শেষ করে বাড়িতে ফিরেছি। নানী আমার জন্য অপেক্ষা করছেন। রাতে ঘুমাতে গিয়েছি, আর বাইরে থেকে ভেসে আসছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সেই চিরচেনা বাস-ট্রাকের শব্দ।
স্বপ্নটা দেখার পর আমি ভীষণ আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ি। অদ্ভুত ব্যাপার হলো, ঘুম ভাঙার পরও বেশ কয়েক দিন সেই স্বপ্নের রেশ কাটেনি। মনে হচ্ছিল, আবার যেন সেই পুরোনো সময়ে ফিরে গিয়েছি। যেখানে নানী আছেন, বাড়িটি আগের মতোই আছে, আর রাতের নীরবতা ভেঙে মহাসড়ক দিয়ে ছুটে চলছে বাস-ট্রাক।
সেই নানীর বাড়িতে এখনো একটি টেলিভিশন আছে। একসময় সেটিতে ডিশের সংযোগ ছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে বাড়িতে ওয়াই-ফাই আসার পর টেলিভিশন দেখার অভ্যাস প্রায় সবারই কমে যায়।
সেই বাড়িতে মূলত আমরা দুজন থাকতাম। যদিও নানী অধিকাংশ সময় আমার খালার বাড়িতে থাকতেন। ফলে অনেকটা কেয়ারটেকারের মতো আমাকে একাই বাড়িতে থাকতে হতো। এ কারণে ডিশের সংযোগেরও খুব একটা প্রয়োজন হতো না।
২০১৮ সালে নানীর বাড়িতে তখনো ওয়াই-ফাই আসেনি। সে বছর বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখার জন্য আমি একটি অ্যান্টেনা কিনে নিয়ে এসেছিলাম। উদ্দেশ্য ছিল টেলিভিশনে বিশ্বকাপের খেলা দেখা। কিন্তু মজার বিষয় হলো, অ্যান্টেনা আনার পরও টেলিভিশন খুব একটা চালানো হতো না। দিনের অধিকাংশ সময় মোবাইল ফোন নিয়েই পড়ে থাকতাম।
অথচ একটা সময় এই অ্যান্টেনা লাগানো টেলিভিশনই ছিল অসংখ্য মানুষের বিনোদনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। কত মানুষের কত স্মৃতি জড়িয়ে আছে এই টেলিভিশন আর অ্যান্টেনাকে ঘিরে! পরিবারের সবাই মিলে একসঙ্গে নাটক দেখা, খবর শোনা, খেলার সময় উত্তেজনায় চিৎকার করা—এসব যেন অন্যরকম এক সময়ের গল্প।
আজ সেই টেলিভিশন আছে, অ্যান্টেনাটিও হয়তো কোথাও পড়ে আছে, কিন্তু আগের মতো দর্শক নেই, সেই আগ্রহও নেই।
মাঝেমধ্যে ভাবি, এখন বিটিভির অবস্থা কেমন? কী কী অনুষ্ঠান প্রচার হয়? কী ধরনের নাটক দেখানো হয়? নতুন প্রজন্মের মানুষ কি এখনো বিটিভি দেখে? একসময় যে বিটিভি ছিল দেশের কোটি মানুষের বিনোদন ও তথ্যের অন্যতম প্রধান মাধ্যম, সেই বিটিভির বর্তমান অবস্থাটা আসলে কেমন?
সময়ের সঙ্গে প্রযুক্তি বদলেছে, বিনোদনের মাধ্যম বদলেছে, মানুষের অভ্যাসও বদলেছে। কিন্তু কিছু জায়গা, কিছু শব্দ আর কিছু স্মৃতি কখনো পুরোনো হয় না।
হয়তো সে কারণেই আজও স্বপ্নের মধ্যে ফিরে যাই নানীর সেই বাড়িতে। ফিরে পাই মহাসড়কের পরিচিত শব্দ, রাতের নিস্তব্ধতা আর জীবনের ফেলে আসা একটি অধ্যায়।
কিছু স্মৃতি আসলে স্মৃতি নয়, সেগুলো আমাদের জীবনের একেকটি হারিয়ে যাওয়া সময়। 
২|
০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:০১
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: মনে হচ্ছিল, আবার যেন সেই পুরোনো সময়ে ফিরে গিয়েছি।
........................................................................................
বাংলাদেশে বর্তমান যে অবস্হা, চলুন
আবার আমরা ৬০ দশকে ফিরে যাই, তৎকালীন
জীবনের স্মৃতি ভূলে যাবার নয় ।
৩|
০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৩
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: যখন ছোটো ছিলাম তখন বিটিভি দেখতে এসব এন্টিনিয়ার ইউজ করতে হতো; এখন আকাশ ডিটিএইচ ইউজ করে সবাই ।
©somewhere in net ltd.
১|
০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৯
সুলাইমান হোসেন বলেছেন: এখোনো নাকে লেগে আছে এন্টেনার তারের সেই গন্ধ।ব্যাটারির বুদ বুদ।সেই সময়ে অল্পতেই বরকত ছিলো।একটা সাদাকালো টিভি,আর ছোট একটা বাটন মোবাইল থাকলেই মনে হতো যেন অনেক কিছু।
তারপর এলো ডিশ।
তারপর দ্রুত গতির ইন্টারনেট এবং ফোরজি,ফাইফ জি হ্যন্ডসেট সবকিছু বদলে দিলো।এখন আর কোনো কিছুতেই মন ভরে না।