| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
জুল ভার্ন
এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস... খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে... কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়। আমার অদক্ষ কলমে... যদি পারো ভালোবেসো তাকে... ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে, যে অকারণে লিখেছিল মানব শ্রাবণের ধারা.... অঝোর শ্রাবণে।।
যুগে যুগে গণ-আন্দোলন ও তীব্র জনরোষের মুখে ক্ষমতা ছেড়ে পালাতে বাধ্য হওয়া বিভিন্ন দেশের স্বৈরশাসকদের তালিকাঃ
(১) মোহাম্মদ রেজা পাহলভিঃ (ইরান - ১৯৭৯)১৯৭৯ সালে ইরানি বিপ্লবের সময় লাখ লাখ মানুষের প্রবল আন্দোলনের মুখে তিনি দেশ ছাড়তে বাধ্য হন।
(২) ফার্দিনান্দ মার্কোসঃ (ফিলিপাইন - ১৯৮৬)১৯৮৬ সালের 'পিপল পাওয়ার' বা রক্তপাতহীন গণঅভ্যুত্থানের মুখে ২১ বছরের স্বৈরশাসনের অবসান ঘটিয়ে পরিবারসহ হাওয়াইয়ে (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) পালিয়ে যান।
(৩) জাইন এল আবেদিন বেন আলীঃ (তিউনিসিয়া - ২০১১)তিউনিসিয়ার দীর্ঘ ২৩ বছরের স্বৈরশাসক বেন আলী ২০১১ সালের জানুয়ারিতে জনতার তীব্র বিক্ষোভের মুখে ক্ষমতা ছেড়ে সৌদি আরবে পালিয়ে যান।
(৪) হোসনি মুবারকঃ (মিশর - ২০১১)'আরব বসন্ত' নামে পরিচিত গণআন্দোলনের মুখে ২০১১ সালে প্রায় তিন দশক দীর্ঘ ক্ষমতার অবসান ঘটিয়ে পদত্যাগ ও দেশত্যাগে বাধ্য হন।
(৫) গোটাবায়া রাজাপাকসেঃ (শ্রীলঙ্কা - ২০২২)তীব্র অর্থনৈতিক সংকট ও লাগামহীন দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যাপক গণবিক্ষোভের মুখে ২০২২ সালের জুলাই মাসে বিক্ষোভকারীরা তার বাসভবনে ঢুকে পড়লে তিনি প্রথমে মালদ্বীপ ও পরে সিঙ্গাপুরে পালিয়ে যান।
(৬) বাশার আল-আসাদঃ (সিরিয়া - ২০২৪)সিরিয়ায় দীর্ঘ ৫১ বছর ধরে চলা আসাদ পরিবারের স্বৈরশাসনের অবসান ঘটে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে। বিদ্রোহীদের অগ্রযাত্রার মুখে তিনি ক্ষমতা ছেড়ে রাশিয়ায় পালিয়ে যান।
(৭) শেখ হাসিনাঃ (বাংলাদেশ - ২০২৪)সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে দমন-পীড়ন ও বিতর্কিত নির্বাচনের জেরে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হন এবং পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেন।
এরা প্রত্যেকেই নিজ নিজ প্রভুর দেশে কিম্বা তাদের পৃষ্ঠপোষকদের দেশে পালিয়ে যাওয়ার পর ফিরে আসার অনেক কোশেশ করেছে- কিন্তু কেউ ফিরে আসেনি। আসতে পারেনি। আসতে পারবে না- এটাই স্বৈরশাসকদের পরিনতি। শেখ হাসিনাও কোনো দিন ফিরে আসবে না। 
১৭ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:৪৪
জুল ভার্ন বলেছেন: আমারও ঠিক তাই মনে হয়।
রাজনীতিতে মতপার্থক্য থাকতেই পারে, সমালোচনাও থাকবে। কিন্তু একজন নেতাকে নিয়ে যখন তাঁর নিজের সমর্থকেরাই বাস্তবতার সঙ্গে অসংগত, অতিরঞ্জিত ও ভিত্তিহীন বক্তব্য দিতে শুরু করেন, তখন সবচেয়ে বেশি বিব্রত হন সেই নেতাই।
কখনো বলা হচ্ছে "লং মার্চ করে ফিরবেন", কখনো বলা হচ্ছে "চার্টার বিমানে ফিরিয়ে আনা হবে"- ধরনের দাবির কোনো বাস্তব ভিত্তি না থাকলে সেগুলো রাজনৈতিক বার্তার চেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাস্যরস, ট্রল ও ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের উপাদান হিসেবেই বেশি ব্যবহৃত হয়।
একজন রাজনৈতিক নেতার মর্যাদা রক্ষা করতে হলে আবেগ নয়, দায়িত্বশীলতা প্রয়োজন। অতিরঞ্জিত গল্প বা অবাস্তব প্রত্যাশা তৈরি করে নয়, বরং তথ্যভিত্তিক ও সংযত বক্তব্যের মাধ্যমেই একজন নেতার প্রতি প্রকৃত সম্মান দেখানো যায়। অন্যথায় বিরোধীদের সমালোচনার চেয়েও নিজেদের অযাচিত বক্তব্যই অনেক সময় সবচেয়ে বড় অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
২|
১৭ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:৪১
জ্যাক স্মিথ বলেছেন: শেখ হাসিনা বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখন এক ইতিহাসের নাম, তার আর ফেরা হবে না।
১৭ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭
জুল ভার্ন বলেছেন: এটাই বাস্তবতা। কিন্তু পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচার শেখ হাসিনার দোসররা বুঝতে চায় না!
৩|
১৭ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:৪৯
মেহবুবা বলেছেন: গন আন্দোলন এবং জনরোষের কারনে পালানো মানুষ ফিরে আসবে কিনা সেটা তো পরের কথা, কিভাবে এত অমানবিক হতে পারে কেউ সেটাই বুঝি না। ১৬ জুলাই প্রথম আলোতে "অভ্যুত্থানের অন্দরে" ক্রোড়পত্র ছেপেছে, ২০২৪ এর জুলাই আগষ্টের অনেক বিষয় অভিজ্ঞতার আলোকে প্রকাশিত। সেসব পড়বার শক্তি নেই। খুব কাছ থেকে কিছু বিষয় প্রত্যক্ষ করবার যন্ত্রণা, কত ঘটনা! ভুলে যেতে চাই, স্বার্থপরের মত মনে ভাবি ২০২৪ সনে কোন জুলাই আগষ্ট মাস ছিল না ক্যালেন্ডারের পাতায়।
আল্লাহ্ তুমি মানুষকে হেদায়েত দাও।
১৭ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৬
জুল ভার্ন বলেছেন: আপু, তোমার অনুভূতিটা খুবই মানবিক। ইতিহাসের যেসব সময় সহিংসতা, প্রাণহানি ও গভীর বিভাজনের জন্ম দেয়, সেগুলোর স্মৃতি অনেক মানুষের জন্য আজীবনের মানসিক ভার হয়ে থাকে। যারা কাছ থেকে এমন সময় প্রত্যক্ষ করেছেন, তাদের কাছে ক্যালেন্ডারের কিছু তারিখ শুধু দিন নয়- বেদনাবিধুর স্মৃতি।
আমাকে অনেকেই প্রশ্ন করেন- আমি এখনো শেখ হাসিনার উপর এতটা রুঢ় কেন?
আমি সত্যিই ব্যাক্তি শেখ হাসিনার উপর রুষ্ট নই। কিন্তু তিনি বিরোধী মত দমন করতে যে রাষ্ট্রীয় অপ কাঠামো / সিস্টেম তৈরী করে গিয়েছেন- তা মানব ইতিহাসের এক বর্বর কলংক। লাখ লাখ ভুক্তভোগীর সাথে আমি নিজেও ভুক্তভোগী- তাই আমার পক্ষে ভুলে যাওয়া সম্ভব নয়।
রাজনীতি নিয়ে মতভেদ থাকতেই পারে, কিন্তু মানুষের জীবন, মর্যাদা ও কষ্টের ঊর্ধ্বে কোনো রাজনৈতিক অবস্থান হওয়া উচিত নয়। অতীত থেকে শিক্ষা নেওয়াই সবচেয়ে জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো পরিবারকে একই ধরনের বেদনা বহন করতে না হয়।
আল্লাহ্ আমাদের সবাইকে সত্য উপলব্ধি করার তাওফিক দিন, ঘৃণার পরিবর্তে ন্যায়বিচার, সংযম ও মানবিকতার পথে চলার শক্তি দিন। আমীন।
৪|
১৭ ই জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৯
মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ বলেছেন: আপা আসবে কি আসবে না, সেটা অনিশ্চিত একটা বিষয়। এ নিয়ে তর্ক বিতর্ক কি করে কি ফায়দা?
তবে বাংলাদেশের জুlie আন্দোলনের গুনগত মান কি ইরান/ফিলিপাইন/শ্রীলংকায় ঘটে যাওয়া আন্দোলনের মতই নাকি ও সব আন্দোলনের ধারে কাছেও যেতে পারেনি?
মূলতঃ জুlie আন্দোলন ছিলো শতভাগ ধাপ্পাবাজি। কারণ তা যদি সত্যিই ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলন হতো তবে সারা দেশ জুড়ে ৭১ এর চেতনার সাথে সম্পর্কিত বিবিধ স্মারক/ভাস্কর্য ধ্বংস করার কোন যুক্তিই ছিলো না। কারন ৭১ এর মুক্তিসংগ্রাম ভা/রতের মদদপুষ্ট কতিপয় দুষ্কৃতকারী কর্তৃক কোন ফ্যাসিবাদী/নৈরাজ্যবাদী আন্দোলন ছিলো না। তবে ৭১ এর পরাজিত শক্তির দরকার ছিলো ওইসব ধ্বংস করার। পরাজিত শক্তি হিসেবে তাদের প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার।
gen z জেনারেশনের জন্য একরাশ সমবেদনা। তারা ৭১ এর গাদ্দার কর্তৃক যথারীতি গাদ্দারীর শিকার হয়েছে। কারণ ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে উল্টো ৭১ এর গাদ্দারদের স্বাধীনতা ওই ৫ ই আগস্ট ২৪ এ প্রতিষ্ঠা করে ফেলেছে। ৭১ এ বিজয় অর্জন করা বাং৭লাদেশ এখন সেই গাদ্দারদের গোলাম।
জুlie এ যাদের হত্যাকে গণহত্যা বলা হচ্ছে তারা জামায়াতি রাজাকারদের স্বাধীনতা অর্জনের আন্দোলন করতে গিয়ে নিহত হয়েছে। এটা কোনো অর্থেই ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলন ছিলো না, ছিলো রাজাকারদের স্বাধীনতা আন্দোলনকে আড়াল করে রাখা বিভ্রম সৃষ্টিকারী একটা মুখোশ। সুতরাং কথিত গণহত্যার শিকার মানুষের আত্মত্যাগ (বুঝে বা না বুঝে হোক) বৃহৎ জনগোষ্ঠীর (যারা সত্যিই ফ্যাসিবাদ/স্বৈরাচার বিরোধী ছিলো) স্বার্থে কোন কাজেই আসেনি। তবে তাতে জামায়াতি রাজাকারদের গুপ্ত এজেন্ডা সমূহ পূরণ হয়েছে মাত্র।
যারা না বুঝে জামায়াতি বিভ্রান্তির ফাঁদে পা দিয়ে প্রাণ দিয়েছে তাদের জন্য আবারও সমবেদনা। কিন্তু যারা বুঝে শুনে জামায়াতি রাজাকারদের ২.০ প্রজন্মের লাল বদর হিসেবে জু lie আন্দোলনের সময় কিংবা পরে প্রাণ দিয়েছে, তাদের জন্য দুঃখ বোধ কোনো কারণ থাকতে পারে না। বরং এটাই শান্তনা পেতে পারে যে ২.০ প্রজন্মের কিছু সংখ্যক রাজাকার শাবক কমেছে।
১৭ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ৮:০২
জুল ভার্ন বলেছেন: ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি হলো- কিছু মানুষ নিজেদের রাজনৈতিক বিশ্বাসকে এতটাই পরম সত্য মনে করেন যে, ভিন্নমত পোষণকারী লাখো মানুষের অস্তিত্ব, অনুভূতি, এমনকি মৃত্যুকেও অস্বীকার করতে দ্বিধা করেন না।
আপনার পুরো বক্তব্যে আমি কোনো নিরপেক্ষ ইতিহাসের বিশ্লেষণ দেখিনি; দেখেছি একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক অবস্থানকে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা। যে কোনো বড় গণআন্দোলনের মতোই ২০২৪ সালের ঘটনাবলি নিয়েও ইতিহাসবিদ, গবেষক ও নাগরিকদের মধ্যে মতভেদ থাকতে পারে। কিন্তু তাই বলে আন্দোলনে অংশ নেওয়া সবাইকে একটি বিশেষ রাজনৈতিক পরিচয়ে সীমাবদ্ধ করে দেওয়া কিংবা নিহত মানুষের আত্মত্যাগকে অবমাননা করা কোনো সভ্য বিতর্কের ভাষা হতে পারে না।
ইতিহাসের শিক্ষা হলো- জনগণের শক্তিকে দীর্ঘদিন অবমূল্যায়ন করা যায় না। ক্ষমতা, প্রচারযন্ত্র বা রাজনৈতিক বয়ান দিয়ে কিছু সময়ের জন্য বাস্তবতাকে আড়াল করা সম্ভব হলেও ইতিহাস শেষ পর্যন্ত বহু উৎস, বহু সাক্ষ্য ও বহু মানুষের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই তার রায় লিখে।
রাজনীতি করুন, মতাদর্শের পক্ষে যুক্তি দিন- কিন্তু মানুষের মৃত্যু নিয়ে বিদ্রূপ করবেন না, ভিন্নমতকে গালির মাধ্যমে খণ্ডন করার চেষ্টা করবেন না। কারণ যুক্তি যখন দুর্বল হয়ে পড়ে, তখনই সাধারণত অপবাদ ও ঘৃণার আশ্রয় নেওয়া হয়। আর ইতিহাস বারবার প্রমাণ করেছে- ঘৃণার ভাষা ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু সত্যের অনুসন্ধান দীর্ঘস্থায়ী।
Remember that- You can imprison a person, but you cannot imprison history. And you can silence voices for a while, but you cannot silence the verdict of time. The judgment of history is always longer than the lifespan of power.
৫|
১৭ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১১:৪০
মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ বলেছেন: ২৪ ছাড়া যত আন্দোলন এ যাবৎকাল (স্বাধীন হওয়ার পূর্বে ও পরে) হয়েছে তা ৭১ এর চেতনাকে সঙ্গে নিয়েই। কারণ সবার আগে বাংলাদেশ, এ নিয়ে কারো কোন সন্দেহ ছিলো না।
সে সব আন্দোলন বাংলাদেশের অভ্যুদয়, জাতীয় সঙ্গীত, জাতীয় পতাকা, বাংলাদেশী হিসেবে আমাদের পরিচয় (আমাদের নাগরিক পরিচয়)-এই মৌলিক বিষয় গুলোর সাথে সাংঘর্ষিক ছিলো না। স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে সংঘটিত আন্দোলন গুলোর শেষ পর্যায়ে কখনোই কেউ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তির্যক/বিতর্কিত মন্তব্য করেনি বা প্রশ্ন তোলেনি। আর তখনকার আন্দোলনকারী ছাত্র জনতা কর্তৃক ৭১ এর স্মৃতিকে ধারণ করার উদ্দেশ্যে নির্মাণ করা বিবিধ স্মারক, ভাস্কর্য, স্থাপনা প্রভৃতি ধ্বংস প্রাপ্ত হওয়া তো দূরের কথা।
৭১ এর আগে তো বটেই, একাত্তরের পর জনগণের অভ্যুত্থান ছাড়াও সামরিক অভ্যুত্থানও কিন্তু এদেশে হয়েছে। কিন্তু সেই সব সামরিক অভ্যুত্থানের পরও ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কিত কোন প্রকার ভাস্কর্য বা স্থাপনা ধ্বংস যজ্ঞের শিকার হয়নি। গণ অভ্যুত্থান বা সামরিক অভুত্থান যাই ঘটুক না কেন ওই সকল অভ্যুত্থানের রথী-মহারথী বা নেপথ্যের কুশীলবরা ৭১ নিয়ে টু শব্দ করার সাহস দেখায়নি।
৭১ এর চেতনা নিয়ে বানিজ্য হয়েছে, এর অপব্যবহার হয়েছে, অতিব্যবহার হয়েছে। তাতে অনেকেই বিরক্ত ছিলো এর অনৈতিক সুবিধাভোগকারীদের ওপর। এরপরও ৭১ এর মুল চেতনার আবেদন বিন্দুমাত্র ক্ষুণ্ণ হয়নি। ৭১ কে ব্যর্থ প্রতিপন্ন করার তো প্রশ্নই আসেনা ।
৭১ নিয়ে যত অপপ্রচারই চলুক না কেনো, ন্যূনতম বিবেকবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষ নিশ্চয় তাদের বেছে নেবে না বা তাদের অনুগামী হবে না, যারা ধর্ম/ইসলাম নিয়ে বাণিজ্য করে, নিজ রাজনৈতিক স্বার্থ সিদ্ধির জন্য ধর্মের অপব্যক্ষা করে, ধর্ম অবমাননার অপবাদ দিয়ে ধর্মকে weaponize করে, এক কথায় স্বয়ং আল্লাহর হেফাজতে থাকা ইসলাম নিয়ে খেল তামাশা করে।
Remember that nobody has any right whatsoever to insult the history of our glorious 71. If the destruction of the various statues, murals and museum related to 71 in the name of anti fascist uprising, is normal, then without any doubt, the JuLIE will embrace its natural death.
৬|
১৭ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১১:৪২
মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ বলেছেন: ২৪ ছাড়া অন্যান্য সব আন্দোলন যেমন: ৫২ (ভাষা আন্দোলন) , ৬২ (শিক্ষা আন্দোলন), ৬৬ (ছয় দফা আন্দোলন), ৬৮ (আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা), ৬৯ (আইয়ুব বিরোধী গন-অভ্যুত্থান), ৯০ (স্বৈরাচারী এরশাদ বিরোধী আন্দোলোন), ১৫ এর বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভ্যাট প্রত্যাহারের আন্দোলোন, ১৮ এর কোটা সংস্কার ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের শুরু আর শেষের এজেন্ডা/উদ্দেশ্য সমূহ ছিলো একই এবং পানির মতো পরিস্কার। আন্দোলনের উদ্দেশ্য ও গতিপ্রকৃতি নিয়ে মাঠ পর্যায়ের সর্বস্তরের জনগণ ছিলো শতভাগ ওয়াকিবহাল।
বিবিধ উদ্দেশ্য আন্দোলনের সময়ে ছিলো এক রকম আর আন্দোলনের পরে হয়ে গেলো আরেক রকম, এমনটা ওইসব আন্দোলনের সময় হয়নি যা ২৪ এর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ঘটেছে। শুরুতে এটা ছিলো বৈষম্য বিরোধী, শেষের দিকে হলো ফ্যাসিবাদ বিরোধী আর আন্দোলনের পর দেশের আন্দোলনকারী রথী মহারথীদের খাজানা থেকে রাষ্ট্র সংস্কার, জুলাই সনদ নামক নানাবিধ জটিল বিষয়সমূহ বেরিয়ে আসতে শুরু করলো। হকচকিয়ে যাবার মতো অবস্থা। চমকের পর চমক। স্বাভাবিক ভাবেই জনমনে এরকম অনেক প্রশ্ন জেগে উঠলো যে ছাত্ররা আসলেই কি তাদের আন্দোলনকালীন সময়ের নিজস্ব এজেন্ডা নিয়ে নিমগ্ন নাকি অন্য কোনও পক্ষের এজেন্ডা বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখা শুরু করেছে? আন্দোলনকারীরা তাদের আন্দোলনের সময়কার মূল চরিত্র কি আন্দোলন পরবর্তী সময়েও অক্ষুণ্ণ রাখতে পেরেছিলো?
৭|
১৭ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১১:৪৭
মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ বলেছেন: এমন কোন আন্দোলন এ দেশে হয়েছে যেখানে আন্দোলন পরবর্তী সময়ে ছাত্র জনতা সচিবালয় মন্ত্রণালয় দাপিয়ে বেড়িয়েছে? (২৪ এর এক জাঁদরেল ছাত্র নেতা তো আক্ষেপ করে বলেছিলো যে সে নাকি যখন তখন সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের মিটিং এ ঢুকে পড়ার সুখানুভূতি miss করছে)।
আচ্ছা, আমরা কি ভবিষ্যতে এমন কোন আন্দোলন দেখার অপেক্ষায় আছি যে, যে আন্দোলনের পর ছাত্ররা ঢাকা সেনানিবাসের সেনা সদরের আনাচ কানাচ চড়ে বেড়াবে, স্বশস্ত্র বাহিনীর তাবৎ জেনারেলরা তটস্থ হয়ে থাকবে?
সচিবালয় দাপিয়ে বেড়ানোর অতি স্বাভাবিক ও অবশ্যম্ভাবী fallout হিসেবে জনসম্মুখে ছাত্র উপদেষ্টাদের পিএস/এপিএস কর্তৃক দুর্নীতি, সচিবালয়ে নিয়োগ বানিজ্য, নিজ জেলায় সরকারি তহবিলের বাড়তি বরাদ্দ (এক প্রকার বৈষম্য বটে) বিষয়ক ঘটনা/দুর্ঘটনা সমূহ সামনে চলে এসেছে। এসব কিন্তু ২৪ পূর্ব আন্দোলন সমূহে ঘটেনি। ঘটবেই বা কেনো? সে সব আন্দোলনের উদ্দেশ্য অর্জিত হওয়ার পর আন্দোলনকারীরা যে যার কর্মক্ষেত্রে ফিরে গেছে, ছাত্ররা ফিরে গেছে তাদের শিক্ষাঙ্গনে, শ্রমিকেরা কারখানায় আর কৃষকরা ফসলের মাঠে। আন্দোলন শেষে নগদে নিজেরাই নিজেদের হালুয়া রুটির বন্দোবস্ত করে নেবে এমনটা তাদের মস্তিষ্কে ঘুর্নাক্ষরেও আসেনি। তারা ছিলো এতটাই cute…।
সততার মানদণ্ডে ২৪ এর আগে সংঘটিত হওয়া আন্দোলনগুলোর সাথে সম্পৃত্ত আন্দোলনকারীদের ভূমিকা ছিলো প্রশ্নাতীত। সে তুলনায় ২৪ এর আন্দোলনকারীদের অবস্থান কোথায়? সকল আন্দোলনে তারুণ্যের ভূমিকা অবশ্যই একটা জোরালো উপাদান। কিন্তু নিঃসংকোচে, কোন প্রকার রাখ-ঢাক ছাড়াই সততা নৈতিকতার সাথে আপোষ করা এই বর্তমানকালের তরুণ নেতৃত্ব আমাদের কোন গন্তব্যে নিয়ে যাবে?
৮|
১৮ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:০১
মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ বলেছেন: উদ্দেশ্য যতোই মহৎ হোক না কেন, তথাকথিত জুlie আন্দোলন ৭১ এর স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াত ও তার সমমনা collaborator চক্র কতৃক contaminated বা দূষিত হয়ে গেছে, অন্তিম সংস্কার সাধন হয়ে গেছে।
এটাই ২৪ এর চুরান্ত ইতিহাস।
©somewhere in net ltd.
১|
১৭ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:০৫
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আওয়ামী লীগ বারবার দাবি করে, তরুণ প্রজন্ম নাকি শেখ হাসিনাকে অপমান করেছে। অথচ গত কয়েক দিনে আওয়ামী লীগের তথাকথিত কর্মী-সমর্থক এবং কিছু জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকই শেখ হাসিনাকে সবচেয়ে বেশি বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেছেন। কখনো বলা হচ্ছে, তিনি সীমান্ত পেরিয়ে লং মার্চ করতে করতে দেশে ফিরবেন। আবার কখনো দাবি করা হচ্ছে, ভারত নাকি তাঁকে চার্টার বিমানে করে বাংলাদেশে পাঠাবে। এমন একের পর এক ভিত্তিহীন ও আজগুবি বক্তব্যই শেখ হাসিনাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে ট্রল ও ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের খোরাক জোগাচ্ছে।