| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
কাওসার জামান
আমি একজন সনদপ্রাপ্ত হিসাবরক্ষণ পেশাজীবী। অর্থনীতি, রাজনীতি, সমাজচেতনা ও সমাজপরিবর্তন নিয়ে লেখালেখি করার অনুপ্রেরণা আমি আমার মানবকল্যাণকামী মা-বাবার কাছ থেকে পেয়েছি। অবিরত ইতিবাচক পরিবর্তনের মাধ্যমে মানবসমাজ উন্নততর অবস্থানে পৌঁছুবে এ আমার আন্তরিক চাওয়া।
যেকোনো দায়িত্বপূর্ণ পদে কাজ করার অন্যতম প্রধান শর্ত হচ্ছে, মাত্রাজ্ঞান ধারণ করা। উচ্চ আদালতের বিচারপতিদের ক্ষেত্রে তো এটা অতি জরুরি এক গুণ। কিন্তু এদেশে ব্যাপকভাবে এর ব্যতিক্রম দেখা যায়।
বিচারপতি হিসেবে কোনো পদে নিয়োগ পেলে অনেকেই সব বিষয়ে দিনের পর দিন উপদেশ দিয়ে যান, যেন বিচারপতি হয়েছেন বলে চণ্ডীপাঠ থেকে জুতাসেলাই পর্যন্ত সবকিছুর সেরাটা শুধু উনারাই জানেন।
বর্তমান প্রধান বিচারপতি সাম্প্রতিককালে অন্তহীনভাবে যেসব উপদেশ বর্ষন করে গেছেন তার একটি হলো, অবসরের পর রায় প্রদান করা অসাংবিধানিক।
বিএনপি নামক দলটি এ কথাটি লুফে নিয়ে খুব আগডুম-বাগডুম গাইছে।
অবসরের পর রায় প্রদান করা অবশ্যই অসাংবিধানিক কিন্তু যে নির্দিষ্ট রায় নিয়ে কথা হচ্ছে তার রায় তো বিচারপতি অবসর নেয়ার পর দেয়া হয় নি। রায় দেয়া আর পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা কি এক বিষয়?
আপিল বিভাগ যখন তত্ত্বাবধারক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে রায় দিয়েছিল তখন এবিএম খায়রুল হক ছিলেন প্রধান বিচারপতি। সেদিনই এ রায়ে তত্ত্বাবধারক সরকার ব্যবস্থা সম্পর্কে উচ্চ আদালতের মূল অভিমত জানিয়ে দেয়া হয়েছিল সংক্ষিপ্ত এক আদেশে। এরপর সময়ের দাবিতে অনিবার্যভাবে এবিএম খায়রুল হক অবসর নিয়েছেন।
বাধ্য হয়ে তিনি কয়েকশত পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় লিখতে অবসর পরবর্তী সময়কে কাজে লাগিয়েছেন। এটা কীভাবে অসাংবিধানিক হয়?
পূর্ণাঙ্গ রায় লিখতে সময় লাগে এবং উচ্চ আদালত রায় প্রদানের পর সময় নিয়ে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেন - এটা উপমহাদেশে দীর্ঘদিন ধরে চর্চিত হয়ে আসা একটি বিষয়।
তাছাড়া কোনো বিচারপতি যেদিন অবসর নিবেন সেদিন যে রায় দিবেন তার পূর্ণাঙ্গ আকার অর্থাৎ কয়েকশত পৃষ্ঠার পুরো রায় সেদিনই তিনি কোন অলৌকিক উপায়ে প্রকাশ করবেন?
বর্তমান প্রধান বিচারপতি নিজেই তো ২০১৩ সালে সাইদীর মামলায় যে রায় দিয়েছিলেন তার পূর্ণাঙ্গ রূপ প্রকাশ করেছেন ২০১৫ সালে।
এদিকে বিএনপি তাদের আমলের বিচারপতিদের অবসরের পর প্রকাশ করা পূর্ণাঙ্গ রায়গুলি নিয়ে তখন যেমন নীরব ছিল তেমনি এখনো কিছু বলে নি। তাদের মাথাব্যথা শুধু খায়রুল হকের রায় নিয়ে।
বুঝতে অসুবিধা হয় না যে, ব্যাপারটা আসলে খায়রুল হকের প্রতি আক্রোশ মেটানো। যেহেতু এই খায়রুল হকই বিএনপির প্রতিস্টাতা দেশের প্রথম সামরিক স্বৈরাচার জিয়ার শাসনামলকে অবৈধ বলে রায় দিয়েছিলেন।
যে মামলায় এ রায় দেয়া হয়েছিল সেই মামলা দায়ের করা হয়েছিল জিয়ার আমলে। পরে হাইকোর্ট এর রায়ও দিয়েছিল খালেদার শাসনামলে। 
©somewhere in net ltd.